লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে: আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:১০:৫৯
লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কাজ চলে: আমির হামজা
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিস্তার নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হামজা।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির হামজা বলেন, লালন সাঁইয়ের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তবে এসব আয়োজনের আড়ালে এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাজার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কী, তা জানতে চান এই সংসদ সদস্য।

জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু লালন মাজার নয়, সরকার সারা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদক নির্মূলে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ও সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বিগত সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৮ বছর দেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার সময় ছিল, যখন মাদক সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সমাজকে নেতিবাচক অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তরুণ সমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রেখে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে বের করে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

লালন সাঁইয়ের মাজারকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্কের পর এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সচেতন মহলের। বিশেষ করে মাজার এলাকায় সাংস্কৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং মাদক নির্মূলে নজরদারি জোরদারের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন তারা।

/আশিক


সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনুন: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২২:০০:১৩
সময় থাকতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনুন: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত এবং আরও দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদান এবং দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় জামায়াত আমির নিহতের আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা এবং আহত ব্যক্তিদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত রাতে রাজধানীর কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে একই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আহত দুইজনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

তিনি প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘অনতিবিলম্বে খুনি ও দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাজপথে এ ধরনের খুনাখুনি সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করে। রাষ্ট্রের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবিলম্বে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে এনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে।

/আশিক


গণরায় না মানলে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না সরকার: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২০:২৫:১০
গণরায় না মানলে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না সরকার: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

সরকার যদি জুলাই বিপ্লবের সংস্কার পরিকল্পনা এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির তারেক রহমানকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি জনরায়কে সম্মান জানিয়ে পাঁচ বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্বৈরশাসকদের মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে চান।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্ব রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশ-বিদেশে তরুণদের যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী উত্থান ঘটছে, তা মূলত জুলাই বিপ্লবেরই বিশ্বজনীন ধারাবাহিকতা। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ও জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের আন্তরিক সাধুবাদ জানান।

দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান তরুণদের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যখন গণদাবি ও তরুণ সমাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের নতুন সরকার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছে।

নাহিদ ইসলাম আফসোস প্রকাশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকার জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসেই তারা গণরায়কে অবজ্ঞা করা শুরু করেছে। গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে এবং 'জুলাই সনদের' পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিলেও সরকার সেই স্পষ্ট রায়কে এড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজেদের দলের ভেতর কোনো গুণগত পরিবর্তন আনেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যেও পৌঁছাতে পারেনি। তারা যদি জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ, ১৪০০ শহীদের অবদান এবং তরুণদের রক্তের কথা ভুলে যায়, তবে এর পরিণতি তারেক রহমানের সরকারকেই চূড়ান্তভাবে ভোগ করতে হবে।

সংবিধান সংস্কার বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে 'সংস্কার নাকি সংশোধন' বিতর্ক তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। ঐকমত্য কমিশনে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী 'সংস্কার পরিষদ' বা 'গণপরিষদ'। ওই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও গণভোটে সম্মতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তা বেমালুম ভুলে গেছে। তাদের দলীয় ২১ দফায় সংস্কারের কথা থাকলেও এখন তারা কেবল সংশোধনের কথা বলছে। একই সঙ্গে কিছু বুদ্ধিজীবীও এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে এসেছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তীব্র গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম মধ্যবিত্তের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাজেটের নামে জনগণের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো হচ্ছে। সঠিক সংস্কার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতাও মিলছে না। ফলে সংস্কার ও সঠিক বিচার না করলে তারেক রহমানের সরকার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে আবারও নতুন করে দলীয়করণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় বর্তমান কমিশনারদের সসম্মানে পদত্যাগ করা উচিত।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে এই সরকারকে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া হবে না। তিনি সিলেটবাসীকে আহ্বান জানান, জুলাই বিপ্লবের মতো আবারও সুশাসন, সার্বভৌমত্ব ও গণরায়ের পক্ষে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে। তিনি নিশ্চিত করেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও পরিবর্তনের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আগের মতোই সুদৃঢ় থাকবে।

/আশিক


নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:৩৬:০১
নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তাঁকে ঘিরে বিতর্ক এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আলোচনা প্রথমে দলীয় শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্নে সীমিত থাকলেও এখন তা তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সেই সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কে রূপ নিয়েছে। জামায়াত দলীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েই ২২ জুলাই তাঁকে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কারের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে। সর্বশেষ একটি ভিডিওতে তাঁকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলে প্রবেশ এবং লবি, করিডর ও সিঁড়িঘরে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর পূর্ণ প্রেক্ষাপট, ধারণের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে তার বাইরে কোনো সম্পর্ক বা অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনও নতুন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছে।

এর আগে প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, সেখানে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ভিডিওটি তাঁর সম্মতি ছাড়া ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই দাবির পরও বিতর্ক থামেনি। বরং জামায়াত নিজস্ব সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে এবং তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’ পাওয়ার কথা জানায়। এরপর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বহিষ্কারের পর বিষয়টি শুধু দলীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি জামায়াত। ২৩ জুলাই দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত চিঠি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এখানেই সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেই দল থেকে নিজে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। কিন্তু বর্তমান অনুচ্ছেদের ভাষায় দল কর্তৃক বহিষ্কারকে আলাদাভাবে আসন শূন্য হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধু দল থেকে বহিষ্কার হলেই গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি সংবিধানের পাঠ থেকে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর অযোগ্য হয়ে পড়েছেন কি না অথবা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য হওয়া উচিত কি না, এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। কমিশন শুনানি ও আইনগত পর্যালোচনার পর যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে।

এই কারণেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্যের আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সংসদ বা স্পিকারের কাছ থেকে যথাযথ রেফারেন্স এলে কমিশন আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। এর ফলে গাজী নজরুলের ভবিষ্যৎ সংসদীয় অবস্থান নির্ধারণে স্পিকার, সংসদ সচিবালয় এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

ঘটনার প্রভাব পড়েছে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগরেও। সেখানে তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে। জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর স্থানীয়ভাবে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

-রফিক


রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২১:০৭:১০
রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের রাজপথের লড়াই অবিরাম চলবে। দেশের জনগণের সম্পূর্ণ মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ অবশিষ্টাংশ বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা', 'গণভোটের রায় বাস্তবায়ন' এবং 'জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে'র দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দেওয়া রায়কে কোনোভাবেই অবমাননা করা যাবে না। অতীতে যারা জনগণের জনমতকে তোয়াক্কা করেনি বা অপমান করেছে, ইতিহাস স্বাক্ষী তাদের চিরকাল চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। তাই সময় গড়ালেও বর্তমান বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীকে সম্মান দিলে তারাও সরকারকে গ্রহণ করবে এবং যথাযথ সম্মান ফেরত দেবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের সার্বিক দায়িত্ব এককভাবে সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের পর কেন সেই গণভোটকে সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ বলা হচ্ছে? যদি গণভোটই অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধতা পায়—সরকারের কাছে সেই হিসাব দাবি করেন তিনি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেল, সেই বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বা তাদের দেওয়া ঋণ শোধে সরকারের কোনো লক্ষণীয় উদ্যোগ নেই। অনতিবিলম্বে জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারী ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:১৮:০২
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সংবাদে বেশ কিছু নাম ও রাজনৈতিক পদের তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম কখনোই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদটি বর্তমানে তাদের কারও নয়। নাহিদ ইসলাম মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তবে আপনার দেওয়া সংবাদের মূল বক্তব্য ও গঠন ঠিক রেখে নিচে পুনর্লিখন করা হলো:

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। জামালপুরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

একইসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো অগ্রগতি না হলে আবারও রাজপথে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে তোলার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি মোড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাপ্তির পর আয়োজিত এক জনসভায় এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেন রাষ্ট্রপতির মনে হলো যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রপতিকে সরাতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেবল পদত্যাগ নয়, পদত্যাগের পর তার গ্রেপ্তার দেখতে চায় জনগণ।

জামালপুরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আগের বছরও জামালপুরের সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের পাশে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জেলা শহরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে—জেলা পুলিশ প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে সে হিসাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিলেও এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ গ্রহণ করা হয়নি। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও সতর্ক করে দেন, সরকার যদি জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য না দেয়, তবে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। সরকার নিজেদের নিরাপদ ভাবলে ভুল করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবারও সারাদেশে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির জামালপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ মো. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশের শেষপর্যায়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবু সাইদ মো. শামীম এবং জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে আবিদ সৌরভকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৯:৩৯:২৪
রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সুসংবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল, তা অনেক আগেই রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। এই ইস্যুতে বিএনপিকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও বিষয়টিকে তারা যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে আরও লেখেন, সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বর্তমানের এই বিতর্ক ও সমালোচনার কোনো সুযোগ থাকত না। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে এই অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলায় একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি।

/আশিক


আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২২:০৩:২৮
আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিফ হুইপ দাবি করেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর সংসদ সদস্যপদও হারাবেন এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের মতে, চিফ হুইপের এই ধারণা আইনত সঠিক নয় এবং এটি সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “বহিষ্কার যদি করে থাকে, তাঁর সংসদ সদস্য পদও থাকবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দলে যোগ দেন বা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হন, তবে তিনি দলের সদস্য। ফলে দল বহিষ্কার করলে তিনি আর পার্টির মেম্বার থাকেন না এবং সেই হিসেবে পদ হারাবেন। নির্বাচন কমিশনই তাঁর পদ হারানোর ঘোষণা দেবে।”

তবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চিফ হুইপের এই যুক্তি আইনি ভিত্তিহীন। ৭০ অনুচ্ছেদের মূল লক্ষ্য হলো সংসদ সদস্যদের দল পরিবর্তন (Floor Crossing) রোধ করা।

অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল দুটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয়

১. তিনি যদি নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ (Resign) করেন।

২. সংসদে নিজ দলের পক্ষে ভোট না দিয়ে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান (Vote against the party) করেন বা অনুপস্থিত থাকেন।

সংবিধানে দল থেকে কোনো সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা হলে পদ শূন্য হওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। একাধিক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতেও দল থেকে বহিষ্কৃত অনেক সংসদ সদস্য সংসদে তাঁদের পদে বহাল ছিলেন, কারণ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আর নিজে দলত্যাগ করা এক বিষয় নয়। দল কাউকে বহিষ্কার করলে তিনি সংসদে অনির্দিষ্টকালের জন্য 'স্বতন্ত্র' বা অবাধ্য সদস্য হিসেবে অবস্থান করার অধিকার রাখেন, যদি না তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সম্প্রতি অনৈতিক সম্পর্কের বিতর্কিত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শেষে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিচালনা করে, তা এখন আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় একটি পরীক্ষামূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে


বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২০:৩১:৪৬
বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ধর্ম ও রাজনীতির নামে নতুন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও গুরুত্ব রয়েছে; ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে ছোট বা খাটো করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে একদম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত পরিচয়ে বিশেষ কোনো পক্ষপাত বা অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভালোবাসা অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, নতুন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় সংগঠন ও এডহক কমিটি গঠন করা হবে, যার জাতীয় কাউন্সিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।

সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। চলতি বছরের মধ্যেই ৪১ লাখ পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, 'কৃষক কার্ড' চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা প্রদান এবং নদী ও খাল খনন কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের উন্নয়ন কেবল ইউএনও বা সরকারি আমলাদের দিয়ে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে। প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে বর্তমান সামান্য ভাতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্যায্য বরখাস্ত বন্ধে নতুন আইন পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অতীতের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যেতে পারে না। ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে”।

সূত্র: বাসস


এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৯:৫০:২৭
এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা
গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা। ছবি: কালবেলা গ্রাফিক্স

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা এবং গোপন ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে ইতোমধ্যেই আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ওপর ভিত্তি করে আসামি আমিনুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের নিজের চাচাতো ভাই।

এ মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার শুনানি চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তার আসামি আমিনুরকে বিচারকের সামনে হাজির করেন। তিনি মামলার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার জোর আবেদন জানান। বিবাদী পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ঘটনার বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর উত্তর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তাঁর বোনের বাসায় পরিবারসহ বসবাস করতেন এবং পেশাগতভাবে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। পারিবারিক ও আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এমপি নজরুল ইসলাম ওই বাসায় মাঝেমধ্যেই যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ওবায়দুরের ১৭ বছর বয়সী ভাগ্নির সঙ্গে এমপি নজরুল ইসলাম অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুল নিজের পরিবারকে অবহিত করেন এবং এমপিকে এই অনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকার আকুতি জানান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি গাজী নজরুল তাঁকে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।

বাদীর এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমপি নজরুল ও তাঁর ভাগ্নির কিছু 'অপ্রীতিকর ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও' হাতিয়ে নিয়ে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এতে এমপি নজরুল ইসলাম ধারণা করেন যে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুলই এই গোপন দৃশ্য ধারণ করে গণমাধ্যম ও ব্ল্যাকমেইলারদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সন্দেহের জের ধরে গত ১৪ জুলাই এমপি নজরুলের সরাসরি নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর চড়াও হয়।

হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর জানান, গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে তাঁর চাচাতো ভাই আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেবে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম ঘরের ভেতর থেকে ছুটে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, এই ন্যক্কারজনক হামলার পর থেকেও আসামিরা ওবায়দুলকে যেখানে পাবে সেখানেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। আদালত মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: