সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:৩৮:৪৪
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুল ইসলাম।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, ডাঃ শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আলোচিত বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চাঁদাবাজি, পররাষ্ট্রনীতি, বিচারহীনতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া আহলি বাইতিহি আজমাঈন।

মাননীয় স্পিকার,

১২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন। আমি আবারও আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই অধিবেশনের প্রাণসত্তা হিসেবে, এই অধিবেশনের চেয়ার ও স্পিকার হিসেবে আপনি অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের এই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। শুধু দেশের ভেতরে থাকা মানুষ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশিও আজ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এটিকে তাদের প্রত্যাশার একটি ঠিকানা হিসেবে দেখতে চায়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই অধিবেশনে আমরা সবাই বিপুল প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই ধৈর্য ও আগ্রহের সঙ্গে এই অধিবেশনকে সফল করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সবাই সবার মত প্রকাশের ন্যূনতম সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য আমি মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি।

মাননীয় স্পিকার,

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সম্মানিত কৃষক পিতাকে। তিনি ছিলেন গ্রামের একেবারেই সাধারণ একজন কৃষক। আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি। আমি এমন একটি পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছি, যেখানে মানুষের অভুক্ত থাকার সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি, চৈত্র মাস আর কার্তিক মাস এলে মানুষের মধ্যে কী ভয়াবহ হাহাকার নেমে আসত। তখন মানুষ অগ্রিম তাদের শ্রম বিক্রি করে দিত। ধান কাটার মৌসুমে একজন মানুষ যদি ১২ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন, তাহলে পেটের ক্ষুধার কারণে তিনি পাঁচ টাকায়ও অগ্রিম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হতেন।

আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছে। তবে এটাও সত্য, যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তারা যদি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে ৫৪ বছরের এই দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। ক্ষমতায় গেলে অনেকেই ফেরেশতার মতো আচরণ করেন। অন্যের দোষ, অন্যের দুর্নীতি খুব সহজে দেখতে পান, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখতে পান না।একজন মেহমানের গল্প মনে পড়ে গেল। তিনি খেতে বসেছেন কিন্তু হাত দিচ্ছেন না। গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “খাচ্ছেন না কেন?” তিনি বললেন, “কী দিয়ে খাব? শুধু ভাত দিয়েছেন।” গৃহকর্তা বললেন, “আপনি তো একটু আগে বললেন, ‘এই ধুর!’ কাকে বললেন?” তিনি বললেন, “ওইদিকে একটা পবিত্র ঘরে কুকুর ঢুকছিল, আমি এখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম।” তখন বলা হলো, “বাহ! আপনি চার হাজার মাইল দূরের কুকুর দেখতে পেলেন, কিন্তু ভাতের নিচের তরকারি দেখতে পেলেন না!” আমাদের অবস্থাও অনেক সময় এমন হয়। আমরা অনেক দূরের সমস্যা দেখি, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখি না। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। কিন্তু মানুষ তখনই মহৎ হয়, যখন সে নিজের ভুল খুঁজে বেড়ায়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাঝে মাঝে কনফিউশনে পড়ে যাই। আমি কি সত্যিই মহান জাতীয় সংসদে বসে আছি, নাকি স্বপ্ন দেখছি? ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অধিবেশনের অধিকাংশ সময়জুড়ে ইতিহাস চর্চা হয়েছে। ইতিহাস চর্চা খারাপ কিছু নয়। চলতে হলে অতীত জানতে হয়, অতীতকে ধারণ করতে হয় এবং অতীতের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হয়। কিন্তু মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে শুধু ইতিহাস বলার জন্য নয়।

আমরা যখন নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে কৃষক, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। একটি শিশু যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রশ্ন করেছে, “আমি কি নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব? নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারব? আমি কি আমার মেধা বিকাশের সুযোগ পাব?”একজন শ্রমিক বলেছেন, “আমি আমার শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাই না। মর্যাদা তো স্বপ্নের বিষয়।”ছাত্ররা প্রশ্ন করেছে, “আমরা কি অস্ত্রের ঝনঝনানি মুক্ত একটি পবিত্র শিক্ষাঙ্গন পাব, যেখানে শিক্ষক হবেন পিতার মতো, সহপাঠীরা ভাই-বোনের মতো?”চা শ্রমিকরা বলেছেন, “আমরা কি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পাব?”জেলেরা বলেছেন, “জল, জাল যার, জলা তার’ শুধু স্লোগান হয়েই রয়ে গেছে।”কৃষকরা বলেছেন, “ফসল ফলিয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারি না। সার, বীজ, কীটনাশকের দাম আকাশচুম্বী। মাঠে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পণ্য রাজধানীতে গিয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।”

মাননীয় স্পিকার,

তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। ওই অঞ্চলের মানুষ যেন জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট। প্রতিবছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত। তারা এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, সুযোগ পেলে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদালটি আমরাই চালাব। আমি আজও সেই কথায় অটল আছি। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করব না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত সরকারের পাশে থাকবে, যদি সরকার সাহসী পদক্ষেপ নেয়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, সেখানে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজট নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ১০০ ফুট রাস্তা বাস্তবায়ন জরুরি। উত্তর কাফরুলের সরু রাস্তা প্রশস্ত করা প্রয়োজন। বহু রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ইব্রাহিমপুর ও উত্তর কাফরলের রাস্তাগুলোর মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত এগুলো সরানো দরকার। মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বেগুনবাড়ি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খালের গভীরতা বৃদ্ধি জরুরি। মণিপুর-শেওড়াপাড়ার পুরনো সরু স্যুয়ারেজ পাইপ পরিবর্তন করতে হবে। পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ শুধু বলছে, “আমাদের বাঁচার জন্য এক ফোঁটা পানি দিন।”

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। সে যদি আমার দলেরও হয়, তার হাতেও হ্যান্ডকাফ পড়তে হবে। এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নিই, যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজদের নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ। আমরা আর দেখতে চাই না, কোনো শিক্ষার্থী দা কিংবা গুলির আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাসমুক্ত হোক। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। হাজার শয্যার হাসপাতালে ৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। এটি চলতে পারে না।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান রেখেই বলছি, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; মেধা ও কমিটমেন্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। আমরা একটি মেরিটোক্রেটিক রাষ্ট্র দেখতে চাই। জ্বালানি সংকট দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। তবে আমরা স্বীকার করি, এটি শুধু সরকারের তৈরি সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে যখন দেখেছে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও আমরা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান চাই। আমরা সবসময় বলে এসেছি, “সবার আগে বাংলাদেশ।” আমাদের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনো প্রভুর প্রয়োজন নেই।

মাননীয় স্পিকার,

ফ্যাসিস্ট আমলে যত খুন, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। জাতি এখন বিচারের অঙ্গনে একটি সবুজ পতাকা দেখতে চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। “লেট আস এগ্রি টু ডিসএগ্রি।” আমি আমার মত দেব, আপনি আপনার মত দেবেন। আমরা একে অপরকে সম্মান করব।আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কাজে সহযোগিতা করব, ভুল দেখলে প্রতিবাদ করব।

মাননীয় স্পিকার,

ইতিহাসকে মনে রাখা ভালো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো। কিন্তু ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারব না। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভালো কিছু বলে থাকলে আল্লাহ যেন আগে আমাকে তা আমল করার তৌফিক দেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে যারা অশ্লীল আচরণ করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমারও দুইটি মেয়ে সন্তান আছে। তাঁর মেয়ের অসম্মান মানে আমাদের মেয়েদের অসম্মান। এই নোংরা ধারা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই।

সবশেষে, এই অধিবেশন সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়ার কর্মী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তাদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের ইনসেনটিভ দেওয়া হোক।

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৫০:২৫
সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ব্যাহত করতেই বারবার এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এনসিপি কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে তিনি আর কোনো দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য করেন।

হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

/আশিক


দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৪৭:০৭
দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্ত বায়নের বদলে বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে নির্লজ্জ দলীয়করণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও ব্যাংক-বীমাসহ সর্বত্র এখন একই চিত্র, যা নতুন এক ধরণের বৈষম্য ও কোটা ব্যবস্থার জন্ম দিচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। আন্দোলন সফল হওয়ার পর জামায়াত কখনোই এর একক কৃতিত্ব দাবি করেনি, এমনকি ক্ষমতা বা নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো না করে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া অধিকাংশ মানুষই ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক নাগরিক। তাঁরা কেবল বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিলেন।

সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান আহ্বান জানান, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সঠিক পথে ফিরে আসার। একই সাথে জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো মূল্যে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:৩৯:০৬
আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারজিসের গাড়িতে হামলা হয়েছে এবং গাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে আমাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তারা একটা অজুহাত দিচ্ছে যে আমি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। বেশ, আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, একদম চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি তারা কতটুকু বাড়ে এবং কত দূর যেতে পারে—আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।"

পূর্ববর্তী দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, "হবিগঞ্জের হামলার ঘটনায় আমরা আইনি পদক্ষেপ হিসেবে লিখিত মামলা করেছি। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কারা এই বর্বরতা চালিয়েছে, কাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে আর কাদের চোখ নষ্ট করা হয়েছে। আমরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না।"

আহত এনসিপি কর্মীদের শারীরিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, "মারাত্মক আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী—সে এখন অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আপনারা কি পারবেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংসতার রাজনীতি চাই না। আমরা শান্তি চাই, আমাদের কর্মীদের চোখ ফেরত দিন। রাজনীতি কীভাবে করতে হয় করুন, আমরা আর কিছু বলব না।"

/আশিক


বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৪৭:৫৯
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবশেষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ হস্তান্ত করে। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগটি গ্রহণের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ দায়েরের সময় প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার আলম।

এর আগে বুধবার দুপুর ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেই হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে সংঘাতপ্রবণ এলাকার দিকে রওনা হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রথম দফায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের গতিপথ রুদ্ধ করে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা ঘটে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় তাঁদের গাড়িবহর।

তবে বহরটি বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন সীমানায় পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে দ্বিতীয় দফায় স্থায়ীভাবে আটকে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের দেনদরবার শেষে পুলিশ তাঁদের অনড় অবস্থানের মুখে নিকটস্থ কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি দেয়। অভিযোগ জমা দিয়ে প্রতিনিধি দলটি ওই এলাকা ত্যাগ করে।

/আশিক


শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:২৮:৪৩
শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলে বাধা পেরিয়ে সামনে এগোলেও এবার হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে পুনরায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাহুবলের প্রবেশপথে তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাধা পেয়ে এনসিপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখে।

এর আগে বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় প্রথম দফায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই ব্যারিকেড উপেক্ষা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জের দিকে রওনা দেন। কিন্তু বাহুবলে এসে তাঁরা আবার অবরুদ্ধ হন।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় স্থানীয় একদল যুব রাজনৈতিক কর্মী। এতে সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জের ধরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলে বুধবারে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির প্রতিনিধি নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করেছেন। তবে ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি দেশবাসীকে জানাতে তাঁরা বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

অন্যদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতিতে শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এনসিপি নেতাদের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে দেওয়া কড়া মন্তব্যের কারণেই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে তিনি সহিংসতা পরিহার করে গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান জানান। বর্তমানে বাহুবল সীমান্ত ও হবিগঞ্জ জুড়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৭:৫৯:১৬
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার বিকেল চারটার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাড়ে চারটার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গাড়িবহরে বাধা দেয়।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ সফরকালে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সভা শেষে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় একদল রাজনৈতিক কর্মী। সোনালী ব্যাংক শাখার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার জের ধরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ড. আতিক মুজাহিদ ও সারোয়ার তুষারসহ শীর্ষ নেতৃত্ব হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাঁরা জনসভা বা বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, মূল ঘটনাটি জাতির সামনে তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গল থেকে প্রেস ব্রিফিং করবেন।

অন্যদিকে, ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপটে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতি ও সমালোচনার একটি ন্যূনতম শিষ্টাচার থাকা দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতারা জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, যা স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি সহিংসতা পরিহার করে শালীনতার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের সহিংসতায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। তবে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

/আশিক


হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় সারজিস ও নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহরে হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ২১:৫০:৫০
হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় সারজিস ও নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহরে হামলা
গাড়িতে হামলার দৃশ্য (বাঁয়ে) ও আহত সারজিস আলম (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পেশাগত কাজে যুক্ত একাধিক সাংবাদিক, ভিডিওগ্রাফার এবং মিডিয়া টিমের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের ভেতরে ও সামনের সীমানায় এ সহিংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সার্কিট হাউজের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রচারিত বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সংবাদ সংগ্রহে থাকা কর্মীদের কাছে থাকা দামী ক্যামেরা, ড্রোন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায়ে মিডিয়া টিমের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই ঘটনাকে চরম রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত জানান, পদযাত্রা শেষে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে প্রবেশের মুখে তাদের বহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে গাড়িবহরের একদম সামনে থাকা মিডিয়া টিমের গাড়িটি প্রথম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলায় ভিডিওগ্রাফার ইউসুফ আহমেদ, মোজো আরাফাত সানি, ড্রাইভার আসলাম হোসাইন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোশারফ এবং ভিডিও এডিটর শাহরিয়ার আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাবেশস্থল থেকে সার্কিট হাউসের দুই কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পর ভবনের চত্বরে ঢোকা মাত্রই ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তাদের ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। এই সময় পাশে অবস্থানরত পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে বলে তাঁরা দাবি করেন। হামলায় দুটি পেশাদার ক্যামেরা সেটআপ, একটি ল্যাপটপ, একটি ম্যাকবুক ও একাধিক স্মার্টফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।

/আশিক


ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ১৯:৪৩:৫২
ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
ছবি : সংগৃহীত

চাকরি-বাকরিতে মেধাকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে এখন আর ইন্টারভিউ বা মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না; বিএনপির একটি পোর্টফোলিও বা ছাত্রদলের কোনো পদ থাকাটাই চাকরির প্রধান যোগ্যতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বিগত শাসন আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে জামায়াত সেক্রেটারি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করে সেখানে ছাত্রলীগ বসানো হয়েছিল। এখন কেবল নাম পরিবর্তন হলেও চরিত্র একই রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আগের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। দলটির স্লোগানে 'সবার আগে বাংলাদেশ' বলা হলেও বাস্তবে সব জায়গায় 'সবার আগে বিএনপি' নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি এই অপরিণামদর্শী পথ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে সামসুল আলমের নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁকে চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিত্ব আখ্যা দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, অবসরের পর তাঁকে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। মূলত নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ ও আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:৩৭:৩৮
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল: ব্যারিস্টার পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক আলোচনাকে কেবল দল টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের আলোচনার কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই। সোমবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারে সরকারের খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের সার্বিক প্রেক্ষাপট টেনে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে দেশে ফেরা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়াও অত্যন্ত কঠিন হবে। দুই বছর আগের নিজেদের রিমান্ডের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের বর্তমান মানসিকতা, তাদের তাজা রক্ত ও অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করলে জুলাইকে বাদ দিয়ে দেশে রাজনীতি করার কথা চিন্তা করাও অসম্ভব।

খাল খনন কর্মসূচির ওই পরিদর্শনকালে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ, জেলা বিজেপি সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার পার্থ ভোলা সদর উপজেলার চরম নদীভাঙন কবলিত শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। আগামী একনেক সভায় ওই এলাকার ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান ও বরাদ্দ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি পরিচালিত খাল খনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: