সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১১:৩৮:০২
সংসদে নাহিদ ইসলামের জ্বালাময়ী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

এনসিপি প্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে এক আলোচিত ও জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, রাষ্ট্রপতি ইস্যু, ১৯৭২ সালের সংবিধান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, কৃষক সংকট ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন।

পাঠকদের সুবিধার্থে তার পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।

মাননীয় স্পিকার, বক্তব্য ভেবেছিলাম শুরু করব অন্য বিষয় নিয়ে। কিন্তু আজকের অধিবেশনের দিনের আলোচনায় আমাদেরকে আরো বেশি অবাক করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ফলে অর্থ সেক্টরের কিছু কথা, কিছু বক্তব্য দিয়ে আলোচনা শুরু করছি।

আমরা যখনই ব্যাংকিং খাত, অর্থ সেক্টরের আর্থিক খাতের কথা আসে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা বাক্যই বারবার বলেন যে বিএনপির সময়ে এরকম কোনো রেকর্ড নাই, যে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ। তাদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। এবং তিনি এটা অস্বীকার করলেন।

আমি মাননীয় স্পিকার টিআইবির একটা তথ্য আপনাদেরকে দিচ্ছি। বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯.৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। যার বেশিরভাগ হচ্ছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। এদের অধিকাংশই ঋণ খেলাপি ছিলেন নির্বাচনের আগে। কিছু টাকা ঋণ দিয়ে পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।

এবং বর্তমান যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, তার স্পেশালিটি কী? তার স্পেশালিটি হচ্ছে এই ঋণ পুনঃতফসিল করা। এটাতে তিনি এক্সপার্ট। ফলে তাকে বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন দেওয়া হয়েছে, এটা খুব পরিষ্কার মাননীয় স্পিকার। এই যে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ, সেই ঋণগুলো যাতে পুনঃতফসিল করতে পারে, সেই সুযোগ-সুবিধাটা করে দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতির সামনে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এখন সামনের আর্থিক খাতে আরো আরো নিয়োগ তারা কী বিবেচনায় দিবেন, এজন্য আমরা তাদের উপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।

মাননীয় স্পিকার,

রাষ্ট্রপতির উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, যেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এইখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কুকীর্তির কথা মাননীয় স্পিকার হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, মাননীয় স্পিকার। আরেকটি ঘটনা বলি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে এই শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের “জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১” করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাটাকে পাকাপোক্ত করেছিল।

মাননীয় স্পিকার,

এই রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেওয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা, সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। একটা আলোচনা কয়েকবার এসেছে যে রাষ্ট্রপতির অধীনে কেন শপথ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথাই বলা হয়েছে, কারণ আমি এখানে শপথ নিয়েছিলাম। তো মাননীয় স্পিকার, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট কি এক? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে, ৫ই আগস্টের পরে, আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আরেকটা অপশন ছিল ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা এখানে বসতে পারতেন কিনা, সেটা সন্দেহ আছে। দেশের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেই সময় সরকারে গিয়েছিলাম। আমরা শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুব স্পষ্টভাবে ২৪ সালে এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। সেই সময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেব নিজেই কথা বলেছিলেন। এখন তো একটা নির্বাচিত সরকার, মাননীয় স্পিকার। এখন তো চাইলেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপিতে সেই ধরনের যোগ্য, আস্থাভাজন ব্যক্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। এবং সরকার দলের সদস্যরা অনেকে গৌরবের সাথে বলেছেন যে যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করেছেন, সেই রাষ্ট্রপতি এখন জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করছে।

মাননীয় স্পিকার, গাধাকে দিয়ে আপনি হাল চাষ করিয়ে এটার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। এটা আপনাদের দেউলিয়া সরকারের দেউলিয়াত্ব, যে সরকার এখনো রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারছে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ, ৭২ সংবিধান নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এবং একটা বিষয় আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। কিছু কিছু মাননীয় সংসদ সদস্য ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর সাথে মিলিয়েছেন। আমার জানা নেই তারা কোন বিবেচনা থেকে এটি মিলিয়েছেন। এটা তো সবসময় আওয়ামী লীগ মিলিয়েছে। তারা ৭২-এর সংবিধানকে ৭১-এর ফসল হিসেবে, ৭১-এর চেতনার সাথে মিলিয়েছে। ৭২-এর মূলনীতিকে ৭১-এর মূলনীতি বলে প্রচার করেছে। আমরা তো সেটার বিরোধিতা করেছি সবসময়। বিএনপির বহু নেতাও এটার বিরোধিতা করেছে। ৭২-এর সংবিধানের সমালোচনা কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। গত ১৬ বছর এই সমালোচনা আরো তৈরি হয়েছে। ৭২ সংবিধানের সমালোচনা মোটাদাগে তিনটি।

প্রথমত, এই সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রণয়ন করে নাই। যারা ৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফও-এর অধীনে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তারাই এই সংবিধান রচনা করেছিল।

দ্বিতীয়ত, এই ৭২ সংবিধান ইনহেরেন্টলি একটা আনডেমোক্রেটিক কনস্টিটিউশন। একজন ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও নানা কায়দায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্বৈরতন্ত্রের বীজ কিন্তু সেই ৭২-এর সংবিধান থেকেই শুরু হয়েছিল। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শ দ্বারা রচিত হয়েছিল।

৭১-এর আদর্শ কিন্তু চার নীতি ছিল না। ৭১-এর আদর্শ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭২-এর সংবিধানে এসে বলা হলো জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি তার ফান্ডামেন্টাল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন। শুধু জামায়াতে ইসলামী ৭২-এর বিরোধিতা করেছে বলে কি বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের পজিশনে চলে গেছে? ৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছেন বদরুদ্দিন উমর, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মোজাফফর আহমেদ, শত শত মুক্তিযোদ্ধা। ফলে এই ৭২-এর সংবিধান বাতিল করার একটা সুযোগ আমাদের এসেছিল ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমরা সেই সময়ে সেই অপরচুনিটি মিস করেছি। আমরা একটা গণপরিষদ দিয়ে নতুন সংবিধান করতে পারি নাই। এবং সেই অপরচুনিটি আমরা ২০২৪ সালেও মিস করেছি।

৫ই আগস্টের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ফলে ৫ই আগস্টের পর থেকে রাস্তা দুটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরা একটা মধ্যপন্থায় আসলাম, যে আমরা সংস্কারে আসি। সেই জায়গা থেকে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলো। এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কথা গণভোটে বলা হলো। এখন বিএনপি সেই জায়গা থেকেও সরে গিয়েছে। এখন বিএনপি যদি সেই জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকে পূর্বের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমাদেরকেও জানাতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা যেদিন জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছিল, সেদিন সেই অনুষ্ঠানে যাইনি। পরে আমরা সেখানে আমাদের কমেন্ট দিয়ে এসেছিলাম। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এত কষ্টের ফসলটাকে “নোট অব ডিসেন্ট” দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে।

যেদিন জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়, সেদিন সেই সনদের মেজর সংস্কারগুলোর পাশেই একটা নোট লেখা হয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচন ইশতেহারে উল্লেখ করলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাহলে যেই দল নির্বাচনে জয়ী হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সবকিছু করবে। এটার জন্য ঐকমত্যের কোনো প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি নির্বাচনে জিতে আপনার ইশতেহারই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আপনার সাথে আমার কিসের ঐকমত্য? এবং সেই নোটগুলো কিভাবে লেখানো হয়েছে, কিভাবে চাপ প্রয়োগ করে ঐকমত্য কমিশনকে বাধ্য করা হয়েছে, সেটা এখন বলার সময় এসেছে। ফলে জুলাই জাতীয় সনদকে আমরা সেই সময় এক্সেপ্ট করতে পারি নাই। এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষাকে ধার করে আমি বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি এক অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।

৭২-এর সংবিধানকে আওয়ামী লীগ দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, আর জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এরপরে আসলো গণভোট। গণভোটের আদেশ নিয়ে সমালোচনা আছে। আমরাও বলেছি রাষ্ট্রপতি এই ধরনের অর্ডার দিতে পারে কিনা। কিন্তু সবাই মিলে তো এই গণভোটে অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন নিজেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা করেছেন। তাহলে নির্বাচনের আগেই এটা পরিষ্কার করা উচিত ছিল যে তারা এই গণভোট মানে না। ফলে জুলাই গণভোট হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গণরায়।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সেই সময় বলেছিলেন, গণরায় হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতা। জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা মনে করি গণভোট অনুসারে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ অতি দ্রুত গঠন করা উচিত। আমরা তো অনেকদূর সরে এসেছি। নতুন সংবিধানের জায়গা থেকে সরে আসতে আসতে এখন খুবই সামান্য কিছু দাবি এসেছে। একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের অনুপাতে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিগুলো আমরা আসমান থেকে নিয়ে আসিনি। গত ১৬ বছর ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফাতেও ছিল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া অনেক বিচারক এখনো রয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন। বলছেন ভালো আইন আনবেন। ভালো আইন যতক্ষণ না আনছেন, ততক্ষণ সমালোচনা সহ্য করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

এই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় বারবার এসেছে, সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। আমরা বারবার বলেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদার কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বলেছি বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা। কোথায় পার্থক্য?

কোন ঘটনা বড়, কোন ঘটনা ছোট—এটা অহেতুক তর্ক। আমরা কেউ বলি নাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এটার ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রমাইজেবল। কিন্তু বারবার এই তুলনা টেনে এনে মুক্তিযুদ্ধকেও ছোট করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও ছোট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হলো। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর রোল কী ছিল, সেটা এখানে অনেকেই জানেন। তারা পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই। বরং দেশে ঢুকে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষগুলোকে হত্যা করেছিল। ফলে মুজিব বাহিনী কোনো মুক্তিযোদ্ধা না।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি গত ৫০ বছর ধরে হয়েছে। আমরা এখনো এই সমাধান করতে পারিনি কেন? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ বলে ভাগ থাকবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। ইতিহাসের এই বিতর্ক আমাদের সমাধান করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া যাবে না।

মাননীয় স্পিকার,

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকলের অংশগ্রহণে হয়েছিল। বিএনপি অবশ্যই ছিল। আমাদের সাথেই ছিল। তবে একটা জায়গায় ফারাক আছে। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে এই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য রয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে নয়, সামনে-পিছনে ছিল। সামনে ছিল সাধারণ জনগণ, ছাত্ররা। ফলে সেই হিসেবেই এই গণঅভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আমাকে ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি—বাংলাদেশের এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা নাই যারা আমাকে ইন্টারোগেশন করেনি, টর্চার করেনি। একটা কথা বারবার বলানোর চেষ্টা করেছিল, “এই আন্দোলন বিএনপি-জামাতের আন্দোলন, আগুন লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।” শেষ পর্যন্ত আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে। কিন্তু কখনো এই কথা বলিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আমরা কখনো অস্বীকার করি নাই। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় আন্দোলন নয়।

এখন যদি বলা হয় “অমুকের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে”, তাহলে যারা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমরা একসাথেই করেছিলাম।

আমি দুইটা কোটেশন বলতে চাই। ৭ই আগস্ট নয়াপল্টনের সমাবেশে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন:

“১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন আর ২০২৪-এর আন্দোলন হলো সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিটি ছাত্র-জনতা আজ থেকে নতুন দিনের মুক্তিযোদ্ধা।”

৬ই আগস্ট বঙ্গভবনে আলোচনা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন:

“ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের নতুন এক সকাল উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো। এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”

আমরাও বলি, রক্ত দিয়ে রক্ষা করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাকে একটু সময় বাড়িয়ে দিবেন। আমি আশা করব সরকারি দলের কোটা থেকে আরো ১০ মিনিট পাব।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা ভারত এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এই সরকার আসার পরে একটা জিনিস বারবার আসছে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন। কিন্তু কোন ভিত্তিতে? ভারত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো চেষ্টা নেই যে করে নাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এখনো হচ্ছে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না। নতুন করে যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন মানুষকে বাংলাদেশি বলে সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই মাসে ৪০০০ মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ৩০ লাখ জীবিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

এনআরসি-সিএএ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে বিতাড়িত করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ভারত সমর্থন দিয়েছে। এখনো জুলাইয়ের গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও অন্যরা ভারতে আশ্রিত। ফলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ভারতের সাথে কী কথা বলেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা ভারতের সাথে মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।

মাননীয় স্পিকার,

দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কিছু সংখ্যা বলছি: ১৭০০ কোটি টাকা, ৭৬৫ কোটি টাকা, ৬৭৯ কোটি টাকা, ৬২১ কোটি টাকা, ২০১ কোটি টাকা, ১৮২ কোটি টাকা, ৯৭ কোটি টাকা। এগুলো আমাদের সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ। এবার নাম বললাম না। পরের সেশনে নাম ধরেই কথা বলব। এগুলো ফ্যাক্ট।

এখন প্রশ্ন, এই ঋণগুলো কবে জনগণ ফেরত পাবে? গত ১৬ বছরের দুর্নীতির বিচার তারা কিভাবে করবে? আরো ভালো হয় যদি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত হয়। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের নাম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক।

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বলি। দুই মাসে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৩১ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। চাঁদাবাজির খবর এসেছে ৮৩টি। হামলার ঘটনা এসেছে ১৫৪টি। কোনোটিতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ছাত্রদল মারধর করেছে। এখনো মামলা নেয়নি। থানার ভিতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর হামলা করা হয়েছে।

মাজার হামলা নিয়েও কিছু বলতে চাই। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা কোনো ধর্মীয় বিতর্কে যাব না। কিন্তু রুল অব ল’ নিয়ে কথা বলব। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও সমন্বয় নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন জঙ্গিবাদ নেই। আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলছেন জঙ্গি আছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। কিন্তু অতীতের মতো “ওয়ার অন টেরর”-এর নামে যেন কোনো নাটক না হয়, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমাদের দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কৃষক। সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে, এজন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও ধান কেনা হচ্ছে। অথচ ডিজেল, সার, বীজ, শ্রমিক মজুরি—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষক লোকসানে পড়ছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রীকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্রিফিং দিতে শুনিনি। আমরা আশা করি সরকার নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাবে বিচার কতদূর এগোচ্ছে। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে, আরো বাড়বে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দাবিতে। ফলে আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের সুরাহা হবে। আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে, চাকরিতে স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে। সরকার এখন বলে দিচ্ছে বিরোধী দল কিভাবে কথা বলবে, কিভাবে বিরোধিতা করবে। বিরোধী দল সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না।

জনগণ ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটুকু সমর্থন দেবে। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। তার পরের দিন আমার বাবা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হন। আমার মা আমাকে নিয়ে থানায়, কোর্টে, কারাগারে ঘুরেছেন। আমি জানি, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের একই অভিজ্ঞতা।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে কাজ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। আমি আমার এলাকা নিয়ে শেষ করব।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী। ঢাকা-১৭-এর প্রতিবেশী ঢাকা-১১। সংসদে সরকার দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যেমন বৈষম্য, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১-এর মধ্যেও একই বৈষম্য। আমি আশা করব এই বৈষম্য দূর হবে। ঢাকা-১১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম হটস্পট ছিল। রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এলাকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্ররা ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করেছিল।

আমি হয়তো সমালোচনা করব, ভুলও হতে পারে। কিন্তু আমার এলাকার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য না হয়। উন্নয়ন হলেই চলবে। আমার ক্রেডিট লাগবে না।

সবশেষে বলতে চাই, এই প্রথম অধিবেশনে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গিয়ে যেমন হলের সিস্টেম দেখে হতাশ হয়েছিলাম, তেমনি এই সংসদেও হতাশ হয়েছি। সরকারি দলের সদস্যরা যেভাবে স্তুতি করেছে, যেভাবে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদকে বাতিল করেছে, যেভাবে গণভোটকে অস্বীকার করেছে—এগুলো হতাশাজনক।

তবে আমি আশা করি, এই হতাশা দ্রুতই শেষ হবে। আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।

মাননীয় স্পিকার আপনাকে ধন্যবাদ। এই হাউজের সকলকে ধন্যবাদ।


সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৫০:২৫
সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ব্যাহত করতেই বারবার এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এনসিপি কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে তিনি আর কোনো দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য করেন।

হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

/আশিক


দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৪৭:০৭
দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্ত বায়নের বদলে বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে নির্লজ্জ দলীয়করণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও ব্যাংক-বীমাসহ সর্বত্র এখন একই চিত্র, যা নতুন এক ধরণের বৈষম্য ও কোটা ব্যবস্থার জন্ম দিচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। আন্দোলন সফল হওয়ার পর জামায়াত কখনোই এর একক কৃতিত্ব দাবি করেনি, এমনকি ক্ষমতা বা নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো না করে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া অধিকাংশ মানুষই ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক নাগরিক। তাঁরা কেবল বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিলেন।

সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান আহ্বান জানান, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সঠিক পথে ফিরে আসার। একই সাথে জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো মূল্যে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:৩৯:০৬
আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারজিসের গাড়িতে হামলা হয়েছে এবং গাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে আমাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তারা একটা অজুহাত দিচ্ছে যে আমি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। বেশ, আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, একদম চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি তারা কতটুকু বাড়ে এবং কত দূর যেতে পারে—আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।"

পূর্ববর্তী দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, "হবিগঞ্জের হামলার ঘটনায় আমরা আইনি পদক্ষেপ হিসেবে লিখিত মামলা করেছি। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কারা এই বর্বরতা চালিয়েছে, কাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে আর কাদের চোখ নষ্ট করা হয়েছে। আমরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না।"

আহত এনসিপি কর্মীদের শারীরিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, "মারাত্মক আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী—সে এখন অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আপনারা কি পারবেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংসতার রাজনীতি চাই না। আমরা শান্তি চাই, আমাদের কর্মীদের চোখ ফেরত দিন। রাজনীতি কীভাবে করতে হয় করুন, আমরা আর কিছু বলব না।"

/আশিক


বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৪৭:৫৯
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবশেষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ হস্তান্ত করে। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগটি গ্রহণের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ দায়েরের সময় প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার আলম।

এর আগে বুধবার দুপুর ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেই হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে সংঘাতপ্রবণ এলাকার দিকে রওনা হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রথম দফায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের গতিপথ রুদ্ধ করে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা ঘটে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় তাঁদের গাড়িবহর।

তবে বহরটি বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন সীমানায় পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে দ্বিতীয় দফায় স্থায়ীভাবে আটকে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের দেনদরবার শেষে পুলিশ তাঁদের অনড় অবস্থানের মুখে নিকটস্থ কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি দেয়। অভিযোগ জমা দিয়ে প্রতিনিধি দলটি ওই এলাকা ত্যাগ করে।

/আশিক


শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:২৮:৪৩
শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলে বাধা পেরিয়ে সামনে এগোলেও এবার হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে পুনরায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাহুবলের প্রবেশপথে তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাধা পেয়ে এনসিপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখে।

এর আগে বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় প্রথম দফায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই ব্যারিকেড উপেক্ষা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জের দিকে রওনা দেন। কিন্তু বাহুবলে এসে তাঁরা আবার অবরুদ্ধ হন।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় স্থানীয় একদল যুব রাজনৈতিক কর্মী। এতে সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জের ধরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলে বুধবারে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির প্রতিনিধি নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করেছেন। তবে ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি দেশবাসীকে জানাতে তাঁরা বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

অন্যদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতিতে শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এনসিপি নেতাদের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে দেওয়া কড়া মন্তব্যের কারণেই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে তিনি সহিংসতা পরিহার করে গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান জানান। বর্তমানে বাহুবল সীমান্ত ও হবিগঞ্জ জুড়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৭:৫৯:১৬
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার বিকেল চারটার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাড়ে চারটার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গাড়িবহরে বাধা দেয়।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ সফরকালে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সভা শেষে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় একদল রাজনৈতিক কর্মী। সোনালী ব্যাংক শাখার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার জের ধরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ড. আতিক মুজাহিদ ও সারোয়ার তুষারসহ শীর্ষ নেতৃত্ব হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাঁরা জনসভা বা বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, মূল ঘটনাটি জাতির সামনে তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গল থেকে প্রেস ব্রিফিং করবেন।

অন্যদিকে, ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপটে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতি ও সমালোচনার একটি ন্যূনতম শিষ্টাচার থাকা দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতারা জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, যা স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি সহিংসতা পরিহার করে শালীনতার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের সহিংসতায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। তবে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

/আশিক


হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় সারজিস ও নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহরে হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫০:৫০
হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় সারজিস ও নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহরে হামলা
গাড়িতে হামলার দৃশ্য (বাঁয়ে) ও আহত সারজিস আলম (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পেশাগত কাজে যুক্ত একাধিক সাংবাদিক, ভিডিওগ্রাফার এবং মিডিয়া টিমের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের ভেতরে ও সামনের সীমানায় এ সহিংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সার্কিট হাউজের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রচারিত বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সংবাদ সংগ্রহে থাকা কর্মীদের কাছে থাকা দামী ক্যামেরা, ড্রোন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায়ে মিডিয়া টিমের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই ঘটনাকে চরম রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানান, পদযাত্রা শেষে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে প্রবেশের মুখে তাদের বহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে গাড়িবহরের একদম সামনে থাকা মিডিয়া টিমের গাড়িটি প্রথম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলায় ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মোজো আরাফাত সানি, ড্রাইভার আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ এবং ভিডিও এডিটর শাহরিয়ার আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাবেশস্থল থেকে সার্কিট হাউসের দুই কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পর ভবনের চত্বরে ঢোকা মাত্রই ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তাদের ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। এই সময় পাশে অবস্থানরত পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে বলে তাঁরা দাবি করেন। হামলায় দুটি পেশাদার ক্যামেরা সেটআপ, একটি ল্যাপটপ, একটি ম্যাকবুক ও একাধিক স্মার্টফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।

/আশিক


ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৯:৪৩:৫২
ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
ছবি : সংগৃহীত

চাকরি-বাকরিতে মেধাকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে এখন আর ইন্টারভিউ বা মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না; বিএনপির একটি পোর্টফোলিও বা ছাত্রদলের কোনো পদ থাকাটাই চাকরির প্রধান যোগ্যতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বিগত শাসন আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে জামায়াত সেক্রেটারি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করে সেখানে ছাত্রলীগ বসানো হয়েছিল। এখন কেবল নাম পরিবর্তন হলেও চরিত্র একই রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আগের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। দলটির স্লোগানে 'সবার আগে বাংলাদেশ' বলা হলেও বাস্তবে সব জায়গায় 'সবার আগে বিএনপি' নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি এই অপরিণামদর্শী পথ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে সামসুল আলমের নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁকে চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিত্ব আখ্যা দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, অবসরের পর তাঁকে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। মূলত নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ ও আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:৩৭:৩৮
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক আলোচনাকে কেবল দল টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের আলোচনার কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই। সোমবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারে সরকারের খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের সার্বিক প্রেক্ষাপট টেনে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে দেশে ফেরা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়াও অত্যন্ত কঠিন হবে। দুই বছর আগের নিজেদের রিমান্ডের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের বর্তমান মানসিকতা, তাদের তাজা রক্ত ও অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করলে জুলাইকে বাদ দিয়ে দেশে রাজনীতি করার কথা চিন্তা করাও অসম্ভব।

খাল খনন কর্মসূচির ওই পরিদর্শনকালে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ, জেলা বিজেপি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার পার্থ ভোলা সদর উপজেলার চরম নদীভাঙন কবলিত শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। আগামী একনেক সভায় ওই এলাকার ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান ও বরাদ্দ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি পরিচালিত খাল খনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: