তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে "Exclusive: Bangladesh’s Prodigal Son" বা "এক্সক্লুসিভ: বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনকারী উত্তরাধিকারী" শিরনামে তিন হাজার শব্দের একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিচে ইংরেজিতে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটিরর একটি বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো:
-দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। অথচ এই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে তিনি নিজের কণ্ঠস্বরই হারিয়ে ফেলেছেন। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের একটি রাষ্ট্রে নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণকারী একজন রাজনীতিকের জন্য এটি আদর্শ কোনো পরিস্থিতি নয়। তবু এই কণ্ঠহীনতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক তীব্র রাজনৈতিক পরিহাস। কারণ বাস্তবে বাংলাদেশের ডি-ফ্যাক্টো বিরোধী নেতা হিসেবে তারেক রহমানের বক্তৃতা প্রায় এক দশক ধরে স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছিল।
দেশে ফেরার পর প্রথম সাক্ষাৎকারে টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান বলেন, “আমার শরীর এখনো এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।” ঢাকার তাঁর পারিবারিক বাড়ির বাগানে বসে তিনি কথা বলছিলেন; চারদিকে বুগেনভেলিয়া আর গাঁদা ফুলে সাজানো পরিবেশ। কাঁধ ঝাঁকিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমি এমনিতেই খুব ভালো বক্তা নই। তবে আমাকে যদি কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”
গত কয়েক সপ্তাহ ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ঘটনাবহুল সময়গুলোর একটি। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছিল কয়েক লক্ষ মানুষ, যারা সারা রাত অপেক্ষা করেছিল এক ঝলক দেখার আশায়। মাত্র পাঁচ দিন পরই দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মৃত্যুবরণ করেন। রাজধানীজুড়ে মানুষের ঢল নামে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। আবেগ সংবরণ করতে না পেরে তারেক রহমান বলেন, “হৃদয়ের ভেতরটা খুব ভারী। কিন্তু মায়ের কাছ থেকে আমি শিখেছি, দায়িত্ব থাকলে তা পালন করতেই হয়।”
এই দায়িত্ব হয়তো তাঁর মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনেরই নাম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্টতই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৮ মাস আগে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর এই নির্বাচন আহ্বান করা হয়। তারেক রহমান নিজেকে উপস্থাপন করছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি এবং জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার মধ্যকার এক সংযোগসূত্র হিসেবে।
বাংলাদেশের সামনে সমস্যার অভাব নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকার কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যা শিল্প উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর অতিনির্ভরশীল অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা এসব প্রতিকূলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুব বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ, আর প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে জরুরি কর্তব্যগুলোর একটি।
তবে তারেক রহমান একেবারে বিতর্কমুক্ত নন। তাঁর প্রধান পরিচয় বংশগত। তিনি খালেদা জিয়া ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পুত্র। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসা দ্বন্দ্বময় দ্বিদলীয় কাঠামোর এক প্রান্ত তিনি, অন্য প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা, যিনি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।
সমর্থকদের কাছে তারেক রহমান একজন নির্যাতিত প্রত্যাবর্তনকারী, যিনি বিপর্যস্ত রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে দেশে ফিরেছেন। সমালোচকদের চোখে তিনি এক ‘অন্ধকার রাজপুত্র’; সুবিধাভোগী, দুর্নীতিগ্রস্ত, অসমাপ্ত শিক্ষাজীবনের একজন ব্যক্তি, যার নেতৃত্বের যোগ্যতা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তারেক রহমান দাবি করেন, বিভক্ত বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তি। “আমি এখানে আছি বলে নয় যে আমি আমার বাবা-মায়ের সন্তান,” তিনি বলেন। “আমি এখানে আছি কারণ আমার দলের কর্মী-সমর্থকেরা আমাকে এখানে এনেছে।”
সাম্প্রতিক জরিপগুলো ইঙ্গিত দেয়, জনগণের বড় অংশ আপাতত তাঁর এই বক্তব্যে আস্থা রাখছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত মতামত জরিপে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশের কাছাকাছি।
তবু অতীতের ছায়া পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে টানা চার বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অনেক সংস্কারপন্থীর আশঙ্কা, শেখ হাসিনার পতনে নিহত প্রায় ১,৪০০ আন্দোলনকারীর রক্ত হয়তো আরেকটি আত্মস্বার্থপর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকেই ক্ষমতায় বসাতে পারে।
তারেক রহমান দুর্নীতির সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আগের সাজাগুলো বাতিল করেছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” শেখ হাসিনার আমলে অনুগত গণমাধ্যম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যাচাই ছাড়াই প্রচার করেছে, এটিও সত্য। তবে এটিও অস্বীকার করা যায় না যে জুলাই বিপ্লব যে বংশগত বিশেষাধিকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারেক রহমান সেই কাঠামোরই অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘ নির্বাসনে থাকা একজন রাজনীতিক কি সত্যিই আত্মসমালোচনা ও রাজনৈতিক পরিণতির ভেতর দিয়ে নতুন এক নেতৃত্বে রূপান্তরিত হয়েছেন?
“যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের দায় অসীম,” বলেন তারেক রহমান। “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।”
তারেক রহমান স্বল্পভাষী, অন্তর্মুখী। তিনি বক্তৃতার চেয়ে শুনতে বেশি পছন্দ করেন। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তাঁর প্রিয় সময় কাটত সবুজে ঘেরা রিচমন্ড পার্কে হাঁটাহাঁটি করে কিংবা ইতিহাসের বই পড়ে। তাঁর প্রিয় চলচ্চিত্র ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। হাসতে হাসতে বলেন, “সম্ভবত আটবার দেখেছি।”
নীতিনির্ভর রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে তিনি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে ১২ হাজার মাইল খাল খনন, প্রতিবছর ৫ কোটি গাছ রোপণ, ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ অঞ্চল সৃষ্টি, বর্জ্য-পোড়ানো বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা পুনর্গঠন এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্যখাতের চাপ কমানোর পরিকল্পনার কথা তিনি তুলে ধরেন।
“আমি যদি এর মাত্র ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত মানুষ আমাকে সমর্থন করবে,” বলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান নিজেই স্পষ্ট করেন, তাঁর ফিরে আসা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। এটি দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া এক সচেতন পদক্ষেপ। নিজের প্রিয় একটি চলচ্চিত্র সংলাপ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “With great power comes great responsibility—বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব আসে। আমি সত্যিই এতে বিশ্বাস করি।”
পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পোশাক শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির এই মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে কঠিন সংকটময় সময় পার করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, জ্বালানির চড়া মূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল বা কমে যাওয়ার কারণে এই খাত তীব্র চাপে পড়েছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রাও অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টেকসই সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদনের গতি বাড়াতে পারলে অন্যান্য সংকটগুলোও যৌক্তিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই কথা উল্লেখ করে তিনি শিল্পমালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ ছাড়া বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কালক্ষেপণ করার কোনো অবকাশ নেই।
/আশিক
বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
সরকার ও বিএনপিকে তথাকথিত বিরোধী দলগুলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বিএনপি এখনো পুরোপুরি মাঠে নামেনি; মাঠে নামলে অনেকেই পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও রমনা থানা বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।
মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও অর্থনৈতিক ও কাঠামোগতভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অমূলক ও অযথা বিরোধিতা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এক শ্রেণির দল নিজেদের শক্তি বা জনসমর্থন না পেয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা না থাকলেও কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
ভারত থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের ফিরে এসে লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর বিএনপির ভেতর কিছু লোভী ব্যক্তি অর্থের লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর বা শত্রুপক্ষের মিত্রদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না। এমনকি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যারা ভোল পাল্টে বিএনপি সাজতে চাইছে, তাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে একযোগে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ।
/আশিক
আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
আইন ও সংবিধানের তোয়াক্কা না করে বিরোধী দল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলেও বিরোধীরা তা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে তা কার্যকর করতে চায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডা এলাকায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট আপত্তি বা 'নোট অব ডিসেন্ট' রয়েছে। বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী পক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি ১৯৭ স্বাধীনতাত্তপরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশ সফর করছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঋণ ও অনুদান চুক্তি করছেন। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোয়েটার কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনসহ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যের হার অন্তত পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মরহুম শামসুল হুদাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় চার দশকের এক পরীক্ষিত, বিনয়ী ও শান্তস্বভাবের রাজনীতিক ছিলেন যিনি কখনোই কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াননি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপনের যুগে তার মতো অভিভাবকতুল্য ও আদর্শনিষ্ঠ নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এদিকে একই দিন সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্টি হয়নি, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার ফল এটি। সরকার এরই মধ্যে মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ফলে এই সংকটের অজুহাতে লংমার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং জনগণও এর কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরকারের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা ও জনমুখী কার্যক্রমে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে লোকদেখানো এই কর্মসূচির অবতারণা করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।
/আশিক
সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের গাড়িবহর পথিমধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসে পৌঁছালে সেখানে এক জমকালো পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে লংমার্চের বহর থামিয়ে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ভাঙ্গার স্থানীয় জনতাকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির অত্যন্ত রূপক ও তাৎপর্যপূর্ণ এক বক্তব্যে বলেন, ‘ভাঙ্গাবাসী কেমন আছেন? আপনাদের এলাকার নাম ভাঙ্গা। কিন্তু সারাদেশেরই কোমর ভাঙা। তাই দেশকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চিরতরে মূলোৎপাটন করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এই দুঃশাসন ও জিম্মিদশা থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি পেতেই হবে। এটি কেবল রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াই ও মুক্তির লড়াই।
রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির আরও বলেন, বর্তমান জনদুর্ভোগ লাঘব ও একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবি নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ যেভাবে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চের এই গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন, তার জন্য তিনি স্থানীয়বাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব ভেদাভেদ ভুলে একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।
/আশিক
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার জন্য পেশিশক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় একধরনের ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের আগের দিন থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।
গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে যে তথ্য দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। এই উপনির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীর বড় ভাই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।
ভোটগ্রহণে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও কারচুপির অনিয়মের অভিযোগ এনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যালট পেপারের মুড়িতে আগেই সিল ও স্বাক্ষর মেরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই বা পরীক্ষা ছাড়াই পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, এই উপনির্বাচনে সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে এবং এর আগে গত বুধবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।
/আশিক
তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সাবেক এই কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জাতির সামনে স্পষ্ট করার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম লেখেন, নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিস্ময় ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর রুহের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন। এর পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় এই শীর্ষনেতা।
এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। জানা গেছে, সাবেক এই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ নামক ভবনে নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক পরিচিত ছোট ভাই তাহসিফকে কথা বলার জন্য বাসার নিচে ডেকে নিয়ে যায়। দ্বীপের সঙ্গে দেখা করে দ্রুতই ঘরে ফিরে আসবেন বলে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, কিন্তু এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হলে পুরো এলাকায় শোক ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।
/আশিক
নরম সুরে কথা বলে পানির ন্যায্য হিস্যা মিলবে না: রুহুল কবির রিজভী
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কেবল নরম সুরে কথা বলে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও উজানে বাঁধ নির্মাণের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো রাজনৈতিক আন্দোলন এবং কূটনৈতিক লড়াই গড়ে তুলতে হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানিসম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
ভারত নিজের দেশের অভ্যন্তরে পানি ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য দেশের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিতে সামান্যতম দ্বিধা করছে না বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারত নিজেই যেখানে পানি শেয়ারিংয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে তারা প্রতিবেশী দেশের পানি কেড়ে নিচ্ছে। অথচ এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার সময় অনেক সময় আমাদের অবস্থান নরম হয়ে যায়। দেশপ্রেম এবং দৃঢ় মনোবল না থাকলে জাতি হিসেবে নতজানু থাকতেই হবে। তিনি ১৯৭৭ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৎকালীন চুক্তিতে পানির সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ থাকলেও ১৯৯৬ সালে এসে তা কেন তুলে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফারাক্কা ও গজলডোবার মাধ্যমে উজানে পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নেওয়ায় দেশের প্রধান নদীগুলো আজ মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা শুষ্ক মৌসুমে দেশের কৃষি ও কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফারাক্কার নেতিবাচক প্রভাবে পদ্মা ও তিস্তা নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বিগত ২০ থেকে ২৫ বছরে কেবল রাজশাহীতেই প্রায় ৩০ শতাংশ বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং নদীতে বড় বড় চর জেগে উঠেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক কৃষি খাতকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করার কোনো বিকল্প নেই।
নদী ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি প্রকৌশলী বিএম আব্বাসের গবেষণামূলক গ্রন্থ এবং ব্রিটিশ আমলে প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্যের দেওয়া সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কৃত্রিমভাবে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে যে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক ও দূরদর্শী নীতি প্রণয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।
/আশিক
বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীও এখন নিরাপদ নন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ক্ষমতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দলীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কারণে বর্তমানে বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীরাও সম্পূর্ণ নিরাপদ নন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, এই ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রিক ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি সামগ্রিকভাবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপিকে অবিলম্বে সব ধরনের ‘সন্ত্রাসের রাজনীতি’ পরিহার করার এবং অপরাধীদের মদদ দেওয়া বন্ধ করার কঠোর আহ্বান জানান।
পোস্টে সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগে মিটফোর্ডে সংঘটিত পাথরকাণ্ডে নিহত সোহাগের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, এবার খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতার বলি হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিএনপির একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের দুই পুত্রের মধ্যকার বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং মূল দল বিএনপির বর্তমান নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন ডাকসুর এই ছাত্রনেতা। তাঁর মতে, দলের স্থানীয় পর্যায়ে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার প্রাণহানির পরও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রহস্যজনক নীরবতা অত্যন্ত বিস্ময়কর। প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচার যদি দলীয় স্বার্থ এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে এই প্রতিহিংসার সংস্কৃতি দেশের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে।
এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন যে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও দলটির অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন। বিগত সময়গুলোতে দলটির একশ্রেণির নেতাকর্মীর বেপরোয়া কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, গুরুতর অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে কেবল লোকদেখানো ও নামমাত্র বহিষ্কারের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলেও তার পোস্টে তীব্র অভিযোগ করা হয়। পরিশেষে সাদিক কায়েম বলেন, দেশের প্রতিহিংসার রাজনীতি আজ এমন একটি বিপজ্জনক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ বিএনপির নিজেদের কর্মীরাও জীবনের নিরাপত্তা হারাচ্ছেন।
/আশিক
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এসব পুরোনো অপশক্তির নতুন করে একীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক লড়াই আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, মাদক কারবারে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অধ্যায় বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। রক্ত ও জীবন দিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-তরুণরা এই স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে। তবে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা ও দোসররা এখনো বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এনসিপির মূল সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার, বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হওয়ার যে মহান প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না। উল্টো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি, আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন করে দলীয়করণের অভিযোগ সামনে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান মানে কখনোই আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না।
স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। মাদকের ভয়াবহ রূপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ দেশে কখনোই মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এই কারবারে মদদ দিয়েছেন, আর এখন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কেবল চুনোপুঁটি ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে মূল মদদদাতা ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং সাংবাদিকদের হয়রানির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সত্য বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, মধ্যবিত্ত ও তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বাড়ানোর জোরালো দাবি তোলেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের আমূল সংস্কার, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ দেন।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চুক্তিতে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গঙ্গা ও পদ্মার পানির অধিকার রক্ষা এবং নদীতীরবর্তী কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সংসদে অবিলম্বে বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান তিনি। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের জোটগত হিসাব যাই থাক না কেন, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবেই অংশ নেবে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি অতিদ্রুত নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণহত্যার দ্রুত বিচার, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এনসিপি সব সময় রাজপথে থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে অঙ্গীকার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুংকার রাহুল গান্ধীর
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- উত্তপ্ত সাজেকে সশস্ত্র দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট
- এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
- নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
- সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- খুলনায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বহরে ককটেল বিস্ফোরণ
- চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়ল শাহরুখ খানের ‘কিং’
- ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় বাংলাদেশের
- চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
- আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
- এইচএসসির ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? যেভাবে আবেদন করবেন অনলাইনে
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
- কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান
- মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
- সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদসহ পুলিশের আট কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি: মানতে হবে যেসব কড়া শর্ত
- টাকার বিনিময়ে ভোট ও কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত রোনালদোর ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ জয়
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী
- সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি
- ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম
- নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
- সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- শেষ হলো বিসিবির নতুন ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ক্রিকেটার নিলাম
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট








