ইরান-ইসরাইল সংঘাত বিশ্লেষণ

ক্যাথরিন পেরেজ-শাকদাম: ইরানে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির নিখুঁত ছকের এক নারী মুখ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৪ ২১:০৮:৩৬
ক্যাথরিন পেরেজ-শাকদাম: ইরানে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির নিখুঁত ছকের এক নারী মুখ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন এক রাতে বিশ্ব চমকে ওঠে, যখন জানা গেল ইরানের হৃদয়ে বসে বহু বছর ধরে কাজ করছিলেন এক নারী—সাধ্বীর বেশে, অথচ এক ভয়ানক পরিকল্পনার বাহক হয়ে। তাঁর নাম ক্যাথরিন পেরেজ-শাকডাম। যিনি পশ্চিমে জন্মালেও শিয়া মুসলিম রূপে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাত মহলে জায়গা করে নেন। তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করা হচ্ছিল ইরানের ঘরোয়া প্রোপাগান্ডার অন্যতম স্বরলিপিকার হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি সুপরিকল্পিত গুপ্তচরবৃত্তির অংশ।

ফ্রান্সে জন্ম নেয়া ক্যাথরিন ছিলেন এক ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি পরিবারের সন্তান। মনোবিজ্ঞানে শিক্ষিত এই নারী ইয়েমেনি এক সুন্নি পুরুষকে বিয়ে করে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ হলেও তার পরিচয়ের কাঠামো ততদিনে বদলে গেছে। ২০১৭ সালে তিনি ‘শিয়া’ রূপে ইরানে প্রবেশ করেন এবং দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। এমনকি তাঁর নিবন্ধ স্থান পায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও।

তেহরানে তিনি পরিণত হন এক অদ্ভুত দ্বৈত চরিত্রে—বাহ্যত একজন প্রভাবশালী বিশ্লেষক, অন্তরে ছিলেন মোসাদের নজরদার গৃহিণী। তিনি প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, এমনকি কারবালায় গিয়ে কুদস ফোর্সের প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির সঙ্গেও আলাপ জমিয়ে তুলেছিলেন। তার ফার্সি ভাষার সাবলীলতা ও ধর্মীয় জ্ঞানে মুগ্ধ হন শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ানক ছিল তাঁর কৌশলগত অবস্থান। তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জেনারেলদের স্ত্রীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁদের পারিবারিক আলাপচারিতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গোপন বৈঠক ও চলাচলের তথ্য খুব সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষণ করতেন। নিজের ছদ্মনাম ব্যবহার করে ফোনে ছবি, ভিডিও ও অডিও রেকর্ড করে পাঠাতেন দূরবর্তী বিশ্লেষক দলের কাছে। এই সব তথ্য একসময় রূপ নেয় মরণ ফাঁদে।

২০২৫ সালের ১৩–১৪ জুন রাতে ইসরায়েল চালায় ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। মোসাদ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ পরিকল্পনায় এক বিশাল বিমান হামলা চালানো হয়, যার মূল তথ্যভিত্তি ছিল ক্যাথরিনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য। এই হামলায় এক রাতে নিহত হন ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অন্তত আটজন শীর্ষ কমান্ডার, সাতজন পরমাণু বিজ্ঞানী ও একাধিক কুদস ফোর্স কর্মকর্তা। ধ্বংস হয় নাতানজ, ইস্পাহান ও পারচিনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা। এই নিখুঁত হামলার মূল রহস্য ছিল ক্যাথরিনের মোবাইলে গচ্ছিত সামরিক সময়সূচি, কার চলাচল কখন, কোথায়—এই রকম অগণন মানবিক তথ্য।

ছবি: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমরাইসির সাক্ষাতকার নিচ্ছেন ছদ্মবেশী মোসাদের এজেন্টক্যাথরিন। ধারণা করা হয়, রাইসির হেলিকপ্টার দূর্ঘটনার পিছনেও হাত থাকতে পারে এই এজেন্টের।

হামলার পর ইরানের গোয়েন্দা বিভাগ চমকে ওঠে। কীভাবে এমন নিখুঁত হামলা সম্ভব হলো? তদন্তের মুখে আসে ক্যাথরিনের নাম। তাঁর ছবি পোস্টার হয়ে ছড়িয়ে পড়ে তেহরানের অলিগলিতে। একে একে ধরা পড়ে তিনজন সহযোগী, যাদের একজন তালেবান ঘরানার শরণার্থী। কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু ক্যাথরিন তখন আর ইরানে নেই। ধারণা করা হয়, হামলার আগেই তিনি ইরান ছেড়েছেন এবং এখন মোসাদের আরেকটি প্রকল্পে নিযুক্ত।

তিনি নিজে অবশ্য দাবি করেন, তিনি মোসাদের মসঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক মাত্র, যিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Wikistrat–এ যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর অতীতের ব্লগ, রেকর্ড, এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ ইঙ্গিত করে—এই দাবি হয়তো বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। ইসরায়েল সবসময়ই আশঙ্কা করে এসেছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। অন্যদিকে, ইরান বলেছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি চায়। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে গোয়েন্দা লড়াই বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১০ সালে স্টাক্সনেট সাইবার ভাইরাস ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো হয়, ২০১৮ সালে চুরি হয় পারমাণবিক আর্কাইভ, এবং একের পর এক বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়। ক্যাথরিনের ঘটনা যেন এই ধারাবাহিকতাকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়—এইবার ব্যবহৃত হয়েছে একজন মানুষ, একজন নারী, যিনি বিশ্বাস অর্জনের নীরব নৈপুণ্যে ভেঙে দিয়েছেন একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ভিত।

এই ঘটনা গোটা মুসলিম বিশ্বে ও ইরানে এক অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্লেষণের দরজা খুলে দেয়। প্রশ্ন ওঠে, আমাদের গোয়েন্দা ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে? কীভাবে একজন পশ্চিমা নারী এত সহজে বিপ্লবী গার্ড, প্রেসিডেন্টের দপ্তর এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীরে ঢুকে পড়লেন? এসব প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে তেহরানের রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে।

এই ঘটনার শিক্ষাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, শত্রু আর প্রতিপক্ষের সংজ্ঞা এখন আর ইউনিফর্ম বা অস্ত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আধুনিক গোয়েন্দাবৃত্তিতে সবচেয়ে ভয়ানক অস্ত্র এখন বিশ্বাস। দ্বিতীয়ত, ইরান যদি সত্যিই এক আধ্যাত্মিক ও আদর্শিক বিপ্লবের ধারা বজায় রাখতে চায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ সতর্কতা ও নৈতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রয়োজন আছে।

ক্যাথরিনের গল্প শেষ হয়ে গেছে হয়তো, কিন্তু তার রেখে যাওয়া ছায়া এখনো ঘুরে বেড়ায় তেহরানের অলিতে গলিতে। রেভল্যুশনারি গার্ডের করিডোরে এখন হয়তো নতুন করে প্রশ্ন জাগে—আমরা কাকে বিশ্বাস করছি?

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এই যুদ্ধ ছিল না বারুদের, এটি ছিল শব্দের, আস্থার এবং তথ্যের—আর সেই যুদ্ধে, একটি চাদরের নিচে লুকানো ছুরি অনেক বেশি কার্যকর হয়েছিল এক ডিভিশন সেনাবাহিনীর চেয়ে।


তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৩০:৫১
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।

ব্লগারদের অন্য একটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই এই হামলাগুলো তেহরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস।

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো আসায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পাওয়ার গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় তারা পাল্টা ভয়াবহ আঘাত হানবে।

সূত্র: আল জাজিরা


হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:২১:৫৪
হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলা শুরু করা হবে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে।

ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো আঘাত হানা হলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন হামলা শুরু হওয়া মাত্রই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে তেহরান।

এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্ধকারে ডুবে যাবে।

এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অন্তত দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।

এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৫২:৪৯
ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ এবার চরম কূটনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে এই বহিষ্কারের আদেশ নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেহরান এখন সরাসরি সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সমরাস্ত্র রয়েছে, সেখানে ইরান ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে এই উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যখন নিকটবর্তী আরামকো-এক্সন শোধনাগারের ওপর একটি ইরানি ড্রোন আছড়ে পড়ে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদি আরবের তেলের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এর আগে রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে তাদের আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং দেশ রক্ষায় সৌদি আরব তার বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, গত বুধবার কাতারও একই পদ্ধতিতে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।

/আশিক


রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:৩৫:৪৬
রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের সামরিক বাহিনীতে এক বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুটিন মিশন চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আঞ্চলিক জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সাগরে ‘রুটিন ডিউটি’ পালন করার সময় হঠাৎ কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সরাসরি সাগরের বুকে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ ক্রু সদস্য এবং আরোহীদের খুঁজে বের করতে কাতারের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা বা নাশকতামূলক কাজ নয়; বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্য কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতার বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র 'রাস লাফান' এবং দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি 'আল-উদেইদ'। যদিও আল-উদেইদ লক্ষ্য করে ছোড়া বেশিরভাগ ইরানি অস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৪৩:২৫
ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকবে মস্কো।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় তেহরানের দৃঢ়তা কামনা করেন। পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে পুতিন ‘নির্মম ও নিন্দনীয়’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।

তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের বিপরীতে বাস্তব সহায়তার মাত্রা নিয়ে খোদ ইরানি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছ থেকে যে ধরনের কার্যকর সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পুতিনের এই ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র আশ্বাস কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সূত্র: রয়টার্স


নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৩৯:১০
নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নাতাঞ্জ (Natanz) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জের ‘শহীদ আহমাদি রোশন’ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (NPT) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই একবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যার প্রমাণ মিলেছিল স্যাটেলাইট ছবিতে। ২০২৫ সালের জুনেও ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।

এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল দাবি করেছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২০টি ইরানি ড্রোন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভূপাতিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৫:৪৩:৩৯
রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভাসমান জাহাজগুলোতে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার (Kpler)। অন্যদিকে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস (Energy Aspects)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই তেলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল।

সবচেয়ে বড় খবর হলো, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে আটকে থাকা এই বিশাল পরিমাণ তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতসহ এশিয়ার প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো দ্রুত এই তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য যে, এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসার পর এই বিশাল মজুত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৭:০৬:৩২
হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই ৩০ দিনের সাময়িক অনুমোদন শুধুমাত্র সেইসব তেলের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ বা রপ্তানির ক্ষেত্রে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এর ফলে সীমিত পরিসরে হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পরিমাণ তেল প্রবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এমন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সমুদ্রে অবস্থানরত ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তার মতে, প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই দাবির বিপরীতে ইরান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল তাদের কাছে নেই। তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে ভাসমান বা অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে এমন কোনো অতিরিক্ত তেল নেই যা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক আস্থা তৈরির প্রচেষ্টা, যা বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি বাজার এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সাময়িক সিদ্ধান্ত বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।


হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৯:২৭:৫৭
হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এক কৌশল বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধি করে খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, এরপর দ্বীপটি দখল করে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্বীপটিতে একাধিক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আরও জটিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। খার্গ দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে সেনা মোতায়েন করলে তারা সহজেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকূলীয় অভিযানও বাস্তবায়িত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

সার্বিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো দখল এবং জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে প্রধান শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

পাঠকের মতামত: