যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ০৮:৩৬:০১
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই প্রস্তাব এখন ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণের একটি বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আগের প্রস্তাবে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও এবার ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সাময়িক বিরতি নয়, বরং দ্রুত ও স্থায়ী যুদ্ধসমাপ্তি চায়। এজন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তির রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো সামরিক হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা দাবি। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো কিংবা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

তেহরান আরও দাবি করেছে, বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দিতে হবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ তাদের অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বর্তমান সংকট সমাধানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অপরিহার্য।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এখন এই সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হওয়ায় এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তারা বজায় রাখতে চায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টিকে “লাল রেখা” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—একটি কূটনীতির, অন্যটি সংঘাতের।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইরান এবার কিছুটা কৌশলগত নমনীয়তা দেখিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী অবরোধ নিয়ে পূর্বের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মূল বিরোধ এখনো বহাল রয়েছে। ইরান তাদের সার্বভৌম পারমাণবিক অধিকার ছাড়তে রাজি নয় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাবও ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চাইছে ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করুক।

নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৌফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেনেথ ক্যাটজম্যানের মতে, আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা এখন পারস্পরিক অবিশ্বাস। তার ভাষায়, পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও সেটি সমাধানের বাইরে নয়। কিন্তু ইরান এখনো ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধই এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ভাঙা জরুরি; আর ইরান এটিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে দেখছে।

-রফিক


৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ২০:০২:২৭
৩০ দিনের চূড়ান্ত ডেডলাইন! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চায় ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এখন চলছে চরম কূটনৈতিক লড়াই। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোতে আগ্রহী নয়; বরং তারা ৩০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আবার যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবে কয়েকটি শর্তকে 'রেড লাইন' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো

তেহরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার।

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অবসান।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার।

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও সব ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

যদিও গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে দুই দেশের মধ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনো কার্যকর থাকায় কূটনৈতিক সফলতার একটি ক্ষীণ আশা দেখা যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ রোববার (৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সাথে দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন। উল্লেখ্য, ওমান ঐতিহাসিকভাবেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে 'ব্যাক-চ্যানেল' বা গোপন আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ৩০ দিনের সময়সীমা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের অর্থনীতি সচল করতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে কী পদক্ষেপ নেন—শান্তি না কি নতুন কোনো সংঘাত।

সূত্র: আলজাজিরা।


মার্কিন রণতরী হবে কবরস্থান!আমেরিকাকে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৮:১৮:০০
মার্কিন রণতরী হবে কবরস্থান!আমেরিকাকে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং বর্তমানে তেহরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের প্রধান 'জলদস্যু' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের হাতে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। তবে এই জলদস্যুদের মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে কম কিছু নয়।”

রেজায়ি তাঁর বিবৃতিতে গত মাসে ইসফাহানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “প্রস্তুত থাকুন, আপনাদের বিমানবাহী রণতরী ও বাহিনীকে আমরা কবরস্থানে পরিণত করব; ঠিক যেমন গত মাসে ইসফাহানে আপনাদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিল।” তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে ইরান এখন সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেজায়ির এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার হুমকি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এই হুমকির প্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক মহড়া ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্র : আল-জাজিরা


ট্রাম্পের সামনে মাত্র দুটি পথ! আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:৩৩:০৭
ট্রাম্পের সামনে মাত্র দুটি পথ! আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা ইউনিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসি দাবি করেছে, ট্রাম্পকে এখন দুটি কঠিন পরিস্থিতির যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে—হয় তাকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘অসম্ভব সামরিক অভিযানে’ নামতে হবে, আর না হয় ইরানের শর্ত মেনে একটি ‘খারাপ চুক্তিতে’ সই করতে হবে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও প্রকাশ করেছে যে, তেহরান ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে।

যদিও কৌশলী কারণে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি তারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর যদি অবরোধ প্রত্যাহার করা না হয়, তবে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুরু হতে পারে।

বিবৃতিতে বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে আইআরজিসি। তারা বলছে, বর্তমান সংকটে চীন, রাশিয়া এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থানেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের এই শক্ত অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও কোণঠাসা করে ফেলছে।

বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সরাসরি বিরোধিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের এই কড়া বার্তা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখানের পথে ট্রাম্প: যেকোনো সময় হামলার কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৭:১৩:৫৬
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখানের পথে ট্রাম্প: যেকোনো সময় হামলার কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসনে ইরানের দেওয়া ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শাফাক নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তেহরানের এই প্রস্তাব গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ট্রাম্পের দাবি, গত কয়েক দশকে ইরান বিশ্বজুড়ে যে ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, তার তুলনায় তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখারই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শান্তি আলোচনার আবহেই ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের কথা উচ্চারণ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো ‘অসদাচরণ’ করে কিংবা খারাপ কিছু করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা বা নতুন করে হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।

উল্লেখ্য, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং ভবিষ্যতে হামলার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। তবে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এখনই নয়, বরং পরে করার প্রস্তাব দিয়েছে—যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক আপত্তির জায়গা।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র 'হরমুজ প্রণালি' এখন এই সংঘাতের ট্রাম্প কার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের এই পথটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য একটি কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই প্রস্তাবিত আইনে ইসরায়েলি জাহাজের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং ‘শত্রু’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর জাহাজের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব: ট্রাম্পের টেবিলে এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১১:৫৩:৫৫
স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব: ট্রাম্পের টেবিলে এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে আশার আলো দেখালেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম 'তাসনিম নিউজ এজেন্সি' জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত দুই মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখান করে ইরান দ্রুত ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি চেয়েছে।

তেহরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত ইস্যু নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিলেও তেহরানের ওপর তাঁর অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গত ৪৭ বছরের কর্মকাণ্ডের জন্য ইরান এখনও "পর্যাপ্ত মূল্য পরিশোধ করেনি", তাই এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরানের ১৪ দফার মূল শর্তাবলি

তেহরানের এই প্রস্তাবে কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর লিখিত নিশ্চয়তা।

ইরানের সীমান্তবর্তী ও আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের স্থগিত করা (ফ্রোজেন) সম্পদ অবমুক্ত করা।

গত কয়েক মাসের যুদ্ধের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে শত্রুতা ও যুদ্ধ বন্ধ করা।

হরমুজ প্রণালী ও নৌ-অবরোধ নিয়ে নতুন চাল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'এক্সিওস'-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই প্রস্তাবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় চালুর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে। এছাড়া প্রাথমিক চুক্তি সফল হলে পরবর্তী এক মাস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা। একদিকে যখন ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখছেন, অন্যদিকে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে জিম্মি করে নিজেদের দাবি আদায়ে চাপ দিচ্ছে। এখন হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তির পথে হাঁটবে নাকি আরও বড় কোনো ধ্বংসযজ্ঞের দিকে এগোবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


শুধু মিসাইল নয়, ইরানকে রক্ষায় ‘কূটনৈতিক ঢাল’ হয়ে দাঁড়াল রাশিয়া: বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১১:১৭:০৬
শুধু মিসাইল নয়, ইরানকে রক্ষায় ‘কূটনৈতিক ঢাল’ হয়ে দাঁড়াল রাশিয়া: বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
এআই দিয়ে তৈরি/ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, ইরান সংকটের সমাধানের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে তারা কূটনৈতিক পথকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশিয়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা কেবল একটি অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মস্কো।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ইরানের ওপর কোনো ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক পদক্ষেপ তারা সমর্থন করে না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বা অন্য যেকোনো ধরনের বৈরী পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে পুতিন প্রশাসন।

তবে রাশিয়া এও স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তায় যাচ্ছে না। কৌশলগত কারণেই রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে আগ্রহী নয়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চরম অনীহা প্রকাশ করেছে এবং চীনও প্রথম থেকেই যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।

এই কূটনৈতিক মেরুকরণ ইরানকে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকট তেহরানের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। তা সত্ত্বেও রাশিয়া মনে করে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক উদ্যোগই পারে বিশ্বকে বড় কোনো যুদ্ধ থেকে বাঁচাতে।

/আশিক


শান্তি না কি নতুন যুদ্ধ? ট্রাম্পের বার্তার পর উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১০:০৫:৪৭
শান্তি না কি নতুন যুদ্ধ? ট্রাম্পের বার্তার পর উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে ইরানের পাঠানো যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিলেও শুরুতেই তা নাকচ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে যে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এই প্রস্তাবে তার বিপরীতে পর্যাপ্ত দায়বদ্ধতা বা মূল্য নিশ্চিত করা হয়নি।

তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন, “আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে।” উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবারও ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন যে তেহরানের অফারে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন।

শান্তি আলোচনার সমান্তরালে ট্রাম্পের মুখে এখন আবার যুদ্ধের সুর। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পুনরায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি। ট্রাম্পের ভাষায়, “যদি তারা পুনরায় কোনো অসদাচরণ করে কিংবা খারাপ কিছু করার চেষ্টা করে, তবে নিশ্চিতভাবেই হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।” ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে আরও বড় কোনো সুবিধা আদায় করতে চাইছেন।

এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

যদিও ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের পাঠানো ১৪ দফার প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন এখন কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত তেহরানকে আরও নমনীয় হতে বাধ্য করার একটি কৌশল মাত্র।

/আশিক


ডলারের দিন কি তবে শেষ? চীনা মুদ্রার কাছে হার মানছে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:৫৫:১৮
ডলারের দিন কি তবে শেষ? চীনা মুদ্রার কাছে হার মানছে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের লৌহ আকরিক বা লোহার বাজারে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যে বড় ফাটল ধরালো চীন। এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ খনি কোম্পানি বিএইচপি (BHP) চীনের কাছে লোহা বিক্রি করত সম্পূর্ণ ডলারে।

তবে চীনের নতুন প্রতিষ্ঠান 'চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ' (সিএমআরজি)-এর ক্রমাগত চাপে অবশেষে নতি স্বীকার করেছে অস্ট্রেলীয় এই জায়ান্ট। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে বিএইচপি-এর জিম্বলবার আকরিক লোহার লেনদেনের ৫১ শতাংশই পরিশোধ করা হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। এর আগে রিও টিন্টো ও ফোর্টেস্কু চীনের শর্ত মেনে নিলেও বিএইচপি-র এই নতি স্বীকার বিশ্ববাজারে বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

এই সাফল্যের পেছনে চীনের কৌশল ছিল অত্যন্ত কঠোর। বিএইচপি শুরুতে ডলারে অনড় থাকলে চীন তাদের আকরিক লোহা আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থা কাটাতে বিএইচপি-র শীর্ষ কর্মকর্তারা বেইজিংয়ে গিয়ে বৈঠক করেন এবং চীনের নিজস্ব 'বেইজিং আয়রন ওর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স' মেনে নিতে বাধ্য হন।

শুধু তাই নয়, মার্কিন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সূচকের পরিবর্তে চীনা সূচক ব্যবহারের পাশাপাশি বেইজিংকে ১.৮ শতাংশ মূল্যছাড়ও দিয়েছে কোম্পানিটি। চীনের জন্য এটি একটি বিশাল প্রতীকী জয়, কারণ এর মাধ্যমে খনিজ সম্পদের আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ধারণের নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি বেইজিংয়ের হাতে চলে এসেছে।

লোহার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও এখন ডলার সরিয়ে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে। এমনকি গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলোও এখন স্বল্প সুদের কারণে চীনের অফশোর ঋণ বাজারের দিকে ঝুঁকছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসার অনিশ্চয়তা এবং ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়াতে বিশ্বের অনেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এখন রেনমিনবি বা ইউয়ানে লেনদেন বাড়াচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে অন্যান্য খনিজ আমদানির ক্ষেত্রেও ডলারের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: ফোর্বস।


হরমুজ প্রণালি কি খুলবে? বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি চিন পিং মেগা বৈঠকের আলোচ্যসূচি ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ২১:১৪:১২
হরমুজ প্রণালি কি খুলবে? বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি চিন পিং মেগা বৈঠকের আলোচ্যসূচি ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভয়াবহ সংঘাতের পর বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে বেইজিংয়ের দিকে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৪ মে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রধান ইস্যু হবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা।

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং জানিয়েছেন, এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়া। যদি বৈঠকের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে এটিই হবে দুই পরাশক্তির আলোচনার শীর্ষ অগ্রাধিকার।

এদিকে মার্কিন আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের অনুমোদন না পেলে ৬০ দিন পর সরকারকে সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে হয়। সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, গত ৭ এপ্রিলের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আর কোনো সরাসরি গুলি বিনিময় হয়নি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘শত্রুতামূলক কার্যক্রম’ আপাতত শেষ হয়েছে।

তবে সরাসরি যুদ্ধ থামলেও স্থায়ী কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এখন ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, তেহরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, যা কুয়েতসহ আরব দেশগুলোও ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কড়া সুর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় পুনরায় সংঘাত শুরু হতে পারে। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা চুক্তি যথাযথভাবে রক্ষা করে না। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নমনীয় হতে রাজি নয়।

যদিও আলজাজিরা দাবি করেছে, ইরান তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি থেকে সরে এসে একটি সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই বেইজিং বৈঠক এখন বিশ্ব শান্তির জন্য শেষ আশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: