আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৫৭:০৩
আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতীতের পচা রাজনীতি অনুসরণ করার জন্য ২৪-এ যুবকরা লড়াই করে নাই। আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা হবে ইনশাআল্লাহ।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবর্তন ও আগামীর বাংলাদেশ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন আর জনগণ শুনতে চায় না। যারা জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা বাংলাদেশে আর হবে না। তিনি অঙ্গীকার করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটি ফুলের বাগানের মতো সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা হবে।

যুবকদের কর্মসংস্থান ও যোগ্যতা ২৪-এর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, যুবকরা রাস্তায় নেমেছিল তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের অধিকার ফিরে পেতে। কোনো 'মামা-খালুর' সুপারিশে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা চায় আজকের তরুণ প্রজন্ম। তিনি যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "তোমাদের হাতে বেকার ভাতা নয়, সম্মানের কাজ তুলে দেবো ইনশাল্লাহ। আমরা তোমাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। তোমরাই হবে আগামীর বাংলাদেশ।"

নারীদের সম্মান ও অধিকার জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হয়েছিল, তখন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত নারীদের সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি বলেন, "যে জাতি মাকে সম্মান করে, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আমরা আপনাদের সম্মানের সাথে মাথায় তুলে নেবো।"

জনসভায় কটিয়াদী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করে একটি ইনসাফ কায়েমের সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।


মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৩২:৪৬
মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে দেবিদ্বারে মাদকসম্রাটদের ‘শেষ দিন’।

মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত দেবিদ্বারের অঙ্গীকার উঠান বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতের নেতারা টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতেন। কিন্তু ১১ দলীয় জোট কেবল সাধারণ জনগণের শক্তির ওপর আস্থাশীল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "১২ তারিখ সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মাদককারবারি ও মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার চূড়ান্ত পরিণতি হয়ে যাবে। দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাদকসম্রাট একসাথে থাকতে পারে না।" যারা অবৈধ পথে উপার্জনে অভ্যস্ত, তাদের সুস্থ ধারার কর্মসংস্থানে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শ্রম দিয়ে খেতে চান, তাদের জন্য জোটের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচনী প্রতীক ও গণভোটের আহ্বান হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি হলো সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং অন্যটি হলো দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট প্রদান করা। তিনি বলেন, "পরবর্তী বাংলাদেশের বিনির্মাণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে।" ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জোটের পক্ষে কাজ করার এবং উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মোহনপুরের এই উঠান বৈঠকে স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ, দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা এনসিপি-র সদস্য মোসলে উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন, মোহনপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক এবং জামায়াত নেতা কাজী সবুজ। তাঁরা সবাই জোটবদ্ধভাবে শাপলাকলি প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:২৫:৩০
চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
আসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি

চটগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্বাচনী লড়াইয়ে ফেরার গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই যুগান্তকারী আদেশ দেন।

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগের রায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল যমুনা ব্যাংক। মঙ্গলবার আপিল বিভাগ সেই আবেদন খারিজ করে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ রাখার আদেশ বহাল রাখেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই আদেশের ফলে সীতাকুণ্ডের এই জনপ্রিয় নেতার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করতে আর কোনো বাধা নেই। উল্লেখ্য, শুরুতে আসলাম চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন না পেলেও পরবর্তীতে প্রবল জনমতের চাপে তাঁকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের জয় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রেও আদালত ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীনের দায়ের করা আপিলের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। ইসির ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আসেন তিনি। হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ আপিল বিভাগেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় তাঁর ভোটের পথ পরিষ্কার হলো।

মাঠে ফিরছে নির্বাচনী উত্তাপ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ির এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আইনি লড়াইয়ে জিতে আসায় চট্টগ্রামের নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। আদালতের আদেশের খবর পৌঁছানোর পর দুই নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এখন তাঁরা পূর্ণ গতিতে প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:১৫:৪১
ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থীরা (ওপরে বাঁ থেকে)– আবদুল আউয়াল মিন্টু, আসলাম চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের ও এম এ এইচ সেলিম; (নিচে বাঁ থেকে)– সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. জালাল উদ্দীন, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও মো. সফিকুর রহমান।/ছবি :

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে কোটিপতি ও শতকোটিপতি প্রার্থীদের আধিক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। টিআইবির প্রতিবেদন ও প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৮৯১ জনই কোটিপতি এবং ২৬ জন শতকোটিপতি।

শীর্ষ ধনী প্রার্থীর তালিকায় যারা রয়েছেন হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ধনী প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যাঁর পারিবারিক সম্পদের পরিমাণ ৪৭৪ কোটি টাকা। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ, যাঁর সম্পদের মূল্য ২৯৯ কোটি টাকা। ২৯২ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট ও ব্যবসায়ী আধিক্য এবারের নির্বাচনে বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও বিপুল সম্পদের মালিকদের দেখা গেছে। শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ৩ জন রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা, বাগেরহাটের এম এ এইচ সেলিমের ২৬২ কোটি টাকা এবং নোয়াখালী-৬ আসনের মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের ১৯০ কোটি টাকা। টিআইবি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই পেশায় ব্যবসায়ী।

ঋণ ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বিপুল সম্পদের পাশাপাশি অনেক প্রার্থীর বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর হলফনামায় ২৮০ কোটি টাকা এবং আসলাম চৌধুরীর হলফনামায় ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণের তথ্য রয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রার্থীরা বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় এবং বিপুল ঋণ থাকায় নির্বাচিত হওয়ার পর ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরির ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়াও শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় থাকা অন্য প্রার্থীরা হলেন চাঁদপুরের মো. জালাল উদ্দীন (২৪৯ কোটি), বগুড়ার গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি) এবং শরীয়তপুরের মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি)।


লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৯:২০:৪৩
লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘লাশের রাজনীতি’ ও ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের’ অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনে তাঁর নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়মিত ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীরা মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছে, যা দেশবাসী অতীতেও দেখেছে। আমার আসনেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে অন্য আসনগুলোর পরিস্থিতি কেমন তা সহজেই অনুমেয়।”

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, কাইয়ুম তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আজই (সোমবার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।” সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি হতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সেই কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল হবে না, সেই নিশ্চয়তাও নেই।” এছাড়া কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করে, তবে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা) ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি তিনি ভোটারদের জন্য ‘অনলাইন তথ্যসেবা’ চালুর বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন।


 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৮:৫৬:০৮
 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি/ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ রনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ রাত গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ইসলামনগর এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রনি ও হাসিনুরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রনির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা তাঁর অবস্থাকে সংকটাপন্ন করে তোলে।

ছাত্রদল নেতার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাইফুল ইসলাম রনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে জাবি ক্যাম্পাসে এবং রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "আহা জীবন! রনি ৪ দিন আগেও আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আর দেখা হলো না। আজ সকালে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।"

উল্লেখ্য, ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ অন্য তিনজনের মধ্যে হাসিনুর এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি দুজন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।


কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৪৭:৫৬
কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক
বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন শফিকুর রহমান।

কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় এক শক্তিশালী ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান নির্বাচনকে ফ্যাসিবাদের পতন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের লড়াই হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। জামায়াত আমির স্পষ্ট করে জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ভোট নয়, বরং পচা ও ঘুণে ধরা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত ধাপ।

ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড ও জুলাই হত্যার বিচার ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন কোনো পাতানো খেলা নয়; এটি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। এটি জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত আর ত্যাগের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সব ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখাবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী একটি সম্পূর্ণ নতুন বাংলাদেশ পাবে।"

নারীদের মর্যাদা ও শিক্ষা নিয়ে বিশেষ প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে জামায়াত আমির নারীদের জন্য বড় ধরনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সম্পূর্ণ ফ্রি করার সুব্যবস্থা করব।" সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, "নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। যারা পেছনে আছে তারা পেছনেই পড়ে থাকবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে মাথার ওপর করে রাখব।"

ইনসাফ কায়েমের শপথ বিগত ৫৪ বছরের রাজনীতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরোনো রাজনীতি কেবল দফায় দফায় ফ্যাসিবাদেরই জন্ম দিয়েছে। এই জীর্ণ রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরে জনতার ঢল নামে, যা নির্বাচনী আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৩০:২৪
যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা 
ছবি : কালবেলা

দীর্ঘ ২২ বছর পর যশোরের মাটিতে পা রেখে নির্বাচনী জনসভায় এক উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে যশোর উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের কড়া সমালোচনা করেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর থেকে নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাঁদের ঘরে বন্দি করার নীল নকশা আঁকছে।

নারীদের অবমাননা ও জামায়াতকে ইঙ্গিত তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি দল অসৎ উপায়ে নারীদের এনআইডি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে?" জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "একটি দলের প্রধান বিদেশি মিডিয়ায় বলছেন এক কথা, অথচ গত রাতে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাদের চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার মতো জলজ্যান্ত মিথ্যা বলছে।" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বেগম জিয়া নারীদের শিক্ষিত করতে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি মা-বোনের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন নস্যাতের ষড়যন্ত্র ও হুঁশিয়ারি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ‘আমি-ডামি’ ও নিশিরাতের ভোটের মতো করেই একটি দল এখন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভোট গণনার নামে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়বে এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হবে।

যশোরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা যশোর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের উন্নয়নে তারেক রহমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত উলাসী খালসহ এই অঞ্চলের সব খাল-বিল পুনঃখনন করা হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে সকাল থেকেই বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগানে পুরো যশোর শহর পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে।


নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৫:২১:৪৬
নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
ছবি: BNP Media Cell

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অবমাননা করে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক কিংবা জনগণের কল্যাণকামী শক্তি হতে পারে না। তার ভাষায়, নারী অসম্মান ও মিথ্যাচার একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত চরিত্রই প্রকাশ করে।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, কেবল কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়, বাস্তবমুখী কাজ ও দায়িত্বশীল নীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। এ কাজে দল-মত কিংবা শ্রেণি-পেশার বিভাজন নয়, বরং সব শ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে এগোনোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে যত বড় উন্নয়ন পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, তা কখনোই টেকসই হবে না। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল কাগুজে স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই দল প্রকাশ্যেই নারী নেতৃত্বে আস্থা না রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি দলটির এক নেতার বক্তব্যে কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুধু নারীদের জন্য নয়, গোটা জাতির জন্যই লজ্জাজনক ও অপমানজনক।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পে লক্ষাধিক নারী শ্রমিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন। অথচ এই নারীরাই আজ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবমাননাকর বক্তব্যের শিকার হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের দায় এড়াতে আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত তুলে ধরেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াই তাদের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে।

আসন্ন ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আজকের জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাদের মত প্রকাশের সুযোগ হারিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, গুম, খুন কিংবা রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই জনগণের সচেতন সিদ্ধান্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধাপে ধাপে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা আর কারও ওপর নির্ভরশীল না থাকে। সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা আজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই অঞ্চলকে পুনরায় একটি কর্মচঞ্চল শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

-রফিক


জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১২:৪৪:০৪
জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায় এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আফগানিস্তানের মতো একটি রক্ষণশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার মানসিকতা পোষণ করছে।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-এ জনসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, নারীর ভূমিকা এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মূলত এমন একটি সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যেখানে নারীদের কর্মজীবন ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দলটি নারীদের ঘরে আটকে রাখার চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, যা বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আধুনিক রাষ্ট্রধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।

জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত আমির যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নারীবিদ্বেষী কোনো মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি এ ধরনের মন্তব্যকে নারীর মর্যাদা ও অধিকারবিরোধী বলেও উল্লেখ করেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সবার আগে প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতা নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে জাতিকে ভোগ করতে হবে। তাই ভোট দেওয়ার সময় সবাইকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: