ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বিভক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গাজায় মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা মঙ্গলবার গাজা যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য ১০টি কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এখনই কোনো পদক্ষেপে ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস আলোচনার টেবিলে যে ১০টি বিকল্প রেখেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তি পুরোপুরি স্থগিত করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সীমিত করা, নির্দিষ্ট ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা বাতিল করা।
তবে গাজায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইইউ সদস্য দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এককাট্টা হতে পারেনি। ইউরোপের ভেতরেই কেউ ইসরায়েলের পক্ষে, কেউ ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল—এই বিভক্তিই মূল বাধা।
কায়া কাল্লাস বলেন, “আমার দায়িত্ব ছিল সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা। এখন সিদ্ধান্ত নেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো—তারা কোন পথে এগোবে।”
ইসরায়েল যদি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইইউ আলোচনায় নমনীয়তা দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার-এর সঙ্গে বৈঠকে কায়া কাল্লাস গাজায় আরও প্রবেশপথ খোলা ও খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছান।
সোমবার কাল্লাস বলেন, “আমরা কিছু ভালো লক্ষণ দেখছি—আরও ট্রাক প্রবেশ করছে। তবে আমরা জানি, এটা যথেষ্ট নয়। চুক্তির বাস্তবায়নে আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে।”
একইদিন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ও আশপাশের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, “গাজা এখনো মানবিকভাবে ভয়াবহ অবস্থায় আছে।”
এদিকে বৈঠকে অংশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার বলেন, “আমি নিশ্চিত, ইইউ রাষ্ট্রগুলো এসব পদক্ষেপের কোনোটিই নেবে না। এসবের কোনো ন্যায্যতা নেই।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ’র পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্তই একটি বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি। মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল নতুন করে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পরই ইইউ প্রথমবারের মতো বিষয়টি খোলাখুলি আলোচনা করছে।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১,২১৯ জনকে হত্যা করে—এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। সেদিন অপহৃত ২৫১ জনের মধ্যে এখনো ৪৯ জন বন্দি, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে মৃত বলে জানাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে, হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৮,৩৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ এই সংখ্যাগুলোকে ‘বিশ্বস্ত’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
-আলমগীর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক
আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি বিমানকে তুরস্কের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।
শুক্রবার গাজা ইস্যুতে তুরস্কের জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় ফিদান বলেন, “গত দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তারা পুরো বিশ্বের চোখের সামনে এই নৃশংসতা ঘটাচ্ছে।”
তুরস্ক গত বছরের মে মাসেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময় তারা গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানায়। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭ বিলিয়ন ডলার।
ফিদান বলেন, “আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছি। আমরা তুর্কি জাহাজগুলোকে ইসরায়েলি বন্দরে যেতে দিচ্ছি না। তাদের বিমানকেও আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি না।”
গাজা যুদ্ধ নিয়ে আঙ্কারা প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই যুদ্ধকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
/আশিক
ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ইসরায়েল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির ওপর চার দিন আগেও ইসরায়েল প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণ করেছিল। হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘রাজধানী সানায় ইসরায়েলি হামলা’ হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য তারা জানায়নি।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সানায় হুথিদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক সামরিক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানায়, তাদের বাহিনী হুথি ‘সন্ত্রাসী সরকারের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হুথিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে জাহাজগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব হামলা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে ও বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করছে’। ইসরায়েল বলছে, হুথিদের এসব হামলার জবাবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
অপরদিকে, হুথিরা দাবি করে, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের হামলায় গত সোমবার সানায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিল বলে হুথি নিয়ন্ত্রিত শহরটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই সময় হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা বলেছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও ছিল।
হুথিরা বুধবার ইসরায়েলে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সেটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা নিয়মিত ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুথিদের হাতে। তারা ইরানের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলবিরোধী জোটের একটি অংশ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
/আশিক
গাজার অবরোধের জবাবে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান: আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে হামলা
ইয়েমেনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে আঘাত
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ইয়াফা অঞ্চলের আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) এই উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় এবং ‘লাখ লাখ দখলদার ইহুদি’ আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
‘গাজার অবরোধের সরাসরি প্রতিক্রিয়া’জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই হামলাকে গাজায় চলমান অবরোধ, দুর্ভিক্ষ ও আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন জাতিসংঘ গাজার মানবিক সংকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এই হামলাকে ‘অত্যাচারিত ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন’ হিসেবে ঘোষণা করে। একইসঙ্গে তারা আরব ও ইসলামি বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানায়, গাজায় চলমান গণহত্যা ও অবরোধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।
বিবৃতিতে ইয়েমেনকে ‘ঈমান ও প্রতিরোধের দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়, “ইয়েমেন বিজয়ীদের ভূমি। যত বাধাই আসুক না কেন, ফিলিস্তিনের প্রতি দায়িত্ব পালনে ইয়েমেন কখনোই পিছু হটবে না।” ইয়াহিয়া সারির ভাষায়, “যতদিন না অবরোধ উঠে যায় এবং আগ্রাসন বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইয়েমেন গাজার পাশে থাকবে।”
/আশিক
গাজায় দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, ক্ষুধার বলি ৩১৩ জন
ইসরায়েলের অবরোধ ও হামলার কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন অনাহারে মারা গেছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ক্ষুধায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে, যাদের মধ্যে ১১৯ জন শিশু।
বুধবার (২৭ আগস্ট) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) কর্মকর্তারা জানান, গাজার খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষ ‘মানবসৃষ্ট’ এবং ‘পরিকল্পিত বিপর্যয়’।
জাতিসংঘের উপ-মানবিক প্রধান জয়েস মুসুয়া বলেন, গাজা সিটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই দুর্ভিক্ষ দক্ষিণের দেইর এল-বালাহ ও খান ইউনিস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি জানান, বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অনাহার ও মৃত্যুর মুখে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে এই সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মুসুয়া বলেন, “গাজায় কার্যত কেউ ক্ষুধার প্রভাবের বাইরে নেই।”
তিনি আরও জানান, পাঁচ বছরের নিচে অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজারেরও বেশি শিশু শিগগিরই প্রাণঘাতী অবস্থায় পড়তে পারে। তার মতে, “এটি কোনো খরা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়, এটি সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ—যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মৃত্যু, ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির পরিণতি।”
ইসরায়েল ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) নামের দুর্ভিক্ষ পর্যবেক্ষণ সংস্থার গাজা সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এডেন বার টাল প্রতিবেদনটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, অপেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ঘাটতি রয়েছে’ বলে দাবি করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউএনএসসি-র বাকি ১৪ সদস্য আইপিসি-র কাজকে সমর্থন জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে ‘তাৎক্ষণিক, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানায়।
মানবিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান ইঙ্গার আশিং নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, গাজায় দুর্ভিক্ষ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তার মতে, “এটি পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ, মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ। শিশুদের পদ্ধতিগতভাবে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” আশিং আরও জানান, গাজার ক্লিনিকগুলোতে এখন হাড়জিরজিরে শিশুদের নীরবতা বিরাজ করছে, কারণ তাদের কান্নার শক্তিও নেই।
তিনি বলেন, শিশুদের আঁকায় এখন আর শান্তি বা স্কুলে যাওয়ার আশা দেখা যায় না, দেখা যায় শুধু খাবারের আকুতি, এমনকি মৃত্যুর ইচ্ছাও। এক শিশুর আঁকায় লেখা ছিল: ‘আমি চাই জান্নাতে যেতে, যেখানে আমার মা আছেন। সেখানে ভালোবাসা আছে, খাবার আছে, পানি আছে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ওয়াশিংটনে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত জ্যারেড কুশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের ‘সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি’ আশা করছেন। বৈঠকের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্পষ্ট না হলে গাজায় পুনরুদ্ধার কার্যত অসম্ভব হবে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ মেয়াদে গাজায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা
গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ: ট্যাংক নিয়ে নতুন এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা
ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং শহরটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে উত্তর গাজার ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ট্যাংক নিয়ে ঢুকে তারা গোলাবর্ষণ শুরু করে। এতে অনেকে আহত হন এবং বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে গাজায় নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে শহরটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের দাবি, গাজা সিটি হলো হামাসের শেষ ঘাঁটি এবং এটি দখলের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে গাজার ২২ লাখ বাসিন্দার অর্ধেকই এই শহরে বাস করেন, এবং ইসরায়েল তাদের সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে।
৬০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, “হঠাৎ খবর এলো এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে থাকায় মানুষ পালিয়ে আমাদের এলাকায় চলে আসে। যুদ্ধবিরতি না হলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির সামনে চলে আসবে।”
তবে গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা এই নির্দেশ মানতে রাজি হননি। তাদের মতে, দক্ষিণে পালানো মানেই মৃত্যুদণ্ড।
বুধবার (২৮ আগস্ট) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি এক বিবৃতিতে বলেন, গাজা সিটি খালি করা অনিবার্য। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোতে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তুচ্যুতদের জন্য প্রায় ১৫ লাখ নতুন তাঁবু প্রয়োজন হবে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসে বুধবার গাজার পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, এ বছরের মধ্যেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি ট্যাংক জাবালিয়া থেকে সরে গেলেও পূর্ব গাজার শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করছে এবং হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল করছে।
ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। মঙ্গলবার দেশজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধ এবং হামাসের হাতে বন্দীদের মুক্তির দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনো সাড়া দেয়নি, যদিও হামাস গত সপ্তাহে এতে সম্মতি জানিয়েছিল।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা
যেকোনো সময় ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন সংঘাত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো সময় নতুন করে আরেকটি সংঘাত শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সেই যুদ্ধের জন্য তেহরান প্রস্তুত হচ্ছে এবং ‘সবকিছুই সম্ভব।’ মঙ্গলবার সৌদি সংবাদমাধ্যম আশারক আল-অওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আরাঘচি জেদ্দায় মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক চলাকালে এই সাক্ষাৎকার দেন।
তিনি দাবি করেন, গত জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানকে নিয়ে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। আরাঘচি বলেন, “আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছি। তারা ভাবছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের থামানো সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, ১২ দিন পর ইসরায়েলই শর্তহীনভাবে যুদ্ধ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিল, এবং যেহেতু তাদের প্রস্তাব শর্তহীন ছিল, তাই আমরা তা গ্রহণ করেছি।
আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই করে, তাদের শক্তিশালী হতে হবে এবং কোনো দেশ ইসরায়েলকে ছাড় দিতে পারবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর সময় আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে একটি তেলভিত্তিক যুদ্ধে টানতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি যেন যুদ্ধ গালফ অঞ্চলে না ছড়ায়। গালফের সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে ইসরায়েলের নীতির দিকে নজর দিতে হবে, ইরানের দিকে নয়।”
আরাঘচি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বাণিজ্য বন্ধ করে। তিনি এটিকে গাজার জন্য একটি ‘প্রায়োগিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গাজার বাসিন্দাদের কেবল বিবৃতির চেয়ে কার্যকর সহায়তা বেশি প্রয়োজন। তাদের প্রথমে খাদ্য, পানি ও ওষুধ দরকার, এরপর শান্তি, ন্যায় ও অবরোধের অবসান আসবে।
সূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট
ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা হুথিদের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনী। প্রথমবারের মতো তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার মিউনিশনযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। গত ২২ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানী তেল আবিবে চালানো এ হামলার প্রমাণ নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর থাড, আলোচিত আয়রন ডোম, অ্যারো ও ডেভিড’স স্লিংয়ের মতো চার ধরণের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেল আবিব, যা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ইসরাইলি বিমানবাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল অত্যাধুনিক ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এবারই প্রথম এমন ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করল ইয়েমেনি বাহিনী।
ক্লাস্টার বোমার বৈশিষ্ট্য হলো, ভূমির সাত থেকে আট হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এটি ছোট ছোট সাবমিউনিশনে বিভক্ত হয়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটায়। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি খণ্ডিত হওয়ার আগেই ধ্বংস করতে না পারায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়।
এই ধরনের ক্লাস্টার মিউনিশন মূলত বিশ্বের অল্প কয়েকটি পরাশক্তির হাতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই এ অস্ত্রের অধিকারী। সম্প্রতি প্রমাণ মিলেছে ইরানও ক্লাস্টার ওয়ারহেড প্রযুক্তির মালিক।
ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে তেহরান এ ধরনের মিসাইল ব্যবহার করেছিল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, হুথি বাহিনীর হাতে পৌঁছানো এই অস্ত্রের উৎসও ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের সামরিক সহায়তার মাধ্যমেই ইয়েমেনি হুথিরা এমন উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র অর্জন করেছে।
-রফিক
তালেবানের প্রতিশোধ এড়াতে যুক্তরাজ্যে গোপন আফগান পুনর্বাসন
২০২২ সালের এক ভয়াবহ ডেটা ফাঁসের ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়া হাজার হাজার আফগান নাগরিককে গোপনে যুক্তরাজ্যে সরিয়ে আনার তথ্য অবশেষে প্রকাশ করলো ব্রিটিশ সরকার। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি।
প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা ভুলবশত ১৯ হাজার আফগান নাগরিকের নামসহ সংবেদনশীল তথ্যসংবলিত একটি স্প্রেডশিট ফাঁস করে দেন। এরা সবাই ব্রিটেনে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে কাবুলে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মাত্র ছয় মাস পর। হিলি বলেন, “এটি ছিল একটি গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা, এবং এতে অনেকের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।”
এ প্রেক্ষিতে, পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকার ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে ‘আফগান রেসপন্স রুট’ নামে একটি গোপন পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল—তালেবানের প্রতিশোধের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করা।
এই গোপন মিশনের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,৫০০ আফগান নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছে বা আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড, এবং আরও ৬০০ জনের আবেদনে সম্মতি দেওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ড।
এই কর্মসূচি ছিল আদালতের দেওয়া এক ‘সুপার ইনজাংশনের’ আওতায়, যা কোনো গণমাধ্যম বা সংসদে এ নিয়ে কথা বলাও নিষিদ্ধ করেছিল। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রী হিলি জানান, এই বিষয় নিয়ে সংসদে কথা বলতে না পারায় তিনি "অত্যন্ত অস্বস্তিতে" ছিলেন।
তিনি বলেন, তখনকার সরকার বিষয়টি গোপন রাখে যাতে তালেবান ফাঁস হওয়া ডেটাবেজটি নিয়ে আরও কিছু জানতে না পারে এবং ক্ষতির মাত্রা না বাড়ে। তবে বর্তমানে তিনি নিশ্চিত করেন, তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিশোধ অভিযানের খুব কম প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও জানান, এই রেসপন্স রুট প্রোগ্রামটি এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পুরো আফগানিস্তান থেকে ব্রিটেনে লোক পুনর্বাসনের খরচ আনুমানিক ৫.৫ থেকে ৬ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জেমস কার্টলিজও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি সরকারের গোপনীয়তার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করেন, “কারণ একটি সামান্য ভুলও বিপজ্জনক তালেবান সরকারের হাতে মানুষকে নির্যাতন বা হত্যার মুখে ফেলতে পারতো।”
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক ডেটা ফাঁসের কারণে ৩৫০,০০০ পাউন্ড জরিমানা গুনতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় ২৬৫ জন আফগান নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, যারা তালেবান থেকে পালাতে ব্রিটিশ সহায়তা চেয়েছিলেন।
এই গোপন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সকল ব্যক্তিকে ব্রিটিশ অভিবাসন পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী হিলি।
-আলমগীর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, চার শিশুসহ নিহত ২৮ ফিলিস্তিনি
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৩ জন নিহত হন, বলে জানায় আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল। একই এলাকার একটি জ্বালানি স্টেশনের কাছে হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারান। এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা ১৫ জনের মরদেহ গ্রহণ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা গাজা জুড়ে প্রায় ২৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে হামাসের যোদ্ধা অবস্থান, অস্ত্রের গুদাম, সুড়ঙ্গপথ ও বিস্ফোরক বস্তু রাখা ভবন অন্তর্ভুক্ত। তবে নিহতদের বেসামরিক নাগরিক কিনা, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি, যদিও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) এ বিষয়ে তাদের কাছে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিল।
এই সংঘাতের সূচনা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাদের হাতে ৫০ জনের মতো জিম্মি রয়েছে, যাদের অর্ধেকেরও কম জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর জবাবে ইসরায়েল শুরু করে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যদিও এই পরিসংখ্যানে যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের আলাদা হিসাব নেই, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এই তথ্যকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করে।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি, অর্থাৎ তাৎপর্যপূর্ণ কোনো অগ্রগতি হয়নি।
-হাসানুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঠকের মতামত:
- ব্ল্যাকহেড্স দূর করার ঘরোয়া উপায়: মাত্র দুটি জিনিস লাগবে
- মা-মেয়েকে অজ্ঞান করতে গিয়ে ধরা, নিজ জুসেই বেহুঁশ অজ্ঞান পার্টির সদস্য
- শরিয়াহবিরোধী,আখ্যায় আফগানিস্তানে নারীদের বিউটি পার্লার বন্ধে কঠোর অবস্থান
- টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের রেকর্ড ছুঁলেন লিটন, বাংলাদেশের সহজ জয়
- রংপুরে চাপা উত্তেজনা: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ মুখোমুখি
- নুরের পাশে জামায়াত: ঢাকা মেডিকেলে তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল
- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অংশ নেবেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে
- শঙ্কামুক্ত নন: নুরকে আরও ৩৬ ঘণ্টা আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের
- ট্রাম্পের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে, কী বলছে হোয়াইট হাউস?
- নেদারল্যান্ডসকে ১৩৬ রানে আটকে দিল টাইগাররা
- সবার সক্রিয় সমর্থন চাই: ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কাছে তারেক রহমানের আহ্বান
- কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের
- সংসদ ভবনে আগুন দিল বিক্ষোভকারীরা
- এক মঞ্চে মামুনুল-চরমোনাই পীর: নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে কঠোর বার্তা
- অ্যাপলের নতুন চমক: আইফোন ১৭ সিরিজ আসছে, কী থাকছে নতুন ফোনে?
- পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলতেই ৩২ বস্তা টাকা, এবার রেকর্ড ভাঙার আশা
- ভারত আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে যায়—এরপর সমুদ্রে ফেলে দেয়
- শিবচরে ৪ বাসের ভয়ংকর সংঘর্ষ, অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে
- খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বৃদ্ধকে পেটালেন বিএনপি নেতা
- নাকের হাড় ভেঙেছে নুরের, অবস্থা স্থিতিশীল: ঢামেক পরিচালক
- স্বর্ণের দামে স্বস্তি নেই: ফের বাড়ল দাম, নতুন মূল্য কার্যকর আজ থেকে
- যানজট নিরসনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হচ্ছে আজ
- ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা
- নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে মানুষ: হাদিসে কুদসীর শিক্ষা
- গ্ল্যামারাস রূপে হানিয়া আমির, নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা
- এশিয়া কাপের প্রস্তুতি: আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
- কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে: নুরের ওপর হামলা নিয়ে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি
- নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর
- চিয়া বীজ কি সবার জন্য নিরাপদ? জেনে নিন কাদের জন্য এটি বিপজ্জনক
- জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
- নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
- বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
- নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের
- আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের
- আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক
- ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড
- কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
- দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
- কেন প্রতিদিন লেখার চর্চা আপনাকে করে তুলতে পারে আলাদা? জানুন কিভাবে
- কেন আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি- মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- সবজির পর এবার অন্য যেসব খাতে আগুন
- আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অভূতপূর্ব মন্তব্য
- নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
- নদী ভাঙন রোধে কী পরিকল্পনা জানালেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
- স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
- নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
- গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
- ডিএসই প্রকাশ করল নতুন মার্জিন ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজ তালিকা
- মাহাথির মোহাম্মদ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর: নীতি, সংস্কার ও উত্তরাধিকার
- "জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
- অমীমাংসিত ইস্যু সরকারের বিষয়, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করার আহ্বান জামায়াতের
- পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবতে চায় এনসিপি, ৭১-এর অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান
- ২৭ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
- ২৭ আগস্টের বন্ড মার্কেট আপডেট: কিছু বন্ডে দরপতন, বেশিরভাগই স্থবির
- মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’: মেহের আফরোজ শাওন
- ২৬ আগস্ট শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ: ডা. তাহের
- ২৫ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার
- নাইজেরিয়ার বাজারে ডেরিকা: টমেটো পেস্ট থেকে মাপের এককে রূপান্তরের গল্প
- ২৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ শেয়ার