তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৯:৫২:৪৭
তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননের সাথে একযোগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় তাঁকে তড়িঘড়ি করে রাজধানী তেল আবিবের ‘হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টার’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে নেতানিয়াহুর হাসপাতালে ভর্তির ব্রেকিং নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে তুমুল হুলস্থুল পড়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে একটি বিশেষ জরুরি বিবৃতি জারি করা হয়। তবে সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো গুরুতর অসুস্থতা নয়, বরং মূলত একটি সাধারণ ‘দাঁতের চিকিৎসার’ (Dental Treatment) জন্য নেতানিয়াহুকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাঁতের চিকিৎসার কথা বলে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করলেও ৭৬ বছর বয়সী এই যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখন ইসরায়েলসহ বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এর আগেও একাধিক স্পর্শকাতর ঘটনায় নেতানিয়াহুর মারাত্মক অসুস্থতার তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি নিজ দেশে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ফলে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এই রাখঢাক করার অভ্যাসের বড় প্রমাণ মেলে গত মাসেই, যখন তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে স্বীকার করেন যে— তিনি সম্প্রতি এই হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারেই প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সারজনিত (Malignant Tumor) জটিল টিউমারের জন্য সফলভাবে একটি অত্যন্ত গোপন অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর দাবি ছিল, চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্রগুলো যেন তাঁর এই মরণব্যাধি ক্যান্সারকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা বা ‘দুর্বলতা’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিনি বিষয়টি এতদিন জনসমক্ষে আনেননি। তবে তাঁর শরীরে ঠিক কবে এই ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, কবে থেকে কেমোথেরাপি বা চিকিৎসা শুরু হয়েছিল কিংবা তা পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি দেশের মানুষকে কিছুই জানাননি।

নেতানিয়াহুর ওই ঘোষণার পর তাঁর বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অতিরিক্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়েছিল বটে, তবে তা রহস্য আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেই মেডিকেল রিপোর্টের অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র ৫টি অস্পষ্ট বিষয় লেখা ছিল এবং সেটি কোন বছরের বা কোন মাসের প্রতিবেদন, তার কোনো উল্লেখই ছিল না। এমনকি নথির কোথাও হাসপাতালের অফিসিয়াল লোগো বা চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর পর্যন্ত ছিল না।

এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর হার্টে একটি জরুরি ‘পেসমেকার’ বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তাঁর একটি জটিল হার্নিয়া অপারেশন এবং একই বছরের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। পেসমেকার বসানোর সময়ও প্রথমদিকে তাঁর কার্যালয় ও রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার করে বলা হয়েছিল যে, তিনি কেবল ‘পানিশূন্যতা’ (Dehydration) পর্যবেক্ষণের জন্য এক রাত হাসপাতালে ছিলেন।

পরে যখন জানা যায় বাস্তবে তাঁর শরীরে একটি সাবকিউটোনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছে, তখন থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয়ভাবে সত্য গোপনের বিষয়টি সামনে আসে এবং চিকিৎসকেরাও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তাঁর ইসিজি রিপোর্টে মারাত্মক অস্বাভাবিকতা ছিল। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই মেগা যুদ্ধাবস্থার মাঝে নেতানিয়াহুর বারবার হাসপাতালে যাওয়া ইসরায়েলের সামরিক কমান্ডের স্থায়িত্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৭:৩৮:০২
আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের পরম মিত্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পবিত্র হজ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্বাধীন জাতি ও ভূখণ্ডগুলো আর কোনোভাবেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষার জন্য ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বিস্ফোরক ও রণংদেহী বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে পেট্রোল ঢেলে দিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর হজের বাণীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, ‘ভঙ্গুর জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’ এবং ‘ইসরায়েল নামের ক্যান্সারাক্রান্ত টিউমার’টি ইতিমধ্যেই তাদের দুর্ভাগ্যজনক ও অবৈধ জীবনকালের একদম শেষ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বুকে অন্যায়-অপকর্ম চালানো এবং এই অঞ্চলে একের পর এক অবৈধ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আমেরিকার সামনে আর কোনও নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট থাকবে না। এ সময় তিনি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরানের ‘সাহসী যোদ্ধা এবং আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনী’র (আইআরজিসি) ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই বীর বাহিনী ‘মহান শয়তান অর্থাৎ আমেরিকা এবং তার দ্বারা লালিত হিংস্র পশু, জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর’ ওপর নিখুঁত ও মোক্ষম আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের হজের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, এবারের হজে আরাফাতের ময়দানের আচার-অনুষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। কারণ, হজের এই পবিত্র মৌসুমে এবং নির্ধারিত পুণ্যময় স্থানে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও খুনি জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে ‘অস্বীকার বা বর্জনের’ (বারাত মিনাল মুশরিকিন) গভীরতা ও ব্যাপকতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

হজ পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ও রূপরেখা ব্যক্ত করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই বরকতময় দিনগুলো পার হওয়ার পরপরই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’—এটিই হবে পুরো মুসলিম উম্মাহর প্রধান, প্রচলিত ও জেনুইন স্লোগান। খামেনির এই কড়া বক্তব্যের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের ফুল স্কেল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার গভীর আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ডন


হজের খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কড়া বার্তা দিলেন শায়খ হুজাইফি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৭:২৪:৪৫
হজের খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কড়া বার্তা দিলেন শায়খ হুজাইফি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের মূল খুতবা প্রদান করেছেন মসজিদে নববির প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দুপুরের পর এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টায় হজের এই মূল খুতবাটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদসহ একযোগে বিশ্বজুড়ে সম্প্রচার করা হয়েছে। আরবি ভাষায় দেওয়া এই ঐতিহাসিক খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, হজের আধ্যাত্মিক পবিত্রতা রক্ষা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

শায়খ আলী আল-হুজাইফি খুতবার শুরুতেই মহান আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা, একত্ববাদ ও অসীম মহিমা প্রকাশ করে পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু বিশেষ আয়াত তিলাওয়াত করেন। সেখানে মানব ইতিহাসের অবাধ্য, জালিম ও পাপাচারী জনপদগুলোর করুণ ধ্বংসের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দুনিয়াবাসীকে আল্লাহর অবাধ্যতা ও অন্যায় কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার জোর আহ্বান জানান। এরপর তিনি মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে মানবজাতিকে হজের জন্য আহ্বান করার যে ঐশী নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে খুতবায় উল্লেখ করেন।

হজের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে খুতবায় বলা হয়, হজের একমাত্র ও মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের শিরক বা অংশীদারত্ব বর্জন করা। শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফি অত্যন্ত কঠোরভাবে জোর দিয়ে বলেন, হজের পবিত্র পরিবেশকে সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীলতা, তর্ক ও পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে, পবিত্র হজের এই পুণ্যময় ময়দানে কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া, দলীয় আহ্বান জানানো বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যাবে না; কারণ হজ হলো সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দরবারে নিজেকে নিঃশর্তভাবে সঁপে দেওয়া, আনুগত্য করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণ করা।

আরাফাতের ময়দানে ভাষা, বর্ণ, গোত্র ও দেশের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সব মুসলিমের মাঝে যে বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য ও অভূতপূর্ব নিদর্শন প্রকাশ পায়, খুতবায় তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। খুতবায় হাজিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিজেদের দৈনন্দিন আচরণের মাধ্যমে ‘ইহসান’ বা উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেন এবং মিথ্যা কথা ও গিবত বলা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন।

ঐতিহাসিক এই দিনটির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে খুতবায় বলা হয়, আজকের এই ৯ জিলহজের মহান দিনেই আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলামকে কিয়ামত পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ করার এবং মুসলিমদের ওপর নেয়ামত সম্পূর্ণ করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর হাজিদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর (সংক্ষিপ্ত) করে পড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকির ও ক্রন্দনে মগ্ন থাকার জন্য বলা হয়।

খুতবায় সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গমন, পরবর্তী দিনগুলোতে মিনায় গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে জামারাতে প্রতীকী পাথর মারা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা এবং কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করার মতো হজের ধাপে ধাপে পালনীয় হুকুমগুলো ক্রমানুসারে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। শায়খ হুজাইফি হাজিদের হজের প্রতিটি রোকন পালনের সময় সর্বোচ্চ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, তাড়াহুড়ো বা ধাক্কাধাক্কি না করতে এবং সৌদি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দেওয়া রুট ম্যাপ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

এ সময় আরাফাতের দিন দোয়া করার সর্বোত্তম সময় ও ফজিলত উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিখ্যাত দোয়া ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’ বেশি বেশি পড়ার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়।

খুতবার শেষ অংশে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব হাজির হজ যেন আল্লাহ তায়ালা কবুল ও মকবুল করেন এবং তারা যেন নিরাপদে, সম্পূর্ণ গুনাহমুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন—সেই আবেগঘন মেগা মোনাজাত করা হয়। একই সাথে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর স্থায়ী শান্তি, কল্যাণ ও সত্যের ওপর মুসলমানদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য কামনা করা হয়। পরিশেষে, মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দীর্ঘায়ু, উত্তরোত্তর সফলতা এবং হাজিদের জন্য প্রতি বছরের মতো সুন্দর ও নিখুঁত হজ ব্যবস্থাপনা করার জন্য তাদের বিশেষ কল্যাণ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান কামনা করে খুতবা শেষ করা হয়। খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পরপরই জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য পবিত্র আরাফাত ময়দান জুড়ে আজান দেওয়া হয় এবং লাখো হাজির অংশগ্রহণে জোহর ও আসরের নামাজ সম্পন্ন হয়।

/আশিক


বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১১:৫০:০৮
বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পর্যায় সম্পন্ন করতে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বজুড়ে আসা ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) হাজিদের এই মহাসম্মিলনের দৃশ্যকে গভীর ভক্তি, বিনয় ও অশ্রুসিক্ত প্রার্থনার এক অভূতপূর্ব পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই আল্লাহর মেহমানরা মিনায় তাঁবুর শহর ছেড়ে আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে শুরু করেন।

ইসলামি শরিয়তের বিধান ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (ওকুফে আরাফা) হজের প্রধান ও মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। স্বয়ং শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, “হজ হলো আরাফা”, যা মূলত এই বিশেষ দিনটির চরম গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে নির্দেশ করে। ইসলামি স্কলার ও আলেমদের মতে, এই দিনটি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্রতম দিনগুলোর একটি, যা মহান আল্লাহর অসীম রহমত, ক্ষমা এবং বান্দার আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই দিনটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক বিদায় হজের অমর স্মৃতির সঙ্গেও জড়িত, যেখানে তিনি এই ময়দান থেকেই মানবজাতির উদ্দেশে তাঁর শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন এবং বিদায় হজের ভাষণে ন্যায়বিচার, মানবসমতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কালজয়ী শিক্ষা দিয়েছিলেন।

আজ দুপুরে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। খুতবা শেষে হাজিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে (কসর) আদায় করেন। নামাজ শেষে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা দুই হাত তুলে রোনাজারি, তালবিয়া, তাকবির পাঠ এবং আল্লাহর দরবারে নিজেদের জীবনের সব গুনাহ মাফের আকুল আকুতি জানান।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই উন্মুক্ত আরাফাত সমতলভূমির কেন্দ্রেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘জাবালে রহমত’ (রহমতের পাহাড়), যা আদি পিতা আদম (আ.) ও মাতা হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে গভীর আবেগের নাম।

এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (৮ জিলহজ) পালন করেন, যেখানে তারা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে হজের সবচেয়ে কঠিন অংশের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন। এবার মক্কার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

হাজিদের নিরাপদ চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সৌদি প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ড্রোন ক্যামেরাসহ আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। আজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ না পড়েই আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য রাত্রিযাপন করবেন।

সূত্র: আরব নিউজ


ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১১:৩২:৫৯
ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছেন, ইরানের মজুত করা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অনতিবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় তা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৫ মে) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তেহরানের প্রতি এই কড়া আইনি ও সামরিক আলটিমেটাম জারি করেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান মার্কিন-ইরান সামরিক উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক ধূলিকণা অবিলম্বে ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করা উচিত, যেন মার্কিন প্রশাসন তা নিজেদের দেশে এনে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে পারে।

আর ইরান যদি মার্কিন মাটিতে তা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিকল্প পথ হিসেবে ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে দেশটির বর্তমান অবস্থানে কিংবা আন্তর্জাতিক মহলে অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ জায়গায় এই ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার একটি প্রকাশ্য মার্কিন কৌশল, যা তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই চরম হুঁশিয়ারির মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার একটি গোপন জানালার কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে বর্তমানে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন কাতার বা ওমান) মাধ্যমে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।

তবে আলোচনার টেবিলে যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর বা ধ্বংসের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (IAEA) বা ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন’ কিংবা এর সমমানের কোনো আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও কঠোর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই শর্ত পূরণ না হলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমার কোনো সুযোগ নেই, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল


যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১০:৪৮:২৩
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোর ওপর হামলার তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবের এই যুদ্ধংদেহী ঘোষণার পরপরই আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে লেবাননজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ও ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক উত্তেজনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৪৫ দিনের চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সমঝোতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলা দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতকে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ও বিধ্বংসী আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে তারা এ পর্যন্ত ৬০০ জনেরও বেশি ‘সন্ত্রাসীকে’ নিশ্চিহ্ন বা হত্যা করতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "শত্রুদের দমনে এখন আমাদের আক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে এবং হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।" ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত বেকা উপত্যকা এবং দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক হিজবুল্লাহর আস্তানায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের এই সাঁড়াশি বিমান হামলার বিপরীতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২২টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং দূরপাল্লার রকেট হামলা চালিয়ে এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিয়েছে। হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সৈন্য, সাঁজোয়া ট্যাংক, সামরিক ব্যারাক ও কৌশলগত ভবনগুলো।

উল্লেখ্য, চলতি মে মাসের শুরুতেই লেবানন ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ৪৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল; তবে সেই শান্তিচুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই লেবাননের মাটিতে অনবরত হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সেনা অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১০:২৩:৪৯
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে এবার সরাসরি দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে এই সরাসরি হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক হামলার পর পরমাণু সমৃদ্ধ দেশ ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়ংকর সামরিক উত্তেজনার দিকে মোড় নিল।

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্সের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য বড় ধরনের হুমকি ও আকস্মিক হামলা প্রতিরোধ করতেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই আগাম সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত নিজেদের কোয়ালিশন সেনাদের সুরক্ষায় এটিকে একটি শতভাগ ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ (Preemptive Self-Defense Strike) হিসেবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের এই নিখুঁত হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ ইরানে অবস্থিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Missile Launching Sites) এবং পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা ইরানি নৌবাহিনীর বিশেষ যুদ্ধজাহাজ ও নৌযানগুলো। সেন্টকমের মুখপাত্র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র তার বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। আমাদের সেনারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে; তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা এখনও সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছি।"

অন্যদিকে, মার্কিন এই বিমান হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বন্দরনগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ এক বিকট ও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ বন্দর আব্বাসের এই আকস্মিক বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আকস্মিক বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই বিস্ফোরণটি মার্কিন বিমান হামলার অংশ নাকি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, তা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

সামরিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর একটি ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পর তেহরান এখন পাল্টা কী ধরনের সামরিক জবাব দেয়, এখন সেদিকেই কাঁপছে বিশ্ববাসী।

/আশিক


ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৮:১৩:২৩
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: স্বার্থের অনুকূলে না হলে চুক্তি করবে না ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি নিয়ে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান ও রেডলাইন পুনর্ব্যক্ত করে তেহরানকে এক চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে কোনো দায়সারা বা দুর্বল সমঝোতায় যাবে না। তেহরানের সঙ্গে চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে অত্যন্ত অর্থবহ এবং সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে; অন্যথায় কোনো চুক্তিই সই করবে না মার্কিন প্রশাসন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা হবে একটি ‘মহা এবং অর্থবহ চুক্তি’ (Great and Meaningful Deal), আর তা না হলে আদৌ কোনো চুক্তি হবে না। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য মূলত তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের পুরোনো ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ (Maximum Pressure) কৌশলেরই একটি অবধারিত ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিলেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ এই নয় যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মূল শর্তগুলো থেকে এক চুলও সরে আসবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তার ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রায় একই সুরে তেহরানকে নিশানা করে একটি কড়া নীতিগত বক্তব্য দেন। রুবিও সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করবে, আর তা যদি সম্ভব না হয়, তবে সম্পূর্ণ ‘ভিন্ন উপায়ে’ (Other Ways) তেহরানের মুখোমুখি হতে ওয়াশিংটন বাধ্য হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভিন্ন উপায়ের পরোক্ষ সামরিক হুঁশিয়ারি এবং তার পরপরই ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের অনমনীয় অবস্থান থেকে এটি পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভাঙতে এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দিতে রাজি নয়। ওয়াশিংটনের এমন সাঁড়াশি কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ইরান এখন পাল্টা কী কৌশল অবলম্বন করে, আন্তর্জাতিক মহল এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৭:৫৯:৪৮
চীনের নতুন রপ্তানি নীতিতে তোলপাড়: হুমকির মুখে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের মেগা স্বপ্ন
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে এবার রপ্তানি খাতে অত্যন্ত কঠোর ও নতুন এক সুরক্ষানীতি গ্রহণ করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই আকস্মিক চালের কারণে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির মেগা স্বপ্ন এখন তীব্র হুমকির মুখে পড়েছে। মূলত কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর কাছে নিজেদের 'চীনের বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র' বা 'চায়না প্লাস ওয়ান' হিসেবে তুলে ধরে ভারত যে আগ্রাসী কৌশল নিয়েছিল, বেইজিংয়ের নতুন ডিক্রির ফলে তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'এনডিটিভি' (NDTV)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কোভিডের পর থেকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)-এর প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম রেকর্ড পরিমণে বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) প্রকল্প ঘোষণা এবং নতুন নতুন হাইটেক শিল্পপার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি আসছিল। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি যেখানে ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে রেকর্ড ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এই ধারাবাহিকতায় ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই রপ্তানি ১২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। কিন্তু ভারত যখন নিজেদের উৎপাদন খাতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই চীন সেই শিল্পকে চালিত করা মূল ব্যাকবোন বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার (Supply Chain) ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়াভাবে জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের নতুন ‘স্টেট কাউন্সিল ডিক্রি’-র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উপাদান রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, হাই-টেক উপাদান এবং কাঁচামালের ওপর চীনের এই নতুন কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভারতের শিল্প সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলে শত বিলিয়ন ডলারের নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং চীনা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভারতের অভ্যন্তরীণ পঙ্গুত্ব ও নির্ভরশীলতা আরও নগ্নভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন বড় প্রশ্ন তুলছেন— কারখানা তৈরির মূল যন্ত্রপাতির চাবিকাঠিই যদি চীনের হাতে থাকে, তবে ভারত কীভাবে বেইজিংকে টেক্কা দিয়ে বড় উৎপাদনকারী হবে? পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই বেইজিংয়ের নতুন নিয়মে তাদের যন্ত্রপাতির চালান আটকে যাবে কিনা, তা জানতে চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের দেশীয় শিল্পখাতও এই মহা-সংকটের সম্ভাব্য ভয়াবহ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে মোদী সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছে।

চীনা এই মাস্টারস্ট্রোকের কাউন্টার দিতে গত শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল বা চীনের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে ভারত সরকার খাতভিত্তিক বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনা (Alternative Investment Plan) প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব শিল্প অবকাঠামোতে বড় ধরনের গতি আনতে আগামী তিন বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে দেশে ৫০টি অত্যাধুনিক নতুন শিল্পপার্ক চালুর মেগা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV)—আধুনিক যেকোনো হাই-টেক উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি চীনা যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের নিজস্ব অটোমোবাইল খাতেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট যন্ত্রাংশ আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি চীন থেকে, যার সিংহভাগই ছিল অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক উপাদান। ফলে চীনের এই নতুন রপ্তানি নীতি আগামী দিনে ভারতের মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টকে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

/আশিক


মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৩:০২:১৮
মার্কিন ডলারকে বড় ধাক্কা: ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চীনের ইউয়ান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের উলটপালট শুরু হয়েছে। মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের (Yuan) মান গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনার জের ধরেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নাটকীয় উত্থান ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক তীব্র উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চলমান শান্তি আলোচনা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার স্পষ্ট আশাবাদ বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক আস্থার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চীনা মুদ্রার ওপর, যা ডলারের বিপরীতে ইউয়ানকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

এই বিষয়ে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের একজন কারেন্সি ট্রেডার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, "আপাতত এই সংঘাতপূর্ণ প্রণালী জুড়ে নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক যাতায়াত পুরোপুরি আগের অবস্থায় রাতারাতি পুনরুদ্ধার করা হয়তো কিছুটা কঠিন হতে পারে, তবে বাণিজ্য সামান্যতম শুরু হওয়াও স্থবির হয়ে পড়া বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী একটি সংকেত।"

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশই মূলত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের মন্দা ও স্থবিরতা কাটার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর এই সুযোগে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং ইউয়ান গত তিন বছরের সব রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় আরোহণ করেছে।

সূত্র- আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: