শিল্পাঞ্চল থেকে উপশহর: আজ খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের বিশেষ মিশন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ০৯:৩৩:৪৭
শিল্পাঞ্চল থেকে উপশহর: আজ খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের বিশেষ মিশন
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের নির্বাচনী সফর সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাচনী জনসভা করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একদিনের এই ঝটিকা সফরে তিনি খুলনা ও যশোরে দুটি বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রথমে খুলনায় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে যশোরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

বিএনপি চেয়ারম্যানের সফরসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টার দিকে তিনি খুলনার খালিশপুর প্রভাতি হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এই সমাবেশের জন্য শিল্পাঞ্চলকে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো খুলনার অবহেলিত শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর বিষয়ে দলের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা। সমাবেশে খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার মোট ১৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগীয় বিএনপির পক্ষ থেকে আবাসন, শৃঙ্খলা ও মিডিয়াসহ ৬টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

খুলনার কর্মসূচি শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছাবেন। যশোরের উপশহর কলেজ মাঠে দ্বিতীয় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। জনসমাগম এবং শহরের যানজট এড়াতে জেলা বিএনপি শহরের বাইরের এই ভেন্যুটি নির্ধারণ করেছে। এই সমাবেশে যশোরের ৬টি আসনসহ মোট ৭টি জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। দুই দিনের সংক্ষিপ্ত নোটিশে এই আয়োজন সম্পন্ন করতে দিনরাত কাজ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান এই দুই সমাবেশ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ করবেন। এর মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংযোগ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। যশোরের সমাবেশ শেষ করে বিকেলেই হেলিকপ্টারযোগে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।


লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৯:২০:৪৩
লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘লাশের রাজনীতি’ ও ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের’ অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনে তাঁর নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়মিত ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীরা মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছে, যা দেশবাসী অতীতেও দেখেছে। আমার আসনেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে অন্য আসনগুলোর পরিস্থিতি কেমন তা সহজেই অনুমেয়।”

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, কাইয়ুম তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আজই (সোমবার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।” সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি হতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সেই কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল হবে না, সেই নিশ্চয়তাও নেই।” এছাড়া কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করে, তবে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা) ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি তিনি ভোটারদের জন্য ‘অনলাইন তথ্যসেবা’ চালুর বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন।


 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৮:৫৬:০৮
 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি/ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ রনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ রাত গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ইসলামনগর এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রনি ও হাসিনুরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রনির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা তাঁর অবস্থাকে সংকটাপন্ন করে তোলে।

ছাত্রদল নেতার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাইফুল ইসলাম রনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে জাবি ক্যাম্পাসে এবং রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "আহা জীবন! রনি ৪ দিন আগেও আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আর দেখা হলো না। আজ সকালে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।"

উল্লেখ্য, ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ অন্য তিনজনের মধ্যে হাসিনুর এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি দুজন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।


কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৪৭:৫৬
কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক
বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন শফিকুর রহমান।

কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় এক শক্তিশালী ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান নির্বাচনকে ফ্যাসিবাদের পতন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের লড়াই হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। জামায়াত আমির স্পষ্ট করে জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ভোট নয়, বরং পচা ও ঘুণে ধরা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত ধাপ।

ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড ও জুলাই হত্যার বিচার ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন কোনো পাতানো খেলা নয়; এটি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। এটি জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত আর ত্যাগের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সব ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখাবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী একটি সম্পূর্ণ নতুন বাংলাদেশ পাবে।"

নারীদের মর্যাদা ও শিক্ষা নিয়ে বিশেষ প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে জামায়াত আমির নারীদের জন্য বড় ধরনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সম্পূর্ণ ফ্রি করার সুব্যবস্থা করব।" সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, "নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। যারা পেছনে আছে তারা পেছনেই পড়ে থাকবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে মাথার ওপর করে রাখব।"

ইনসাফ কায়েমের শপথ বিগত ৫৪ বছরের রাজনীতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুরোনো রাজনীতি কেবল দফায় দফায় ফ্যাসিবাদেরই জন্ম দিয়েছে। এই জীর্ণ রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরে জনতার ঢল নামে, যা নির্বাচনী আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৩০:২৪
যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা 
ছবি : কালবেলা

দীর্ঘ ২২ বছর পর যশোরের মাটিতে পা রেখে নির্বাচনী জনসভায় এক উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে যশোর উপশহর কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের কড়া সমালোচনা করেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর থেকে নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাঁদের ঘরে বন্দি করার নীল নকশা আঁকছে।

নারীদের অবমাননা ও জামায়াতকে ইঙ্গিত তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি দল অসৎ উপায়ে নারীদের এনআইডি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে?" জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "একটি দলের প্রধান বিদেশি মিডিয়ায় বলছেন এক কথা, অথচ গত রাতে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাদের চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার মতো জলজ্যান্ত মিথ্যা বলছে।" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বেগম জিয়া নারীদের শিক্ষিত করতে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি মা-বোনের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন নস্যাতের ষড়যন্ত্র ও হুঁশিয়ারি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ‘আমি-ডামি’ ও নিশিরাতের ভোটের মতো করেই একটি দল এখন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভোট গণনার নামে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়বে এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হবে।

যশোরের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা যশোর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের উন্নয়নে তারেক রহমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত উলাসী খালসহ এই অঞ্চলের সব খাল-বিল পুনঃখনন করা হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে সকাল থেকেই বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগানে পুরো যশোর শহর পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে।


নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৫:২১:৪৬
নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
ছবি: BNP Media Cell

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অবমাননা করে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক কিংবা জনগণের কল্যাণকামী শক্তি হতে পারে না। তার ভাষায়, নারী অসম্মান ও মিথ্যাচার একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত চরিত্রই প্রকাশ করে।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, কেবল কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়, বাস্তবমুখী কাজ ও দায়িত্বশীল নীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। এ কাজে দল-মত কিংবা শ্রেণি-পেশার বিভাজন নয়, বরং সব শ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে এগোনোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে যত বড় উন্নয়ন পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, তা কখনোই টেকসই হবে না। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল কাগুজে স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই দল প্রকাশ্যেই নারী নেতৃত্বে আস্থা না রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি দলটির এক নেতার বক্তব্যে কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুধু নারীদের জন্য নয়, গোটা জাতির জন্যই লজ্জাজনক ও অপমানজনক।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পে লক্ষাধিক নারী শ্রমিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন। অথচ এই নারীরাই আজ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবমাননাকর বক্তব্যের শিকার হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের দায় এড়াতে আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত তুলে ধরেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াই তাদের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে।

আসন্ন ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আজকের জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাদের মত প্রকাশের সুযোগ হারিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, গুম, খুন কিংবা রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই জনগণের সচেতন সিদ্ধান্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধাপে ধাপে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা আর কারও ওপর নির্ভরশীল না থাকে। সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা আজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই অঞ্চলকে পুনরায় একটি কর্মচঞ্চল শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

-রফিক


জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১২:৪৪:০৪
জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায় এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আফগানিস্তানের মতো একটি রক্ষণশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার মানসিকতা পোষণ করছে।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-এ জনসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, নারীর ভূমিকা এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মূলত এমন একটি সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যেখানে নারীদের কর্মজীবন ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দলটি নারীদের ঘরে আটকে রাখার চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, যা বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আধুনিক রাষ্ট্রধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।

জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত আমির যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নারীবিদ্বেষী কোনো মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি এ ধরনের মন্তব্যকে নারীর মর্যাদা ও অধিকারবিরোধী বলেও উল্লেখ করেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সবার আগে প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতা নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে জাতিকে ভোগ করতে হবে। তাই ভোট দেওয়ার সময় সবাইকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

-রাফসান


৯ আসনে নেই ধানের শীষ: সমঝোতা ও আইনি মারপ্যাঁচে ব্যালট থেকে উধাও বিএনপির প্রতীক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:২৮:১৬
৯ আসনে নেই ধানের শীষ: সমঝোতা ও আইনি মারপ্যাঁচে ব্যালট থেকে উধাও বিএনপির প্রতীক
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনে লড়াই করলেও ৯টি আসনে ব্যালট পেপারে দেখা যাবে না বিএনপির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘ধানের শীষ’। রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আইনি জটিলতার কারণে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১টি আসনে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের মিত্র ৫টি রাজনৈতিক দলকে মোট ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে দলটি। এসব আসনে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রার্থীরা ধানের শীষের পরিবর্তে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসনে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ায় সেখানে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্বই থাকছে না।

বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আটটি আসনের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ ৪টি আসন পেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে লড়বে সিলেট-৫ (মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব), নীলফামারী-১ (মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী) এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (মুফতি মনির হোসেন কাসেমী) আসনে।

অন্যান্য শরিকদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ‘মাথাল’ প্রতীকে এবং ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন। এছাড়া পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং ভোলা-১ আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

এই আট আসনের বাইরে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ঋণ খেলাপির অভিযোগে দলটির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র আদালত চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন। ফলে এই আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থীই ব্যালটে থাকছেন না।

উল্লেখ্য যে, ধানের শীষ না থাকলেও এই ৯টি আসনের কয়েকটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, যাদের ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া বিএনপির কৌশলী রাজনীতির অংশ হলেও কুমিল্লার আসনটি হারানো তাদের জন্য বড় এক ক্ষতি।


আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জামায়াত আমির; এক দিনে ৫ জনসভায় ভাষণ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ০৯:৪০:৩১
আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জামায়াত আমির; এক দিনে ৫ জনসভায় ভাষণ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও পর্যটন শহর কক্সবাজারের মোট পাঁচটি স্থানে ১১-দলীয় জোটের পৃথক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরসূচি ও জনসভার সময়

সকাল ৯টা: কক্সবাজারের মহেশখালীতে আয়োজিত জনসভার মাধ্যমে আজকের সফর শুরু করবেন ডা. শফিকুর রহমান।

সকাল ১০টা: কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে ১১-দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেলা ১১টা: দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

দুপুর ২টা: উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্থানীয় জামায়াত ও জোট আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন।

বিকেল ৫টা: সবশেষে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত প্রধান নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের এই সমাবেশগুলো থেকে ডা. শফিকুর রহমান একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরবেন। তাঁর বক্তব্যে জুলাই চার্টার এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা প্রাধান্য পাবে। এছাড়া স্থানীয় ও আঞ্চলিক সমস্যার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, ব্যবসায়ী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় এবং জনসভাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।


ফ্যামিলি কার্ডের নামে ধোঁকাবাজি চলছে: জামায়াত আমির 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২১:৩৪:১৫
ফ্যামিলি কার্ডের নামে ধোঁকাবাজি চলছে: জামায়াত আমির 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে যে নোংরা পোস্ট করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের একটি নির্বাচনী পথসভায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শীঘ্রই জাতির সামনে এই অপকর্মকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন যে, যারা এই নোংরা কাজ করেছে, তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন ব্যক্তিগত চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে। তবে সত্য গোপন থাকবে না এবং খুব দ্রুতই তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত নারীদের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন এবং তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীই হেনস্তার শিকার হবেন না।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বে এ দেশের তরুণরাই। তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে, আর মুরুব্বীরা পেছন থেকে তাদের সাহস ও পরামর্শ জোগাবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জামায়াতের শাসনে কোনো অপরাধী পার পাবে না এবং সমাজের সর্বস্তরে সমতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিশেষ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে। নাম উল্লেখ না করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদল লোক এখন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ভোট চাচ্ছে, কিন্তু তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। পরাজয়ের ভয়ে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মাঘ মাসে যাদের মাথা গরম হয়, তারা চৈত্র মাসে কী করবেন? ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ইনসাফের পক্ষে ইনশাআল্লাহ চূড়ান্ত ফয়সালা আসবে।

এর আগে দুপুরে জামালপুরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গত ৫৪ বছরের ‘বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান ঘটাবে। ঢাকা-১৫ আসনের পথসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

পাঠকের মতামত: