১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ২১:৫৬:০৪
১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। সোমবার (৪ মে) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই নির্বাচনী ফলকে সরাসরি ‘লুট’ এবং ‘অনৈতিক বিজয়’ বলে আখ্যা দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিজেপি রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, গণনায় কারচুপি করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তৃণমূলের জয় স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও শংসাপত্র দিতে গড়িমসি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি কোনো ‘নৈতিক জয়’ নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের যোগসাজশে ঘটা একটি লুণ্ঠনমূলক কাণ্ড। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই বিপর্যয় কাটিয়ে ভবিষ্যতে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, এই জয়কে ‘জনগণের শক্তির বিজয়’ হিসেবে দেখছে বিজেপি শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাফল্যকে ‘সুশাসনের রাজনীতির জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির একক সরকার গঠন নিশ্চিত হয়েছে।

ভোট গণনা চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস বারবার কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট এবং বর্ধমান উত্তরের মতো কেন্দ্রগুলোতে গণনায় ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ও শংসাপত্র প্রদানে কারচুপি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে গণনা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইভিএম মেশিনে অমিল পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, এটি তৃণমূলের পরাজয় নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৯টি আসন। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। বিজেপির সদর দপ্তরে এখন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে তৃণমূল শিবির লড়ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ২১:১৮:১৪
গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উচ্ছ্বসিত ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশাল এই জয়ের পর দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহার নির্বাচনের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো এবং সেখানে পরিবর্তনের সূচনা হলো।” নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করায় এখন সবার নজর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৯টি আসনে থমকে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ভূমিপুত্র। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচাইতে এগিয়ে আছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায় আরও রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তর মতো নেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মানবিক রাজনীতি’ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সত্ত্বেও তৃণমূলের এই ভরাডুবির মূলে রয়েছে মাঠপর্যায়ের পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ। ২০১১ সাল থেকে ‘বাংলার ঘরের মেয়ে’ হিসেবে মমতার যে আবেগ কাজ করত, এবার তার বিপরীতে বিজেপির সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক গণিত কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো অ-আঞ্চলিক দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যা ভারতীয় রাজনীতিতে ‘পদ্মফুলের উত্থান’ হিসেবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

/আশিক


দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:৩৩:৩৪
দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের যবনিকা ঘটল। ২০১১ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ‘বাংলার মেয়ে’ হিসেবে যে আবেগের দেওয়াল মমতা তুলেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আর প্রশাসনিক স্থবিরতার ধাক্কায় তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ (১৪৮) অনায়াসেই পার করে গেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮৯টি আসনে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল শক্তি ছিল সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী বা রূপশ্রীর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেখা গেল, সাধারণ মানুষের সেই ‘মায়া’ আর কাজ করেনি।

মাটির নিচে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বেকারত্ব এবং মাঠপর্যায়ে তৃণমূলের দলীয় ক্যাডারদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে মানুষ এবার নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছে। রাজনীতির সেই নির্মম আয়নায় আজ ধরা পড়ল যে, কেবল জনকল্যাণের ভাষা দিয়ে সবসময় ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখা যায় না, যদি সেখানে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাব থাকে।

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। একে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের এক আমূল পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাম আমলের ৩৪ বছর আর মমতার ১৫ বছর—সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দীর আঞ্চলিক ও বামপন্থী ঘরানার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলা এখন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পথে। ক্ষমতার এই রং বদল যতটা নিশ্চিত ছিল, তার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ হলো মমতার মতো একজন জননেত্রীর এমন শোচনীয় পরাজয়।

/আশিক


তামিল রাজনীতিতে বিজয় বিপ্লব: ডিএমকে-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে টিভিকে

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:২৮:১০
তামিল রাজনীতিতে বিজয় বিপ্লব: ডিএমকে-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে টিভিকে
ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতির দীর্ঘদিনের মেরুকরণ ভেঙে এবার নতুন এক শক্তির উত্থান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন থালাপতি বিজয়ের দলের প্রার্থীরা। কাভুন্দামপালায়ম কেন্দ্রের প্রার্থী কানিমোঝি সন্থোষ সোমবার পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নির্বাচনে বিজয়ের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, মানুষ বিজয়কে কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, বরং হৃদয়ের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সাক্ষাৎকারে কানিমোঝি বলেন, “আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মানুষ থালাপতির সঙ্গে মানসিকভাবে কতটা গভীরভাবে যুক্ত। এটি বিজয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে।” তিনি আরও জানান যে, ভোট গণনার শুরু থেকে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে সন্ধ্যা নাগাদ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের ‘তামিলাগা ভেত্রি কাড়ঘম’ (টিভিকে) এক অভাবনীয় বিজয় উদযাপন করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের এই প্রবল আবেগ এবং কানিমোঝির মতো প্রার্থীরা যেভাবে জয়ের পথ পরিষ্কার হওয়ার দাবি করছেন, তাতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আজকের দিনের প্রথমার্ধ শেষ হতেই বিজয়ের দলের এই অগ্রগামিতা তামিল রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


তামিলনাড়ুতে কি তবে ‘বিজয়’ উৎসব? ম্যাজিক ফিগারের কাছে থালাপতি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১১:৪৬:৫৭
তামিলনাড়ুতে কি তবে ‘বিজয়’ উৎসব? ম্যাজিক ফিগারের কাছে থালাপতি
ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সিনেমার পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নামা জোসেফ বিজয় এখন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, থালাপতি বিজয়ের দল 'তামিলাগা ভেত্রি কাড়ঘম' (টিভিকে) রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ভারতীয় গণমাধ্যম 'দ্য হিন্দু'-র তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে বর্তমানে প্রায় ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এআইএডিএমকে ৭৫টি এবং ক্ষমতাসীন ডিএমকে মাত্র ৫০টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজয় ৮৯টি আসনে লিড দিচ্ছেন। যদিও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি, তবে প্রাথমিক এই জোয়ার বিজয়ের পক্ষেই কথা বলছে।

ক্যারিয়ারের সেরা সময়েই অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন থালাপতি বিজয়। ২০২৪ সালে দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি বাজিমাত করতে চলেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় উত্থানকে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘বিজয় বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা বিজয়ের ওপর ভরসা রাখাতেই রাজ্যের প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির মেরুকরণ বদলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজয় এগিয়ে থাকলেও লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ১১৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাঁকে আরও কিছু আসন নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো সময় এই ফল ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর এই ভরাডুবি তামিল রাজনীতির জন্য এক বিশাল বড় বার্তা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত থালাপতি বিজয় কি তামিলনাড়ুর মসনদে বসে নতুন কোনো চিত্রনাট্য লেখেন কি না।

/আশিক


ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর তান্ডবে কি তবে সিংহাসন হারাবেন মমতা?

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১১:২০:৩৭
ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: শুভেন্দুর তান্ডবে কি তবে সিংহাসন হারাবেন মমতা?
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনার শুরুর দিকেই রাজ্যে বিজেপির বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ হলেও বিজেপি ইতিমধ্যে ১৬৯টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ১১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বাম-কংগ্রেস জোটও কয়েকটি আসনে এগিয়ে থেকে তাদের খাতা খুলেছে।

সবচাইতে আলোচিত ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরুর দিকে মমতা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারী ১,৫৫৪ ভোটে এগিয়ে যান। উল্লেখ্য, শুভেন্দু এই নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নন্দীগ্রামেও শুভেন্দু তাঁর লিড ধরে রেখেছেন।

২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মাত্র ১,৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে তিনি ভবানীপুর আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সাধারণ নির্বাচনে শুভেন্দু সরাসরি মমতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ভবানীপুরেও প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং সহিংসতার অভিযোগ থাকলেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের দিকেই ঝুঁকেছেন বলে প্রাথমিক ট্রেন্ডে মনে হচ্ছে।

কলকাতা জেলার অন্তর্গত ভবানীপুর আসনটি তৃণমূলের জন্য 'প্রেস্টিজ ফাইট'। ২০১১ সাল থেকে মমতা এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করলেও এবার শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও হিন্দু ভোটের মেরুকরণ তৃণমূলের এই দুর্গে ফাটল ধরিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হয়নি, তবে বিজেপির এই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মমতার টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:২৮:২০
চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
'চিকেন্স নেক' আর আসামে মাটির নিচে গভীর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে ভারত (সংগৃহীত ছবি)

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শিলিগুড়ি করিডরে ৩৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে প্রকল্পটির উল্লেখ করায় অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকায় এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।

নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথ চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ। তৃতীয় ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে আসামের ধুবড়িতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখা যায়। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যালের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, সুড়ঙ্গ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ; তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা বেশি নিরাপদ।

ব্রহ্মপুত্রের নিচে ভারতের প্রথম রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ

১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়।

সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে চলবে ট্রেন এবং অন্যটিতে থাকবে চার লেনের সড়ক। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় সরাসরি যুক্ত হবে। বর্তমানে এই দুই এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার অংশ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।

এই সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। সম্প্রতি ঘাঁটি সম্প্রসারণে ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:০০:৩৬
অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন গেমের নেশা কীভাবে একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। রাজ্যের গাজিয়াবাদের 'ভারত সিটি' আবাসন কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলো—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। এই মর্মান্তিক পরিণতির আগে তারা একটি ডায়েরিতে আট পৃষ্ঠার দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছে, যার শেষে লেখা ছিল, "আমি সত্যিই দুঃখিত, স্যরি পাপা।"

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনই অনলাইন গেমে প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই আসক্তি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। গেমের প্রতি এই নেশার কারণে তারা গত দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা একটি 'কোরিয়ান লাভ গেম' এবং কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন ছিল যে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। তাদের মা-বাবা যখন তাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেন এবং গেম খেলা বন্ধের চেষ্টা করেন, তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয় গেম খেলতে না পারার ক্ষোভ থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের বাসার বারান্দার দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফিয়ে পড়ে। তাদের আর্তচিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার বিকট শব্দে মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা-বাবা বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ তাদের ঘর থেকে যে আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, সেখানে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল। নোটের এক জায়গায় আঁকা ছিল একটি কান্নার ইমোজি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বোনের বাবা চেতন কুমার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এক স্ত্রীর এবং অন্যজন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিল। তারা মেজ বোন প্রাচীর নেতৃত্বেই সব কাজ করত। বুধবার সকালে আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে তিন মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বিহ্বল মা এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অনলাইন গেমের ভয়াবহতা নিয়ে এই ঘটনাটি এখন ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৮:৫৯:১০
ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের লোকসভায় এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন' ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি ভারতের নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে (Revised Estimate) বাংলাদেশের জন্য এই সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তবে উল্লেখ্য যে, গত বছরের মূল বাজেটে (Budget Estimate) বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি রুপি, যা সংশোধিত বাজেটে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছিল। সেই দিক থেকে নতুন বরাদ্দ গত বছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় কম হলেও সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি।

চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ শূন্য বাজেটের সবচেয়ে বড় ও বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত হলো ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখা। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে ভারত ধারাবাহিকভাবে শত শত কোটি রুপি বিনিয়োগ করলেও এবার তা 'শূন্য' (Nil) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে ভারত এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে। চাবাহার বন্দরের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড় বা 'ওয়েভার' আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।

বরাবরের মতো সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যার পরিমাণ ২,২৮৯ কোটি রুপি।

তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি করা হয়েছে (৫০% বৃদ্ধি)।

নেপালের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি।

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কার বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০০ কোটি রুপি করা হয়েছে।

মালদ্বীপ ও মরিশাস এই দুই দেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫০ কোটি রুপি করে।

সামগ্রিক বাজেট ও পররাষ্ট্র নীতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) জন্য এই বাজেটে মোট ২২,১১৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোট বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৬,৯৯৭ কোটি রুপি। বাজেটের এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি মোকাবিলার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।


নয়াদিল্লিতে বিরল সম্মান: লোকসভায় খালেদা জিয়াকে মোদীর শ্রদ্ধা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২১:১৬:৩৩
নয়াদিল্লিতে বিরল সম্মান: লোকসভায় খালেদা জিয়াকে মোদীর শ্রদ্ধা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পার্লামেন্টের লোয়ার হাউজ বা লোকসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়েছে এক অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে। আজ বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ অধিবেশনের প্রথম দিনে ভারতের আইনপ্রণেতারা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সম্প্রতি প্রয়াত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব আনা হয়। এই প্রস্তাবে সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাবেক সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এই সময় মৃতদের আত্মার শান্তিকামনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ লোকসভার সকল সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী কোনো দেশের সাবেক প্রধানকে নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে এ ধরনের শোক প্রস্তাব গ্রহণ করাকে অত্যন্ত উঁচু মাপের কূটনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুর পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে এসেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ লিখিত শোকবার্তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আজ লোকসভার অধিবেশনে সেই একই শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা গেল যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে।

ভারতের এই বাজেট অধিবেশনটি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে যেখানে ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও খালেদা জিয়ার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল দিনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। অধিবেশনের সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি দেশটির অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করা হবে। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও এই শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বর্তমান মোদী সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করছে, খালেদা জিয়ার প্রতি লোকসভার এই শ্রদ্ধা নিবেদন তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

পাঠকের মতামত:

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে একাধিক শেয়ার দামের উল্লেখযোগ্য উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সোমবারের লেনদেনে... বিস্তারিত