বাংলাদেশে শিশুদের প্লাস্টিকের খেলনায় বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি

বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া শিশুদের প্লাস্টিকের খেলনার অন্তত ৭০ শতাংশেই বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত ভারী ধাতু রয়েছে—যা আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার তুলনায় ১০ থেকে ৭০ গুণ বেশি। এসব খেলনায় পাওয়া গেছে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম ও অ্যান্টিমনি—যেগুলোর প্রভাব শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি, ভাষা বিকাশ, আচরণগত স্থিতি এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানায়। ‘Toxic Play-Time: Uncovering Heavy Metals in Children’s Plastic Toys’ শীর্ষক গবেষণায় উন্নত এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরবরাহ করেছে ফিলিপাইনভিত্তিক সংস্থা ব্যান টক্সিক্স।
গবেষণায় ঢাকার চকবাজার থেকে সংগ্রহ করা হয় ৭০টি কঠিন প্লাস্টিকের খেলনা, যার মধ্যে ছিল লাল, কমলা ও হলুদ রঙের খেলনার আধিক্য। এসব রঙে বিষাক্ত রঞ্জক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় এগুলোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। সংগ্রহকৃত খেলনার মধ্যে ১৮টি ছিল স্থানীয় ব্র্যান্ডের, ২টি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের এবং ৫টি নামবিহীন।
এসডোর গবেষণায় চমকপ্রদ যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে:
- এক খেলনায় সিসার মাত্রা ছিল ২,৩৫০ পিপিএম, যেখানে নিরাপদ মাত্রা ৯০ পিপিএম।
- পারদের মাত্রা ছিল ১,০৮০ পিপিএম (নিরাপদ সীমা ৬০)।
- ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে ৪,৩০০ পিপিএম পর্যন্ত (নিরাপদ সীমা ৬০)।
- ক্যাডমিয়ামের পরিমাণও ছাড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক সীমা—৬৪০ পিপিএম, যেখানে সীমা মাত্র ৭৫।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, আমান টয় গার্ডেন, খোকন প্লাস্টিক প্রোডাক্টস, এবং শাহজালাল টয়স গ্যালারি—এই তিনটি স্থানীয় প্রস্তুতকারকের শতভাগ খেলনাই নিরাপদ মাত্রা অতিক্রম করেছে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, উজ্জ্বল রঙের খেলনাগুলোতে ক্লোরিন ও ব্রোমিন-এর উপস্থিতিও রয়েছে, যা পিভিসি ও ফ্লেম রিটার্ডেন্ট উপকরণ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
এসডোর সিনিয়র গবেষণা সহযোগী নওশিন নায়লা বলেন, “শিশুদের দাঁত ওঠার সময় খেলনা মুখে দেওয়ার প্রবণতা থাকে, ফলে এই বয়সেই তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আমরা এসব খেলনায় ভয়াবহ মাত্রার ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছি, যা তাদের জীবনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকিস্বরূপ।”
শিশুদের জন্য কী ঝুঁকি তৈরি করছে এসব খেলনা?
গবেষণায় বলা হয়, এসব খেলনা থেকে রাসায়নিক পদার্থ শিশুর মুখে, ত্বকে এবং খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে—ফলে বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, শেখার ও কথাবলার দেরি, কিডনি সমস্যা, আচরণগত জটিলতা, মনোযোগের ঘাটতি ও এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হয়। এছাড়া বাতাসের মাধ্যমেও বিষাক্ত কণাগুলো ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
এসডোর চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মুর্শেদ বলেন, “একটি জাতি হিসেবে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। এটি আমাদের নীতিগত ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ। সরকারকে অবিলম্বে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রস্তুতকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নিরাপদ খেলনা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার।”
ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “খেলনা শিশুর আনন্দ ও বুদ্ধিবিকাশের মাধ্যম, কিন্তু তা যদি বিষে ভরা থাকে তাহলে এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবুল হাশেম বলেন, “এই গবেষণা আমাদের সবচেয়ে ভয়াবহ শঙ্কাকেই সত্য করেছে। শিশুরা প্রতিদিন খেলনার মাধ্যমে নিউরোটক্সিন ও কার্সিনোজেনের সংস্পর্শে আসছে—যা তাদের বিকাশকে ধ্বংস করছে।”
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, “এটি কেবল স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি শিশুদের অধিকার হরণের বড় উদাহরণ। সরকারকে কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”
বিএসটিআই-এর মনজুরুল করিম বলেন, “আমরা এ বিষয়ে সচেতন। আমাদের চারটি মানদণ্ড নির্ধারিত আছে এবং পরীক্ষার সক্ষমতাও রয়েছে। প্রয়োজন শুধু বাস্তবায়নের।”
এসডোর সুপারিশ:
১. খেলনায় ভারী ধাতুর সীমা নির্ধারণ করে বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন২. পণ্য পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা ও সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করা৩. বিএসটিআই, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত কাজ৪. প্রস্তুতকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও রিকল ব্যবস্থা চালু করা৫. সকল শ্রেণির মানুষের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
একটি শিশুবান্ধব ও নিরাপদ সমাজ গঠনে শুধুমাত্র ভালোবাসা বা খেলনা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন নিরাপদ, বিজ্ঞানভিত্তিক, নিয়ন্ত্রিত এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থা। শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্ক গঠনের শুরুতে যদি বিষ ঢুকে পড়ে, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই সংকট এখনই সমাধান করা জরুরি।
ডেঙ্গু শনাক্তে কোন পরীক্ষা কখন করবেন? পূর্ণ গাইড
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকে। চলতি বছরও সেই চিত্রের ব্যতিক্রম হয়নি। ২৯ জুন পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গেলে ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোম, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর। এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, ত্বকে র্যাশ, চোখের পেছনে ব্যথা, চুলকানি কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ রোগী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সুস্থ হতে শুরু করলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়টি অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পর শুরু হয়। এ সময় রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে, রক্তনালিতে তরল পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা। তবে রোগের কোন পর্যায়ে রোগী আছেন, তার ওপর নির্ভর করে পরীক্ষার ধরন পরিবর্তিত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা না করলে অনেক সময় রিপোর্ট বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
জ্বরের শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেঙ্গু এনএস১ (NS1 Antigen) পরীক্ষা
চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের প্রথম দিন থেকে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা হলো এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রাথমিক পর্যায়েই এই পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে পাঁচ দিনের পর সাধারণত এনএস১ নেগেটিভ হয়ে যেতে পারে, তাই দেরিতে পরীক্ষা করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রথমদিকে এনএস১ নেগেটিভ এলেও কেবল সেই রিপোর্ট দেখে ডেঙ্গু নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা বিবেচনায় নিতে হয়।
জ্বরের পঞ্চম দিনের পর প্রয়োজন হতে পারে ডেঙ্গু IgM পরীক্ষা
যদি জ্বরের শুরুতে এনএস১ পরীক্ষা করা না হয় বা পাঁচ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে যায়, তখন চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গু IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে বলেন। এই পরীক্ষায় শরীরের তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয় এবং বর্তমান সংক্রমণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত জ্বরের ষষ্ঠ দিন থেকে এই পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফল দেয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পজিটিভ থাকতে পারে।
দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ IgG পরীক্ষা
IgG অ্যান্টিবডি পরীক্ষা মূলত বোঝায় রোগী আগে কখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। রক্তে IgG পজিটিভ পাওয়া গেলে পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই IgG রিপোর্ট চিকিৎসা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রায় সব রোগীর জন্য প্রয়োজন সিবিসি (CBC) পরীক্ষা
ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো Complete Blood Count (CBC)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্লাটিলেট কাউন্ট, শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন এবং হেমাটোক্রিট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্লাটিলেট কমেছে কি না সেটিই নয়, বরং হেমাটোক্রিট বৃদ্ধি পেয়েছে কি না সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হেমাটোক্রিট বেড়ে গেলে শরীর থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা গুরুতর ডেঙ্গুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে লাগতে পারে অতিরিক্ত পরীক্ষা
যদি রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ, লিভারের জটিলতা, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা বা শক সিনড্রোমের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকরা Prothrombin Time (PT), International Normalized Ratio (INR) এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Bleeding Time–Clotting Time (BT-CT) পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় এবং গুরুতর জটিলতা নির্ণয়ে সহায়তা পাওয়া যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর দেখা দিলে রোগের দিন গণনা করে সঠিক সময়ে NS1, IgM, IgG ও CBC পরীক্ষা করানো রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
কার্বন ডাই-অক্সাইডে কোনো শিশু মরেনি, মন্ত্রীর পেছনে ঘুষ নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের প্রধান
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আশঙ্কাজনকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কোনো নবজাতক বা শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে জোর দাবি করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে এই নামী হাসপাতালটির নিবন্ধন ও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পেছনে ‘ঘুষের টাকা’ নিয়ে ঘোরার যে গুঞ্জন বা অভিযোগ উঠেছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এসব কথা বলেন ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। সম্প্রতি ওই হাসপাতালে পরপর শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং তার জেরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া আইনি পদক্ষেপের পর হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই মূলত এই জরুরি প্রেস ব্রিফিং ডাকা হয়।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারের তদন্ত কমিটি যে কারিগরি প্রতিবেদন দিয়েছে, তার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। সেই বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গাইডলাইন অনুযায়ী হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও কক্ষের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তা দ্রুত সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় আনার কারিগরি কাজ চলছে। এছাড়া হাসপাতাল ভবনটির নিচ থেকে বেকারিটি সম্পূর্ণ অন্য জায়গায় স্থানান্তরের কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই শিশুদের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে বাইরে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়; এই সুনির্দিষ্ট কারণে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়া ঠেকাতে বা পুনরায় সচল করতে সরকারের উচ্চমহলে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন বা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে আদ্-দ্বীনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন—আমরা কোনো মন্ত্রী বা কর্মকর্তার পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ যদি থেকে থাকে, তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় নিজে সরাসরি কথা বললেই সবচেয়ে ভালো হয়।
লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করা হবে জানিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, এই আদেশ ঠেকাতে হাইকোর্টে নতুন করে কোনো রিট করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে মঙ্গলবার আমরা সরকারের কাছে আপিল আবেদন জমা দেবো।
একই সাথে হাসপাতাল ভবনটির কাঠামোগত উপযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, ভবনটি হাসপাতালের জন্য একেবারেই অনুপযোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে গুরুতর মতামত দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি আইনি ও কারিগরি দল দ্বারা শতভাগ প্রমাণিত হয়, তবে জনস্বার্থে আমরা এই ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলবো। লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, উদ্ভূত এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে নেই; বরং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত করতে বর্তমানে কর্মরত সকল ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় পরপর ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই অফিসিয়াল আদেশে বলা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রথমে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নোটিশের যে লিখিত জবাব দাখিল করে, তা সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ও জননিরাপত্তায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই আদেশ জারির ঠিক আগের দিন দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে একটি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ বলে কড়া আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তদন্তে প্রতিষ্ঠানের দায় ও গাফিলতি প্রমাণিত হলে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন চিরতরে বাতিল করা হবে। তাঁর ওই কঠোর বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক আদেশ চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় অত্যন্ত রহস্যজনক ও বিতর্কিতভাবে পরপর ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও কারিগরি গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জবাবে দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
/আশিক
ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব সাফল্যের দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন এক ধরনের ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ কিছু রোগীর শরীরে থাকা টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ‘অ্যামিভ্যানটাম্যাব’ (amivantamab) নামের এই নতুন ওষুধটি মূলত একটি ট্রিপল-অ্যাকশন ক্যান্সার থেরাপি হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে।
বিশ্বের ১১টি দেশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই মেগা ট্রায়ালে এমন সব জটিল রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের ক্যান্সার ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল (মেটাস্ট্যাসিস) অথবা যারা প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসায় কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছিলেন না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ইনজেকশনটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে (Head and Neck Cancer) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এমন ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনেরই টিউমার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত বা ভ্যানিশ হয়ে গেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল ক্যান্সার থেরাপির খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ কেভিন হ্যারিংটন এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী বা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে, তাদের শরীরে এমন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই স্মার্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আগামী দিনে প্রতিবছর বিশ্বের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মেডিকেল সায়েন্সের এই যুগান্তকারী গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যান্সার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজিতে’ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
গবেষকদের মতে, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের পাশাপাশি একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer) রোগীদের ক্ষেত্রেও। বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি জে অ্যান্ড জে (জনসন অ্যান্ড জনসন) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ওষুধটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ফুসফুস ছাড়াও কোলন, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই স্মার্ট ইনজেকশনটি মূলত মানবদেহে ক্যান্সারকে তিনটি ভিন্ন উপায়ে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে: প্রথমত, এটি ‘ইজিএফআর’ (EGFR) নামক প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়; দ্বিতীয়ত, এটি ‘এমইটি’ (MET) নামক সেই কোষীয় পথকে বন্ধ করে দেয় যা ক্যান্সার কোষকে চিকিৎসা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে; এবং তৃতীয়ত, এটি রোগীর নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্ররোচিত করে।
এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ নামের একজন ব্রিটিশ রোগী নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পূর্বের সব কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি চরম হতাশায় এই ট্রায়ালে যুক্ত হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অলৌকিক উন্নতি ঘটে। চিকিৎসা শুরুর মাত্র কয়েকটি সাইকেলের পরই তিনি স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে পারেন এবং তার অসহ্য শারীরিক ব্যথা সম্পূর্ণ কমে যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ইনজেকশনটি সাধারণত রোগীর ত্বকের নিচে (Subcutaneous) ছোট আকারে দেওয়া হয়, যা হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে প্রচলিত ইনট্রাভেনাস ড্রিপ বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়ার তুলনায় অনেক দ্রুত, সহজ এবং আরামদায়ক। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই ওষুধের অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যার কারণে খুব কম রোগীকেই মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ট্রায়ালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-নেতিবাচক মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার রোগীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের চিকিৎসা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাধারণত সবচেয়ে বেশি কঠিন ও জটিল বলে গণ্য হয়। এই ইনজেকশন বা চিকিৎসা শুরু করার পর অত্যন্ত অগ্রসর (Advanced Stage) পর্যায়ে থাকা রোগীদেরও গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৫ মাস।
ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একদম সীমিত বিকল্প থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর নতুন চিকিৎসা নিয়ে আসা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসাধারণ ফলাফল বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যদিও ওষুধটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে এবং বাজারে বাণিজ্যিকভাবে আসার আগে আরও কিছু বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিশ্চিত হাম রোগীর গ্রাফ
রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৫ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে।
প্রতিবেদনে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। মে মাসের তীব্র গরমের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
যে রোগ হলে খেতে ইচ্ছা করে মাটি, চক, চুল। জানুন চিকিৎসা
মানুষ সাধারণত খাবার হিসেবে যেসব জিনিস গ্রহণ করে, সেগুলো শরীরের পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি ব্যাধি রয়েছে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মাটি, চক, কাগজ, চুল, বরফ, সাবান বা বালির মতো অখাদ্য ও পুষ্টিহীন জিনিস খেতে থাকেন। এই অস্বাভাবিক খাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় “পিকা”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকা একটি মানসিক ও খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি বা ইটিং ডিসঅর্ডার। এটি শুধু অদ্ভুত আচরণ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা স্নায়ুবিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন জিনিস খেতে চান, যা সাধারণ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত নয় এবং যেগুলোর কোনো পুষ্টিগুণও নেই। এই প্রবণতা একদিন বা দুইদিনের নয়; বরং সাধারণত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে।
পিকা রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের মধ্যে, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিকাশজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে আয়রন, জিঙ্ক বা অন্যান্য খনিজ উপাদানের ঘাটতি পিকার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে। অনেক সময় অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, শৈশবের মানসিক আঘাত বা আচরণগত সমস্যার কারণেও এই ব্যাধি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, পিকা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অখাদ্য জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। কেউ মাটি খান, কেউ কাগজ বা চক চিবান, আবার কেউ বরফ, সাবান বা চুল খাওয়ার প্রবণতায় ভোগেন। এই অভ্যাস অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পিকা রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এর শারীরিক জটিলতা। অখাদ্য বস্তু খাওয়ার ফলে পেটে সংক্রমণ, অন্ত্রে বাধা, পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতি, দাঁতের সমস্যা এবং বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীসাযুক্ত বস্তু খেলে লেড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিকিৎসাবিদরা এটিও মনে করিয়ে দেন যে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মাটি বা অন্য কিছু মুখে দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে বিশেষ ধরনের মাটি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তা সবসময় পিকা হিসেবে ধরা হয় না।
পিকা রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরীক্ষা মূল্যায়ন করেন। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি আছে কি না তা দেখা হয়।
এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো একক ওষুধ নেই। চিকিৎসকদের মতে, পিকার পেছনের মূল কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর মানসিক বা আচরণগত সমস্যা থাকলে কাউন্সেলিং ও থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে পিকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন ধরে অখাদ্য কিছু খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
করোনার চেয়েও ভয়ংকর? রহস্যময় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সতর্কতা
করোনার ক্ষত শুকোতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই রহস্যময় ভাইরাসটি সাধারণ অ্যাডিনোভাইরাসের চেয়েও বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত রূপ বদলাতে সক্ষম। আগে গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বড় ধরনের মহামারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমেরিকা ও জার্মানির গবেষকরা দেখেছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল আরএনএ (RNA) ভাইরাস, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মেলায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের লিভারে থাকা ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ এই ভাইরাসের বিস্তারকে আরও মারাত্মক করে তোলে। এটি শরীরের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে কোষের মৃত্যু ঘটায়, ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।
প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও এটি শরীরের ভেতরে অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম। যদিও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে এর বিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একে সাধারণ ফ্লু হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং কার্যকর প্রতিষেধক তৈরিতে এখন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।
/আশিক
হামে মৃত্যুর মিছিলে শিশুদের সংখ্যাই বেশি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রকোপ। গত ৫৬ দিনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, আর প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ মে সকাল ৮টা থেকে ১১ মে সকাল ৮টা) হাম সন্দেহে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি অনুসারে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। গত এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জনে। এই ৫৬ দিনে মোট ৩৫০ জন মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।
হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (৬,৫৫৫ জন) এবং তৃতীয় স্থানে রাজশাহী (৪,৩৭৩ জন)। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে আক্রান্ত (৪১৮ জন) ও মৃত্যু (৪ জন) উভয়ই সবচেয়ে কম।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৯৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানেও কয়েক হাজার রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
/আশিক
নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমান সময়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিডনিকে বলা হয় শরীরের 'ছাঁকনি', যার প্রধান কাজ রক্ত থেকে বর্জ্য অপসারণ করা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি বিকল হতে শুরু করলেও অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। ফলে রোগটি যখন শনাক্ত হয়, তখন তা অনেকটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
কিডনি সমস্যার প্রধান লক্ষণসমূহ
কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হতে পারে না, যার ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হয়। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে চোখ, পা কিংবা গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান সংকেত। এছাড়া প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া (প্রোটিন ক্ষরণ), রং পরিবর্তন বা অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়া সতর্কবার্তার লক্ষণ। ক্ষুধার অভাব, বমি ভাব এবং ত্বকে হঠাৎ চুলকানি বা খসখসে ভাব দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যথার অবস্থান ও ধরন
কিডনির ব্যথা এবং সাধারণ কোমর ব্যথার মধ্যে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা মূলত পিঠের নিচের দিকে পাঁজরের ঠিক নিচে অনুভূত হয়। পাথর থাকলে এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে কুঁচকি বা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয়ে তীব্রতর রূপ নেয়।
প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া কিংবা রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া কিডনি বিকলের ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা লালচে আভা বা রক্ত দেখা দিলে তা মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
যদি কোমর বা পাঁজরের ব্যথা এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, তবে দ্রুত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ কম খাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
/আশিক
অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি বেশি! গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য
২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক ভীতিকর চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও ভয়াবহ, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গবেষণায় নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভয়াবহ পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। যেমন, অবিবাহিত পুরুষদের মলদ্বারের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, বৈবাহিক জীবন মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের শৃঙ্খলা আনে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং একে অপরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ফলে বিবাহিতরা পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হন।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলকে সতর্কতার সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিয়ে করলেই যে ক্যানসার হবে না—বিষয়টি তেমন নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক ও আচরণগত নির্দেশক মাত্র।
যারা অবিবাহিত রয়েছেন, গবেষকরা তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা তাঁদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই গবেষণার ফলাফল বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- এশিয়ান গেমস ফুটবলের সূচি প্রকাশ, কোন গ্রুপে বাংলাদেশ?
- হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
- হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
- সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
- ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
- আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ
- ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
- টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
- আগস্ট জুড়ে আবহাওয়া কেমন থাকবে? দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বিডব্লিউওটির বিশেষ বার্তা
- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে নবগঠিত (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
- অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
- ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
- ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা: কেনার আগে জেনে নিন কাজের পার্থক্য
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
- যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
- স্ত্রীর কবর খননকালে ২৪ বছর পর স্বামীর অক্ষত দেহ উদ্ধার
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিশ্বজয়ে আবার স্বর্ণের দামে দরপতন
- হয়ে গেল সাফের ড্র: সহজ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশ, সহজ হলো সেমির পথ
- যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- আমদানি-রপ্তানি ত্বরান্বিত করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ
- আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে? যা জানাল অধিদপ্তর
- কুমিল্লা প্রেস ক্লাব নির্বাচন আজ, ১৬ পদে লড়ছেন ৩২ প্রার্থী
- ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
- আগস্টের ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলের দাম নির্ধারণ
- হজযাত্রীদের বড় সুখবর: হজের বিমান টিকিটের দাম আরও কমাল সরকার
- বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা চালুর তাগিদ, চলতি বছরের মধ্যেই প্রক্রিয়ার নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
- ব্রাজিলে তীব্র ঝড়ে দেয়াল ধসে নিহত সাবেক জনপ্রিয় ফুটবলার
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দেশের ৭ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- এশিয়ান লিজেন্ডস লিগে বাংলাদেশ টাইগার্সের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, উপকৃত ৭১৪ পরিবার
- ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
- স্বৈরাচারের দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত: ১০ নম্বর গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন বিএনপি
- গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর








