ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:১২:৩০
ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে তেহরান। ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক বা নৌ অবরোধ মেনে নেবে না ইরান। প্রয়োজনে এমন অবরোধ শক্তি প্রয়োগ করে ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরান বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে তার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের বৈধ অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টা সরাসরি প্রতিরোধ করা হবে। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত কোনো অবরোধ ইরানের সার্বভৌম অধিকারের বিরুদ্ধে যাবে এবং সে ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে দৃঢ়ভাবে।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতি এবং আত্মরক্ষা একে অপরের পরিপূরক। তেহরান আলোচনায় আন্তরিক হলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আরও বেশি দৃঢ়। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই তার বৈধ অধিকার বা কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

রেজায়ির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান নিজেকে শুধু আলোচনার টেবিলে নয়, প্রয়োজন হলে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রস্তুত রাখতে চায়। তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র একই সঙ্গে কূটনৈতিক সাফল্য, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। রেজায়ির দাবি, সাম্প্রতিক সংকটগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ওয়াশিংটনের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করেছে এবং মানবাধিকারের প্রশ্নেও দ্বৈত নীতি অনুসরণ করেছে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রসঙ্গে রেজায়ি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার এবং এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য নয়, বরং কৃষি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

তার মতে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় থেকে ইরান যেভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও একমাত্র তেহরানই নেবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব যখন ইরানি জনগণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে পূর্ণ সম্মান পাবে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় একটি স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।

রেজায়ির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দেন এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারেন না। তার ভাষায়, মার্কিন নেতৃত্বের এই অস্থির অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্যতম বড় বাধা।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে, তবে কোনো বৈরী সামরিক উপস্থিতি বা অবরোধের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি


দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৭:৫১:৫৭
দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরান ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী এই সিনেটর দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং সেই প্রচারণা মঞ্চ থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার ভাষ্যমতে, ইরান এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হতে প্রস্তুত, যেখানে দেশটি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তারা এই সংঘাতে এগিয়ে আছে। ট্রাম্পের মতে, খুব শিগগিরই এমন একটি পর্যায় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দেবে এবং সেটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সফলতা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যদি প্রত্যাশিত অগ্রগতি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা কমে গেলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপ কমবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে বড় অগ্রগতি’ বা ‘চূড়ান্ত সমাধান’ ধরনের সময়সীমাভিত্তিক আশাবাদী বক্তব্য ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। বিশেষ করে গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ও তিনি অনুরূপ সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। সূত্র: সিএনএন


নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৭:০৭:১১
নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করা ঠেকাতে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ওয়াশিংটনের অবস্থানও পুনর্বিবেচনার মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান যে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তার পরপরই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ওই পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে তারা আর নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে যাতে ইসরায়েলকেও সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করা হয়। তার মতে, এটি সংকট নিরসনের একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে, যা কাজে লাগানো জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হলেও চলমান সংঘাতকে আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে না দিতে ওয়াশিংটন এখন আরও সতর্ক কৌশল গ্রহণ করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে ইসরায়েল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে। ফলে সাময়িক শান্তির ইঙ্গিত মিললেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

-রফিক


ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:৪৮:০৩
ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও দফায় দফায় অনুরোধের পর অবশেষে ইরানের অভ্যন্তরে চলমান প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতেই ইসরায়েল আপাতত ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালাচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহরগুলো লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে (দাহিয়েহ) আবারও বিমান হামলা শুরু করবে আইডিএফ।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান সাময়িক শিথিল করা হলেও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি স্থল ও আকাশ অভিযান আগামী কয়েক দিন পূর্ণ শক্তিতে অনবরত অব্যাহত থাকবে। অবশ্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং তেল আবিব বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এর ঠিক কিছু সময় আগে ইরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলে তাদের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ইরানের জরুরি সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ ঘাঁটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানায়, "সশস্ত্র বাহিনীর সাময়িক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলো।" তবে আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্যান্য স্থানে যদি ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হয়, তবে পরবর্তী জবাব হবে আরও ধ্বংসাত্মক।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নজিরবিহীন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত রোববার ভোরে, যখন হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইরানের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করে বৈরুতে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। এর প্রতিশোধ হিসেবে রোববার রাতে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে ইরান।

হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দুই দেশকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন। যদিও প্রথম কয়েক ঘণ্টা ট্রাম্পের এই বার্তা উপেক্ষা করে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। তবে ট্রাম্পের চূড়ান্ত কূটনৈতিক চাপের মুখে সোমবার রাতে এসে দুই পক্ষই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির অলিখিত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হলো, যা পুরো বিশ্বকে এক পারমাণবিক মহাযুদ্ধের হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি দিল।

/আশিক


ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৮:৩৫:২৫
ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান এবং তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—তেল আবিব যদি লেবাননে পুনরায় আগ্রাসন শুরু করে, তবে এবার আরও কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইরানের এই নাটকীয় ঘোষণার ঠিক কিছু সময় আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান। গত রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার কারণে গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি চরম হুমকির মুখে পড়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেন, "ইরান ও ইসরায়েল এখন অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে। কোনো পক্ষের বোকামি যদি মাঝপথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে।"

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান থেকে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের পশ্চিমা সমর্থকদের অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। যদি তাদের আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সফল সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, "জায়নবাদী ইসরায়েলি শক্তি এবং তাদের লাগামহীন আন্তর্জাতিক আগ্রাসনই মূলত এই আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার একমাত্র মূল কারণ।"

ইরানের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও অভিযান স্থগিতের ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তাঁর দেশ ইরানের অভ্যন্তরে কেবল এক দিন নয়, বরং বেশ কয়েক দিন ধরে একটানা বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর মতো সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ নিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

/আশিক


দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ধসে পড়েছে বহু ভবন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১২:১৪:১০
দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ধসে পড়েছে বহু ভবন
ছবি : সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর সক্রিয়তার কারণে দক্ষিণ ফিলিপাইনে আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) মিন্দানাও অঞ্চলের জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণে সমুদ্রের নিচে এই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় পুরো অঞ্চল জুড়ে বহু ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ধসে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার মাঝেই ফিলিপাইনসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে তীব্র সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, ৭.৮ মাত্রার এই মূল ভূমিকম্পের পর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকায় একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় আফটারশকটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৫। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP) কর্তৃক যাচাইকৃত সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাসকারী জেনারেল সান্তোস সিটির একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারের পুরো ভবন এবং এর ভেতরে থাকা জনপ্রিয় ফুড চেইন 'জোলিবি'র শাখা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

অন্য একটি এলাকায় একটি খালি স্কুল ভবন হুড়মুড় করে ধসে পড়ার দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের আতঙ্কে চিৎকার করতে দেখা গেছে। আলাবেল এলাকার পুলিশ মেজর রোল্যান্ড কাতোবুরান জানান, একটি বহুতল দেয়াল ধসে পড়ে সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কিছু পুলিশ স্টেশনে ফাটল ধরায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেনারেল সান্তোস সিটির পুলিশ সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন আরও একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বর্তমানে উদ্ধারকাজে ব্যস্ত রয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্ক কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান এবং পাপুয়া নিউ গিনির উপকূলে শক্তিশালী সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফারডিনাল্ড মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করেছেন এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, "এখনই উঁচু স্থানে যান, অপেক্ষা করবেন না।

আপনার জীবন রেখে যাওয়া অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা উপকূলীয় শহর কিয়াম্বা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আগ্রিপিনো ডাকেরা জানান, উপকূলের ৮০ শতাংশ মানুষকে ইতোমধ্যে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সাথে জেনারেল সান্তোস সিটির বিমানবন্দর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের এই তীব্র ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও; জাপান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বড় অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও প্রাথমিক সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইনে প্রায়শই এমন দুর্যোগ দেখা দেয়, এর আগে গত অক্টোবরেও মিন্দানাওয়ে ৭.৪ ও ৬.৭ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছিলেন।

/আশিক


ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের ফের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১০:৫১:৫৮
ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের ফের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং তার জবাবে ইরানের একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জরুরি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে আবারও নতুন করে এক দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশেই ভূপাতিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইডিএফ সাধারণ নাগরিকদের মোবাইল ফোন বা সাইরেনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে (বাঙ্কার) যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রথম দফার হামলাটি চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের টাইর ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বেসামরিক হত্যাকাণ্ড ও বাস্তুচ্যুতির জবাব হিসেবেই এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথম দফার সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার এবং কোনো হতাহত না হওয়ার দাবি করলেও, আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—ইসরায়েল আবার পাল্টা আঘাত করলে ইরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হবে আরও বিধ্বংসী, যার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী আজ সোমবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বোমাবর্ষণ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই একে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমাদের হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা, নতুন কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে আরও কঠোর।"

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচাতে ওয়াশিংটন থেকে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ এবং ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "ইরানের হামলায় যেহেতু কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তাই আশা করি ইসরায়েল এখানেই থামবে।

উভয় পক্ষই তাদের বার্তা দিয়ে দিয়েছে, এখন আর নতুন সংঘাতের প্রয়োজন নেই।" ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং এই যুদ্ধের কারণে সেই শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যাক, তা তিনি কোনোভাবেই চান না। তবে ট্রাম্পের এই আলোচনার টেবিল ও শান্তিশৃঙ্খলার আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর অনমনীয় নীতিতে অটল থাকায় পুরো অঞ্চল জুড়ে এক চরম পারমাণবিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

/আশিক


ট্রাম্পের অনুরোধ উড়িয়ে এবার ইরানের বুকে পাল্টা হামলা চালাল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১০:১২:১৯
ট্রাম্পের অনুরোধ উড়িয়ে এবার ইরানের বুকে পাল্টা হামলা চালাল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ ও অনুরোধ উড়িয়ে দিয়ে ইরানের ভূখণ্ডে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বৈরুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে গতকাল রবিবার (৭ জুন) ইসরায়েলের বুক লক্ষ্য করে ইরানের চালানো নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নিতেই তেল আবিব আজ সোমবার এই পাল্টা আঘাত হানল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক কৌশলগত ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে এই শক্তিশালী হামলা পরিচালনা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলও হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরের আকাশ তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) তাদের জরুরি বুলেটিনে জানিয়েছে, তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহানের সামরিক ঘাঁটিগুলোর আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে গতকাল রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যাতে আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ না নেয়, সেজন্য ইরানের ওই হামলার পরপরই বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে ইরানকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসরায়েলকে ইরানের ওপর পাল্টা কোনো হামলা না চালানোর জন্য কঠোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের সেই শান্তি কূটনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইরানের বুকে গর্জে উঠল ইসরায়েলি ফাইটার জেট ও মিসাইল, যা পুরো বিশ্বকে এক চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

/আশিক


মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে 'সেকেলে কল্পনা' বলে উড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২১:৫৩:৩৮
মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে 'সেকেলে কল্পনা' বলে উড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে ‘সেকেলে কল্পনা’ আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনাযোগ্য নয় বলে সাফ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধান নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত পিয়ংইয়ং সফরের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি এই কড়া বার্তা দিলেন। আজ রবিবার (৭ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন।

বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, "পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান একেবারেই আলোচনার বিষয় নয় এবং উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না।" গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক-পরবর্তী মার্কিন অবস্থানেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ওই বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল—ওয়াশিংটন ও বেইজিং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার অভিন্ন লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। কিম ইয়ো জং এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনও তাদের সেকেলে স্বপ্ন থেকে জাগতে পারেননি। দেশের নেতার নির্দেশনায় আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতি একটি অপরিবর্তনীয় পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালে সংবিধানেও নিজেদের ‘পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই অনমনীয় অবস্থানের মাঝেই দীর্ঘ সাত বছর পর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য বেইজিংয়ের এই সফর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সূচকীয় হারে সম্প্রসারণ এবং আগামী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে মস্কোর কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। কিম ইয়ো জংয়ের এই সর্বশেষ বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে পিয়ংইয়ং আপাতত বিন্দুমাত্র প্রস্তুত নয়।

সূত্র : এএফপি


ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব তুঙ্গে: ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও বৈরুতে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২০:১৫:২৩
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব তুঙ্গে: ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও বৈরুতে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া আপত্তি ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, বৈরুতে এ ধরনের হামলা ইরানের বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান ভঙ্গুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ ব্যাহত করবে। তেহরান ইতোমধ্যে এই হামলাকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের চলমান দুর্বল যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আজ রবিবার (৭ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান সদর দপ্তর থাকা এলাকাটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশেষ করে আল-মরাইযেহ এলাকায় একটি বহুতল ভবনকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

এদিকে এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর মূল কার্যালয় লক্ষ্য করেই এই সফল আক্রমণ চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের দখলকৃত উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অব্যাহত রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবেই এই বিমান হামলা চালানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জরুরি ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট সতর্ক করেছিলেন যে, বৈরুতকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ট্রাম্পের সেই কঠোর বার্তার পর ইসরায়েল সাময়িকভাবে দাহিয়েহে হামলার পরিকল্পনা স্থগিতও করেছিল।

ট্রাম্পের ওই ফোনালাপের পর ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, যদি দাহিয়েহে পুনরায় হামলা চালানো হয়, তবে তারা ইসরায়েলি দখলকৃত মূল ভূখণ্ডে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানবে। তবে পরে ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৫’ জানায়, রোববারের এই আকস্মিক হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল।

হিজবুল্লাহ ও লেবানন গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইসরায়েলের ব্যাপক ও ধারাবাহিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে, যখন ইরান-মার্কিন উত্তেজনার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু হয়। এদিকে ইরান গত ৮ এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও শুরুতেই শর্ত দিয়েছিল যে, হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমস্ত আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

তবে হিজবুল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক চাপ সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাবে এবং পশ্চিমা চাপে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার যেকোনো অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টাও তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। উল্লেখ্য, চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় দুই মিলিয়ন (২০ লাখ) বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

পাঠকের মতামত: