জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ: নাসীরুদ্দীন 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:৩০:১৯
জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ: নাসীরুদ্দীন 
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নেই এবং তাঁর নারী কর্মীদের হেনস্তা ও হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ভোটার ও ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে প্রতিপক্ষের সভায় নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে তাঁর লাগানো পোস্টার ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টারে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করার ঘটনাকে তারেক রহমানের পূর্বপরিকল্পিত কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "ইসি যদি আগেই গোল দিয়ে দেয়, তবে জনগণ কীভাবে ভোট দেবে?" তাঁর মতে, গণমাধ্যমগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে না পারে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম ইতোমধ্যে পক্ষ নিয়ে ফেলেছে দাবি করে তিনি আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একমাত্র বিএনপির বাধার কারণেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। ঢাকা-৮ আসনের জন্য নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি স্কুলগুলোতে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করবেন এবং মাদকমুক্ত ঢাকা-৮ গড়বেন। এ ছাড়া কাঁচাবাজারের জন্য মাল্টি কমপ্লেক্স বিল্ডিং নির্মাণ, হকারদের লাইসেন্স প্রদান, কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নকেও তিনি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছেন বলে জানান।


জামায়াতের সাথে কেন জোট ভাঙল? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রেজাউল করীম 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:৫৪:০২
জামায়াতের সাথে কেন জোট ভাঙল? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রেজাউল করীম 
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, জামায়াত নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী আট দলকে বাদ দিয়ে এককভাবে পরবর্তীতে কয়েকটি ছোট দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে ইসলামের প্রকৃত চেতনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কোনো বালাই নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যে জোটে ইসলাম এবং নিজেদের ভেতরে ভ্রাতৃত্ব নেই, সেখানে থাকলে জাতি ধোঁকা খাবে—এই আশঙ্কা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে আদর্শিক ঐক্যের অভাব রয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রেজাউল করীম আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনে একাধিক বৈঠক করেছে। সেসব বৈঠকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে তাঁরা ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রপন্থী ও জঙ্গি হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জামায়াতের এই দ্বিমুখী নীতির কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছে। এদিন ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচনকালে তিনি ৩০টি মৌলিক দফা ও ১২টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই ইশতেহারে মূলত ইনসাফ কায়েম, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ইসলামের মৌলিক নীতিমালার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।


তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবেই, কারো রক্তচক্ষু মানি না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:৪৫:৩৩
তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবেই, কারো রক্তচক্ষু মানি না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা নদীকে উত্তরবঙ্গের আশীর্বাদে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো রক্তচক্ষু পাত্তা না দিয়ে যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সংযোগস্থল তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে।

জনসভায় আমিরে জামায়াত তিস্তা নদীকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তিস্তা বর্তমানে অভিশাপে পরিণত হলেও আমরা একে জীবন দেব এবং নদীভাঙনের কবলে পড়ে আর কাউকে নিঃস্ব হতে দেব না। তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছর ধরে যারা রাজনীতির নামে বেইমানি, ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজি করেছে, এখন তাদের অপসরণের সময় এসেছে। ১২ তারিখের ভোটই নির্ধারণ করবে ১৩ তারিখের নতুন সূর্যের ভাগ্য। তরুণদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে তরুণদের অপমান নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বেতন উপযুক্ত না হওয়ায় দুর্নীতি বাড়ে, যা নিরসনে কাজ করা হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশে ‘মাইনরিটি’ বা ‘মেজরিটি’ বলে কোনো শব্দ থাকবে না; সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার পাবে এবং অন্য ধর্মের মানুষকে আমরা বুকের চাদরে আগলে রাখব। নারীদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত। তিনি আগামী নির্বাচনে জামায়াতের ব্যক্তিগত বিজয় নয় বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনতার বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জনসভা শেষে তিনি লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতজন প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুপুর ২টায় ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে সভাস্থলে পৌঁছানোর অনেক আগেই পুরো তিস্তা ব্যারাজ এলাকা ও হেলিপ্যাড মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে হাজার হাজার মানুষ সভাস্থলে সমবেত হন।


দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে কেবল বিএনপি: নজরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৭:৪৪:০৯
দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে কেবল বিএনপি: নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ১৭ বছরের অপশাসন ও অব্যবস্থাপনায় আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তোলার সক্ষমতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হবে। তিনি ঘোষণা করেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ‘মজুরি নির্ধারণ কমিশন’ কাজ করবে। শ্রমিকরা বর্তমানে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, পরশু ঘোষিতব্য বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তার চেয়েও উন্নত ও কার্যকর সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আবাসন সমস্যার সমাধানে বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ৫ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার বরাদ্দপত্র বা কাগজ আগেই হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বললে আওয়ামী লীগ তা নিয়ে সমালোচনা করে এবং চুরির ভয় দেখায়—এমন অভিযোগ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি যখন লাল-সবুজ বাসের উদ্যোগ নেয় কিংবা স্মার্ট কার্ডের পরিকল্পনা করে, তখন তারা সমালোচনা করে; অথচ পরে নিজেরাও একই পথ অনুসরণ করে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা করলে দোষ, আর তারা করলে ভালো—এই দ্বিমুখী নীতি তারা বছরের পর বছর চালিয়েছে।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে কৌতুকপূর্ণ ছলে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাসায় কাজের বুয়া খুঁজলেও মানুষ অভিজ্ঞতা চায়, শুধু বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষ অভিজ্ঞতা খোঁজে না।’ দেশ পরিচালনার মতো কঠিন কাজে বিএনপির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অভিজ্ঞ দল হিসেবে বিএনপিই সবচেয়ে যোগ্য। তিনি আসন্ন নির্বাচনে দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সবাইকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।


 ২০ বছর পর বেলস পার্কে তারেক রহমান: নতুন জালেমদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৭:১৯:২৪
 ২০ বছর পর বেলস পার্কে তারেক রহমান: নতুন জালেমদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশক পর বরিশালে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ‘নতুন জালেম’ হিসেবে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠী নির্বাচনের মাঠ প্রভাবিত করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে। তারেক রহমান দাবি করেন, বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে একটি বিশেষ মহল, যাদের মানুষ ‘গুপ্ত’ হিসেবে চেনে, তারা বিভিন্ন প্রেসে ভুয়া সিল ও ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। এই গোষ্ঠীটি পকেটে করে জাল ব্যালট নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠীটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিরীহ মা-বোনদের এনআইডি নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নির্বাচনের আগেই জাল ব্যালট ছাপানো এবং মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো অনৈতিক কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করছে, তারা কীভাবে ‘সৎ মানুষের শাসন’ কায়েম করার দাবি করতে পারে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, যাদের রাজনীতির শুরুটাই অনৈতিকতা দিয়ে, তাদের পক্ষে জনগণকে সুশাসন দেওয়া সম্ভব নয়। এ সময় তিনি সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কিছু বিতর্কিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা মা-বোনদের অপমান করার পর এখন দায় এড়াতে আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোনো আইডি হ্যাক হয়নি, বরং অপরাধ ধরা পড়ার পর তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। সেখানে পৌঁছালে দলের বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বেলস পার্ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সমবেত হন। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালে যখন বরিশাল সফর করেছিলেন, তখন তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই প্রথম বরিশাল সফর দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারেক রহমানের এই ভাষণকে কেন্দ্র করে পুরো বরিশাল শহর এখন উৎসবে আমেজ ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুখরিত। বরিশাল সফর শেষ করে তাঁর ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে: বরিশালে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৩:৫১:৩৮
বাংলাদেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে: বরিশালে তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ চলবে জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটের রায়ের ভিত্তিতে, কোনো গোষ্ঠী বা অদৃশ্য শক্তির ইচ্ছায় নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে রাজনৈতিক শক্তি জনগণকে অবজ্ঞা করে এবং নাগরিকদের মতামতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব বক্তব্য দেন তিনি। জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি নতুন ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছে। তার ভাষায়, অতীতে যাদের জালেম হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, তাদের পাশাপাশি এখন একধরনের “নতুন জালেমের আবির্ভাব” ঘটেছে, যারা প্রকাশ্যে নয় বরং আড়াল থেকে রাষ্ট্র ও সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব গুপ্ত সংগঠন ও অদৃশ্য শক্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা করছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অনিশ্চিত ও অস্থির হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের মালিকানার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া বাংলাদেশ কখনো টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

জনসভায় তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের মতামত, মর্যাদা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো গোপন শক্তির হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

তিনি উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করলে তার দায় পুরো জাতিকেই বহন করতে হবে।

-রফিক


এক বছরে ১ কোটি চাকরি, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড চালু করবে বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৩:২৬:১৮
এক বছরে ১ কোটি চাকরি, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড চালু করবে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চরমোনাইসহ দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামারা স্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন যে জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তাঁর ভাষায়, ইসলামের কথা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনীতির প্রধান কৌশল। তারা ধর্মকে পুঁজি করে ভোট চাইছে, যা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। পথসভায় উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে বলছে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে ভয়ংকর বিভ্রান্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রকৃত মুসলমান কখনোই এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না।

তিনি বলেন, ইসলামে জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়টি মানুষের আমলের ওপর নির্ভরশীল। কোনো রাজনৈতিক প্রতীক বা দল কাউকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ধর্মের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। আল্লাহ তায়ালা কাউকে পুরস্কৃত করবেন কি না, তা একমাত্র তার কর্ম ও নিয়তের ওপর নির্ভর করে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বর্তমানে রাজনীতির মাঠে এমন কিছু শক্তি সামনে আসছে, যাদের ভূমিকা অতীতে দৃশ্যমান ছিল না। তারা আগে বিএনপির সঙ্গেই চলাফেরা করলেও এখন নতুনভাবে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে এসে মিথ্যাচার, গীবত ও চরিত্রহননের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী নেতাদের কেউ কেউ নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। যে রাজনৈতিক শক্তি মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না এবং তাদের নিয়ে কটূক্তি করে, তারা কখনো নৈতিক বা মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গও তোলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান এখন নেতৃত্বে দায়িত্বশীল ও পরিণত অবস্থানে পৌঁছেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন তার একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করা।

তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের বোঝা থেকেও সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এ জেলায় সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা হয়েছিল বিএনপির উদ্যোগেই। কাজী ফার্মসের মাধ্যমে ভুট্টা চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে, কৃষকরা লাভবান হয়েছেন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব আগামী ১২ তারিখ সকালে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।

-রাফসান


 নির্বাচনের আগে উত্তরের পথে শফিকুর রহমান: উত্তরের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:০৬:০৪
 নির্বাচনের আগে উত্তরের পথে শফিকুর রহমান: উত্তরের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ 
ছবি : সংগৃহীত

দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তিস্তাপাড়ে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় নীলফামারী ও লালমনিরহাটের সংযোগস্থল তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলে জামায়াতে ইসলামীর এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

তিস্তাপাড়ে জনসভা ও কর্মসূচির বিস্তারিত দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আজ ঝটিকা সফরে উত্তরাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় অংশ নেবেন। দিনের শুরুতে তিনি কুড়িগ্রামের একটি জনসভায় যোগ দেবেন। কুড়িগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা তিস্তা ব্যারাজের হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছাবেন। নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির ও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমিরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষে জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রত্যাশা নির্বাচনের মাত্র ৯ দিন বাকি থাকায় ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিস্তাপাড়ের এই জনসভায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট—এই দুই জেলার একাধিক সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। তিস্তা ব্যারাজ এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে দুই জেলার মিলনস্থল হওয়ায় এখানে বড় ধরনের জনসমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসভা থেকে তিস্তা অববাহিকার উন্নয়ন, নদী শাসন এবং স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে আমিরে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নর্দান জোনের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় শক্তির মহড়া দিতেই এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনসভাস্থল ও প্রবেশপথগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৪৯:২৭
৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৯ দিন পর দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সদর আসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নারীদের এক উঠান বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হ্যাকিং ও ক্ষমতার সমীকরণ মুফতি আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে 'চরিত্র হননের দুরভিসন্ধি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে, তারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে বারাক ওবামা এবং পরবর্তীতে জো বাইডেনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কয়েকদিন পরই তাঁদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর এই ইতিহাসই বলে দিচ্ছে যে ডা. শফিকুর রহমানই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

মানবিক রাষ্ট্র ও নারী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আমির হামজা ডা. শফিকুর রহমানকে একজন মানবিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর কাছে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণের কোনো বিভেদ নেই। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে সবাই শান্তিতে থাকবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা যাতে ঘরে বসে হস্তশিল্পের মাধ্যমে আয় করে সংসারের হাল ধরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আসলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দ্বৈত ভোটের আহ্বান ও নিরাপত্তা নির্বাচনী প্রচারণায় মুফতি আমির হামজা ভোটারদের উদ্দেশ্যে দুটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদ রুখতে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের পাশাপাশি 'হ্যাঁ' ভোট প্রদান করতে হবে। ৫৪ বছর ধরে মানুষের তৈরি বিধানে দেশে শান্তি আসেনি দাবি করে তিনি আল্লাহর বিধান কায়েমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কুষ্টিয়া জেলার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সন্ত্রাসীদের 'মাজা ভেঙে দেওয়া হবে' এবং মানুষ ঘরের দরজা খুলে ঘুমানোর মতো নিরাপত্তা ফিরে পাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৪১:৫৬
দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী এবং শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করে দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নতুন কৌশল সাজাচ্ছেন। গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশত্যাগী অন্তত ৬০০ জন নেতাকর্মী কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

দিল্লি ও কলকাতায় গোপন বৈঠক ও রাজনৈতিক তৎপরতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যোগাযোগ রাখছেন। কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে বৈঠক করা হচ্ছে। গত বছর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি সেই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারত থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।

আসন্ন নির্বাচন বর্জন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করায় এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দলটি এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, তাঁরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দাবি, তাঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে ভোটের গণতান্ত্রিক বৈধতা ক্ষুণ্ণ হবে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, এটি হবে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

ভারতে অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, দেশে ফিরলে তাঁদের প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে এবং শত শত কর্মী দেশজুড়ে সহিংসতায় নিহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন ব্যর্থ হলে দেশে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হবে, তাতে জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে। তবে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ের মতো কেউ কেউ স্বীকার করেছেন যে, দলটির শাসনামল কর্তৃত্ববাদী ছিল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার (প্রত্যর্পণ) অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখন পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে আসছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জনগণের প্রতি অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতের এই ভূমিকা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত শাসনের অভিযোগ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুম, গোপন বন্দিশালা (আয়নাঘর) এবং সংবাদমাধ্যম দমনের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনাকে দণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বর্তমান সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

পাঠকের মতামত: