মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিএনপির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৪ ২১:৩৭:২৭
মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিএনপির

রাজধানীর মিটফোর্ডে সংঘটিত সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দাবি করেছে, এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে সামনে রেখে দেশে গৃহীত একটি কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল জানান, এ ঘটনায় একটি ‘তদন্ত ও তথ্যানুসন্ধানী কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যারা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে জনসমক্ষে তা প্রকাশ করবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটলেও কোনো ধরনের প্রতিরোধ দেখা যায়নি, যা জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তৈরি করা ছবি ও ভিডিও। ৯ জুলাইয়ের ঘটনাটি জুমার নামাজের পর ১১ জুলাই ‘প্রাইম টাইমে’ ইন্টারনেটে ছড়ানোর পেছনেও ছিল সুপরিকল্পিত প্রচারণা।

তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে দলের কেউ কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে যারা প্রকৃত অপরাধী নয়, অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এজাহারে তাদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও নিহতের পরিবারের বক্তব্য রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ঘটনায় সরকার যতটা সক্রিয় হয়েছে, অন্যান্য জায়গায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোতে তাদের এমন তৎপরতা দেখা যায়নি। কুমিল্লা, চাঁদপুর, খুলনায় একাধিক রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটলেও প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া ছিল নিম্নমাত্রার।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, নিহত সোহাগের পরিচয় যা-ই হোক, তিনি ছিলেন এই দেশের নাগরিক এবং তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবিদার। দলীয় পরিচয়কে আড়াল না করে বরং যে কেউ অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক—এটাই বিএনপির অবস্থান।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, একদিকে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে অপমান করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য করে গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

এ সময় তিনি আরো বলেন, “আমরা শত বাধা পেরিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা ষড়যন্ত্র করছে, তারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে চায়। তাদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করতে আমাদের জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা একমত পোষণ করে বলেন, এই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


রংপুরে চাপা উত্তেজনা: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ মুখোমুখি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ২১:৫৩:১৯
রংপুরে চাপা উত্তেজনা: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ মুখোমুখি
ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় পার্টি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে রংপুর নগরীতে দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করায় জাতীয় পার্টি এবং গণ অধিকার পরিষদ—উভয় দলের নেতাকর্মীরাই মাঠে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সংঘাত ছাড়াই দল দুটি তাদের কর্মসূচি পালন করায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উভয় দলের কর্মসূচি

গতকাল রাতেই জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নেতাকর্মীদের সকাল ১১টার মধ্যে নগরীর দলীয় কার্যালয়ে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দুপুর ১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শাহী মসজিদের গলিতে জমায়েত ডাকা হয়।

দুপুরের পর গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দলের নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।

অন্যদিকে, সকাল থেকেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে শক্ত অবস্থান নেন। জাতীয় পার্টির অফিসে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হামলা চালাতে পারে—এমন গুজব নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই খবর শোনার পর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আরও বেশি সংখ্যায় জমায়েত হন এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

জাতীয় পার্টির বক্তব্য

দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুরের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার মোস্তফা বলেন, “এখন যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি সরকারে আসবে। বিএনপি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ জন্য বিএনপিকে কিভাবে আলাদা করে রাখা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।” তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি’ বিএনপিকে কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে। তার মতে, ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা’ নির্বাচন পেছানো এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজে ব্যস্ত আছে।

বিকালে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আরেক সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর তার কার্যকলাপের কারণে কোথাও গিয়ে আটক হচ্ছেন, আবার যেখানে সেখানে মার খাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এই ভিপি নুর একসময় শেখ হাসিনাকে ‘মা’ বলে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিল, অথচ এখন তারাই ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির হাতিয়ার। আমরা যারা নির্বাচন করেছি, তারা হয়ে গেছি ফ্যাসিস্টদের দোসর। এই হলো বর্তমান অবস্থা।”

রংপুরের রাজনীতি নিয়ে মোস্তাফিজার মোস্তফা বলেন, “কেউ যদি মনে করে রংপুরে জাতীয় পার্টি দুর্বল, তাহলে একবার এসে দেখুক। তাদের যদি শক্তিসামর্থ থাকে, আরও যদি তাদের কেউ থাকে, তাদের নিয়ে আসুক। তাদের হাত-পা ভেঙে দেব। আমরা অন্যায়কে বরদাস্ত করব না, আমরা কাউকে ছাড়ও দেব না।” তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পার্টি অফিস রক্ষা করব। এতে আমি জেলে যেতে পারি, আমি মারাও যেতে পারি, তবু অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত সময়েও জাতীয় পার্টি একাই নির্বাচন করেছে, আগামীতেও একাই নির্বাচন করবে। নিজস্ব শক্তিতে বলিয়ান হয়ে জাতীয় পার্টি মাঠে লড়বে।”

/আশিক


নুরের পাশে জামায়াত: ঢাকা মেডিকেলে তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ২১:৪১:২০
নুরের পাশে জামায়াত: ঢাকা মেডিকেলে তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ছবি : কালবেলা

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের শারীরিক খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। এ সময় তারা চিকিৎসকদের কাছে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডা. তাহের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরের ‘আওয়ামী দোসরদের’ হামলায় নুর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অনতিবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের ভেতরে এবং বাইরে থাকা আওয়ামী দোসরদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এ সময় জামায়াতের প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের সহসভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অংশ নেবেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ২১:৩৫:২১
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অংশ নেবেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছর (২০২৬) ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এই কথা জানান। সিনিয়র রিপোর্টার তারিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন এসেছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন অনেক উজ্জীবিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “কোনো শঙ্কা দেখি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।”

জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।”

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আশা করি, তিনি শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন।” খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই।”

/আশিক


শঙ্কামুক্ত নন:  নুরকে আরও ৩৬ ঘণ্টা আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ২১:২৮:২০
শঙ্কামুক্ত নন:  নুরকে আরও ৩৬ ঘণ্টা আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের
ছবি: সংগৃহীত

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পুলিশের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

শনিবার রাত ৮টায় চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে এখনই তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আগামী ৩৬ ঘণ্টা তাকে আইসিইউতে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে তার মস্তিষ্ক, স্নায়ু এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নুরের শারীরিক অবস্থা

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরুল হক নুরের মাথায় গুরুতর আঘাত, নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে এবং মস্তিষ্কে হালকা রক্তক্ষরণ দেখা গেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে জ্ঞানপ্রাপ্ত এবং নড়াচড়া করতে পারছেন। তবে চোখ ও মুখমণ্ডলে ফোলাভাব রয়েছে এবং চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। তার চিকিৎসায় একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে নিউরোসার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন নুর

নুরুল হক নুর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

/আশিক


এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১২:৫৫:৫১
এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা
বাংলাদেশ জাতীয় সিরাত কমিটি আয়োজিত সিরাতুন্নবী মহাসম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মাওলানা মামুনুল হক। পাশে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদের স্বীকৃতি এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান বাংলার মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার রাতে ঢাকার ধুপাখোলা মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় সিরাত কমিটি আয়োজিত সিরাতুন্নবী মহাসম্মেলনে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। এ সময় তার পাশেই বসে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, “নির্বাচন-ফির্বাচন অনেক পরের কাহিনি, কিসের নির্বাচন? ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদদের রক্তকে প্রথম স্বীকার করতে হবে। চব্বিশের সহস্রাধিক জুলাই যোদ্ধারা যে জন্য রক্ত দিয়েছিলেন, সেই আধিপত্যবাদের উৎখাত নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ বাংলার মাটিতে কার্যকর করতে হবে। বাহাত্তরের সংবিধান বাংলার মাটিতে চলবে না, চলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, ২৪-এর রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করে যারা আবার বাহাত্তরের বাকশালী ব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে চায়, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। তিনি বলেন, “আমরা জীবন দেবো, রক্ত দেবো, কিন্তু ২৪-এর বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশে আর সেই সকল স্বৈরাচারীদের ভাস্কর্য নামক মূর্তি স্থাপন হতে দেওয়া হবে না।”

মামুনুল হক বলেন, “যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় শহীদ আবু সাঈদ অথবা মুগ্ধদের নামে কেউ ভাস্কর্য নির্মাণ করতে চায়, সেই ভাস্কর্যের সঙ্গে আমাদের সেই আচরণই হবে, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের ভাস্কর্যের সঙ্গে যে আচরণ করেছিলাম।” তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামেও যদি কেউ কোনো ভাস্কর্য বসাতে চায়, তাহলে সেটি জীবন দিয়ে প্রতিহত ও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

মামুনুল হক বলেন, বাহাত্তরের চেতনাকেই প্রতিনিধিত্ব করে বাহাত্তরের সংবিধান। এই সংবিধানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভারতের চরণতলে বলি দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামীতে বাংলাদেশ বাহাত্তরের চেতনার মাধ্যমে একাত্তরের চেতনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করবে। বাহাত্তরের ভারতীয় আধিপত্যবাদের চেতনা বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া যাবে না।”

/আশিক


কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:৩৭:৪১
কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি
ছবিঃ সংগৃহীত

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলার পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে নুরের ওপর হামলার ভিডিও শেয়ার করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে হাসিনার পতন আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা নুর ভাইয়ের ওপর সেনাবাহিনীর এই বর্বর হামলাকে আমি স্বাভাবিক হিসেবে দেখি না।

সারজিস আলম বলেন, “সেনাবাহিনী কখনো উপরের নির্দেশ ছাড়া একটি পদক্ষেপও নেয় না। সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে কার নির্দেশে নূর ভাইকে রক্তাক্ত করা হলো, তার জবাব সেনাপ্রধানকে দিতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে কারা একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতিকে মেরে হলেও জাতীয় পার্টিকে রক্ষার মিশনে নেমেছে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি পুলিশের ভেতরে থাকা ‘আওয়ামী দালালদের’ বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সারজিস আলম আরও লেখেন, “সেনাবাহিনী এবং পুলিশ নুরুল হক নূরকে ভালোভাবেই চেনে। তারপরও পরিকল্পনা করে তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। যারা পেছন থেকে কালো হাতের খেলা খেলার চেষ্টা করছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”

এর আগে এই ঘটনা নিয়ে দেওয়া অন্য একটি পোস্টে সারজিস দাবি করেন, ‘প্ল্যান-বি’ হলো জাতীয় পার্টির ওপর ভর করে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, “এ কারণে জাতীয় পার্টির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে উত্তরপাড়া-দক্ষিণপাড়া মিলে একাকার হয়ে গেছে। নূর ভাইদের ওপর বর্বরতম হামলার মূল কারণও এটি। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির বিষয়ে সব দলকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

সারজিস বলেন, “আওয়ামী লীগ যেমন অপরাধী, তেমনি এর দোসর, ‘বি টিম’ এবং বৈধতা দানকারী জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধী। জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি একই পথের পথিক, তাদের পরিণতিও একই হবে।”

/আশিক


জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:১৩:০৮
জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কাকরাইলে হামলায় গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কিছুটা জ্ঞান ফিরেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়। পোস্টে নাকে ব্যান্ডেজ ও মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় নুরকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা হয়, “নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পরে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ ও বুক পর্যন্ত রক্তাক্ত এবং তার নাক ফেটে গেছে। এ সময় তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

রাতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, ডাক্তাররা বলেছেন নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ কারণেই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

/আশিক


নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:০৭:৩০
নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
ছবিঃ সংগৃহীত

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিয়েছেন নুরুল হক নূর।

শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “শুরুটা হয়েছিল ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’-এর পরিকল্পনা দিয়ে, যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দিই। সেই পুনর্বাসন ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নুর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নুরের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নুর ভাইয়ের মতো রক্তাক্ত হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “নুরুল হক নুরের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ভারতের প্রেসক্রিপশনে বিপ্লবীদের রক্তাক্ত করে আওয়ামী লীগ ফেরানোর এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না।”

/আশিক


বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৮:৫৭:৫৪
বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই সনদের বিষয়ে মতভিন্নতা কমাতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে তা থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

মূলত পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দুই দলের ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এই বৈঠক হয়। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

বিএনপির অবস্থান: বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টনের (পিআর) বিপক্ষে। তারা সংবিধান সংস্কারের চেয়ে সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে। বিএনপি মনে করে, সংবিধানের ওপর কোনো কিছুই প্রাধান্য পেতে পারে না।

জামায়াতের অবস্থান: জামায়াত জুলাই সনদের অধীনে পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন চায়। তারা সংবিধানের ওপর সনদের প্রাধান্য চায় এবং গণভোট বা রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিএনপি পিআর পদ্ধতি এবং সনদের কিছু সংস্কার বিষয়ে তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে এবং এগুলোতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের আগে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস—এই সাতটি দল একটি বৈঠকে বসেছিল। সেখানে দলগুলো জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না বলে একমত হয়।

তবে জামায়াত সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চাইলেও অন্য দলগুলো কেবল উচ্চকক্ষে পিআর চায়। এই দলগুলো গণভোটের বিপক্ষে থাকলেও সনদের আইনি ভিত্তি এবং সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একমত। তারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপকেও অপরিপক্ব বলে আখ্যায়িত করেছে।

জামায়াত নেতা ডা. তাহের বলেন, যারা ভোটের আগে সংস্কার চায় না, তারাই মূলত নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। তিনি ইসি’র রোডম্যাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যেখানে নির্বাচনের পদ্ধতিই নির্ধারিত হয়নি, সেখানে রোডম্যাপ ঘোষণা করা অপরিণত সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসির রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাঠকের মতামত: