নভোএয়ার ফিরছে নতুন অফার নিয়ে!

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে জনপ্রিয় নভোএয়ার আগামী বুধবার (২১ মে) থেকে পুনরায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। পাশাপাশি, যাত্রীদের উৎসাহিত করতে টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২ মে থেকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সেবা বন্ধ রাখে নভোএয়ার। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে বিক্রির সম্ভাবনার প্রসঙ্গে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নভোএয়ার তাদের বিমানের সম্পদ বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য বিদেশি ক্রেতারা উড়োজাহাজ নিরীক্ষার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান জানান, ফ্লাইট বন্ধ রাখা ছিল ব্যবসায়িক রণনীতির একটি অংশ এবং এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা আবার অভ্যন্তরীণ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। টিকিট কিনতে যাত্রীরা নভোএয়ারের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সেলস অফিস কিংবা স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে সুবিধা নিতে পারবেন।
২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করা নভোএয়ার বর্তমানে ঢাকা থেকে ছয়টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। এসব গন্তব্য হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সিলেট, রাজশাহী ও সৈয়দপুর। প্রতিদিন এই রুটগুলোতে একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা-কলকাতা ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বর্তমানে এটি স্থগিত রয়েছে।
নভোএয়ারের মালিকানা নিয়ে রয়েছে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান তুসুকা গ্রুপের কর্ণধারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অংশীদারিত্ব। এক যুগের বেশি সময়ের মধ্যে নানা ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে সংস্থাটি এখন পুনরুজ্জীবিত হওয়ার লক্ষ্যে যাচ্ছে।
নতুন ছাড়ের ঘোষণা ও পুনরায় সেবা চালু করার মাধ্যমে নভোএয়ার তার যাত্রীদের কাছে ফিরতে প্রস্তুত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতের জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান
দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনকে অন্যতম সফল ও সুশৃঙ্খল হিসেবে অভিহিত করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব, যার বাস্তব উদাহরণ এই নির্বাচন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন আয়োজনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ায় পুরো দেশ আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সেনাবাহিনী এই প্রক্রিয়ায় কেবল সহযোগীর ভূমিকায় থাকলেও মূল দায়িত্ব পালনে ডিসিরা যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা অনন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক সময় দেশে নির্বাচন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনা ও বাধা কাটিয়ে জাতিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সেনাপ্রধান বেসামরিক প্রশাসনের সাথে সেনাবাহিনীর সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জেলা প্রশাসকদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাইলে তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট সেনা ফরমেশনগুলো বেসামরিক প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই বাহিনীর এই সমন্বয় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, একই অধিবেশনে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাও বক্তব্য প্রদান করেন। তারা সবাই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কাজে প্রশাসনের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সামরিক ও অসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী
আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত আরামদায়ক ও যানজটমুক্ত করতে ১০ জোড়া বিশেষ বা ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল রেলওয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মূলত ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের সূচী অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য 'চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১' ট্রেনটি বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। একইভাবে 'চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২' বিকেল ৪টায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ রুটের যাত্রীদের জন্য 'তিস্তা স্পেশাল-৩' সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়বে এবং 'তিস্তা স্পেশাল-৪' বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ পড়তে ইচ্ছুক মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ রুটে 'শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬' এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে 'শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৮' শুধুমাত্র ঈদের দিন চলাচল করবে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর রুটে 'পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০' ট্রেনটি বিশেষ সূচীতে পরিচালনা করা হবে। এই ট্রেনটি জয়দেবপুর থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে দিবাগত রাত ২টায় গন্তব্যে পৌঁছাবে।
ট্রেন চলাচলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রীদের আসা ও যাওয়ার সুবিধার্থে। চাঁদপুর ও তিস্তা ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের পর ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত নিয়মিত চলবে। পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেনটি ঈদের আগে ২৪ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পরের দিন থেকে টানা তিন দিন যাতায়াত করবে। যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
/আশিক
পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম
পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনে দেশের ১২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। এই রদবদলের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ডিএমপির রমনা বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম, যাকে চট্টগ্রামের নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমের বাড়ি বগুড়া জেলায়। ডিএমপির রমনা বিভাগে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিভিন্ন সাহসী ও পেশাদার পদক্ষেপ পুলিশ বাহিনীতে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিল সরকার। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বর্তমান এসপি মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএন-এ বদলি করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইল জেলার এসপি করা হয়েছে। সাতক্ষীরার বর্তমান এসপি আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএন-এ সরিয়ে সেই স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে। চাঁদপুরের এসপি রবিউল হাসানকে ডিএমপিতে বদলি করে তাঁর জায়গায় ঝালকাঠির এসপি মিজানুর রহমানকে পদায়ন করা হয়েছে। ঝালকাঠির নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।
মৌলভীবাজার জেলাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে; সেখানকার এসপি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশে বদলি করে আরএমপির রিয়াজুল ইসলামকে নতুন এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফেনীর বর্তমান এসপি শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি করা হয়েছে এবং তাঁর স্থলে সিএমপির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং পুলিশ প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা ফেরাতে এই রদবদল করা হয়েছে। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো যথাযথ বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া অলাভজনক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করতে বর্তমান সরকার আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আগের আমলের মতো কেবল প্রকল্প দেখানোর উদ্দেশ্যে জনগণের করের টাকা নষ্ট করার দিন শেষ। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগে তার বাস্তব উপযোগিতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্পের সুফল কেবল কাগজে-কলমে বা তাত্ত্বিক পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি সেই সুবিধা ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বড় প্রকল্প নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গভীর বিশ্বাস জন্মেছে যে বড় প্রকল্প মানেই বড় অংকের দুর্নীতি। বর্তমান সরকারকে কাজের স্বচ্ছতা ও সততার মাধ্যমে জনগণের এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন প্রতিটি প্রকল্পে ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দুর্নীতির যে দুর্নাম মেগা প্রকল্পগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে, তা দূর করতে কঠোর মনিটরিং ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। কাজের গুণমান নিশ্চিত করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পটি সাভার, কেরানীগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকার মধ্যে একটি সরাসরি ও শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বাজেটের এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর চিরচেনা যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে 'পুশ-ইন' বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে বর্তমান সরকার কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সীমান্তে যদি পুশ-ইনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ঢাকা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে শুধু ভারতের আশ্বাসে বসে না থেকে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে ঢাকা তাদের আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এই ব্রিফিংয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফররত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা সমালোচনার জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অন্যান্য দেশের সাথে সম্পাদিত চুক্তির তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এই চুক্তির সুফল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সাথে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, তার আসন্ন চীন সফরে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পাবে। চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে মঙ্গলবারই বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। সফরসূচী অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কেবল সচল রাখাই নয়, বরং একে পুরোপুরি কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে যদি শক্তিশালী ও মজবুত করা যায়, তবে দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে।
অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, ডিসিরা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদ জানতে চেয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার এসব ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ এ দেশের প্রকৃত মালিকই হচ্ছে সাধারণ জনগণ।
বিগত দেড় দশকের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসেছিল। এসব দুর্নীতি ও লুটপাট চিরতরে বন্ধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম ঠেকাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
/আশিক
লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে গ্রাহকদের কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হয়নি। মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সেচ কাজের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাপ না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বজায় রাখতে কয়লার নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও দ্রুত যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে লোডশেডিং শূন্যে রাখা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও চাহিদার ওঠানামা থাকলেও (১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে) সরবরাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। মে মাসের প্রথম তিনদিনেও এই ধারা বজায় ছিল, যা বিদ্যুৎ খাতে এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারি কিছু কৌশলী পদক্ষেপও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ এবং এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চালানোর নির্দেশনা। এছাড়া এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং দেশের বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত উৎপাদন জাতীয় গ্রিডকে সমৃদ্ধ করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দিনে বা রাতে কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষ্য করা যায়নি। তবে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে গাছ কাটা বা লাইন রক্ষণাবেক্ষণের মতো কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রামাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক লোডশেডিং হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।
/আশিক
অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জ—সবকিছুতেই অনলাইন লেনদেন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই সুবিধার সমান্তরালে বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে আপনিও হতে পারেন বড় কোনো প্রতারণার শিকার। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইনে অর্থ লেনদেন, মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেশ কিছু গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে এবং গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন (PIN), পাসওয়ার্ড কিংবা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এমনকি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও এই গোপনীয় তথ্যগুলো প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা, অজানা উৎস থেকে থার্ড পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করা এবং অনলাইন জুয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে অনেক সময় ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিশেষ করে জামানতবিহীন ঋণ বা অতি মুনাফার অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো লাইসেন্সবিহীন অ্যাপগুলো থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। কোনো প্রলোভনমূলক অফার, লটারি জয় বা পুরস্কারের খবর পেলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে আর্থিক লেনদেন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনলাইন লেনদেনে কোনো প্রকার সন্দেহ বা প্রতারণার আভাস পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে এবং অন্যদের সচেতন করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৩৬-এ কল করে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
/আশিক
হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও টিকাদান কর্মসূচির সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় দেশে পোলিও ও টিটেনাস নির্মূলসহ টিকাদানের হার ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়। বিশেষ করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের সাথে টিকাদানকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত সফল মডেল তৈরি করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডার মেথড অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিলে এই সফল ধারায় স্থবিরতা নেমে আসে।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার মতে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনতে গেলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে বলে ইউনিসেফ আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই নতুন পদ্ধতিতে এগোয় তৎকালীন সরকার। ফলস্বরূপ টিকা সংগ্রহে ব্যাপক বিলম্ব ঘটে এবং দেশের অনেক স্থানে টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৫ সালে ইউনিসেফ নিজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করে কিছু টিকার মজুত নিশ্চিত করলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। মূলত অর্থছাড় না করা এবং ক্রয় নীতিমালার পরিবর্তনের কারণেই এই সংকট ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ণ করা হয়। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্চ মাসে বিতর্কিত সেই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমেই টিকা সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে আসে বাংলাদেশ। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ইউনিসেফ কেবল ২০২৫ সালেই নয়, বরং ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও প্রায় ২ কোটি ডলার আগাম ব্যয় করেছিল। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে উন্নতমানের টিকা সংগ্রহ ও জরুরি তহবিল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সাথে কাজ করছে।
সংকটের গভীরতা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, দেশে রোগ নজরদারি ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল। ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই তারা সম্ভাব্য ক্যাম্পেইনের জন্য হামের টিকা সংগ্রহ করে রেখেছিল, অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির তথ্য পায় ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে। ক্রয় জটিলতার কারণে টিকার অভাব, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারা এবং নজরদারি ব্যবস্থার ধীরগতির সম্মিলিত প্রভাবে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে।
ইউনূস সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে একাধিক বৈঠকে ইউনিসেফ টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুহার বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমেও এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাম্পেইন শুরু হলেও বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে টিকাদান কাভারেজে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা এখন স্পষ্ট।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!
- কেমন পশু কিনলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না? শরিয়তের কড়া নির্দেশনা দেখে নিন
- রাতেই ধেয়ে আসছে ৬০ কিমি বেগে ঝড়: ১১ অঞ্চলে আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা
- ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান
- বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী
- পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম
- টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী
- অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মুরাদনগরে পুলিশের অ্যাকশন: ২ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা দুই ভাই!
- কেরালার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন ৩৪ বছরের মুসলিম তরুণী ফাতিমা তাহিলিয়া
- সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
- লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
- হারিনি, ভোট লুট হয়েছে: পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানালেন মমতা
- যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
- ৫ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৫ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
- অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
- নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস
- কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না
- সতীর্থকে চড় মারার অভিযোগ: নতুন বিতর্কে নেইমার জুনিয়র
- ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
- মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
- আজ দিনভর যেসব কর্মসূচিতে মুখর থাকবে রাজধানী
- শাপলা চত্বর অভিযান ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায: জামায়াত আমির
- হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
- মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- আমিরাতের তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত
- স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন
- মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ৪ ঘণ্টায় ১ শতাংশের বেশি দরপতন
- আজ রাত ১২টার মধ্যে দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা
- গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
- কুমিল্লা চান্দিনায় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ: আটক ৪
- মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
- বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
- হরমুজে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম: মানবিক উদ্ধার না কি যুদ্ধের উসকানি?
- পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
- পুরো হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কবজায়! নতুন মানচিত্র প্রকাশ ইরানের
- তেহরানের হাতে বিশ্ব অর্থনীতির চাবি: ৬৭ দিনে বদলে গেল ভূ-রাজনীতির মানচিত্র
- হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
- হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!
- দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা
- তামিল রাজনীতিতে বিজয় বিপ্লব: ডিএমকে-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে টিভিকে
- মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দর
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল পতন! বাজুসের নতুন ঘোষণায় সস্তা হলো সব মানের সোনা
- ২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?








