রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসর এবং বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকা বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পূর্ববর্তী বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন, তখন তাঁকে তিনটি বিশেষ ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষ্কৃতি দেওয়া এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো বাতিল করা।
এ সময় তিনি ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বেই ২৬ হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে দায়ী করে একটি সাজানো প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল, যা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে ফায়দা লুটেছিল।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসানোর জন্য দায়ী এবং জুলাই গণহত্যার সময় তিনি ফ্যাসিবাদের সরাসরি সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্র সমাজ গণঅভ্যুত্থানের পরপরই তাঁর অপসারণ চেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁকে টিকিয়ে রাখা হলেও এখন নির্বাচিত সরকারের আমলে কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এবং মিথ্যুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নাহিদ ইসলাম সংসদকে জানান যে, এই গণহত্যার দোসরের বঙ্গভবনে অবস্থান করা বাংলাদেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
/আশিক
সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
বর্তমান সরকার যদি পুনরায় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বাজেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিরোধী দলগুলো বাজেটের সমালোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ও মন খারাপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই বাজেটের প্রশংসা করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, অর্থ লুটপাট এবং ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বা কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়নি।
এই বাজেটের ঠিক কত অংশ সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ও উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, আর কত অংশ সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থে চলে যাবে, তার কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব নেই। এটি মূলত একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত বাজেট, যা কার্যকর করতে সরকারকে বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। দেশে সামগ্রিক সুশাসন, কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে এই ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট কখনোই বন্ধ করা যাবে না।
আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন করে ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতে এস আলমের গাড়িতে চড়ে কারা সংবর্ধনা গ্রহণ করেছিলেন এবং বর্তমানে কারা তাকে পেছন থেকে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছেন, সেই তথ্য বাংলাদেশের সচেতন জনগণের অজানা নয়। দেশের মানুষ ব্যাংকিং খাতের এই নগ্ন দখলদারি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে পূর্ববর্তী গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করতে হবে।
অতি সম্প্রতি চট্টগ্রামে একজন জাতীয় স্তরের ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষের ওপর আবারও এই ধরণের রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্যাতন শুরু হয়েছে। সরকার যদি এই ধারা অব্যাহত রেখে স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে জনগণ রাজপথে নেমে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে আবারও এক নিরীহ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বুলেটের আঘাত দিয়ে কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, আকাশ এবং মাটি সম্পূর্ণ আলাদা; যার চূড়ান্ত ফয়সালা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমেই হয়ে গেছে।
১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বারবার এটিই প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী শক্তি বা বহিরাগত প্রভাব কখনো টিকে থাকতে পারবে না।
/আশিক
সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক আলটিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না এবং সময় অত্যন্ত সীমিত ও ফুরিয়ে আসছে।
এই সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে সরকারকে যেকোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। সরকার যদি স্বেচ্ছায় এই জনদাবি মেনে না নেয়, তবে দেশে ১৯৯৬ সালের মতো ভয়াবহ এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল আনতে বাধ্য হয়েছিল।
এবারও জনমতের প্রচণ্ড চাপে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় জনগণের দাবি মেনে নিন, দেশের মানুষকে অনর্থক রাজপথে ঠেলে দেবেন না। নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম ও ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে আমরা বারবার জেলে যেতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত, কারণ জেলের তালা বা চাবিওয়ালা কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়।
সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনে একজন ‘সর্ব বিষয় বিশারদ’ মন্ত্রী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীর পদটি একটি সম্মানিত রাষ্ট্রীয় পদ এবং তাঁর মুখ দিয়ে বারবার এমন ভুল ও মিথ্যা তথ্য বের হওয়া পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক ও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাজেটের সমালোচনা করাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ উল্লেখ করে তিনি রাগ না করে সরকারকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং দাবি করেন যে, জাতীয় সংসদে বিরোধী মতের জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকায় তাঁরা জনগণের আসল সংসদ অর্থাৎ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন নির্বাচিত সরকার আসার পর মানুষ চাঁদাবাজি বন্ধের আশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে।
তবে জামায়াত আমিরের এই কড়া বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেবলই রাজপথের শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছেন। দেশের মানুষ যখন দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সংস্কার চাইছে, তখন ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলনের ডাক দিয়ে "জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেওয়ার" এই হুমকি সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ কতটা লাঘব করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচিত সরকার আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের যে অভিযোগ উঠছে, তা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ব্যর্থতা হলেও, মাঠপর্যায়ে বিরোধী শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে আসছে। ফলে এককভাবে দুর্নীতিকে ‘জাতীয়করণ’ করার দায় সরকারের ওপর চাপালেও, মাঠের বিশৃঙ্খলার দায় কোনো পক্ষই এড়াতে পারে না।
/আশিক
‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ভারত ও বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন মন্তব্যের অর্থ পরিষ্কার না হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি ও নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব নিতে আসা ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়ার’ মতো বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী, সে বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত যেমন একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, বাংলাদেশও তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বক্তব্যটি যদি শুধুমাত্র দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সহযোগিতা বা আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের প্রতীকী অর্থে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যদি এর আক্ষরিক অর্থে অন্য কোনো বার্তা বোঝানো হয়ে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই এ ধরনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা না থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে এবং জনমনে ভুল বার্তা যেতে পারে।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টির সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। জনগণের মধ্যে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ব্যাখ্যা জনসম্মুখে উপস্থাপন করা উচিত।
বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো মন্তব্য জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। সে কারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করা হলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।
-রফিক
লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে: আমির হামজা
কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিস্তার নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হামজা।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির হামজা বলেন, লালন সাঁইয়ের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তবে এসব আয়োজনের আড়ালে এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাজার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কী, তা জানতে চান এই সংসদ সদস্য।
জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু লালন মাজার নয়, সরকার সারা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদক নির্মূলে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বিগত সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৮ বছর দেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার সময় ছিল, যখন মাদক সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সমাজকে নেতিবাচক অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তরুণ সমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রেখে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে বের করে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লালন সাঁইয়ের মাজারকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্কের পর এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সচেতন মহলের। বিশেষ করে মাজার এলাকায় সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং মাদক নির্মূলে নজরদারি জোরদারের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন তারা।
/আশিক
ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (সাবেক লিমিটেড) কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়লে দেশের গোটা অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জোরজবরদস্তি ও অস্ত্রের মুখে যাদের কাছ থেকে এই ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মহালুটপাটের প্রধান সহযোগী ও দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের বৈঠকে ৬৮ বিধির এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলোর বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এই বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা। আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ দুপুরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন ড. শফিকুর রহমান। শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিক হয়েছেন তা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই উন্মোচিত, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।
আর সমুদয় যে শেয়ার সে জোর করে কিনেছে, যার মাধ্যমে সে ৮২ শতাংশের ভুয়া মালিক হয়েছিল, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সে শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেনি, সাথে সন্যাশও ভেজেছে। দেশের সব ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকায় সে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিল। বিগত আমলে একটি বিশেষ গোয়েন্দা এজেন্সির কার্যালয়ে নিয়ে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ব্যাংকের সঙ্গে থাকা প্রকৃত দেশি-বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এভাবেই ব্যাংকটিকে ডাকাতি করে দেউলিয়া করেছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার।"
ব্যাংকটিতে অতীতে হওয়া অবৈধ নিয়োগ ও বর্তমান পর্ষদ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে, পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এবং কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যাসিস্ট আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ১০ হাজার কর্মচারীকে এক কাগজে সই করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ তাঁদের সবাইকে নিয়মের মধ্যে এসে পুনরায় পরীক্ষায় বসার জন্য ডেকেছিল।
বলা হয়েছিল, যেহেতু বিনা পরীক্ষায় চাকরি নিয়েছেন, এখন নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে টিকুন। কিন্তু জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সেই কর্মচারীদের একজনও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেনি।" এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক গুরুতর অভিযোগের সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন।
উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি ওনার এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এটি প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে একটি মেডেল (পদক) দেবো। কার ছেলে বা কার নাতি, চুরি-ডাকাতি বা অসততার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এমনকি আমি শফিকুর রহমান নিজে হলেও আমাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।"
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের দেওয়া ‘জামায়াত ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ এমন কাল্পনিক বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৭ সালে ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখল করে সাড়ে ১২ বছর অর্থ লুটপাটের দুঃশাসন চালানো হয়েছিল। অথচ সাড়ে ১২ বছরেও তারা এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারাকাত হতে যাচ্ছি? ব্যাংকের আরডিএস (RDS) প্রকল্প কোনো দল বা ধর্মের নয়; আমি নিজে অতীতে বোর্ডে ছিলাম এবং জানি এখানে সব ধর্মের গরিব মানুষ সমান সুবিধাভোগী।
নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "আমার নিজেরও এই ব্যাংকে মাত্র ১০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার আছে। আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন সাধারণ গ্রাহক ও মালিক হিসেবে আমার মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলছি। এই ব্যাংকে সব দল, মত ও ধর্মের মানুষের কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট আছে। এই ব্যাংক কারো একার সম্পত্তি নয়।" ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছিলেন। আর সেই এস আলম চক্র যে আবারও ব্যাংকে ফিরে আসছে, তার জীবন্ত প্রমাণ হলো এই বর্তমান চেয়ারম্যান।
তিনি যখন অতীতে রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছিলেন। স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার কারণে ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন পর্দার আড়াল থেকে এস আলমের সব ব্যাংক ডাকাতি ও অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। সেই দেশদ্রোহী কাজের পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন চিহ্নিত অসৎ ও বিতর্কিত লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর পুনরায় বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।"
দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান ও চলমান তীব্র তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মানুষের আস্থার একটি সুউচ্চ পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের শতভাগ অনাস্থা তৈরি হবে। আমি সম্প্রতি হজের সফরে গিয়ে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মুখে এই ব্যাংক নিয়ে সরাসরি গভীর উদ্বেগের কথা শুনে এসেছি। দেশের মূল রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র চার দিনে সাধারণ গ্রাহকরা প্যানিকড হয়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে ফেলেছেন।"
সবশেষে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, কোনো পূর্বধারণা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে এই অভিভাবক ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। এখনই দেশের ৫টি দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন, নিজের আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তাহলে আমরা সবাই গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? আমরা কোনো রাজনীতি চাই না, ব্যাংকটি সগৌরবে বাঁচুক—আমরা এটাই চাই।"
/আশিক
আওয়ামী লীগের নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত ও ধোঁয়াশা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ
আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে আইনিভাবে নিষিদ্ধ থাকায় দলটির কোনো প্রার্থীই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের সহযোগী দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে খোদ বর্তমান সরকারের ভেতরেই তীব্র ভিন্নমত ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের এক পক্ষ যেখানে দলটির অংশগ্রহণের সরাসরি বিরোধিতা করছে, সেখানে অন্য একজন উপদেষ্টা আবার শর্তসাপেক্ষে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওকালতি করছেন; যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সরকার নিজেই দলটির পুনর্বাসন ও নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে একটি বড় ধরনের ‘ধোঁয়াশা’ ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এনসিপির মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি রাজনৈতিক দল যখন রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকে, তখন তারা কোনোভাবেই দেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি বা নৈতিক অধিকার রাখে না।" তিনি এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে অভিযোগ করেন—বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের একটি গোপন অংশ এখনো বর্তমান সরকারের বিভিন্ন স্তরে ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে আছে বলেই নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভেতর এ ধরনের আপসকামিতা ও দ্বিধার সৃষ্টি হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে তাঁদের দল এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে ‘পাঁচ দফা দাবি’ পেশ করা হয়েছে। এই পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—বর্তমানে সরকারি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় ‘প্রশাসক’ পদে নিয়োজিত থাকা কোনো ব্যক্তি একই সংস্থায় মেয়র বা জনপ্রতিনিধি পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, দলের এই যৌক্তিক শর্ত ও নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই অনেকে প্রশাসনের শীর্ষ পদে থেকে আগাম নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সরকারি ক্ষমতা ও লোগো ব্যবহার করছেন।
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে দুই সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসকদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, "তারা সরাসরি লাভজনক সরকারি পদে বহাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়।" নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত করতে তিনি অনতিবিলম্বে এসব প্রশাসককে পদত্যাগ করে তারপর সাধারণ প্রার্থীর মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায় চরম পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি সরকারকে অবিলম্বে পশুর হাটের ইজারা উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান, যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী এর সুফল লুটে নিতে না পারে।
/আশিক
৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প ছায়া বাজেট দিল জামায়াত
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারি বাজেট পেশের মাত্র দুই দিন আগে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক দিল প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের বিকল্প হিসেবে মোট ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিশাল ও বিকল্প ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ পেশ করেছে দলটি। প্রস্তাবিত এই ছায়া বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই বিকল্প বাজেট ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ছায়া বাজেট উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোটের আইনি জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই দেশের স্বার্থে সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা (সরকার) নিজেদের স্বার্থে একটির শপথ নিলেন, আরেকটির শপথ নিলেন না। দেশের জনগণের দেওয়া গণভোটের রায়কে তারা সরাসরি অস্বীকার করলেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবে প্রকাশ্যে জনগণকে ধোঁকা দেয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে?" তিনি সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের গায়ের জোরে সরকার বিরোধী দলের দাবি অগ্রাহ্য করে মূলত দেশের জনগণকে অপমান করেছে। দেশের ইতিহাসে গণভোটের রায় ব্যর্থ হওয়ার দলিল কোথাও নেই, কিন্তু এবারই প্রথম সেই নজিরবিহীন বিপত্তি ঘটলো। এর ফলে সমাজের আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এমনকি সাংবাদিকতার সমস্ত জায়গায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অবক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাজেটের লক্ষ্য ও গুণগত মান নিয়ে জামায়াতের আমির স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য এই বাজেট দিচ্ছি না, এই বিকল্প বাজেট দেশের ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য। আমরা যে আর্থিক রূপরেখা জনগণের সামনে পেশ করছি, তা বাস্তবায়ন করার প্রধান শর্ত হলো—প্রশাসনিক সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা। সততা ও স্বচ্ছতা না থাকলে সরকার যে বাজেটই দিক না কেন, তা কস্মিনকালেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।" এ সময় দেশের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অর্থবছর (জুলাই-জুন) পরিবর্তনের এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব এনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। জুন মাস সাধারণত দেশ বর্ষা, খরা ও সাইক্লোনে আক্রান্ত থাকে।
আমরা প্রতিবছর লক্ষ্য করি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) একটা বিশাল অংশ বছরের শেষ দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে নামমাত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি মূলত কোনো টেকসই বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে সরকারি টাকার ‘গণ লুটপাট’, যার সুফল দেশের সাধারণ জনগণ কখনো পায় না।" এই লুটপাট বন্ধে তিনি সংসদে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থবছরকে প্রচলিত জুলাই-জুনের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ‘ক্যালেন্ডার ইয়ার’ বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর মেয়াদের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক; তাহলে বর্ষার পানিতে দেশের জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা প্রতিবছর ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না।
/আশিক
‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকব’, বললেন শেখ হাসিনা
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, একসময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তার ভাষায়, দেশের জনগণ, দলের নেতাকর্মী এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে এখন অবসর নেওয়ার সময় নয়। বরং মানুষের পাশে থাকাই তার দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নয়াদিল্লি থেকে ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়ে গেছেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তার পরিবারে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে সেই নেতাকর্মীদের অনেকেই নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তাই এমন সময়ে তাদের ছেড়ে ব্যক্তিগত বিশ্রামে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজনীতি থেকে অবসরের প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় আসে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক বক্তব্যের পর। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জয়ের বক্তব্য মূলত তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন। তিনি স্বীকার করেন যে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বহুবার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলগুলোতেও তিনি তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি বলে তিনি মনে করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি স্বাভাবিক মনে করেন না। তার দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। এমন একটি সময়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালে জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করা হবে না বলে মনে করেন।
ক্ষমতার প্রতি ব্যক্তিগত কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মূল লক্ষ্য জনগণের নিরাপত্তা, উন্নত জীবনমান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। এসব লক্ষ্য অর্জনের পর এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে প্রস্তুত করতে পারলেই তিনি অবসরের কথা বিবেচনা করবেন।
দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সম্পত্তি নয়। দলের নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং কর্মীদের আস্থার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন। তাদের অবদান যেমন মূল্যবান, তেমনি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বও দলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়েও অনেক তরুণ নেতা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলীয় কার্যক্রম ধরে রেখেছেন এবং তারাই আগামী দিনের আওয়ামী লীগের শক্তি।
বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে অতীতে কেউ মুছে ফেলতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। জনগণের সমর্থনই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সেই শক্তির ওপর আস্থা রেখেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে বিশ্বাস করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের নবায়ন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
-রাফসান
প্রধানমন্ত্রীকে আ. লীগ নেতার চিঠি: কী আছে সেই ভাইরাল চিঠিতে?
ক্ষমতাচ্যুত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের পিরোজপুর ভান্ডারিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলামের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়ে চরম তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নিজের ঠিকাদারি ব্যবসা ও বিল টিকিয়ে রাখতে খোলস বদলে চিঠিটিতে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘প্রাণঢালা অভিনন্দন’ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্যাড এড়িয়ে নিজের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর প্যাডে লেখা এই চিঠিটি গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে বিদেশে পলাতক থাকা এই নেতার এমন ‘পল্টি’ মারার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান মিরাজুল। বর্তমান সরকারের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি চিঠিতে লেখেন, "জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে আপনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ায় প্রাণঢালা অভিনন্দন।
আপনার রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব ইতোমধ্যে দেশের জনগণের কাছে সীমাহীন আশার সঞ্চার করেছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রধান হিসেবে আপনার এবার জনগণকে দেওয়ার পালা।" অথচ চিঠির আসল উদ্দেশ্য লুকিয়ে ছিল এর পরের অংশে। মূলত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় পিরোজপুর জেলায় চলমান তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে নেওয়ার তদবির হিসেবেই এই স্তাবকতা করা হয়েছে।
দল নিষিদ্ধ এবং নিজে বিদেশে পলাতক থাকা অবস্থায় একজন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার এমন ভোলবদল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠি ফাঁসের বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ঠিকাদারি ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল হওয়া ঠেকানো এবং এলজিইডির ঝুলে থাকা প্রকল্পের সময়সীমা বাড়াতেই এই আওয়ামী লীগ নেতা আদর্শ বিসর্জন দিয়ে রাতারাতি ভোল পাল্টেছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
- ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
- ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
- ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অপরাধে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল
- ঘরে বসেই বিশ্বকাপ, টিভি ও অ্যাপে দেখার সুযোগ, জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল
- জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- ১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার
- শিরোপা যুদ্ধ ও বিশ্বকাপ, আজকের ক্রীড়াসূচি এক নজরে
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
- শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?
- স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ
- শুক্রবার বন্ধ রাজধানীর যেসব মার্কেট, দেখে নিন তালিকা
- ৪১ বছর বয়সি রোনালদোর অফ-ফর্মে পর্তুগাল শিবিরে বড় দুশ্চিন্তার ভাঁজ
- ঐতিহাসিক গৌরবময় অর্জনের জন্য ক্রিকেটার, কোচ ও বিসিবিকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
- নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগ: বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- দেবিদ্বার-চান্দিনা-মুরাদনগর: হামের হটস্পট, অথচ অন্ধকারে স্বাস্থ্য বিভাগ
- পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের; আজ মেক্সিকো সিটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
- রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় উপহার; নতুন বাজেটে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা
- আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ব্যাংকে টাকা রাখায় কমছে সাধারণ মানুষের করের বোঝা
- বাজেটে মেগা ঘোষণা: নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতু
- স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান








