এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে চলমান কংগ্রেসীয় তদন্তে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তে ক্লিনটন দম্পতির সম্মতি বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, ক্লিনটন দম্পতি সদিচ্ছার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে রাজি হয়েছেন। এর আগে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ক্লিনটন দম্পতিকে আইনি তলব অমান্যের দায়ে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
আইনি তলব ও রাজনৈতিক উত্তাপ হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এই সিদ্ধান্তে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান কোমার স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।" যদিও ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এই আইনি তলব মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার একটি কৌশল মাত্র।
এপস্টেইন ফাইলের সেই ছবি ও বিতর্ক সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের বেশ কিছু পুরোনো ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ক্লিনটন এপস্টেইনের মালিকানাধীন একটি সম্পত্তিতে সুইমিং পুলে এবং একটি হট টাবের মতো স্থানে অবস্থান করছেন। তবে ক্লিনটন বরাবরই কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছবিগুলো বহু পুরোনো এবং এপস্টেইনের অপরাধের কথা প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই ক্লিনটন তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার হওয়া কেউ সরাসরি বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। তবে তদন্ত কমিটি জানতে চায়, এপস্টেইনের অপরাধ সাম্রাজ্য সম্পর্কে ক্লিনটন দম্পতির কাছে কোনো তথ্য ছিল কি না। ক্লিনটন দম্পতির মুখপাত্র জানান, তাঁরা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যাশায় কমিটির সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন।
জেফরি এপস্টেইন ফাইলের ৩ মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার ধারাবাহিকতায় ক্লিনটন দম্পতির এই সাক্ষ্য দান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান। মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
শুল্ক হ্রাসের প্রেক্ষাপট ও আলজাজিরার তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুরোধ এবং বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে কার্যকর একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কিনতে রাজি হওয়ায় এই শাস্তি মূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় (ট্রুথ সোশ্যাল) জানিয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদী ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি (তেল, কয়লা), প্রযুক্তি, কৃষি পণ্য এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার তেল কেনার অপরাধে আগে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট কার্যকর শুল্ক এখন ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
দুই নেতার প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর টুইটার (এক্স) পোস্টে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, "প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলে দারুণ লাগলো। 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ১.৪০ বিলিয়ন মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধন্যবাদ।" অন্যদিকে ট্রাম্প মোদীকে একজন ‘শক্তিশালী এবং সম্মানিত নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের আইটি খাত, অটোমোবাইল ও টেক্সটাইল শিল্প ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে ভারতের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে রাশিয়ার তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প হিসেবে ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বহুল আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’। মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি, বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের সদস্যদের আসল চেহারা উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্দেশনায় এই বিশাল নথিপত্র জনসমক্ষে আনা হয়, যা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। নথিপত্রের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ হলো ২০০৭ সালে তৈরি হওয়া ৬০ দফার একটি খসড়া অভিযোগপত্র। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীরা মাত্র ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী নাবালিকাদের অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। ২০০৭ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই অভিযোগগুলো আদালতে দাখিল না করে একটি বিতর্কিত সমঝোতার মাধ্যমে এপস্টেইনকে বড় শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছিলেন।
জেফরি এপস্টেইনের উত্থান ও বিতর্কিত মৃত্যু নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ৯০-এর দশকে হেজ ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাঁর এই সম্পদ ও প্রভাব তাঁকে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ২০১৯ সালে মানবপাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হলেও ওই বছরের ১০ আগস্ট কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। সরকারি তদন্তে একে আত্মহত্যা বলা হলেও জনমনে এখনও গভীর সন্দেহ রয়েছে যে, প্রভাবশালীদের রক্ষা করতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না।
নথিতে উঠে আসা প্রভাবশালী নামসমূহ এপস্টেইন ফাইলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এতে নাম আসা হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিরা। নথিতে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম রয়েছে, যিনি ৯০-এর দশকে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়া প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিল গেটস ও ইলন মাস্কের নামও ফাইলে এসেছে। তাঁদের সাথে এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রমাণ নথিতে সংরক্ষিত আছে। ব্রিটিশ উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্র্যানসনও এপস্টেইনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবার ও নতুন তদন্তের দাবি নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিষয়েও বিষ্ফোরক তথ্য মিলেছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন যে ২০০৮ সালে এপস্টেইনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেন, কিন্তু নথিতে দেখা গেছে ২০১০ সালেও তিনি এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের জোরালো দাবি উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিক্রিয়ার ঢেউ এপস্টেইন ফাইলের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পৌঁছেছে। এক ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে এপস্টেইনের কটূ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জেফ বেজোসের উপস্থিতির তথ্যও এই ফাইলে উঠে এসেছে।
এই নথি প্রকাশের ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্লোভাকিয়ার এক প্রভাবশালী রাজনীতিক পদত্যাগ করেছেন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই ফাইলগুলো কেবল একজন অপরাধীর গল্প নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও এলিট শ্রেণির অন্ধকার অধ্যায়ের এক নজিরবিহীন দলিল।
মায়ের বুকে ফেরার শেষ চেষ্টা: কবরের ভেতরেই আশ্রয় নিল ছোট্ট শিশু
কেনিয়ার একটি গ্রাম থেকে আসা একটি ছবি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া ফেলেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সদ্য মা-হারা এক ছোট্ট শিশু বিষণ্ন মনে তার মায়ের কবরের ভেতরে শুয়ে আছে। মায়ের অভাব সইতে না পেরে কবরের শূন্যস্থানেই নিজের আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে অবুঝ শিশুটি।
মায়ের বুকে ফেরার আকুতি স্বাভাবিক সময়ে শিশুটি মায়ের বুকে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমাত। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতায় মা এখন কবরের বাসিন্দা। মায়ের সেই চিরচেনা মমতা আর গল্প ছাড়া শিশুটির চোখে ঘুম আসছিল না। তাই শোকাতুর মনে সে নিজেই কবরের ভেতর শুয়ে পড়ে মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে তাকে কবরের ভেতরে আনমনে কিছু কাগজ নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়, যা দেখে নেটিজেনদের হৃদয় ভেঙে গেছে।
মানসিক ধাক্কা ও স্থানীয়দের ভাষ্য স্থানীয়রা জানান, মায়ের সাথে শিশুটির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। মায়ের মৃত্যুর পর সে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পায় এবং তাকে কবর দেওয়ার পর শিশুটি সেখান থেকে সরতে রাজি হচ্ছিল না। নিজের মায়ের কবরের পাশে বা ভেতরে শুয়ে থাকার এই দৃশ্যটি তার গভীর একাকিত্ব এবং শোকেরই বহিঃপ্রকাশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ শিশুটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই এই দৃশ্যকে ‘শতাব্দীর অন্যতম হৃদয়বিদারক ছবি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন যে, এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় একটি শিশুর জীবনে বাবা-মায়ের উপস্থিতি কতটা অমূল্য এবং অপরিহার্য। অনেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং তার দ্রুত মানসিক সুচিকিৎসার (Counseling) দাবি তুলেছেন।
মায়ের কবরে শিশুর এই শেষ আশ্রয় নেওয়ার আকুতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, মৃত্যু মানুষকে আলাদা করতে পারলেও ভালোবাসা আর টানকে মুছে ফেলতে পারে না।
হাজিদের অধিকার রক্ষায় কঠোর সৌদি আরব: ওমরাহ এজেন্সির চুক্তি স্থগিত নিয়ে তোলপাড়
পবিত্র ওমরাহ পালনকারী হজযাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কার্যক্রম পরিচালনা ও সেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে ১ হাজার ৮০০টির চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির প্রশাসন।
গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মদক্ষতা ও সেবার মান নিয়ে নিয়মিত পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন করা হয়। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে এই ১ হাজার ৮০০টি এজেন্সির সেবায় গুরুতর ঘাটতি এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওমরাহ খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও হজযাত্রীদের অধিকার রক্ষায় এই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে স্থগিতাদেশ পাওয়া এজেন্সিগুলোকে নিজেদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সৌদি সরকার। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এজেন্সিগুলো যদি নির্ধারিত শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের চুক্তি আবারও কার্যকর করা হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসসান আলনওয়াইমি জানান, ওমরাহ পালনে আসা মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা মানহীন সেবা থেকে তাদের রক্ষা করাই এই নজরদারির মূল লক্ষ্য। এদিকে, চুক্তি স্থগিতের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ হজযাত্রীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, যেসব ওমরাহ হজযাত্রীর কাছে ইতিমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে এবং যারা আগে থেকেই বুকিং সম্পন্ন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের ওমরাহ ও সেবা কার্যক্রম আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলবে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
রমজান কবে শুরু? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চূড়ান্ত পূর্বাভাস
পবিত্র রমজান মাস কবে শুরু হবে—বুধবার নাকি বৃহস্পতিবার—তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের (আইএসি) গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আজ রোববার প্রকাশিত গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হলেও আরব ও ইসলামী বিশ্বের কোথাও তা জ্যোতির্বিদ্যাগতভাবে সম্ভব হবে না। খালি চোখে তো নয়ই, এমনকি দূরবীন বা আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মঙ্গলবার চাঁদ দেখা যাবে না। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সূর্যাস্তের সময় চাঁদের অবস্থান এমন হবে যে অধিকাংশ অঞ্চলে চাঁদ সূর্যের আগেই অথবা প্রায় একই সময়ে অস্ত যাবে। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সূর্যাস্তের ১ মিনিট আগে এবং রিয়াদে সূর্যাস্তের ৪২ সেকেন্ড আগে চাঁদ দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। ড্যাঞ্জন সীমা অনুসারে, সূর্য ও চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ৭ ডিগ্রির কম হলে চাঁদ দেখা অসম্ভব, যেখানে মঙ্গলবার এই দূরত্ব থাকবে মাত্র ১ থেকে ২ ডিগ্রি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আরও সতর্ক করেছেন যে, মঙ্গলবার পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ উজ্জ্বল অবস্থায় থাকায় অনেকে ভুল করে সেটিকে চাঁদ মনে করতে পারেন। তবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূলে থাকবে। এদিন সূর্যাস্তের পর মক্কায় ৫৯ মিনিট এবং কায়রোতে ৬৪ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তে দৃশ্যমান থাকবে। এ সময় চাঁদের বয়স হবে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা, যা খালি চোখে দেখার জন্য যথেষ্ট। ফলে বুধবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবের শীর্ষ আলেম পরিষদের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বিন মানি’সহ অনেক বিশিষ্ট আলেমও এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্যোতির্বিদ্যাগত জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সূত্র: গালফ নিউজ
ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি
ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের লোকসভায় এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন' ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী
বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি ভারতের নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে (Revised Estimate) বাংলাদেশের জন্য এই সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তবে উল্লেখ্য যে, গত বছরের মূল বাজেটে (Budget Estimate) বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি রুপি, যা সংশোধিত বাজেটে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছিল। সেই দিক থেকে নতুন বরাদ্দ গত বছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় কম হলেও সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি।
চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ শূন্য বাজেটের সবচেয়ে বড় ও বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত হলো ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখা। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে ভারত ধারাবাহিকভাবে শত শত কোটি রুপি বিনিয়োগ করলেও এবার তা 'শূন্য' (Nil) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে ভারত এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে। চাবাহার বন্দরের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড় বা 'ওয়েভার' আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।
বরাবরের মতো সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যার পরিমাণ ২,২৮৯ কোটি রুপি।
তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি করা হয়েছে (৫০% বৃদ্ধি)।
নেপালের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি।
অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কার বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০০ কোটি রুপি করা হয়েছে।
মালদ্বীপ ও মরিশাস এই দুই দেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫০ কোটি রুপি করে।
সামগ্রিক বাজেট ও পররাষ্ট্র নীতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) জন্য এই বাজেটে মোট ২২,১১৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোট বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৬,৯৯৭ কোটি রুপি। বাজেটের এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি মোকাবিলার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
এপস্টেইন নথিতে ২০১৭ ইসরায়েল সফর নিয়ে দাবি, দিল্লির অস্বীকৃতি
যৌন অপরাধে দণ্ডিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইন-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এসব নথির একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এপস্টেইনের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এই নথি প্রকাশের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া একটি আইন, যার আওতায় এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব সরকারি ও বিচারিক দলিল জনসমক্ষে উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যে চূড়ান্ত ডাটাসেট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল তথ্যভান্ডার কেবল অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রভাবের নানা ইঙ্গিতও সামনে এনেছে।
ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে পাওয়া একটি ই-মেইলে এপস্টেইন নিজেই দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল হিসেবে মোদি তার পরামর্শ অনুসরণ করে ইসরায়েল সফর করেছিলেন। ওই ই-মেইলে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যেই সফরটি সাজানো হয়েছিল এবং এতে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ভাষায় অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মোদির ইসরায়েল সফরের বিষয়টি ছাড়া ই-মেইলে উল্লিখিত অন্যান্য বক্তব্য একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন ও রুচিহীন কল্পনা ছাড়া কিছুই নয় এবং এগুলো গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয়। তবে এই প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনও কোনো সরাসরি মন্তব্য আসেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন এবং সে সময় দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এটি ছিল ভারতের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক ইসরায়েল সফর। ভারত সরকারের তৎকালীন বিবৃতিতে জানানো হয়, সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছিল, কারণ ভারত ও ইসরায়েল ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল নথিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের নাম উঠে এলে তা কেবল ব্যক্তিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ভারত সরকার এই দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে, তবুও নথির ব্যাপকতা ও উৎসের কারণে বিষয়টি বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
-শরিফুল
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় আঘাত: ১২ শহর রণক্ষেত্র
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ অন্তত ১২টি শহরে নিষিদ্ধঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সিরিজ হামলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসীবিরোধী বিশেষ দলের সদস্যরাও রয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএলএ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ হামলার তথ্য জানানো হয়। বিএলএ এই বিশাল অভিযানকে 'অপারেশন হেরোফ ফেজ টু' হিসেবে অভিহিত করেছে।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা ১২ ঘণ্টাব্যাপী পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোতে অনবরত হামলা চালিয়েছে। বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ জানিয়েছেন, কোয়েটা, গোয়াদার, লাসবেলা, তুরবাত, পাঞ্চগুর ও কালাতসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। হামলার ফলে বেশ কিছু এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিএলএ যোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো দখলে নেওয়ার দাবি করে। এই অভিযানে বিএলএ-র সাতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে সংগঠনটি স্বীকার করেছে।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ৯২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, এই সংঘাতের ফলে অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৫ জন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে, নিহতরা সবাই ‘ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী’ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুনের শিখা এবং গোলার শব্দ শোনা গেছে, যা এই ভয়াবহ সিরিজ হামলার দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে। বিএলএ-র এই ‘ফেজ টু’ অপারেশনকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় বদল: খুলে যাচ্ছে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে চলমান তীব্র সংকট কাটাতে ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার অতিরিক্ত আরও প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি (H-2B) মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শ্রমিক সংকটের কারণে মার্কিন নিয়োগকর্তারা যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, মূলত তা নিরসন করতেই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার বার্ষিক সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নির্মাণ শিল্প, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সামুদ্রিক খাদ্য (সি-ফুড) প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলোতে বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব খাতে স্থানীয় কর্মীর অভাবে নিয়োগকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার লক্ষ্যেই এই ‘নমনীয়’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জো বাইডেন প্রশাসনের আমলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে অভিবাসন কমানোর পক্ষের গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।
পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যটন ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সচল রাখতে বিদেশি শ্রমিকের কোনো বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যমতে, এই অতিরিক্ত ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পাঠকের মতামত:
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- দেশে ফের ভূমিকম্প, কেঁপে ওঠে কয়েকটি জেলা
- শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
- আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
- মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
- নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
- সদরপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
- নির্বাচনী উত্তাপে ‘কুমিল্লা বিভাগ’; নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কি এবার খুলবে?
- লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
- সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা
- সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
- গৃহকর্মী শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা! বিমানের এমডি শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার
- কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
- যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা
- ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
- নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
- ২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে জরুরি নির্দেশনা
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
- জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল
- কীভাবে ইস্তেগফার করবেন, জানুন ফজিলতসহ সহজ নিয়ম
- বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ
- খুলনায় বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- মায়ের বুকে ফেরার শেষ চেষ্টা: কবরের ভেতরেই আশ্রয় নিল ছোট্ট শিশু
- ৯ আসনে নেই ধানের শীষ: সমঝোতা ও আইনি মারপ্যাঁচে ব্যালট থেকে উধাও বিএনপির প্রতীক
- পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমান: জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া সমাধান
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- হাজিদের অধিকার রক্ষায় কঠোর সৌদি আরব: ওমরাহ এজেন্সির চুক্তি স্থগিত নিয়ে তোলপাড়
- দুধ দিয়ে গোসল করে ধানের শীষ হাতে নিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী
- পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ
- আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে জামায়াত আমির; এক দিনে ৫ জনসভায় ভাষণ
- শিল্পাঞ্চল থেকে উপশহর: আজ খুলনা ও যশোরে তারেক রহমানের বিশেষ মিশন
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- মেধাবীদের হাত ধরেই গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ: সিলেটে ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে সংবর্ধনা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- কুমিল্লা-৪ আসন: মঞ্জুরুল আহসানের আপিল শুনানি মুলতবি








