সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করছেন না তো? কিভাবে জানতে পড়ুন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৯ ২০:১৫:০৩

শিশুর বেড়ে ওঠা শুধু খাবার, শিক্ষা কিংবা নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে না। এটি এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা। প্রতিটি শিশু একটি আলাদা জগৎ নিয়ে জন্মায় এবং তার মানসিক গঠনে বড় ভূমিকা রাখে পরিবেশ, বিশেষ করে বাবা-মায়ের আচরণ ও কথাবার্তা। শিশুর প্রথম শেখা ভাষা, সম্পর্কের ধরন, নিজের মূল্যবোধ এবং আত্মবিশ্বাস সবকিছুর বীজ রোপিত হয় পরিবারেই।

ভাষা: আদরের হাতিয়ার নাকি মানসিক আঘাতের মাধ্যম?

শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো চিন্তা করতে পারে না। তারা অভিভাবকদের মুখের প্রতিটি কথা গভীরভাবে নেয় এবং সেটাকেই বাস্তব সত্য বলে ধরে নেয়। বাবা-মায়ের মুখ থেকে বের হওয়া শব্দগুলো অনেক সময় শিশুর আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে। তাই বাবা-মায়ের হঠাৎ রেগে গিয়ে বলা কোনো কথাও শিশুর মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে।

যেমন, “তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না” এই কথাটি হয়তো মুহূর্তের রাগে বলা, কিন্তু শিশুর মনে তা স্থায়ী দাগ রেখে যায়। সে তার সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে তার মন বলে দেয়, “আমি পারব না”, কারণ তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষ তাকে বলেছে সে অক্ষম।

তুলনা: উৎসাহ নয়, আত্মঘৃণার জন্ম দেয়

অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানের উন্নতির জন্য তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। যেমন, “অমুক ক্লাসে কত ভালো করছে, আর তুমি?” কিন্তু এই তুলনা মোটেও গঠনমূলক হয় না। বরং এতে শিশুর মধ্যে এক ধরনের হিংসা, অপূর্ণতা ও আত্মবোধের দুর্বলতা তৈরি হয়।

তুলনা শিশুর মনে এক প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করে, যেখানে সে নিজেকে নয়, বরং অন্যকে হারানোর জন্য লড়াই করে। এভাবে সে নিজস্বতা হারায় এবং সারাজীবন অন্যের ছায়া অনুসরণ করে চলে। ভালো ফলাফল বা আচরণ করলেও আত্মতৃপ্তি আসে না, কারণ তার মাপকাঠি সবসময় অন্য কেউ।

ভুল: শেখার মাধ্যম নাকি অপমানের সুযোগ?

শিশুরা ভুল করবেই। এটি শিখন প্রক্রিয়ার অঙ্গ। কিন্তু “তুমি সবসময় ভুল করো”, “তোমার কোনো কাজই ঠিক হয় না” এই কথাগুলো শিশুর মধ্যে এক ধরনের অক্ষমতার ধারণা তৈরি করে। ধীরে ধীরে সে চেষ্টা করা ছেড়ে দেয়, কারণ তার ভুলগুলো বারবার তাকে মনে করিয়ে দেয় সে ‘ভালো নয়’।

এমন আচরণ শিশুর শেখার স্পৃহা নষ্ট করে। সে চেষ্টা করলেও ফলাফল যে নেতিবাচক হবে, তা আগেই ধরে নেয়। ফলে তার সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।

আবেগের ওপর নিষেধাজ্ঞা: “চুপ করো, ছোটদের এত কথা বলতে হয় না”

শিশুরা যখন কিছু বলতে চায়, তখন তাদের থামিয়ে দেওয়া, কথাকে গুরুত্ব না দেওয়া, কিংবা অবজ্ঞাসূচক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মাধ্যমে আমরা অজান্তেই তাদের আবেগ প্রকাশের পথ রুদ্ধ করি। এতে তারা মনে করে, তাদের অনুভূতির কোনো মূল্য নেই।

পরিণত বয়সে তারা নিজের আবেগ প্রকাশে সংকোচবোধ করে। অনেক সময় সম্পর্কের সমস্যাও শুরু হয় এই আবেগ চেপে রাখার প্রবণতা থেকে। শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই শেখে, তাদের কথা গুরুত্বহীন, তবে তারা পরবর্তীতে নিজেকেও তেমনই মনে করে।

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল: ভালোবাসার নামে বোঝা চাপানো

শিশু যখন একটু বড় হয়, তখন বাবা-মা অনেক সময় বলেন, “তোমার জন্য সারাজীবন কষ্ট করলাম, একটু কথা শুনতে পারো না?” এই ধরনের বাক্য এক ধরনের আবেগিক চাপে ফেলে দেয় সন্তানকে। সন্তান অনুভব করে, সে যেন ভালোবাসার বিনিময়ে ঋণগ্রস্ত।

এভাবে সন্তানের মনে দুঃখ, অপরাধবোধ ও বিদ্রোহের মিশ্র আবেগ জন্ম নেয়। ভালোবাসাকে সে চুক্তিভিত্তিক মনে করতে শুরু করে। ভবিষ্যতে নিজের সন্তান বা অন্য সম্পর্কেও এই মানসিক কাঠামো সে বহন করে ভালোবাসা মানেই দায়, বাধ্যবাধকতা।

‘তোমার জন্য আমি আমার স্বপ্ন ছাড়তে বাধ্য হয়েছি’

এই বাক্যটি সবচেয়ে বেশি মানসিক বোঝা তৈরি করে সন্তানের ওপর। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের সিদ্ধান্তে সন্তান ধারণ করেন, বা তার জন্য পেশাগত কিছু ছাড় দেন। কিন্তু সেই ত্যাগের দায় যদি পরবর্তীতে সন্তানের ঘাড়ে ফেলা হয়, তাহলে সে তার নিজের স্বপ্নের জায়গা খুঁজে পায় না।

শিশুর ওপর বাবা-মায়ের অতৃপ্ত জীবনের ভার চাপিয়ে দিলে সে নিজেকে একজন দায়ভার হিসেবে ভাবতে শুরু করে। এতে সে নিজের পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন কিংবা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে ভয় পায়।

এসব বাক্য কী ধরনের ক্ষতি করে?

  • এই কথাগুলোর প্রভাব অতি সূক্ষ্মভাবে শিশুর ব্যক্তিত্বে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
  • শিশুর আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধ বিকশিত হয় না।
  • সে নিজের প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
  • নতুন কিছু শেখার বা চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভয় পেয়ে যায়।
  • নিজের অনুভূতি চেপে রাখায় আবেগজনিত সমস্যা তৈরি হয়।
  • অবসাদ, মানসিক চাপ, আত্মবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।
  • সে ভাবতে শেখে, খারাপ ভাষা বা আক্রমণাত্মক আচরণ স্বাভাবিক।

কীভাবে শিশুকে সুরক্ষিত রাখবেন এই ক্ষতির হাত থেকে?

  • শিশু ভুল করলে তাকে শোধরানোর সুযোগ দিন, ব্যক্তিত্বকে আঘাত দেবেন না।
  • নরম ভাষা ব্যবহার করুন, কারণ গলার স্বরও শিশুর মনে দাগ ফেলে।
  • প্রশংসা করুন, বিশেষ করে যখন সে ভালো আচরণ বা ছোট কোনো কাজ করে।
  • তুলনা নয়, তার নিজের আগের চেয়ে উন্নতির কথা বলুন।
  • আবেগ প্রকাশে উত্সাহ দিন, তাকে শুনুন মনোযোগ দিয়ে।
  • তাকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিন, ছোট করে দেখাবেন না।
  • তাকে বোঝান আপনি বিশ্বাস করেন—সে পারবে, সে ভালো।

একটি শব্দ গড়ে দিতে পারে ভবিষ্যৎ, আবার ভেঙেও দিতে পারে

আমরা অনেক সময় সন্তানকে ‘শিক্ষা’ দিতে গিয়ে এমন কথা বলে ফেলি, যা তাকে সারা জীবনের জন্য আঘাত দেয়। অথচ একটু সংবেদনশীল হলে, একটু সহনশীল হলে শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারি।

শিশুরা যা শুনে, তাই বিশ্বাস করে। তাই বাবা-মায়ের প্রতিটি শব্দ যেন হয় ভালোবাসায় মোড়ানো, সম্মানে পরিপূর্ণ। প্রতিটি বাক্য ভাবুন এটি আপনার সন্তানের মনোজগতে কী বার্তা দিচ্ছে?

একটি সুন্দর কথা তার জীবন গঠনের ভিত্তি হতে পারে। আবার একটি ভুল কথা সারাজীবনের জন্য তাকে হারিয়ে দিতে পারে। সুতরাং সচেতন হোন, সংবেদনশীল হোন কারণ আপনি যা বলছেন, তা শুধু শব্দ নয়, তা একটি ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে।


মস্তিষ্কের জন্য ‘স্লো পয়জন’ এই ১১ অভ্যাস! আজই সতর্ক না হলে বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:৫৭:৫৭
মস্তিষ্কের জন্য ‘স্লো পয়জন’ এই ১১ অভ্যাস! আজই সতর্ক না হলে বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

বাইরে না গিয়ে অন্ধকার ঘরে একা থাকা কিংবা সারাক্ষণ কানে হেডফোন গুঁজে রাখা—শুনতে আরামদায়ক মনে হলেও এগুলো আপনার মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের স্লো পয়জন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বলছে, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অনিয়মিত অভ্যাস তিলে তিলে ব্রেনকে অকেজো করে দিচ্ছে। আপনার মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে এবং এর কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে যে ১১টি অভ্যাস দ্রুত বদলানো প্রয়োজন, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ঘুমের অভাব

২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্কের জন্য বাধ্যতামূলক। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজের বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরি করে। কম ঘুমালে স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং ভবিষ্যতে অ্যালঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে সব গ্যাজেট বন্ধ রাখুন এবং অন্ধকার ও আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।

সকালের নাস্তা না খাওয়া

সারা রাত না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্ক চালানোর প্রধান জ্বালানি আসে সকালের নাস্তা থেকে। এটি বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান না করা

আমাদের মস্তিষ্কের ৭৫ শতাংশই পানি। শরীরে পানি কম হলে মস্তিষ্কের টিস্যু সংকুচিত হয়ে যায়, যা আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সারাদিনে অন্তত ২ লিটার পানি পান নিশ্চিত করুন।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বিশ্রামহীনতা

অসুস্থ অবস্থায় কাজ করা বা সারাক্ষণ স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ মারা যায়। যারা সব কাজ নিখুঁত করতে চান বা কাউকে 'না' বলতে পারেন না, তারা এই ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। শরীর খারাপ থাকলে জোর করে কাজ না করে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।

অলস জীবনযাপন

সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও স্থবির হয়ে পড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস করুন।

প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

ছোটখাটো হিসাব বা সাধারণ তথ্যের জন্য সবসময় গুগলের ওপর নির্ভর করবেন না। এতে ব্রেনের নিজস্ব ক্ষমতা কমে যায়। স্মৃতিশক্তি ধারালো রাখতে ধাঁধা মেলানো, বই পড়া বা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখার চেষ্টা করুন।

হেডফোনে উচ্চশব্দে গান শোনা

হেডফোনে ৩০ মিনিটের বেশি জোরে গান শুনলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর শ্রবণশক্তি কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের টিস্যুর ওপর। ভলিউম সবসময় ৬০ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

একাকীত্ব ও অসামাজিক হওয়া

মানুষের সাথে মেলামেশা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে। দীর্ঘ সময় একা থাকলে বিষণ্নতা বাড়ে এবং ব্রেন দ্রুত বুড়িয়ে যায়। তাই প্রিয়জন ও ইতিবাচক মানুষের সাথে সময় কাটান।

নেতিবাচক চিন্তা

"আমাকে দিয়ে কিছু হবে না"—এমন চিন্তা মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রোটিন জমা করে, যা ডিমেনশিয়ার কারণ হতে পারে। নেতিবাচক খবর বা মানুষ এড়িয়ে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন।

অন্ধকার ঘরে থাকা

মস্তিষ্কের জন্য সূর্যের আলো ও প্রাকৃতিক বাতাস খুব জরুরি। দীর্ঘ সময় অন্ধকার বা বদ্ধ ঘরে থাকলে ডিপ্রেশন বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় রোদে যান বা ঘরের জানালা খোলা রাখুন।

ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড এবং মদ্যপান মস্তিষ্কের স্নায়ু সংকুচিত করে দেয়। এছাড়া মোবাইল বা ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে) মস্তিষ্কের গঠন পাতলা করে দেয়। ঘুমানোর সময় ফোন মাথা থেকে দূরে রাখুন এবং পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা


ঈদ শপিংয়ে অনলাইন জালিয়াতি থেকে বাঁচবেন যেভাবে; ৬টি জরুরি টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১২:৩৯:২০
ঈদ শপিংয়ে অনলাইন জালিয়াতি থেকে বাঁচবেন যেভাবে; ৬টি জরুরি টিপস
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে ফেসবুক বা বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে আকর্ষণীয় অফারের আড়ালে ওত পেতে থাকে জালিয়াতরা। একটু অসতর্ক হলেই শখের কেনাকাটা পরিণত হতে পারে দুঃস্বপ্নে। অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা এড়াতে এবং আপনার শপিংকে নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথমেই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ‘https’ এবং একটি লক (Lock) আইকন আছে কি না তা দেখে নিন। ভুয়া বা ফিশিং সাইটে সাধারণত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। এছাড়া অপরিচিত কোনো পেজ বা সাইট থেকে অর্ডারের আগে অবশ্যই তাদের কাস্টমার রিভিউ ও রেটিং যাচাই করে নেওয়া উচিত। অনেক সময় অবিশ্বাস্য ছাড়ের (যেমন: ৮০-৯০ শতাংশ ডিসকাউন্ট) প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়, যা আসলে একটি বড় ফাঁদ।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। যেকোনো সাইটে নিজের কার্ডের তথ্য বা পিন নম্বর দেওয়ার আগে তার বিশ্বস্ততা যাচাই করুন। সম্ভব হলে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দেওয়ার অপশনটি বেছে নিন। ডেলিভারি ও রিটার্ন পলিসি আগেভাগেই পড়ে রাখা ভালো, যাতে পণ্য পছন্দ না হলে বা ভুল পণ্য এলে ফেরত দেওয়া সহজ হয়। মনে রাখবেন, ই-মেইল বা মেসেজে আসা অজানা কোনো লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা মানেই নিজেকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।

/আশিক


দৃষ্টিহীনের চোখে ফিরবে আলো! লিকুইড কর্নিয়ায় বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য সাফল্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:২৩:৫৮
দৃষ্টিহীনের চোখে ফিরবে আলো! লিকুইড কর্নিয়ায় বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

দৃষ্টিহীনের চোখের আলো ফেরাতে এবার বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসেবে হাজির হয়েছে ‘লিকুইড কর্নিয়া’। বয়সজনিত কারণে বা কোনো দুর্ঘটনায় যাদের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেছে কিংবা যারা পুরোপুরি অন্ধত্বের শিকার, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন আশার আলো। এতদিন এই সমস্যার একমাত্র সমাধান ছিল কর্নিয়া প্রতিস্থাপন, যা অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানীদের তৈরি এই বায়ো-পলিমার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে যাচ্ছে।

লিকুইড কর্নিয়া মূলত হাইড্রোজেল দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ বায়ো-পলিমার। এতে কোলাজেন, ফাইব্রিনোজোন এবং স্টেম কোষের মিশ্রণ থাকে, যা চোখের ভেতরে নতুন কোষ তৈরি করতে সক্ষম। এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে চোখে প্রবেশ করানো হবে এবং কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গিয়ে তা ধীরে ধীরে আসল কর্নিয়ার মতোই একটি স্বচ্ছ স্তর গঠন করবে। এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি রেটিনায় প্রবেশ করতে পারবে, ফলে দৃষ্টিহীন ব্যক্তি ফিরে পাবেন তাঁর স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি।

যাদের কর্নিয়া অস্বচ্ছ হয়ে গেছে, কর্নিয়াল আলসার হয়েছে কিংবা সংক্রমণের কারণে চোখে স্থায়ী দাগ পড়ে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই লিকুইড কর্নিয়া জাদুর মতো কাজ করবে। প্রচলিত কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে মৃত দাতার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নিখুঁত অস্ত্রোপচারের যে ঝুঁকি থাকে, লিকুইড কর্নিয়ার ক্ষেত্রে সেই ভয় নেই। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এটি অবিকল আসল কর্নিয়ার মতোই আচরণ করবে এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই চোখের ভেতরেই নতুন কর্নিয়া তৈরি হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় সাফল্য অন্ধত্ব নিবারণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


ঈদের আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে টক দই; ট্রাই করুন এই ৪টি জাদুকরী মাস্ক

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১২:৪৮:২৮
ঈদের আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে টক দই; ট্রাই করুন এই ৪টি জাদুকরী মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

সামনেই খুশির ঈদ। উৎসবের এই দিনটিতে নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাতে ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। ঈদের আগে চুলের হারানো স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে রান্নাঘরের সাধারণ উপকরণ টক দই হতে পারে আপনার সেরা সমাধান। টক দই দিয়ে তৈরি করা যায় এমন ৪টি কার্যকরী হেয়ার মাস্কের বিস্তারিত দেওয়া হলো

১. উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা ফেরাতে দই-মধু-অলিভ অয়েল

দইয়ের সঙ্গে মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দই ও মধু চুলকে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে, আর অলিভ অয়েল চুলের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি চুলকে কন্ডিশনড এবং চকচকে করে তোলে।

২. ভঙ্গুর চুলের যত্নে দই ও ডিম

দুর্বল ও ভেঙে যাওয়া চুলের জন্য প্রোটিন মাস্ক অত্যন্ত জরুরি। একটি আস্ত ডিমের সঙ্গে চার চামচ দই ভালো করে ফেটিয়ে নিন। চুলের ডগা বেশি শুষ্ক হলে শুধু ডিমের কুসুম ব্যবহার করা ভালো। মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। ডিমের ন্যাচারাল পেপটাইড চুলের ক্ষতি পূরণ করে চুলকে মজবুত করে। মনে রাখবেন, এই মাস্ক ব্যবহারের পর চুল অবশ্যই ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোবেন।

৩. মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমাতে দই ও অ্যালোভেরা

গরমের ঘাম থেকে হওয়া মাথার ত্বকের চুলকানি বা ফোলা ভাব কমাতে ৩ চামচ দইয়ের সঙ্গে ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। অ্যালোভেরার এনজাইম মাথার ত্বকের মৃত কোষ মেরামত করে এবং দইয়ের সাথে মিলে ত্বককে ঠান্ডা রাখে। মিশ্রণটি ৩০-৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. চুল পড়া বন্ধ করতে দই ও মেথি

যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ছে বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য মেথি ও দইয়ের মিশ্রণ আদর্শ। মেথিতে থাকা নিকোটিনিক অ্যাসিড ও প্রোটিন চুল পড়া আটকায়। ১ চামচ মেথি গুঁড়ো বা বাটা মেথির সঙ্গে ৩ চামচ দই মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর এটি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

/আশিক


মাস শেষে বিল দেখে কপালে ভাঁজ? জেনে নিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ের ৭টি ম্যাজিক টিপস!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:২৫:৫০
মাস শেষে বিল দেখে কপালে ভাঁজ? জেনে নিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ের ৭টি ম্যাজিক টিপস!
ছবি : সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের এই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কমানো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলোতে যেখানে জীবনযাত্রার খরচ আকাশচুম্বী, সেখানে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর অভ্যাস আপনার মাসিক খরচ অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে পারে। জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতা ফিরিয়ে আনলে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সাশ্রয় করা সম্ভব, তার ৭টি কার্যকরী কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো।

১. বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে লাইট, ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনারের সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস করা সবচেয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ। দিনের বেলা যতটা সম্ভব জানালা খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার সচেতনতা মাস শেষে আপনার বিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

২. এনার্জি সেভিং বা এলইডি বাল্বের ব্যবহার

পুরনো ফিলামেন্ট বাল্ব বা সাধারণ টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি (LED) বাল্ব ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এলইডি বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের চেয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। দীর্ঘস্থায়ী এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় ঘরের সব লাইট পর্যায়ক্রমে এলইডিতে রূপান্তর করা উচিত।

৩. ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার

ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখলে ভেতরে ঠান্ডা বজায় রাখতে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া ফ্রিজে গরম খাবার সরাসরি রাখা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, মাইক্রোওভেন বা কম্পিউটার ব্যবহার শেষে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে সরাসরি প্লাগ পয়েন্ট থেকে সুইচ বন্ধ করা ভালো, কারণ স্ট্যান্ডবাই মোডেও সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হয়।

৪. এসির তাপমাত্রা ও রক্ষণাবেক্ষণ

গরমের দিনে এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা সর্বদা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখুন। এর ফলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ বিল কম আসে।

৫. গ্যাসের চুলা ও আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার

রান্নার ক্ষেত্রে পাত্রের আকার অনুযায়ী আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ছোট পাত্রে অতিরিক্ত আগুন দিলে তা হাঁড়ির পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাসের অপচয় হয়। এ ছাড়া রান্নার আগে সব মসলা ও সবজি গুছিয়ে নিয়ে চুলা জ্বালালে গ্যাস সাশ্রয় হয়। রান্না শেষে চুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা নিরাপত্তার জন্যও জরুরি।

৬. প্রেসার কুকার ও ঢাকনা ব্যবহার

ডাল বা মাংসের মতো শক্ত খাবার দ্রুত সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করা সবচেয়ে সেরা উপায়। এটি রান্নার সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, ফলে গ্যাস খরচও কমে। এ ছাড়া সাধারণ হাঁড়িতে রান্না করার সময় সব সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন, এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।

৭. নিয়মিত সার্ভিসিং ও সচেতনতা

বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো লিকেজ বা পুরনো ওয়্যারিং থাকলে বিদ্যুৎ অপচয় বেশি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ঘরের ওয়্যারিং পরীক্ষা করা উচিত। গ্যাস লাইনের লিকেজ রোধে নিয়মিত পরীক্ষা করা শুধু বিল নয়, জীবন রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় কেবল আপনার ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ায় না, এটি জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে আপনি মাস শেষে সাশ্রয়ী ও নিশ্চিন্ত জীবন উপভোগ করতে পারবেন।

/আশিক


অতিরিক্ত ওজন কি আপনার সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য কেড়ে নিচ্ছে? জেনে নিন বাঁচার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:৪৮:০০
অতিরিক্ত ওজন কি আপনার সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য কেড়ে নিচ্ছে? জেনে নিন বাঁচার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কেবল একটি শারীরিক গঠনগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং অলস জীবনযাপন এই সমস্যার প্রধান কারণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রাণঘাতী রোগের পথ প্রশস্ত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো সচেতনতা। প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করার মাধ্যমেই ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করে। খাবারের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রমের গুরুত্বও অপরিসীম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্র সচল থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ঘুমের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। আধুনিক জীবনে ঘুমের স্বল্পতা স্থূলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন পেতে হলে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। স্থূলতাকে জয় করতে হলে আজই জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

তথ্যসূত্র: সামাটিভি।


ঝাল মাংস তো অনেক হলো, এবার ঈদে পাতে থাকুক জিভে জল আনা সাদা কোরমা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:৩৮:৪৯
ঝাল মাংস তো অনেক হলো, এবার ঈদে পাতে থাকুক জিভে জল আনা সাদা কোরমা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে খাবারের মেনুতে থাকা চাই রাজকীয় ছোঁয়া। ঈদের সকালে বা দুপুরের পোলাওয়ের সাথে যদি থাকে সুস্বাদু চিকেন কোরমা, তবে তো কথাই নেই। ঝাল মাংসের পাশাপাশি এবার রান্নায় ভিন্নতা আনতে আপনি সহজেই তৈরি করতে পারেন এই পদটি। আপনার দেওয়া রেসিপি অনুযায়ী সাদা পোলাওয়ের সাথে খাওয়ার উপযোগী করে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

শাহী চিকেন কোরমা তৈরির উপকরণ

মুরগি: ১টি (মাঝারি সাইজ)

আলু: ২টি (টুকরো করে কাটা)

বাটা মসলা: পেঁয়াজ বাটা ১/৪ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ।

আস্ত মসলা ও ফোড়ন: দারুচিনি ২টি, এলাচ ৪টি, তেজপাতা ২টি, কাঁচামরিচ ৪টি।

রান্নার বিশেষ উপকরণ: টক দই বা দুধ ১/২ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৭/৮টি, গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ।

তেল ও ঘি: তেল ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ।

লবণ: পরিমাণমতো।

রান্নার সঠিক প্রস্তুতি ও ধাপসমূহ

প্রথমে মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এখন আলু, কাঁচামরিচ, কিশমিশ, লেবুর রস, চিনি, দুধ/দই ও ঘি বাদে বাকি সব বাটা মসলা ও লবণ দিয়ে মাংসটি মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এতে মাংসের ভেতর পর্যন্ত মসলার স্বাদ পৌঁছাবে।

কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে আলুগুলো হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখুন। এরপর সেই তেলেই ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। এবার আস্ত গরম মসলা (এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা) ও ভাজা আলু দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট সময় নিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।

মাংস কষানো হয়ে গেলে পরিমাণমতো গরম পানি দিন। ঝোল ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢেকে রান্না করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে টক দই বা দুধ দিয়ে দিন। নামানোর ঠিক আগ মুহূর্তে দুধ দিলে কোরমার রঙ সাদাটে ও শাহী ভাব বজায় থাকে।

রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে এলে কিশমিশ, লেবুর রস, চিনি, কাঁচামরিচ ও ঘি ছড়িয়ে দিন। এরপর ৫ মিনিটের জন্য দমে রাখুন। যখন মাংসের ওপর তেল ভেসে উঠবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন।


বিনা জামানতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসী ঋণ; জেনে নিন সহজ আবেদন পদ্ধতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৯:৫৩:১৩
বিনা জামানতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসী ঋণ; জেনে নিন সহজ আবেদন পদ্ধতি
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে ইচ্ছুক অনেক মানুষের কাছেই প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান। এই সমস্যা সমাধানে এবং প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নতুন ও পুনরায় বিদেশগামীদের জন্য বিশেষ অভিবাসী ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। এই প্রকল্পের আওতায় একজন বিদেশগামী কর্মী জামানতবিহীন সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারেন।

এই ঋণের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ রাখা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিকে প্রথমে তাঁর নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করে বিনামূল্যে একটি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করার পর প্রয়োজনীয় নথিসহ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর চার কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পাসপোর্টের ফটোকপি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার কপি। এছাড়াও ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি এবং সম্ভব হলে লেবার কন্ট্রাক্ট পেপার জমা দিতে হবে। ঋণের জন্য একজন জামিনদার থাকা আবশ্যক, যাঁর ছবি, এনআইডি এবং তিনটি খালি চেকের পাতা প্রয়োজন হবে। একইসাথে ঋণগ্রহীতাকে ওই ব্যাংক শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এই ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত, যা নতুন কর্মী এবং রি-এন্ট্রি ভিসাধারী—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ঋণের মেয়াদকাল নতুন ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং পুনরায় বিদেশগামীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই ঋণের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর 'গ্রেস পিরিয়ড'। অর্থাৎ ঋণ গ্রহণের পর প্রথম দুই মাস কর্মীকে কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। পরবর্তী মাসগুলো থেকে নির্ধারিত মেয়াদে কিস্তির মাধ্যমে ঋণ শোধ করা যাবে। এই ঋণের ওপর বর্তমানে ৮ শতাংশ হারে সরল সুদ প্রযোজ্য।

সাধারণত সকল কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করা থাকলে মাত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ অনুমোদন করে থাকে। বিশেষ বিষয় হলো, এই ঋণের জন্য ব্যাংক থেকে কোনো বাড়তি সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা হয় না। ঋণের কিস্তির হিসাবও বেশ সহজ; যেমন কোনো ব্যক্তি ২ বছর মেয়াদে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিলে তাঁকে মাসে প্রায় ১৩,৫৬৯ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়া নিয়ে নেতিবাচক ধারণা থাকলেও প্রয়োজনীয় শর্ত ও নথিপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করলে এ সুবিধা পাওয়া সহজ হয়। তাই বিস্তারিত জানতে এবং সফলভাবে ঋণের আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিকটতম শাখায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বাড়িতেই হবে ফলের সমারোহ: আপনার বারান্দার টবে যে ৩টি ফল সহজে ফলবে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১২:৩৯:৩৩
বাড়িতেই হবে ফলের সমারোহ: আপনার বারান্দার টবে যে ৩টি ফল সহজে ফলবে
ছবি : সংগৃহীত

বাড়ির বারান্দা কিংবা ছাদে ফলের বাগান করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। যদিও টবে ফলের গাছ লাগানো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, তবে সঠিক যত্ন আর ধৈর্য থাকলে আপনার শখের টবেই ফলবে সুস্বাদু সব ফল। মূলত যাদের গাছ সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা আছে, তারা সহজেই টবকে এক টুকরো বাগানে পরিণত করতে পারেন।

টবে চাষ উপযোগী ৩টি জনপ্রিয় ফলের গাছের যত্ন ও চাষ পদ্ধতি তুলে ধরা হলো

১. কামরাঙা

কামরাঙা প্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, এটি টবে বেশ ভালো জন্মায়। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত রোদ আসে এমন একটি স্থান। কামরাঙা গাছে প্রতিদিন পানি দিতে হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। গাছ যখন ফল দেওয়ার উপযোগী হয়, তখন নিয়মিত এর ডাল ছেঁটে দিলে ফলন অনেক ভালো হয়।

২. আম

ফলের রাজা আম আপনার বারান্দার টবেও বড় হতে পারে। আম খাওয়ার পর এর আঁটি বা বীজ টবের মাটিতে পুঁতে দিলেই কিছুদিনের মধ্যে চারা গজাবে। আমের চারার জন্য পর্যাপ্ত রোদ ও পরিমিত পানি প্রয়োজন। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—আম গাছে যেন উত্তরের ঠান্ডা হাওয়া সরাসরি না লাগে, কারণ এটি গাছের বৃদ্ধির ক্ষতি করতে পারে।

৩. ড্রাগন ফল

ছাদবাগানীদের জন্য ড্রাগন ফল বর্তমানে সবচেয়ে প্রিয় একটি নাম। ড্রাগন গাছ খুব সহজেই টবে বা ড্রামে মানিয়ে নেয়। এর জন্য প্রচুর রোদ এবং গাছটি বেড়ে ওঠার জন্য একটি দেয়াল বা শক্ত খুঁটির অবলম্বন প্রয়োজন। নিয়মিত পানি দিলেও ড্রাগন গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা একদমই চলবে না, কারণ অতিরিক্ত পানিতে এর শিকড় পচে যাওয়ার ভয় থাকে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: