ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৪৫:১০
ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (সাবেক লিমিটেড) কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়লে দেশের গোটা অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জোরজবরদস্তি ও অস্ত্রের মুখে যাদের কাছ থেকে এই ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের মহালুটপাটের প্রধান সহযোগী ও দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের বৈঠকে ৬৮ বিধির এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলোর বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এই বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা। আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ দুপুরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র জবাব দেন ড. শফিকুর রহমান। শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিক হয়েছেন তা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই উন্মোচিত, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।

আর সমুদয় যে শেয়ার সে জোর করে কিনেছে, যার মাধ্যমে সে ৮২ শতাংশের ভুয়া মালিক হয়েছিল, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সে শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেনি, সাথে সন্যাশও ভেজেছে। দেশের সব ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকায় সে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিল। বিগত আমলে একটি বিশেষ গোয়েন্দা এজেন্সির কার্যালয়ে নিয়ে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যুগ যুগ ধরে ব্যাংকের সঙ্গে থাকা প্রকৃত দেশি-বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এভাবেই ব্যাংকটিকে ডাকাতি করে দেউলিয়া করেছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার।"

ব্যাংকটিতে অতীতে হওয়া অবৈধ নিয়োগ ও বর্তমান পর্ষদ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে, পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এবং কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যাসিস্ট আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ১০ হাজার কর্মচারীকে এক কাগজে সই করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ তাঁদের সবাইকে নিয়মের মধ্যে এসে পুনরায় পরীক্ষায় বসার জন্য ডেকেছিল।

বলা হয়েছিল, যেহেতু বিনা পরীক্ষায় চাকরি নিয়েছেন, এখন নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে টিকুন। কিন্তু জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সেই কর্মচারীদের একজনও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেনি।" এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক গুরুতর অভিযোগের সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন।

উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি ওনার এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এটি প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওনাকে একটি মেডেল (পদক) দেবো। কার ছেলে বা কার নাতি, চুরি-ডাকাতি বা অসততার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এমনকি আমি শফিকুর রহমান নিজে হলেও আমাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।"

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের দেওয়া ‘জামায়াত ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ এমন কাল্পনিক বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৭ সালে ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখল করে সাড়ে ১২ বছর অর্থ লুটপাটের দুঃশাসন চালানো হয়েছিল। অথচ সাড়ে ১২ বছরেও তারা এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারাকাত হতে যাচ্ছি? ব্যাংকের আরডিএস (RDS) প্রকল্প কোনো দল বা ধর্মের নয়; আমি নিজে অতীতে বোর্ডে ছিলাম এবং জানি এখানে সব ধর্মের গরিব মানুষ সমান সুবিধাভোগী।

নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "আমার নিজেরও এই ব্যাংকে মাত্র ১০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার আছে। আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন সাধারণ গ্রাহক ও মালিক হিসেবে আমার মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলছি। এই ব্যাংকে সব দল, মত ও ধর্মের মানুষের কোটি কোটি অ্যাকাউন্ট আছে। এই ব্যাংক কারো একার সম্পত্তি নয়।" ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছিলেন। আর সেই এস আলম চক্র যে আবারও ব্যাংকে ফিরে আসছে, তার জীবন্ত প্রমাণ হলো এই বর্তমান চেয়ারম্যান।

তিনি যখন অতীতে রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখনই তাঁর বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছিলেন। স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার কারণে ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন পর্দার আড়াল থেকে এস আলমের সব ব্যাংক ডাকাতি ও অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। সেই দেশদ্রোহী কাজের পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন চিহ্নিত অসৎ ও বিতর্কিত লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর পুনরায় বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।"

দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান ও চলমান তীব্র তারল্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মানুষের আস্থার একটি সুউচ্চ পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের শতভাগ অনাস্থা তৈরি হবে। আমি সম্প্রতি হজের সফরে গিয়ে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মুখে এই ব্যাংক নিয়ে সরাসরি গভীর উদ্বেগের কথা শুনে এসেছি। দেশের মূল রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র চার দিনে সাধারণ গ্রাহকরা প্যানিকড হয়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে ফেলেছেন।"

সবশেষে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, কোনো পূর্বধারণা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে এই অভিভাবক ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। এখনই দেশের ৫টি দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন, নিজের আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তাহলে আমরা সবাই গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? আমরা কোনো রাজনীতি চাই না, ব্যাংকটি সগৌরবে বাঁচুক—আমরা এটাই চাই।"

/আশিক


ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয় না: ডা. তাসনিম জারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ২০:৫৪:৪৯
ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয় না: ডা. তাসনিম জারা
ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যোগ্য ও ভালো মানুষ দেখে মনোনয়ন দেয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে স্পিকারের বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংসদীয় স্বচ্ছতা নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে ডা. তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি একমত যে বর্তমান ব্যবস্থায় ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় না। কেননা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে অন্য বিষয় প্রাধান্য পায়, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে গেলে নানামুখী হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে তিনি যোগ করেন, সাধারণ মানুষের কাজ আক্ষেপ করা হলেও স্পিকারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধর পদে থাকা ব্যক্তি নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ রাখেন। সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব, ব্যবসায়ী স্বার্থ ও উপহার গ্রহণের বিবরণী সার্বজনীন করার জন্য বিশেষ ‘রেজিস্টার অব ইন্টারেস্টস’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উদাহরণ টেনে ডা. তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের ৬০ শতাংশ ব্যবসায়ী ও প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও পাঁচ বছরে কেবল একবার দেওয়া নির্বাচন কমিশনের হলফনামা ছাড়া আয়-সম্পদ যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক সংসদ সদস্য পদে এসে দামি গাড়ি বা উপহার পাওয়ার অজুহাত দেখালেও মূল ব্যাকগ্রাউন্ড আড়ালেই থেকে যায়। এ জন্য সংসদ সচিবালয় ও নিয়মকানুন কমিটির সভাপতি হিসেবে স্পিকারকে এমপিদের প্রাপ্ত উপহার, ব্যবসায়িক শেয়ার ও বিদেশ সফরের তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিধান করার আহ্বান জানান তিনি।

উলেখ্য, এর আগে বুধবার ভোলার তজুমদ্দিনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছিলেন যে, ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ কিংবা সংসদে উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এখনও তৈরি করা যায়নি। স্পিকারের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদে স্বচ্ছতার নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন ডা. তাসনিম জারা।

/আশিক


সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ২০:১৯:৩৩
সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি এবং সংলগ্ন এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

উল্লেখ্য, এর আগে একই দিন বেলা ১১টার দিকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই গোলাগুলির ঘটনার প্রেক্ষাপটেই জামায়াত আমিরের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এল।

/আশিক


৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ-জামায়াত মিলে ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ২০:১১:৫৫
৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ-জামায়াত মিলে ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী যৌথভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের মতো একইভাবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত পুনরায় জোটবদ্ধ হয়ে দেশে রাজনৈতিক অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাপরাইল আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর চলাকালে 'স্নাইপার' দিয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি সংবলিত যে ফেসবুক পোস্ট এক যুবক দিয়েছিল, তার পেছনে বিরোধী দলের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে। তাদের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই ওই যুবক এমন দুঃসাহস দেখানোর সাহস পেয়েছে। এ বিষয়ের গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক মিথ্যাচার করছেন। অতীতে ছাত্র জাসদের রাজনীতি ও সহিংসতার ইতিহাস টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন—জামায়াতে যোগ দিলেই কি সেই স্বভাব বদলে যায়? পরিশেষে তিনি ঘোষণা দেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথে নস্যাৎ করতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু এবং কলেজের অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বিভ্রান্তিকর ছবি ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৯:১১:১৭
বিভ্রান্তিকর ছবি ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মুখমণ্ডল দেবী দুর্গার প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর একটি ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্মান্ধতা ও সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা দ্বিচারিতার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ফেসবুক বার্তায় উল্লেখ করেন, সম্প্রীতি নষ্ট করা ও বিভাজন উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই অসাধু কোনো চক্র কৃত্রিমভাবে ছবিটি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ছবিটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একশ্রেণির মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার জবাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য করে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও ঝাঁঝালো পোস্ট দেন তিনি।

ওই পোস্টে মোট ২২টি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা লেখেন—বলাৎকার, ঘুষ গ্রহণ, শিশু নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, নারীর ওপর সহিংসতা ও অপবাদ, সম্পদ লুটপাট কিংবা খাদ্যে ভেজালের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও সমাজে ধর্মের ক্ষতি হয় না, অথচ ছবি বিকৃতির মতো বিষয়ে মিথ্যা সুর তোলা হয়। পোস্টের শেষাংশে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘দুষ্টের লালন-পালনে ধর্ম মজবুত হয়’ মন্তব্য করে বিতর্কিত সেই ছবিটি শেয়ার করেন এবং বিশেষ দ্রষ্টব্যে ট্রোলকারীদের কটাক্ষ করে লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কী আর করা।’

/আশিক


শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে ১৮ ডিসেম্বরের আলটিমেটাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৯:৪৫:১২
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে ১৮ ডিসেম্বরের আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে বিএনপির জন্য আরও ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে ভুল পথে হেঁটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, বিএনপি একই পথ অনুসরণ করলে তারাও বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ খালপাড় এলাকার শহীদ রফিক চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এসব কথা বলেন। এ সময় সংগঠনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নানামুখী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। অভিযুক্ত খুনিরা ভারতে অবস্থান করলেও বাংলাদেশ সরকারের চিঠির কোনো কার্যকর জবাব দেয়নি দেশটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারে মুখোমুখি করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্বের কঠোর সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত দেওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার গড়িমসি করছে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জুলাইয়ের শহীদের রক্ত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তামাশা করা হলে তৃণমূল থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

/আশিক


এনসিপি অপকর্মের আশ্রয়স্থল ও জামায়াত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৯:০৬:০৯
এনসিপি অপকর্মের আশ্রয়স্থল ও জামায়াত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র: রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, এনসিপি বর্তমানে অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অপরাধীদের পুনর্বাসন কারখানায় পরিণত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষগুলোর নানা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অনন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য মিলেও তার মেধা ও যোগ্যতার সমকক্ষ হতে পারবেন না। রাজনৈতিকভাবে তাকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিরোধীরা বিদ্যুৎ সংকট বা আন্তর্জাতিক কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের মতো প্রতিটি সামাজিক ইস্যুতেই অযৌক্তিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা বানাচ্ছে।

এনসিপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দলটির শীর্ষ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের বহু নেতা চাঁদাবাজি, তদবির ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মতো নানা অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ফলে দলটি ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নীতিগতভাবে অন্য দলের কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে।

সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে স্বৈরাচারী আমলে চরম নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও সাহসের সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অথচ তখন অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাজপথে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি। রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ তোলেন যে, জামায়াতে ইসলামী এখন ক্ষমা প্রার্থনার অজুহাতে আওয়ামী লীগের সাবেক অপরাধী ও সুযোগসন্ধানীদের আশ্রয় দিয়ে একটি পুনর্বাসন সেন্টারে রূপ নিয়েছে। অনুষ্ঠিত এই সভায় ঝিনাইদহ জেলা ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পাঁচ বছরের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে পরবর্তী নির্বাচন: চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৭:৪৯:১০
পাঁচ বছরের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে পরবর্তী নির্বাচন: চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারের পাঁচ বছরের উন্নয়ন ও দায়িত্ব পালনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই পরবর্তী নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। সরকার যদি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ জোর দিয়ে বলেন, ঘন ঘন আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে বিরোধীদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। কারণ সরকারের সার্বিক সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন জনগণই নির্বাচনের দিন ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচার এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কাটিয়ে ওঠার সময়ই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী পক্ষের লংমার্চের মতো কর্মসূচিগুলো দেশ পুনর্গঠনের মূল প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। কেবল লংমার্চ দিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির মূল পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে আগামী তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ করছাড়ের সুযোগ দিয়েছেন। দেশের ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছে। বর্তমানে প্রান্তিক মানুষের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি স্বাধীনতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সম্মুখ সারির নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগের এই বিশেষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্লাহ ইকবালের উদ্বোধনে এবং আবু তালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা শীর্ষ নেতার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৭:৪৪:৫০
প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা শীর্ষ নেতার
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে এক বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কোনো ভুল করেননি, তবে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সরকারের সামগ্রিক অর্জন ও কার্যক্রম ম্লান না হয়—সেটি বিবেচনা করেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার এই সিদ্ধান্তে সদয় সম্মতি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও তিনি ঢাকা-৬ আসন ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের লক্ষে তাঁর কার্যক্রম রাজপথে অব্যাহত রাখবেন। এদিকে সংবাদ চলাকালে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অতিরিক্ত নেতাকর্মীদের ভিড় ও কিছুটা হট্টগোল তৈরি হলে ইশরাক নিজেই মাইকে সবাইকে বাইরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

/আশিক


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২৩:৩৬:২২
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

অস্ত্র হাতে নিজস্ব স্টাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি এই পদত্যাগের নির্দেশনা দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর এলাকায় অনুসারীদের নিয়ে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এক বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। প্রতিমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচারিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ি থেকে নেমে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনকে ধরতে বলছেন, এমনকি গুলি করার হুমকিও দিচ্ছেন। একই ভিডিওতে তার দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়।

একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো এভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের মাঝেই এবার প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পদত্যাগের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক

পাঠকের মতামত: