আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, জাগুক করুণা

আজ রোববার, পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা—বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের নানা প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দিনটি উদ্যাপন করছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। এই দিনটি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ লাভের পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত, যা বৈশাখী পূর্ণিমায় সংঘটিত হয়েছিল বলে এই দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।
বুদ্ধের দর্শন ও মানবিকতা
গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শন ও বাণী আজও মানবসমাজের জন্য গভীর প্রাসঙ্গিক। তাঁর মূল বাণী ছিল অহিংসা, মৈত্রী, করুণা ও সাম্যের মাধ্যমে সহাবস্থানের আহ্বান। তিনি বলেছিলেন, “বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা প্রশমিত হয় না, অহিংসা দিয়েই হিংসা দূর করতে হয়।” এই দর্শন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং এক বিশ্বজনীন নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—যা আজকের হানাহানি ও বিদ্বেষপূর্ণ বিশ্বে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে আরও বেশি।
উদ্যাপনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সারাদেশের বৌদ্ধবিহার, মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানমালা। রয়েছে বুদ্ধপূজা, পিণ্ডদান, শীল গ্রহণ, প্রদীপ প্রজ্বালন, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, ধর্মীয় আলোচনা, সমবেত প্রার্থনা এবং শান্তি শোভাযাত্রা। দিনটি উপলক্ষে সরকারিভাবেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্র ও সমাজের শুভেচ্ছা বার্তা
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান উপদেষ্টার বাণী: বুদ্ধের আদর্শে হোক শান্তির বাংলাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বাণীতে তিনি বলেন, “গৌতম বুদ্ধ মানুষকে হিংসা, বিদ্বেষ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে জীবন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অহিংসার বাণী আজও মানবজাতির শান্তি ও কল্যাণের পথ দেখায়।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে একটি সহনশীল, মানবিক ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
বুদ্ধপূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শান্তির দর্শনের প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতি জ্ঞাপনের দিন। গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী আজও আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক—বিশেষত এমন এক সময়, যখন মানবসমাজ বিভক্ত নানা হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায়। বুদ্ধপূর্ণিমা আমাদের মনে করিয়ে দেয়: অন্তরে যদি থাকে করুণা, আর সমাজে থাকে সাম্য, তাহলেই সম্ভব একটি শান্তিময় ভবিষ্যৎ।
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মাহফুজ আলমের ফেইসবুক পোস্ট: কি বার্তা দিলেন?
- “ইশরাককে দায়িত্ব দাও, শহর বাঁচাও!”- কেন এই স্লোগান!
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ: জনগণের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই থাকবে বিএনপি
- ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত: কারও প্রকৃত বিজয় নেই, শুধু দাবির প্রতিযোগিতা
- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি: কাগজে শান্তি, মাটিতে অনিশ্চয়তা
- চীনের কৌশলগত সহায়তায় পাকিস্তানের সামরিক শক্তির উত্থান: আঞ্চলিকশক্তির নতুন বিন্যাস
- ১০৩ বছরের নীরবতা ভাঙল এল ক্লাসিকো, দেখল অভাবনীয় গোলবন্যা!
- তারেক রহমানের প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকার কি স্বৈরাচারের পুনর্বাসন করছে?
- হবিগঞ্জে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০, কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর
- নেইমার কিনলেন ১৫ কোটি টাকার ফেরারি: কারন শুনলে অবাক হবে
- আ.লীগ নিষিদ্ধে বিএনপি কি দ্বিধায়?
- কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ: সহজ এবং সাশ্রয়ী ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেখানে পড়াশোনা করা সম্ভব
- যুদ্ধবিরতিতে কাশ্মীরের কী বার্তা?
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন সংশোধন: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত
- শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়েআনা সম্ভব: দুদক চেয়ারম্যান