আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ০৯:৫৩:৪৫
আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধিতে সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হলো ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রাইজবন্ডের বহুপ্রতীক্ষিত ১২২তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই ড্র পরিচালিত হবে।

নিচে প্রাইজবন্ডের ড্র এবং এর পুরস্কার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো

পুরস্কারের পরিমাণ ও বণ্টন প্রাইজবন্ডের প্রতিটি ড্র-তে মোট ৪৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকে। প্রাইজবন্ডের ঘোষিত প্রতিটি সিরিজের জন্য একই সংখ্যার বন্ড পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। পুরস্কারের কাঠামো নিম্নরূপ

প্রথম পুরস্কার: ৬ লাখ টাকা (১ জন)

দ্বিতীয় পুরস্কার: ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা (১ জন)

তৃতীয় পুরস্কার: ১ লাখ টাকা করে (২ জন)

চতুর্থ পুরস্কার: ৫০ হাজার টাকা করে (২ জন)

পঞ্চম পুরস্কার: ১০ হাজার টাকা করে (৪০ জন)

ড্র-তে অংশগ্রহণের শর্তাবলি প্রাইজবন্ডের ড্র প্রতি তিন মাস অন্তর (৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ড্র-এর তারিখ থেকে অন্তত ৬০ দিন আগে যে বন্ডগুলো কেনা হয়েছে, সেগুলোই লটারির আওতায় আসবে। এছাড়া আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, পুরস্কারের মোট অর্থ থেকে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ফলাফল দেখার সহজ উপায় ঘরে বসেই এখন প্রাইজবন্ডের ফলাফল যাচাই করা সম্ভব

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (IRD) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট prizebond.ird.gov.bd-তে গিয়ে বন্ডের নম্বর লিখে ফলাফল দেখা যাবে।

গুগল প্লে-স্টোর থেকে 'PBRIS' অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই নম্বর মিলিয়ে নেওয়া যায়।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ড্র হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ২ বছর বা শেষ ৮টি ড্র-এর যেকোনো পুরস্কার দাবি করা সম্ভব।

সারাজীবনের সঞ্চয় নিরাপদ রাখতে এবং ভাগ্যের পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রাইজবন্ড একটি স্মার্ট বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে মধ্যবিত্তদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২০:১৭:৩৮
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় প্রস্তুত হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনার পরই এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য বেতন সারণি ও বাস্তবায়নের তারিখ ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সরকার এখনও নতুন পে-স্কেলের কোনো চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকার একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর দিকেও নজর রাখছে।

পে-স্কেল বিলম্বের পেছনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ প্রশাসনের মধ্যে বেতন ও মর্যাদাগত ভারসাম্য রক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে। এছাড়া নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদে সেই ব্যয় বহনের সক্ষমতাও গভীর বিশ্লেষণের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ নিয়ে একাধিক পর্যালোচনা বৈঠক সম্পন্ন করেছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসব সুপারিশ হুবহু রাখা হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অননুমোদিত তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়।

/আশিক


তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৯:৫৭:৪৮
তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস এবং মার্কিন ডলারের দরপতনের প্রভাবে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য চুক্তি ও কৌশলগত সমঝোতার খবর তেল বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ প্রশমিত হয়। তেলের দরপতনের ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে থাকার শঙ্কাও অনেকটাই কেটেছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়ায়। পাশাপাশি মার্কিন ফিউচারস মার্কেটেও স্বর্ণের বাজারদর ০.২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮০ ডলার স্পর্শ করে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দর কমলে স্বর্ণের বাজারে গতি আসার বিশ্বজুড়ে যে মনস্তাত্ত্বিক ধারা রয়েছে, বাজার এখন সেদিকেই গড়াচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও হ্রাস পেয়েছে, যা মূলধনী লাভহীন ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বিনিয়োগ সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যান্য বৈশ্বিক ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭.৯৩ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৩.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম স্থির রয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭৩.১২ ডলারে।

বৈশ্বিক দামের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও ভ্যাট ও অন্যান্য আনুমানিক কর যুক্ত করে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৩:৩৮
ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
ছবি : সংগৃহীত

আমদানি দায় পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহক পর্যায় এবং খোলাবাজার—সবখানেই ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের দুর্বলতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসভিত্তিক ওঠানামা ডলারের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যকে আবারও নড়বড়ে করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ আগস্ট প্রকাশিত বিনিময় হার অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা এবং ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা ছিল। লেনদেনভিত্তিক ভারিত গড় হার দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮১ দশমিক ৯৭ পয়সায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই হার আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

এর আগে ৩০ জুলাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্পট রেফারেন্স রেট দিনের শুরুতে ১২৩ টাকা ৭৯ দশমিক ৪৬ পয়সা এবং দিনের শেষে ১২৩ টাকা ৮৮ দশমিক ১৮ পয়সা ছিল। ২ আগস্ট দিনের শুরুতে এই হার ১২৩ টাকা ৯১ দশমিক ৫০ পয়সায় উঠলেও শেষ পর্যন্ত ১২৩ টাকা ৭৪ দশমিক ৭৬ পয়সায় নেমে আসে। এতে বোঝা যায়, ব্যাংকভিত্তিক বড় অঙ্কের লেনদেনে ডলারের দর এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের প্রকৃত খরচ ব্যাংকভেদে আরও কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ ঘোষিত আন্তঃব্যাংক হারের সঙ্গে ব্যাংকের নিজস্ব মার্জিন, লেনদেন ব্যয় এবং গ্রাহকের আমদানির ধরন যুক্ত হয়। আমদানি দায় মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক বাজারে তুলনামূলক উচ্চ দর দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

ডলারের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হলো ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

পেট্রোলিয়াম আমদানি ওই সময়ে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আমদানিকারকদের ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধের জন্য আগাম ডলার সংগ্রহে উৎসাহিত করছে। এতে স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

রপ্তানি খাত থেকে ডলারের প্রবাহ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়াও বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে সীমিত ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, দুর্বল আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপকে এই দুর্বলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে বড় সহায়তা দিয়েছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা জুনের তুলনায় সামান্য বেশি এবং আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ একেবারে কমে গেছে বলা যাবে না, তবে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার তুলনায় জুন-জুলাইয়ের প্রবাহ কিছুটা নিচে রয়েছে।

ব্যাংকিং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খোলাবাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে নগদ ডলার ব্যাংকদরের চেয়ে কয়েক টাকা বেশি মূল্যে কেনাবেচা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে খোলাবাজারে প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী দর ভিন্ন হতে পারে। তাই ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ডলার কেনার আগে অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে মূল্য যাচাই এবং রসিদ সংগ্রহ করা জরুরি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হার থেকে অস্বাভাবিক বিচ্যুতি রোধ, রেমিট্যান্স সংগ্রহে অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকানোই এই নজরদারির উদ্দেশ্য। তবে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থায় ডলারের মূল্য শেষ পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহের ওপরই নির্ভর করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি বিল, রপ্তানি আয়ের গতি, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় ডলারের বাজারের দিক নির্ধারণ করবে। আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকলে এবং রপ্তানি আয় দুর্বল থাকলে টাকার ওপর চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিপরীতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য কমে এলে বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ থাকবে।

-রাফসান


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৪৮:০২
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত এবং নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা সাময়িকভাবে কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগকে সুযোগ দিতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয় এবং মূল্য দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে যে অতিরিক্ত ঝুঁকিমূল্য তেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তার একটি বড় অংশ বাজার থেকে সরে যেতে শুরু করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সংঘাত বা নৌ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলেই আন্তর্জাতিক তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এখন আলোচনার উদ্যোগ সামনে আসায় সেই ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথ খোঁজা। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবুও আলোচনার ইঙ্গিতই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স প্রায় ০.৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে এশিয়ার বাজারে একই ধরনের চিত্র দেখা যায়নি। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৩.৬ শতাংশ কমেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৩৮:৩১
তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের শুরুতেই স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও শক্তিশালী অবস্থান নেয়। ফিউচার বাজারে এর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে উন্নীত হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান স্বর্ণের চাহিদাকে শক্তিশালী করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্নের জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি, তবুও আলোচনার সম্ভাবনাই বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কমলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় যে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হয়েছিল, তা দ্রুত সমন্বয় হতে শুরু করেছে। এ কারণেই তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেলেও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অটুট রয়েছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। জাপানি ইয়েনকে শক্তিশালী করতে দেশটির কর্তৃপক্ষের বাজারে হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের সূচক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বর্ণের চাহিদা ও দামে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণ ইতিবাচক প্রবণতায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এখনো সীমিত রয়েছে। তার মতে, বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, একই সঙ্গে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটে, তাহলে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। কারণ স্বর্ণ ধারণ করে সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায় না।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে। এই অবস্থানও আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে শ্রমবাজারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্যপদের তথ্য, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন এবং বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পে-রোলস প্রতিবেদন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়বে এবং স্বর্ণের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। বিপরীতে কর্মসংস্থানের তথ্য শক্তিশালী এলে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার ইঙ্গিত মিললে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।

টিম ওয়াটারার আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে গেলে, মার্কিন ডলার দুর্বল থাকলে কিংবা ফেড ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিলে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবার সংঘাত তীব্র হলে তেলের দাম বাড়বে এবং বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।

-রফিক


ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:০৪:৫৮
ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
ছবি : সংগৃহীত

চলতি আগস্ট মাসের জন্য বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগস্ট ২০২৬ মেয়াদের জন্য এই মূল্য সমন্বয়ের তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মূসকসহ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সমন্বিত খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, ঘোষিত নতুন এই বাজারদর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ বা নতুন সমন্বয় না আসা পর্যন্ত এই দর বলবৎ থাকবে।

/আশিক


আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিশ্বজয়ে আবার স্বর্ণের দামে দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ১৮:৪৫:৫৫
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিশ্বজয়ে আবার স্বর্ণের দামে দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

আগের কার্যদিবসে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর শুক্রবার মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়ানোর মুখ দেখেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়াবে—এমন আশঙ্কা কমে এসেছে। ফলে দরপতন হলেও বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে এই প্রথম মাস শেষে ইতিবাচক ধারায় বছর শেষ করার পথে রয়েছে স্বর্ণ। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১.৩ শতাংশ কমে ৪,০৪৯.৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। আর মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারস দাম ১.৩ শতাংশ কমে ৪,১০৭ ডলারে নেমে আসে।

সাময়িক এই দরপতন সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে চলতি মাসে স্বর্ণের দর প্রায় ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিকে সঙ্কেত থাকায় ব্যবসায়ীরা ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন কিছুটা কম দেখছেন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আগে ৮০ শতাংশ দেখা গেলেও এখন তা কমে ৬৫ শতাংশে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা চার মাসের মন্দা কাটিয়ে স্বর্ণের দর বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৪,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা ধরে রাখতে জোর লড়াই চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিনির্ধারণী মনোভাবের ওপরই মূলত এর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করছে।

এদিকে শক্তিশালী ডলার অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ কেনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলায় বিশ্ববাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ২.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৭.৭৬ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৬৫০.১৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ১,২৮১.১৮ ডলারে থিতু হয়। তবে দরপতনের পরেও প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম মাস শেষে লাভের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

/আশিক


আগস্টের ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলের দাম নির্ধারণ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২১:২৮:৩১
আগস্টের ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলের দাম নির্ধারণ
ছবি : সংগৃহীত

ভোক্তাপর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্যের ভিত্তিতে আগস্ট মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়, আগামী ১ আগস্ট থেকে পূর্বের দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি হবে। সে অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকছে।

এর আগে বিগত জুলাই মাসের জন্যও একই দরে অর্থাৎ ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে নতুন করে স্বস্তি এসেছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম কমিয়ে ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে, যা ৩০ জুলাই মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জুলাই মাসের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই তেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

/আশিক


পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২০:০৮:৪৭
পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
ছবি : সংগৃহীত

একীভূত হওয়া চরম তারল্য সংকটে থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের শর্ত আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শুধু গ্রাহকের নিজের চিকিৎসা নয়, বরং মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসা এবং বিয়েসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পর্ষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

যে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত স্কিম প্রযোজ্য হবে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের আটকে থাকা অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার জন্য পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় কয়েকটি সংশোধনী পর্ষদে উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ববর্তী নীতিমালায় শুধুমাত্র আমানতকারীর নিজের জরুরি চিকিৎসার ওপর বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে, আমানতকারীদের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা কিংবা সন্তানের বিবাহের মতো অতীব জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনেও গচ্ছিত অর্থ তোলার প্রয়োজন পড়ে। নতুন নীতিমালায় এসব জরুরি মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মূলত বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম ও অনভিপ্রেত ঋণ বিতরণের ফলে এগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ ও বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়।

বর্তমানে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল ও সরকারের বিশেষ মূলধনি সহায়তায় এসব ব্যাংকের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে জটিল সমস্যায় থাকা অন্যান্য আমানতকারীরাও বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: