রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ০৯:২৬:৩০
রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
ছবি : সংগৃহীত

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতু রুপার দামও এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৫৪ দশমিক ৭৬ ডলারে থিতু হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছিল। উল্লেখ্য, গত সোমবারই প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা পার করে এই মূল্যবান ধাতুটি। মাত্র চারটি সেশনে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৫০০ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কেনা, বড় বড় তহবিলের সক্রিয়তা এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামের এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। তিনি মনে করেন, দামের এই দ্রুত বৃদ্ধি সাময়িক সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের বাজার অত্যন্ত শক্তিশালী থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে দাম সামান্য কমলে তা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়ায় বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী জুন মাসের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নেই। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক উঁচুতে রয়েছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে এবং মূল্যস্ফীতি বেশি হলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল এবং চলতি বছরের এই প্রথম মাসেই দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই রেকর্ড মূল্যের প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও। চলতি সপ্তাহে দাম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর সাংহাই ও হংকংয়ের স্বর্ণের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে আগেভাগে কেনাকাটা করছেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও বইছে নতুন রেকর্ড। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৮ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগে ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৫৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ হাজার ৯১ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে।


রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:১১:০০
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

রিজার্ভের বর্তমান চিত্র ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ রিজার্ভের হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস (মোট) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ২৪৫ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

আইএমএফ বা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের স্থিতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ীও রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত ১৫ জানুয়ারি বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এই পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে এই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব পাওয়া যায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি এবং রেমিট্যান্সে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ায় রিজার্ভের এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের আমদানি সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতেও সুবিধা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তথ্য বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২০:৪৭:২৪
নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে নতুন ডিজাইনের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিস থেকে এই নতুন নোট সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত এই নোটটি বর্তমান মুদ্রণ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাজারে আসছে।

নতুন নোটের বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তা চিহ্ণ নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার। গোলাপী রঙের প্রাধান্য থাকা এই নোটের সম্মুখভাগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং মাঝখানে জলছাপ হিসেবে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। নোটটির বিশেষত্ব হলো এর পেছনভাগ, যেখানে ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক হিসেবে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র মুদ্রিত হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোটে বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে

২ মিলিমিটার চওড়া রঙ পরিবর্তনশীল সুতা ব্যবহার করা হয়েছে, যা নাড়াচাড়া করলে লাল থেকে সবুজ রঙে পরিবর্তিত হবে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি এবং ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘১০’ সংখ্যাটি স্পষ্ট দেখা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোগ্রাম, সি-থ্রু ইমেজ এবং মাইক্রোপ্রিন্টের মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এতে বিদ্যমান।

পুরানো নোটের বৈধতা ও সংগ্রহ বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে এলেও বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রা আগের মতোই লেনদেনের জন্য বৈধ থাকবে। এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে বিনিময় অযোগ্য ‘নমুনা নোট’ (Specimen Note) সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ১০ টাকার নোট অবমুক্ত করা হচ্ছে।


স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৩৬:২২
স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
ছবি : সংগৃহীত

স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে একদিনের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নতুন করে ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানোর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই সারা দেশে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আজকের এই দফায় দাম কমার আগে সকালেও একবার বড় ব্যবধানে দাম কমিয়েছিল সংগঠনটি। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা এবং ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন দফায় স্বর্ণের দাম কমার এই ঘটনাকে দেশের জুয়েলারি ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা (আগের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা)।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গহনা কেনার সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মোট ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ৮ বার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একদিনের মধ্যে এমন বড় অঙ্কের দরপতন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:৪৩:১৮
একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সংশোধনের ঘোষণা এসেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দর কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দামে একদিনে বড় ধাক্কা এসেছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।

এ বিষয়ে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

একই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ফলে নতুন দর দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেও এসেছে উল্লেখযোগ্য ছাড়। এ শ্রেণির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও গত রোববার রাতে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার ফলে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকায়। একই সময় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা।

রাতের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও দাম কমানোর নতুন ঘোষণা আসে। ফলে সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পুরোনো দামে বিক্রির পর পরবর্তী এক মিনিটেই কার্যকর হয় আরও কম দরের নতুন তালিকা।

স্বর্ণের দামে বড় এই পতন এলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখে ৭ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বহাল রয়েছে।

-রফিক


আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:০৮:১১
আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজতর করতে এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুবিধার্থে প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে।

আজকের বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর একক মুদ্রা ইউরো বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকা ৯৫ পয়সায় এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৪৩ পয়সায়।

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা, কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৫২ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল ৩১৯ টাকা ৯২ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের দাম বর্তমানে ৩৯৯ টাকা ৮৬ পয়সা।

অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৫ টাকা ১৬ পয়সা, কানাডিয়ান ডলার ৮৯ টাকা ৮৪ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬ টাকা ১৪ পয়সা।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩১ টাকা ২৪ পয়সা, চীনা ইউয়ান রেনমিনবি ১৭ টাকা ৫৭ পয়সা এবং জাপানি ইয়েন ৭৯ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের ১ রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫২ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে মনে রাখা জরুরি যে, স্থান ও ব্যাংকভেদে এই বিনিময় হার কিছুটা কমবেশি হতে পারে এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা যুক্ত হতে পারে।


স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ০৯:২৯:১০
স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম 
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবথেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছিল স্বর্ণ, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকা। বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন অনুযায়ী মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এ নিয়ে মোট ২০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস, যার মধ্যে ১৪ বার দাম বেড়েছে এবং ৬ বার কমেছে। অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ২৯০ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল দাম বৃদ্ধির ঘটনা।


স্বর্ণ কেনার আগে জেনে নিন ক্যারেট ও হলমার্কের আদ্যোপান্ত

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২১:৫১:২১
স্বর্ণ কেনার আগে জেনে নিন ক্যারেট ও হলমার্কের আদ্যোপান্ত
ছবি : সংগৃহীত

হাজার বছর ধরে সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে স্বর্ণ মানুষের জীবনে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। নিরাপদ বিনিয়োগ কিংবা উৎসবের সাজ—সবক্ষেত্রেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে আধুনিক সময়ে স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ক্যারেট, হলমার্ক কিংবা খাদ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রায়শই বিভ্রান্তি দেখা দেয়। তাই বিনিয়োগ বা অলংকার কেনার আগে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ও পরিমাপের সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্ধারণের আন্তর্জাতিক একক হলো ক্যারেট। বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে স্বর্ণ সাধারণত ২৪, ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে বিভক্ত। এর মধ্যে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ প্রায় শতভাগ খাঁটি ও নরম, যা গহনা তৈরির উপযোগী নয়। সাধারণত বিনিয়োগের জন্য কয়েন বা বিস্কুট আকারে এটি ব্যবহৃত হয়। গহনাকে স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা দিতে স্বর্ণের সঙ্গে তামা, রুপা বা দস্তার মতো অন্য ধাতু মেশানো হয়, যাকে বলা হয় ‘খাদ’। গহনা তৈরিতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ সবচেয়ে জনপ্রিয়, যাতে ৯১.৬৭ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ থাকে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ যথাক্রমে ৮৭.৫ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ খাঁটি। সূক্ষ্ম ডিজাইন ও হীরা সেট করার জন্য শক্ত ১৮ ক্যারেট স্বর্ণই সবচেয়ে উপযুক্ত।

খাঁটি স্বর্ণ চেনার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায় হলো ‘হলমার্ক’ পরীক্ষা। অলংকারের গায়ে খোদাই করা নির্দিষ্ট সংখ্যা এর গুণগত মান নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের গহনায় ৯১৬, ২১ ক্যারেটে ৮৭৫ এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫০ সংখ্যাটি খোদাই করা থাকে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান দোলন জানান, বাংলাদেশেও হলমার্কিং বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সুবিধার্থে অনলাইন কোড ও মোবাইল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক সহজেই গহনার আসল-নকল ও উৎস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অন্যদিকে স্বর্ণের ওজন পরিমাপ নিয়ে বাংলাদেশে এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে। ঐতিহাসিকভাবে এ দেশে ভরি, আনা ও রতি এককগুলো প্রচলিত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো গ্রাম ও ট্রয় আউন্স। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১.১০ গ্রাম এবং এক ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম। বর্তমানে বাজুস প্রতিদিন গ্রাম হিসেবেই স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে। যদিও প্রবীণ ক্রেতারা এখনো ভরি বা আনার হিসেবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছতার খাতিরে আন্তর্জাতিক ‘গ্রাম’ পদ্ধতিতেই লেনদেনে আগ্রহী।

স্বর্ণের বাজারে গত কয়েক বছরে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দাম প্রায় তিনগুণ হয়ে এক পর্যায়ে ভরিপ্রতি দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এমন অস্থিতিশীল বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ ও প্রতারণা এড়াতে ক্যারেট, ওজন ও হলমার্ক সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক। সঠিক তথ্য জানা থাকলে স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি: জানুয়ারিতে রেকর্ড প্রবাসী আয় 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৯:২৯:১৬
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি: জানুয়ারিতে রেকর্ড প্রবাসী আয় 
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম মাসেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এই অংক গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২১৮ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এ বছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ডটি ছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ডলার। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরের জানুয়ারিতে আসা ৩১৭ কোটি ডলারের এই অংকটি এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হলো।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করা এবং সরকারের আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা এই প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


টাকার মান ও আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:১৯:০০
টাকার মান ও আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক রাখতে মুদ্রা বিনিময়ের সঠিক হার জানা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিশ্বের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার নাম ও বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার

আজকের বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ১২২ টাকা ৩৪ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ৯৯ পয়সা। যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পাউন্ডের দর আজ ১৬৭ টাকা ৪৯ পয়সা।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার বিনিময় হার নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো

ইউএস ডলার: ১২২ টাকা ৩৪ পয়সা

ইউরো: ১৪৪ টাকা ৯৯ পয়সা

ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬৭ টাকা ৪৯ পয়সা

অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৫ টাকা ১৯ পয়সা

জাপানি ইয়েন: ৭৯ পয়সা

কানাডিয়ান ডলার: ৮৯ টাকা ৮৭ পয়সা

সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৬ টাকা ১৭ পয়সা

চীনা ইউয়ান: ১৭ টাকা ৫৮ পয়সা

ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ৩৩ পয়সা

শ্রীলঙ্কান রুপি: ২ টাকা ৫২ পয়সা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রার বিনিময় হার

প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। আজ ওমানি রিয়ালের মান ৩২০ টাকা ২৯ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের মান ৪০১ টাকা ২৪ পয়সা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের হার নিম্নরূপ

সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৮৩ পয়সা

কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৮২ পয়সা

মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩১ টাকা ২৪ পয়সা

ওমানি রিয়াল: ৩২০ টাকা ২৯ পয়সা

কুয়েতি দিনার: ৪০১ টাকা ২৪ পয়সা

উল্লেখ্য যে, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই হারের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকারের ঘোষিত আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনাও এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

পাঠকের মতামত: