এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ২১:৪৩:১৪
এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

বৃটেন সফররত সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ আগস্ট ২০২৬, র‌বিবার সাক্ষাৎকালে ট্রাস্টিবৃন্দ বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্মাণাধীন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব-নিকাশ, দাতাদের অবদান এবং হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তাঁরা জানান, হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য বিশ্বনাথসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা ট্রাস্টিবৃন্দের উপস্থাপনা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং এ মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবিক উদ্যোগে নির্মিত এ হাসপাতাল ভবিষ্যতে এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাসপাতালটির সফল বাস্তবায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টি ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আয়াছ মিয়া, ট্রাস্টি আবুল হাশিম বিএসসি, ট্রাস্টি মৌলানা সিরাজুল ইসলাম সাদ, ট্রাস্টি আশিক আলী ও ট্রাস্টি শাহ সোহেল আমিন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার দ্বার উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ট্রাস্টিবৃন্দ মাননীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিকতা, মূল্যবান পরামর্শ এবং সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’ বিশ্বনাথ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।


যুক্তরাজ্যে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেজবান অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ২১:৫১:৩৮
যুক্তরাজ্যে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম মেজবান অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবান। রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) ওয়াটফোর্ডের হলিওয়েল সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংগঠনের চতুর্থবারের এই আয়োজনকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এতে লন্ডন, ওয়াটফোর্ড, এনফিল্ডসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ.কে.এম. কায়সার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সারওয়ান জাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটফোর্ড বরো কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান কাউন্সিলর সোহেল বশীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, টিভি-২৪ বাংলার চেয়ারম্যান এবং ION TV-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘চাটগাঁইয়া গফ’-এর উপস্থাপক মো. মাসুদুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকের কনভেনিং কমিটির সদস্য অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাজ্জাকুল হায়দার বাপ্পি, মো. ইব্রাহিম জাহান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহেদুল আলম মাসুদ, সীতাকুণ্ড সমিতি ইউকের সেক্রেটারি রায়হান উদ্দিন চৌধুরী টিটু, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য মো. জগলু হায়াত চৌধুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন, ডেগেনহাম সেন্ট্রাল মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আমিন ও মো. সুমন, কক্সবাজার অ্যাসোসিয়েশন ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বশির জামান বাবু, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মো. টিংকু চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু নাসের, মো. রাসেলসহ গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, কক্সবাজার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, সীতাকুণ্ড সমিতি ইউকে, ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকে এবং নোয়াখালী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব সঞ্চালনা করেন মো. মাসুদুর রহমান। এ সময় তিনি ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের পরিচিতি পর্ব পরিচালনা করেন। নতুন কমিটির সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মেজবানে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাদা ভাত, মেজবানের গরুর মাংসসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার। প্রবাসে থেকেও চট্টগ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অনন্য নিদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মেজবানে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।


যুক্তরাজ্যে ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৪৬:৫৫
যুক্তরাজ্যে ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনকল্যাণমূলক দাতব্য সংস্থা ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটনের ক্রওলি শহরে একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার রাত ১১টায় এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাইটনের বিশিষ্ট মুরব্বী আলহাজ্ব এম এ কাইয়ুম, প্রেস-মিডিয়া ডাইরেক্ট শাহ সোহেল আমিনের পরিচালনায় সভায় হাসপাতালের কার্যক্রম, আয় ব‍্যয়ের হিসাব প্রদান করা হয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপস্থিত বক্তারা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা এবং এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বক্তব‍্য রাখেন সেক্রেটারী জেনারেল হেড অব ফাইন্যান্স কাউন্সিলর মোহাম্মদ আয়াছ মিয়া, ট্রেজারার মাওলানা সিরজুল ইসলাম সাদ, ট্রাষ্টি এম আবুল হাশেম, সমুজ আলী, আসিক আলী, উপদেষ্টা-ডা. আতাউর রহমান. এম এ কাইয়ুম, ফজলুর রহমান, মসলান্দর আলী, আবুল কালাম আজাদ চোটন, আসাব আলী, আবুল হক, সৈয়দ মনুয়ার আহমেদ, ফয়সল আহমেদ, খয়রুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, আবদুল হান্নান, ইউসুফ আলী, তাহিদ মিয়া কয়েস, মির্জা শাহিন বেগ, শিপার বেগ, ফারুক আলী, ফারুক হোসেন।ফাউন্ডার মেম্বার খালেদ মাসুদ রনি, কো-অর্ডিনেটর ফারুক মিয়া প্রমুখ।

সভায় অনেকে ফাউন্ডার মেম্বার হন এবং হওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ রেজিস্টার্ড চ্যারিটি The 1 Hospital–এর একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক মানবিক প্রকল্প। যা সিলেটসহ বাংলাদেশের অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। মানবিক কাজে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান বক্তারা।

দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল (1 Hospital) একটি যুক্তরাজ্য নিবন্ধিত জনকল্যাণমূলক দাতব্য সংস্থা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে এবং বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।

মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যজরুরি স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

হাসপাতাল নির্মাণ: সিলেটের বিশ্বনাথে ব্রিটিশ মানের একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ (জেনারেল) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা।

সাশ্রয়ী ও বিনামূল্যে সেবা: সাধারণ ও দুস্থ মানুষের জন্য কম খরচে অথবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা।

বহুমুখী চিকিৎসা কার্যক্রম: প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক (শুক্রবার বিনামূল্যে চিকিৎসা) চালুর পর একে সপ্তাহের প্রতিদিনের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে রূপান্তর করা।


লন্ডনে সিলেট-চট্টগ্রাম উৎসব ইউকে ২০২৬ আয়োজনে প্রথম সভা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ২১:৪৫:২৮
লন্ডনে সিলেট-চট্টগ্রাম উৎসব ইউকে ২০২৬ আয়োজনে প্রথম সভা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

সামাজিক ও মানবিক সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে বহির্বিশ্বে নতুন প্রজন্মের মাঝে সিলেট ও চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ কৃষ্টি কালচার ছড়িয়ে দিতে রেডব্রিজের একটি কমিউনিটি হলে ২২ জুন ২০২৬, সোমবার সিলেট-চট্টগ্রাম উৎসব ইউকে ২০২৬ আয়োজনের লক্ষ্যে প্রথম সভা ও সংগঠনের ৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য শাখার আহবায় সুহেল ইসলাম ও সভা পচিালনা করেন সদস্য সচিব হেলেন ইসলাম।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও রেডব্রিজ কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার সৈয়দা চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেমডেনের সাবেক মেয়রিস লিনা চৌধুরী। সাবেক কাউন্সিলার আয়শা চৌধুরী। কমিউনিটি নেত্রী মিরা বড়ুয়া এবং সাহিন চৌধুরী, আব্দুল মালিক, রাহুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, বাবলু মিয়া, লুকমান মিয়া ও কমিউনিটি নেত্রীবৃন্দ।

এসময় বক্তরা বলেন, সিলেট এং চট্টগ্রামের দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মেলবন্ধন, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক কৃষ্টি কালচার ফুটিয়ে তোলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে নান্দনিকভাবে ব্যবস্থাপনার কথা আয়োজকদের স্বরণ রাখতে অনুরোধ জানান।


কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: সিলেটের কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৮:১০:১৬
কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: সিলেটের কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
ছবি : সংগৃহীত

কাতারের আল-শাহানিয়া শহরের শামাল রোডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশির সবার বাড়িই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। এই দুর্ঘটনায় তাদের সাথে একজন ভারতীয় নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত প্রবাসীরা হলেন—কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর নিহতদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

বর্তমানে নিহতদের মরদেহ কাতারের স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় করছেন। আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা চলছে।

/আশিক


নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:৪৭:০০
নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

নর্থহ্যাম্পটন শহরের বাংলাদেশী কমিউনিটির অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতিস্বরূপ কাউন্সিলর মাইক হ্যালাম গিল্ডহলের মেয়রের পার্লারে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

১৭ জুন ২০২৬, বুধবার নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র শহরের বাংলাদেশী ব্যবসায়ী লিডারদের ৩ জনকে সম্মাননা প্রদান করেছেন, যাঁরা তাঁদের নিজ নিজ স্থানীয় কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

নর্থহ্যাম্পটন বাংলাদেশী বিজনেস চেম্বার সিআইসি-এর অংশীদারিত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং এতে তিনজন ব্রিটিশ বাংলাদেশীর কৃতিত্বকে চিহ্নিত করা হয়, যাঁরা তাঁদের নিজ নিজ স্থানীয় কমিউনিটিতে অত্যন্ত সম্মানিত সদস্য হিসেবে উঠে এসেছেন।

নসির আলীকে ‘অসামান্য কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট’ পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং সিমরান আলী, নর্থহ্যাম্পটনের ওয়েলিংবোরো রোডে ‘ওপিয়াম’ রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন ‘তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কার লাভ করেন।সলিটর আক্তার হোসেন, যিনি ‘লেক্সওয়েল লিগ্যাল সার্ভিসেস’ এর মালিক ‘কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এনবিবিসি’র চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজ ইসলাম বলেন: “যেকোনো সম্প্রদায়ের শক্তি পরিমাপ করা হয় সেইসব মানুষের মাধ্যমে, যারা নীরবে অন্যদের সাহায্য করার জন্য তাদের সময়, শক্তি এবং আবেগ উৎসর্গ করেন, এবং আজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই তিনজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেই চেতনারই এক চমৎকার বাস্তব উদাহরণ।

‘‘তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ উপায়ে সমাজসেবা, উদ্যোক্তা বা পেশাগত নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি স্থায়ী পরিবর্তন এনেছেন এবং তাঁদের অবদান শুধু বাংলাদেশি সম্প্রদায়কেই নয়, বরং সমগ্র নর্দাম্পটনকে সমৃদ্ধ করেছে।’’

এনবিবিসি’র সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান আরও বলেন: ‘‘মেয়রের সাথে এই অর্জনগুলো উদযাপন করা এবং বহু মানুষের জীবনে বিজয়ীদের ইতিবাচক প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া একটি বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। তাঁদের গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষ যখন একত্রিত হয়, একে অপরকে সমর্থন করে এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের সেবায় গর্ববোধ করে, তখন কী অর্জন করা সম্ভব।’’

ডেপুটি চেয়ারম্যান টিপু রহমান বলেন: ‘‘আমরা এমন ব্যক্তিদের সমর্থন করতে পেরে গর্বিত, যাঁরা অন্যদের অনুপ্রাণিত করেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং নর্দাম্পটনকে বসবাস ও কাজের জন্য আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রাণবন্ত একটি স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।’’ আমরা আশা করি, এই পুরস্কারগুলো অন্যদেরকে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং সমাজসেবার এই ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করবে, যা আমাদের সম্প্রদায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


বিদায়বেলায় ফয়ছল চৌধুরী: স্কটিশ পার্লামেন্টে এক বাঙালির ইতিহাস গড়ার গল্প

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১৯:৫৩:৫৯
বিদায়বেলায় ফয়ছল চৌধুরী: স্কটিশ পার্লামেন্টে এক বাঙালির ইতিহাস গড়ার গল্প
ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এমবিই/ ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

স্কটিশ পার্লামেন্টে ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, এম.এস.পি এর সময়কাল শেষের পথে, স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই জনজীবনে প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব নিয়ে ভাবছেন এবং আশা করছেন যে ভবিষ্যতেও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমি থেকে আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন।

ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, এম.এস.পি, ইতিহাস সৃষ্টি করেন স্কটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি হিসেবে এবং তিনি এখনো সমগ্র যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ও একমাত্র পুরুষ পার্লামেন্টারিয়ান। তাঁর নির্বাচন স্কটিশ রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং এমন বহু কমিউনিটিকে অনুপ্রাণিত করে যারা আগে কখনো নিজেদের স্কটল্যান্ডের জাতীয় পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হতে দেখেনি।

২০২১ সালে লোথিয়ান অঞ্চলের সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর, ফয়ছল হোসেন চৌধুরী এম.বি.ই, সংস্কৃতি, সমতা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কমিউনিটি ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিত কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁর জনজীবনের পুরো সময়জুড়ে তিনি স্কটল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং অন্তর্ভুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও শক্তিশালী কমিউনিটি সম্পর্কের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বদরদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং স্কটল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফয়ছল হোসেন চৌধুরী-এর রাজনীতিতে যাত্রা গড়ে ওঠে কয়েক দশকের তৃণমূল পর্যায়ের কমিউনিটি কাজ, স্বেচ্ছাসেবা এবং নাগরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং স্কটল্যান্ডের বৈচিত্র্যময় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে কাজ করা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং কমিউনিটি গ্রুপের সঙ্গে ব্যাপকভাবে কাজ করেন।

ফয়ছল চৌধুরীর সমাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০০৪ সালে তিনি ব্রিটিশ রাণীর কাছ থেকে এমবিই (মেম্বার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) খেতাবে ভূষিত হন। এটি ছিল তাঁর জীবনের এক বিশাল অর্জন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সমাজসেবার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

পার্লামেন্টে থাকাকালীন, ফয়ছল চৌধুরী স্কটিশ লেবারের সংস্কৃতি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী (Shadow Minister) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংস্কৃতি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক Deputy Party Spokesperson হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি স্কটল্যান্ডের সাংস্কৃতিক খাত, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং মানবিক দায়বদ্ধতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ ও সংসদীয় পর্যালোচনায় অবদান রাখেন।

তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের একাধিক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে ছিল সিটিজেন পার্টিসিপেশন অ্যান্ড পাবলিক পিটিশনস কমিটি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা কমিটি, সংবিধান, ইউরোপ, বৈদেশিক বিষয়ক ও সংস্কৃতি কমিটি, গ্রামীণ বিষয়ক ও দ্বীপপুঞ্জ কমিটি এবং ডেলিগেটেড পাওয়ারস অ্যান্ড ল’ রিফর্ম কমিটি।। এসব দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি আইন পর্যালোচনা, জননীতি মূল্যায়ন এবং স্কটল্যান্ডজুড়ে অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় অবদান রাখেন।

সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি, ফয়ছল চৌধুরী স্কটিশ পার্লামেন্টের বিভিন্ন ক্রস পার্টি গ্রুপে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ, বর্ণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিরোধ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ এবং সংস্কৃতি ও কমিউনিটিজ বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের কো-কনভেনার হিসেবে, এবং অভিবাসন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপ ও ফিলিস্তিন বিষয়ক ক্রস পার্টি গ্রুপের ভাইস কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে দাতব্য সংস্থা, প্রচারণা গ্রুপ, কমিউনিটি নেতা এবং অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, যাতে কমিউনিটির কণ্ঠস্বর স্কটিশ পার্লামেন্টে পৌঁছায়। তিনি স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগকে সমর্থন করেন।

একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর সময়জুড়ে, ফয়ছল চৌধুরী শুধু এডিনবারা এবং লোথিয়ান অঞ্চলের জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করেননি, বরং রাজনীতি ও পার্লামেন্টকে এমন কমিউনিটির জন্য আরও সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করেছেন যারা দীর্ঘদিন জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করেছে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বৈচিত্র্যময় ও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমির মানুষের মধ্যে রাজনীতি, জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

তাঁর নির্বাচন এবং সংসদীয় জীবন স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বের প্রতিফলনও ছিল। তিনি ধারাবাহিকভাবে বলেছেন যে আধুনিক স্কটল্যান্ডের বৈচিত্র্য যেন পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হয়, এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতেও অনুপ্রতিনিধিত্বশীল কমিউনিটি থেকে আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন।

ফয়ছল চৌধুরী-এর জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বের অবদান বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে MBE for services to the community, Channel S Community Award, Keighley Award for humanitarian work, Pride of British Bangladeshi People Award এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, যা কমিউনিটি উন্নয়ন, সমতা এবং জনজীবনে তাঁর অবদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

নিজের যাত্রা সম্পর্কে প্রতিফলন করতে গিয়ে ফয়ছল চৌধুরী বলেন:

“আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ছিল স্কটিশ পার্লামেন্টে এডিনবারা এবং লোথিয়ান-এর জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। স্কটিশ পার্লামেন্টে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং সমগ্র যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ও একমাত্র পুরুষ পার্লামেন্টারিয়ান হওয়ার দায়িত্ব আমি কখনোই হালকাভাবে নিইনি। আমি বুঝতাম যে আমার নির্বাচন বহু ব্যক্তি ও কমিউনিটির জন্য আশা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক, যারা আগে কখনো নিজেদের পার্লামেন্টে প্রতিফলিত হতে দেখেনি।

“একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার পুরো সময়জুড়ে, আমি শুধু আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করিনি, বরং আরও বেশি মানুষকে—বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠী এবং অনুপ্রতিনিধিত্বশীল পটভূমির মানুষদের—রাজনীতি, জনসেবা এবং কমিউনিটি নেতৃত্বে যুক্ত হতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে আমি স্কটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম এবং শেষ ব্যক্তি হব না, এবং আগামী বছরগুলোতে আরও অনেকেই এই পথ অনুসরণ করবেন।

“জনসেবার একটি মেয়াদ থাকতে পারে, কিন্তু কমিউনিটি সেবা আজীবনের। আপনি যদি সত্যিই পরিবর্তন আনতে চান এবং মানুষের জীবন উন্নত করতে চান, তবে এই কাজ কখনো থামে না।”

তাঁর পুরো কর্মজীবনজুড়ে, ফয়ছল চৌধুরী সমতা প্রচার, কমিউনিটিকে সমর্থন এবং জনজীবনে আরও বেশি অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছেন। তাঁর গল্প আজও স্কটল্যান্ডজুড়ে বহু মানুষকে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু কমিউনিটির মানুষদের, অনুপ্রাণিত করে—যে কীভাবে কমিউনিটি সেবা, দৃঢ়তা এবং জনসম্পৃক্ততা বাধা ভেঙে স্থায়ী পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।


লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: প্রাণ হারালেন সাতক্ষীরার দুই বাংলাদেশি

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১১:২৪:৪১
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: প্রাণ হারালেন সাতক্ষীরার দুই বাংলাদেশি
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনেই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (পিতা আফসার আলী) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (পিতা মো. আবদুল কাদের)। দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের মরদেহ বর্তমানে নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লেবাননে চলমান সংঘাতের বলি হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগে গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দিপালী বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:১৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে নিহত দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে এই বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে, নিহত বৃষ্টির মরদেহ আগামী ৭ মে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে যা ৯ মে সকালে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ৪ মে লিমনের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে বর্তমানে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

/আশিক


জেলের বড়শিতে আটকাল কালো ব্যাগ: মিলল যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১২:০২:১৩
জেলের বড়শিতে আটকাল কালো ব্যাগ: মিলল যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর মরদেহ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে জট খুলেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াক চালিয়ে মাছ ধরার সময় এক জেলের চোখে পড়ে একটি রহস্যময় কালো ব্যাগ। জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান।

কাছে গিয়ে দেখতে পান একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ আংশিক খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেখান থেকে নাহিদা বৃষ্টির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে, ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে সেটি শনাক্ত করতে হয়েছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনে থাকা পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়।

হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানিয়েছেন, তদন্তের সময় জামিল লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার চশমা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ এবং রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘর এবং অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর কক্ষে বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।

লুমিনল পরীক্ষার মাধ্যমে মেঝেতে একটি মানবদেহের ক্ষুদ্র ছাপও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি ব্যাগের ভেতর। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বৃষ্টির মরদেহ গাড়ির ট্রাংকে করে পাচার করা হয়েছিল।

তদন্তের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি বেরিয়ে আসে অভিযুক্ত হিশামের ফোন থেকে। সে ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেললেও বিশেষজ্ঞরা তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। হিশামের সার্চ হিস্ট্রি এবং চ্যাটজিপিটির সাথে কথোপকথনে হত্যার সুপরিকল্পিত ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে জানতে চেয়েছিল— ছুরি দিয়ে খুলি ভাঙা সম্ভব কি না, গুলির শব্দ বাইরে থেকে শোনা যাবে কি না কিংবা মরদেহ গুম করার সবচেয়ে সহজ উপায় কী। এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণগুলো হিশামকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিনহীন কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিহত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল এবং জামিল লিমন ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে কী কারণে হিশাম এই বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটনে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ এনবিসি

পাঠকের মতামত: