সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

এনসিপি প্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে এক আলোচিত ও জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, রাষ্ট্রপতি ইস্যু, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।
পাঠকদের সুবিধার্থে তার পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।
মাননীয় স্পিকার, বক্তব্য ভেবেছিলাম শুরু করব অন্য বিষয় নিয়ে। কিন্তু আজকের অধিবেশনের দিনের আলোচনায় আমাদেরকে আরো বেশি অবাক করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ফলে অর্থ সেক্টরের কিছু কথা, কিছু বক্তব্য দিয়ে আলোচনা শুরু করছি।
আমরা যখনই ব্যাংকিং খাত, অর্থ সেক্টরের আর্থিক খাতের কথা আসে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা বাক্যই বারবার বলেন যে বিএনপির সময়ে এরকম কোনো রেকর্ড নাই, যে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ। তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। এবং তিনি এটা অস্বীকার করলেন।
আমি মাননীয় স্পিকার টিআইবির একটা তথ্য আপনাদেরকে দিচ্ছি। বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। যার বেশিরভাগ হচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি ছিলেন নির্বাচনের আগে। কিছু টাকা ঋণ দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।
এবং বর্তমান যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তার স্পেশালিটি কী? তার স্পেশালিটি হচ্ছে এই ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি এক্সপার্ট। ফলে তাকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন দেওয়া হয়েছে, এটা খুব পরিষ্কার মাননীয় স্পিকার। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, সেই ঋণগুলো যাতে পুনঃতফসিল করতে পারে, সেই সুযোগ-সুবিধাটা করে দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতির সামনে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এখন সামনের আর্থিক খাতে আরো আরো নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দিবেন, এজন্য আমরা তাদের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।
মাননীয় স্পিকার,
রাষ্ট্রপতির উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এইখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কুকীর্তির কথা মাননীয় স্পিকার হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, মাননীয় স্পিকার। আরেকটি ঘটনা বলি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের “জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১” করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাটাকে পাকাপোক্ত করেছিল।
মাননীয় স্পিকার,
এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা, সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। একটা আলোচনা কয়েকবার এসেছে যে রাষ্ট্রপতির অধীনে কেন শপথ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথাই বলা হয়েছে, কারণ আমি এখানে শপথ নিয়েছিলাম। তো মাননীয় স্পিকার, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট কি এক? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, ৫ই আগস্টের পরে, আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আরেকটা অপশন ছিল ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা এখানে বসতে পারতেন কিনা, সেটা সন্দেহ আছে। দেশের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেই সময় সরকারে গিয়েছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুব স্পষ্টভাবে ২৪ সালে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। সেই সময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেব নিজেই কথা বলেছিলেন। এখন তো একটা নির্বাচিত সরকার, মাননীয় স্পিকার। এখন তো চাইলেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপিতে সেই ধরনের যোগ্য, আস্থাভাজন ব্যক্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। এবং সরকার দলের সদস্যরা অনেকে গৌরবের সাথে বলেছেন যে যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করেছেন, সেই রাষ্ট্রপতি এখন জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করছে।
মাননীয় স্পিকার, গাধাকে দিয়ে আপনি হাল চাষ করিয়ে এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। এটা আপনাদের দেউলিয়া সরকারের দেউলিয়াত্ব, যে সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারছে না।
মাননীয় স্পিকার,
এই অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ, ৭২ সংবিধান নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এবং একটা বিষয় আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। কিছু কিছু মাননীয় সংসদ সদস্য ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর সাথে মিলিয়েছেন। আমার জানা নেই তারা কোন বিবেচনা থেকে এটি মিলিয়েছেন। এটা তো সবসময় আওয়ামী লীগ মিলিয়েছে। তারা ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর ফসল হিসেবে, ৭১-এর চেতনার সাথে মিলিয়েছে। ৭২-এর মূলনীতিকে ৭১-এর মূলনীতি বলে প্রচার করেছে। আমরা তো সেটার বিরোধিতা করেছি সবসময়। বিএনপির বহু নেতাও এটার বিরোধিতা করেছে। ৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। গত ১৬ বছর এই সমালোচনা আরো তৈরি হয়েছে। ৭২ সংবিধানের সমালোচনা মোটাদাগে তিনটি।
প্রথমত, এই সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রণয়ন করে নাই। যারা ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফও-এর অধীনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই এই সংবিধান রচনা করেছিল।
দ্বিতীয়ত, এই ৭২ সংবিধান ইনহেরেন্টলি একটা আনডেমোক্রেটিক কনস্টিটিউশন। একজন ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও নানা কায়দায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বৈরতন্ত্রের বীজ কিন্তু সেই ৭২-এর সংবিধান থেকেই শুরু হয়েছিল। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শ দ্বারা রচিত হয়েছিল।
৭১-এর আদর্শ কিন্তু চার নীতি ছিল না। ৭১-এর আদর্শ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭২-এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি তার ফান্ডামেন্টাল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন। শুধু জামায়াতে ইসলামী ৭২-এর বিরোধিতা করেছে বলে কি বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পজিশনে চলে গেছে? ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মোজাফফর আহমেদ, শত শত মুক্তিযোদ্ধা। ফলে এই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি। আমরা একটা গণপরিষদ দিয়ে নতুন সংবিধান করতে পারি নাই। এবং সেই অপরচুনিটি আমরা ২০২৪ সালেও মিস করেছি।
৫ই আগস্টের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ফলে ৫ই আগস্টের পর থেকে রাস্তা দুটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা একটা মধ্যপন্থায় আসলাম, যে আমরা সংস্কারে আসি। সেই জায়গা থেকে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলো। এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কথা গণভোটে বলা হলো। এখন বিএনপি সেই জায়গা থেকেও সরে গিয়েছে। এখন বিএনপি যদি সেই জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকে পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমাদেরকেও জানাতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা যেদিন জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছিল, সেদিন সেই অনুষ্ঠানে যাইনি। পরে আমরা সেখানে আমাদের কমেন্ট দিয়ে এসেছিলাম। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত কষ্টের ফসলটাকে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।
যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়, সেদিন সেই সনদের মেজর সংস্কারগুলোর পাশেই একটা নোট লেখা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাহলে যেই দল নির্বাচনে জয়ী হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে। এটার জন্য ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি নির্বাচনে জিতে আপনার ইশতেহারই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার কিসের ঐকমত্য? এবং সেই নোটগুলো কিভাবে লেখানো হয়েছে, কিভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা এখন বলার সময় এসেছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা সেই সময় এক্সেপ্ট করতে পারি নাই। এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষাকে ধার করে আমি বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি এক অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।
৭২-এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, আর জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এরপরে আসলো গণভোট। গণভোটের আদেশ নিয়ে সমালোচনা আছে। আমরাও বলেছি রাষ্ট্রপতি এই ধরনের অর্ডার দিতে পারে কিনা। কিন্তু সবাই মিলে তো এই গণভোটে অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন নিজেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তাহলে নির্বাচনের আগেই এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে তারা এই গণভোট মানে না। ফলে জুলাই গণভোট হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণরায়।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সেই সময় বলেছিলেন, গণরায় হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা। জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ অতি দ্রুত গঠন করা উচিত। আমরা তো অনেকদূর সরে এসেছি। নতুন সংবিধানের জায়গা থেকে সরে আসতে আসতে এখন খুবই সামান্য কিছু দাবি এসেছে। একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আমরা আসমান থেকে নিয়ে আসিনি। গত ১৬ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফাতেও ছিল।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। বলছেন ভালো আইন আনবেন। ভালো আইন যতক্ষণ না আনছেন, ততক্ষণ সমালোচনা সহ্য করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
এই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বলেছি বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। কোথায় পার্থক্য?
কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট—এটা অহেতুক তর্ক। আমরা কেউ বলি নাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রমাইজেবল। কিন্তু বারবার এই তুলনা টেনে এনে মুক্তিযুদ্ধকেও ছোট করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও ছোট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হলো। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর রোল কী ছিল, সেটা এখানে অনেকেই জানেন। তারা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই। বরং দেশে ঢুকে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষগুলোকে হত্যা করেছিল। ফলে মুজিব বাহিনী কোনো মুক্তিযোদ্ধা না।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এখনো এই সমাধান করতে পারিনি কেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদের সমাধান করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া যাবে না।
মাননীয় স্পিকার,
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণে হয়েছিল। বিএনপি অবশ্যই ছিল। আমাদের সাথেই ছিল। তবে একটা জায়গায় ফারাক আছে। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে এই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে নয়, সামনে-পিছনে ছিল। সামনে ছিল সাধারণ জনগণ, ছাত্ররা। ফলে সেই হিসেবেই এই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আমাকে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি—বাংলাদেশের এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা নাই যারা আমাকে ইন্টারোগেশন করেনি, টর্চার করেনি। একটা কথা বারবার বলানোর চেষ্টা করেছিল, “এই আন্দোলন বিএনপি-জামাতের আন্দোলন, আগুন লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।” শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে। কিন্তু কখনো এই কথা বলিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়।
এখন যদি বলা হয় “অমুকের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে”, তাহলে যারা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম।
আমি দুইটা কোটেশন বলতে চাই। ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনের সমাবেশে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন:
“১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন আর ২০২৪-এর আন্দোলন হলো সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিটি ছাত্র-জনতা আজ থেকে নতুন দিনের মুক্তিযোদ্ধা।”
৬ই আগস্ট বঙ্গভবনে আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন:
“ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের নতুন এক সকাল উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”
আমরাও বলি, রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিবেন। আমি আশা করব সরকারি দলের কোটা থেকে আরো ১০ মিনিট পাব।
মাননীয় স্পিকার,
আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন। কিন্তু কোন ভিত্তিতে? ভারত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যে করে নাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনো হচ্ছে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। নতুন করে যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই মাসে ৪০০০ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ৩০ লাখ জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।
এনআরসি-সিএএ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে বিতাড়িত করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এখনো জুলাইয়ের গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও অন্যরা ভারতে আশ্রিত। ফলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ভারতের সাথে কী কথা বলেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা ভারতের সাথে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।
মাননীয় স্পিকার,
দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কিছু সংখ্যা বলছি: ১৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ। এবার নাম বললাম না। পরের সেশনে নাম ধরেই কথা বলব। এগুলো ফ্যাক্ট।
এখন প্রশ্ন, এই ঋণগুলো কবে জনগণ ফেরত পাবে? গত ১৬ বছরের দুর্নীতির বিচার তারা কিভাবে করবে? আরো ভালো হয় যদি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত হয়। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের নাম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক।
মাননীয় স্পিকার,
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বলি। দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। হামলার ঘটনা এসেছে ১৫৪টি। কোনোটিতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ছাত্রদল মারধর করেছে। এখনো মামলা নেয়নি। থানার ভিতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে।
মাজার হামলা নিয়েও কিছু বলতে চাই। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা কোনো ধর্মীয় বিতর্কে যাব না। কিন্তু রুল অব ল’ নিয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গি আছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। কিন্তু অতীতের মতো “ওয়ার অন টেরর”-এর নামে যেন কোনো নাটক না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমাদের দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কৃষক। সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে, এজন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও ধান কেনা হচ্ছে। অথচ ডিজেল, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক লোকসানে পড়ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রিফিং দিতে শুনিনি। আমরা আশা করি সরকার নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাবে বিচার কতদূর এগোচ্ছে। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে, আরো বাড়বে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দাবিতে। ফলে আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের সুরাহা হবে। আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে, চাকরিতে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকার এখন বলে দিচ্ছে বিরোধী দল কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে বিরোধিতা করবে। বিরোধী দল সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না।
জনগণ ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটুকু সমর্থন দেবে। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। তার পরের দিন আমার বাবা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন। আমার মা আমাকে নিয়ে থানায়, কোর্টে, কারাগারে ঘুরেছেন। আমি জানি, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের একই অভিজ্ঞতা।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে কাজ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। আমি আমার এলাকা নিয়ে শেষ করব।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী। ঢাকা-১৭-এর প্রতিবেশী ঢাকা-১১। সংসদে সরকার দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেমন বৈষম্য, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১-এর মধ্যেও একই বৈষম্য। আমি আশা করব এই বৈষম্য দূর হবে। ঢাকা-১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম হটস্পট ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্ররা ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল।
আমি হয়তো সমালোচনা করব, ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমার এলাকার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয়। উন্নয়ন হলেই চলবে। আমার ক্রেডিট লাগবে না।
সবশেষে বলতে চাই, এই প্রথম অধিবেশনে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গিয়ে যেমন হলের সিস্টেম দেখে হতাশ হয়েছিলাম, তেমনি এই সংসদেও হতাশ হয়েছি। সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে বাতিল করেছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে—এগুলো হতাশাজনক।
তবে আমি আশা করি, এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে। আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ। এই হাউজের সকলকে ধন্যবাদ।
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।
/আশিক
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।
মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে এনসিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল তৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার আহ্বান জানান।
/আশিক
দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এর আগে গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের অ্যাকাউন্টের বিবরণ তুলে ধরেন, যেখানে তাঁর দুটি হিসাবে প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানানো হয়। তবে বিশ্লেষক ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দুর্নীতির অর্থ রাখা হয় না, বরং বিভিন্ন অপ্রচলিত ও গোপন মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনে শীর্ষ পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন (যার মধ্যে ওয়াসা এমডি নিয়োগে ১০ কোটি ও ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে), এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা।
এ ছাড়া সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ এবং তাঁর এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় তাঁর পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্নীতির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও দুবাইয়ের সম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।
/আশিক
সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
এমন নামমাত্র বা দুর্বল পরিবর্তনের জন্য ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও যুবসমাজ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি ঘোষণা দেন, এবারের মূল সংগ্রাম হলো কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সংবিধান আমূল পরিবর্তন করা এবং সেই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃস্থাপিত করা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশালের সদর রোডস্থ ঐতিহাসিক অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির তীব্র প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের শোষণ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যে ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ, তা কেবল শাসনক্ষমতার হাতবদলের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও সাংবিধানিক চরিত্র পরিবর্তনের লড়াই। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
/আশিক
ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; বরং এর পেছনে দলের চরম বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল রয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে চরম আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে; আর যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি না ফেরেন, তবে ১ জানুয়ারি থেকেই তাঁর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা চূড়ান্তভাবে ধসে পড়বে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বক্তব্যকে মূলত ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ও স্লোগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অসংখ্য মামলার আসামি হিসেবে দেশে ফেরা মাত্রই তাঁকে কঠোর আইনি মুখোমুখি হতে হবে, যা তাঁর বর্তমান বয়স ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত না ফিরলে ট্রাভেল পাস বা বিমান অবতরণের অনুমতি না মেলার মতো বাহানা তৈরি করা হতে পারে, যা নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট দূর করতে পারবে না।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত হলেও এমন কোনো পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়াবে। সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রতিবন্ধকতা হলো, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার প্রশ্নে জুলাইয়ের পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তি ও সরকারের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কোনো অনুশোচনা না করে বলপ্রয়োগের জেদ দেখিয়ে দেশে ফিরে দল পুনর্গঠন করার স্বপ্ন দেখা ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো’।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং নির্ধারিত ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আপিলের আইনগত সুযোগও শেষ হয়ে গেছে। ফলে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তি বা নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।
/আশিক
কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের আনা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল ‘গুম-খুন কমিশন’ বাতিল ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনি পরিবর্তন আনা।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আগের অধ্যাদেশে গুমের সঙ্গে জড়িত সংস্থাকে তদন্ত থেকে বাইরে রাখার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা বদলে ফেলা হয়েছে। ফলে পুলিশ অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে পুলিশই তার তদন্ত করবে—এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখায় সাধারণ নাগরিকরা ভীতিতে কোনো প্রতিকারই চাইতে পারবে না।
এটিকে দেশে আবারও গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি নয়, এ দেশ ২০ কোটি মানুষের। কোনো দল আবারও স্বৈরাচারী মানসিকতা দেখালে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা তাদেরও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে। এছাড়া মেয়াদ শেষের আগেই সব উপাচার্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান এবং বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসনহীন থাকেন।
অথচ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা অনুৎপাদনশীল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত উন্নয়নে নজর নেই। আগামী দুই বছরের মধ্যে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও দূর থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে কোনো অপরাধ না করলে বা সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে মাটি কামড়ে রাজনীতি করা উচিত ছিল। কোনো সৎ মানুষ পালিয়ে যায় না, বরং অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই বিচারের ভয়ে দেশ ছাড়ে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তিনি এই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী তরুণ নেতৃত্ব, সাধারণ জনগণ এবং সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই গণআন্দোলনে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে তা হতে হবে সমমর্যাদা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে। সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড এবং নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অভিন্ন তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের একতরফা সম্পর্ক বাংলাদেশ আর মেনে নেবে না।
/আশিক
বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
সংসদে আগের দিন বক্তব্য দিতে গিয়ে সরকারি দলের তীব্র বাধা ও পরবর্তীতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি আইনসভার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবনতি নিয়ে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে বুধবারের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় বিএনপির সদস্যদের ব্যাপক প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অধিবেশনে তিনি যে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে বর্তমান সংসদে কোনো ভিন্নমত বা ‘ডিসেন্ট ভয়েস’ প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক পরিবেশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে তাঁর মনে হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্য শেষ করার পর তাঁর আশপাশের সংসদ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেছেন, যা যেকোনো সংসদীয় শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের চরম পরিপন্থী।
বিগত একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন তিনি একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখতেন, তখনও তাঁকে একই ধরনের জঘন্য আচরণের মুখোমুখি হতে হতো। হাজারো মানুষের তাজা রক্তের বিনিময়ে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে নতুন যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানেও যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আসে, তবে সংসদে শুধুই নিয়মরক্ষার বিরোধী দল সেজে বিলের বিরোধিতায় ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য বসে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।
রুমিন ফারহানার এমন ক্ষুব্ধ ও আবেগপূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সভাপতিমণ্ডলীর আসন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার অতীত অপ্রীতিকর ঘটনা পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, "গতকাল যা হওয়ার, হয়ে গেছে।" একই সঙ্গে তিনি সরকারি ও বিরোধী—উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতাদেরই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পারস্পরিক সংযম ও সংসদীয় শালীনতা বজায় রাখার জোরালো নির্দেশনা দেন।
/আশিক
নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির
র্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামোর নতুন বাহিনী গঠন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বলে জাতীয় সংসদে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও মানবাধিকারের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট আইনটি কোনো অবস্থাতেই পাস না করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী সরকারি বিলটির ওপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উঠলে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ ও তথ্যবহুল বক্তব্য রাখেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিলটির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রস্তাবনাটি জাতীয় জীবনের গতানুগতিক অন্য কোনো বিলের মতো নয়; বরং এটি সামগ্রিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠার পর বাহিনীটির ইতিবাচক কিছু অবদান থাকলেও তাদের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অতিমাত্রার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড গোটা বিশ্বকে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই এই বাহিনীর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ নিগ্রহের শিকার উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সাথে সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সব মানবাধিকার সংস্থার দ্ব্যর্থহীন দাবি ছিল এই বিতর্কিত বাহিনীর স্থায়ী বিলুপ্তি; একে মোড়ক বদলে টিকিয়ে রাখা নয়। কিন্তু বর্তমানে প্রস্তাবিত আইনে স্থাপনা, জনবল, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপোর্ট সবকিছু অবিকল রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা জনগণের সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল।
মাত্র কয়েক দিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে ওয়ারেন্ট ছাড়া তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় ন্যূনতম পরিবর্তন আসেনি। নিজেদের অপরাধের তদন্ত নিজেদের মাধ্যমেই করার পুরোনো সংস্কৃতি বহাল রেখে এমন আইন পাস করা হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ নতুন করে কলঙ্কিত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই পরিস্থিতিতে বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে প্রত্যাহার করে অংশীজনদের সাথে বিশদ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সাড়ে চার দশক আগের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত সংস্থার নতুন তথ্য
- আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
- এশিয়া কাপের ট্রফি কার হাতে? লঙ্কান বোলারদের উড়িয়ে শুরু ভারতের
- প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে আধুনিক পুলিশিং গড়ে তোলার আহ্বান আইজিপির
- আইবাস প্লাস প্লাসে জটিলতা: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
- দশকের শেষেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই: পদত্যাগ করে বিস্ফোরক গবেষক
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত মেলাননি জ্যোতি: দায় নিতে নারাজ বিসিবি
- গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
- ৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস
- একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- গ্যাস সংকট কাটাতে নতুন ক্ষেত্রে শেভরনকে বড় বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের নতুন অভিযোগ দুদকে
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- হজের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টের কদর তুঙ্গে, দ্রুত সেবার দাবি যুক্তরাজ্যে
- সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- নিজের হাতে ভোট থাকলে কাকে দিতেন ব্যালন ডি’অর? জানালেন ডেম্বেলে
- বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
- কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
- লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ‘আসুন এবার দেশ ও রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে জমজমাট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও কমিউনিটি ডে অনুষ্ঠিত
- পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
- লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে বিএনপিই সবার আগে করত: তারেক রহমান
- দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
- বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
- ব্যালন ডি’অর ইয়ামালেরই প্রাপ্য: ফেইনুর্ড জয়ের পর বললেন হান্সি ফ্লিক
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের কর দাবি নিয়ে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা
- বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
- ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
- হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- র্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
- ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়








