ঢাবিতে নতুন দুই দিবস ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। জুলাই অভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের অনন্য সাহসিকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে তাদের সম্মিলিত ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দুইটি বিশেষ দিবস ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন, প্রতি বছর ১৪ জুলাই ‘নারী শিক্ষার্থী দিবস’ এবং ১৭ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দুইটি দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হবে।
উপাচার্য বলেন, “নারীরা সেদিন যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, সেটি কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ছিল না তা ছিল এক ঐতিহাসিক নৈতিক অবস্থান। এই ঘোষণা সেই সাহসিকতার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা যখন সামরিক ও আধা-সামরিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের এই আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধকে অস্বীকার করা চলে না। এটি কেবল ইতিহাস নয়, আমাদের মূল্যবোধের মাপকাঠিও বটে।”
অনুষ্ঠান উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক ও প্রামাণ্য আয়োজনের চিত্র হয়ে ওঠে। রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি চত্বর ও শামসুন্নাহার হলের সামনে স্থাপন করা হয় বড় পর্দার অডিও-ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, নারীদের অংশগ্রহণ, পুলিশ-সেনা যৌথ দমননীতির চিত্র এবং শহীদদের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
এছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে আয়োজন করা হয় স্মরণীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গান, নাট্যাংশ এবং ড্রোন শো, যা হাজারো দর্শক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই আয়োজনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যাতে সবাই নিঃসংশয়ে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। নারী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আত্মমর্যাদার দীপ্তি, আর উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল সম্মিলিত গর্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দিবসের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কেবল স্মরণ নয়, বরং শিক্ষা ও প্রেরণার এক নতুন ভিত্তি নির্মাণ করবে। নারী নেতৃত্ব, নৈতিক প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক চেতনা এই তিনটি স্তম্ভকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী প্রজন্মকে সত্য ও সাহসের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার নয়, বরং ন্যায়, প্রতিবাদ ও নৈতিক দৃঢ়তার কেন্দ্রও হতে পারে। ‘নারী শিক্ষার্থী দিবস’ এবং ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ কেবল স্মরণ দিবস নয়, বরং এগুলো হয়ে উঠবে ছাত্র রাজনীতির মানবিক ও মূল্যবোধনির্ভর নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার সূচনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘোষণাকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনের গবেষকরা দেখছেন একটি সময়োপযোগী এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে গঠিত দৃষ্টান্ত হিসেবে, যা দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে নারী নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের চেতনাকে এগিয়ে নিতে।
-রফিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নতুন ৫ দফা দাবি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
ইঞ্জিনিয়ার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বের তিন দফা দাবির সঙ্গে আরও নতুন দুই দফা যোগ করে মোট পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারের স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা উপদেষ্টা সরাসরি শাহবাগে এসে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের এক্সিট গেটের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ এই দাবিগুলো তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের নতুন ৫ দফা দাবি
দাবি ১ ও ২ (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা): আজকের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং একইসঙ্গে জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়াও, আন্দোলনে অংশ নেওয়া রোকনের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকের এই হামলায় জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
দাবি ৩ (নতুন কমিটি): প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
দাবি ৪ (পূর্বের ৩ দফা): পূর্বে ঘোষিত ৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাহী আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
দাবি ৫ (শিক্ষামন্ত্রীর নিশ্চয়তা): তিন উপদেষ্টা— ফওজুল করিম, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে এখানে এসে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এছাড়াও, হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ বহন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে আর কোনো হামলা করা যাবে না। সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, পুলিশের হামলায় শিক্ষার্থীদের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দফা দাবি আদায়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তাদের দাবি আদায়ে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট নিক্ষেপ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থী আহত হন।
এরপর থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, ‘ব্লকেড ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’সহ বিভিন্ন স্লোগানে তারা শাহবাগ এলাকা উত্তাল করে তোলেন।
/আশিক
বুয়েট শিক্ষার্থীদের ঘোষণা: ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ আজ
সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আশ্বাস না পাওয়ায় সারাদেশের প্রকৌশলীদের নিয়ে রাজধানী অভিমুখে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রকৌশল অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম ওয়ালীউল্লাহ। তিনি জানান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় এই কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু বলেন, বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত শুরু হবে। ইতোমধ্যে দেশের সব প্রকৌশল ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা তিন দফা সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন—
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী (বা সমমান পদ)-এ প্রবেশের জন্য সকল প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকতে হবে। একইসঙ্গে কোটা বা অন্য নামে সমমানের নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ বাতিল করতে হবে।
টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বা সমমান পদ)-এর জন্য নিয়োগ পরীক্ষা উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়েই সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ‘প্রকৌশলী’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। এ সংক্রান্ত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে যেসব নন-অ্যাক্রিডেটেড বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চলছে, সেগুলোকে আইইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত হয়।
-রাফসান
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু আজ থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
২১ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, “আমরা চাই নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে। কোনো প্রকার বৈষম্য বা আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে সব ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীদের সঙ্গে আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করতে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠক পরিচালনা করবেন ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ভোটার তালিকায় নিজেদের ছবি প্রকাশ করতে চান না, তারা আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে চিফ রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিতে পারবেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সর্বসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট হল ও প্রশাসনিক দপ্তরের কাছে তালিকাটি উন্মুক্ত থাকবে।
আচরণবিধি ও প্রচারের নিয়ম
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, আজ ২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত প্রার্থীরা হলে বা ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত বা সংগঠনের ব্যানারে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে এ সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের সামাজিক, আর্থিক বা সেবামূলক কার্যক্রম, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় স্থানে প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এসব কর্মকাণ্ড আচরণবিধির ধারা ১৭ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাতিল মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা
পূর্বে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিলের প্রেক্ষিতে পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোটের তারিখ
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্ররাজনীতির আয়োজন হিসেবে ছাত্রসমাজ ও জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
একাদশে ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ হলো,যেভাবে দেখবেন
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে লগইন করে ফল দেখতে পারবেন। এছাড়া আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভর্তি কমিটির সদস্যরা জানান, প্রথম ধাপে গত ৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৭৩ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। আজ তাদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছিল। তখন ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৩ লাখ তিন হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী পাস করে। পরবর্তীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণে আরও চার হাজার ৭৯২ জন পরীক্ষার্থী পাস করে, যা মোট পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখ আট হাজার ২১৮ জনে।
/আশিক
শিক্ষকদের আলটিমেটাম: জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নতুন মোড়
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা অন্তর্বর্তী সরকারকে এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নে ‘দৃশ্যমান ও যৌক্তিক’ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেয় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজী বলেন, “আমাদের দাবি যৌক্তিক হলেও সরকার গড়িমসি করছে। আমরা ৩০ দিন সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করব।”
শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকদুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষকদের জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সার্বজনীন বদলি চালুর বিষয়ে একটি ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা যায়, এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমানকে। বৈঠকে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চেয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষকদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
মহাসমাবেশ ও আন্দোলনএর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মহাসমাবেশ শুরু হয়। দেশের ৬৪ জেলার কয়েক হাজার শিক্ষক এতে অংশ নেন, যার কারণে পল্টন ও শাহবাগ অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কথা থাকলেও, শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক হওয়ায় শিক্ষকরা বিকেল ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ করে ফিরে যান।
অনলাইনে কলেজে আবেদন: জানুন কলেজ চয়েজ পরিবর্তনের ধাপ
চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন চলছে। প্রথম ধাপের আবেদনের সময়সীমা ১১ আগস্ট রাত ৮টা থেকে বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আবেদন সম্পন্ন করেছেন, তবে এখনো আবেদন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কলেজ পছন্দ পরিবর্তন বা পছন্দের তালিকায় ক্রম পরিবর্তন করতে চাইলে কেন্দ্রীয় ভর্তির ওয়েবসাইটে লগইন করে সহজেই তা করতে পারবেন।
কলেজ পছন্দ পরিবর্তনের জন্য আবেদনকারীদের প্রথমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ‘আবেদন’ মেনু থেকে ‘আবেদন দেখুন’ নির্বাচন করলে জমা দেওয়া কলেজগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন। তালিকার পাশে ‘আবেদন আপডেট করুন’ অপশনে ক্লিক করলে পছন্দক্রম পরিবর্তন করা যাবে। কলেজ বাদ দেওয়া বা নতুন কলেজ যুক্ত করাও সম্ভব। তবে পরিবর্তনের পর অবশ্যই নতুন তালিকাটি সংরক্ষণ করতে হবে।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবছর অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে; অফলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন ফি ২২০ টাকা। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ দশটি কলেজে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত কলেজে ভর্তি মেধা, কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। একজন শিক্ষার্থী একবারে শুধু একটিমাত্র কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
/আশিক
এসএসসি ও সমমান পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল জানতে পারবেন যেভাবে
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল আজ সকাল ১০টায় প্রকাশিত হবে। দেশের ৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.dhakaeducationboard.gov.bd) এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্গত পরীক্ষার্থীরা তাদের রোল নম্বরের মাধ্যমে ফলাফল দেখতে পারবেন। এটি শিক্ষার্থীদের তাদের পরীক্ষার ফল পুনরায় যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, গত ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত টেলিটক মোবাইল সেবার মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রতি বিষয় প্রতি ১৫০ টাকা ফি দিয়ে এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। মোট দুই লাখ ২৩ হাজার ৬৬৪টি খাতার পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার বেশি। এই সংখ্যাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের প্রতি বৃদ্ধি পাওয়া আগ্রহ ও আস্থার পরিচায়ক।
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে গণিত বিষয়ে—৪২ হাজার ৯৩৬টি খাতা। এছাড়াও ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৯ হাজার ৬৮৮টি করে, পদার্থবিজ্ঞানে ১৬ হাজার ২৩৩টি এবং বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৩ হাজার ৫৫৮টি খাতার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, চারু ও কারুকলা বিষয়ে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, মাত্র ৬টি। এতে দেখা যায় যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাণিতিক এবং ভাষাগত বিষয়গুলোর ফল পুনঃমূল্যায়নে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় খাতার নম্বর পুনরায় মূল্যায়ন করা হয় না, বরং নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কিনা, কোনো প্রশ্ন বাদ পড়েছে কি না, এবং ওএমআর শিটে নম্বর সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। প্রয়োজনে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের সঠিক ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।
দেশব্যাপী শিক্ষাবোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র তিন লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন। এই তথ্য শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নতির প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
-শরিফুল
এসএসসি খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল কাল প্রকাশ, জানুন ফল দেখার নিয়ম
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল আগামীকাল রবিবার প্রকাশ করা হবে। শনিবার (৯ আগস্ট) আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়, তাই সময়সীমা মেনে আগামীকাল ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার আরও জানান, যারা মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের ওই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফল জানানো হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোও তাদের ওয়েবসাইটে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৯২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে, তবে অন্যান্য বোর্ডের আবেদনসংখ্যা এখনও জানা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গত ১০ জুলাই প্রকাশ করা হয়েছিল। ফলের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এইবার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময় ছিল ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত, যা এসএমএস পদ্ধতি এবং শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও টেলিটকের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যাদের মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন।
/আশিক
বেতন বৈষম্য দূরীকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের ঘোষণা
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বেতন ও সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেছেন। একই পাঠ্যক্রম, সমান ক্লাসঘণ্টা ও দায়িত্ব পালন করেও সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় তাদের আয় অনেক কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা শুরুর বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র এক হাজার টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় জীবনযাপন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “এই সামান্য ভাতায় শহর তো দূরের কথা, গ্রামেও মানসম্মত বাড়িভাড়া বা চিকিৎসা খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব। অথচ এই কষ্ট কেউ বোঝে না।” তার মতে, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই।
এই অসন্তোষের কারণে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মসূচি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস রিজার্ভ করে শিক্ষকরা ঢাকায় আসবেন, আর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) জানায়, মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়। দেশে বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার, যেখানে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলো, আর এর প্রাণভোমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থাতেই রয়ে গেছে গভীর বৈষম্য। সরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের শতভাগ হলেও বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা মাত্র এক-চতুর্থাংশ, আর কর্মচারীদের জন্য অর্ধেক। এতে শিক্ষকরা বঞ্চনার চক্রে আটকে পড়ছেন।
শিক্ষক নেতা ও শিক্ষাবিদরা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন—
১. সরকারি শিক্ষকদের মতো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ।
২. বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা সরকারি শিক্ষকদের সমপর্যায়ে উন্নীত করা এবং বদলি ও পেনশন সুবিধা চালু।
৩. এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা।
৪. শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া।
৫. নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষকদের সমস্যাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই অধ্যাপক বলেন, শিক্ষকরা যদি বঞ্চনার শিকার হন, তবে দেশের শিক্ষা নামক ‘মেরুদণ্ড’ দুর্বল হয়ে পড়বে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই উন্নত ও শিক্ষিত জাতি গড়া সম্ভব।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা
- অ্যাপলের নতুন চমক: আইফোন ১৭ সিরিজ আসছে, কী থাকছে নতুন ফোনে?
- পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলতেই ৩২ বস্তা টাকা, এবার রেকর্ড ভাঙার আশা
- ভারত আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে যায়—এরপর সমুদ্রে ফেলে দেয়
- শিবচরে ৪ বাসের ভয়ংকর সংঘর্ষ, অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে
- খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বৃদ্ধকে পেটালেন বিএনপি নেতা
- নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক
- স্বর্ণের দামে স্বস্তি নেই: ফের বাড়ল দাম, নতুন মূল্য কার্যকর আজ থেকে
- যানজট নিরসনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হচ্ছে আজ
- ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা
- নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে মানুষ: হাদিসে কুদসীর শিক্ষা
- গ্ল্যামারাস রূপে হানিয়া আমির, নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা
- এশিয়া কাপের প্রস্তুতি: আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
- কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি
- নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর
- চিয়া বীজ কি সবার জন্য নিরাপদ? জেনে নিন কাদের জন্য এটি বিপজ্জনক
- জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
- নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
- বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
- নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের
- আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের
- আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক
- ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড
- কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
- দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
- কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
- কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
- আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
- নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
- নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
- নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
- গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
- রোডম্যাপ গতানুগতিক ও বিভ্রান্তিকর: জামায়াত সেক্রেটারি
- জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ
- টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রানের লক্ষ্য, অভ্যাস গড়তে চায় বাংলাদ: লিটন দাস
- ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
- এআই দিয়ে তৈরি করা ছবির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: ডিএমপি
- ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে মিছিল শেষে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
- গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: নতুন অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন
- ইসি’র রোডম্যাপে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- ইসি’র রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল: ‘বিএনপি সরকারের পাশে আছে’
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ
- ডিএসই ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের লেনদেনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ
- ২৮ আগস্ট দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- অমীমাংসিত ইস্যু সরকারের বিষয়, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জামায়াতের
- পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে চায় এনসিপি, ৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’: মেহের আফরোজ শাওন
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ২৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- ডিএসইতে ব্যাংক শেয়ারের দাপট