যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:৪২:১১
যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত
ছবি : সংগৃহীত

গাজাজুড়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও তা চরমভাবে লঙ্ঘন করে গাজা সিটির একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী ও তাঁর তিন কন্যা সন্তান নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA)-র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) তুর্কি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সি’ এই শোকাবহ ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আল থালাথিনি স্ট্রিটের এক ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এ ধরনের সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তখন গাজার পুরো ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) দখলে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চুক্তি অমান্য করে এলাকা সম্প্রসারণ ও অভিযানের ফলে বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অনবরত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে চালানো এসব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫৮ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৫৬ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে মোট ৭৩ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জনে। এ ছাড়া দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞের ফলে গাজার মোট বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:১৪:৩৮
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা খাতে। দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধন প্ল্যান্টে (Desalination Plant) আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা আক্রমণের মুখে রাষ্ট্রের এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ব্যাপক ও অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুয়েত সরকার।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) প্রকাশিত এক জরুরি সরকারি বিবৃতিতে জানায়, দেশের মূল বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অবকাঠামোগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরপর চার দিন ধরে এ ধরনের বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানি সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবারের শেষ হামলায় কেন্দ্রগুলোর বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, হামলার পরপরই কুয়েতি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপে কেন্দ্রগুলোর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দলগুলোর মাধ্যমে হামলায় হওয়া সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে দিনরাত মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১০:১২:১০
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দশম রাতের মতো চালানো সর্বশেষ অভিযানে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটির পাশাপাশি একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক জবাব দেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখন তাঁর প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সামরিক অভিযান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।

এই সামরিক অভিযানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহান্তে ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মার্কিন সেনার প্রাণহানির জন্য তেহরানকে ‘বহুগুণ বেশি মূল্য’ দিতে হবে। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

-রফিক


ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ০৯:৩৩:৫১
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সময়ে সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই হতাহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব এবং আহত সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা জনসমক্ষে আনতে দেরি করায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ৭ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।

পারনেল বলেন, অধিকাংশ সেনাই মৃদু কনকাশন (হালকা মস্তিষ্কে আঘাত) বা তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তারা আবারও সক্রিয় দায়িত্বে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আহত সেনাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে কার্যকর বলে উল্লেখ করেন।

পেন্টাগনের এই ব্যাখ্যা এসেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্বাভাবিক বিলম্ব করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েক ডজন আহত সেনার তথ্য দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে সিএনএন-এর সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ধীরগতিতে এগিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা, চলমান সামরিক অভিযান এবং অপারেশনাল সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনা করেই তথ্য প্রকাশে সময় নেওয়া হয়েছিল।

তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, যুদ্ধকালীন হতাহত ও আহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব জনসাধারণের জানার অধিকারকে সীমিত করে এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সময়মতো তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ২০:১৮:০৬
চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার প্রতিবেশী ও প্রধান প্রতিপক্ষ দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধের (Naval Blockade) ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই একপাক্ষিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে লোহিত সাগর ও সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরব এবং হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পরই এই বড় ধরনের রণকৌশলগত ঘোষণাটি সামনে এলো।

হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে “চোখের বদলে চোখ” নীতির ভিত্তিতে আমাদের প্রধান সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে এই সামরিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা করছি।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ বিবৃতি ও সামরিক আদেশটি গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত নৌপথে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই আকস্মিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যা প্রকারান্তরে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও বেশি অস্থির ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১৮:৩৩:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মুখে দেশের বিদ্যমান অবস্থান স্পষ্ট করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক অনমনীয় ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশের চলমান এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণকে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এই দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিরোধের যেকোনো স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো, আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সর্বাত্মক ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরনের কাল্পনিক জগতে না থেকে কঠোরভাবে বাস্তববাদী হতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই অনড় প্রতিরোধের ফলে সামনে আসা যেকোনো স্বাভাবিক বা কঠিন পরিণতি অত্যন্ত সাহসের সাথে মেনে নিতে হবে।’

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-র অভ্যন্তরীণ নানা শর্ত ও সমীকরণ নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চুক্তিটি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা হলেও, এটি মূলত ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।

চুক্তির আইনি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করে পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘উক্ত সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৪টি ধারার কোনো একটিতেও আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার, দীর্ঘদিনের অনুসৃত রাষ্ট্রীয় নীতি, সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ, মূল বিপ্লবী মূল্যবোধ কিংবা ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি বা কোনো ছাড় দিইনি।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সমঝোতার সিংহভাগ বড় বড় অর্জন সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অনুকূলেই এসেছে। চুক্তির দলিলে এমন কোনো একক ধারা কার্যত ও আইনগতভাবে রাখা হয়নি, যা একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি কোনো কৌশলগত সুবিধা বা প্রিভিলেজ সৃষ্টি করেছে।’

এখানে বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কায়েম করা। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পার হতে না হতেই চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আবারও ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা শুরু হয়েছে।

/আশিক


‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:০৩:৪২
‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হামলার পর ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। সংস্থাটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সর্বশেষ হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।

আল জাজিরা প্রকাশিত বিবৃতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত একটি ‘আগ্রাসী ও বর্বরোচিত’ সামরিক অভিযান। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দারখোভিনের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার রাতের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিরুদ্ধে জবাবমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বর্বরোচিত হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর এবং বিধ্বংসী’।

-রফিক


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ০৯:৫১:১১
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ অভিযানে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, সম্প্রতি চারটি জাহাজ ‘অনিরাপদ’ রুট ব্যবহার করছিল। সতর্কবার্তার পর দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অপর দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সেগুলোতে সরাসরি হামলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলায় দারখোভিন অঞ্চলের নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও হামলার ঘটনা তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-কে জবাব দেওয়া। একই রাতে দারখোভিন ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগান এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের একটি পানি পরিশোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের আকাশেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

-রয়টার্স, আল জাজিরা


ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২১:৪৭:১১
ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে ইরানের বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে মোটেও আমল বা পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের এমন একপাক্ষিক ঘোষণায় ওয়াশিংটনের ‘কিছুই যায় আসে না’। তবে সমঝোতা চুক্তিটি ভেঙে গেলেও ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।

হোয়াইট হাউজের এই প্রধান নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য একটাই—আর তা হলো ইরান যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং মার্কিন প্রশাসন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এখানে উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী কর্তৃক শুরু করা দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধের জেরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বেড়েছে এবং দুই পক্ষই বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ড্রোন ধ্বংসের সামরিক তথ্যটি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিশিয়াল টেকনিক্যাল তথ্য ও বিবরণী অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার হলো অত্যন্ত আধুনিক ও দূরনিয়ন্ত্রিত একটি চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (ড্রোন)। এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুর গতিবিধি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করে থাকে।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস


ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:৩৮:৪৯
ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন কৌশলগত ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমস্ত রক্ষাকবচের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ বেসামরিক ও একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন বলে কড়া ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো প্রাথমিক ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই আকস্মিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কী ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কতটুকু, সে বিষয়ে তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম বৈরিতার পারদ যখন দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাবে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না এবং দফায় দফায় এই ভয়াবহ গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই মার্কিন হামলা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বেশি সংঘাতময় ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: