১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৯:৪৮:৩০
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘নবম পে-স্কেল’ (৯ম বেতন কাঠামো) কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত এই নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সরাসরি দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ বৃদ্ধি) করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে।

সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এই নতুন ও বর্ধিত পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক অনটন ও বেতন বৈষম্যের শিকার শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

আসন্ন পে-কমিশনের সুপারিশের খসড়া অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত বিভিন্ন গ্রেডের শিক্ষকদের বেতন যেভাবে বাড়তে পারে তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো

উচ্চতর গ্রেড (৪র্থ থেকে ১০ম)

বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও কলেজের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা, যা ৫০ শতাংশ বেড়ে হবে ৭৫ হাজার টাকা। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায়। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে হবে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার টাকায়।

নিম্নতর গ্রেড (১১তম থেকে ২০তম)

এই গ্রেডগুলোর কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ (দ্বিগুণ)—উভয় সম্ভাব্য হিসাবই টেবিলে রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা; এটি ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকা হবে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা হবে। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী ও আয়াদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং শতভাগ বৃদ্ধিতে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান লাগামহীন বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি বেতনে শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার। তাই আসন্ন বাজেটে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত ও ইতিবাচক ঘোষণা দেবে এবং নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে বলে পুরো শিক্ষক সমাজ আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

/আশিক


ডলারের দরপতনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:৪১:১৫
ডলারের দরপতনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের শক্তি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মূল্যে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্ভাব্য মুদ্রানীতির প্রভাব নিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো একধরনের বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ১০৬ দশমিক ৮২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহ করার চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের মূল্যও সমপরিমাণ অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৬ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস জানান, মূলত ডলারের সূচক কিছুটা দুর্বল হয়ে আসায় স্বর্ণের বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, যদি দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ অবস্থানে ধরে রাখা হয়, তবে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম আবারও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের নামী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি চলতি ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের বার্ষিক গড় মূল্যের পূর্ববর্তী পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৫৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি আগামী ২০২৭ সালের জন্য তাদের আগের পূর্বাভাসও ৫ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯২৫ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। অবশ্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেছে যে, চলতি বছরের শেষভাগে এসে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে স্বর্ণ কেনার চাহিদা ও আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির ইতিবাচক হাওয়া লেগেছে অন্যান্য দামি ধাতুর ওপরেও। এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ১৪ ডলারে এসে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি প্ল্যাটিনামের বাজারমূল্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৮ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৪৭ দশমিক ৩৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও আজ স্বর্ণের নতুন মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন চার্ট অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

/আশিক


স্বর্ণ কিনতে সুখবর, আবার কমল দেশের স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১১:২৯:৫৫
স্বর্ণ কিনতে সুখবর, আবার কমল দেশের স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও এসেছে দামের বড় পরিবর্তন। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় সব ধরনের ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হ্রাস করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে, ফলে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানায়, সংশোধিত মূল্য একই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এই দামে আজ বৃহস্পতিবারও দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা প্রতি ভরি।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের ওঠানামা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে মূল্য সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ মূল্যহ্রাসের পেছনেও স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়াই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

এর আগে, মাত্র কয়েকদিন আগেই অর্থাৎ ৩ জুলাই বাজুস ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণের বাজারে মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা ছিল বেশ অস্থির। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ দফা দাম বেড়েছে, ৪৩ দফা কমেছে এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার বিনিময় হার, স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্য এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় নিয়মিতভাবেই স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

-রাফসান


মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:২৭:০৯
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জেরে একদিকে যেমন স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে, ঠিক বিপরীতে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূরাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে, যা চলতি মাসের ২ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহ করার চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের মূল্যও ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও উসকে দেবে। আর এমনটা হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সুদের হার সংক্রান্ত নীতিমালায় কঠোর পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে।

আর্থিক খাতের নামী প্রতিষ্ঠান ইউবিএস-এর শীর্ষ বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনুভো আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তেলের দামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঊর্ধ্বগতি নতুন করে অর্থনৈতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াল। এই পরিস্থিতির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকলেও, সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন এই সম্পদের ওপর উল্টো একধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়।

অনুরূপভাবে ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস মন্তব্য করেন যে বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনার কারণে স্বর্ণের বাজারে এই মন্দাভাব আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

বৈশ্বিক এই দরপতনের প্রভাব কেবল স্বর্ণের ওপরই পড়েনি, বরং অন্যান্য দামি ধাতুর বাজারকেও প্রভাবিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে গেছে। এর পাশাপাশি প্ল্যাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৪ দশমিক ৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের মূল্য ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ২১৪ দশমিক ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই ওঠানামার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

/আশিক


এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৪৮:০০
এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সব ধরনের স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, যা বুধবারও দেশের বাজারে কার্যকর রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য তালিকা জানানো হয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, ওই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং একই দামে আজ বুধবারও দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলোও মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৩ জুলাই বাজুস এক দফা মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। সে সময় প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই বাড়তি দামের একটি বড় অংশ আবার কমিয়ে আনা হলো।

স্বর্ণবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই নিয়মিত হালনাগাদ মূল্য তালিকার ওপর নজর রাখতে হচ্ছে।

চলতি বছরে স্বর্ণের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৮৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৩ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

-রফিক


টানা বাড়তির পর বড় ধাক্কা, কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:০৪:৪৯
টানা বাড়তির পর বড় ধাক্কা, কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে খাঁটি (পিওর) স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় সব ধরনের ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে, যা স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, নতুন মূল্য সোমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবারও সারাদেশের অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার পরিস্থিতি, কাঁচামালের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই বাড়তি দামের একটি বড় অংশ কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলো।

চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৮৭ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৩ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় কাঁচামালের মূল্যের পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও নিয়মিত পড়ছে।

-রফিক


গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:০২:৩২
গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরেই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের এই আনুষ্ঠানিক চিত্র প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, এর আগের মাস অর্থাৎ মে-তে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে গত ১৬ মাসের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এছাড়া টানা তিন মাস ধরে এই সূচক ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই মূল্যস্ফীতিতে, যার ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো তীব্র খরচের চাপে হিমশিম খাচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশের বাজারে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দামও বাড়ায় সরকার। এই দুটি খাতের দাম বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব বাজারে পণ্য ও সেবামূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের উৎপাদন খরচ পর্যন্ত সবকিছু বাড়িয়ে দেয়, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।

বিবিএসের খাতভিত্তিক হিসাব অনুসারে, গত জুন মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে। বর্তমানে গ্রাম কিংবা শহর—সব অঞ্চলেই সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এর ফলে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

/আশিক


স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ০৯:৪১:১৫
স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা মূল্যহ্রাসের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) পরপর দুই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের ঘোষিত এই মূল্য সোমবারও দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর রয়েছে।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যই এখনো বহাল রয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২ জুলাই বাজুস আরেক দফা মূল্য সমন্বয় করে। তখন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে দুই দফা সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী মেকিং চার্জ (মজুরি) পৃথকভাবে যোগ হতে পারে। যদিও স্বর্ণের নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্মিলিত প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লেও বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণে বাজারে চাহিদা পুরোপুরি কমে যায় না। তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা এখন কেনাকাটার আগে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

-রাফসান


নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:১০:০২
নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

নির্ভরযোগ্য উপাত্ত বা ডাটা সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন এই উদ্যোগের ফলে মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ, ল্যাব গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গভীরতর গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে, যা মূলত গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারি ডাটা নতুন নতুন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করার পথ সুগম করবে।

রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে জাতীয় শুমারি ও মাঠপর্যায়ের জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে থাকে।

এই ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সেই সংগৃহীত ডাটা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ডাটা থেকে জ্ঞান এবং জ্ঞান থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন—এই মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিবিএস মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আগামী দিনে উপাত্ত-ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই বিশেষ ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সরকারি ডাটা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী বিবিএস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বিবিএসে স্থাপিত এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব একটি সম্পূর্ণ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে উন্নত গবেষণা ও টেকসই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় ডাটার ব্যবহার আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে নবস্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাবটি মূলত বিবিএসের একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা, যার মাধ্যমে সরকারের অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা জাতীয় শুমারি ও বিভিন্ন জরিপসমূহের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা গভীরভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। ল্যাবটি দেশের উচ্চতর গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, সরকারি কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১১:৩৫:৩৪
টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার পরপর দুই দফা দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে পৌঁছেছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে মাত্র এক দিন আগে, ২ জুলাই, একই ধরনের আরেক দফা মূল্য সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র দুই দফা সমন্বয়েই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই সরাসরি খুচরা বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২ জুলাই কার্যকর হওয়া মূল্যতালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি-সংক্রান্ত ব্যয়ও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লেও বিয়ের মৌসুম, উৎসব এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণে স্বর্ণের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায় না। তবে উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের একটি অংশ অপেক্ষা-দেখার কৌশল গ্রহণ করছেন।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন মূল্যই দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ডিজাইনভেদে মজুরি যুক্ত হতে পারে। ভ্যাট নতুন দামের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: