সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

এনসিপি প্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে এক আলোচিত ও জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, রাষ্ট্রপতি ইস্যু, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।
পাঠকদের সুবিধার্থে তার পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।
মাননীয় স্পিকার, বক্তব্য ভেবেছিলাম শুরু করব অন্য বিষয় নিয়ে। কিন্তু আজকের অধিবেশনের দিনের আলোচনায় আমাদেরকে আরো বেশি অবাক করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ফলে অর্থ সেক্টরের কিছু কথা, কিছু বক্তব্য দিয়ে আলোচনা শুরু করছি।
আমরা যখনই ব্যাংকিং খাত, অর্থ সেক্টরের আর্থিক খাতের কথা আসে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা বাক্যই বারবার বলেন যে বিএনপির সময়ে এরকম কোনো রেকর্ড নাই, যে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ। তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। এবং তিনি এটা অস্বীকার করলেন।
আমি মাননীয় স্পিকার টিআইবির একটা তথ্য আপনাদেরকে দিচ্ছি। বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। যার বেশিরভাগ হচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি ছিলেন নির্বাচনের আগে। কিছু টাকা ঋণ দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।
এবং বর্তমান যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তার স্পেশালিটি কী? তার স্পেশালিটি হচ্ছে এই ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি এক্সপার্ট। ফলে তাকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন দেওয়া হয়েছে, এটা খুব পরিষ্কার মাননীয় স্পিকার। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, সেই ঋণগুলো যাতে পুনঃতফসিল করতে পারে, সেই সুযোগ-সুবিধাটা করে দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতির সামনে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এখন সামনের আর্থিক খাতে আরো আরো নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দিবেন, এজন্য আমরা তাদের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।
মাননীয় স্পিকার,
রাষ্ট্রপতির উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এইখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কুকীর্তির কথা মাননীয় স্পিকার হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, মাননীয় স্পিকার। আরেকটি ঘটনা বলি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের “জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১” করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাটাকে পাকাপোক্ত করেছিল।
মাননীয় স্পিকার,
এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা, সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। একটা আলোচনা কয়েকবার এসেছে যে রাষ্ট্রপতির অধীনে কেন শপথ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথাই বলা হয়েছে, কারণ আমি এখানে শপথ নিয়েছিলাম। তো মাননীয় স্পিকার, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট কি এক? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, ৫ই আগস্টের পরে, আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আরেকটা অপশন ছিল ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা এখানে বসতে পারতেন কিনা, সেটা সন্দেহ আছে। দেশের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেই সময় সরকারে গিয়েছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুব স্পষ্টভাবে ২৪ সালে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। সেই সময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেব নিজেই কথা বলেছিলেন। এখন তো একটা নির্বাচিত সরকার, মাননীয় স্পিকার। এখন তো চাইলেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপিতে সেই ধরনের যোগ্য, আস্থাভাজন ব্যক্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। এবং সরকার দলের সদস্যরা অনেকে গৌরবের সাথে বলেছেন যে যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করেছেন, সেই রাষ্ট্রপতি এখন জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করছে।
মাননীয় স্পিকার, গাধাকে দিয়ে আপনি হাল চাষ করিয়ে এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। এটা আপনাদের দেউলিয়া সরকারের দেউলিয়াত্ব, যে সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারছে না।
মাননীয় স্পিকার,
এই অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ, ৭২ সংবিধান নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এবং একটা বিষয় আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। কিছু কিছু মাননীয় সংসদ সদস্য ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর সাথে মিলিয়েছেন। আমার জানা নেই তারা কোন বিবেচনা থেকে এটি মিলিয়েছেন। এটা তো সবসময় আওয়ামী লীগ মিলিয়েছে। তারা ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর ফসল হিসেবে, ৭১-এর চেতনার সাথে মিলিয়েছে। ৭২-এর মূলনীতিকে ৭১-এর মূলনীতি বলে প্রচার করেছে। আমরা তো সেটার বিরোধিতা করেছি সবসময়। বিএনপির বহু নেতাও এটার বিরোধিতা করেছে। ৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। গত ১৬ বছর এই সমালোচনা আরো তৈরি হয়েছে। ৭২ সংবিধানের সমালোচনা মোটাদাগে তিনটি।
প্রথমত, এই সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রণয়ন করে নাই। যারা ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফও-এর অধীনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই এই সংবিধান রচনা করেছিল।
দ্বিতীয়ত, এই ৭২ সংবিধান ইনহেরেন্টলি একটা আনডেমোক্রেটিক কনস্টিটিউশন। একজন ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও নানা কায়দায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বৈরতন্ত্রের বীজ কিন্তু সেই ৭২-এর সংবিধান থেকেই শুরু হয়েছিল। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শ দ্বারা রচিত হয়েছিল।
৭১-এর আদর্শ কিন্তু চার নীতি ছিল না। ৭১-এর আদর্শ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭২-এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি তার ফান্ডামেন্টাল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন। শুধু জামায়াতে ইসলামী ৭২-এর বিরোধিতা করেছে বলে কি বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পজিশনে চলে গেছে? ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মোজাফফর আহমেদ, শত শত মুক্তিযোদ্ধা। ফলে এই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি। আমরা একটা গণপরিষদ দিয়ে নতুন সংবিধান করতে পারি নাই। এবং সেই অপরচুনিটি আমরা ২০২৪ সালেও মিস করেছি।
৫ই আগস্টের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ফলে ৫ই আগস্টের পর থেকে রাস্তা দুটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা একটা মধ্যপন্থায় আসলাম, যে আমরা সংস্কারে আসি। সেই জায়গা থেকে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলো। এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কথা গণভোটে বলা হলো। এখন বিএনপি সেই জায়গা থেকেও সরে গিয়েছে। এখন বিএনপি যদি সেই জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকে পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমাদেরকেও জানাতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা যেদিন জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছিল, সেদিন সেই অনুষ্ঠানে যাইনি। পরে আমরা সেখানে আমাদের কমেন্ট দিয়ে এসেছিলাম। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত কষ্টের ফসলটাকে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।
যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়, সেদিন সেই সনদের মেজর সংস্কারগুলোর পাশেই একটা নোট লেখা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাহলে যেই দল নির্বাচনে জয়ী হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে। এটার জন্য ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি নির্বাচনে জিতে আপনার ইশতেহারই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার কিসের ঐকমত্য? এবং সেই নোটগুলো কিভাবে লেখানো হয়েছে, কিভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা এখন বলার সময় এসেছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা সেই সময় এক্সেপ্ট করতে পারি নাই। এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষাকে ধার করে আমি বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি এক অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।
৭২-এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, আর জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এরপরে আসলো গণভোট। গণভোটের আদেশ নিয়ে সমালোচনা আছে। আমরাও বলেছি রাষ্ট্রপতি এই ধরনের অর্ডার দিতে পারে কিনা। কিন্তু সবাই মিলে তো এই গণভোটে অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন নিজেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তাহলে নির্বাচনের আগেই এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে তারা এই গণভোট মানে না। ফলে জুলাই গণভোট হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণরায়।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সেই সময় বলেছিলেন, গণরায় হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা। জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ অতি দ্রুত গঠন করা উচিত। আমরা তো অনেকদূর সরে এসেছি। নতুন সংবিধানের জায়গা থেকে সরে আসতে আসতে এখন খুবই সামান্য কিছু দাবি এসেছে। একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আমরা আসমান থেকে নিয়ে আসিনি। গত ১৬ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফাতেও ছিল।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। বলছেন ভালো আইন আনবেন। ভালো আইন যতক্ষণ না আনছেন, ততক্ষণ সমালোচনা সহ্য করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
এই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বলেছি বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। কোথায় পার্থক্য?
কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট—এটা অহেতুক তর্ক। আমরা কেউ বলি নাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রমাইজেবল। কিন্তু বারবার এই তুলনা টেনে এনে মুক্তিযুদ্ধকেও ছোট করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও ছোট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হলো। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর রোল কী ছিল, সেটা এখানে অনেকেই জানেন। তারা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই। বরং দেশে ঢুকে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষগুলোকে হত্যা করেছিল। ফলে মুজিব বাহিনী কোনো মুক্তিযোদ্ধা না।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এখনো এই সমাধান করতে পারিনি কেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদের সমাধান করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া যাবে না।
মাননীয় স্পিকার,
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণে হয়েছিল। বিএনপি অবশ্যই ছিল। আমাদের সাথেই ছিল। তবে একটা জায়গায় ফারাক আছে। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে এই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে নয়, সামনে-পিছনে ছিল। সামনে ছিল সাধারণ জনগণ, ছাত্ররা। ফলে সেই হিসেবেই এই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আমাকে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি—বাংলাদেশের এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা নাই যারা আমাকে ইন্টারোগেশন করেনি, টর্চার করেনি। একটা কথা বারবার বলানোর চেষ্টা করেছিল, “এই আন্দোলন বিএনপি-জামাতের আন্দোলন, আগুন লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।” শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে। কিন্তু কখনো এই কথা বলিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়।
এখন যদি বলা হয় “অমুকের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে”, তাহলে যারা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম।
আমি দুইটা কোটেশন বলতে চাই। ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনের সমাবেশে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন:
“১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন আর ২০২৪-এর আন্দোলন হলো সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিটি ছাত্র-জনতা আজ থেকে নতুন দিনের মুক্তিযোদ্ধা।”
৬ই আগস্ট বঙ্গভবনে আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন:
“ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের নতুন এক সকাল উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”
আমরাও বলি, রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিবেন। আমি আশা করব সরকারি দলের কোটা থেকে আরো ১০ মিনিট পাব।
মাননীয় স্পিকার,
আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন। কিন্তু কোন ভিত্তিতে? ভারত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যে করে নাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনো হচ্ছে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। নতুন করে যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই মাসে ৪০০০ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ৩০ লাখ জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।
এনআরসি-সিএএ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে বিতাড়িত করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এখনো জুলাইয়ের গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও অন্যরা ভারতে আশ্রিত। ফলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ভারতের সাথে কী কথা বলেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা ভারতের সাথে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।
মাননীয় স্পিকার,
দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কিছু সংখ্যা বলছি: ১৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ। এবার নাম বললাম না। পরের সেশনে নাম ধরেই কথা বলব। এগুলো ফ্যাক্ট।
এখন প্রশ্ন, এই ঋণগুলো কবে জনগণ ফেরত পাবে? গত ১৬ বছরের দুর্নীতির বিচার তারা কিভাবে করবে? আরো ভালো হয় যদি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত হয়। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের নাম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক।
মাননীয় স্পিকার,
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বলি। দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। হামলার ঘটনা এসেছে ১৫৪টি। কোনোটিতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ছাত্রদল মারধর করেছে। এখনো মামলা নেয়নি। থানার ভিতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে।
মাজার হামলা নিয়েও কিছু বলতে চাই। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা কোনো ধর্মীয় বিতর্কে যাব না। কিন্তু রুল অব ল’ নিয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গি আছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। কিন্তু অতীতের মতো “ওয়ার অন টেরর”-এর নামে যেন কোনো নাটক না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।
মাননীয় স্পিকার,
আমাদের দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কৃষক। সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে, এজন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও ধান কেনা হচ্ছে। অথচ ডিজেল, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক লোকসানে পড়ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রিফিং দিতে শুনিনি। আমরা আশা করি সরকার নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাবে বিচার কতদূর এগোচ্ছে। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে, আরো বাড়বে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দাবিতে। ফলে আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের সুরাহা হবে। আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে, চাকরিতে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকার এখন বলে দিচ্ছে বিরোধী দল কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে বিরোধিতা করবে। বিরোধী দল সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না।
জনগণ ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটুকু সমর্থন দেবে। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। তার পরের দিন আমার বাবা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন। আমার মা আমাকে নিয়ে থানায়, কোর্টে, কারাগারে ঘুরেছেন। আমি জানি, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের একই অভিজ্ঞতা।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে কাজ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। আমি আমার এলাকা নিয়ে শেষ করব।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী। ঢাকা-১৭-এর প্রতিবেশী ঢাকা-১১। সংসদে সরকার দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেমন বৈষম্য, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১-এর মধ্যেও একই বৈষম্য। আমি আশা করব এই বৈষম্য দূর হবে। ঢাকা-১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম হটস্পট ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্ররা ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল।
আমি হয়তো সমালোচনা করব, ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমার এলাকার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয়। উন্নয়ন হলেই চলবে। আমার ক্রেডিট লাগবে না।
সবশেষে বলতে চাই, এই প্রথম অধিবেশনে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গিয়ে যেমন হলের সিস্টেম দেখে হতাশ হয়েছিলাম, তেমনি এই সংসদেও হতাশ হয়েছি। সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে বাতিল করেছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে—এগুলো হতাশাজনক।
তবে আমি আশা করি, এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে। আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ। এই হাউজের সকলকে ধন্যবাদ।
বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের বিশেষ অনুমতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন যে, দুর্নীতির মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর, স্পিকারের নির্ধারিত অনুমতি নিয়ে ফ্লোর পেয়ে নিজের বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেনজীর আহমেদের মতো হাই-প্রোফাইল আসামিকে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
/আশিক
আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় আজ রোববার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচিত এই মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে তার আদালতে হাজিরার মধ্য দিয়ে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর এবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করবেন তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারক।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুফতি আমির হামজা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করবেন। এরপর মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সদস্য আমির হামজা রোববার দুপুরে আদালতে হাজির হবেন। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলা দায়েরের দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে একাধিকবার হাজিরার সুযোগ দেওয়া হলেও আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটি আরও গুরুত্ব পায়। গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দেয়।
আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের সমন ও পরবর্তী নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার ফলে এখন তার আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের ওপরই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।
-রফিক
সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
বর্তমান সরকার যদি পুনরায় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বাজেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিরোধী দলগুলো বাজেটের সমালোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ও মন খারাপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই বাজেটের প্রশংসা করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, অর্থ লুটপাট এবং ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বা কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়নি।
এই বাজেটের ঠিক কত অংশ সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ও উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, আর কত অংশ সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থে চলে যাবে, তার কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব নেই। এটি মূলত একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত বাজেট, যা কার্যকর করতে সরকারকে বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। দেশে সামগ্রিক সুশাসন, কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে এই ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট কখনোই বন্ধ করা যাবে না।
আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন করে ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতে এস আলমের গাড়িতে চড়ে কারা সংবর্ধনা গ্রহণ করেছিলেন এবং বর্তমানে কারা তাকে পেছন থেকে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছেন, সেই তথ্য বাংলাদেশের সচেতন জনগণের অজানা নয়। দেশের মানুষ ব্যাংকিং খাতের এই নগ্ন দখলদারি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে পূর্ববর্তী গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করতে হবে।
অতি সম্প্রতি চট্টগ্রামে একজন জাতীয় স্তরের ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষের ওপর আবারও এই ধরণের রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্যাতন শুরু হয়েছে। সরকার যদি এই ধারা অব্যাহত রেখে স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে জনগণ রাজপথে নেমে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে আবারও এক নিরীহ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বুলেটের আঘাত দিয়ে কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, আকাশ এবং মাটি সম্পূর্ণ আলাদা; যার চূড়ান্ত ফয়সালা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমেই হয়ে গেছে।
১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বারবার এটিই প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী শক্তি বা বহিরাগত প্রভাব কখনো টিকে থাকতে পারবে না।
/আশিক
সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক আলটিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না এবং সময় অত্যন্ত সীমিত ও ফুরিয়ে আসছে।
এই সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে সরকারকে যেকোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। সরকার যদি স্বেচ্ছায় এই জনদাবি মেনে না নেয়, তবে দেশে ১৯৯৬ সালের মতো ভয়াবহ এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল আনতে বাধ্য হয়েছিল।
এবারও জনমতের প্রচণ্ড চাপে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় জনগণের দাবি মেনে নিন, দেশের মানুষকে অনর্থক রাজপথে ঠেলে দেবেন না। নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম ও ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে আমরা বারবার জেলে যেতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত, কারণ জেলের তালা বা চাবিওয়ালা কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়।
সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনে একজন ‘সর্ব বিষয় বিশারদ’ মন্ত্রী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীর পদটি একটি সম্মানিত রাষ্ট্রীয় পদ এবং তাঁর মুখ দিয়ে বারবার এমন ভুল ও মিথ্যা তথ্য বের হওয়া পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক ও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাজেটের সমালোচনা করাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ উল্লেখ করে তিনি রাগ না করে সরকারকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং দাবি করেন যে, জাতীয় সংসদে বিরোধী মতের জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকায় তাঁরা জনগণের আসল সংসদ অর্থাৎ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন নির্বাচিত সরকার আসার পর মানুষ চাঁদাবাজি বন্ধের আশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে।
তবে জামায়াত আমিরের এই কড়া বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেবলই রাজপথের শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছেন। দেশের মানুষ যখন দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সংস্কার চাইছে, তখন ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলনের ডাক দিয়ে "জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেওয়ার" এই হুমকি সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ কতটা লাঘব করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচিত সরকার আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের যে অভিযোগ উঠছে, তা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ব্যর্থতা হলেও, মাঠপর্যায়ে বিরোধী শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে আসছে। ফলে এককভাবে দুর্নীতিকে ‘জাতীয়করণ’ করার দায় সরকারের ওপর চাপালেও, মাঠের বিশৃঙ্খলার দায় কোনো পক্ষই এড়াতে পারে না।
/আশিক
‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ভারত ও বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন মন্তব্যের অর্থ পরিষ্কার না হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি ও নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব নিতে আসা ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়ার’ মতো বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী, সে বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত যেমন একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, বাংলাদেশও তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বক্তব্যটি যদি শুধুমাত্র দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সহযোগিতা বা আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের প্রতীকী অর্থে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যদি এর আক্ষরিক অর্থে অন্য কোনো বার্তা বোঝানো হয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই এ ধরনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা না থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে এবং জনমনে ভুল বার্তা যেতে পারে।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টির সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। জনগণের মধ্যে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ব্যাখ্যা জনসম্মুখে উপস্থাপন করা উচিত।
বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো মন্তব্য জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। সে কারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করা হলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
-রফিক
লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে: আমির হামজা
কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিস্তার নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হামজা।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির হামজা বলেন, লালন সাঁইয়ের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তবে এসব আয়োজনের আড়ালে এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাজার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কী, তা জানতে চান এই সংসদ সদস্য।
জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু লালন মাজার নয়, সরকার সারা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদক নির্মূলে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বিগত সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৮ বছর দেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার সময় ছিল, যখন মাদক সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সমাজকে নেতিবাচক অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তরুণ সমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রেখে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে বের করে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লালন সাঁইয়ের মাজারকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্কের পর এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সচেতন মহলের। বিশেষ করে মাজার এলাকায় সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং মাদক নির্মূলে নজরদারি জোরদারের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন তারা।
/আশিক
ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (সাবেক লিমিটেড) কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়লে দেশের গোটা অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জোরজবরদস্তি ও অস্ত্রের মুখে যাদের কাছ থেকে এই ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মহালুটপাটের প্রধান সহযোগী ও দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের বৈঠকে ৬৮ বিধির এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলোর বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এই বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা। আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ দুপুরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন ড. শফিকুর রহমান। শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিক হয়েছেন তা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই উন্মোচিত, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।
আর সমুদয় যে শেয়ার সে জোর করে কিনেছে, যার মাধ্যমে সে ৮২ শতাংশের ভুয়া মালিক হয়েছিল, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সে শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেনি, সাথে সন্যাশও ভেজেছে। দেশের সব ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকায় সে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিল। বিগত আমলে একটি বিশেষ গোয়েন্দা এজেন্সির কার্যালয়ে নিয়ে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ব্যাংকের সঙ্গে থাকা প্রকৃত দেশি-বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এভাবেই ব্যাংকটিকে ডাকাতি করে দেউলিয়া করেছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার।"
ব্যাংকটিতে অতীতে হওয়া অবৈধ নিয়োগ ও বর্তমান পর্ষদ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে, পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এবং কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যাসিস্ট আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ১০ হাজার কর্মচারীকে এক কাগজে সই করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ তাঁদের সবাইকে নিয়মের মধ্যে এসে পুনরায় পরীক্ষায় বসার জন্য ডেকেছিল।
বলা হয়েছিল, যেহেতু বিনা পরীক্ষায় চাকরি নিয়েছেন, এখন নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে টিকুন। কিন্তু জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সেই কর্মচারীদের একজনও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেনি।" এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক গুরুতর অভিযোগের সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন।
উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি ওনার এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এটি প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে একটি মেডেল (পদক) দেবো। কার ছেলে বা কার নাতি, চুরি-ডাকাতি বা অসততার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এমনকি আমি শফিকুর রহমান নিজে হলেও আমাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।"
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের দেওয়া ‘জামায়াত ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ এমন কাল্পনিক বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৭ সালে ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখল করে সাড়ে ১২ বছর অর্থ লুটপাটের দুঃশাসন চালানো হয়েছিল। অথচ সাড়ে ১২ বছরেও তারা এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারাকাত হতে যাচ্ছি? ব্যাংকের আরডিএস (RDS) প্রকল্প কোনো দল বা ধর্মের নয়; আমি নিজে অতীতে বোর্ডে ছিলাম এবং জানি এখানে সব ধর্মের গরিব মানুষ সমান সুবিধাভোগী।
নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "আমার নিজেরও এই ব্যাংকে মাত্র ১০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার আছে। আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন সাধারণ গ্রাহক ও মালিক হিসেবে আমার মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলছি। এই ব্যাংকে সব দল, মত ও ধর্মের মানুষের কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট আছে। এই ব্যাংক কারো একার সম্পত্তি নয়।" ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছিলেন। আর সেই এস আলম চক্র যে আবারও ব্যাংকে ফিরে আসছে, তার জীবন্ত প্রমাণ হলো এই বর্তমান চেয়ারম্যান।
তিনি যখন অতীতে রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছিলেন। স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার কারণে ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন পর্দার আড়াল থেকে এস আলমের সব ব্যাংক ডাকাতি ও অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। সেই দেশদ্রোহী কাজের পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন চিহ্নিত অসৎ ও বিতর্কিত লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর পুনরায় বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।"
দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান ও চলমান তীব্র তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মানুষের আস্থার একটি সুউচ্চ পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের শতভাগ অনাস্থা তৈরি হবে। আমি সম্প্রতি হজের সফরে গিয়ে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মুখে এই ব্যাংক নিয়ে সরাসরি গভীর উদ্বেগের কথা শুনে এসেছি। দেশের মূল রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র চার দিনে সাধারণ গ্রাহকরা প্যানিকড হয়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে ফেলেছেন।"
সবশেষে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, কোনো পূর্বধারণা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে এই অভিভাবক ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। এখনই দেশের ৫টি দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন, নিজের আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তাহলে আমরা সবাই গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? আমরা কোনো রাজনীতি চাই না, ব্যাংকটি সগৌরবে বাঁচুক—আমরা এটাই চাই।"
/আশিক
আওয়ামী লীগের নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত ও ধোঁয়াশা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ
আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে আইনিভাবে নিষিদ্ধ থাকায় দলটির কোনো প্রার্থীই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের সহযোগী দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে খোদ বর্তমান সরকারের ভেতরেই তীব্র ভিন্নমত ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের এক পক্ষ যেখানে দলটির অংশগ্রহণের সরাসরি বিরোধিতা করছে, সেখানে অন্য একজন উপদেষ্টা আবার শর্তসাপেক্ষে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওকালতি করছেন; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সরকার নিজেই দলটির পুনর্বাসন ও নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে একটি বড় ধরনের ‘ধোঁয়াশা’ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এনসিপির মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি রাজনৈতিক দল যখন রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকে, তখন তারা কোনোভাবেই দেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি বা নৈতিক অধিকার রাখে না।" তিনি এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে অভিযোগ করেন—বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের একটি গোপন অংশ এখনো বর্তমান সরকারের বিভিন্ন স্তরে ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে আছে বলেই নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভেতর এ ধরনের আপসকামিতা ও দ্বিধার সৃষ্টি হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে তাঁদের দল এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে ‘পাঁচ দফা দাবি’ পেশ করা হয়েছে। এই পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—বর্তমানে সরকারি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় ‘প্রশাসক’ পদে নিয়োজিত থাকা কোনো ব্যক্তি একই সংস্থায় মেয়র বা জনপ্রতিনিধি পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, দলের এই যৌক্তিক শর্ত ও নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই অনেকে প্রশাসনের শীর্ষ পদে থেকে আগাম নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সরকারি ক্ষমতা ও লোগো ব্যবহার করছেন।
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে দুই সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসকদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, "তারা সরাসরি লাভজনক সরকারি পদে বহাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়।" নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত করতে তিনি অনতিবিলম্বে এসব প্রশাসককে পদত্যাগ করে তারপর সাধারণ প্রার্থীর মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায় চরম পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি সরকারকে অবিলম্বে পশুর হাটের ইজারা উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী এর সুফল লুটে নিতে না পারে।
/আশিক
৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প ছায়া বাজেট দিল জামায়াত
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারি বাজেট পেশের মাত্র দুই দিন আগে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক দিল প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের বিকল্প হিসেবে মোট ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিশাল ও বিকল্প ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ পেশ করেছে দলটি। প্রস্তাবিত এই ছায়া বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই বিকল্প বাজেট ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ছায়া বাজেট উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোটের আইনি জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই দেশের স্বার্থে সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা (সরকার) নিজেদের স্বার্থে একটির শপথ নিলেন, আরেকটির শপথ নিলেন না। দেশের জনগণের দেওয়া গণভোটের রায়কে তারা সরাসরি অস্বীকার করলেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবে প্রকাশ্যে জনগণকে ধোঁকা দেয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?" তিনি সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের গায়ের জোরে সরকার বিরোধী দলের দাবি অগ্রাহ্য করে মূলত দেশের জনগণকে অপমান করেছে। দেশের ইতিহাসে গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার দলিল কোথাও নেই, কিন্তু এবারই প্রথম সেই নজিরবিহীন বিপত্তি ঘটলো। এর ফলে সমাজের আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এমনকি সাংবাদিকতার সমস্ত জায়গায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অবক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাজেটের লক্ষ্য ও গুণগত মান নিয়ে জামায়াতের আমির স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য এই বাজেট দিচ্ছি না, এই বিকল্প বাজেট দেশের ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য। আমরা যে আর্থিক রূপরেখা জনগণের সামনে পেশ করছি, তা বাস্তবায়ন করার প্রধান শর্ত হলো—প্রশাসনিক সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা। সততা ও স্বচ্ছতা না থাকলে সরকার যে বাজেটই দিক না কেন, তা কস্মিনকালেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।" এ সময় দেশের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অর্থবছর (জুলাই-জুন) পরিবর্তনের এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব এনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা, খরা ও সাইক্লোনে আক্রান্ত থাকে।
আমরা প্রতিবছর লক্ষ্য করি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) একটা বিশাল অংশ বছরের শেষ দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে নামমাত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি মূলত কোনো টেকসই বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে সরকারি টাকার ‘গণ লুটপাট’, যার সুফল দেশের সাধারণ জনগণ কখনো পায় না।" এই লুটপাট বন্ধে তিনি সংসদে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থবছরকে প্রচলিত জুলাই-জুনের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ‘ক্যালেন্ডার ইয়ার’ বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর মেয়াদের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক; তাহলে বর্ষার পানিতে দেশের জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা প্রতিবছর ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন দর?
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- ৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- আজ ১৫ জুন নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন এক নজরে
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু
- গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা
- শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
- ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
- ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ
- বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারে পরীমণির ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস
- পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের
- আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন
- রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় জানালেন মন্ত্রী
- অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের
- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার
- ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
- কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
- দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
- বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
- দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
- ১৪ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফের তেল আবিবে বিক্ষোভ, রাস্তায় ইসরায়েলিরা
- গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
- একদিনে ৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি
- রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার








