রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ০৯:২৬:৩০
রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
ছবি : সংগৃহীত

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতু রুপার দামও এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৫৪ দশমিক ৭৬ ডলারে থিতু হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছিল। উল্লেখ্য, গত সোমবারই প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা পার করে এই মূল্যবান ধাতুটি। মাত্র চারটি সেশনে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৫০০ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কেনা, বড় বড় তহবিলের সক্রিয়তা এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামের এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। তিনি মনে করেন, দামের এই দ্রুত বৃদ্ধি সাময়িক সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের বাজার অত্যন্ত শক্তিশালী থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে দাম সামান্য কমলে তা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়ায় বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী জুন মাসের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নেই। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক উঁচুতে রয়েছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে এবং মূল্যস্ফীতি বেশি হলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল এবং চলতি বছরের এই প্রথম মাসেই দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই রেকর্ড মূল্যের প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও। চলতি সপ্তাহে দাম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর সাংহাই ও হংকংয়ের স্বর্ণের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে আগেভাগে কেনাকাটা করছেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও বইছে নতুন রেকর্ড। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৮ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগে ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৫৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ হাজার ৯১ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে।


বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১০:২৬:৫২
বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধি ও ভ্যাট সমন্বয়ের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর পেলেন ক্রেতারা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বড় ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা হ্রাস করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, নতুন মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতিও মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই দিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যোগ করা হয়। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।

সেদিন ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

স্বর্ণবাজারের সাম্প্রতিক ওঠানামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের সামান্য পরিবর্তনও এখন দেশের বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং কর কাঠামোর পরিবর্তন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৩৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি এবং ২৯ বার মূল্য হ্রাস করা হয়েছিল।

-রাফসান


স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:৫০:৩৩
স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আরও ২ হাজার ৫০৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তন, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দরে দেশের বাজারে প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এর ফলে আবারও দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণের মূল্য।

শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বেড়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। ফলে সব ধরনের স্বর্ণের গহনাই আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত ১৫ জুন বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছিল। সে সময় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির মূল্য ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের স্বর্ণবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। এতে সাধারণ ক্রেতা, বিয়ের গহনা ক্রেতা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। ওই বছরে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

-রাফসান


ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম প্রকাশ করলো বাজুস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১১:২৪:৩৪
ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম প্রকাশ করলো বাজুস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দামের তুলনায় এতে ভরিপ্রতি ৯ হাজার ১৩ টাকা কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এবার প্রথমবারের মতো ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করে সরাসরি স্বর্ণের গহনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন বাজুস ভ্যাট ছাড়া স্বর্ণের মূল দাম প্রকাশ করলেও ক্রেতাদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হতো। ফলে দোকানে গিয়ে অনেক সময় ঘোষিত দাম ও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যেত।

নতুন পদ্ধতিতে সেই বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এতে সাধারণ ক্রেতারা শুরু থেকেই প্রকৃত ক্রয়মূল্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

এর আগে গত ১৫ জুন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হওয়ার পর গহনার কার্যকর দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ টাকা। নতুন সমন্বয়ের ফলে সেই মূল্য ৯ হাজার টাকার বেশি কমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমন্বয় নিয়মিতভাবে হয়ে থাকে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭৬ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের স্বর্ণবাজারে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও মাত্র ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল, যা বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

-রাফসান


১৮ জুন কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ? জেনে নিন নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ০৯:৪৫:৪৬
১৮ জুন কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ? জেনে নিন নতুন দর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সারাদেশে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্য বহাল থাকবে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতিও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও বেড়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে গত ১৩ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সে সময় প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই সময় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায়।

চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে অস্বাভাবিক মাত্রায় মূল্য সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। গত বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তন স্বর্ণের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

তারা বলছেন, অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ফলে বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।

তবে ক্রেতাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে। সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।

গহনার নকশা, ওজন, কারুকাজ এবং মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

-রাফসান


৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৩৪:৫৩
৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে বর্তমানের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে বৈষম্য কমাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:৯.০৭৬ থেকে কমিয়ে ১:৮ করা হয়েছে। সব পর্যায়ে মূল বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মাসিক মোট ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা বেতন পাবেন।

কমিশনের আলোচনায় দুটি মূল বিকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে: প্রথমত, অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সরাসরি দ্বিগুণ করা। এর ফলে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষ, ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক, সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক, নবম গ্রেডের প্রভাষক, ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের মূল বেতনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নতুন পে স্কেলের আরেকটি আলোচিত দিক হলো পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন। বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ এই পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হতে পারে। তবে গেজেট যখনই হোক, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা কার্যকর করা হবে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পে স্কেলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১০:২৯:২৩
সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও উচ্চমূল্যের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকারও বেশি দামে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ফলে কয়েক মাস আগের তুলনায় স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুধু উন্নতমানের স্বর্ণই নয়, অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকায়। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা।

অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও দেড় লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ জুন সকাল ১০টা থেকে এই মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত একই মূল্য বহাল থাকবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। বর্তমানে উন্নতমানের প্রতি ভরি রুপা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং কাঁচা স্বর্ণের দামের ওঠানামা দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ে এবং তার প্রভাব দ্রুত স্থানীয় বাজারেও এসে পড়ে।

এদিকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ব্যক্তিদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু চার্জ যুক্ত হয়। সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।

-রাফসান


ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ০৮:৫৯:২৫
ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি

দেশের ব্যাংকিং খাত ও খোলা বাজারে আজ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান আজ ১২২.৭৫ টাকাতে অবস্থান করছে। ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর দাম আজ বাজারে ১৪১.৫০ থেকে ১৪২.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দর আজ ১৬৩.৫০ থেকে ১৬৪.৫০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের দাম আজ ৩২.৭০ থেকে ৩২.৮০ টাকা এবং আমিরাতি দিরহাম ৩৩.০০ থেকে ৩৩.৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এশিয়ান অঞ্চলের মুদ্রাগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০.৩০ থেকে ৩০.৫০ টাকা, সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫.৩০ থেকে ৯৫.৫০ টাকা এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি আজ ১.২৯ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় জুনের মাঝামাঝিতে এসে মুদ্রাবাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে আমদানিকারকদের জন্য এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে এই দরে সামান্য তারতম্য হতে পারে।


আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১০:০৯:০৪
আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও এক ধাপ ঊর্ধ্বমুখী হলো।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, একই দিন সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে এবং মঙ্গলবার (১৬ জুন) সারাদেশের অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিও দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকায়।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর মাত্র দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১৩ জুনও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সে সময় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য যারা স্বর্ণ কিনে থাকেন, তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়ছেন।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের অস্থিরতা দেশের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণবাজার ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছরে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি করা হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

-রাফসান


নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৫৮:৩৭
নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী জুলাই মাস থেকে বাস্তবায়নের নীতিগত পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বা বেসিক বেতনের ওপর ভিত্তি করে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাব পেশের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই এই উদ্যোগের কথা স্পষ্ট করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নতুন কোনো পে স্কেল দেওয়া হয়নি, অথচ এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের এই চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধির গড় হার হবে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।

এর মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল বা কাঠামোটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হলে এই অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ আর্থিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি বাতিল করা হবে।

নতুন এই বেতন বিন্যাসের হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর মোট বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত হার দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ শতাংশে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সকল সমন্বয় শেষে এই নিট বেতন বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার আসবে, তবে জাতীয় অর্থনীতির ওপর হঠাৎ বড় চাপ এড়াতে এটি ধাপে ধাপে দেশের মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: