সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১১:৩৮:০২
সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

এনসিপি প্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে এক আলোচিত ও জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, রাষ্ট্রপতি ইস্যু, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।

পাঠকদের সুবিধার্থে তার পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।

মাননীয় স্পিকার, বক্তব্য ভেবেছিলাম শুরু করব অন্য বিষয় নিয়ে। কিন্তু আজকের অধিবেশনের দিনের আলোচনায় আমাদেরকে আরো বেশি অবাক করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ফলে অর্থ সেক্টরের কিছু কথা, কিছু বক্তব্য দিয়ে আলোচনা শুরু করছি।

আমরা যখনই ব্যাংকিং খাত, অর্থ সেক্টরের আর্থিক খাতের কথা আসে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা বাক্যই বারবার বলেন যে বিএনপির সময়ে এরকম কোনো রেকর্ড নাই, যে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ। তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। এবং তিনি এটা অস্বীকার করলেন।

আমি মাননীয় স্পিকার টিআইবির একটা তথ্য আপনাদেরকে দিচ্ছি। বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। যার বেশিরভাগ হচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি ছিলেন নির্বাচনের আগে। কিছু টাকা ঋণ দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।

এবং বর্তমান যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তার স্পেশালিটি কী? তার স্পেশালিটি হচ্ছে এই ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি এক্সপার্ট। ফলে তাকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন দেওয়া হয়েছে, এটা খুব পরিষ্কার মাননীয় স্পিকার। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, সেই ঋণগুলো যাতে পুনঃতফসিল করতে পারে, সেই সুযোগ-সুবিধাটা করে দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতির সামনে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এখন সামনের আর্থিক খাতে আরো আরো নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দিবেন, এজন্য আমরা তাদের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।

মাননীয় স্পিকার,

রাষ্ট্রপতির উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এইখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কুকীর্তির কথা মাননীয় স্পিকার হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, মাননীয় স্পিকার। আরেকটি ঘটনা বলি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের “জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১” করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাটাকে পাকাপোক্ত করেছিল।

মাননীয় স্পিকার,

এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা, সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। একটা আলোচনা কয়েকবার এসেছে যে রাষ্ট্রপতির অধীনে কেন শপথ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথাই বলা হয়েছে, কারণ আমি এখানে শপথ নিয়েছিলাম। তো মাননীয় স্পিকার, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট কি এক? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, ৫ই আগস্টের পরে, আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আরেকটা অপশন ছিল ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা এখানে বসতে পারতেন কিনা, সেটা সন্দেহ আছে। দেশের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেই সময় সরকারে গিয়েছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুব স্পষ্টভাবে ২৪ সালে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। সেই সময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেব নিজেই কথা বলেছিলেন। এখন তো একটা নির্বাচিত সরকার, মাননীয় স্পিকার। এখন তো চাইলেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপিতে সেই ধরনের যোগ্য, আস্থাভাজন ব্যক্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। এবং সরকার দলের সদস্যরা অনেকে গৌরবের সাথে বলেছেন যে যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করেছেন, সেই রাষ্ট্রপতি এখন জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করছে।

মাননীয় স্পিকার, গাধাকে দিয়ে আপনি হাল চাষ করিয়ে এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। এটা আপনাদের দেউলিয়া সরকারের দেউলিয়াত্ব, যে সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারছে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ, ৭২ সংবিধান নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এবং একটা বিষয় আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। কিছু কিছু মাননীয় সংসদ সদস্য ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর সাথে মিলিয়েছেন। আমার জানা নেই তারা কোন বিবেচনা থেকে এটি মিলিয়েছেন। এটা তো সবসময় আওয়ামী লীগ মিলিয়েছে। তারা ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর ফসল হিসেবে, ৭১-এর চেতনার সাথে মিলিয়েছে। ৭২-এর মূলনীতিকে ৭১-এর মূলনীতি বলে প্রচার করেছে। আমরা তো সেটার বিরোধিতা করেছি সবসময়। বিএনপির বহু নেতাও এটার বিরোধিতা করেছে। ৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। গত ১৬ বছর এই সমালোচনা আরো তৈরি হয়েছে। ৭২ সংবিধানের সমালোচনা মোটাদাগে তিনটি।

প্রথমত, এই সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রণয়ন করে নাই। যারা ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফও-এর অধীনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই এই সংবিধান রচনা করেছিল।

দ্বিতীয়ত, এই ৭২ সংবিধান ইনহেরেন্টলি একটা আনডেমোক্রেটিক কনস্টিটিউশন। একজন ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও নানা কায়দায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বৈরতন্ত্রের বীজ কিন্তু সেই ৭২-এর সংবিধান থেকেই শুরু হয়েছিল। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শ দ্বারা রচিত হয়েছিল।

৭১-এর আদর্শ কিন্তু চার নীতি ছিল না। ৭১-এর আদর্শ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭২-এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি তার ফান্ডামেন্টাল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন। শুধু জামায়াতে ইসলামী ৭২-এর বিরোধিতা করেছে বলে কি বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পজিশনে চলে গেছে? ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মোজাফফর আহমেদ, শত শত মুক্তিযোদ্ধা। ফলে এই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি। আমরা একটা গণপরিষদ দিয়ে নতুন সংবিধান করতে পারি নাই। এবং সেই অপরচুনিটি আমরা ২০২৪ সালেও মিস করেছি।

৫ই আগস্টের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ফলে ৫ই আগস্টের পর থেকে রাস্তা দুটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা একটা মধ্যপন্থায় আসলাম, যে আমরা সংস্কারে আসি। সেই জায়গা থেকে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলো। এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কথা গণভোটে বলা হলো। এখন বিএনপি সেই জায়গা থেকেও সরে গিয়েছে। এখন বিএনপি যদি সেই জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকে পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমাদেরকেও জানাতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা যেদিন জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছিল, সেদিন সেই অনুষ্ঠানে যাইনি। পরে আমরা সেখানে আমাদের কমেন্ট দিয়ে এসেছিলাম। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত কষ্টের ফসলটাকে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।

যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়, সেদিন সেই সনদের মেজর সংস্কারগুলোর পাশেই একটা নোট লেখা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাহলে যেই দল নির্বাচনে জয়ী হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে। এটার জন্য ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি নির্বাচনে জিতে আপনার ইশতেহারই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার কিসের ঐকমত্য? এবং সেই নোটগুলো কিভাবে লেখানো হয়েছে, কিভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা এখন বলার সময় এসেছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা সেই সময় এক্সেপ্ট করতে পারি নাই। এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষাকে ধার করে আমি বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি এক অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।

৭২-এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, আর জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এরপরে আসলো গণভোট। গণভোটের আদেশ নিয়ে সমালোচনা আছে। আমরাও বলেছি রাষ্ট্রপতি এই ধরনের অর্ডার দিতে পারে কিনা। কিন্তু সবাই মিলে তো এই গণভোটে অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন নিজেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তাহলে নির্বাচনের আগেই এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে তারা এই গণভোট মানে না। ফলে জুলাই গণভোট হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণরায়।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সেই সময় বলেছিলেন, গণরায় হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা। জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ অতি দ্রুত গঠন করা উচিত। আমরা তো অনেকদূর সরে এসেছি। নতুন সংবিধানের জায়গা থেকে সরে আসতে আসতে এখন খুবই সামান্য কিছু দাবি এসেছে। একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আমরা আসমান থেকে নিয়ে আসিনি। গত ১৬ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফাতেও ছিল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। বলছেন ভালো আইন আনবেন। ভালো আইন যতক্ষণ না আনছেন, ততক্ষণ সমালোচনা সহ্য করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বলেছি বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। কোথায় পার্থক্য?

কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট—এটা অহেতুক তর্ক। আমরা কেউ বলি নাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রমাইজেবল। কিন্তু বারবার এই তুলনা টেনে এনে মুক্তিযুদ্ধকেও ছোট করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও ছোট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হলো। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর রোল কী ছিল, সেটা এখানে অনেকেই জানেন। তারা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই। বরং দেশে ঢুকে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষগুলোকে হত্যা করেছিল। ফলে মুজিব বাহিনী কোনো মুক্তিযোদ্ধা না।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এখনো এই সমাধান করতে পারিনি কেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদের সমাধান করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া যাবে না।

মাননীয় স্পিকার,

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণে হয়েছিল। বিএনপি অবশ্যই ছিল। আমাদের সাথেই ছিল। তবে একটা জায়গায় ফারাক আছে। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে এই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে নয়, সামনে-পিছনে ছিল। সামনে ছিল সাধারণ জনগণ, ছাত্ররা। ফলে সেই হিসেবেই এই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আমাকে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি—বাংলাদেশের এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা নাই যারা আমাকে ইন্টারোগেশন করেনি, টর্চার করেনি। একটা কথা বারবার বলানোর চেষ্টা করেছিল, “এই আন্দোলন বিএনপি-জামাতের আন্দোলন, আগুন লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।” শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে। কিন্তু কখনো এই কথা বলিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়।

এখন যদি বলা হয় “অমুকের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে”, তাহলে যারা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম।

আমি দুইটা কোটেশন বলতে চাই। ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনের সমাবেশে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন:

“১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন আর ২০২৪-এর আন্দোলন হলো সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিটি ছাত্র-জনতা আজ থেকে নতুন দিনের মুক্তিযোদ্ধা।”

৬ই আগস্ট বঙ্গভবনে আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন:

“ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের নতুন এক সকাল উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”

আমরাও বলি, রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিবেন। আমি আশা করব সরকারি দলের কোটা থেকে আরো ১০ মিনিট পাব।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন। কিন্তু কোন ভিত্তিতে? ভারত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যে করে নাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনো হচ্ছে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। নতুন করে যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই মাসে ৪০০০ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ৩০ লাখ জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

এনআরসি-সিএএ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে বিতাড়িত করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এখনো জুলাইয়ের গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও অন্যরা ভারতে আশ্রিত। ফলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ভারতের সাথে কী কথা বলেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা ভারতের সাথে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।

মাননীয় স্পিকার,

দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কিছু সংখ্যা বলছি: ১৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ। এবার নাম বললাম না। পরের সেশনে নাম ধরেই কথা বলব। এগুলো ফ্যাক্ট।

এখন প্রশ্ন, এই ঋণগুলো কবে জনগণ ফেরত পাবে? গত ১৬ বছরের দুর্নীতির বিচার তারা কিভাবে করবে? আরো ভালো হয় যদি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত হয়। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের নাম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক।

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বলি। দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। হামলার ঘটনা এসেছে ১৫৪টি। কোনোটিতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ছাত্রদল মারধর করেছে। এখনো মামলা নেয়নি। থানার ভিতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে।

মাজার হামলা নিয়েও কিছু বলতে চাই। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা কোনো ধর্মীয় বিতর্কে যাব না। কিন্তু রুল অব ল’ নিয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গি আছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। কিন্তু অতীতের মতো “ওয়ার অন টেরর”-এর নামে যেন কোনো নাটক না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাদের দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কৃষক। সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে, এজন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও ধান কেনা হচ্ছে। অথচ ডিজেল, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক লোকসানে পড়ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রিফিং দিতে শুনিনি। আমরা আশা করি সরকার নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাবে বিচার কতদূর এগোচ্ছে। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে, আরো বাড়বে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দাবিতে। ফলে আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের সুরাহা হবে। আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে, চাকরিতে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকার এখন বলে দিচ্ছে বিরোধী দল কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে বিরোধিতা করবে। বিরোধী দল সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না।

জনগণ ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটুকু সমর্থন দেবে। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। তার পরের দিন আমার বাবা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন। আমার মা আমাকে নিয়ে থানায়, কোর্টে, কারাগারে ঘুরেছেন। আমি জানি, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের একই অভিজ্ঞতা।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে কাজ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। আমি আমার এলাকা নিয়ে শেষ করব।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী। ঢাকা-১৭-এর প্রতিবেশী ঢাকা-১১। সংসদে সরকার দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেমন বৈষম্য, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১-এর মধ্যেও একই বৈষম্য। আমি আশা করব এই বৈষম্য দূর হবে। ঢাকা-১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম হটস্পট ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্ররা ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল।

আমি হয়তো সমালোচনা করব, ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমার এলাকার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয়। উন্নয়ন হলেই চলবে। আমার ক্রেডিট লাগবে না।

সবশেষে বলতে চাই, এই প্রথম অধিবেশনে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গিয়ে যেমন হলের সিস্টেম দেখে হতাশ হয়েছিলাম, তেমনি এই সংসদেও হতাশ হয়েছি। সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে বাতিল করেছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে—এগুলো হতাশাজনক।

তবে আমি আশা করি, এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে। আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ। এই হাউজের সকলকে ধন্যবাদ।


ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ নারীদের জন্য সেফগার্ড: নুরুল হক নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২২:০৫:৪৭
ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ নারীদের জন্য সেফগার্ড: নুরুল হক নুর
ছবি : সংগৃহীত

গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পারিবারিক নির্যাতন থেকে সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি ঢাল বা সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবারিয়া বাজারে এক ভার্চুয়াল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাগুলো মূলত পরিবারের মা-বোনদের দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গ্রামাঞ্চলে নারী সদস্যদের ওপর পুরুষ সদস্যরা নানানভাবে অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতন করে থাকেন, জিম্মি করে থাকেন।

যৌতুকের জন্য কিংবা শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানা অজুহাত দেন। ফ্যামিলি কার্ড আমাদের নারীদের জন্য সেফগার্ড।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিশ্রমী নারীরা এই কার্ডের আড়াই হাজার টাকা জমিয়ে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন।

রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে মো. নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকেই ডিস্টার্ব করলেও সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি। সামাজিক সুরক্ষা, কৃষক বা প্রবাসী কার্ড—যোগ্য সবাই পাবেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্বোধনের সাথে একযোগে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নদীবেষ্টিত চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে এই দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় বেশ কয়েকটি খাল খনন প্রকল্পসহ রাস্তাঘাট ও ব্রিজের ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অতীত সরকারের দুর্নীতি ও নামমাত্র কাজের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “বিগত দিনে অনেকেই অল্প কাজ করে সব সাবার করে দিয়েছেন।

এবার খাল খননের সাথে যারা জড়িত থাকবেন, তারা শতভাগ কাজ করবেন। সরকারি টাকায় কাজগুলো মানসম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদেরই দেখতে হবে।”

গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক এবং স্থানীয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


আওয়ামী লীগের মতোই মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি: সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ২১:২৫:৩৫
আওয়ামী লীগের মতোই মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি: সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে দেশের গণমাধ্যম বা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি দাবি করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই একই কায়দায় কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে মূলত বেগম খালেদা জিয়া ও মেজর জিয়াকে সামনে রেখে। তারেক রহমান তাঁর যোগ্য পিতা-মাতার উত্তরসূরী হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন, তবে তিনি এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কি না তা তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হতো, এখন একই কায়দায় মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়; তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল—সেই বাংলাদেশের লক্ষণ আমরা আবারও দেখতে পাই।"

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, অভ্যুত্থানের আগেও দেশে চাঁদাবাজি হতো এবং এখনও হচ্ছে। যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই একই কাজ যদি বিএনপির নেতাকর্মীরাও করতে থাকে, তবে আগামীর রাজনীতিতে কেউ আর টিকে থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই যারা এমন কর্মকাণ্ড শুরু করেছে, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় নির্বাচনের হিসাব টেনে এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক বলেন, নির্বাচনে বিএনপিকে ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলেও বাকি অর্ধেক মানুষ কিন্তু তাদের ভোট দেয়নি। আর যারা ভোট দিয়েছে, তারাও ক্ষমতার মাত্র তিন মাস যেতে না যেতেই বিএনপির ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েছে এবং মনে করছে দল নিশ্চিতভাবে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি জনগণকে এই প্রতারণার কথা মনে রেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আতিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

/আশিক


ভারতকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৯:৪৬:৩২
ভারতকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "বাংলাদেশ কারো রক্তচক্ষু বা চোখ রাঙানি সহ্য করবে না। বন্ধু, এটা তিতুমীর, হাজী শরীয়তউল্লাহ ও শাহমখদুমের বাংলাদেশ; এই দেশের দিকে কালো হাত বাড়ালে এ দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত তা রুখে দেবে।" শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির ভারতে মুসলিমদের নাজেহাল করা এবং বাংলাদেশের দিকে 'লাল চোখ' দেখানোর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের এক-চতুর্থাংশ মরুভূমি হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বর্তমান সরকারের 'পদ্মা ব্যারেজ' ঘোষণার সাধুবাদ জানান, তবে এটি যেন লোকদেখানো না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

একই সঙ্গে সরকার ঘোষিত 'খাল খনন' কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "খালের পানির উৎস হচ্ছে নদী। নদীই যদি মৃতপ্রায় থাকে, তবে খালের পানি আসবে কোথা থেকে? খাল কাটা কর্মসূচি যদি কেবল জনগণের মানসিক প্রশান্তির জন্য হয়, তবে তা বুমেরাং হবে। আগে নদী বাঁচান, নদী যৌবন ফিরে পাক।"

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "যে পথ দিয়ে স্বৈরাচার হেঁটেছিল, একই পথ দিয়ে আপনারাও হাঁটছেন। মনে রাখবেন, এ সংসদের মেয়াদ মাত্র আড়াই মাস। আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না।

ভালো কাজে আমরা পানির মতো তরল, কিন্তু মন্দ কাজে ইস্পাতের চেয়েও কঠিন হব।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে তাদের ইশতেহারে অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ করেছে, যা তাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সাথে সরাসরি গাদ্দারি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণদের সরকারি দলের একাংশ কর্তৃক ‘শিশু পার্টি’ বা ‘গুপ্ত’ বলে উপহাস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করলে সরকারকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

জামায়াতকে লক্ষ্য করে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক হুমকির জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, "যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়াতে পারে, তাদের ভয় দেখাবেন না। সংসদে কথা বলতে অনুমতি লাগে; যদি সেখানে আমাদের কথা বলতে দেওয়া না হয়, তবে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে (রাজপথে) চলে আসব, যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতি লাগে না।"

রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সারজিস আলমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


আওয়ামী লীগ ফিরলে প্রথম গুলিটি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১৯:৩৪:০১
আওয়ামী লীগ ফিরলে প্রথম গুলিটি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ যদি কখনো দেশে ফিরে আসার সুযোগ পায়, তবে তারা প্রথম হামলা বা গুলি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার চক্রান্ত ও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারকে সতর্ক করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তরুণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, “যদি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারে, তাহলে তারা প্রথম কোপ, প্রথমে গুলি চালাবে তারেক রহমানের ওপরে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানা উচিত—সেই সময় তারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল।” তিনি জিয়াউর রহমানের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরনের আপস (কম্প্রোমাইজ) না করার আহ্বান জানান এবং মনে করিয়ে দেন যে তারা সবাই এখনো একই ফ্রন্টে যুদ্ধ করছেন।

সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “উন্নয়নের নামে সরকার নানা ধরনের কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ডগুলোতে যদি সাধারণ মানুষের টাকা না আসে, তবে আমরাও সরকারকে একটা কার্ড দেখাব, আর সেই কার্ডের নাম হলো লাল কার্ড।”

রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ঢিলেমি করা হলে সরকারের স্থায়িত্ব সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যদি আপনি (তারেক রহমান) সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে দেশে আপনার গদি থাকবে কি না—সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। কারণ জনগণ ভোট ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই জনগণের বাক্সে যদি কেউ লাথি মারতে চায়, আমরাও তার গদিতে লাথি মারতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করব না।”

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, মওলানা ভাসানী যে রাজশাহী থেকে ভারতের বিরুদ্ধে পানির ন্যায্য অধিকারের ডাক দিয়েছিলেন, বিএনপি আজকে তাঁর সেই ‘মার্কা’ বা রাজনৈতিক ঐতিহ্য চুরি করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি বর্তমানে ভারতের বিরুদ্ধে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করছে। যদি তারা ভাসানীর মার্কা ব্যবহার করতে চায়, তবে ভাসানীর আপসহীন নীতিও গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় সেই মার্কা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এনসিপি নেতা সারজিস আলম বলেন, “তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে।” তবে গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ধারার মতো বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা গভীর শঙ্কিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করেছে এই সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১৯:৪৩:৫৬
ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করেছে এই সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের ‘স্মার্ট কার্ড’ প্রকল্পকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন প্রকল্পগুলোকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, কৃষকের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে সরকারকেও ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ডের নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। এখন নতুন প্রকল্প এসেছে—খাল কাটার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড। আমরাও কার্ড এনেছি, লাল কার্ড। এগুলো বিফলে গেলে আমরা লাল কার্ড দেখাবো।’ তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটে কেবল কার্ড হাতে ধরিয়ে দিলেই হবে না, কৃষক প্রকৃতপক্ষে কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত এবং অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের সংকটের কথা উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘ধান মার্কা ক্ষমতায় থাকলেও আসল ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।’ তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ দাবি করেন, যেখানে কৃষকের বাস্তুভিটা থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি গুদামঘর চালুর জোরালো দাবি জানান।

নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এই সরকার ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বা পানি বন্টন নিয়ে এত বড় বড় ইস্যু থাকার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শক্ত প্রতিবাদ বা অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।

/আশিক


সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর  

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ২১:৫২:৫৯
সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর  
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে সীমান্ত হত্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এক আবেগঘন ও কড়া বক্তব্যে তিনি সরকারের সীমান্ত নীতি এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শেখ হাসিনার নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশি নাকি ইন্ডিয়ান? যদি বাংলাদেশি হন, তবে তাকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা হোক।” পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে যে দ্বিচারিতা চলছে, তার স্পষ্ট জবাব জনগণের কাছে থাকা প্রয়োজন।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানান এই এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, “আমরা সরকার গঠন করলে সীমান্তবর্তী এলাকায় খন্দকের যুদ্ধের মতো বড় বড় খাল খনন করবো।” তার মতে, এর ফলে মাদক পাচার স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। একইসাথে দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার অবাধ প্রবেশের জন্য স্বরাষ্ট্র বিভাগের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে এবং সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে ‘লংমার্চ’ করার হুঁশিয়ারি দেন নাসীরুদ্দীন। কসবা আসার পথে তাকে বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক, আমি কোথায় যাব তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।”

/আশিক


কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ২১:৪০:৪৯
কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে হত্যাকাণ্ড এবং ভারতের নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়।"

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, একপাশে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা হবে আর অন্যপাশে বন্ধুত্বের দোহাই দেওয়া হবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন ভারতের জনগণই এই কাঁটাতারের বিভেদ উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করবে।

সীমান্ত রক্ষার বিষয়ে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষা করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। সরকার যদি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের জনগণই নিজ হাতে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তুলে নেবে। একই সাথে ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি। তিনি সরকারকে এই জাতীয় ইস্যুগুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় ‘শাপলা গণহত্যা’ প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সঠিক বিচার না হওয়ায় দেশে পরবর্তী সময়েও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে অংশগ্রহণকারীদের ‘সন্ত্রাসী বা জঙ্গি’ হিসেবে তকমা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে সেসব ঘটনার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার।

/আশিক


অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা শিখতে হবে পুলিশকে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১১ ১৮:১৯:৪১
অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা শিখতে হবে পুলিশকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে নামমাত্র সরকারি বরাদ্দ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুন বা ডাকাতির মতো গুরুতর মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, হাজার হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা! একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের পকেট থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই চরম আর্থিক টানাপোড়েনই পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার সংস্কৃতির জন্ম দেয়।

পুলিশ সদস্যদের অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করলেও তাদের কোনো ওভারটাইম বা সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা নেই। সংসদে এই নিয়ে কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের অধিকার বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।

জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশকে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের আইনবহির্ভূত নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস অর্জনের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। বেআইনি আদেশ না মানায় কোনো সদস্য যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ওপরও জোর দেন তিনি। পরিশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন—সরকার স্বাধীনতা দিতে চাইলেও পুলিশ বাহিনী কি মানসিকভাবে তা নিতে প্রস্তুত?

/আশিক


আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৮:১৩:০০
আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রোববার (১০ মে) রাতেই একটি ফ্লাইটে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিস ফোরাম ২০২৬’-এ তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।

সফরকালে আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেশনে অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল আয়োজনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় প্রবাসীদের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসী সমাজের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ ছাড়া এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সভা, প্রতিনিধি বৈঠক ও বিশেষ কমিউনিটি কার্যক্রমেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফর ও গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ১৯ মে রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: