ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দশম রাতের মতো চালানো সর্বশেষ অভিযানে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটির পাশাপাশি একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক জবাব দেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখন তাঁর প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সামরিক অভিযান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।
এই সামরিক অভিযানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহান্তে ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মার্কিন সেনার প্রাণহানির জন্য তেহরানকে ‘বহুগুণ বেশি মূল্য’ দিতে হবে। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।
-রফিক
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সময়ে সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই হতাহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব এবং আহত সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা জনসমক্ষে আনতে দেরি করায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ৭ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।
পারনেল বলেন, অধিকাংশ সেনাই মৃদু কনকাশন (হালকা মস্তিষ্কে আঘাত) বা তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তারা আবারও সক্রিয় দায়িত্বে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আহত সেনাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে কার্যকর বলে উল্লেখ করেন।
পেন্টাগনের এই ব্যাখ্যা এসেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্বাভাবিক বিলম্ব করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েক ডজন আহত সেনার তথ্য দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে সিএনএন-এর সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ধীরগতিতে এগিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা, চলমান সামরিক অভিযান এবং অপারেশনাল সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনা করেই তথ্য প্রকাশে সময় নেওয়া হয়েছিল।
তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, যুদ্ধকালীন হতাহত ও আহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব জনসাধারণের জানার অধিকারকে সীমিত করে এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সময়মতো তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-রফিক
চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার প্রতিবেশী ও প্রধান প্রতিপক্ষ দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধের (Naval Blockade) ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই একপাক্ষিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে লোহিত সাগর ও সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরব এবং হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পরই এই বড় ধরনের রণকৌশলগত ঘোষণাটি সামনে এলো।
হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে “চোখের বদলে চোখ” নীতির ভিত্তিতে আমাদের প্রধান সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে এই সামরিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা করছি।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ বিবৃতি ও সামরিক আদেশটি গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত নৌপথে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই আকস্মিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যা প্রকারান্তরে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও বেশি অস্থির ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মুখে দেশের বিদ্যমান অবস্থান স্পষ্ট করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক অনমনীয় ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশের চলমান এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণকে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এই দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিরোধের যেকোনো স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো, আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সর্বাত্মক ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরনের কাল্পনিক জগতে না থেকে কঠোরভাবে বাস্তববাদী হতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই অনড় প্রতিরোধের ফলে সামনে আসা যেকোনো স্বাভাবিক বা কঠিন পরিণতি অত্যন্ত সাহসের সাথে মেনে নিতে হবে।’
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-র অভ্যন্তরীণ নানা শর্ত ও সমীকরণ নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চুক্তিটি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা হলেও, এটি মূলত ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।
চুক্তির আইনি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করে পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘উক্ত সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৪টি ধারার কোনো একটিতেও আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার, দীর্ঘদিনের অনুসৃত রাষ্ট্রীয় নীতি, সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ, মূল বিপ্লবী মূল্যবোধ কিংবা ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি বা কোনো ছাড় দিইনি।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সমঝোতার সিংহভাগ বড় বড় অর্জন সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অনুকূলেই এসেছে। চুক্তির দলিলে এমন কোনো একক ধারা কার্যত ও আইনগতভাবে রাখা হয়নি, যা একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি কোনো কৌশলগত সুবিধা বা প্রিভিলেজ সৃষ্টি করেছে।’
এখানে বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কায়েম করা। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পার হতে না হতেই চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আবারও ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা শুরু হয়েছে।
/আশিক
‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হামলার পর ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। সংস্থাটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সর্বশেষ হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।
আল জাজিরা প্রকাশিত বিবৃতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত একটি ‘আগ্রাসী ও বর্বরোচিত’ সামরিক অভিযান। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দারখোভিনের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার রাতের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিরুদ্ধে জবাবমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বর্বরোচিত হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর এবং বিধ্বংসী’।
-রফিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ অভিযানে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, সম্প্রতি চারটি জাহাজ ‘অনিরাপদ’ রুট ব্যবহার করছিল। সতর্কবার্তার পর দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অপর দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সেগুলোতে সরাসরি হামলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলায় দারখোভিন অঞ্চলের নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও হামলার ঘটনা তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-কে জবাব দেওয়া। একই রাতে দারখোভিন ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগান এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের একটি পানি পরিশোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের আকাশেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
-রয়টার্স, আল জাজিরা
ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে ইরানের বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে মোটেও আমল বা পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের এমন একপাক্ষিক ঘোষণায় ওয়াশিংটনের ‘কিছুই যায় আসে না’। তবে সমঝোতা চুক্তিটি ভেঙে গেলেও ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।
হোয়াইট হাউজের এই প্রধান নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য একটাই—আর তা হলো ইরান যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং মার্কিন প্রশাসন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এখানে উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী কর্তৃক শুরু করা দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধের জেরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বেড়েছে এবং দুই পক্ষই বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ড্রোন ধ্বংসের সামরিক তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিশিয়াল টেকনিক্যাল তথ্য ও বিবরণী অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার হলো অত্যন্ত আধুনিক ও দূরনিয়ন্ত্রিত একটি চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (ড্রোন)। এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুর গতিবিধি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করে থাকে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন কৌশলগত ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমস্ত রক্ষাকবচের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ বেসামরিক ও একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন বলে কড়া ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো প্রাথমিক ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই আকস্মিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কী ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কতটুকু, সে বিষয়ে তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম বৈরিতার পারদ যখন দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাবে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না এবং দফায় দফায় এই ভয়াবহ গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই মার্কিন হামলা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বেশি সংঘাতময় ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
/আশিক
আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
সৌদি আরবকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ও অনুমতি দিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এই চুক্তিটি এখন আইনি টেবিলে আটকে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই এই সম্ভাব্য চুক্তির যাবতীয় কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নথিতে সই করতে বিলম্ব করছেন। এ ছাড়া খসড়াটি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত হলে সেখানে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে—এমন একটি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক আশঙ্কাও এই বিলম্বের অন্যতম বড় কারণ।
পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিয়মানুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটিই হলো মূলত পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরির মূল ও প্রাথমিক অনুষঙ্গ। এই কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো দেশ যদি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চায়, তবে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আমদানি করে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, কঠোর বিধিনিষেধ বা আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকলে এই শিথিল চুক্তির সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব খুব সহজেই ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও পথ পেয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু বোমা বানাতে বাধ্য হবে।
এই চুক্তির খসড়ায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো, এতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র চিরাচরিত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে, জাতিসংঘের এই স্বাধীন সংস্থাটি চাইলেই যখন-তখন সৌদির যেকোনো সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বা সেখানে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারবে না। পুরো পারমাণবিক কর্মসূচির দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ কেবল ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে। অথচ ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লোভ ত্যাগ করে সম্পূর্ণ কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাতিসংঘের কড়া নজরদারি মেনে আমেরিকার সাথে চুক্তি সই করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সুরক্ষার ইতিহাসে আজ অবধি আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর করা চরম বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ রিয়াদ প্রশাসন যেকোনো সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই পরমাণু কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাতারাতি নিজেদের একক সামরিক কর্তৃত্বে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে ও মার্কিন প্রশাসনের যারা ওকালতি করছেন, তাদের প্রধান অর্থনৈতিক যুক্তি হলো—এই বিশাল চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার নিজস্ব পরমাণু ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অংকের মুনাফা অর্জনের বড় সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া মার্কিন লবিস্টদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন সৌদিকে এই প্রযুক্তি না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো বিকল্প পথ হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীনের কাছে হাত বাড়াবে; যারা কোনো কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত ছাড়াই আরও সহজে সৌদিকে এই পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে চুক্তির ঘোর বিরোধীদের স্পষ্ট কথা, ওয়াশিংটন যদি বাণিজ্যিক লাভের আশায় এভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে সৌদির সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করে, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক নজির হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ভঙ্গ করেছে। তার ভাষায়, এই পুনরাবৃত্ত ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নির্ভরযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে দাবি করেন, জবরদস্তি, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কঠোর শক্তি প্রয়োগের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে আছে।
নিজের বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Resistance Front) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
খামেনি জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সব স্তরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখা। তার মতে, জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধাদের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই দিনে দেওয়া এক পৃথক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দেশের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও মতবিরোধ থেকে দূরে থাকা।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করায় তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
- ঢাকার যেসব এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত
- আজ টিভিতে কী কী খেলা? দেখে নিন সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ
- রেফারিকে প্রভাবিত করে ম্যাচ জিতেছে স্পেন: ফাইনাল হেরে বিস্ফোরক ওটামেন্ডি
- সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি
- চট্টগ্রামে যুব রেড ক্রিসেন্টের ৪১ ওয়ার্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- 'সবকিছু ভুলে যাও': ড্রেসিংরুমে মেসির রহস্যময় বার্তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে তোলপাড়
- ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার আগাম সতর্কতা
- চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
- সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
- মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যেসব এলাকায় থাকবে না গ্যাস
- ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
- ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
- জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
- দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
- আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- ‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
- ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি








