আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দুয়ার!

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৫ ১৩:১৫:৫৪
আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দুয়ার!

সত্য নিউজ:দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আসন্ন চুক্তির মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার পুত্রজয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এতে অংশ নেবেন বাংলাদেশের আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেও। বৈঠকে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এ চুক্তির পটভূমি তৈরি হয়েছিল গত বছর ৪ অক্টোবর, যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম এক সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন। সফরকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তার সঙ্গে একটি বৈঠক করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ড. আনোয়ার ইব্রাহিম ড. ইউনূসকে “বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকরা আধুনিক দাস নয়। আমরা তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতি তার সরকারের সর্বাত্মক সমর্থন থাকবে এবং বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করে তিনি বন্ধুকে দেওয়া কথা রাখতে চলেছেন।

মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা পরবর্তী কয়েক বছরে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেবে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে বাংলাদেশ থেকে। দেশটির শ্রমবাজার বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ সেখানে সাধারণ শ্রমিকদের গড় মাসিক বেতন মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এটি বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার শ্রমিকদের স্বল্প ব্যয়ে এবং নিরাপদ উপায়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এজেন্সি কে পাঠালো তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—শ্রমিকরা যেন সঠিক শর্তে, স্বল্প খরচে এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত থেকে বিদেশে যেতে পারেন।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক পাঠানো গেলে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রেমিটেন্স অর্জন করতে পারে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য হবে এক বিশাল সংযোজন, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষাপটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগই নয়, বরং এটি দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ট্যাগ: মালয়েশিয়া

স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন বাজুসের সর্বশেষ দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১০:৩৪:১২
স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন বাজুসের সর্বশেষ দর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য মঙ্গলবারও অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নতুন কোনো মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না দেওয়ায় সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে।

বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

তবে বাজুসের ঘোষিত মূল্য মূল ধাতুর দাম নির্দেশ করে। কোনো অলঙ্কার কেনার সময় এর সঙ্গে নকশা, কারুকাজ, প্রস্তুতপ্রণালি ও মজুরি যুক্ত হতে পারে। ফলে গয়নার ধরন অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা বেশি হতে পারে। সংগঠনটির নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় একই বিক্রয়ের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে আবার ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মূল্য ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার কেনার সময় ক্যারেট, হলমার্ক, ওজন, মজুরি ও বিস্তারিত রসিদ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গয়নায় পাথর ব্যবহার করা হলে তার মূল্য স্বর্ণের ওজন থেকে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা উচিত। একইভাবে পুরোনো অলঙ্কার বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রেও বাজুসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করা হবে।

-রাফসান


স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১০:২১:১৮
স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারের তথ্যের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের মূল্য বড় ধরনের উত্থান বা পতনের পরিবর্তে একটি সীমিত পরিসরের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর মূল কারণ হলো, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও সম্ভাব্য সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা মূল্যবান ধাতুটির ঊর্ধ্বগতি সীমিত রাখছে।

বাজারের একটি বড় উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটি তেহরানের জন্য শেষ সুযোগ হতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে। বাজারে বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যদিও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য প্রকাশের পর এই প্রত্যাশা পরিবর্তিত হতে পারে।

স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে উচ্চ সুদের পরিবেশ স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। কারণ স্বর্ণ ধরে রাখলে বিনিয়োগকারী কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় পান না। বিপরীতে সরকারি বন্ড বা অন্যান্য সুদভিত্তিক সম্পদের রিটার্ন বেড়ে গেলে স্বর্ণের তুলনামূলক আকর্ষণ কমে যায়।

নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। বর্তমান সুদের হারকে তিনি যথাযথ অবস্থানে আছে বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রত্যাশামতো না কমলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ফেড প্রস্তুত থাকবে। গত সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তিনজন নীতিনির্ধারক শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের ওপর। চলতি সপ্তাহে চাকরির শূন্যপদ, এডিপি বেসরকারি কর্মসংস্থান, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন এবং শুক্রবার বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পে-রোলস প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। চাকরির বাজার প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে মার্কিন ডলার ও বন্ডের মুনাফা কমতে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়তা করবে। বিপরীতে কর্মসংস্থানের তথ্য শক্তিশালী হলে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে এবং স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।

বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম সীমিত পরিসরে স্থিতিশীল থাকা বা কিছুটা সংশোধনের মুখে পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মূল্যবান ধাতুটির দাম ৫ হাজার ডলার স্পর্শ করার সম্ভাবনাও দেখছে সিটি। তবে এই পূর্বাভাস নিশ্চিত মূল্য নয়; ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার, মূল্যস্ফীতি ও ফেডের নীতির পরিবর্তনের ওপর প্রকৃত বাজারদর নির্ভর করবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার মূল্য এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম এক দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের মূল্য একই হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে চারটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রকৃত অগ্রগতি, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের তথ্য এবং ফেডের সুদনীতি। আলোচনা ব্যর্থ হয়ে সংঘাত আবার তীব্র হলে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদায় স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে তেলের মূল্যবৃদ্ধি যদি মূল্যস্ফীতি ও সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ায়, তাহলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি সীমিতও থাকতে পারে।

-রাফসান


ফের বাড়ল তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ০৯:৫৮:০৬
ফের বাড়ল তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আগের দিনের বড় ধরনের পতনের পর মঙ্গলবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ৬১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

এর আগের কার্যদিবসে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মার্কিন হামলা স্থগিতের খবরে তেলের বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল। ব্রেন্টের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৭৭ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৮০ দশমিক ৩৪ ডলারে স্থির হয়।

তবে বাজারের সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা বললেও তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বা সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সম্ভাব্য সমঝোতা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের মূল্যপতন ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ছিল। কোনো লিখিত সমঝোতা, যুদ্ধবিরতি কিংবা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা এখনো সামনে আসেনি। ফলে সামরিক উত্তেজনা আবার বেড়ে গেলে তেলের মূল্য দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই বাজারের প্রধান উদ্বেগ আবর্তিত হচ্ছে। বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ জ্বালানি এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কা এবং কিছু ট্যাংকারের বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নেওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহঝুঁকি দুটিই বেড়েছে।

লোহিত সাগর, ওমান উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কারণে কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজ আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূল ঘুরে গন্তব্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করলে জ্বালানি সরবরাহে সময় ও ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক উৎপাদন এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহের এই ঘোষণা আগের দিনের মূল্যপতনে ভূমিকা রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তব সরবরাহঝুঁকি পুরোপুরি কাটাতে পারেনি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফিরতে বিলম্ব হলে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাবও সীমিত হতে পারে।

-রাফসান


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২০:১৭:৩৮
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় প্রস্তুত হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনার পরই এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য বেতন সারণি ও বাস্তবায়নের তারিখ ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সরকার এখনও নতুন পে-স্কেলের কোনো চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকার একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর দিকেও নজর রাখছে।

পে-স্কেল বিলম্বের পেছনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ প্রশাসনের মধ্যে বেতন ও মর্যাদাগত ভারসাম্য রক্ষা করার বিষয়টি নিয়ে। এছাড়া নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদে সেই ব্যয় বহনের সক্ষমতাও গভীর বিশ্লেষণের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ নিয়ে একাধিক পর্যালোচনা বৈঠক সম্পন্ন করেছে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসব সুপারিশ হুবহু রাখা হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অননুমোদিত তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়।

/আশিক


তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৯:৫৭:৪৮
তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস এবং মার্কিন ডলারের দরপতনের প্রভাবে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য চুক্তি ও কৌশলগত সমঝোতার খবর তেল বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ প্রশমিত হয়। তেলের দরপতনের ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে থাকার শঙ্কাও অনেকটাই কেটেছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়ায়। পাশাপাশি মার্কিন ফিউচারস মার্কেটেও স্বর্ণের বাজারদর ০.২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮০ ডলার স্পর্শ করে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দর কমলে স্বর্ণের বাজারে গতি আসার বিশ্বজুড়ে যে মনস্তাত্ত্বিক ধারা রয়েছে, বাজার এখন সেদিকেই গড়াচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও হ্রাস পেয়েছে, যা মূলধনী লাভহীন ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বিনিয়োগ সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যান্য বৈশ্বিক ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭.৯৩ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৩.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম স্থির রয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৭৩.১২ ডলারে।

বৈশ্বিক দামের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও ভ্যাট ও অন্যান্য আনুমানিক কর যুক্ত করে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৩:৩৮
ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
ছবি : সংগৃহীত

আমদানি দায় পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহক পর্যায় এবং খোলাবাজার—সবখানেই ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের দুর্বলতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসভিত্তিক ওঠানামা ডলারের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যকে আবারও নড়বড়ে করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ আগস্ট প্রকাশিত বিনিময় হার অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা এবং ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা ছিল। লেনদেনভিত্তিক ভারিত গড় হার দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮১ দশমিক ৯৭ পয়সায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই হার আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

এর আগে ৩০ জুলাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্পট রেফারেন্স রেট দিনের শুরুতে ১২৩ টাকা ৭৯ দশমিক ৪৬ পয়সা এবং দিনের শেষে ১২৩ টাকা ৮৮ দশমিক ১৮ পয়সা ছিল। ২ আগস্ট দিনের শুরুতে এই হার ১২৩ টাকা ৯১ দশমিক ৫০ পয়সায় উঠলেও শেষ পর্যন্ত ১২৩ টাকা ৭৪ দশমিক ৭৬ পয়সায় নেমে আসে। এতে বোঝা যায়, ব্যাংকভিত্তিক বড় অঙ্কের লেনদেনে ডলারের দর এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের প্রকৃত খরচ ব্যাংকভেদে আরও কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ ঘোষিত আন্তঃব্যাংক হারের সঙ্গে ব্যাংকের নিজস্ব মার্জিন, লেনদেন ব্যয় এবং গ্রাহকের আমদানির ধরন যুক্ত হয়। আমদানি দায় মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক বাজারে তুলনামূলক উচ্চ দর দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

ডলারের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হলো ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

পেট্রোলিয়াম আমদানি ওই সময়ে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আমদানিকারকদের ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধের জন্য আগাম ডলার সংগ্রহে উৎসাহিত করছে। এতে স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

রপ্তানি খাত থেকে ডলারের প্রবাহ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়াও বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে সীমিত ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, দুর্বল আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপকে এই দুর্বলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে বড় সহায়তা দিয়েছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা জুনের তুলনায় সামান্য বেশি এবং আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ একেবারে কমে গেছে বলা যাবে না, তবে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার তুলনায় জুন-জুলাইয়ের প্রবাহ কিছুটা নিচে রয়েছে।

ব্যাংকিং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খোলাবাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে নগদ ডলার ব্যাংকদরের চেয়ে কয়েক টাকা বেশি মূল্যে কেনাবেচা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে খোলাবাজারে প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী দর ভিন্ন হতে পারে। তাই ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ডলার কেনার আগে অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে মূল্য যাচাই এবং রসিদ সংগ্রহ করা জরুরি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হার থেকে অস্বাভাবিক বিচ্যুতি রোধ, রেমিট্যান্স সংগ্রহে অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকানোই এই নজরদারির উদ্দেশ্য। তবে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থায় ডলারের মূল্য শেষ পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহের ওপরই নির্ভর করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি বিল, রপ্তানি আয়ের গতি, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় ডলারের বাজারের দিক নির্ধারণ করবে। আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকলে এবং রপ্তানি আয় দুর্বল থাকলে টাকার ওপর চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিপরীতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য কমে এলে বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ থাকবে।

-রাফসান


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৪৮:০২
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত এবং নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা সাময়িকভাবে কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগকে সুযোগ দিতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয় এবং মূল্য দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে যে অতিরিক্ত ঝুঁকিমূল্য তেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তার একটি বড় অংশ বাজার থেকে সরে যেতে শুরু করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সংঘাত বা নৌ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলেই আন্তর্জাতিক তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এখন আলোচনার উদ্যোগ সামনে আসায় সেই ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথ খোঁজা। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবুও আলোচনার ইঙ্গিতই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।

জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স প্রায় ০.৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে এশিয়ার বাজারে একই ধরনের চিত্র দেখা যায়নি। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৩.৬ শতাংশ কমেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৩৮:৩১
তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের শুরুতেই স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও শক্তিশালী অবস্থান নেয়। ফিউচার বাজারে এর দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে উন্নীত হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান স্বর্ণের চাহিদাকে শক্তিশালী করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তি সম্পন্নের জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি, তবুও আলোচনার সম্ভাবনাই বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কমলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় যে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হয়েছিল, তা দ্রুত সমন্বয় হতে শুরু করেছে। এ কারণেই তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেলেও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অটুট রয়েছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। জাপানি ইয়েনকে শক্তিশালী করতে দেশটির কর্তৃপক্ষের বাজারে হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের সূচক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বর্ণের চাহিদা ও দামে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণ ইতিবাচক প্রবণতায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এখনো সীমিত রয়েছে। তার মতে, বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, একই সঙ্গে যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটে, তাহলে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। কারণ স্বর্ণ ধারণ করে সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায় না।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে। এই অবস্থানও আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে শ্রমবাজারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্যপদের তথ্য, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন এবং বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পে-রোলস প্রতিবেদন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়বে এবং স্বর্ণের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। বিপরীতে কর্মসংস্থানের তথ্য শক্তিশালী এলে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার ইঙ্গিত মিললে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।

টিম ওয়াটারার আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে গেলে, মার্কিন ডলার দুর্বল থাকলে কিংবা ফেড ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিলে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবার সংঘাত তীব্র হলে তেলের দাম বাড়বে এবং বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।

-রফিক


ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:০৪:৫৮
ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
ছবি : সংগৃহীত

চলতি আগস্ট মাসের জন্য বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগস্ট ২০২৬ মেয়াদের জন্য এই মূল্য সমন্বয়ের তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মূসকসহ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সমন্বিত খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, ঘোষিত নতুন এই বাজারদর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ বা নতুন সমন্বয় না আসা পর্যন্ত এই দর বলবৎ থাকবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: