সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সঙ্গীর উদাসীনতা কীভাবে সামলাবেন

সম্পর্ক মানেই শুধু ভালোবাসা নয়—থাকে দায়িত্ব, বোঝাপড়া আর পরস্পরের প্রতি যত্নও। তবে যখন সঙ্গী আবেগে উদাসীন হয়ে ওঠেন, তখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বছর কেটে গেলে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়, জীবন একঘেয়ে লাগতে পারে, আর বাস্তবতার চাপ আবেগকে ঢেকে দেয়।
ইতালির লেখক ফ্রেঞ্চেন্সা ডি মেগলিও বলেন, ‘‘যখন আবেগের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন মানুষ উপেক্ষা করতে শুরু করে। সময় দেয় কম, দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, সম্পর্ক নিয়ে উদাসীন আচরণ করে।’’ এই পরিস্থিতিতে হাল না ছেড়ে, বরং সম্পর্কের ভারসাম্য ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমেই দরকার খোলামেলা কথা বলা। সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করুন—তার আচরণে আপনার কেমন লাগছে সেটা জানান। নিজের অনুভূতি জানালে তিনি তার আচরণ বুঝতে পারবেন। এরপর খুঁজে বের করুন, উদাসীনতার পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে কিনা। মানসিক চাপ, কাজের বোঝা বা পারিবারিক সমস্যা অনেক সময় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। সঙ্গীকে বোঝার চেষ্টা করুন, তার পাশে থাকুন।
পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ—তাই ধৈর্য ধরতে হবে। সম্পর্কটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে একসঙ্গে সময় কাটান, ছোট ছোট অভ্যাস তৈরি করুন, যেগুলো একে অপরকে আরও কাছে নিয়ে আসবে। তবে নিজের যত্ন নেওয়াও ভীষণ জরুরি। নিজেকে অবহেলা না করে প্রিয় কাজ, ব্যায়াম বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিক শান্তি খুঁজে নিন।
প্রেম মানেই পাশে থাকা—কিন্তু সবসময় সশরীরে পাশে থাকা সম্ভব না-ও হতে পারে। এমন অবস্থায় খেয়াল করুন, আপনি যখন দুর্বল বা বিপদে থাকেন, তখন সে পাশে থাকে কিনা। আর সবচেয়ে জরুরি, সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা বলুন, অনুভূতি প্রকাশ করুন। আপনি তাকে কতটা ভালোবাসেন, সেটা জানাতে কার্পণ্য করবেন না।
যদি পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে পড়ে, তবে পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। তারা নিরপেক্ষভাবে আপনাদের উভয়ের জন্য সহায়তামূলক পথ বাতলে দিতে পারেন।
এছাড়া সম্পর্কের কিছু সীমারেখা থাকা উচিত। কী বিষয়ে আপস করা যাবে আর কোথায় না, সেই কথাগুলো শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এতে করে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
শেষ কথা হলো, সম্পর্ক মানেই নিখুঁত না—কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তা সমাধান করার মানসিকতাই একটি সম্পর্ককে স্থায়ী করে তোলে।
হাঁড়ি-কলসি থেকে টেরাকোটা: দোয়েল চত্বরে মাটির শিল্পের রঙিন দুনিয়া
বিকেলের ফিকে আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বর যেন এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। চারপাশে ব্যস্ত মানুষের ভিড় থাকলেও নজর কাড়ে সারি সারি সাজানো মাটির সামগ্রীর দোকান। লালচে আভায় মোড়া কলসি, হাঁড়ি, ফুলদানি, শোপিস, কাপ-গ্লাস কিংবা ক্রোকারিজের মায়াবী ঝলক বাতাসে মিশে থাকা মাটির গন্ধকে আরও জীবন্ত করে তোলে। শহরের কোলাহলের মাঝেও এখানে এসে যেন মানুষ এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়—এখানকার পসরা কেবল বাজার নয়, এটি আমাদের শেকড়ের টান অনুভব করার এক ছোট্ট আয়োজন।
ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
দোয়েল চত্বরে টানা ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন ইব্রাহিম বাবুল। তিনি জানান, মৃৎশিল্প মূলত পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পেশা। ১৯৮৫–৮৬ সালের দিকে পালরা এখানে আসেন, তাদের দেখে ধীরে ধীরে অন্যরাও এ ব্যবসায় যুক্ত হন। অনেকেই সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছেন, কেউ পেশা বদল করেছেন, তবে এখনো কিছু পরিবার এ পেশায় টিকে আছেন। বাবুলের ভাষায়, “মানুষ যাবে-আসবে, কিন্তু যুগ যুগ ধরে এই ব্যবসা বেঁচে থাকবে।”
হারানো দিন আর বর্তমান বাস্তবতা
একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে মাটির হাঁড়ি-কলসি অপরিহার্য ছিল। রান্না, পানি সংরক্ষণ থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন—সব ক্ষেত্রেই মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার হতো। বর্তমানে সিরামিক, প্লাস্টিক ও কাচের পণ্যে বাজার ভরে গেলেও রুচিশীল মানুষের কাছে এখনো মাটির সামগ্রীর কদর রয়ে গেছে। কেউ ফুলগাছ সাজাতে টব কিনছেন, কেউ ফুলদানি, কেউবা সৌখিনতার বশে খাবার প্লেট বা ফিল্টার। এভাবে মাটির জিনিসপত্র আজও আভিজাত্য ও শৌখিনতার প্রতীক হয়ে টিকে আছে।
ব্যবসায়ীর অভিজ্ঞতা
বাবুলের মতে, আগের মতো চাহিদা নেই, তবে যারা শিক্ষিত ও রুচিশীল, তারাই বেশি কেনেন। তাদের কাছে মাটির জিনিসের আলাদা মূল্য আছে। মৃৎশিল্প তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের এটেল মাটি প্রয়োজন হয়, যা শরীয়তপুর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লার বিজয়পুর ও বরিশালের বগাদিয়া-কনদিয়া এলাকা থেকে আনা হয়। ঢাকার মাটি দিয়ে এই শিল্প সম্ভব নয়। এটেল মাটির সঙ্গে বালি, দোয়াশ মাটি এবং কখনো রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হয় নান্দনিক সামগ্রী।
মাটির শিল্পের বৈচিত্র্য
দোয়েল চত্বরে সাজানো দোকানগুলোয় গেলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। মাটির কাপ, মগ, জগ, ফুলদানি, শোপিস, ফিল্টার, ডিনার সেটের পাশাপাশি পোড়ামাটির টেরাকোটা, দেয়াল সাজানোর শিল্পকর্ম এমনকি নারীদের গহনা—কানের দুল, বালা, গলার মালাও পাওয়া যায়। দাম শুরু হয় ২৫০ টাকা থেকে, আর নিপুণ শিল্পকর্মের জটিলতা ও আকারভেদে তা কয়েক হাজার টাকায় গড়ায়।
ঐতিহ্য ধরে রাখার সংগ্রাম
দীর্ঘদিন ধরে দোয়েল চত্বরে ব্যবসা করছেন আবু তাহেরও। তিনি বলেন, “গ্রামে এখন আর মাটির জিনিসপত্র তেমন চলে না। কিন্তু ঢাকায় যারা শখ করে ঘর সাজান, তারাই আমাদের জিনিস কেনেন। মাটির টব, ফুলদানি আর ফিল্টারের ভালো চাহিদা আছে। অনেকে আবার প্রিয়জনকে উপহার দিতেও কেনেন। আমাদের কাছে এই কাজ কেবল ব্যবসা নয়, এটা জীবনের অংশ।”
দোকানিদের মতে, বর্তমানে মৃৎশিল্প নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে দামী কাঁচামাল, অন্যদিকে উৎপাদনের সময় বিপুল পরিমাণ ক্ষতি—সব মিলিয়ে ব্যবসা লাভজনক থাকছে না। তবুও মাটির গন্ধ, শেকড়ের টান আর ঐতিহ্যের মায়াই তাদের টিকিয়ে রেখেছে। তাদের বিশ্বাস, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পাল সম্প্রদায়ের হাত ধরে আসা এই শিল্প আবারো ফিরে পাবে তার পুরোনো সম্মান।
দোয়েল চত্বরে সাজানো রঙিন হাঁড়ি-কলস আর শিল্পীর নিপুণ হাতে গড়া শোপিসগুলো যেন আজও দর্শনার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেয়, “আমরা এখনো শেকড়ে বাঁধা আছি।” মাটির টান যে কখনো হারায় না, এই চত্বর তার জীবন্ত প্রমাণ।
ব্ল্যাকহেড্স দূর করার ঘরোয়া উপায়: মাত্র দুটি জিনিস লাগবে
নাক, কপাল ও মুখের যেসব জায়গায় অতিরিক্ত সেবাম জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়, সেসব জায়গাতেই দেখা যায় ব্ল্যাকহেড্স। এগুলো ছোট ছোট কালো রোমের মতো দেখতে। ব্ল্যাকহেড্স দূর করতে অনেকে পার্লারে গেলেও, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে ঘরে বসেই এটি পরিষ্কার করা সম্ভব।
ব্ল্যাকহেড্স কেন হয়?
ত্বকে থাকা সূক্ষ্ম রন্ধ্রে ময়লা, তেল বা মৃত কোষ জমলে ব্ল্যাকহেড্সের সৃষ্টি হয়। রন্ধ্রের মধ্যে এই ময়লা শুকিয়ে কালো বিন্দুর মতো ব্ল্যাকহেড্স তৈরি করে।
দূর করার সহজ কৌশল
ব্ল্যাকহেড্স দূর করতে আপনার প্রয়োজন হবে পরিষ্কার তোয়ালে এবং গরম পানি।
পদ্ধতি:
১. প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
২. এরপর গরম পানির ভাপ নিতে হবে। একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে পানি নিংড়ে নিন এবং
তা মুখের ওপর বা যেখানে ব্ল্যাকহেড্স আছে, সে অংশে চেপে ধরুন।
৩. গরম ভাপের কারণে ত্বকের রন্ধ্রগুলো উন্মুক্ত হবে এবং ব্ল্যাকহেড্স নরম হয়ে যাবে।
৪. এবার তোয়ালে দিয়ে আলতো চাপে ঘষাঘষি করলেই ব্ল্যাকহেড্স পরিষ্কার হয়ে যাবে। মনে রাখতে
হবে, খুব বেশি জোরে ঘষা যাবে না, এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
৫. সবশেষে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, যাতে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখায়।
ব্ল্যাকহেড্স এড়ানোর উপায়
এক্সফোলিয়েশন: ফেসওয়াশ দিয়ে নিয়মিত মুখ পরিষ্কারের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন স্ক্রাবিং করা জরুরি। এক্সফোলিয়েশন করলে ব্ল্যাকহেড্স হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
পরিচ্ছন্নতা: ক্রিম মেখে ধুলোভরা বা অপরিচ্ছন্ন বালিশ ও বিছানায় ঘুমালে এই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই বিছানা সবসময় পরিষ্কার রাখা উচিত।
এছাড়াও, তোয়ালে দিয়ে ব্ল্যাকহেড্স পরিষ্কারের এই পদ্ধতিটি মাসে সর্বোচ্চ চারবার করা যেতে পারে, এর বেশি নয়।
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম
কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
মানুষের জীবনে সবচেয়ে কার্যকরী দক্ষতা কোনটি এই প্রশ্ন করলে অনেকেই বলবেন প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান কিংবা যোগাযোগ দক্ষতা। কিন্তু এর ভেতরে সবচেয়ে প্রভাবশালী হলো লেখালেখি। লেখালেখি শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং চিন্তাকে গোছানো, স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা এবং নিজের অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করার শক্তিশালী হাতিয়ার।
লেখালেখির দক্ষতা অর্জন মানে শুধু সুন্দর বাক্য লেখা নয়, বরং পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি করা। একজন ব্যক্তি যখন লেখায় দক্ষ হন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভালো বক্তা হন, পরিষ্কারভাবে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন এবং সম্পর্ক বা ক্যারিয়ার দুটোতেই সুযোগ পান।
লেখালেখি শেখা কেন কঠিন
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, লেখালেখি একটি জন্মগত প্রতিভা। অথচ বাস্তব হলো এটি একটি দীর্ঘ চর্চার ফল। লেখক হওয়ার জন্য বছরের পর বছর অনুশীলন, ভুল থেকে শেখা এবং চিন্তাকে ভাষায় রূপান্তর করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। তবে কিছু মৌলিক কৌশল নিয়মিত প্রয়োগ করলে দ্রুত লেখার মান উন্নত করা সম্ভব।
লেখালেখি উন্নত করার ১৫টি কার্যকর কৌশল
১. সংক্ষিপ্ত রাখুন
লম্বা ও ঘুরানো লেখা পাঠকের ধৈর্য নষ্ট করে। সংক্ষিপ্ত লেখা লেখককে স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে এবং পাঠকের কাছে বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেয়।
২. ধরে নিন পাঠক জানে না
প্রতিটি লেখার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে—পাঠক আপনার অভিজ্ঞতা জানে না। সহজভাবে বিষয় ব্যাখ্যা করুন, তাহলে লেখা হবে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য।
৩. দিনের সেরা সময়ে লিখুন
লেখা মানুষের আবেগ প্রতিফলিত করে। তাই যখন মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক বোধ করবেন, তখনই লেখায় বসা উচিত। সকালে বা রাতে অনেকের জন্য এটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ সময়।
৪. ব্যক্তিগত গল্প শেয়ার করুন
মানুষ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বেশি সংযুক্ত হয়। লেখায় ব্যক্তিগত গল্প থাকলে পাঠক লেখকের সঙ্গে সম্পর্ক অনুভব করে, যা লেখাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
৫. লিখেই সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করবেন না
লেখা শেষ করেই প্রকাশ না করে কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবার পড়া জরুরি। এতে তাড়াহুড়া থেকে হওয়া ভুল, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা বা তথ্য বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
৬. ক্লিশে এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত ব্যবহৃত কর্পোরেট বা ঘষামাজা শব্দ লেখাকে প্রাণহীন করে তোলে। সাধারণ, সরল ও প্রাকৃতিক শব্দ ব্যবহার করলে লেখা হবে মানবিক ও আকর্ষণীয়।
৭. প্রতিদিন জার্নাল লিখুন
নিয়মিত লেখার অভ্যাস তৈরি করার সেরা উপায় হলো ডায়েরি লেখা। এটি চিন্তাকে পরিষ্কার করতে এবং শব্দ দিয়ে প্রকাশের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৮. সরাসরি লিখুন
বার্তা ঘুরিয়ে না বলে সরাসরি বলুন। অস্পষ্ট লেখা পাঠককে বিভ্রান্ত করে এবং লেখকের বিশ্বাসযোগ্যতা কমায়।
৯. ছোট অনুচ্ছেদ ব্যবহার করুন
লম্বা অনুচ্ছেদ পড়া কঠিন। ৩-৪ বাক্যে সীমাবদ্ধ ছোট অনুচ্ছেদ পাঠকের চোখকে আরাম দেয় এবং তথ্য গ্রহণ সহজ করে।
১০. অযথা বেশি মতামত চাইবেন না
অভিজ্ঞ নন এমন মানুষের পরামর্শ লেখাকে দুর্বল করে। তাই লেখার ফিডব্যাক চাইতে হলে অভিজ্ঞ লেখকের কাছেই চাইতে হবে।
১১. দৈনন্দিন ব্যবহৃত শব্দ ব্যবহার করুন
“ল্যকনিক”, “ইনট্রান্সিজেন্ট” ইত্যাদি জটিল শব্দ লেখাকে কৃত্রিম করে তোলে। বরং সহজ ও প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করুন, যাতে পাঠক সহজে বুঝতে পারে।
১২. মনোযোগ দিয়ে লিখুন
লেখালেখি মানসিক পরিশ্রমের কাজ। তাই লেখার সময় পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন। একান্তে বসে লিখলে মান ভালো হয়।
১৩. সত্য লিখুন
লেখালেখির ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হলো সত্য প্রকাশ করা। পাঠক সহজাত সততাকে দ্রুত চিনতে পারে এবং তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
১৪. নির্ভীক হোন
ভুল করার ভয় করবেন না। টাইপো, ছোটখাটো ব্যাকরণ ভুল বা সমালোচনার ভয়ে লেখাকে আটকে রাখা উচিত নয়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ভাষায়: “এক পৃষ্ঠার মাস্টারপিস লিখতে গিয়ে ৯১ পৃষ্ঠা আবর্জনা লিখেছি, সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি।”
১৫. আটকে গেলে বিরতি নিন
যখন লেখায় অগ্রগতি হয় না, তখন জোর করে লেখা উচিত নয়। কিছুক্ষণ বিরতি নিন, চা খান বা অন্য কিছু করুন। পরে নতুন করে শুরু করলে লেখার গতি ফিরে আসবে।
লেখালেখি মানে ভালো চিন্তা
ভালো লেখা কেবল সুন্দর ভাষা নয়; এটি আসলে ভালো চিন্তার প্রতিফলন। লেখককে নিজের চিন্তাকে শব্দে রূপান্তর করতে হয় এবং সেই সঙ্গে পাঠকের সুবিধার কথাও ভাবতে হয়। পাঠক যেন সহজে বার্তা বুঝতে পারে এই সম্মান দেখানোই লেখালেখির প্রকৃত দায়িত্ব।
লেখালেখি রাতারাতি আয়ত্ত করা যায় না। এটি দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন, ধারাবাহিকতা এবং ভুল থেকে শেখার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। তবে নিয়মিত অভ্যাস ও সচেতন প্রয়াস একজন মানুষকে দক্ষ লেখক বানাতে পারে। আর দক্ষ লেখক মানেই দক্ষ চিন্তক ও সফল যোগাযোগকারী। ব্যক্তিগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে পেশাগত সফলতা সবকিছুর জন্যই লেখালেখি হলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
আমাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই আসলে সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত। কখনো উদ্বেগে ভোগেন, কখনো সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বেশি ভাবেন, আবার কখনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোটানায় থাকেন। ফলে জীবনে অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়।
একজন শিক্ষকের কথা এখানে প্রাসঙ্গিক। লেখক স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেছেন, স্কুলজীবনে তাঁর শিক্ষক প্রায়ই বলতেন “জীবন হলো তোমার নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল।” তখন এই কথাটি ছাত্রদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি, বরং তাঁকে “choices guy” বলে মজা করা হতো। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কথাটির গভীরতা পরিষ্কার হয়ে গেছে মানুষ আসলেই তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে।
সিদ্ধান্তহীনতার কারণ
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে কারণ তারা ‘Outcome Think’-এ ভোগেন। অর্থাৎ, ফলাফলের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেন। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড মার্কস তাঁর আলোচিত বই The Most Important Thing এ লিখেছেন “একটি সিদ্ধান্তের সঠিকতা কেবল তার ফলাফল দিয়ে বিচার করা যায় না।” কারণ আমরা ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, কেবল আমাদের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
যেমন, কেউ যদি একটি বাড়ি কিনে তা বিক্রি করে ১ লাখ ডলার লাভ করার আশা করেন, তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বাজার পরিস্থিতিকে ফলাফলের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছেন। এতে অযথা উদ্বেগ বাড়বে এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হবে। তাই ফলাফল নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মনোযোগী হওয়া জরুরি।
জটিলতা নয়, সরলীকরণ জরুরি
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বিশ্লেষণ মানুষকে কার্যত অচল করে দেয় যাকে বলা হয় Analysis Paralysis। একইভাবে Decision Fatigue বা সিদ্ধান্ত ক্লান্তিও একটি বড় সমস্যা; যখন পরপর অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন সিদ্ধান্তের গুণগত মান কমে যায়। আবার অনেক তথ্যের ভিড়ে (Information Overload) কিংবা প্রচুর বিকল্প সামনে থাকলে (Overchoice) মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তকে সহজ করতে হবে এবং বিকল্প সীমিত করতে হবে। বিষয়গুলো যত জটিল করা হবে, ততই বিভ্রান্তি বাড়বে। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সরলীকরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
পরিস্থিতি থেকে মানসিক বিচ্ছিন্নতা দরকার
অনেক সময় মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও আফসোসে ভোগেন যাকে বলা হয় Buyer’s Remorse। ব্যয়বহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেমন ক্যারিয়ার নির্বাচন, বিয়ে কিংবা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হতে পারে।
গবেষণা বলছে, কোনো সিদ্ধান্তে যত বেশি সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করা হয়, ততই আফসোস বা অনুশোচনার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত থেকে মানসিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে হবে। ব্যর্থতা আসলে তাতে দমে যাওয়ার কিছু নেই সবসময় বিকল্প সুযোগ থাকে। ভুল সিদ্ধান্ত নয়, বরং দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই মানুষের জীবনে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনে।
কেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত জরুরি
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সিদ্ধান্তহীনতাকে দেখা হয়। সম্পর্ক, ক্যারিয়ার, ব্যবসা প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই মনে করেন সিদ্ধান্তহীনতা আত্মবিশ্বাসের অভাবের প্রতিফলন।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো মূল্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যত বেশি বিষয়কে জটিল করে তোলা হবে, ততই পিছিয়ে পড়তে হবে। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে এটি সত্যি “সিদ্ধান্ত নাও এবং এগিয়ে চলো।”
মার্কেটিং ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে গল্প বলার চার বৈজ্ঞানিক নীতি
সফল নেতা, দক্ষ মার্কেটার কিংবা দূরদর্শী উদ্যোক্তা প্রত্যেকেই মূলত একজন শক্তিশালী গল্পকার। কারণ গল্প বলা কেবল শিল্প নয়, এটি একাধারে মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং আচরণগত নকশায় ভিত্তিক এক বিজ্ঞান। নতুন গ্রন্থ A Story is a Deal থেকে অভিযোজিত চারটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নীতি এখানে তুলে ধরা হলো, যা গল্পকে করে তোলে প্রভাবশালী ও প্ররোচনামূলক।
১. শ্রোতাকে নিজের গল্পের সাথে একাত্ম করা
গল্পের মূল শক্তি নিহিত থাকে পরিচিতি বা Identification-এ। যখন কোনো শ্রোতা বা পাঠক গল্পের নায়ক কিংবা পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান, তখন তারা অবচেতনে সেই অভিজ্ঞতাকে নিজেদের বলে অনুভব করেন। এ কারণে গল্পের বার্তা দীর্ঘমেয়াদে মনে গেঁথে যায়।
স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা এ ধারণাকে সমর্থন করে। বিবিসি স্টোরিওয়ার্কস-এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, আবেগপূর্ণ গল্প দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কার্যকর। বিশেষ করে, গল্পে আবেগের তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি যত বেশি হয়, প্রভাবও তত দীর্ঘস্থায়ী হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, গল্পের শুরুতেই আবেগময় মুহূর্ত রাখলে স্মৃতিতে তার ছাপ আরও গভীর হয়।
ব্যবসায়িক শিক্ষা: গ্রাহক ধরে রাখা ও ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা তৈরি করতে এমন গল্প ব্যবহার করুন, যেখানে আপনার শ্রোতারা নিজেদের জীবন, চ্যালেঞ্জ কিংবা স্বপ্নকে প্রতিফলিত হতে দেখবেন।
২. সরলতায় শক্তি
বাস্তবতা জটিল হলেও, প্ররোচনামূলক গল্পের শক্তি নিহিত থাকে সরলতায়। মানুষের মস্তিষ্ক পরিষ্কার ও সোজাসাপ্টা বার্তা পছন্দ করে। জটিলতা বাড়লে চিন্তার চাপও বাড়ে, ফলে আগ্রহ হারিয়ে যায়। একক নায়ক ও সহজ ভাষাভিত্তিক গল্প অনেক বেশি কার্যকর।
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন “Identifiable Victim Effect”। যেমন, সিরীয় শরণার্থী শিশু অ্যালান কুর্দির লাশের ছবি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং একটি সংস্থার অনুদান বেড়েছিল ১৫ গুণ। অপরদিকে, চ্যানেল ব্র্যান্ডের অতিমাত্রায় বিমূর্ত বিজ্ঞাপন ব্যর্থ হয়েছে শুধু জটিল ও দুর্বোধ্য ভাষার কারণে। গবেষণা প্রমাণ করে, অতিরিক্ত জার্গন ব্যবহার অনেক সময় বুদ্ধিমত্তার বদলে নিম্নতর অবস্থান প্রকাশ করে।
ব্যবসায়িক শিক্ষা: আপনার উপস্থাপনা, পিচ কিংবা বিজ্ঞাপনে সরল ও সহজবোধ্য ভাষা ব্যবহার করুন। বিমূর্ততা বা কঠিন শব্দ পরিহার করুন, বরং স্পষ্টতা বজায় রাখুন।
৩. বাধা ও লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা
মানুষের গল্প বলার প্রাচীনতম উদ্দেশ্য ছিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল ভাগাভাগি করা। তাই প্রভাবশালী গল্পে সবসময় একজন নায়ক থাকেন, যিনি নির্দিষ্ট বাধার সম্মুখীন হন এবং তা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছান। এখানে চূড়ান্ত জয়ের পাশাপাশি মূল শিক্ষা বা lesson-ও শ্রোতাকে অনুপ্রাণিত করে।
ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষা হতে পারে আপনার পণ্য বা সেবা কীভাবে গ্রাহকের নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করবে এবং তাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে পৌঁছে দেবে।
ব্যবসায়িক শিক্ষা: স্পষ্টভাবে গ্রাহকের সমস্যা চিহ্নিত করুন, দেখান কীভাবে আপনার সমাধান কার্যকর, এবং রূপান্তরের ফলাফল তুলে ধরুন। এতে গ্রাহকের বিশ্বাস বাড়ে এবং তারা পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়।
৪. নির্দিষ্ট ও বাস্তবচিত্রময় হওয়া
অস্পষ্ট ও সাধারণীকৃত গল্প মনে থাকে না। বরং নির্দিষ্ট ও বাস্তব চিত্রসমৃদ্ধ গল্প মানুষের মস্তিষ্কে কল্পনা জাগিয়ে তোলে এবং দীর্ঘদিন স্মৃতিতে থাকে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এই কৌশল কার্যকর সুস্পষ্ট ও কংক্রিট ভিশন কর্মীদের প্রেরণা বাড়ায় এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে।
উদাহরণস্বরূপ, জন এফ. কেনেডি যখন ঘোষণা দেন “একজন মানুষকে চাঁদে পাঠানো হবে এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরানো হবে” তখন লক্ষ্যটি হয়ে ওঠে বাস্তব ও অর্জনযোগ্য। একইভাবে, বিল গেটসের স্বপ্ন “প্রতিটি ঘরে ও ডেস্কে একটি কম্পিউটার” ছিল স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট, যা মাইক্রোসফটকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়িক শিক্ষা: আপনার ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে অস্পষ্ট ভাষায় নয়, বরং স্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও বাস্তবভাবে তুলে ধরুন। তবেই আপনার দল ও গ্রাহক উভয়েই সেই ভিশনকে ধারণ করতে পারবেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, গল্প বলা শুধুই বিনোদন নয়, বরং নেতৃত্ব, মার্কেটিং ও উদ্যোক্তা জীবনে এটি এক অপরিহার্য বিজ্ঞান। সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে গল্প গ্রাহকের মনে ব্র্যান্ডকে অমর করে তোলে, কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে এবং সাফল্যের পথকে করে আরও সুদৃঢ়।
বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যম, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, বিনোদনসহ সব কিছুর জন্য আমরা এই একটি ডিভাইসের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এই নির্ভরতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় ফোন বালিশের নিচে বা মাথার পাশে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো একেবারেই উচিত নয়। এই অভ্যাস ঘুমের মান নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কেন বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো উচিত নয়?
নীল আলোর প্রভাব: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরের মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা আমাদের ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের মান কমে যায় এবং ধীরে ধীরে অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও, সারারাত ফোনে আসা নোটিফিকেশন বা অ্যালার্টও ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, যার ফলে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।
রেডিয়েশনের ঝুঁকি: স্মার্টফোন থেকে ক্রমাগত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) রেডিয়েশন নির্গত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই রেডিয়েশনের সংস্পর্শে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাহলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ঘুমানোর সময় স্মার্টফোনকে শরীর থেকে কমপক্ষে ৩-৪ ফুট (প্রায় ১ মিটার) দূরে রাখতে হবে। এতে ফোনের রেডিয়েশন, নীল আলো এবং অতিরিক্ত তাপ আপনার শরীরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। প্রয়োজনে অ্যালার্ম সেট করে ফোনটি বিছানার দূরের দিকে বা পাশের টেবিলে রেখে দিন। সুস্থ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য ফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
/আশিক
মানসিক প্রশান্তির সঙ্গী বিড়াল: কেন এই প্রাণীটি এত জনপ্রিয়?
একটি শান্ত দুপুরে জানালার পাশে বসে থাকা এক তরুণীর একাকিত্বের অনুভূতি হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়, যখন তার পোষা বিড়ালটি এসে কোলে উঠে আরামদায়ক ‘গরগর’ শব্দ করতে থাকে। এমন দৃশ্য শুধু গল্পে নয়, প্রতিদিনের জীবনেও ঘটে। বিড়াল পোষা শুধু ভালোবাসার সম্পর্কই নয়, এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের জীবন্ত থেরাপি।
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের উপস্থিতি মানুষের জীবনে শান্তি আনে, একাকিত্ব দূর করে এবং শরীরের ভেতর ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৯ মিলিয়ন পরিবারে বিড়াল পোষা হয়, যা এই প্রাণীটির জনপ্রিয়তা এবং এর উপকারিতার একটি বড় প্রমাণ।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
বিড়ালের সংস্পর্শ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা একাকীত্ব ও উদ্বেগ কমায় এবং এক ধরনের স্বস্তিদায়ক সঙ্গ দেয়। তাদের খুনসুটি, অদ্ভুত আচরণ এবং মজার কাণ্ড আমাদের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিড়াল পোষেন, তারা অন্যদের তুলনায় কম একাকীত্বে ভোগেন। বিড়ালের শান্ত বা বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব মানুষের মধ্যে আরও বেশি আবেগ তৈরি করে।
শারীরিক উপকারিতা
বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী ‘কর্টিসল হরমোনের’ মাত্রা কমে যায়, যা দুশ্চিন্তা কমায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। মাত্র ১০ মিনিট বিড়ালের সঙ্গে খেলা করলেই শরীরের ছন্দ ফিরে আসে এবং মন শান্ত হয়।
অন্য একটি গবেষণায় ১২০ দম্পতিকে মানসিক চাপ মাপার পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়। এতে দেখা যায়, বিড়াল পোষা দম্পতিরা মানসিক চাপের পরিস্থিতিতেও তুলনামূলকভাবে স্থির থাকেন। তাদের হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল, এবং তারা চ্যালেঞ্জগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।
বিড়ালের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ‘গরগর’ শব্দ। এই শব্দের কম্পন ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজের মধ্যে থাকে, যা বিশেষভাবে ২৫ থেকে ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে মানুষের হাড় ও পেশি পুনর্গঠনে সহায়তা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এই কম্পন হাড় দ্রুত সেরে ওঠায় সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ, বিড়াল যখন ‘গরগর’ করে, তখন তারা কেবল নিজেদের আরামই দিচ্ছে না, মানুষের শরীরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সামগ্রিক জীবনযাত্রায় বিড়াল
যারা বিড়াল পোষেন, তারা সাধারণত বেশি কল্পনাপ্রবণ, কৌতূহলী ও সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। বিড়াল পোষা জীবনে একটি রুটিন তৈরি করে, যা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। অনেক মালিক এখন তাদের বিড়ালকে বাইরে নিয়ে যান, যাতে প্রাণীটি নিরাপদে প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকতে পারে এবং মালিক নিজেও মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন।
এছাড়াও, বিড়াল পোষা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে, বিড়াল পোষা শুধু ভালোবাসা বা সঙ্গী নয়, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি উপকারী অভ্যাস।
তথ্য সূত্র: হেলথলাইন
কাঁচা পেঁপের উপকারিতা ও সতর্কতা: প্রাকৃতিক ওষুধের ভাণ্ডার
কাঁচা পেঁপে শুধু একটি সাধারণ সবজি নয়, বরং এটি এক প্রকার প্রাকৃতিক ওষুধ। এতে রয়েছে নানা ভিটামিন, খনিজ এবং বিশেষ উপাদান, যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকরা বলছেন, কাঁচা পেঁপেতে পাওয়া যায় প্যাপেইন (Papain) নামক এনজাইম, যা শরীরের নানা জটিল সমস্যার সমাধানে আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকর। তবে এর উপকারিতা উপভোগ করার পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও মানা জরুরি। নিচে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে তোলে এবং পেটের ভারীভাব, গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা দূর করে। যারা নিয়মিত হজম সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে এক প্রকার প্রাকৃতিক প্রতিষেধক।
রক্ত পরিষ্কার করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
শরীরে জমে থাকা টক্সিন বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট করে। কাঁচা পেঁপে সেই টক্সিন বের করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সতেজ, উজ্জ্বল ও সুস্থ।
ওজন কমাতে সহায়ক
কাঁচা পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম, তবে ফাইবার রয়েছে প্রচুর। ফাইবার ক্ষুধা দমন করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এর ফলে অযথা খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এ কারণে ওজন কমাতে চান এমন মানুষের জন্য কাঁচা পেঁপে একটি আদর্শ খাবার।
মাসিকজনিত সমস্যা দূর করে
নারীদের মাসিক চক্র নিয়মিত করতে কাঁচা পেঁপে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে মাসিক সহজ করে এবং ব্যথা কমায়। যারা অনিয়মিত মাসিক বা অতিরিক্ত ব্যথায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁচা পেঁপে কার্যকর। এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন ও হজমে ভূমিকা রাখে। কাঁচা পেঁপে লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং হেপাটাইটিসসহ নানা লিভারজনিত অসুখ প্রতিরোধ করে।
ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে
কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন A, C ও E, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে নানা সংক্রমণ ও ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কাঁচা পেঁপের ফাইবার অন্ত্রের গতি বাড়ায় এবং মলকে নরম করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া নিয়মিত থাকে।
আলসার ও গ্যাস্ট্রিক প্রতিরোধে সহায়ক
কাঁচা পেঁপে পেটের প্রদাহ কমায়। যারা আলসার বা অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি আরামদায়ক খাবার।
ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক
কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো ফ্রি-র্যাডিক্যাল নামক ক্ষতিকর উপাদানকে প্রতিরোধ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
সতর্কতা
- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাঁচা পেঁপে অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে, ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খেলে ডায়রিয়া, পেট খারাপ বা হজমের গোলযোগ হতে পারে।
- যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য কাঁচা পেঁপে খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিক এক ভেষজ ওষুধ, যা হজম থেকে শুরু করে ওজন কমানো, লিভার ও হৃদপিণ্ড রক্ষা, এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধ পর্যন্ত নানা উপকারে আসে। তবে এর উপকারিতা পেতে হলে সীমিত পরিমাণে খেতে হবে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন গর্ভাবস্থায়, একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।
মেথি দানা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এক প্রাকৃতিক উপায়
বর্তমানে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি, যা ২০২২ সালের হিসেবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটিরও বেশি।
ডায়াবেটিস তখনই হয়, যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। তবে প্রকৃতিতেই এর কিছু সহজ সমাধান আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মেথি দানা।
ভারতীয় রান্নাঘরে সহজলভ্য এই বীজ আঁশে সমৃদ্ধ। এটি হজমের গতি ধীর করে রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথির তিনটি প্রধান উপকারিতা রয়েছে:
১. ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি করে: ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বলতে বোঝানো হয়, কোষ কতটা কার্যকরভাবে ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিচ্ছে। যদি এই সংবেদনশীলতা কমে যায়, তবে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। মেথি দানার অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে। ২০০৯ সালে জার্নাল অব মেডিক্যাল ফুড-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি আটা দিয়ে তৈরি খাবার খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে।
২. গ্যাস্ট্রিক এম্পটিং বিলম্বিত করে: ডায়েটিশিয়ানদের মতে, মেথি দানা দ্রবণীয় আঁশে সমৃদ্ধ। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং কার্বোহাইড্রেট ও চিনির শোষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ফল ভিটামিন অ্যান্ড নিউট্রিশন রিসার্চ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ গ্রাম মেথি দানা গরম পানিতে ভিজিয়ে খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. গ্লুকোজ শোষণ কমায়: ভেটেরিনারি ওয়ার্ল্ড-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি দানা অন্ত্রে গ্লুকোজের শোষণ কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে হাইপারগ্লাইসেমিয়ার (অতিরিক্ত রক্তে শর্করা) ঝুঁকি কমে এবং টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিসে মেথি ব্যবহারের পদ্ধতি
যদি আপনার রক্তে শর্করা বেশি থাকে বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে, তবে মেথি দানা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম মেথি দানা ৪-৬ মাস খেলে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি কমে। জার্নাল অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডার-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত এই পরিমাণ মেথি খেলে প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে।
মেথি তৈরির পদ্ধতি: এক চা চামচ (প্রায় ৫ গ্রাম) মেথি দানা নিয়ে আধা কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি পান করুন এবং ভেজানো দানাগুলো চিবিয়ে খান।
মেথি ব্যবহারের সতর্কতা
গর্ভাবস্থায়: মেথি জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষজ্ঞরা স্তন্যদানকালে অতিরিক্ত মেথি খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন।
হরমোন-সংবেদনশীল সমস্যা: মেথি ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করতে পারে। তাই স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের মতো হরমোন-সংবেদনশীল রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
শরীরের গন্ধ পরিবর্তন: ফুড কেমেস্ট্রি (২০১১)-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মেথিতে থাকা ডাইমিথাইলপাইরাজিন যৌগের কারণে কিছু মানুষের শরীরে ম্যাপল সিরাপের মতো গন্ধ হতে পারে।
অ্যালার্জির ঝুঁকি: মেথি খেলে কারো কারো শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ফোলা দেখা দিতে পারে। খাবারের অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া: মেথির আঁশ ওষুধের শোষণ কমাতে পারে এবং ডায়াবেটিস বা রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
পাঠকের মতামত:
- শেখ হাসিনার মামলার বিচার শেষ পর্যায়, রায় শীঘ্রইে
- কোপানোর পর দুই শিক্ষার্থীকে ফেলে দেওয়া হয় ছাদ থেকে: চবিতে নারকীয় হামলা
- চাপে পড়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে: ড. তাহের
- ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হামাসের মুখপাত্র আবু উবাইদা
- চবিতে হামলায়, প্রশাসনের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে কাঁদলেন উপ-উপাচার্য
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনিদের আবেদন বাতিল
- প্রেমিকার ফোন ব্যস্ত, রাগে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিলেন প্রেমিক
- আ.লীগের মতো জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় জামায়াত
- ফ্যাসিস্ট আমলেও এমন হামলা হয়নি’: নুরের স্ত্রী মারিয়া নুর
- নুরের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার হবে, আশ্বাস দিলেন উপদেষ্টা আসিফ
- জামালপুরে বিএনপির সাবেক নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
- আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমান: আমীর খসরু
- পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ
- বিএনপি থেকে বহিষ্কার হলেন উদয় কুসুম বড়ুয়া
- উন্নতি হচ্ছে নুরুল হক নুরের: কথা বলছেন ও তরল খাবার খাচ্ছেন
- চ্যাটবটের সঙ্গে ভুলেও শেয়ার করবেন না যে ১০টি তথ্য
- প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে জামায়াত: নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- বুয়েটে কেউ পাত্তা দিত না: ব্যক্তিগত জীবনের গল্প শোনালেন অপি করিম
- প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এনসিপি নেত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য
- নুরের ওপর হামলা ‘পূর্ব পরিকল্পিত’, মেরে ফেলার উদ্দেশ্য ছিল: রিজভী
- চবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের লেনদেন: বাজারের সামগ্রিক বিশ্লেষণ
- ৩১ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩১ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আইএসপিআরের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান,সেনাবাহিনী ও পুলিশই হামলা চালিয়েছে: রাশেদ খান
- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে: রিজভী
- নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও সংঘর্ষ
- বাংলাদেশে প্রথম রোবটিক রিহ্যাব সেন্টার: চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
- ডিএসই-তে শীর্ষ ২০ শেয়ার: ভ্যালু, ভলিউম ও ট্রেডে বাজারের গতি-প্রকৃতি
- দাবি পরিশোধ সক্ষমতায় শীর্ষে উঠে এলো একটি বীমা প্রতিষ্ঠান
- সরকারি সিকিউরিটিজে কুপন প্রদানের রেকর্ড ডেট ঘোষণা
- হাঁড়ি-কলসি থেকে টেরাকোটা: দোয়েল চত্বরে মাটির শিল্পের রঙিন দুনিয়া
- দেশের বহুমুখী শিল্পগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান, শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর
- দরজার নিচ দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তে প্রকাশ পেল অচিন্তনীয় কাহিনি
- রুমিন ফারহানা ও হাসনাত সম্পর্কের নতুন মোড়
- ডা. তাহেরের বিতর্কিত মন্তব্যে চিকিৎসক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া
- ভারতের কেরালায় ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ: ‘বিফ ফেস্ট’
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পরীক্ষা স্থগিত, সেনা মোতায়েন
- জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের
- ব্ল্যাকহেড্স দূর করার ঘরোয়া উপায়: মাত্র দুটি জিনিস লাগবে
- মা-মেয়েকে অজ্ঞান করতে গিয়ে ধরা, নিজ জুসেই বেহুঁশ অজ্ঞান পার্টির সদস্য
- শরিয়াহবিরোধী,আখ্যায় আফগানিস্তানে নারীদের বিউটি পার্লার বন্ধে কঠোর অবস্থান
- টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের রেকর্ড ছুঁলেন লিটন, বাংলাদেশের সহজ জয়
- রংপুরে চাপা উত্তেজনা: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ মুখোমুখি
- নুরের পাশে জামায়াত: ঢাকা মেডিকেলে তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল
- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অংশ নেবেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে
- শঙ্কামুক্ত নন: নুরকে আরও ৩৬ ঘণ্টা আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের
- ট্রাম্পের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে, কী বলছে হোয়াইট হাউস?
- নেদারল্যান্ডসকে ১৩৬ রানে আটকে দিল টাইগাররা
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মাহফুজ আলমের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে আওয়ামী সহিংসতা, নিন্দার ঝড়
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ চরমে, আজ তিন দলের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্বর্তী সরকারের
- সার্কিট ব্রেকারে তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ কোম্পানি
- ডিএসইতে ব্যাংক শেয়ারের দাপট