সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা

আদালতের নির্দেশে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা বিপুল অর্থের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে ঢাকার একটি আদালত তাঁর নামে থাকা মোট ৮টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা জমা রয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশের মূল বিষয়সমূহ
আমির হোসেন আমুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ৮টি ব্যক্তিগত হিসাব।
হিসাবগুলোতে বর্তমানে জমা আছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুলফিকার আলী।
আমির হোসেন আমু ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব হিসাবে দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার কিংবা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার জোরালো সন্দেহ রয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যেই এই লেনদেনগুলো করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে টাকাগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আমির হোসেন আমু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৪৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
হামের টিকা যথাসময়ে আমদানি না করায় দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল এই আবেদনটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ মামলার আবেদন জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি জমা হলেও এখনো তা নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলায় ড. ইউনূস ও নূর জাহান বেগম ছাড়াও অন্য যে তিনজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্তারা তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চরম অবহেলা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যথাসময়ে হামের ভ্যাকসিন আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন, যা কার্যত হত্যাকাণ্ডের শামিল। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ ও প্রতারণা করা হয়েছে বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে নিয়মিত হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়, যা দেশে তীব্র টিকা সংকট তৈরি করে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে মামলায় দাবি করা হয়, টিকার সম্ভাব্য সংকট ও আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা সম্পূর্ণ আমলে নেননি।
এরই খেসারত হিসেবে দেশে নির্ধারিত সময়ে বিপুল-সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মামলার তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই অন্তত ৬১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকার পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করলেও আগের সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার দায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
/আশিক
অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যে হাইকোর্টের রুল
দেশে ঘোড়ার মাংস ভক্ষণ, বিপণন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা এবং এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রবিবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আলোচিত এ রিটটি দায়ের করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণী অধিকারকর্মী জয়া আহসান। আবেদনে অসুস্থ ও উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে ঘোড়ার মাংসের উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা গাইডলাইন ৯০ দিনের মধ্যে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের প্রশ্নে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গাজীপুরে অসুস্থ, দুর্বল ও উদ্ধারকৃত ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
রিটকারীরা আদালতের কাছে গাজীপুরে উন্মোচিত ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিয়ে নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ এবং সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে।
শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত বা বাজেয়াপ্ত প্রাণী পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, অভয়ারণ্য এবং প্রাণী কল্যাণভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, অসুস্থ বা উদ্ধারকৃত ঘোড়া নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। কারণ এসব প্রাণী পরবর্তীতে অবৈধ মাংস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলাটি কেবল ঘোড়ার মাংস ভক্ষণসংক্রান্ত বিতর্ক নয়; বরং এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং প্রাণী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ খাতের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খাদ্য হিসেবে কী বিক্রি হচ্ছে, তার উৎস কতটা নিরাপদ এবং প্রাণী কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা ও সরকারি নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই সবার নজর।
-রফিক
মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই গণ-আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নিজ জেলা হবিগঞ্জে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনগুলোর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। একই সাথে এই সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন আদালত। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতে তখন সুমনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম লিটন আহমেদ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকার একটি বাসা থেকে যুবলীগ নেতা ও সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সুমন লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’
পটপরিবর্তনের পর ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানা এবং তাঁর জন্মস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুরে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুরের মামলায় ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও হবিগঞ্জের মামলাগুলোর কারণে তাঁর কারামুক্তি মেলেনি। ফলে আজ হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে হবিগঞ্জের দুই মামলায় জামিন লাভের মরিয়া চেষ্টা চালাবেন তাঁর আইনজীবীরা।
/আশিক
শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও ধড় থেকে মাথা কেটে পৃথক করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এই বদলির আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান মূল ঘাতক সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে যে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিলেন, সেটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নৃশংস এই ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তাকে কোথাও না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা-বাবা। একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।
পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জেরা করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করতে শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ ও গলা কেটে খুন করেছেন।
এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক কেটে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘাতক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে মূল আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক জবানবন্দি দেন। একই দিনে অপরাধের সহযোগী ও ঘটনা আড়াল করার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, অভিযোগপত্র গঠনের এই প্রাথমিক আইনি ধাপটি সম্পন্ন হওয়ায় এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই বিশেষ আদালতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
/আশিক
ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন
আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে চলমান রাষ্ট্রীয় হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে ড. ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচিকে হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে বেসরকারি বা প্রাইভেট খাতে দেওয়ার একটি অশুভ ও অপরাধমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে দেশে আবারও নতুন করে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যে শতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, এই জাতীয় স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পেছনে যাদের অবহেলা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা উদঘাটনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।
রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজিএইচএস) সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আরজি জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই রিট দায়ের করা হলো বলে নিশ্চিত করেছেন পিটিশনার।
/আশিক
১৩ বছর পর কাঠগড়ায় দীপু মনি: শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার শুরু আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আজ এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৭ মে প্রসিকিউশন পক্ষ দীপু মনিসহ এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করার আবেদন জানালে আদালত আজ তাঁদের হাজির করার দিন ধার্য করেছিলেন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালে জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে বৈধতা দিতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু তাঁদের টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে এই সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে প্রচার করে গণহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন এবং আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারিত রয়েছে।
এই মামলায় বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তদন্ত সংস্থা এখন পর্যন্ত ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত এই বিপুল সংখ্যক নিহতের ঘটনাকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
/আশিক
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ অসাংবিধানিক: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
গর্ভের অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করাকে অসাংবিধানিক এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এক যুগান্তকারী রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার (১১ মে) এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, ভ্রূণের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের অনৈতিক চর্চা বন্ধে কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল। শুধুমাত্র নির্দেশিকা জারি করাই যথেষ্ট নয়; বরং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয়। আদালত মনে করেন, লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের (১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২) সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই ডাটাবেজে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব রিপোর্ট সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। আদালত এই নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যানডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার অর্থ হলো এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত নিয়মিত তদারকি করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আইনজীবী ইশরাত হাসানের দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় এল। রায়ে আদালত ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বলেন যে, উন্নত সমাজ গঠনে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
/আশিক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম প্রসিকিউটরের বিদায়
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আইনজীবী সাইমুম রেজা তালুকদার। আজ সোমবার (৯ মার্চ) তিনি চিফ প্রসিকিউটর বরাবর নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জমা দেন। চিফ প্রসিকিউটর তাঁর এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।
ব্যক্তিগত কারণ এবং নিজের আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, মূলত শিক্ষকতা বা পূর্বের পেশাগত জীবনে ফেরার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিশেষ কারণ নেই। গত রবিবার ছিল ট্রাইব্যুনালে তাঁর শেষ কর্মদিবস। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার পতনের পর ৮ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। নিয়োগের আগে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাইমুম রেজা তালুকদার রামপুরা, লক্ষ্মীপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় এই পদে নিয়োগ দিয়েছিল, যার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি গত কয়েক মাস আইনি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এদিকে সাইমুম রেজা তালুকদারের বিদায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে নতুন করে আরও দুইজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন মর্জিনা রায়হান মদিনা ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে মন্ত্রণালয় এই নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
/আশিক
মির্জা আব্বাসকে ‘গডফাদার’ বলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এই আবেদন জমা দেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই বিবাদী একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে আসছেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবং সেই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হন। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্বাচনের সময় থেকেই তিনি মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবমাননাকর ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন।
তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তাঁর এই অপপ্রচার ও হুমকির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ ফেসবুকে এবং বেশ কিছু অনলাইন নিউজ মিডিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি মির্জা আব্বাসকে 'বাংলাদেশের ক্রিমিনাল র্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান গডফাদার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আবেদনে বাদী দাবি করেছেন যে, মির্জা আব্বাসের মতো একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও নিন্দনীয় বক্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। এই বক্তব্যগুলো ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে মির্জা আব্বাসের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযুক্তের এমন আচরণ সব ধরনের শিষ্টাচার ও সভ্য সমাজের রীতিনীতি বহির্ভূত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মির্জা আব্বাস ও মামলার বাদী নিজে এই ঘটনায় বিস্মিত ও সংক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি করার এই কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা যায়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- রঙিন খাবার কেন শরীরের জন্য জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
- জুমার দিনের ৫ বিশেষ আমল, যা বদলে দিতে পারে জীবন
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
- বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত
- ইরাক ম্যাচের আগে নতুন পরিকল্পনায় ফ্রান্স
- কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম
- সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ আজকের পূর্ণ নামাজের সময়সূচি
- ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ১৩ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- আজ টিভিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়াসহ যত খেলা
- চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
- নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত
- হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
- ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
- সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- ৪১ বছরেও ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে রোনালদো, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ডার্ক হর্স কারা?
- মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
- মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার বড় জয়, মিলে গেল অধিনায়কের আগাম ভবিষ্যদ্বাণী
- বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ব্রাজিলের সুখবর
- লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে ২১ জেলা
- জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
- শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
- এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
- মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী
- সমালোচনার মুখে রোনালদো, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
- ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন
- চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে
- ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প
- ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম প্রকাশ করলো বাজুস
- অন্যদের থাকলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রেও আপত্তি নেই: ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখুন বিস্তারিত
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- রোনালদো ব্যর্থ, ডিআর কঙ্গোর কাছে হোঁচট খেল পর্তুগাল
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কী? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
- ‘সব জায়গায় বোমা ফেলতে চান নেতানিয়াহু’: ট্রাম্প
- ১৮ জুন কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ? জেনে নিন নতুন দর
- পর্তুগালের লাকি সিক্স ও ২০২৬ বিশ্বকাপ: ভাগ্য কি এবার রোনালদোর পাশে থাকবে?
- প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি








