বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:৩২:৩৫
বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত 
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বহুল আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’। মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি, বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের সদস্যদের আসল চেহারা উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্দেশনায় এই বিশাল নথিপত্র জনসমক্ষে আনা হয়, যা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। নথিপত্রের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ হলো ২০০৭ সালে তৈরি হওয়া ৬০ দফার একটি খসড়া অভিযোগপত্র। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীরা মাত্র ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী নাবালিকাদের অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। ২০০৭ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই অভিযোগগুলো আদালতে দাখিল না করে একটি বিতর্কিত সমঝোতার মাধ্যমে এপস্টেইনকে বড় শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছিলেন।

জেফরি এপস্টেইনের উত্থান ও বিতর্কিত মৃত্যু নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ৯০-এর দশকে হেজ ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাঁর এই সম্পদ ও প্রভাব তাঁকে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ২০১৯ সালে মানবপাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হলেও ওই বছরের ১০ আগস্ট কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। সরকারি তদন্তে একে আত্মহত্যা বলা হলেও জনমনে এখনও গভীর সন্দেহ রয়েছে যে, প্রভাবশালীদের রক্ষা করতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না।

নথিতে উঠে আসা প্রভাবশালী নামসমূহ এপস্টেইন ফাইলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এতে নাম আসা হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিরা। নথিতে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম রয়েছে, যিনি ৯০-এর দশকে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়া প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিল গেটস ও ইলন মাস্কের নামও ফাইলে এসেছে। তাঁদের সাথে এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রমাণ নথিতে সংরক্ষিত আছে। ব্রিটিশ উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্র্যানসনও এপস্টেইনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবার ও নতুন তদন্তের দাবি নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিষয়েও বিষ্ফোরক তথ্য মিলেছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন যে ২০০৮ সালে এপস্টেইনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেন, কিন্তু নথিতে দেখা গেছে ২০১০ সালেও তিনি এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের জোরালো দাবি উঠেছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিক্রিয়ার ঢেউ এপস্টেইন ফাইলের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পৌঁছেছে। এক ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে এপস্টেইনের কটূ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জেফ বেজোসের উপস্থিতির তথ্যও এই ফাইলে উঠে এসেছে।

এই নথি প্রকাশের ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্লোভাকিয়ার এক প্রভাবশালী রাজনীতিক পদত্যাগ করেছেন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই ফাইলগুলো কেবল একজন অপরাধীর গল্প নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও এলিট শ্রেণির অন্ধকার অধ্যায়ের এক নজিরবিহীন দলিল।


মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:০৪:১২
মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কার মুখে কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখা না মেনে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প এবং প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রধান্য দিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি এই দায়িত্ব নেন এবং এর পর থেকে এটিই ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম কোনো সরাসরি বৈঠক।

সংঘাতের এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত ও কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রেখেছে তেহরান। গত শনিবার এই নৌপথে চলাচলের সময় একটি জাহাজে মাইন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং তার আগে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এই নৌপথে বাধার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যাকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা মানবে না তেহরান।

/আশিক


নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:১২:৩৫
নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে রাজনৈতিক সাহসিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতা আহমেদ টিবি। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে পূর্ণ সমর্থন দিতে ফিলিস্তিনি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আহমেদ টিবি জানান, সে সময় তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রাবিন ফিলিস্তিনি দলগুলোর পরোক্ষ সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেছিলেন। নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে আইজেনকোটকেও ঠিক তেমনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সম্প্রতি ইসরাইলি নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহু বা বিরোধী দল—কারোর পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা আগের ৬৪টি থেকে কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনী সাফল্যকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিলেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন আহমেদ টিবি। তার স্পষ্ট কথা, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর পতন নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলে নিজেদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার আদায় করা।

সূত্র: মিডলইস্ট আই


চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৩৯:৩৮
চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদের বুকে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেবল নভোচারী পাঠানো নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, বরফ থেকে পানি ও রকেটের জ্বালানি উৎপাদন এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পরাশক্তিগুলো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে সামনে এসেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর খাদ বা চির-অন্ধকার অঞ্চলে পানির বরফের সন্ধান মিলেছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে পানীয় জল, অক্সিজেন ও জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদের মাটিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকন আহরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে চাঁদের প্রায় চৌদ্দ পৃথিবী দিন সমমানের দীর্ঘ রাত ও অন্ধকারের কারণে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানেই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘লুনার রিয়্যাক্টর-১’ (LR-1) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। ছয় হাজার কেজির কম ওজনের এই চুল্লি পাঁচ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ দিতে পারবে। এছাড়া ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ১০ বছরের বেশি সচল থাকবে।

মহাকাশ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স চাঁদের খনিজ ব্যবহার করে মহাকাশেই স্যাটেলাইট ও যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপনের কথা ভাবছে। তবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। রকেটে করে পারমাণবিক চুল্লি পরিবহনের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ স্যাটেলাইট কানাডায় বিধ্বস্ত হয়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী চাঁদের সার্বভৌম মালিকানা দাবির সুযোগ না থাকলেও, বরফ ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কা রয়েছে।

আল জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:২১:১৮
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চরম হুঙ্কার দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কিংবা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানি বাহিনী কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমানা বা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে না।

মোজতবা খামেনির অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ যুদ্ধংদেহী বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো সামরিক বা প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল তেহরান।

পরিস্থিতি আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তোলার নির্দেশ দিয়ে খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর এবং সামরিক স্থাপনাকে যেন তেহরানের নতুন ‘টার্গেট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর সুদূরপ্রসারী অর্থ হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই লড়াই আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ এবং স্থাপনাগুলোও সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলার নিশানা হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:১২:৩০
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই—অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে এই সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য স্বল্পস্থায়ী ও তীব্র এই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা বা ব্রিফিং করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন করে হামলা শুরু হলে তার তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। তবে এই পদক্ষেপে ইরানের পক্ষ থেকে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এ কারণে উপসাগরীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছে। এমনকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা পর্যন্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত বিকল্পই খোলা রেখেছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত রূপরেখা বা সময়সূচি নিয়ে এখনো নানা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলের


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:২৯:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের (এফডিডি) নির্বাহী পরিচালক জনাথন শ্যানজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্যানজারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন বুঝে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য আগেভাগেই আক্রমণ চালিয়ে বসার ঝুঁকি রয়েছে।

চলমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। শুধু পেট্রল বা জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পণ্য ও সেবার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এই সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে।

তবে শ্যানজারের এই বিশ্লেষণটি একান্তই সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি মূল্যায়ন মাত্র, যেখানে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম হামলার পরিকল্পনা বা নিশ্চিত সামরিক পদক্ষেপের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার সময় নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার আশঙ্কা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৪৪:১৫
নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে দেশটির আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি ইসরায়েলি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এই জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে এবারের নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা বরং বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় বেশ কম ছিল।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক হিব্রুভাষী সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে লিকুদ পার্টি যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছে, সেগুলোর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণ বা তদন্তভিত্তিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নেসেটের সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে ইসরায়েলি আরব দলগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে আরব দলগুলো এত বেশি আসন লাভ করতে পারেনি।

এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিকুদ পার্টি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে যে, আরব দলগুলো ভোট চুরি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, দুর্নীতি, হুমকি ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এমনকি এসব অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলেছিল লিকুদ পার্টি।

এদিকে, নির্বাচনের প্রায় সব আসনেই ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তাদের সমমনা জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এর ফলে ইসরায়েলের বর্তমান সংসদে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা ও সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে পুলিশের দেওয়া এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:২৭:৪৮
ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন এই কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে জানা যেতে পারে যে এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ঐতিহাসিকভা্রে কম অভিবাসী পাঠানো দেশের নাগরিকদের জন্য এই ডিভি লটারি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করেন। তবে উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই ডিভি লটারি কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই এবারের ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ অক্টোবর ডিভি লটারি ২০২৭-এর যোগ্যতা, শর্তাবলি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের কথা ছিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে তা ৩০ দিন পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়েছে। এ কারণে নিবন্ধন শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ও পুরো প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আবেদনের শেষ তারিখ, ফল প্রকাশের সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও ওয়েবসাইট (https://travel.state.gov/) অনুসরণ করা জরুরি।

সাধারণত ডিভি লটারিতে অংশ নিতে আবেদনকারীকে যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হয় এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা নির্দিষ্ট পেশায় প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্ধারিত সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয়। তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করবে ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের যোগ্যতার অবস্থান এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রযোজ্য চূড়ান্ত নিয়মের ওপর।

সূত্র: ফোর্বস


ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৮:৪৭:১৩
ইসরায়েলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ও এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন কোনো জোটই নিশ্চিত করতে না পারায় পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী ২৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে লিকুদ পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি ও আইজেনকটের বিরোধী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সিট পোলেও দুই জোটের মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন ছোট দলগুলোর হাতে চলে গেছে, যার মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৯টির মধ্যে হতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় পক্ষই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা বা বিরোধিতা প্রকাশ করায় রাজনৈতিক সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহুর জোটে লিকুদ পার্টির পাশাপাশি শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রিলিজিয়াস জায়োনিজম এবং ওতজমা ইয়েহুদিত রয়েছে; অন্যদিকে বিরোধী জোটে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু এবং ডেমোক্র্যাটস দলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে এবং এরপর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দিয়ে দায়িত্ব দেবেন, প্রয়োজনে যা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে দেশটি। দীর্ঘ ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং বর্তমানে দুর্নীতির বিচার চলাকালীন নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: