জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:০৫:২৯
জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে জমা দেওয়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনটি ক্যাটেগরিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধা সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নতুন করে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৫৯০ জনের নাম যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি। নতুন আবেদনগুলোও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাদেরও সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাদের তথ্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হবে কিংবা পূর্বে ভুল তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন—তাদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের প্রথম গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনকারীরা নিজেদের আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

এর আগে প্রকাশিত গেজেট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পর ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গেজেট প্রকাশের পর মোট ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০টি আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএস অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২১০ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে।

তদন্তে শুধু ভুয়া আবেদনই নয়, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির চিত্রও উঠে এসেছে। প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০টি আবেদন নিয়ে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করেছেন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন করা হয়েছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিতর্কিত আবেদনগুলোর মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হতে পারে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোথাও চিকিৎসার কাগজপত্র মিলেনি, কোথাও জমা দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাই করে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের পরিচয় ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও তদন্তে ধরা পড়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যাতে সরকারি সুবিধা বা গেজেটভুক্তির সুযোগ না পান, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন স্বীকৃতি পেয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুসারে শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের জন্য ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এককালীন আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ভাতা, চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো, কেবল প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদেরই সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই তালিকা নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

-রফিক


সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত:  নাহিদ ইসলাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:৩৩:২৯
সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত:  নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—এই চার শব্দের বাক্যটিই এখন দেশের কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে চরম আতঙ্কের নাম বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রোটিনের মূল ভরসা ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির জন্য সরকারের ভুল নীতি, মেগা বাজেট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাঁদাবাজিকে সরাসরি দায়ী করেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, হলে থাকা ছাত্র বা নিম্ন আয়ের ব্যাচেলরদের মূল 'লাইফলাইন' ডিমের হালি এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় ঠেকেছে। কেবল ডিমই নয়; চাল, আটা, তেল, চিনি, সবজি ও ব্রয়লার মুরগিসহ প্রতিটি মৌলিক খাবারের দর লাফিয়ে বাড়ায় মেহনতী মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক খরচ নাগালের বাইরে চলে গেছে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করে এনসিপির আহ্বায়ক লেখেন—প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমান মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতি নিয়ে কথা বললেও ক্ষমতায় এসে সরকার মেগা প্রজেক্ট ও ফ্যামিলি কার্ডের অজুহাতে প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট তৈরি করেছে। ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ না করে ভ্যাট ও ঋণ বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি চড়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকার হুট করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন, সেচ ও পরিবহন খরচ বেড়েই চলেছে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাকে। এবং তৃতীয়ত, ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদন খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে জনগণকে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

সরকারের বিদ্যমান নীতির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করে নিত্যপণ্যে ভ্যাট কমানো এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার বিকল্প নীতি দেখানো হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বা মেগা প্রজেক্টের ফিতা কেটে রাজনৈতিক ফুটেজ পাবেন, মন্ত্রী-এমপিদের পরিবার কমিশনে ভাগ বসাবে আর সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা সুযোগ সুবিধা পাবে; অন্যদিকে দেশের কোটি মা আজ রাতে ১৫ টাকার একটা ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দিতে বাধ্য হবেন।

/আশিক


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো নিয়ে সরকারের নয়া ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:১৪:৫০
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো নিয়ে সরকারের নয়া ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল যেন একক সিদ্ধান্তে এই বিধান সংশোধন বা বাতিল করতে না পারে, সেজন্য গণভোটের বাধ্যবাধকতা ফিরিয়ে আনার রূপরেখা দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, অনুচ্ছেদ ১৪২-এর গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো স্থায়ীভাবে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেআইনিভাবে অনুচ্ছেদ ১৪২ থেকে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় আইনের ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ (Doctrine of Eclipse) নীতি অনুযায়ী বাদ পড়া বিধানগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে যেকোনো আইনি অস্পষ্টতা কাটাতে আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীতেই গণভোটের ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানে পুনরায় ধারণ ও স্থায়ী করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি এবং অনুচ্ছেদ ৪৮ ও ৫৬-এর অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর ওপর আনা প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোতে জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। সংবিধানের অনাগত ভবিষ্যতে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে যেকোনো বড় পরিবর্তন সাধনে জনগণের দ্বারস্থ হওয়া বা গণভোটের বিধান থাকা বাধ্যতামূলক থাকবে।

/আশিক


অনুশোচনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে মীমাংসা অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২০:০০:২০
অনুশোচনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সাথে মীমাংসা অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসা বা ‘রেকনসিলিয়েশন’-এর প্রস্তাবে বিএনপি সরকারের পক্ষে সাড়া দেওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক জাতীয় মীমাংসা প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দলের যে ন্যূনতম অপরাধের স্বীকৃতি, অনুতাপ ও সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাবের মধ্যে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, পাঁচই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় যুক্ত রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক মীমাংসা একটি ইতিবাচক ধারণা হতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকার 'ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন'-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেকোনো সার্বজনীন জাতীয় মীমাংসার মৌলিক শর্ত হলো অপরাধের স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া ও অনুসূচনা প্রকাশ করা। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা ভুল স্বীকার বা অনুশোচনার বদলে প্রতিনিয়ত দেশের মানুষ ও সরকারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, যা মীমাংসার পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারও বহাল রেখেছে। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুশোচনা না আসলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রস্তাব বিবেচনা করা সম্ভব নয়। যারা মধ্যস্থতা করতে চান, তাদের আগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে গিয়ে অনুশোচনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

/আশিক


ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:৫৪:৩৯
ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ডিসেম্বরে ভারতের সাথে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদী মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন কোনো চুক্তি করা হবে—এ প্রসঙ্গে ভারতের সাথে ভবিষ্যৎ পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোত্তম সুরক্ষাকেই মূল অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর সমাপনী দিনে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই ঢাকার একমাত্র লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ চুক্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট 'গ্যারান্টি ক্লজ' বা নিশ্চয়তা ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে যা প্রয়োজন, সরকার সেটাই করবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান সংলাপ পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে শীর্ষপর্যায়ের সফর ও সংলাপের জন্য কূটনৈতিকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হলেই কেবল শীর্ষ সংলাপ সম্ভব, যার জন্য সরকারি পর্যায়ের যৌথ আলোচনার কাজ চলমান রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এসব সংবেদনশীল ইস্যু হুট করে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নতুন দিল্লি সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার প্রধানের উচ্চপর্যায়ের কোনো সফর চূড়ান্ত হলে তার প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ঢাকা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে; কোনো বিদেশি সূত্রের ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয়।

/আশিক


প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ২১:৩৪:৩০
প্রথম আরব স্বীকৃতিদানকারী দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের জন্য আলজেরিয়াকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।

সোমবার (০৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা আয়োজন এবং আইনি সহায়তা আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি এবং সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকালে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলজেরিয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্র প্রসারের আহ্বান জানান।

আলোচনাকালে বাংলাদেশে বিচারাধীন এক আলজেরীয় নাগরিকের আইনি জটিলতা নিরসনে নিয়মানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে আবেদনের পরামর্শ দেন মন্ত্রী এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুবিধাজনক কূটনৈতিক তারিখে এই সফর আয়োজনের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উক্ত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৯:৩০:৪৯
৫২ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার 'এক টাকার শিক্ষক' লুৎফুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সুদীর্ঘ ৫২ বছর ধরে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান করে আসা গাইবান্ধার প্রখ্যাত শিক্ষাব্রতী লুৎফুর রহমানকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের সাথে তাঁকে এই বিরল সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সাল থেকে অর্থের অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন লুৎফুর রহমান। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে নিযুক্ত না থেকেও টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়মিত পড়িয়ে গাইবান্ধায় তিনি ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে সর্বজনীন পরিচিতি লাভ করেন। শিক্ষাবিদদের মতে, তাঁর এই সুদীর্ঘ অবদান দেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাব্রতীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ ক্যাটাগরিতে লুৎফুর রহমান ছাড়াও ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় অবদান রাখা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানকে সম্মাননা জানানো হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশলসহ মোট ১০২ জন গুণী শিক্ষককে এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাছাই করে এই স্মারক দেওয়া হয়।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

/আশিক


প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৮:৪৬:০৫
প্রযুক্তিমুখী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মানি নিয়ে সরকার প্রধানের বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রূপকল্পের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বাজেটের এই পরিধি ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে যে, চলতি বছর থেকেই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা যুগোপযোগী নতুন সিলেবাস ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পেতে যাচ্ছে। সর্বজনীন শিক্ষা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সামাজিক বা আর্থিক কোনো ব্যবধানের কারণে একটি শিশুও যেন শিক্ষাবঞ্চিত না হয়। এ ছাড়া বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মেলাতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে অপরিহার্য বলে তিনি জোর প্রদান করেন।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প হতে পারে না; বরং শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে দেখতে চায় সরকার। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমন্বিতভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কারিকুলাম ও শিখন কৌশলে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ‘আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ’ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।

শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে দেশের টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে দ্রুত আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকতা পেশা সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, শিক্ষকতাকে অন্য কোনো পেশার সুযোগ না পেয়ে গ্রহণ করা ‘উপায়হীন বিকল্প পেশা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের শীর্ষ মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে নিজেদের পছন্দের প্রথম সারিতে স্থান দিতে পারেন, সেভাবেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানো হচ্ছে এবং শিক্ষকদের সম্পূর্ণ আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

/আশিক


প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:০৮:২৯
প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে ভারত সরকার এই প্রত্যর্পণ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার দিকে নজর দেবে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্তদের ফেরত আনার জন্য দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল আইনি মারপ্যাঁচ বা দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে এই আইনি ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে নয়াদিল্লির ইতিবাচক রাজনৈতিক ইচ্ছাও অত্যন্ত জরুরি।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োগ করে শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট চুক্তি ও আইনি কাঠামোর আওতায় যেকোনো আসামিকে ফেরত আনা সম্ভব এবং বাংলাদেশ সরকার সেই পথেই দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে।

প্রসঙ্গক্রমে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিশ্ব সফরের ব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানান, বিগত ছয় মাসে সরকারপ্রধান অত্যন্ত ঘনঘটাপূর্ণ সময় পার করেছেন। চীন ও মালয়েশিয়াতে সফর সম্পন্ন করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় দেশের স্বার্থ তুলে ধরে দেশে ফিরেছেন।

/আশিক


প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:৪৪:২৬
প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় সমন্বিত 'মাস্টারপ্ল্যান' প্রণয়নের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সকল নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত, পরিবেশসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই সুষম নগর উন্নয়নই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্ত করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দিন দিন বাড়তে থাকা আবাসন চাহিদার নিরিখে এবারের প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, পরিবেশ দূষণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি ও জলবায়ুজনিত অভিবাসনের ফলে যেসব জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে—তা নিরসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি জোরদার করার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ চলছে, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১' অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে 'সবার জন্য বাসস্থান' কেবল একটি ঘরের সংস্থান নয়; বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত অধিকার।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসী মানুষের নিজস্ব আবাসনের মালিকানা লাভের সুযোগ সৃষ্টি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। টেকসই ও বাসযোগ্য মানবিক বাংলাদেশ গঠনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: