বিশেষ প্রতিবেদন

আকাশ এখন আমাদের: বিমূর্ত ষড়যন্ত্রের ছায়া ভেদ করে বাংলাদেশের নীরব প্রতিরোধ

২০২৫ জুলাই ২৮ ০৯:৩২:৪৯
আকাশ এখন আমাদের: বিমূর্ত ষড়যন্ত্রের ছায়া ভেদ করে বাংলাদেশের নীরব প্রতিরোধ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল, বুধবার ঢাকায় বিএএফ বেস বীর উত্তম এ কে খন্দকার-এ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মহড়া উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। ছবি: ফেসবুক/প্রধান উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

ঢাকার আকাশে সেদিন মেঘ ছিল। কিন্তু সেই মেঘ ছিল না কেবল প্রকৃতির; ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরে জন্ম নেওয়া দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের ছায়া, যা নির্জন আলোচিত হয়েছিল রাজধানীর এক নিষ্প্রভ সরকারি ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে। বঙ্গভবনের ছায়ায় গড়ে ওঠা ওই কক্ষে বসেছিল এক নিঃশব্দ উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক—উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাধিক সাবেক কর্মকর্তা, একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং এক বিশেষ দূত, যিনি এসেছিলেন দিল্লি থেকে।

টেবিলে ছিল অগোছালো কাগজপত্র, মানচিত্র ও গোপন স্ট্র্যাটেজিক নোট। আলোচনা হচ্ছিল এমন একটি বিষয়ে, যা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে সূক্ষ্ম স্তম্ভ—বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা—তাকে কীভাবে ভারতীয় কৌশলগত প্রভাবের আওতায় আনা যায়।

এক দীর্ঘ পরিকল্পনার অলিখিত রূপরেখা

এই ষড়যন্ত্র কোনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ঘটনা নয়। বরং একটি দীর্ঘ ১৫ বছরব্যাপী প্রস্তুত করা নীলনকশা, যার প্রকৃত লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলাদেশের আকাশসীমাকে একটি ‘সহযোগিতার মোড়কে বাধা দখলদারিত্বে’ পরিণত করা।

২০১০-এর দশকে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার নামে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল বাহিনী—বিমানবাহিনী—কে রাজনৈতিক দয়া ও কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতার বলয়ে ঠেলে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর কঠোর সাংগঠনিক ঐতিহ্যের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানবাহিনীকে শিথিলভাবে ভারতমুখী করে গড়ে তোলা হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে Dhaka Tribune একটি খবর প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল: "Indian Air Chief Visits Bangladesh, Set to Tour Major Bases." খবরটি শুধু সফরের নয়, বরং পুরো নীতির প্রতিফলন—যেখানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান বাংলাদেশের প্রধান বিমানঘাঁটিগুলো ঘুরে দেখেন, যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণের নকশা তৈরি করেন, এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ করেন।

এই প্রক্রিয়া কোনো দিন-দুপুরে শুরু হয়নি। ২০২১ সালে জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত বিমানবাহিনীর পাসিং আউট প্যারেডে প্রথমবারের মতো ভারতীয় এয়ার চিফ আর. কে. এস. ভাদুরিয়াকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়। এটি ছিল প্রতীকীভাবে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে আত্মসমর্পণের এক প্রক্রিয়ার সূচনা।

মৈত্রীর নামে নির্ভরতাকে পুঁজি করে কৌশলগত নিঃস্বতা

এই কৌশল শুধু কূটনীতির খাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Eurasian Times জানায়—“Historic First: Bangladesh Air Force to Operate From India.” এর অর্থ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ভারতীয় কমান্ডের অধীনে মহড়ায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্ধুত্বের নামে শুরু হয়েছিল একতরফা নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ণ।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিগত এক যুগে একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান পর্যন্ত পায়নি। চীন থেকে জে-১০সি অথবা পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ সংগ্রহের সম্ভাবনা বারবার ‘বাজেটের অজুহাতে’ নাকচ হয়েছে। প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে সোভিয়েত যুগের মিগ-২১ বা ৮০’র দশকে কেনা পুরনো চীনা ট্রেনার প্লেন। পাইলটেরা অচল ইঞ্জিনে উড়েছেন, কেউ কেউ ফেরেননি।

এক সাবেক উইং কমান্ডার বলেন, “আমরা প্রতিদিন জানতাম আমাদের হাতে কার্যকর অস্ত্র নেই, তবুও উড়েছি—এই বিশ্বাসে যে, একদিন কেউ আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে। সেই দিন আসেনি, যতক্ষণ না রাজনীতি বদলায়।”

একজন মানুষ, এক সঙ্কল্প, এক প্রতিরোধ

২০২৪ সালের শেষ প্রান্তে যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ঢেউ উঠছিল, তখন এক নীরব অথচ দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন—নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস। ক্ষমতায় এসে প্রথমেই তার সরকার শুরু করে বিমান বাহিনীর কাঠামোগত বিশ্লেষণ। অনুসন্ধানে উঠে আসে বিস্ফোরক সত্য: ১৫ বছরে কোনো আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনা হয়নি, বরং ভারতীয় কারিগরদের দিয়ে পুরনো যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করানো হয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষণ বিষয়েও সীমিত ছিল বাংলাদেশি অধিকার।

প্রফেসর ইউনুস বুঝেছিলেন এটি নিছক অবহেলা নয়; এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত, বহুপাক্ষিক সামরিক-রাজনৈতিক নীরব দখলদারিত্ব। তিনি কূটনীতির পরিবর্তে আত্মমর্যাদাকে প্রধান অস্ত্র করেন।

তারপরই ইতিহাসের চাকা ঘুরে দাঁড়ায়।

চুক্তির ছেঁড়াফেঁড়া আর নতুন আকাশনীতি

ভারতের সঙ্গে করা সব যৌথ মহড়ার চুক্তি বাতিল করা হয়। বিমান বাহিনীর নেতৃত্বে আনা হয় সাহসী, চিন্তাশীল ও আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা—যিনি সম্প্রতি চীন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরেছেন। ঘোষণা করা হয় নতুন নীতিমালা:
“বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স থাকবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, কিন্তু দুর্বল নয়।”

কুর্মিটোলা, যশোর ও তেজগাঁও ঘাঁটিগুলোতে বিদেশি প্রবেশ—বিশেষ করে ভারতের—নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধুত্বের নামে যে ঘাঁটিগুলোতে ভারতীয় পতাকা উড়েছিল, সেখানে আবার উড়তে শুরু করে আত্মমর্যাদার প্রতীক জাতীয় পতাকা।

নতুন মিত্রতা, নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের আকাশ আবার মুখ তুলে দাঁড়ায়। শুরু হয় তুরস্ক, পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে সমন্বিত এয়ার ড্রিল। করাচি থেকে যুদ্ধবিমান উড়ে আসে ঢাকায়। চীনের চেংডুর সঙ্গে চুক্তি হয় চতুর্থ প্রজন্মের ফাইটার জেট কেনার বিষয়ে। বাংলাদেশের ক্যাডেটদের নতুন প্রশিক্ষণ মডিউলে নিয়ে আসা হয় বৈশ্বিক কৌশলগত প্রযুক্তি।

দিল্লিতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এনএসএ, এমইএ, র-এর ঘনঘন বৈঠকে উঠে আসে একটাই কথা—“প্রফেসর ইউনুস ভারতের কোনো কূটনৈতিক ফাঁদে পা দিচ্ছেন না।” এক চীনা কূটনীতিকের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ঐতিহাসিক বাক্যটি—
“বাংলাদেশ এখন আর ভারতীয় ছাতার নিচে নয়। তারা নিজের মেঘে নিজের বৃষ্টি নামাতে শিখেছে।”

ইতিহাসের মুহূর্ত: আকাশে ফিরে আসা আত্মমর্যাদা

কুর্মিটোলা হেলিপ্যাডে নামলেন প্রফেসর ইউনুস। সঙ্গে ছিলেন নতুন বিমান বাহিনী প্রধান। ইউনুসের হাতে ছিল একটি কালো ফোল্ডার, যাতে লেখা—“Bangladesh’s Sky Belongs to Bangladeshis Only.”

ঠিক সেই মুহূর্তে, আকাশ থেকে ভেসে এলো এক গর্জন। করাচি থেকে উড়ে এলো একটি জেএফ-১৭ থান্ডার। কুর্মিটোলার রানওয়েতে তার অবতরণ ছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।

রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক সাবেক বিমান বাহিনী সার্জেন্ট, কোলে তার ছোট ছেলে। শিশুটি যুদ্ধবিমানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“বাবা, আমি একদিন ওরকম উড়বো।”
পিতা মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“এখন পারবি। কারণ এই আকাশ আর কারো নয়। এটা তোর, আমার, আমাদের।”

এই মুহূর্তটাই ছিল প্রতীকী। প্রফেসর ইউনুস কোনো যুদ্ধ করেননি। কিন্তু তিনি থামিয়ে দিয়েছেন এক দীর্ঘ ষড়যন্ত্র। অস্ত্র নয়, চেতনা দিয়ে।

বাংলাদেশ এখন জানে, আকাশ শুধু প্রতিরক্ষা নয়—আকাশ মানে গর্ব, মানে স্বাধীনতা, মানে অস্তিত্ব। আর সেই আকাশকে রক্ষা করেছেন যিনি, তিনি এই সময়ের নীরব বিপ্লবের নায়ক—প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস


ভোটের কাগজে বীজ, মাটিতে পড়লেই জন্মাবে সবজি

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৭:৩৯:১২
ভোটের কাগজে বীজ, মাটিতে পড়লেই জন্মাবে সবজি
ছবি: সংগৃহীত

লিফলেট থেকে গাছ জন্মাবে শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টি মোটেই কল্পকাহিনি নয়। আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কল্যাণে এমন কাগজ ইতোমধ্যে বাস্তবতা পেয়েছে, যা ব্যবহারের পর মাটিতে ফেললে বা পুঁতে দিলে সেখান থেকে গাছ গজায়। এই বিশেষ ধরনের কাগজ পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে।

এবার এই ধারণার অভিনব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায়। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান–সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বীজযুক্ত এই বিশেষ লিফলেট। প্রচারণার কাগজ মাটিতে পড়েই যেন সবজির চারা হয়ে ওঠে এমন ধারণা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানো নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ। প্রচারণা শেষে যেখানে সাধারণ লিফলেট আবর্জনায় পরিণত হয়, সেখানে বন-কাগজ মাটিতে মিশে গিয়ে নতুন প্রাণের জন্ম দেয়।

বিশ্বে পরিচিত ধারণা, বাংলাদেশে নতুন প্রয়োগ

যদিও দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এটি নতুন, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বীজযুক্ত কাগজ একেবারেই অপরিচিত নয়। পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচন, সামাজিক সচেতনতা ও পরিবেশ আন্দোলনে সিড পেপার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পোস্টার, আমন্ত্রণপত্র এমনকি ব্যবসায়িক কার্ডেও এই কাগজের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

কীভাবে তৈরি হয় বন-কাগজ

বন-কাগজ তৈরির প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব। ব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত কাগজ সংগ্রহ করে প্রথমে ছোট টুকরো করা হয়। এরপর প্রায় ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে কাগজকে সম্পূর্ণ গলিয়ে নেওয়া হয়। এই গলিত কাগজ থেকে তৈরি হয় মণ্ড। নির্দিষ্ট ফ্রেমে সেই মণ্ড ঢেলে বিশেষ কৌশলে এর সঙ্গে বীজ যুক্ত করা হয়, যাতে কাগজ শুকানোর সময় বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা নষ্ট না হয়। শেষে শুকিয়ে তৈরি হয় লিফলেট বা পোস্টার।

কীভাবে গাছ জন্মায় এই কাগজ থেকে

বন-কাগজের ভেতরে থাকা বীজ মাটির সংস্পর্শে এলে এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পেলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়। পুরো লিফলেট অথবা ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া যায়। মাটি শুষ্ক হলে হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিলেই যথেষ্ট। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বন-কাগজ থেকেই ধীরে ধীরে চারা গজিয়ে গাছে পরিণত হয়। এই কাগজ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে, অর্থাৎ তৈরি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মাটিতে ফেললে গাছ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।

কোন বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে

এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় পাঁচ ধরনের দেশি সবজির বীজ ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো হলো বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাক। এসব সবজি সহজে জন্মায় এবং ঘরোয়া পরিবেশে পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। তাই কেউ চাইলে বারান্দা বা ছাদের টবে এই লিফলেট পুঁতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবজির চারা পেতে পারেন। এক মাসের মধ্যেই মিলতে পারে নিজ হাতে ফলানো সবজি।

খরচ বেশি, সুফল দীর্ঘমেয়াদি

সাধারণ কাগজের তুলনায় বন-কাগজের খরচ কিছুটা বেশি। প্রতিটি সিড পেপার লিফলেট তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৮ টাকা। তবে উদ্যোক্তারা মনে করেন, পরিবেশ দূষণ কমানো, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বর্জ্যহীন প্রচারণার সুফল বিবেচনায় এই ব্যয় যুক্তিসংগত। পরিবেশবিদদের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

রাজনীতির কাগজ যদি মাটিতে পড়ে গাছ হয়ে ওঠে তাহলে সেটিই হয়তো হবে প্রচারণার সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা।


সবাই যেদিকে যায় সেদিকে সে নেই: ভাইরাল পেঙ্গুইনের একাকী যাত্রার নেপথ্য কাহিনী

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১১:০৭:৪৩
সবাই যেদিকে যায় সেদিকে সে নেই: ভাইরাল পেঙ্গুইনের একাকী যাত্রার নেপথ্য কাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি একাকী পেঙ্গুইন তার দল ছেড়ে বিশাল বরফাবৃত পাহাড়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি আসলে কোনো সাম্প্রতিক ঘটনা নয় বরং এটি ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা ভার্নার হারজগের বিখ্যাত ডকুমেন্টারি 'এনকাউন্টারস অ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড' থেকে নেওয়া একটি অংশ। ভিডিওর সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্যে দেখা যায় এন্টার্কটিকার একদল অ্যাডেলি পেঙ্গুইন তাদের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য সমুদ্রের খাবারের সন্ধানে এগোচ্ছে ঠিক তখনই একটি পেঙ্গুইন হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় এবং দল ছেড়ে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে অর্থাৎ জনমানবহীন ও প্রাণহীন বিশাল এক পাহাড়ের দিকে যাত্রা শুরু করে। পরিচালক হারজগ এই একাকী পথচলাকে একটি 'ডেথ মার্চ' বা মৃত্যুর পথে যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন কারণ পাহাড়ের সেই প্রতিকূল পরিবেশে কোনো খাবারের অস্তিত্ব নেই এবং এই পথচলা পেঙ্গুইনটির নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনবে। বিজ্ঞানীরাও এই অদ্ভুত আচরণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এমনকি পেঙ্গুইনটিকে জোর করে তার দলের কাছে ফিরিয়ে আনলেও সে আবারও একই জেদ নিয়ে পাহাড়ের দিকেই হাঁটতে শুরু করবে।

২০২৬ সালে এসে এই ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পেছনে কাজ করছে এক গভীর আবেগীয় ও প্রতীকী কারণ। বর্তমান সময়ের মানুষ যারা তীব্র মানসিক চাপ বা 'বার্নআউট'-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা এই পেঙ্গুইনটির একাকী ও লক্ষ্যহীন পথচলার মাঝে নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকে সামাজিক প্রথা বা গড্ডলিকা প্রবাহ থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের মতো চলার এক প্রতীকী সাহস হিসেবে একে দেখছেন যদিও সেই পথটি শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি 'হোপকোর' বা অনুপ্রেরণামূলক ক্যাটাগরিতে শেয়ার হচ্ছে যেখানে অনেকেই লিখছেন যে সে হয়তো নিজের গন্তব্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু কোটি কোটি মানুষকে নিজের ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার সাহস যুগিয়েছে। এই চর্চা আরও গতি পায় যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়ে একটি পোস্ট করেন তবে সেই পোস্টে গ্রিনল্যান্ড ও পেঙ্গুইনের অবস্থান নিয়ে ভৌগোলিক ভুল থাকায় তা ইন্টারনেটে হাস্যরসের সৃষ্টি করে।

মানুষ এই ঘটনাকে দার্শনিক বা বীরত্বপূর্ণ রূপ দিলেও বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অবশ্য বেশ নিস্পৃহ ও সরাসরি। তাঁদের মতে এই পেঙ্গুইনটির আচরণে কোনো মহান উদ্দেশ্য বা সাহসিকতা নেই বরং এটি মূলত একটি স্নায়বিক বিভ্রান্তি বা 'ডিসঅরিয়েন্টেশন'। পেঙ্গুইনরা সাধারণত সমুদ্রের দিক নির্ণয় করার জন্য প্রকৃতির কিছু নির্দিষ্ট সংকেত ব্যবহার করে থাকে কিন্তু কোনো কারণে এই পেঙ্গুইনটির মস্তিষ্ক সেই সংকেত বুঝতে ভুল করেছিল অথবা কোনো স্নায়বিক সমস্যার কারণে সে সঠিক দিক হারিয়ে ফেলেছিল। তবে বিজ্ঞানের এই নিরস ব্যাখ্যার চেয়ে মানুষের কাছে এটি এখন আর কেবল একটি পাখির ভুল হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি একাকিত্ব, মানসিক অবসাদ এবং প্রথা ভাঙার এক গভীর আবেগীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে যা ২০ বছর আগের একটি ডকুমেন্টারি দৃশ্যকে আজ ইন্টারনেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে রূপান্তর করেছে।


যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৯:০৮:৫১
যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিয়ে মানেই উৎসব ও নাচের আয়োজন হলেও চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের টুজিয়া সম্প্রদায়ের রীতি একদম ভিন্ন। এখানে বিয়ের আগে কনের কান্না করাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্তব্য হিসেবে দেখা হয়। কিং রাজবংশের শেষ যুগ থেকে শুরু হওয়া এই প্রথাটি বর্তমানে আধুনিক শহরগুলোতে কমে গেলেও গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় এখনও টিকে আছে। এটি কেবল চোখের জল নয় বরং একটি সংগীতময় প্রকাশ যাকে ক্রাই সং বলা হয়। কনে এই গানের মাধ্যমে তার পরিবার ও মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং নতুন জীবনে প্রবেশের আবেগ প্রকাশ করে।

বিয়ের অন্তত এক মাস আগে থেকেই কনেকে প্রতিদিন কান্নার এই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। প্রথা অনুযায়ী কনে প্রতিদিন রাতে একটি বিশেষ ঘরে বসে এক ঘণ্টা করে কাঁদে। দশ দিন পর তার সাথে যোগ দেন মা এবং আরও দশ দিন পর দাদি বা নানি সহ পরিবারের অন্যান্য বয়স্ক নারীরা এই কান্নার আসরে সামিল হন। অনেক ক্ষেত্রে কনের বান্ধবীরাও একত্রিত হয়ে কাঁদে এবং গান গায় যা টেন সিস্টার গ্যাদারিং নামে পরিচিত। এই দীর্ঘমেয়াদী কান্নার প্রক্রিয়াটি জুও তাং বা হলে বসে থাকা হিসেবে টুজিয়া সমাজে সমাদৃত।

প্রাচীনকালে এই কান্নার পেছনে একটি সামাজিক বিদ্রোহের দিকও ছিল। তখন মেয়েদের বিয়ে সাধারণত ঘটক বা মা-বাবার পছন্দে হতো বলে কনে কান্নার মাধ্যমে তার অসন্তুষ্টি ও প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরত। এমনকি প্রথা অনুযায়ী কনে যদি যথেষ্ট পরিমাণ না কাঁদতে পারত তবে তাকে অশিক্ষিত বা নিচু পরিবারের মেয়ে হিসেবে সামাজিকভাবে সমালোচনা করা হতো। অনেক সময় কনের মা তাকে পর্যাপ্ত কান্নার জন্য শাস্তিও দিতেন। কান্নার গানের লিরিক্সে অনেক সময় ঘটককে তিরস্কার করার বিষয়টিও উঠে আসত যা এক ধরণের সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক ছিল।

বর্তমানে টুজিয়া সম্প্রদায়ের এই প্রথাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকশিল্প ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর হিসেবে দেখা হয়। কান্নার মাধ্যমে কনে তার ফেলে আসা জীবনের সব স্মৃতি ও দুঃখকে বিদায় জানিয়ে নতুন জীবনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ মনে করে এই রীতি কনের সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। আধুনিক জীবনের প্রভাবে অনেক কিছু বদলে গেলেও টুজিয়াদের এই ক্রাইং ম্যারেজ আজও তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সূত্র: ডেইলি চায়না


এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২০:৩৭:৪১
এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড

ব্রিটিশ শাসনামলে একদিন এক ইংরেজ সামরিক কর্মকর্তা রাগের বশে এক তরুণ ভারতীয় যুবকের গালে সপাটে চড় বসান। মুহূর্তের মধ্যেই যা ঘটল, তা উপনিবেশিক অহংকারের ইতিহাসে বিরল। কোনো দ্বিধা না করে সেই তরুণ পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা চড় মারল। আঘাতে ইংরেজ কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। বিস্ময়, অপমান আর অবিশ্বাস একসঙ্গে তাকে গ্রাস করল। কীভাবে এক “সাধারণ” ভারতীয় যুবক সাহস পেল এমন এক সামরিক কর্মকর্তার গায়ে হাত তুলতে, যে সাম্রাজ্যের সূর্য নাকি কখনো অস্ত যেত না।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ছুটে গেলেন তাঁর ঊর্ধ্বতন কমান্ডারের কাছে। দাবি একটাই, কঠোর শাস্তি। কিন্তু প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতে কমান্ডার শান্ত কণ্ঠে বললেন, ওই যুবককে শাস্তি নয়, পুরস্কৃত করতে হবে। পুরস্কার হিসেবে তাকে দিতে হবে দশ হাজার রুপি। শুনে ইংরেজ কর্মকর্তা বিস্ফোরিত হলেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত অপমান নয়, ব্রিটিশ রাণীর অপমান, আর তার জবাবে পুরস্কার। কিন্তু আদেশ আদেশই। আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।

অনিচ্ছাসত্ত্বেও কর্মকর্তা সেই ভারতীয় যুবকের হাতে দশ হাজার রুপি তুলে দিয়ে ক্ষমা চাইলেন। যুবক টাকা নিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে ভুলে গেল একদিন নিজের দেশেই এক ঔপনিবেশিক কর্মকর্তার হাতে অপমানিত হওয়ার কথা। সে সময় দশ হাজার রুপি ছিল অকল্পনীয় সম্পদ। সে অর্থ কাজে লাগিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই সে হয়ে উঠল ধনী, সমাজে সম্মানিত, প্রভাবশালী। একসময়ের সাধারণ মানুষ এখন গণ্যমান্য ব্যক্তি।

বছর কেটে গেল। একদিন সেই একই ঊর্ধ্বতন কমান্ডার আবার তাঁর অধস্তন কর্মকর্তাকে ডাকলেন। প্রশ্ন করলেন, ওই ভারতীয়কে কি মনে আছে। কর্মকর্তার চোখে তৎক্ষণাৎ পুরোনো অপমান জ্বলে উঠল। কমান্ডার তখন বললেন, সময় এসেছে। যাও, তাকে খুঁজে বের করো এবং সবার সামনে আবার গালে চড় মারো।

ভয়ে কাঁপতে লাগল কর্মকর্তা। সে বলল, তখন সে গরিব ছিল, তবু প্রতিশোধ নিয়েছিল। এখন সে ধনী, প্রভাবশালী। এবার সে আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু কমান্ডার কঠোর স্বরে বললেন, এটিও আদেশ।

আদেশ পালন করা ছাড়া উপায় নেই। কর্মকর্তা গেলেন। সবার সামনে সেই ভারতীয়কে চড় মারলেন। কিন্তু এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া নেই। লোকটি চোখ তুলেও তাকাল না। নীরবে অপমান সহ্য করল।

হতবাক কর্মকর্তা ফিরে এসে কমান্ডারকে সব বললেন। তখন কমান্ডার ধীরে, কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, প্রথমবার ওই যুবকের কাছে ছিল শুধু তার সম্মান। সেটাই ছিল তার সবকিছু। তাই সে প্রাণপণে লড়েছিল। কিন্তু আজ সে আর সম্মান রক্ষা করল না, কারণ এখন তার কাছে এমন কিছু আছে, যা সে সম্মানের চেয়েও বেশি মূল্যবান মনে করে, তার সম্পদ। যেদিন সে ওই দশ হাজার রুপি গ্রহণ করেছিল, সেদিনই সে নিজের মর্যাদা বিক্রি করে দিয়েছিল। আর যে মানুষ নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে, তার মেরুদণ্ড চিরতরে নুয়ে যায়।

এই গল্প কেবল অতীতের কোনো উপনিবেশিক উপাখ্যান নয়। এটি আজকের জন্য এক নির্মম আয়না। আমরা কতবার সত্যকে চেপে গেছি সুবিধার জন্য। কতবার না জেনে কাউকে কলঙ্কিত করেছি। কতবার অবস্থান, উপহার কিংবা লোভের কাছে মাথা নত করেছি। প্রতিবারই হয়তো আমরা আমাদের আত্মসম্মানের এক একটি অংশ বিক্রি করেছি।

এখনই সময় নিজেকে প্রশ্ন করার। আমরা কি আমাদের হৃদয় ও বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা করছি। ক্ষমা চাইবার সময় এখনই, যাতে আমাদের আত্মসম্মান অক্ষত থাকে। পদ, উপহার কিংবা লোভের কাছে কখনো নত না হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানোই মানুষের আসল পরিচয়। প্রশ্ন একটাই, আমরা কি সেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারব।

(অনূদিত)


কেন ১ জানুয়ারি নতুন বছর? জানুন এর পেছনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস

২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ২১:৩৯:২৯
কেন ১ জানুয়ারি নতুন বছর? জানুন এর পেছনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীজুড়ে আতশবাজি আর উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বছরের শুরুর এই দিনটি সবসময় ১ জানুয়ারি ছিল না। প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে বছরের শুরু হতো ১ মার্চ থেকে এবং বছরে মাস ছিল মাত্র ১০টি। যার রেশ আজও রয়ে গেছে আমাদের ক্যালেন্ডারে; ল্যাটিন শব্দ 'Septem' মানে ৭, সেই হিসেবে সেপ্টেম্বর ছিল সপ্তম মাস এবং 'Decem' মানে ১০ অনুযায়ী ডিসেম্বর ছিল দশম মাস। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এই ক্যালেন্ডারের অসামঞ্জস্য দূর করতেই শুরু হয় সংস্কার।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তৎকালীন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ প্রবর্তন করেন। সিজারই প্রথম জানুয়ারির ১ তারিখকে বছরের শুরু হিসেবে ঘোষণা করেন। এই মাসের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান দেবতা ‘জানুস’-এর নামানুসারে। জানুসের বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর দুটি মুখ—একটি পেছনের দিকে (অতীত দেখার জন্য) এবং অন্যটি সামনের দিকে (ভবিষ্যৎ দেখার জন্য)। নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে এই মাসটিকেই বছরের সূচনার জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়।

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর মধ্যযুগে ইউরোপের অনেক দেশ ধর্মীয় কারণে ১ জানুয়ারিকে বছরের শুরু হিসেবে মানতে অস্বীকার করেছিল। তারা ২৫ ডিসেম্বর বা ২৫ মার্চকে বছরের শুরু হিসেবে পালন করত। তবে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ক্যালেন্ডারের ভুল সংশোধন করে ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’ প্রবর্তন করেন এবং পুনরায় ১ জানুয়ারিকে বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে এই পদ্ধতিটি সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং বর্তমানের সার্বজনীন ক্যালেন্ডারে রূপ নেয়।

বর্তমানে ১ জানুয়ারি কেবল একটি তারিখ পরিবর্তনের দিন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের একটি সাধারণ মানদণ্ড। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় রোমান দেবতা জানুসের সেই শিক্ষা—অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনার দিকে তাকাতে। হাজার বছরের সংস্কার আর বিবর্তন পেরিয়ে আজ এই দিনটি বিশ্বের বৃহত্তম ও সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


গাছ কাটলে গাছের কি সত্যিই ব্যথা লাগে? বিজ্ঞান কী বলে

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ১৩:৩৬:০৭
গাছ কাটলে গাছের কি সত্যিই ব্যথা লাগে? বিজ্ঞান কী বলে
ছবি: সংগৃহীত

গাছের কি ব্যথা লাগে-এই প্রশ্নটি অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই জাগে। তবে আধুনিক জীববিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। উদ্ভিদের শরীরে কোনো ব্যথা অনুভবকারী রিসেপ্টর, স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্ক নেই। ফলে প্রাণিজগতের সদস্য হিসেবে মানুষ বা পশু যেভাবে ব্যথা অনুভব করে, উদ্ভিদ সেই অর্থে ব্যথা অনুভব করতে সক্ষম নয়। তাই একটি গাজর মাটি থেকে তুলে নেওয়া, ঝোপঝাড় ছাঁটা বা একটি আপেল কামড়ে খাওয়া কোনোভাবেই ‘উদ্ভিদ নির্যাতন’ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উদ্ভিদ সম্পূর্ণ সংবেদনশূন্য নয়। তারা শারীরিক উদ্দীপনা, স্পর্শ বা ক্ষতির উপস্থিতি বুঝতে পারে এবং তার প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারে যদিও সেটি ব্যথা নয়, বরং জৈব-রাসায়নিক ও কোষীয় প্রতিক্রিয়া।

কিছু উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা আমাদের চোখেই ধরা পড়ে। যেমন ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ নামের উদ্ভিদটি অর্ধ সেকেন্ডের মধ্যেই পাতা বন্ধ করে শিকার ধরে ফেলতে পারে। আবার লজ্জাবতী গাছ স্পর্শ পেলেই পাতা গুটিয়ে নেয়, যা সম্ভাব্য তৃণভোজী প্রাণীকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখার একটি প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বলে মনে করা হয়। এই উদ্ভিদগুলোর আচরণে স্পষ্টতই একধরনের সংবেদনশীল ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়।

তবে আরও বিস্ময়কর তথ্য এসেছে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে। দেখা গেছে, সাধারণ সরিষা জাতের একটি উদ্ভিদ যা গবেষণাগারে বহুল ব্যবহৃত পাতায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে কোষীয় স্তরে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠাতে পারে। এই সংকেত এক পাতা থেকে আরেক পাতায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ভিদকে সতর্ক করে দেয় যেন সে দ্রুত রাসায়নিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারে। ফলে শুঁয়োপোকা বা এফিডের মতো ক্ষতিকর পোকা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

এই বৈদ্যুতিক সংকেত শুনে অনেকের মনে হতে পারে, উদ্ভিদ বুঝি ব্যথা পাচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলছেন, এই সংকেত কোনোভাবেই প্রাণীর ব্যথার সংকেতের মতো নয়। এখানে কোনো অনুভূত যন্ত্রণা নেই, নেই সচেতন কষ্টবোধ। এটি নিছক একটি প্রতিরক্ষামূলক সংকেত ব্যবস্থা, যা উদ্ভিদের টিকে থাকার কৌশলের অংশ।

উদ্ভিদ আলো, মাধ্যাকর্ষণ, বাতাসের প্রবাহ এমনকি ক্ষুদ্র পোকামাকড়ের আক্রমণও শনাক্ত করতে পারে এবং তার ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়াগুলো অনুভূতির ফল নয়, বরং কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে গড়ে ওঠা জৈবিক অভিযোজন। উদ্ভিদের জীবনধারা ‘কষ্ট বনাম সুখ’ দিয়ে পরিচালিত নয়; বরং এটি পরিচালিত হয় টিকে থাকা বা বিলুপ্তির সরল বাস্তবতায়।

সুতরাং, উদ্ভিদের এই অসাধারণ সক্ষমতা আমাদের বিস্মিত করলেও, তাদের মানুষের মতো ব্যথা অনুভবকারী জীব হিসেবে কল্পনা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। উদ্ভিদ অনুভব করে না—তারা প্রতিক্রিয়া জানায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা


অলিম্পিক স্বর্ণপদক কি সত্যিই খাঁটি সোনা, জানুন ইতিহাস

২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ১৪:৩৭:০৯
অলিম্পিক স্বর্ণপদক কি সত্যিই খাঁটি সোনা, জানুন ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

অলিম্পিকের মঞ্চে সর্বোচ্চ ধাপে দাঁড়িয়ে গলায় স্বর্ণপদক পরার মুহূর্তটি যেকোনো ক্রীড়াবিদের কাছে অমূল্য। তবে আবেগের দিক থেকে যতটাই মূল্যবান হোক না কেন, বাস্তব অর্থমূল্যের বিচারে অলিম্পিক স্বর্ণপদক রুপার পদকের চেয়ে খুব বেশি দামী নয়। এর কারণ হলো, অলিম্পিকের নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণপদক আসলে সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে তৈরি নয়।

অলিম্পিক গেমস–এর বিধিমালা অনুযায়ী, স্বর্ণপদকে কমপক্ষে ৯২.৫ শতাংশ রুপা থাকতে হয় এবং তার ওপরে মাত্র প্রায় ছয় গ্রাম খাঁটি সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। একইভাবে রুপার পদকও ৯২.৫ শতাংশ রুপা দিয়ে তৈরি হয়। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ পদক বানানো হয় তামা ও বিভিন্ন ধাতুর সংমিশ্রণে। ফলে স্বর্ণ ও রুপার পদকের উপাদানগত পার্থক্য খুবই সীমিত।

পদক প্রদানের এই রীতি আদতে খুব প্রাচীন নয়। আধুনিক অলিম্পিকের সূচনা হয় ১৮৯৬ সালে গ্রিসের এথেন্সে। তবে সে সময়কার পদকগুলো আজকের পরিচিত স্বর্ণ–রুপা–ব্রোঞ্জ কাঠামোর মতো ছিল না। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসরে বিজয়ীদের স্বর্ণপদক দেওয়া হয়নি।

প্রাচীন অলিম্পিকের ইতিহাস আরও পেছনে গেলে দেখা যায়, প্রায় ২ হাজার ৮০০ বছর আগে, খ্রিষ্টপূর্ব ৭৭৬ সালে শুরু হওয়া প্রাচীন অলিম্পিকে বিজয়ীদের মাথায় পরানো হতো বিজয়ের মুকুট। এসব মুকুট সাধারণত স্থানীয় উদ্ভিদ যেমন লরেল পাতা বা জলপাই শাখা দিয়ে তৈরি করা হতো। তখন পদকের ধারণাই ছিল না।

১৮৯৬ সালের আধুনিক অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো পদক প্রদান শুরু হলেও সেখানে মাত্র দুটি পদক দেওয়া হতো। প্রথম স্থান অধিকারী পেতেন রুপার পদক এবং দ্বিতীয় স্থান পাওয়া প্রতিযোগী পেতেন তামার পদক। তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য কোনো পুরস্কারই নির্ধারিত ছিল না।

এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে ১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকে। সে আসরে কিছু খেলায় প্রথমবারের মতো শীর্ষ তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয় এবং তখনই স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ পদকের ধারণা চালু হয়। তবে সেবার পদকগুলো ছিল আয়তাকার, যা অলিম্পিক ইতিহাসে একমাত্র ব্যতিক্রম। সেই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পদকের পরিবর্তে ট্রফি বা শিল্পকর্মও দেওয়া হয়েছিল।

১৯০৪ সালের পর থেকে স্বর্ণ–রুপা–ব্রোঞ্জ পদকের রীতি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৪, ১৯০৮ ও ১৯১২ সালের অলিম্পিকে দেওয়া স্বর্ণপদক সত্যিকার অর্থেই খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি ছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯১৬ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়নি। যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় খাঁটি সোনার পদক দেওয়া আর সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি পদকের ধাতব গঠন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও, আয়োজক দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে পদকে বিশেষ উপাদান যোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়। যেমন, ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে পদকে জেড পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল।

একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে প্রতিটি পদকের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার–এর একটি ক্ষুদ্র অংশ। এর মাধ্যমে অলিম্পিক পদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং আয়োজক শহরের ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা


ইন্টারনেট ছাড়াই চলবে গুগল ম্যাপস: জেনে নিন অফলাইন ব্যবহারের নিয়ম

২০২৫ ডিসেম্বর ২১ ১১:৪৮:২৬
ইন্টারনেট ছাড়াই চলবে গুগল ম্যাপস: জেনে নিন অফলাইন ব্যবহারের নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

অচেনা কোনো শহর বা নতুন কোনো গন্তব্যে যাওয়ার পথে বর্তমানে গুগল ম্যাপস আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। তবে অনেক সময় নেটওয়ার্কের দুর্বলতা কিংবা ইন্টারনেট প্যাকেজ শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে মাঝপথে বিপাকে পড়তে হয়। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা বা বিদেশ ভ্রমণের সময় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবহারকারীদের এই ভোগান্তি দূর করতে গুগল ম্যাপসে রয়েছে ‘অফলাইন’ সুবিধা যা সক্রিয় থাকলে কোনো ধরনের ইন্টারনেট ডাটা ছাড়াই নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।

গুগল ম্যাপসের এই অফলাইন মোড ব্যবহারের পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর। এটি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে প্রথমে স্মার্টফোনের গুগল ম্যাপস অ্যাপে প্রবেশ করে প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করতে হবে। সেখানে থাকা 'অফলাইন ম্যাপস' অপশনে গিয়ে ‘সিলেক্ট ইয়োর ওউন ম্যাপ’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর যে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা শহরের মানচিত্র ভবিষ্যতে অফলাইনে ব্যবহারের প্রয়োজন তা জুম ইন বা আউট করে সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে ডাউনলোড বাটনে প্রেস করলেই সেই এলাকার মানচিত্রটি ফোনের মেমোরিতে জমা হয়ে যাবে। একবার সফলভাবে ডাউনলোড হয়ে গেলে পরবর্তী যেকোনো সময় ইন্টারনেট ছাড়াই ওই এলাকার পথঘাট দেখা যাবে।

গুগল ম্যাপসের এই অফলাইন সংস্করণে গাড়ি চালানোর দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুবিধা থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় রাস্তার রিয়েল-টাইম ট্রাফিক পরিস্থিতি বা জ্যামের খবর জানা সম্ভব হয় না। এছাড়া বিকল্প রুট এবং গণপরিবহনের সঠিক সময়সূচিও এই মোডে দেখা যাবে না। তবে ইন্টারনেট ছাড়াই স্মার্টফোনের জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সবসময় সক্রিয় থাকে যা ডাউনলোড করা মানচিত্রের ওপর ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান ও গন্তব্যের দূরত্ব নিখুঁতভাবে দেখাতে পারে।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই ফিচারটি আশীর্বাদস্বরূপ কারণ বিদেশের মাটিতে দামী ইন্টারন্যাশনাল রোমিং বা লোকাল সিম কার্ডের ডাটা খরচ না করেই তারা মানচিত্র ব্যবহার করতে পারেন। ভ্রমণের আগেই প্রয়োজনীয় শহরের ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখলে স্মার্টফোনটি অনেকটা পুরোনো আমলের পকেট ম্যাপের মতোই কার্যকর হয়ে ওঠে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অফলাইন নেভিগেশনের এই সুবিধা কেবল ডেটাই সাশ্রয় করে না বরং জরুরি মুহূর্তে পথ হারানোর ভয় থেকেও ব্যবহারকারীকে সুরক্ষিত রাখে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


জিমেইল স্টোরেজ ফুল? টাকা খরচ না করে জায়গা খালি করার ৫ উপায়

২০২৫ ডিসেম্বর ২১ ১১:৪৩:৩৩
জিমেইল স্টোরেজ ফুল? টাকা খরচ না করে জায়গা খালি করার ৫ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান যুগে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে জিমেইল একটি অপরিহার্য মাধ্যম। তবে গুগলের নির্ধারিত ১৫ জিবি স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়েন। স্টোরেজ পূর্ণ থাকলে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইলগুলো প্রাপকের কাছে না পৌঁছে ফিরে আসে অথবা অনেক ক্ষেত্রে নতুন মেইল আসাও বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গুগল অতিরিক্ত স্টোরেজের জন্য অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করে কোনো খরচ ছাড়াই এই সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

জিমেইলের জায়গা খালি করার জন্য প্রথমেই নজর দেওয়া উচিত ট্র্যাশ এবং স্প্যাম ফোল্ডারের দিকে। সাধারণত মুছে ফেলা ই-মেইলগুলো সরাসরি ডিলিট না হয়ে ট্র্যাশ ফোল্ডারে ৩০ দিন পর্যন্ত জমা থাকে যা অযথাই স্টোরেজ দখল করে রাখে। নিয়মিত এই ফোল্ডারগুলো ম্যানুয়ালি খালি করার মাধ্যমে অনেকটা জায়গা তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার করা যায়। এছাড়া ই-মেইলের বড় অ্যাটাচমেন্টগুলো স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। জিমেইলের সার্চ বক্সে বিশেষ কোড ব্যবহার করে ১০ মেগাবাইটের বেশি সাইজের ই-মেইলগুলো চিহ্নিত করে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডিলিট করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বা অপ্রয়োজনীয় নিউজলেটার জিমেইলের প্রমোশন ট্যাবে জমে থেকে ইনবক্সকে ভারী করে তোলে। নিয়মিতভাবে এই ধরনের নিউজলেটারগুলো আনসাবস্ক্রাইব করলে ভবিষ্যৎ স্টোরেজ অপচয় রোধ করা যায়। এছাড়া গুগলের ‘ওয়ান স্টোরেজ ম্যানেজার’ টুলটি ব্যবহার করে এক নজরে ড্রাইভ, ফটোস এবং জিমেইলের বড় ফাইলগুলো দেখে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। বড় সাইজের ছবি বা ভিডিও সরাসরি মেইলে না পাঠিয়ে গুগল ড্রাইভের লিংক শেয়ার করাও স্টোরেজ সাশ্রয়ের একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে জিমেইলের স্টোরেজ পূর্ণ হওয়া মানেই টাকা খরচ করে নতুন মেমোরি কেনা নয় বরং ডিজিটাল হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এর মূল সমাধান। নিয়মিত ইনবক্স পরিষ্কার রাখা এবং ক্লাউড স্টোরেজের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বছরের পর বছর কোনো চার্জ ছাড়াই জিমেইলের নিরবচ্ছিন্ন সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে কেবল স্টোরেজই বাঁচবে না বরং জিমেইলের গতি ও কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।

পাঠকের মতামত: