উপহারে পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি করা কি জায়েয?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২০ ০৮:১৪:৪২
উপহারে পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি করা কি জায়েয?

সত্য নিউজ: কোরবানি ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহায় পালন করা ফরজ নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সুন্নত। অনেকেই প্রশ্ন করেন, উপহারে পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় কি না। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো পশুর বৈধ মালিকানা অর্জিত হলেই তা দিয়ে কোরবানি করা যায়। সে পশুটি কিনে নেওয়া হোক কিংবা উপহার বা দান হিসেবে পাওয়া—যদি তা গ্রহণ করে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে ওই পশু দ্বারা কোরবানি বৈধ হবে। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ বাদায়িউস সানায়ে-এ বলা হয়েছে, যদি কেউ কাউকে ছাগল উপহার দেয় এবং সেই ছাগল দিয়ে সে কোরবানি করে, তবে তা বৈধ হবে; কারণ, উপহার পাওয়ার মাধ্যমে সে মালিক হয়েছে, যেমন কেউ কোনো কিছু ক্রয় করে মালিক হয়।

কোরআনে আল্লাহতায়ালা কোরবানির জন্য নির্দিষ্টভাবে ‘বাহিমাতুল আনআম’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয় হিংস্র নয় এমন গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী। সুরা হজের ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আমি প্রত্যেক জাতির জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁরই দানকৃত ‘বাহিমাতুল আনআম’-এর ওপর।” এই আয়াতের ভিত্তিতে ইসলামী ফিকহবিদরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কেবল হালাল গৃহপালিত পশু দিয়েই কোরবানি বৈধ, যেমন—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। যদিও হরিণ বা বন্য ছাগল খাওয়া হালাল, তথাপি এগুলো দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।

শরিয়ত নির্ধারিত বয়সসীমা অনুসারে, উট কোরবানির জন্য কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে, গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে—যদি কোনো ভেড়া বা দুম্বা ৬ মাস বয়সের হলেও এতটাই হৃষ্টপুষ্ট হয় যে তা দেখে ১ বছরের মনে হয়, তাহলেও তা দ্বারা কোরবানি করা বৈধ হবে। এসব নিয়মের পেছনে রয়েছে পশুর পরিপূর্ণতা ও উপকারভোগীর হক আদায়ের বিষয়টি।

এভাবে ইসলামি শরিয়ত কোরবানির পশু নির্বাচন, মালিকানা এবং বয়সসীমা বিষয়ে সুস্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা মুসলিম সমাজকে যথার্থভাবে কোরবানির আদর্শ বাস্তবায়নে সহায়তা করে।


নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে মানুষ: হাদিসে কুদসীর শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:৫৮:৪৬
নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে মানুষ: হাদিসে কুদসীর শিক্ষা
প্রতীকী ছবি

নিচের হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের উদ্দেশে সরাসরি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। এই হাদিসে বান্দার প্রতি আল্লাহর অপরিসীম দয়া, ক্ষমাশীলতা, এবং তার কাছে সব কিছু চাওয়ার শিক্ষা রয়েছে। একইসঙ্গে এতে ন্যায়বিচার, আমলের দায়িত্ব এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَى عَنِ اللَّهِ، تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلاَ تَظَالَمُوا يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلاَّ مَنْ هَدَيْتُهُ فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلاَّ مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أُطْعِمْكُمْ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ عَارٍ إِلاَّ مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُونِي أَكْسُكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّي فَتَضُرُّونِي وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي فَتَنْفَعُونِي يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أَتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذَلِكَ فِي مُلْكِي شَيْئًا يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أَفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي شَيْئًا يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ قَامُوا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلُونِي فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ مَسْأَلَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِمَّا عِنْدِي إِلاَّ كَمَا يَنْقُصُ الْمِخْيَطُ إِذَا أُدْخِلَ الْبَحْرَ يَا عِبَادِي إِنَّمَا هِيَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِيهَا لَكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلاَ يَلُومَنَّ إِلاَّ نَفْسَهُ ‏"‏ ‏.

আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের উপর অত্যাচার করো না।

হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ছিলে দিশাহারা, তবে আমি যাকে সুপথ দেখিয়েছি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব।

হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে খাদ্য দান করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে আহার্য চাও, আমি তোমাদের আহার করাব।

হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, কিন্তু আমি যাকে পরিধান করাই সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে পরিধেয় চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাব।

হে আমার বান্দারা! তোমরা রাতদিন অপরাধ করে থাকো। আর আমিই সব অপরাধ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব।

হে আমার বান্দারা! তোমরা কখনো আমার অনিষ্ট করতে পারবে না, যাতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হই এবং তোমরা কখনো আমার উপকার করতে পারবে না, যাতে আমি উপকৃত হই।

হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর আমাকে সবচাইতে বেশী ভয় পায়, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব একটুও বৃদ্ধি পাবে না।

হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের সকল মানুষ ও সকল জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর সবচাইতে পাপিষ্ঠ, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাহলে আমার রাজত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পাবে না।

হে আমার বান্দা! তোমাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি কোনো বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে সবাই আমার কাছে আবদার করে আর আমি প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদা পূরণ করি তাহলে আমার কাছে যা আছে তাতে এর চাইতে বেশী হ্রাস পাবে না, যেমন কেউ সমুদ্রে একটি সূচ ডুবিয়ে দিলে যতটুকু তাথেকে হ্রাস পায়।

হে আমার বান্দারা! আমি তোমাদের ’আমলই তোমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখি। এরপর পুরোপুরিভাবে তার বিনিময় প্রদান করে থাকি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণ অর্জন করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে তা ব্যতীত অন্য কিছু পায়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে।

হাদিসের মূল শিক্ষা

১. জুলুম (অত্যাচার) হারাম: এই হাদিসের প্রথম এবং প্রধান বার্তা হলো, আল্লাহ নিজে তার সত্তার ওপর অন্যায়কে হারাম করে নিয়েছেন এবং বান্দাদের জন্যও তা নিষিদ্ধ করেছেন। এর মাধ্যমে ইসলামে ন্যায়বিচার ও অন্যের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

২. আল্লাহর কাছে ভরসা: মানুষ জন্মগতভাবে দিশাহারা, ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন। আল্লাহই একমাত্র সত্তা, যিনি এসব প্রয়োজন পূরণ করেন। তাই আমাদের সবকিছু, যেমন—হিদায়াত, রিজিক ও আশ্রয়—শুধুমাত্র তার কাছেই চাইতে হবে।

৩. আল্লাহর ক্ষমা: মানুষ হিসেবে আমরা দিনরাত ভুল করি এবং পাপের মধ্যে ডুবে থাকি। কিন্তু আল্লাহ ক্ষমাশীল। বান্দা যদি আন্তরিকভাবে তার কাছে ক্ষমা চায়, তিনি সব গুনাহ মাফ করে দেন।

৪. আল্লাহর অসীম ক্ষমতা: মানুষের ভালো-মন্দ কাজ আল্লাহর রাজত্বে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। সবাই যদি পরহেজগার হয়ে যায়, তাতে তার রাজত্ব এক বিন্দুও বাড়বে না। আবার সবাই যদি পাপিষ্ঠ হয়ে যায়, তাতেও তার রাজত্বের কিছু কমবে না।

৫. অসীম ভান্ডার: যদি পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব মানুষ ও জিন একত্রিত হয়ে এক সাথে আল্লাহ্‌র কাছে কিছু চায়, এবং তিনি যদি সবার চাহিদা পূরণ করে দেন, তবুও তার ভান্ডার থেকে কিছুই কমবে না। এর মাধ্যমে আল্লাহর দান ও দয়ার অসীমতা বোঝানো হয়েছে।

৬. নিজের কাজের ফল: মানুষ তার নিজের আমলের ফল নিজেই ভোগ করবে। যদি সে ভালো কাজ করে, তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। আর যদি খারাপ ফল পায়, তবে নিজেকেই দোষারোপ করা উচিত, অন্য কাউকে নয়।

এই হাদিসটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক, তার দয়া, ক্ষমতা এবং মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গভীর বার্তা দেয়।


মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১২:৪৩:১৬
মসজিদে প্রবেশের আগে যে ছোট কাজটি আনতে পারে রহমত
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে প্রবেশের সুন্নত

ইসলামে মসজিদ এমন একটি স্থান, যা শুধু ইবাদতের জন্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও তাকওয়া অর্জনের কেন্দ্র। মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু সুন্নত ও আদব, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়।

প্রথমত, মসজিদে প্রবেশের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করতে হবে। এরপর দরুদ শরিফ পড়া এবং বিশেষ দোয়া পাঠ করা মুস্তাহাব। মহানবী (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন এ দোয়া পড়তে:

اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَউচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক।অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।

অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন, বিসমিল্লাহ, দরুদ ও এই দোয়াটি একত্রে পড়া উত্তম:

بِسْمِ اللهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَউচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রাহমাতিক।

এছাড়া মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা আগে রাখা এবং সঙ্গে সঙ্গে নফল ইতিকাফের নিয়ত করা সুন্নত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নত

যেভাবে প্রবেশের জন্য দোয়া আছে, ঠিক তেমনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও কিছু দোয়া ও আদব অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও ‘বিসমিল্লাহ’ এবং দরুদ শরিফ পড়তে হবে। এরপর দোয়া পড়তে হবে:

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাযলিকা।অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

এটি একত্রে পড়া যেতে পারে এভাবে:

بِسْمِ اللهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَউচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাযলিকা।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে রাখা এবং বাইরে এসে জুতা পরিধানে ডান পা আগে, পরে বাম পা পরা সুন্নত।

মসজিদের মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব

মসজিদ ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান। কোরআনে আল্লাহ তাআলা মসজিদকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং মসজিদ আবাদকারীদের প্রশংসা করেছেন। সুরা বাকারা (১৮) তে বলা হয়েছে “একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না।”

অন্য আয়াতে (সুরা হজ্জ: ৩২) আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করে, সেটিই তার অন্তরের তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ।”

এছাড়া সুরা নূর (৩৬-৩৭) তে মসজিদের মর্যাদা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, মসজিদে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও যাকাত প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ বিপর্যস্ত হবে।

ইসলামে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি তাকওয়া, ঐক্য এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। তাই মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নত অনুসরণ করা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মসজিদের আদব রক্ষা করা, সেখানে দুনিয়াবি কথাবার্তা এড়িয়ে চলা এবং একে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে মর্যাদা দেওয়া প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।


শহীদ হানজালা (রাঃ)-এর কাহিনী ইসলামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৫ ০৯:২৩:৪৭
শহীদ হানজালা (রাঃ)-এর কাহিনী ইসলামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবিঃ সংগৃহীত

উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। সে যুদ্ধে ৭০ জন সাহাবি শহীদ হন। নবী করীম (সা.) শহীদদের লাশ একত্র করে গুনলেন মোট পাওয়া গেল ৬৮ জন। অবশিষ্ট দুইজনের দেহ অনুপস্থিত। তাদের একজন ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)–এর প্রিয় চাচা শহীদদের সর্দার হযরত হামজা (রাঃ) এবং অপরজন নতুন বরের সাজে সদ্য বিবাহিত সাহাবি হযরত হানজালা (রাঃ)।

এই খবর শুনে প্রিয়নবী (সা.) গভীর বেদনায় ব্যথিত হয়ে সাহাবাদের নির্দেশ দিলেন নিখোঁজ দুই শহীদের সন্ধান করতে। এ সময় হঠাৎ এক পর্দানশীন মহিলা নবীজির সামনে এসে দাঁড়ালেন। নবীজি তাকে চিনতে পারলেন না। তিনি বিনীত কণ্ঠে বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! গতকাল আপনি একটি বিবাহ পড়িয়েছিলেন, মনে আছে?” নবীজি জবাব দিলেন, “হ্যাঁ, আমি তো হানজালার বিবাহ পড়িয়েছি। আমি নিজ হাতে সেই আনন্দ উপলক্ষে খেজুর ছড়িয়েছিলাম।”

মহিলা তার হাত উঁচু করে দেখালেন। বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, দেখুন আমার হাতে মেহেদির রং এখনও শুকায়নি। কাল বিকেলেই আমার বিয়ে হয়েছিল, আর সেদিন রাত দুইটার দিকে উহুদের যুদ্ধে যোগ দিতে স্বামী বেরিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম রাতেই আমরা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিতও হতে পারিনি।”

তার কণ্ঠে কান্না মিশে গেল। তিনি বললেন, “যাওয়ার আগে হানজালা আমাকে শুধু একটি কথাই বলে গিয়েছিলেন—‘যদি জীবিত ফিরে আসি তবে দুনিয়ায় আবার দেখা হবে, আর যদি শহীদ হয়ে যাই তবে সাক্ষাৎ হবে জান্নাতে।’ যাওয়ার আগে তিনি লজ্জার সাথে কপালে একটি চুম্বন দিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমি কিছু বলিনি, কিন্তু জানতাম যে আপনার জন্য আমার স্বামীর গোসল ফরজ হয়েছে। ইয়া রাসূলুল্লাহ, শহীদদের তো গোসল দেওয়া হয় না, কিন্তু আপনি কি আমার স্বামীকে গোসল করাবেন?”

প্রিয়নবী (সা.) বেদনাভরা চোখে সম্মতি দিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই একজন সাহাবি দৌড়ে এসে সংবাদ দিলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! হানজালার দেহ পাওয়া গেছে।” সবাই সেখানে ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখা গেল, তার মাথা ভিজে আছে পানিতে, অথচ আশেপাশে কোনো পানির উৎস নেই।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বিস্ময়ে হানজালার মাথা স্পর্শ করলেন। এ সময় হযরত জিবরাঈল (আঃ) অবতীর্ণ হয়ে রহস্য উন্মোচন করলেন। তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! হানজালার ত্যাগ ও কোরবানিতে আল্লাহ এতটাই সন্তুষ্ট হয়েছেন যে, তিনি আমাদের ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাকে স্বয়ং আকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা ফেরেশতারা তাকে তৃতীয় আসমানে নিয়ে গিয়েছিলাম এবং পবিত্র জমজমের পানি দিয়ে তাকে গোসল করিয়েছি। তার শরীর থেকে যে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে তা আল্লাহর বিশেষ দান মিশক, আম্বার ও আতরের সুবাস। আমরাই তাকে কাফনের কাপড়ে আচ্ছাদিত করেছি।”

এই ঘটনার পর সাহাবারা তাঁকে ডাকতে শুরু করলেন “গাসিলুল মালায়েকাহ” অর্থাৎ যাকে ফেরেশতারা নিজ হাতে গোসল করিয়েছে।

সুবহানআল্লাহ! এ ঘটনা প্রমাণ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের কতটা ভালোবাসেন, কত উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করেন তা আমাদের কল্পনারও অতীত। হযরত হানজালা (রাঃ)-এর এই অনন্য কোরবানি ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।


আজ দেখা যায়নি চাঁদ, ঈদে মিলাদুন্নবী ৬ সেপ্টেম্বর

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৪ ২১:১০:২১
আজ দেখা যায়নি চাঁদ, ঈদে মিলাদুন্নবী ৬ সেপ্টেম্বর
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে ৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার)। রোববার (২৪ আগস্ট) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ কথা জানানো হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।

প্রতি বছর হিজরি বর্ষ অনুযায়ী আরবি ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হয়। রোববার (২৪ আগস্ট) চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সফর মাস ৩০ দিনে শেষ হচ্ছে। তাই ১২ রবিউল আউয়াল ৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) পালিত হবে। ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি থাকে।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র অর্থ- মহানবী (সা.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ এ দিনেই তিনি ইন্তেকালও করেন।

উল্লেখ্য, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের হিজরি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মক্কার কুরাইশ বংশে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে ১২ রবিউল আউয়ালই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পৃথিবীর মুসলমানরা পালন করে। বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) দিন সাধারণ ছুটি পালিত হয়।

/আশিক


পরিবারে নামাজ প্রতিষ্ঠায় যে দোয়াটি পাঠ করবেন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১১:৩০:৪৭
পরিবারে নামাজ প্রতিষ্ঠায় যে দোয়াটি পাঠ করবেন
ছবিঃ সংগৃহীত

নামাজি সন্তান লাভের দোয়া

নিজের সন্তানাদি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামাজি বানানোর জন্য কোরআনে উল্লেখিত একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করা যেতে পারে। এই দোয়াটি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি উপায়। এটি নিয়মিত পাঠ করলে ভালো ফলাফল আশা করা যায়।

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

উচ্চারণ: ‘রাব্বিজ আলনী মুক্বীমাস স্বালা-তি ওয়ামিন যুররিয়্যাতি, রাব্বানা ওয়াতাক্বাব্বাল দুআ।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানাও এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করো।’

এই দোয়াটি কোরআনের সুরা ইবরাহিমের ৪০ নম্বর আয়াতের অংশ। এর মাধ্যমে একজন মুসলিম তার নিজের এবং তার সন্তানদের জন্য আল্লাহর কাছে নামাজি হওয়ার প্রার্থনা করেন।


কোরআনের আলোকে অবিশ্বাসীদের অবাধ্যতা ও হঠকারিতা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১০:৩৩:৪৭
কোরআনের আলোকে অবিশ্বাসীদের অবাধ্যতা ও হঠকারিতা
ছবিঃ সংগৃহীত

অবিশ্বাসীদের হঠকারিতা

সুরা আনআম, আয়াত : ৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَ لَوۡ نَزَّلۡنَا عَلَیۡكَ كِتٰبًا فِیۡ قِرۡطَاسٍ فَلَمَسُوۡهُ بِاَیۡدِیۡهِمۡ لَقَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ

সরল অনুবাদ: আর যদি আমি কাগজে লিখিত কিতাব তোমার উপর নাযিল করতাম অতঃপর তারা তা হাত দিয়ে স্পর্শ করত তবুও যারা কুফরী করেছে তারা বলত, ‘এ তো প্রকাশ্য যাদু ছাড়া কিছু না।’

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: এ আয়াতে অবিশ্বাসীদের চরম অবাধ্যতা, অস্বীকার ও হঠকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর পক্ষ হতে সুস্পষ্ট লিখিত বিষয় এসে যাওয়া সত্ত্বেও তারা তা মানতে প্রস্তুত হবে না এবং সেটাকে একটি যাদুর কিতাব গণ্য করবে। যেমন, কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে:

وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ، لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ

‘যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোনো দরজাও খুলে দিই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণও করতে থাকে, তবুও ওরা এ কথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে, না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

(সুরা আল হিজর, আয়াত : ১৪-১৫)

আরেক আয়াতে বলা হয়েছে:

وَإِنْ يَرَوْا كِسْفًا مِنَ السَّمَاءِ سَاقِطًا يَقُولُوا سَحَابٌ مَرْكُومٌ

‘তারা যদি আকাশের কোনো খণ্ডকে পতিত হতে দেখে, তবে বলে, এটা তো পুঞ্জীভূত মেঘ।’

(সুরা ত্বূর, আয়াত ৪৪)

অর্থাৎ, তারা আল্লাহর আজাবের এমন কোনো একটা অপব্যাখ্যা করে নেবে, যাতে আল্লাহর ইচ্ছার কথা তাদেরকে স্বীকার করতে না হয়। অথচ সারা বিশ্বজাহানে যা কিছু হয়, সবই তাঁর ইচ্ছাতেই হয়।

এই আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা:

অবিশ্বাসীদের স্বভাব হলো অবাধ্যতা ও অস্বীকার করা: তারা যত বড় নিদর্শনই পাক না কেন, সেটাকে তারা অপব্যাখ্যা করে ‘যাদু’, ‘ভ্রম’ বা ‘প্রাকৃতিক ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যায়।

হৃদয়ের অন্ধত্ব যুক্তির অন্ধত্বের চেয়েও ভয়াবহ: যাদের অন্তরে অহংকার ও ঈমানের আলো নেই, তারা প্রমাণ পেলেও মানতে চায় না।

আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পণই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা: আসমান-জমিনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহরই নির্দেশে ঘটে; তা অস্বীকার করলে মানুষ নিজেকেই বিভ্রান্ত করে।

ঈমান শুধু প্রমাণের ওপর দাঁড়ায় না, বরং অন্তরের সততার ওপর দাঁড়ায়: আল্লাহর কিতাব হাতে পাওয়ার পরও যারা অবিশ্বাস করে, তারা প্রকৃতপক্ষে হঠকারী ও বিদ্বেষী।


আখেরি চাহার শোম্বা: সফর মাসের শেষ বুধবারের ইতিহাস ও তাৎপর্য

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২০ ১১:৫০:০৭
আখেরি চাহার শোম্বা: সফর মাসের শেষ বুধবারের ইতিহাস ও তাৎপর্য
ছবিঃ সংগৃহীত

আখেরি চাহার শোম্বা’ মূলত আরবি ও ফারসি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি নাম। আরবি ও ফারসিতে ‘আখেরি’ শব্দের অর্থ হলো শেষ। ফারসি ‘চাহর’ অর্থাৎ সফর মাসকে নির্দেশ করে এবং ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো বুধবার। ফলে ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ বলতে বোঝানো হয় সফর মাসের শেষ বুধবার। মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি খুশি ও আনন্দের দিন হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম সমাজে এটি উৎসবমুখরভাবে পালিত হয়ে আসছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনের প্রেক্ষাপট

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। মক্কায় নবুওয়াতের ১৩ বছর তিনি কোরাইশ কাফেরদের কঠিন নির্যাতন নীরবে সহ্য করেছিলেন। হিজরতের পর মদিনায় এসেও ইহুদি ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাননি। নানা রণাঙ্গনে শত্রুদের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে এবং প্রতিবারই ইসলাম বিজয় অর্জন করেছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীরা এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণনাশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছে। তবুও আল্লাহর সাহায্যে তিনি সবসময় ইসলামকে বিজয়ের পথে অগ্রসর করেছেন।

অসুস্থতা ও আশার আলো

ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাক তার গ্রন্থ সীরাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এ উল্লেখ করেন, এক সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচণ্ড শিরপীড়ায় আক্রান্ত হন। একই তথ্য ইবনে হিশামের সীরাতুন্নবী (সা.)-এও পাওয়া যায়। এ অসহ্য মাথাব্যথা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, তিনি অধিকাংশ সময় অচেতন হয়ে থাকতেন। চিকিৎসার জন্য আবিসিনিয়া থেকে আনা ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও স্থায়ী উপশম মিলেনি। কখনো সুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও মুহূর্তের মধ্যে আবার জ্ঞান হারাতেন। এতে সাহাবায়ে কেরাম ও পরিবারের সদস্যরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়ে যান এবং প্রিয় নবীর জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

কিন্তু একদিন আশার আলো দেখা দেয়। সফর মাসের শেষ বুধবারের সকালে রাসূলুল্লাহ (সা.) হঠাৎ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি সাত কূপের পানি দিয়ে গোসল করেন এবং স্বাভাবিকভাবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটান। কন্যা ফাতিমা (রা.), নাতি হাসান (রা.) ও হোসেনের (রা.) সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় সাহাবারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন, নফল নামাজ পড়েন এবং দান-খয়রাত করেন। ঐ দিন হজরত আবু বকর (রা.) পাঁচ হাজার, হজরত উমর (রা.) সাত হাজার, হজরত আলী (রা.) তিন হাজার দিরহাম দান করেন। আর হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) শত উট আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করেন।

দিনটির স্মরণে উৎসব

হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজী (সা.) দুপুর পর্যন্ত সুস্থ ছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যা নামার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবুও সাহাবাদের কাছে এ দিনের আনন্দ অমূল্য হয়ে থাকে। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে মুসলিম সমাজে দিনটি আজও ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ নামে পালিত হয়।

পালনের ধরন

আখেরি চাহার শোম্বা মূলত শুকরিয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়। মুসলিমরা এ দিনে সাধারণত গোসল করে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন, রোগ থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করেন এবং দান-খয়রাত করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মাদরাসা, দরবার ও খানকায় ওয়াজ-নসিহত, মিলাদ, জিকির-আজকার, দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

সফর মাসের শেষ বুধবারের এই বিশেষ ঘটনার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে যে দিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটিই আখেরি চাহার শোম্বা। নবীজী (সা.)-এর হঠাৎ সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে আনন্দের সঞ্চার করেছিল, আজও সেই আবেগ ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে এ দিনকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।


জানা গেল আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২০ ০৯:৩৩:১২
জানা গেল আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য তারিখ
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সারা বিশ্বের অন্যতম প্রত্যাশিত সময়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, পরিবারে বন্ধন দৃঢ় করা এবং সমাজে ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছড়িয়ে দেওয়ার অনন্য সুযোগ তৈরি করে এই মাস। প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালও এর ব্যতিক্রম হবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে রমজান শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। এর আগের সন্ধ্যায় আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সবসময়ই নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপর, যারা শাবান মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের শুরু ও শেষ ঘোষণা করে থাকেন।

ইসলামী ক্যালেন্ডার যেহেতু সম্পূর্ণভাবে চন্দ্রচক্রের ওপর নির্ভরশীল, তাই প্রতিটি মাস নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমেই শুরু ও শেষ হয়। চন্দ্রমাস সাধারণত সৌরমাসের তুলনায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতিবছর রমজান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে কিছুটা এগিয়ে আসে। এর ফলে কখনো শীতকালে, কখনো গ্রীষ্মে, আবার কখনো বর্ষা কিংবা বসন্তকালে মুসলমানরা রোজা রাখার ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন।


২০২৬ সালের রমজান: তারিখ জানাল জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১৯ ২২:৪১:৩৫
২০২৬ সালের রমজান: তারিখ জানাল জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
ফাইল ছবি : এএফপি

জ্যোতির্বিজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পবিত্র মাসটি ইবাদত, পারিবারিক বন্ধন ও সংহতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে বিশেষভাবে চিহ্নিত।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে রমজানের শুরু নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর, যা শাবান মাসের ২৯ তারিখে পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও চাঁদ দেখা কমিটি নিজেদের প্রক্রিয়া অনুযায়ী রমজান শুরুর ঘোষণা দেবে।

ইসলামিক ক্যালেন্ডার চন্দ্রচক্র অনুসরণ করে, যেখানে প্রতিটি মাস নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে শুরু হয়। চন্দ্রমাস সৌর মাসের তুলনায় ছোট হওয়ায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। ৩৩ বছরের এক পূর্ণচক্রে মুসলমানরা এই পবিত্র মাসটি বছরের সব ঋতুতেই পালন করে।

সূত্র : গালফ নিউজ

পাঠকের মতামত: