যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:২২:২০
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির খসড়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খসড়ার মৌলিক বিষয়গুলোতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার কাঠামো তৈরির বিষয়গুলোকে চুক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ৬০ দিনের বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়েও চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ইরান কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি বা শুল্ক ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট পুনরায় উন্মুক্ত করবে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীটি স্বাভাবিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক শিপিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক ও বিস্তৃত আলোচনা চালানো হবে।

কূটনৈতিক মহলে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো সম্ভাব্য চুক্তির নাম। সূত্র অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এগিয়ে চলা এই সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এর নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’। আলোচনায় দুই দেশের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এমন নাম বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি—বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল মুক্ত করা—খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসছিল তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা কাছাকাছি এসেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপে সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

আরেক কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকায় জেনেভাকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভেন্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে অপরদিকে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চুক্তি নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার অনেকটাই ‘জল্পনা-কল্পনা’ এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।

সূত্র : সিএনএন


বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৯:১৬:৪৮
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের খবর আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্পেসএক্সের শেয়ার প্রতি মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামে প্রায় ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে মহাকাশ অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিবহন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও মহাকাশ কোম্পানিগুলোর কাতারে উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির অবস্থান বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অন্যতম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং মহাকাশ পরিবহন খাতে কোম্পানিটির বিস্তৃত কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

আইপিও-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পরও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে ইলন মাস্কের হাতেই থাকবে। তার কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটির বেশি ক্লাস-বি শেয়ার থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির ভোটিং ক্ষমতার প্রায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বাজারমূল্যের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তার অন্যান্য ব্যবসা বিশেষ করে Tesla, xAI এবং X-এ থাকা সম্পদের মূল্য যোগ করলে তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রিলিয়নিয়ার উপাধি কেবল ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতীক নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারেরও একটি প্রতিফলন। গত এক দশকে মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে যে বিপ্লব ঘটেছে, ইলন মাস্ক তার অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী।

স্পেসএক্স বর্তমানে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এবং গভীর মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অর্থনীতির আকার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে স্পেসএক্সের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রাফসান


জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১৪:২০:০৩
জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পর এবার নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব বিমানে বহন করা সরঞ্জাম মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য জেনেভা সফর এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি কাঠামোগত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য আলোচনা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সফল হলে বহু বছর ধরে চলা পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করা হবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত ট্রানজিট ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরও একটি পৃথক ও বিস্তারিত চুক্তি প্রয়োজন হবে।

সমঝোতা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমিত ছাড় দেওয়া হতে পারে, যা ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ কাজ করছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত সম্মতি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এই পুরো আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিল। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করলে সমঝোতার নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’, যা দক্ষিণ এশীয় কূটনীতির জন্যও একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, চুক্তির ভাষা ও মূল কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এটিকে চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

-রাফসান


ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১১:০৭:৩৬
ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতার দাবি করার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি এবং এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘অকালপক্ব’ এবং ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি, যেখান থেকে চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, বাঘেই মনে করেন আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি পরিস্থিতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সংলাপের বিভিন্ন ধাপ এখনো চলমান এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

তবে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি—এমনটিও বলছে না তেহরান। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, আলোচনার খসড়ার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংলাপ প্রক্রিয়া থেমে নেই, বরং বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে ওয়াশিংটন বারবার তাদের অবস্থান বদলেছে, যা সমঝোতা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান নিজের মৌলিক নীতি ও কৌশলগত স্বার্থ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট মৌলিক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো আপসের পথে হাঁটবে না।

আলোচনার পেছনে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন ইরানি মুখপাত্র। তাঁর মতে, কাতার ও পাকিস্তান বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। এই দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আলোচনার অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও ইরানের ধারণা।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত একটি টেলি-র‍্যালিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কার্যত অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে বিরত রাখা এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সফল সমঝোতা হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন যেখানে সমঝোতার কথা বলছে, তেহরান সেখানে আলোচনা চলমান থাকার কথা জানাচ্ছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

-রফিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১০:৫৪:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এক দাবি সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং তেহরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না—এমন একটি সমঝোতায় দুই পক্ষ পৌঁছেছে।

সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র‍্যালিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে সম্মত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার প্রশ্নে ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থানই সফল হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দুই দেশের মধ্যে একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই সমঝোতার ফলে শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও প্রশমিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলো থেকে ধীরে ধীরে মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যা চেয়েছিল, প্রায় সবকিছুই পেয়েছে এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান চুক্তি, যুদ্ধের সমাপ্তি কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদ্ধ। ফলে এত বড় ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকলে সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে নতুন করে বৃহৎ আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রফিক


আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৫৭:০৮
আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক সংঘাতের পারদ এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়ে এবার সরাসরি ইরান দখলের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে’ বিধ্বংসী সামরিক আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বুটের নিচে নিয়ে আসা তথা দখল ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভবিষ্যতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে ইরানের প্রধান খনিজ হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) সহ অন্যান্য সব তেল ও জ্বালানি স্থাপনার ওপর ওয়াশিংটন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ ফ্ল্যাশ নিউজে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম যুদ্ধংদেহী বার্তার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে কোণঠাসা করেছিল, ঠিক একই কায়দায় এবার ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপরও হোয়াইট হাউজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।

ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, গত কয়েকদিনের মার্কিন নিখুঁত হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর (IRGC) প্রতিরোধ গড়ার সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি মূলত ইরানের মোট তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে বড় কৌশলগত কেন্দ্র, যেখান থেকে দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ভূখণ্ড দখলের চরম উসকানিমূলক মন্তব্য ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রলয়ংকরী ও দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে ট্রাম্পের এই আজ রাতেই হামলার আলটিমেটামের বিপরীতে তেহরান বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা সামরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

/আশিক


বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৯:৪৫:৪৪
বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক প্রলয়ংকরী ও বিধ্বংসী সামরিক পাল্টা আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইরানের শীর্ষ সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্ডানের ভূখণ্ডে অত্যন্ত গোপনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘আল-আজরাক’ (Al-Azraq) বিমান ঘাঁটিতে একযোগে ১২টি শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সরাসরি ও মোক্ষম জবাব হিসেবে এই মেগা হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিখুঁত ব্যালেস্টিক মিসাইল আঘাতে ওই মার্কিন ঘাঁটিটির ইতিহাসের অন্যতম ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাদের বিমান ও মহাকাশ বাহিনী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ওই বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, “সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর” গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘাঁটির বিভিন্ন রানওয়ে, বাঙ্কার ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পার্ক করে রাখা বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমানও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে চরম হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের “অপতৎপরতা” ও আগ্রাসন যদি লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরে অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে তেহরানের এই সামরিক অভিযানও লাগাতারভাবে চলতে থাকবে।

এদিকে, ইরানের সামরিক নীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’ আজ বৃহস্পতিবার অপর এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া জানানো অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে হামলা বন্ধ করার আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা আসলে মার্কিন দয়া নয়; বরং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও বিধ্বংসী পাল্টা জবাবের সরাসরি ফল।

এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে আরও একটি চরম ও লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ইউনিটও স্পষ্ট করেছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো স্তরে গিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়তে দেশের সব বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি এবং ইরানি মূল সেনাবাহিনী (Artesh) জানায়, তারা গভীর রাতে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন সমন্বিত ও যৌথ প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা—যার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিপুল কৌশলগত সম্পদ ও যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত।

আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে দুটি ধাপে এই নিখুঁত অপারেশন পরিচালনা করেছে, যা ছিল মূলত ইরানের মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় ঘাঁটি, সেবা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোস্ট এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর এলাকায় মার্কিন বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার সমানুপাতিক জবাব। অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ অত্যন্ত গর্বের সাথে দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (5th Fleet) প্রধান সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে তারা একটি সফল ও বিধ্বংসী ড্রোন অভিযান সম্পন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই চরম সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে চালানো আগ্রাসনের পর আছড়ে পড়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার এই আকস্মিক হামলাটি ছিল গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, সর্বশেষ এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে একযোগে মোট ৪৯টি দূরপাল্লার ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও প্রলয়ংকরী আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

সূত্র: প্রেস টিভি


মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:১৩:১৫
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত পাল্টা অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আক্রমণ ব্যবস্থা এবং আত্মঘাতী ড্রোন একযোগে ব্যবহার করা হয়েছে।

তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি। আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরানবিরোধী সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমান হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

জর্ডানের পাশাপাশি কুয়েতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অপারেশনাল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার বাহরাইনও এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহর দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর, আরব সাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ফলে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি কেবল সামরিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় নৌঘাঁটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে। কারণ অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও একযোগে একাধিক দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি খুব কমই দেখা গেছে।

তেহরান বলছে, তাদের এই অভিযান ছিল প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। ইরানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সেই হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, ইরানের ভূখণ্ড, সামরিক স্থাপনা বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব আরও কঠোর হবে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

-রফিক


ইরানকে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২২:৩৯:৫২
ইরানকে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব এবং খুব কঠোরভাবেই হামলা চালাব।” এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করায় ইরানকে “মূল্য দিতে হবে”। পরে সাংবাদিকরা তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ইরান আলোচনার টেবিলে আন্তরিক নয় এবং সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি অর্থবহ চুক্তি চাই, এমন একটি চুক্তি যা কার্যকর হবে। আমরা চাই না ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করুক।” তার দাবি, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরান পিছিয়ে যায়।

উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানে যোগাযোগ ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানো হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, হামলায় শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বামানি এলাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পানির সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের একটি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, এসব স্থাপনায় হামলার ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের নিরাপদ পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি পানিসংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলার মধ্যে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংরক্ষণাগারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে সৌদি আরব ইরানের এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেছে, এ ধরনের হামলা শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ধীরে ধীরে আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব শুধু অঞ্চলটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সীমান্ত অতিক্রম করে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

গুতেরেস আরও সতর্ক করেন, চলমান পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধের নির্মম মূল্য দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ, আর এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।”

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনুভূত হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেশি বাড়তে পারত। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির মূল্যও দ্রুত কমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে ইরান একদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও হামলা হলে তারা উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যুদ্ধ যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং উপসাগরীয় অঞ্চল, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

সূত্রঃ আল-জাজিরা।


বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:৩৩:৩০
বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তিনটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে ইরানের স্বার্থবিরোধী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি।

আইএইএর নির্বাহী বোর্ডের জুন মাসের ত্রৈমাসিক বৈঠক উপলক্ষে পাঠানো ওই চিঠিতে আরাঘচি বলেন, বর্তমান সংকটের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, আইএইএর নির্বাহী বোর্ডকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর আইএইএর নির্বাহী বোর্ডে একটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়। এতে বহু সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

আরাঘচি প্রশ্ন তোলেন, আইএইএ কি আবারও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে? তিনি আরও বলেন, যে পক্ষগুলো বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী, তারাই এখন সমাধানের দাবিদার হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে।

চিঠিতে গত বছর জুনের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক হামলা এবং ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনাকে আইএইএর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বশান্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।

আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

চিঠির আরেক অংশে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং আইএইএর তত্ত্বাবধানে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবহেলার প্রমাণ।

এ অবস্থায় বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের চলমান ত্রৈমাসিক সভায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে। এর পরপরই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এই চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান।

সূত্র: ইরনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়

পাঠকের মতামত: