সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৪:৩৮:৪৪
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুল ইসলাম।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, ডাঃ শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও আলোচিত বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চাঁদাবাজি, পররাষ্ট্রনীতি, বিচারহীনতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া আহলি বাইতিহি আজমাঈন।

মাননীয় স্পিকার,

১২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন। আমি আবারও আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই অধিবেশনের প্রাণসত্তা হিসেবে, এই অধিবেশনের চেয়ার ও স্পিকার হিসেবে আপনি অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের এই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। শুধু দেশের ভেতরে থাকা মানুষ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাদেশিও আজ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা এটিকে তাদের প্রত্যাশার একটি ঠিকানা হিসেবে দেখতে চায়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই অধিবেশনে আমরা সবাই বিপুল প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই ধৈর্য ও আগ্রহের সঙ্গে এই অধিবেশনকে সফল করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সবাই সবার মত প্রকাশের ন্যূনতম সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য আমি মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি।

মাননীয় স্পিকার,

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সম্মানিত কৃষক পিতাকে। তিনি ছিলেন গ্রামের একেবারেই সাধারণ একজন কৃষক। আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি। আমি এমন একটি পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছি, যেখানে মানুষের অভুক্ত থাকার সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি, চৈত্র মাস আর কার্তিক মাস এলে মানুষের মধ্যে কী ভয়াবহ হাহাকার নেমে আসত। তখন মানুষ অগ্রিম তাদের শ্রম বিক্রি করে দিত। ধান কাটার মৌসুমে একজন মানুষ যদি ১২ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন, তাহলে পেটের ক্ষুধার কারণে তিনি পাঁচ টাকায়ও অগ্রিম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হতেন।

আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করেছে। তবে এটাও সত্য, যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তারা যদি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে ৫৪ বছরের এই দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। ক্ষমতায় গেলে অনেকেই ফেরেশতার মতো আচরণ করেন। অন্যের দোষ, অন্যের দুর্নীতি খুব সহজে দেখতে পান, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখতে পান না।একজন মেহমানের গল্প মনে পড়ে গেল। তিনি খেতে বসেছেন কিন্তু হাত দিচ্ছেন না। গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “খাচ্ছেন না কেন?” তিনি বললেন, “কী দিয়ে খাব? শুধু ভাত দিয়েছেন।” গৃহকর্তা বললেন, “আপনি তো একটু আগে বললেন, ‘এই ধুর!’ কাকে বললেন?” তিনি বললেন, “ওইদিকে একটা পবিত্র ঘরে কুকুর ঢুকছিল, আমি এখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম।” তখন বলা হলো, “বাহ! আপনি চার হাজার মাইল দূরের কুকুর দেখতে পেলেন, কিন্তু ভাতের নিচের তরকারি দেখতে পেলেন না!” আমাদের অবস্থাও অনেক সময় এমন হয়। আমরা অনেক দূরের সমস্যা দেখি, কিন্তু নিজের দুর্বলতা দেখি না। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুব সহজ। কিন্তু মানুষ তখনই মহৎ হয়, যখন সে নিজের ভুল খুঁজে বেড়ায়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাঝে মাঝে কনফিউশনে পড়ে যাই। আমি কি সত্যিই মহান জাতীয় সংসদে বসে আছি, নাকি স্বপ্ন দেখছি? ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই অধিবেশনের অধিকাংশ সময়জুড়ে ইতিহাস চর্চা হয়েছে। ইতিহাস চর্চা খারাপ কিছু নয়। চলতে হলে অতীত জানতে হয়, অতীতকে ধারণ করতে হয় এবং অতীতের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হয়। কিন্তু মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে শুধু ইতিহাস বলার জন্য নয়।

আমরা যখন নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে কৃষক, ছাত্র থেকে শিক্ষক, সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। একটি শিশু যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রশ্ন করেছে, “আমি কি নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব? নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারব? আমি কি আমার মেধা বিকাশের সুযোগ পাব?”একজন শ্রমিক বলেছেন, “আমি আমার শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাই না। মর্যাদা তো স্বপ্নের বিষয়।”ছাত্ররা প্রশ্ন করেছে, “আমরা কি অস্ত্রের ঝনঝনানি মুক্ত একটি পবিত্র শিক্ষাঙ্গন পাব, যেখানে শিক্ষক হবেন পিতার মতো, সহপাঠীরা ভাই-বোনের মতো?”চা শ্রমিকরা বলেছেন, “আমরা কি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পাব?”জেলেরা বলেছেন, “জল, জাল যার, জলা তার’ শুধু স্লোগান হয়েই রয়ে গেছে।”কৃষকরা বলেছেন, “ফসল ফলিয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারি না। সার, বীজ, কীটনাশকের দাম আকাশচুম্বী। মাঠে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পণ্য রাজধানীতে গিয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।”

মাননীয় স্পিকার,

তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। ওই অঞ্চলের মানুষ যেন জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট। প্রতিবছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত। তারা এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম, সুযোগ পেলে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদালটি আমরাই চালাব। আমি আজও সেই কথায় অটল আছি। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করব না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত সরকারের পাশে থাকবে, যদি সরকার সাহসী পদক্ষেপ নেয়।

মাননীয় স্পিকার,

আমি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, সেখানে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজট নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ১০০ ফুট রাস্তা বাস্তবায়ন জরুরি। উত্তর কাফরুলের সরু রাস্তা প্রশস্ত করা প্রয়োজন। বহু রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। ইব্রাহিমপুর ও উত্তর কাফরলের রাস্তাগুলোর মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত এগুলো সরানো দরকার। মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে বেগুনবাড়ি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খালের গভীরতা বৃদ্ধি জরুরি। মণিপুর-শেওড়াপাড়ার পুরনো সরু স্যুয়ারেজ পাইপ পরিবর্তন করতে হবে। পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ শুধু বলছে, “আমাদের বাঁচার জন্য এক ফোঁটা পানি দিন।”

মাননীয় স্পিকার,

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। সে যদি আমার দলেরও হয়, তার হাতেও হ্যান্ডকাফ পড়তে হবে। এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নিই, যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজদের নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ। আমরা আর দেখতে চাই না, কোনো শিক্ষার্থী দা কিংবা গুলির আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাসমুক্ত হোক। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। হাজার শয্যার হাসপাতালে ৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। এটি চলতে পারে না।

মাননীয় স্পিকার,

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান রেখেই বলছি, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; মেধা ও কমিটমেন্টের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। আমরা একটি মেরিটোক্রেটিক রাষ্ট্র দেখতে চাই। জ্বালানি সংকট দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। তবে আমরা স্বীকার করি, এটি শুধু সরকারের তৈরি সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে যখন দেখেছে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও আমরা স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান চাই। আমরা সবসময় বলে এসেছি, “সবার আগে বাংলাদেশ।” আমাদের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনো প্রভুর প্রয়োজন নেই।

মাননীয় স্পিকার,

ফ্যাসিস্ট আমলে যত খুন, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। জাতি এখন বিচারের অঙ্গনে একটি সবুজ পতাকা দেখতে চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। “লেট আস এগ্রি টু ডিসএগ্রি।” আমি আমার মত দেব, আপনি আপনার মত দেবেন। আমরা একে অপরকে সম্মান করব।আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কাজে সহযোগিতা করব, ভুল দেখলে প্রতিবাদ করব।

মাননীয় স্পিকার,

ইতিহাসকে মনে রাখা ভালো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ভালো। কিন্তু ইতিহাস নিয়েই পড়ে থাকলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারব না। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভালো কিছু বলে থাকলে আল্লাহ যেন আগে আমাকে তা আমল করার তৌফিক দেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে যারা অশ্লীল আচরণ করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমারও দুইটি মেয়ে সন্তান আছে। তাঁর মেয়ের অসম্মান মানে আমাদের মেয়েদের অসম্মান। এই নোংরা ধারা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই।

সবশেষে, এই অধিবেশন সফল করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়ার কর্মী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তাদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের ইনসেনটিভ দেওয়া হোক।

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ।আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:২৬:৩২
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।

/আশিক


ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:৪৮:০০
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে এনসিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল তৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৮:৫৫:০৬
দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এর আগে গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের অ্যাকাউন্টের বিবরণ তুলে ধরেন, যেখানে তাঁর দুটি হিসাবে প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানানো হয়। তবে বিশ্লেষক ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দুর্নীতির অর্থ রাখা হয় না, বরং বিভিন্ন অপ্রচলিত ও গোপন মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনে শীর্ষ পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন (যার মধ্যে ওয়াসা এমডি নিয়োগে ১০ কোটি ও ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে), এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা।

এ ছাড়া সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ এবং তাঁর এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় তাঁর পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্নীতির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও দুবাইয়ের সম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।

/আশিক


সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৩০:৫৪
সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
ছবি : সংগৃহীত

এমন নামমাত্র বা দুর্বল পরিবর্তনের জন্য ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও যুবসমাজ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি ঘোষণা দেন, এবারের মূল সংগ্রাম হলো কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সংবিধান আমূল পরিবর্তন করা এবং সেই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃস্থাপিত করা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশালের সদর রোডস্থ ঐতিহাসিক অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির তীব্র প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের শোষণ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যে ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ, তা কেবল শাসনক্ষমতার হাতবদলের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও সাংবিধানিক চরিত্র পরিবর্তনের লড়াই। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৫২:০২
ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; বরং এর পেছনে দলের চরম বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে চরম আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে; আর যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি না ফেরেন, তবে ১ জানুয়ারি থেকেই তাঁর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা চূড়ান্তভাবে ধসে পড়বে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বক্তব্যকে মূলত ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ও স্লোগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অসংখ্য মামলার আসামি হিসেবে দেশে ফেরা মাত্রই তাঁকে কঠোর আইনি মুখোমুখি হতে হবে, যা তাঁর বর্তমান বয়স ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত না ফিরলে ট্রাভেল পাস বা বিমান অবতরণের অনুমতি না মেলার মতো বাহানা তৈরি করা হতে পারে, যা নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট দূর করতে পারবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত হলেও এমন কোনো পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়াবে। সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রতিবন্ধকতা হলো, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার প্রশ্নে জুলাইয়ের পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তি ও সরকারের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কোনো অনুশোচনা না করে বলপ্রয়োগের জেদ দেখিয়ে দেশে ফিরে দল পুনর্গঠন করার স্বপ্ন দেখা ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো’।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং নির্ধারিত ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আপিলের আইনগত সুযোগও শেষ হয়ে গেছে। ফলে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তি বা নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।

/আশিক


কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:৩০:২৬
কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের দেশ নয় বাংলাদেশ, ২০ কোটির মানুষের: বিরোধীদলীয় হুইপ
ছবি: কালবেলা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের আনা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ ছিল ‘গুম-খুন কমিশন’ বাতিল ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনি পরিবর্তন আনা।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আগের অধ্যাদেশে গুমের সঙ্গে জড়িত সংস্থাকে তদন্ত থেকে বাইরে রাখার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকলেও তা বদলে ফেলা হয়েছে। ফলে পুলিশ অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলে পুলিশই তার তদন্ত করবে—এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রাখায় সাধারণ নাগরিকরা ভীতিতে কোনো প্রতিকারই চাইতে পারবে না।

এটিকে দেশে আবারও গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি নয়, এ দেশ ২০ কোটি মানুষের। কোনো দল আবারও স্বৈরাচারী মানসিকতা দেখালে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা তাদেরও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে। এছাড়া মেয়াদ শেষের আগেই সব উপাচার্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান এবং বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসনহীন থাকেন।

অথচ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা অনুৎপাদনশীল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত উন্নয়নে নজর নেই। আগামী দুই বছরের মধ্যে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:২৮:৪২
পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও দূর থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে কোনো অপরাধ না করলে বা সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে মাটি কামড়ে রাজনীতি করা উচিত ছিল। কোনো সৎ মানুষ পালিয়ে যায় না, বরং অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই বিচারের ভয়ে দেশ ছাড়ে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তিনি এই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী তরুণ নেতৃত্ব, সাধারণ জনগণ এবং সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সেই গণআন্দোলনে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে তা হতে হবে সমমর্যাদা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে। সীমান্তে ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড এবং নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অভিন্ন তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ধরনের একতরফা সম্পর্ক বাংলাদেশ আর মেনে নেবে না।

/আশিক


বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:৩৬:০১
বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
ছবি : সংগৃহীত

সংসদে আগের দিন বক্তব্য দিতে গিয়ে সরকারি দলের তীব্র বাধা ও পরবর্তীতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি আইনসভার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবনতি নিয়ে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে বুধবারের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় বিএনপির সদস্যদের ব্যাপক প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অধিবেশনে তিনি যে বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে বর্তমান সংসদে কোনো ভিন্নমত বা ‘ডিসেন্ট ভয়েস’ প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক পরিবেশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে তাঁর মনে হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্য শেষ করার পর তাঁর আশপাশের সংসদ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেছেন, যা যেকোনো সংসদীয় শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের চরম পরিপন্থী।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন তিনি একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখতেন, তখনও তাঁকে একই ধরনের জঘন্য আচরণের মুখোমুখি হতে হতো। হাজারো মানুষের তাজা রক্তের বিনিময়ে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে নতুন যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানেও যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আসে, তবে সংসদে শুধুই নিয়মরক্ষার বিরোধী দল সেজে বিলের বিরোধিতায় ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য বসে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

রুমিন ফারহানার এমন ক্ষুব্ধ ও আবেগপূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সভাপতিমণ্ডলীর আসন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার অতীত অপ্রীতিকর ঘটনা পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, "গতকাল যা হওয়ার, হয়ে গেছে।" একই সঙ্গে তিনি সরকারি ও বিরোধী—উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতাদেরই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পারস্পরিক সংযম ও সংসদীয় শালীনতা বজায় রাখার জোরালো নির্দেশনা দেন।

/আশিক


নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৯:১৬:২২
নাম বদলিয়ে নতুন বাহিনী গঠন বিশ্ব সম্প্রদায় মেনে নেবে না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

র‍্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামোর নতুন বাহিনী গঠন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বলে জাতীয় সংসদে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও মানবাধিকারের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট আইনটি কোনো অবস্থাতেই পাস না করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী সরকারি বিলটির ওপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উঠলে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ ও তথ্যবহুল বক্তব্য রাখেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিলটির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রস্তাবনাটি জাতীয় জীবনের গতানুগতিক অন্য কোনো বিলের মতো নয়; বরং এটি সামগ্রিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠার পর বাহিনীটির ইতিবাচক কিছু অবদান থাকলেও তাদের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অতিমাত্রার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড গোটা বিশ্বকে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যই এই বাহিনীর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ নিগ্রহের শিকার উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সাথে সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় সব মানবাধিকার সংস্থার দ্ব্যর্থহীন দাবি ছিল এই বিতর্কিত বাহিনীর স্থায়ী বিলুপ্তি; একে মোড়ক বদলে টিকিয়ে রাখা নয়। কিন্তু বর্তমানে প্রস্তাবিত আইনে স্থাপনা, জনবল, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপোর্ট সবকিছু অবিকল রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা জনগণের সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল।

মাত্র কয়েক দিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে ওয়ারেন্ট ছাড়া তুলে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় ন্যূনতম পরিবর্তন আসেনি। নিজেদের অপরাধের তদন্ত নিজেদের মাধ্যমেই করার পুরোনো সংস্কৃতি বহাল রেখে এমন আইন পাস করা হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ নতুন করে কলঙ্কিত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই পরিস্থিতিতে বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে প্রত্যাহার করে অংশীজনদের সাথে বিশদ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: