শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৮:২৮:৪৯
 শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ ধাপে আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বরিশাল ও ফরিদপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন। এই সফরের মাধ্যমেই বিএনপি চেয়ারম্যানের ঢাকার বাইরের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হতে যাচ্ছে।

সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার বেলা ১১টায় আকাশপথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় তিনি বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক (বঙ্গবন্ধু উদ্যান) মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এরপর দুপুর ১টায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ২টায় ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত অপর এক জনসভায় অংশ নেবেন। প্রচারণা শেষ করে বুধবার বিকালেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

ঢাকার বাইরের প্রচারণার সমাপ্তি বরিশাল ও ফরিদপুর সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দেশব্যাপী দীর্ঘ নির্বাচনি সফর শেষ হচ্ছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান শুরু হয়েছিল। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোতে জনসভা করে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন।

নিরাপত্তা ও জনসভার প্রস্তুতি তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জনসভা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে বিশাল এই সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তাঁরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ভলান্টিয়াররাও তৎপর রয়েছেন।


মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:৩৬:২০
মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চকরিয়ার কোনাখালীতে এক নির্বাচনী পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দলটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও নারী সমাজের অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আগামীতে হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামী এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল।” তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বর্ণনার চেষ্টা করছে।

বিএনপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অস্বীকার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। সালাহউদ্দিনের ভাষ্যমতে, জামায়াত আমির দাবি করেছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যা এক ধরনের ‘প্রতারণা ও ভণ্ডামি’।

‘ভাড়াটে’ মুক্তিযোদ্ধা ও সাইনবোর্ড রাজনীতি সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে তাকে ‘ভাড়াটে’ সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। তবে দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এই রাজনৈতিক কৌশল কখনোই মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারী সমাজ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ নারীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি কর্মজীবী নারীদের অপমান করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা আসলে তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি সুগভীর পরিকল্পনা। নারীদের কল্যাণের নামে এটি আসলে তাদের সমাজ থেকে পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল।

পথসভায় কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:৩০:৫৭
পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চোরেরা ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা নিয়ে আসতে পারি। এই টাকা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের ৪ গুণ। পাচার হওয়া সেই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাচারকৃত অর্থ ফেরত ও বিচারের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুর রহমান পাচারকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করার দিন শেষ। তিনি ঘোষণা করেন, কেবল সম্পদ নয়, ওই চোরদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে। পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশের উন্নয়নে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন রাজনীতির ডাক ও নেতৃত্বের পরিবর্তন নির্বাচনকে ঘিরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং জাতির ভাগ্য সঠিক পথে দাঁড় করানোর নির্বাচন। স্বাধীনতার আগের ২৩ ও পরের ৫৪—এই দীর্ঘ ৭৭ বছরের পুরোনো রাজনীতি দেশের মানুষ আর চায় না। তিনি বলেন, “এদেশের মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী এবং মাটির নিচে ও পানির নিচে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভুল ও অসৎ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।”

পাসপোর্টের মর্যাদা ও জাতীয় পরিচয় দেশের পাসপোর্টের দুর্বল মান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে অনেক জায়গায় বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে নাগরিকরা লজ্জাবোধ করেন। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, তারাই গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশকে এগোতে দেয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মানিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, জেলা আমির আব্দুল করিমসহ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত প্রার্থীদের জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।


শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১২:০২:৩৫
শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মহিমান্বিত রজনীর গুরুত্ব তুলে ধরে দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

শবে বরাতের মাহাত্ম্য ও ফজিলত তারেক রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বরাত শব্দের অর্থ হলো নাজাত বা মুক্তি। শবে বরাতের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এই রাতে পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত ও দয়ার ভাণ্ডার খুলে দেন। এই রজনী মুমিন মুসলমানদের জন্য পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও নিয়ে আসে। ধর্মপ্রাণ মানুষ এই রাতে সারারাত ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি ও ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি সবাইকে এমন নেক আমল করার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা সম্ভব হয়।

সহিংসতা পরিহার ও সম্প্রীতির আহ্বান বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য এই রাতের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান লিখেন, সকল অনাচার, অপকর্ম ও অপবিত্রতা থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা উচিত। তিনি মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে সহিংসতা, রক্তপাত, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে সহিষ্ণুতা, সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিজেদের নিবেদিত রাখার আহ্বান জানান। তারেক রহমান প্রত্যাশা করেন যে, মহিমান্বিত এই রাতে মানুষের এই সৎ নিবেদন নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন।

বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও শান্তি কামনা পোস্টের শেষ অংশে তিনি বিশ্বশান্তিসহ মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সংহতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে একান্ত মোনাজাত করার কথা বলেন। একই সঙ্গে পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করেন তারেক রহমান।


আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৫৭:০৩
আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতীতের পচা রাজনীতি অনুসরণ করার জন্য ২৪-এ যুবকরা লড়াই করে নাই। আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা হবে ইনশাআল্লাহ।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবর্তন ও আগামীর বাংলাদেশ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন আর জনগণ শুনতে চায় না। যারা জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা বাংলাদেশে আর হবে না। তিনি অঙ্গীকার করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটি ফুলের বাগানের মতো সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা হবে।

যুবকদের কর্মসংস্থান ও যোগ্যতা ২৪-এর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, যুবকরা রাস্তায় নেমেছিল তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের অধিকার ফিরে পেতে। কোনো 'মামা-খালুর' সুপারিশে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা চায় আজকের তরুণ প্রজন্ম। তিনি যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "তোমাদের হাতে বেকার ভাতা নয়, সম্মানের কাজ তুলে দেবো ইনশাল্লাহ। আমরা তোমাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। তোমরাই হবে আগামীর বাংলাদেশ।"

নারীদের সম্মান ও অধিকার জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হয়েছিল, তখন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত নারীদের সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি বলেন, "যে জাতি মাকে সম্মান করে, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আমরা আপনাদের সম্মানের সাথে মাথায় তুলে নেবো।"

জনসভায় কটিয়াদী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করে একটি ইনসাফ কায়েমের সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।


মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৩২:৪৬
মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে দেবিদ্বারে মাদকসম্রাটদের ‘শেষ দিন’।

মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত দেবিদ্বারের অঙ্গীকার উঠান বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতের নেতারা টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতেন। কিন্তু ১১ দলীয় জোট কেবল সাধারণ জনগণের শক্তির ওপর আস্থাশীল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "১২ তারিখ সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মাদককারবারি ও মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার চূড়ান্ত পরিণতি হয়ে যাবে। দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাদকসম্রাট একসাথে থাকতে পারে না।" যারা অবৈধ পথে উপার্জনে অভ্যস্ত, তাদের সুস্থ ধারার কর্মসংস্থানে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শ্রম দিয়ে খেতে চান, তাদের জন্য জোটের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

নির্বাচনী প্রতীক ও গণভোটের আহ্বান হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি হলো সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং অন্যটি হলো দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট প্রদান করা। তিনি বলেন, "পরবর্তী বাংলাদেশের বিনির্মাণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে।" ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জোটের পক্ষে কাজ করার এবং উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মোহনপুরের এই উঠান বৈঠকে স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ, দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা এনসিপি-র সদস্য মোসলে উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন, মোহনপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক এবং জামায়াত নেতা কাজী সবুজ। তাঁরা সবাই জোটবদ্ধভাবে শাপলাকলি প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:২৫:৩০
চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
আসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি

চটগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্বাচনী লড়াইয়ে ফেরার গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই যুগান্তকারী আদেশ দেন।

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগের রায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল যমুনা ব্যাংক। মঙ্গলবার আপিল বিভাগ সেই আবেদন খারিজ করে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ রাখার আদেশ বহাল রাখেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই আদেশের ফলে সীতাকুণ্ডের এই জনপ্রিয় নেতার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করতে আর কোনো বাধা নেই। উল্লেখ্য, শুরুতে আসলাম চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন না পেলেও পরবর্তীতে প্রবল জনমতের চাপে তাঁকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের জয় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রেও আদালত ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীনের দায়ের করা আপিলের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। ইসির ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আসেন তিনি। হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ আপিল বিভাগেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় তাঁর ভোটের পথ পরিষ্কার হলো।

মাঠে ফিরছে নির্বাচনী উত্তাপ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ির এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আইনি লড়াইয়ে জিতে আসায় চট্টগ্রামের নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। আদালতের আদেশের খবর পৌঁছানোর পর দুই নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এখন তাঁরা পূর্ণ গতিতে প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:১৫:৪১
ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থীরা (ওপরে বাঁ থেকে)– আবদুল আউয়াল মিন্টু, আসলাম চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের ও এম এ এইচ সেলিম; (নিচে বাঁ থেকে)– সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. জালাল উদ্দীন, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও মো. সফিকুর রহমান।/ছবি :

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে কোটিপতি ও শতকোটিপতি প্রার্থীদের আধিক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। টিআইবির প্রতিবেদন ও প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৮৯১ জনই কোটিপতি এবং ২৬ জন শতকোটিপতি।

শীর্ষ ধনী প্রার্থীর তালিকায় যারা রয়েছেন হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ধনী প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যাঁর পারিবারিক সম্পদের পরিমাণ ৪৭৪ কোটি টাকা। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ, যাঁর সম্পদের মূল্য ২৯৯ কোটি টাকা। ২৯২ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট ও ব্যবসায়ী আধিক্য এবারের নির্বাচনে বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও বিপুল সম্পদের মালিকদের দেখা গেছে। শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ৩ জন রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সালাউদ্দিন আলমগীরের সম্পদ ২৮৩ কোটি টাকা, বাগেরহাটের এম এ এইচ সেলিমের ২৬২ কোটি টাকা এবং নোয়াখালী-৬ আসনের মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের ১৯০ কোটি টাকা। টিআইবি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই পেশায় ব্যবসায়ী।

ঋণ ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বিপুল সম্পদের পাশাপাশি অনেক প্রার্থীর বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর হলফনামায় ২৮০ কোটি টাকা এবং আসলাম চৌধুরীর হলফনামায় ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণের তথ্য রয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রার্থীরা বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় এবং বিপুল ঋণ থাকায় নির্বাচিত হওয়ার পর ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরির ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়াও শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় থাকা অন্য প্রার্থীরা হলেন চাঁদপুরের মো. জালাল উদ্দীন (২৪৯ কোটি), বগুড়ার গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (২০৪ কোটি) এবং শরীয়তপুরের মো. সফিকুর রহমান (১৮৫ কোটি)।


লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৯:২০:৪৩
লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘লাশের রাজনীতি’ ও ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের’ অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনে তাঁর নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়মিত ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীরা মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছে, যা দেশবাসী অতীতেও দেখেছে। আমার আসনেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে অন্য আসনগুলোর পরিস্থিতি কেমন তা সহজেই অনুমেয়।”

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, কাইয়ুম তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আজই (সোমবার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।” সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি হতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সেই কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল হবে না, সেই নিশ্চয়তাও নেই।” এছাড়া কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করে, তবে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা) ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি তিনি ভোটারদের জন্য ‘অনলাইন তথ্যসেবা’ চালুর বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন।


 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৮:৫৬:০৮
 সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি/ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ রনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ রাত গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ইসলামনগর এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রনি ও হাসিনুরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রনির শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা তাঁর অবস্থাকে সংকটাপন্ন করে তোলে।

ছাত্রদল নেতার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া সাইফুল ইসলাম রনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে জাবি ক্যাম্পাসে এবং রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "আহা জীবন! রনি ৪ দিন আগেও আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আর দেখা হলো না। আজ সকালে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।"

উল্লেখ্য, ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ অন্য তিনজনের মধ্যে হাসিনুর এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি দুজন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত: