সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:৩৮:৪৪
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুল ইসলাম।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, ডাঃ শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আলোচিত বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চাঁদাবাজি, পররাষ্ট্রনীতি, বিচারহীনতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া আহলি বাইতিহি আজমাঈন।

মাননীয় স্পিকার,

১২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন। আমি আবারও আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই অধিবেশনের প্রাণসত্তা হিসেবে, এই অধিবেশনের চেয়ার ও স্পিকার হিসেবে আপনি অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের এই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। শুধু দেশের ভেতরে থাকা মানুষ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশিও আজ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এটিকে তাদের প্রত্যাশার একটি ঠিকানা হিসেবে দেখতে চায়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই অধিবেশনে আমরা সবাই বিপুল প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই ধৈর্য ও আগ্রহের সঙ্গে এই অধিবেশনকে সফল করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সবাই সবার মত প্রকাশের ন্যূনতম সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য আমি মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি।

মাননীয় স্পিকার,

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সম্মানিত কৃষক পিতাকে। তিনি ছিলেন গ্রামের একেবারেই সাধারণ একজন কৃষক। আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি। আমি এমন একটি পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছি, যেখানে মানুষের অভুক্ত থাকার সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি, চৈত্র মাস আর কার্তিক মাস এলে মানুষের মধ্যে কী ভয়াবহ হাহাকার নেমে আসত। তখন মানুষ অগ্রিম তাদের শ্রম বিক্রি করে দিত। ধান কাটার মৌসুমে একজন মানুষ যদি ১২ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন, তাহলে পেটের ক্ষুধার কারণে তিনি পাঁচ টাকায়ও অগ্রিম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হতেন।

আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছে। তবে এটাও সত্য, যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তারা যদি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে ৫৪ বছরের এই দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। ক্ষমতায় গেলে অনেকেই ফেরেশতার মতো আচরণ করেন। অন্যের দোষ, অন্যের দুর্নীতি খুব সহজে দেখতে পান, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখতে পান না।একজন মেহমানের গল্প মনে পড়ে গেল। তিনি খেতে বসেছেন কিন্তু হাত দিচ্ছেন না। গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “খাচ্ছেন না কেন?” তিনি বললেন, “কী দিয়ে খাব? শুধু ভাত দিয়েছেন।” গৃহকর্তা বললেন, “আপনি তো একটু আগে বললেন, ‘এই ধুর!’ কাকে বললেন?” তিনি বললেন, “ওইদিকে একটা পবিত্র ঘরে কুকুর ঢুকছিল, আমি এখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম।” তখন বলা হলো, “বাহ! আপনি চার হাজার মাইল দূরের কুকুর দেখতে পেলেন, কিন্তু ভাতের নিচের তরকারি দেখতে পেলেন না!” আমাদের অবস্থাও অনেক সময় এমন হয়। আমরা অনেক দূরের সমস্যা দেখি, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখি না। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। কিন্তু মানুষ তখনই মহৎ হয়, যখন সে নিজের ভুল খুঁজে বেড়ায়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাঝে মাঝে কনফিউশনে পড়ে যাই। আমি কি সত্যিই মহান জাতীয় সংসদে বসে আছি, নাকি স্বপ্ন দেখছি? ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অধিবেশনের অধিকাংশ সময়জুড়ে ইতিহাস চর্চা হয়েছে। ইতিহাস চর্চা খারাপ কিছু নয়। চলতে হলে অতীত জানতে হয়, অতীতকে ধারণ করতে হয় এবং অতীতের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হয়। কিন্তু মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে শুধু ইতিহাস বলার জন্য নয়।

আমরা যখন নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে কৃষক, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। একটি শিশু যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রশ্ন করেছে, “আমি কি নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব? নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারব? আমি কি আমার মেধা বিকাশের সুযোগ পাব?”একজন শ্রমিক বলেছেন, “আমি আমার শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাই না। মর্যাদা তো স্বপ্নের বিষয়।”ছাত্ররা প্রশ্ন করেছে, “আমরা কি অস্ত্রের ঝনঝনানি মুক্ত একটি পবিত্র শিক্ষাঙ্গন পাব, যেখানে শিক্ষক হবেন পিতার মতো, সহপাঠীরা ভাই-বোনের মতো?”চা শ্রমিকরা বলেছেন, “আমরা কি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পাব?”জেলেরা বলেছেন, “জল, জাল যার, জলা তার’ শুধু স্লোগান হয়েই রয়ে গেছে।”কৃষকরা বলেছেন, “ফসল ফলিয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারি না। সার, বীজ, কীটনাশকের দাম আকাশচুম্বী। মাঠে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পণ্য রাজধানীতে গিয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।”

মাননীয় স্পিকার,

তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। ওই অঞ্চলের মানুষ যেন জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট। প্রতিবছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত। তারা এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, সুযোগ পেলে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদালটি আমরাই চালাব। আমি আজও সেই কথায় অটল আছি। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করব না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত সরকারের পাশে থাকবে, যদি সরকার সাহসী পদক্ষেপ নেয়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, সেখানে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজট নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ১০০ ফুট রাস্তা বাস্তবায়ন জরুরি। উত্তর কাফরুলের সরু রাস্তা প্রশস্ত করা প্রয়োজন। বহু রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ইব্রাহিমপুর ও উত্তর কাফরলের রাস্তাগুলোর মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত এগুলো সরানো দরকার। মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বেগুনবাড়ি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খালের গভীরতা বৃদ্ধি জরুরি। মণিপুর-শেওড়াপাড়ার পুরনো সরু স্যুয়ারেজ পাইপ পরিবর্তন করতে হবে। পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ শুধু বলছে, “আমাদের বাঁচার জন্য এক ফোঁটা পানি দিন।”

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। সে যদি আমার দলেরও হয়, তার হাতেও হ্যান্ডকাফ পড়তে হবে। এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নিই, যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজদের নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ। আমরা আর দেখতে চাই না, কোনো শিক্ষার্থী দা কিংবা গুলির আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাসমুক্ত হোক। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। হাজার শয্যার হাসপাতালে ৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। এটি চলতে পারে না।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান রেখেই বলছি, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; মেধা ও কমিটমেন্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। আমরা একটি মেরিটোক্রেটিক রাষ্ট্র দেখতে চাই। জ্বালানি সংকট দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। তবে আমরা স্বীকার করি, এটি শুধু সরকারের তৈরি সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে যখন দেখেছে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও আমরা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান চাই। আমরা সবসময় বলে এসেছি, “সবার আগে বাংলাদেশ।” আমাদের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনো প্রভুর প্রয়োজন নেই।

মাননীয় স্পিকার,

ফ্যাসিস্ট আমলে যত খুন, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। জাতি এখন বিচারের অঙ্গনে একটি সবুজ পতাকা দেখতে চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। “লেট আস এগ্রি টু ডিসএগ্রি।” আমি আমার মত দেব, আপনি আপনার মত দেবেন। আমরা একে অপরকে সম্মান করব।আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কাজে সহযোগিতা করব, ভুল দেখলে প্রতিবাদ করব।

মাননীয় স্পিকার,

ইতিহাসকে মনে রাখা ভালো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো। কিন্তু ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারব না। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভালো কিছু বলে থাকলে আল্লাহ যেন আগে আমাকে তা আমল করার তৌফিক দেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে যারা অশ্লীল আচরণ করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমারও দুইটি মেয়ে সন্তান আছে। তাঁর মেয়ের অসম্মান মানে আমাদের মেয়েদের অসম্মান। এই নোংরা ধারা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই।

সবশেষে, এই অধিবেশন সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়ার কর্মী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তাদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের ইনসেনটিভ দেওয়া হোক।

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করেছে এই সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৩ ১৯:৪৩:৫৬
ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করেছে এই সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের ‘স্মার্ট কার্ড’ প্রকল্পকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন প্রকল্পগুলোকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, কৃষকের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে সরকারকেও ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ডের নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। এখন নতুন প্রকল্প এসেছে—খাল কাটার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড। আমরাও কার্ড এনেছি, লাল কার্ড। এগুলো বিফলে গেলে আমরা লাল কার্ড দেখাবো।’ তিনি অভিযোগ করেন, বাজেটে কেবল কার্ড হাতে ধরিয়ে দিলেই হবে না, কৃষক প্রকৃতপক্ষে কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত এবং অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের সংকটের কথা উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘ধান মার্কা ক্ষমতায় থাকলেও আসল ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।’ তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ দাবি করেন, যেখানে কৃষকের বাস্তুভিটা থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি গুদামঘর চালুর জোরালো দাবি জানান।

নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এই সরকার ভারতের কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বা পানি বন্টন নিয়ে এত বড় বড় ইস্যু থাকার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শক্ত প্রতিবাদ বা অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।

/আশিক


সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর  

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ২১:৫২:৫৯
সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর  
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে সীমান্ত হত্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এক আবেগঘন ও কড়া বক্তব্যে তিনি সরকারের সীমান্ত নীতি এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শেখ হাসিনার নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশি নাকি ইন্ডিয়ান? যদি বাংলাদেশি হন, তবে তাকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা হোক।” পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে যে দ্বিচারিতা চলছে, তার স্পষ্ট জবাব জনগণের কাছে থাকা প্রয়োজন।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানান এই এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, “আমরা সরকার গঠন করলে সীমান্তবর্তী এলাকায় খন্দকের যুদ্ধের মতো বড় বড় খাল খনন করবো।” তার মতে, এর ফলে মাদক পাচার স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। একইসাথে দেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার অবাধ প্রবেশের জন্য স্বরাষ্ট্র বিভাগের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে এবং সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে ‘লংমার্চ’ করার হুঁশিয়ারি দেন নাসীরুদ্দীন। কসবা আসার পথে তাকে বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক, আমি কোথায় যাব তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।”

/আশিক


কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ২১:৪০:৪৯
কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে হত্যাকাণ্ড এবং ভারতের নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়।"

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, একপাশে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা হবে আর অন্যপাশে বন্ধুত্বের দোহাই দেওয়া হবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন ভারতের জনগণই এই কাঁটাতারের বিভেদ উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করবে।

সীমান্ত রক্ষার বিষয়ে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষা করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। সরকার যদি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের জনগণই নিজ হাতে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তুলে নেবে। একই সাথে ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি। তিনি সরকারকে এই জাতীয় ইস্যুগুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় ‘শাপলা গণহত্যা’ প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সঠিক বিচার না হওয়ায় দেশে পরবর্তী সময়েও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে অংশগ্রহণকারীদের ‘সন্ত্রাসী বা জঙ্গি’ হিসেবে তকমা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে সেসব ঘটনার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার।

/আশিক


অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা শিখতে হবে পুলিশকে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১১ ১৮:১৯:৪১
অন্যায় আদেশে ‘না’ বলা শিখতে হবে পুলিশকে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে নামমাত্র সরকারি বরাদ্দ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুন বা ডাকাতির মতো গুরুতর মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, হাজার হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা! একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের পকেট থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই চরম আর্থিক টানাপোড়েনই পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার সংস্কৃতির জন্ম দেয়।

পুলিশ সদস্যদের অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করলেও তাদের কোনো ওভারটাইম বা সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা নেই। সংসদে এই নিয়ে কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের অধিকার বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।

জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশকে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের আইনবহির্ভূত নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস অর্জনের আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। বেআইনি আদেশ না মানায় কোনো সদস্য যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ওপরও জোর দেন তিনি। পরিশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন—সরকার স্বাধীনতা দিতে চাইলেও পুলিশ বাহিনী কি মানসিকভাবে তা নিতে প্রস্তুত?

/আশিক


আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৮:১৩:০০
আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রোববার (১০ মে) রাতেই একটি ফ্লাইটে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিস ফোরাম ২০২৬’-এ তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।

সফরকালে আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেশনে অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল আয়োজনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় প্রবাসীদের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসী সমাজের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ ছাড়া এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সভা, প্রতিনিধি বৈঠক ও বিশেষ কমিউনিটি কার্যক্রমেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফর ও গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ১৯ মে রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৮:১৩:০১
ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রকে টার্গেট করে যেন কারও ক্ষতি করা না হয়, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আহ্বান জানাবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৯ মে) আট দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের বিরোধী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় নিরীহ মানবগোষ্ঠীর ওপর জুলুম করা হলে আমরা তার বিপক্ষে থাকবো। আমরা সব সময় মজলুমের পক্ষেই আছি এবং থাকবো।” ভারত প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে যেন কোনো অশুভ তৎপরতা না চালানো হয়, সেই বার্তা ভারত সরকারকে দেওয়া হবে।

জাপান সফর সম্পর্কে জামায়াতের আমির জানান, এই সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগর অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় আবেগ ও লাশের রাজনীতি দিয়ে ফায়দা লুটছে এনসিপি: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৩:০৬:৩১
ধর্মীয় আবেগ ও লাশের রাজনীতি দিয়ে ফায়দা লুটছে এনসিপি: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং শহীদদের স্মৃতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। শনিবার (৯ মে) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এনসিপি এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। রাশেদ খানের দাবি, এনসিপি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ওসমান হাদির আদর্শকে ধারণ না করে বরং তাকে রাজনৈতিক 'ট্রাম্প কার্ড' হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদি জীবিত থাকাকালীন এনসিপির তীব্র সমালোচক ছিলেন। হাদির বরাতে তিনি তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরেন: এনসিপি কর্তৃক জুলাই বিপ্লবকে কুক্ষিগত করা, নেতাদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য বিনষ্ট করা। বিএনপির এই নেতার দাবি, জীবিত অবস্থায় যাকে এনসিপি নেতারা এড়িয়ে চলতেন, আজ তাকেই নির্বাচনের আগে 'আধ্যাত্মিক নেতা' হিসেবে উপস্থাপন করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, পিআর টিম ও নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদে গিয়ে জনসমাগম দেখিয়ে জননন্দিত হওয়ার কৃত্রিম চেষ্টা করছেন এনসিপি নেতা, যা সাধারণ মুসল্লিদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শহীদদের নিয়ে এমন অতিমাত্রার রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

/আশিক


‘আওয়ামী লীগ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত-সারজিস’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৩:৩০:০১
‘আওয়ামী লীগ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত-সারজিস’
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম মূলত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

টক শোতে রাশেদ খান বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম কোটা সংস্কার আন্দোলনের সফলতা চাইলেও সেটি যেন পূর্ণমাত্রার গণঅভ্যুত্থানে রূপ না নেয়, সেই অবস্থানেই ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই আন্দোলনের উত্তপ্ত সময়ে তাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়ার ঘটনাই সেই অবস্থানের বড় প্রমাণ।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে থাকা দুর্বলতা আড়াল করার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। রাশেদ খানের ভাষায়, আন্দোলনের ভেতরে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল, পরবর্তীতে কঠোর অবস্থান নিয়ে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে আসিফ মাহমুদের লেখা বইতেও বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বইয়ে বলা হয়েছে যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে বঙ্গভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তাদের গাড়ি থেকে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, যদি তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এসে অবস্থান না নিতেন, তাহলে তাদের ‘জাতীয় বেইমান’ আখ্যা দেওয়া হতো। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে আনা রাজনৈতিকভাবে সবসময় সমীচীন নয়।

এনসিপির ভেতরেও হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। যদিও বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত কারণে সেসব আলোচনা প্রকাশ্যে খুব একটা আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

-রফিক


পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:৪৮:১৬
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও সেখানে কয়েক লাখ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া এবং তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার বিষয়টি উদ্বেগজনক। নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেখানে মুসলিম, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্যাতনের খবর আসছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশকেই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশবিরোধী শক্তির উসকানি ও সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের ভেতরে সব ধরনের দ্বন্দ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে এখনকার প্রধান জাতীয় দায়িত্ব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: