আল্লাহর ৯৯ নাম: জানুন সেই অসীম গুণাবলীর মহিমা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৯ ১৫:১৭:১৬
আল্লাহর ৯৯ নাম: জানুন সেই অসীম গুণাবলীর মহিমা

আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম, যেগুলোকে ‘আসমা উল হুসনা’ বলা হয়, কেবল ধর্মীয় শিক্ষার অংশ নয়, বরং আত্মিক উপলব্ধি ও আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের সেতুবন্ধ। এই নামগুলো জানার মাধ্যমে মানুষ তার প্রভুকে ভালোভাবে জানতে পারে, বুঝতে পারে, এবং আল্লাহর গুণাবলির আলোকে নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে পারে।

কোরআনের নির্দেশ ও নবিজির উৎসাহ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাক। আর যারা এই নাম বিকৃত করে, তাদের বর্জন কর।” (সুরা আ’রাফ: ১৮০)। এই আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আল্লাহকে তাঁর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা ডাকতে, যা দোয়া কবুলের জন্য এক বিশেষ মাধ্যমও।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদিসে আল্লাহর নাম মুখস্ত করা, বোঝা এবং তার দ্বারা দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, “আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, যে এগুলো মুখস্ত করবে, সে জান্নাতে যাবে।” কিন্তু হাদিস বিশারদ ইমাম নববির ব্যাখ্যায় জানা যায়, এই সংখ্যা সীমাবদ্ধ নয়; আল্লাহর আরও বহু নাম রয়েছে, যা গোপনে রয়েছে তাঁর অদৃশ্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে।

আল্লাহর নাম জানার তাৎপর্য

প্রখ্যাত তাফসিরকারক আল্লামা শাওকানি (রহ.) তার ফতহুল কাদির গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর নাম জানলে কেবল দোয়া কবুলের সুযোগ বাড়ে না, বরং মানুষ তার প্রভুর প্রতি এমন এক ভক্তি ও ভয়বোধে উদ্বুদ্ধ হয়, যা অন্তর থেকে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের প্রবণতা সৃষ্টি করে।

নবিজি (সা.) একটি দোয়ায় বলেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার সেই সব নামে, যেগুলো তুমি নিজেকে দিয়েছো, অথবা তোমার কোনো বান্দাকে শিখিয়েছো, কিংবা অদৃশ্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে গোপন রেখেছো।” (শরহু মুসলিম লিননববি)

হাদিসে আস্মাউল হুসনার গুরুত্ব

সহিহ বুখারির একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে এগুলো মুখস্থ রাখবে (বা হিফজ করে আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

ইমাম নববি (রহ.) এবং অন্যান্য বিদ্বানরা ব্যাখ্যা করেছেন, এই হাদিসে ‘নিরানব্বইটি নাম’ বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহর নাম কেবল এতগুলোই। বরং এগুলো তাঁর অনেক নামের মধ্য থেকে বিশিষ্ট কয়েকটি নাম মাত্র। অন্য হাদিসে নবিজি (সা.) দোয়ায় বলেছেন:

“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার সেইসব নামে, যেগুলো তুমি নিজেকে দিয়েছ, অথবা তোমার কিতাবে নাজিল করেছ, অথবা তোমার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছ, কিংবা গোপন রেখেছ তোমার গায়েবী জ্ঞানের ভাণ্ডারে।” (মুসনাদে আহমদ)

আল্লাহর ৯৯ নাম (আস্মাউল হুসনা) বাংলা অর্থসহ

১. আল্লাহ – একমাত্র উপাস্য, সর্বশক্তিমান

২. আর-রহমান – পরম দয়ালু

৩. আর-রহিম – পরম করুণাময়

৪. আল-মালিক – রাজাধিরাজ

৫. আল-কুদ্দুস – পবিত্রতম

৬. আস-সালাম – শান্তির উৎস

৭. আল-মুমিন – নিরাপত্তাদানকারী

৮. আল-মুহাইমিন – তত্ত্বাবধায়ক

৯. আল-আযীয – পরাক্রমশালী

১০. আল-জাব্বার – জবরদস্তি প্রয়োগকারী

১১. আল-মুতাকাব্বির – গৌরবান্বিত

১২. আল-খালিক – সৃষ্টিকর্তা

১৩. আল-বারি – গঠনতত্ত্বের স্রষ্টা

১৪. আল-মুসাওয়ির – আকৃতিদানকারী

১৫. আল-গাফফার – বারবার ক্ষমাকারী

১৬. আল-কাহ্হার – পরাক্রমশালী বিজয়ী

১৭. আল-ওয়াহাব – দানশীল

১৮. আর-রায্জাক – রিজিকদাতা

১৯. আল-ফাত্তাহ – উন্মোচনকারী

২০. আল-আলীম – সর্বজ্ঞ

২১. আল-কাবিদ – সংকোচকারী

২২. আল-বাসিত – সম্প্রসারণকারী

২৩. আল-খাফিদ – অবনমনকারী

২৪. আর-রাফি – উন্নতকারী

২৫. আল-মু’ইয – সম্মানদানকারী

২৬. আল-মুযিল – অপমানদানকারী

২৭. আস-সামি’ – সর্বশ্রোতা

২৮. আল-বাসির – সর্বদ্রষ্টা

২৯. আল-হাকাম – বিচারক

৩০. আল-আদল – ন্যায়পরায়ণ

৩১. আল-লতীফ – সূক্ষ্মদর্শী

৩২. আল-খাবীর – সর্বজ্ঞ

৩৩. আল-হালিম – সহিষ্ণু

৩৪. আল-আযীম – মহান

৩৫. আল-গফুর – অতিশয় ক্ষমাশীল

৩৬. আশ-শাকুর – কৃতজ্ঞতাপ্রিয়

৩৭. আল-আলি – সর্বোচ্চ

৩৮. আল-কাবীর – অতীব মহান

৩৯. আল-হাফিজ – সংরক্ষণকারী

৪০. আল-মুকিত – রক্ষণাবেক্ষণকারী

৪১. আল-হাসিব – হিসাব গ্রহণকারী

৪২. আল-জালিল – গৌরবান্বিত

৪৩. আল-কারিম – মহাদানশীল

৪৪. আর-রাকিব – তত্ত্বাবধায়ক

৪৫. আল-মুজিব – দোয়া কবুলকারী

৪৬. আল-ওয়াসি’ – সর্বব্যাপী

৪৭. আল-হাকীম – প্রজ্ঞাবান

৪৮. আল-ওয়াদুদ – পরম স্নেহশীল

৪৯. আল-মাজীদ – মহিমান্বিত

৫০. আল-বা’ইস – পুনরুত্থানকারী

৫১. আশ-শাহীদ – সর্বদ্রষ্টা

৫২. আল-হক্ক – প্রকৃত সত্য

৫৩. আল-ওয়াকীল – সহায়তা প্রদানকারী

৫৪. আল-কাওয়ী – ক্ষমতাশালী

৫৫. আল-মাতীন – দৃঢ় শক্তির অধিকারী

৫৬. আল-ওয়ালী – অভিভাবক

৫৭. আল-হামিদ – প্রশংসিত

৫৮. আল-মুহসী – গণনাকারী

৫৯. আল-মুব্দি – সৃষ্টির সূচনাকারী

৬০. আল-মু’ইদ – পুনরায় সৃষ্টিকর্তা

৬১. আল-মুহী – জীবনদাতা

৬২. আল-মুমীত – মৃত্যু দানকারী

৬৩. আল-হাইই – চিরঞ্জীব

৬৪. আল-কাইয়ুম – চিরস্থায়ী

৬৫. আল-ওয়াজিদ – সর্বদা বিদ্যমান

৬৬. আল-মাজিদ – মহিমান্বিত

৬৭. আল-ওয়াহিদ – একক

৬৮. আস-সমাদ – সবার নির্ভরশীল

৬৯. আল-কাদির – সর্বশক্তিমান

৭০. আল-মুকতাদির – সর্বক্ষমতাধর

৭১. আল-মুকাদ্দিম – অগ্রসরকারী

৭২. আল-মু’আখির – বিলম্বকারী

৭৩. আল-আউয়াল – প্রথম

৭৪. আল-আখির – সর্বশেষ

৭৫. আজ-জাহির – প্রকাশ্য

৭৬. আল-বাতিন – গোপন

৭৭. আল-ওয়ালী – সুরক্ষাকারী

৭৮. আল-মুতাআলী – চির উন্নত

৭৯. আল-বারর – কল্যাণকারী

৮০. আত-তাওয়াব – তাওবা কবুলকারী

৮১. আল-মুন্তাকিম – প্রতিশোধ গ্রহণকারী

৮২. আল-আফু – ক্ষমাশীল

৮৩. আর-রউফ – পরম করুণাময়

৮৪. মালিকুল মুলক – সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী

৮৫. জুল-জালালি ওয়াল ইকরাম – গৌরব ও সম্মানের অধিকারী

৮৬. আল-মুকসিত – ন্যায়পরায়ণ

৮৭. আল-জামি’ – একত্রিতকারী

৮৮. আল-গানী – সম্পদশালী

৮৯. আল-মুগনী – ধনপ্রদানকারী

৯০. আল-মানি’ – বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখেন

৯১. আদ-দার – ক্ষতিদাতা

৯২. আন-নাফি’ – উপকারকারী

৯৩. আন-নূর – আলোক

৯৪. আল-হাদি – পথপ্রদর্শক

৯৫. আল-বাদী – অপরূপ সৃষ্টিকর্তা

৯৬. আল-বাকি – চিরন্তন

৯৭. আল-ওয়ারিস – উত্তরাধিকারী

৯৮. আর-রশীদ – সঠিক পথ নির্দেশক

৯৯. আস-সাবুর – ধৈর্যশীল

ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর নামের প্রভাব

এই নামগুলো শুধু মুখস্ত করার জন্য নয় এগুলো জীবনে ধারণ করার জন্য। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে আল্লাহ আল-রাকীব (সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন), সে গোপনে কোনো অন্যায় করতে ভয় পায়। যে জানে আল্লাহ আল-মুজীব (প্রার্থনার উত্তরদাতা), সে দুঃসময়ে কেবল আল্লাহর দিকেই মুখ ফেরায়।

বিশেষত যেসব নাম আল্লাহর দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা ও রিজিক দেওয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত, সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেকে আর্থিক ও আত্মিক সংকটে সাহায্যের জন্য সঁপে দেওয়া যায়।

আল্লাহর ৯৯টি নাম কেবল তথ্য নয়, আত্মিক পথচলার এক অনন্য রসদ। এগুলো আত্মিক শুদ্ধির মাধ্যম, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভয় জাগানোর উপায় এবং দোয়া কবুলের মাধ্যমও বটে। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত এগুলো জেনে অন্তরে ধারণ করা এবং প্রতিদিনের জীবনে এর প্রতিফলন ঘটানো।

“আল্লাহর নাম জানো, উপলব্ধি করো, আর আল্লাহর সান্নিধ্যে জীবন সাজাও।”


ফজর থেকে এশা, আজকের পূর্ণ নামাজ সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ০৮:৩২:৪৪
ফজর থেকে এশা, আজকের পূর্ণ নামাজ সূচি
ছবি: সংগৃহীত

আজ সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। নতুন দিনের শুরুতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ০২ মিনিটে। এরপর সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২২ মিনিটে। দিনের মধ্যভাগে জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে।

বিকেলে আসরের নামাজ আদায় করা যাবে ৪টা ৩২ মিনিট থেকে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ৫০ মিনিটে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সময়মতো নামাজ আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে আরও সুদৃঢ় করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেন। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি জেনে রাখা ধর্মীয় অনুশীলনকে সহজ ও নিয়মিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এদিকে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমানে চলছে পবিত্র জিলকদ মাস, যা ইসলামে সম্মানিত চারটি হারাম মাসের একটি। এই মাসে ইবাদত-বন্দেগি ও নফল আমলের প্রতি মুসলমানদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যায়।


জান্নাতে পৌঁছেও মানুষের মনে আক্ষেপ থাকবে? কেন এই গভীর আফসোস?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৯:৩৪:২০
জান্নাতে পৌঁছেও মানুষের মনে আক্ষেপ থাকবে? কেন এই গভীর আফসোস?
ছবি : সংগৃহীত

জান্নাত এমন এক স্থান যেখানে কোনো দুঃখ বা কষ্ট থাকার কথা নয়। কিন্তু হাদিস ও আলেমদের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাতিরা একটি বিষয়ে আফসোস করবেন—তা হলো দুনিয়ার সেই সময়গুলো যা আল্লাহর জিকির ছাড়া অতিবাহিত হয়েছে। যখন কিয়ামতের ময়দানে নেক আমলের প্রকৃত মূল্য উন্মোচিত হবে, তখন মানুষ বুঝতে পারবে যে সবচাইতে সহজ অথচ সবচাইতে বেশি সওয়াবের আমল ছিল আল্লাহর জিকির। সামান্য কিছু শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমেই হাসিল করা যেত অসীম নেকি ও জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা।

জিকির: স্বল্প পরিশ্রমে অশেষ প্রতিদান

জিকির এমন এক ইবাদত যার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান, সময় বা শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। মানুষ চাইলে হাঁটতে-চলতে, বসে বা শুয়ে—যেকোনো অবস্থায় নিজের জবানকে আল্লাহর স্মরণে সিক্ত রাখতে পারে। অথচ এই সহজ কাজটিই আমরা দৈনন্দিন ব্যস্ততা বা মোবাইল স্ক্রলিংয়ের মোহে সবচাইতে বেশি অবহেলা করি। অথচ সামান্য সময়ের জিকিরই হতে পারে পরকালীন মুক্তির বড় উসিলা।

সহজ কিছু জিকির ও তার অর্থ

আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে নিচের জিকিরগুলো যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি

سُبْحَانَ اللّٰهِ (সুবহানাল্লাহ): আল্লাহ অতি পবিত্র, তিনি সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।

الْحَمْدُ لِلّٰهِ (আলহামদুলিল্লাহ): সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য।

اللّٰهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার): আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তাঁর মহিমা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ): আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ বা উপাস্য নেই।

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ (আস্তাগফিরুল্লাহ): আমি আমার সকল গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আজই কেন শুরু করবেন?

জীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সুযোগগুলো সীমিত। আমরা দিনের অনেকটা সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বা চিন্তায় ব্যয় করি। অথচ সেই সময়ের সামান্য অংশও যদি জিকিরে ব্যয় হতো, তবে আমাদের আমলনামা নূরে ভরে যেত। জিকির কেবল পরকালেই কাজে লাগে না, এটি দুনিয়াতেও মানুষের হৃদয়কে জীবিত করে এবং মানসিক প্রশান্তি দান করে।

জান্নাতে গিয়ে আফসোস করার আগেই আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কাজের ফাঁকে বা চলার পথে এই ছোট ছোট জিকিরই হতে পারে জান্নাতের উচ্চ মাকাম অর্জনের সহজ উপায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর জিকিরে জবান সিক্ত রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক ওয়াক্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১০:২০:৪৯
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক ওয়াক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম মানুষের জন্য কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রতিটি বিধানই মানুষের আত্মিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি মুসলিমের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরকালীন সাফল্যের জন্য ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের বিকল্প নেই।

আজকের দিনটি ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা এবং ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য রোববার, ৩ মে ২০২৬ তারিখের নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

আজকের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৩ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ৫টা ২২ মিনিটে।

জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে।

আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং সবশেষে এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৫২ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় হিসেব করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে হবে। নিয়মিত ও সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১০:১৬:৪৯
আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
ছবি : সংগৃহীত

আজ শনিবার (০২ মে ২০২৬), ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে।

বিকেলের আসর নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৩১ মিনিটে এবং মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে।

রাতের এশা নামাজের সময় শুরু হবে ৭টা ৫১ মিনিটে।

এছাড়া আগামীকাল রোববার (০৩ মে ২০২৬) ভোরে ফজর নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ০৫ মিনিটে।

আজকের দিনের আবহাওয়া ও সময়ের হিসেবে ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল ভোরে সূর্যোদয় হবে ৫টা ২৫ মিনিটে।

উল্লেখ্য যে, দূরত্ব ও অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই সময়ের সাথে কয়েক মিনিট কম-বেশি হতে পারে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত এই সময়সূচি মেনে দৈনন্দিন ইবাদত পালনের জন্য পাঠকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

/আশিক


শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১০:০৩:৩৯
শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ১ মে ২০২৬। বাংলা তারিখ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং হিজরি ১২ জিলকদ ১৪৪৭। পবিত্র জুমার দিনে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে। দুপুরের জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ১১টা ৫৯ মিনিটে।

বিকেলের আসরের নামাজ আদায় করা যাবে ৪টা ৩১ মিনিট থেকে। এরপর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ৫০ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আগামীকাল শনিবার, ২ মে ফজরের নামাজের সময় অপরিবর্তিত থাকলেও সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে।

এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য নামাজের সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে খুলনায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নামাজের নির্ধারিত ওয়াক্ত মেনে ইবাদত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। বিশেষ করে জুমার দিনে সময়মতো নামাজ আদায় ও বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

(সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১০:২৯:৫৫
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬), বৈশাখের তপ্ত রোদের মাঝে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুর সময় ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিস্তারিত সময় হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত

আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং আরবি ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকায় আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে।

সূর্যাস্তের ঠিক পরেই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মাগরিবের আজান দেওয়া হবে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৯ মিনিটে।

আগামীকাল শুক্রবার (১ মে ২০২৬) ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৮ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে। স্থানভেদে ঢাকার সময়ের সাথে এক বা দুই মিনিট কম-বেশি হতে পারে।

/আশিক


দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১২:১৫:৪৫
দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু একটি জিকির নয়; বরং নবীপ্রেম, ঈমান, শ্রদ্ধা ও আল্লাহর আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দরুদ শরিফ এমন একটি আমল, যা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজেই নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।”(সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬)

ইসলামি গবেষকদের মতে, এই আয়াতের বিশেষত্ব হলো, এখানে আল্লাহ নিজে ও ফেরেশতাদের দরুদ পাঠের কথা উল্লেখ করার পর মুমিনদের একই আমলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি দরুদ শরিফের মর্যাদা ও গুরুত্বকে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।

দরুদ পাঠে রহমত, গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন, ১০টি গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তার মর্যাদা ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন।(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১২৯৭)

আলেমরা বলেন, মানুষের জীবনে অনেক আমল রয়েছে, কিন্তু এমন কম আমলই আছে যেখানে অল্প সময়ে এত ব্যাপক প্রতিদানের ঘোষণা এসেছে। তাই দরুদ শরিফকে “বরকতের জিকির” বলেও উল্লেখ করেন অনেক ইসলামি স্কলার।

দুশ্চিন্তা দূর ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তাহলে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গুনাহ ক্ষমা করা হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

ইসলামি মনোবিশ্লেষকদের মতে, দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে নবীজির স্মরণকে জাগ্রত রাখে, যা মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত দরুদ পাঠ করলে অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়।

নবীজির শাফাআত লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার করে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন নবীজির শাফাআত লাভ করবে।(তাবারানি, ২/২৬১)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবে সেই, যে সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪)

ইসলামি গবেষকদের মতে, কিয়ামতের কঠিন দিনে নবীজির নৈকট্য লাভ করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয়গুলোর একটি।

দরুদ পাঠ সরাসরি পৌঁছে যায় নবীজির কাছে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কেউ যখন আমার ওপর সালাম পাঠায়, আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি।”(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২০৪১)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা নবী (সা.)-কে উম্মতের পাঠানো সালামের সংবাদ পৌঁছে দেন।(সিলসিলাহ আস-সহিহাহ: ১৫৩০)

এ কারণে ইসলামি আলেমরা বলেন, দরুদ ও সালাম পাঠ শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; বরং এটি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি মাধ্যম।

দোয়া কবুলের অন্যতম উপায়

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু সে দরুদ পাঠ করেনি। তখন তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে।” এরপর তিনি শিক্ষা দেন, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৪৭)

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দরুদ পাঠ দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং বান্দাকে আল্লাহর রহমতের আরও নিকটবর্তী করে।

ঈমান ও নবীপ্রেমের পরিচয়

দরুদ শরিফকে নবীপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। একজন মানুষ যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকে বেশি স্মরণ করে। তাই আলেমদের মতে, নিয়মিত দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর করে তোলে এবং সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ বাড়ায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,“যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁকে সম্মান করো ও মর্যাদা দাও।”(সুরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৯)

কিয়ামতের দিন অনুশোচনা থেকে মুক্তি

হাদিসে এসেছে, কোনো মজলিসে আল্লাহর জিকির ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ ছাড়া উঠে গেলে তা কিয়ামতের দিন আফসোসের কারণ হবে।(সহিহ আল-জামি, হাদিস: ২৭৩৮)

তাই ইসলামি শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রতিদিনের জীবনে, বিশেষ করে জুমার দিন, নামাজের পর, দোয়ার সময় এবং অবসরে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

দরুদ শরিফের জনপ্রিয় কিছু পাঠ

সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো:“সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”

আর বহুল প্রচলিত দরুদে ইবরাহিম হলো:“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ…”

ইসলামি স্কলারদের মতে, দরুদ শরিফ শুধু আখিরাতের মুক্তির আমল নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এক মহিমান্বিত মাধ্যম।


জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল 

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১১:৩৯:৪১
জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল 
ছবি: সংগৃহীত

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই চায় একটি স্বচ্ছল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন। জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতার একটি হলো রিজিক বা জীবিকা। পরিবার, সন্তান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান থেকে শুরু করে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে রিজিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলাম রিজিককে শুধু অর্থ বা খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং সুস্বাস্থ্য, জ্ঞান, মানসিক প্রশান্তি, ভালো পরিবার, নিরাপত্তা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকেও রিজিকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মানুষ চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে, পরিকল্পনা করবে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিজিকের ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো মানুষের জীবনে বরকত, সচ্ছলতা এবং মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে। ইসলামি গবেষকরা বলেন, এসব আমল শুধু আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যম নয়; বরং মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করে।

১. তওবা ও ইস্তিগফার: রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল

ইসলামে তওবা ও ইস্তিগফারকে জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং জানিয়েছেন, আল্লাহ তাদের ওপর অঝোর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন এবং বাগান ও নদী দান করবেন।

ইসলামি স্কলারদের মতে, গুনাহ মানুষের রিজিকে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে। যখন মানুষ আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তখন তার জন্য নতুন নতুন কল্যাণের দরজা খুলে যায়। নিয়মিত “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং হৃদয়ের অস্থিরতা কমায়।

২. তাকওয়া ও আল্লাহভীতি

কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি।”

তাফসিরবিদদের মতে, তাকওয়া শুধু ভয় নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার নাম। একজন মুত্তাকি মানুষের জীবনে আল্লাহ এমনভাবে বরকত দান করেন, যা বাহ্যিক হিসাবের বাইরে চলে যায়।

৩. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা

তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি মানুষ আল্লাহর ওপর প্রকৃত ভরসা করতে পারত, তাহলে পাখিদের মতো রিজিক পেত। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে।

তবে ইসলামি আলেমরা স্পষ্ট করেছেন, তাওয়াক্কুল মানে অলসতা নয়। বরং যথাসাধ্য চেষ্টা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সফলতার মালিক আল্লাহ।

৪. ইবাদতের প্রতি মনোযোগ

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ কর, আমি তোমার অন্তরকে সম্পদশালী করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব।”

ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, ইবাদত শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরিচালিত জীবনব্যবস্থাই প্রকৃত ইবাদত। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে, তার অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং জীবনে বরকত বাড়ে।

৫. হজ ও ওমরা পালন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরা পালন করলে তা গুনাহ ও দারিদ্র্য দূর করে দেয়। আলেমদের মতে, হজ ও ওমরা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং জীবনে নতুন বরকতের সূচনা ঘটায়।

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রিজিক বৃদ্ধি ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং পারিবারিক বরকত সৃষ্টি করে।

৭. আল্লাহর পথে ব্যয় করা

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা যা ব্যয় কর, আল্লাহ তার বিনিময় দেন।” ইসলামি গবেষকদের মতে, দান-সদকা কখনো সম্পদ কমায় না; বরং এতে জীবনে বরকত বৃদ্ধি পায়।

গরিব, এতিম, অসহায় ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা মানুষের রিজিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

৮. দ্বীনের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা

হাদিসে এমন একটি ঘটনার কথা এসেছে, যেখানে নবীজি (সা.) বলেছেন, ধর্মীয় জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত ব্যক্তির কারণেও অন্য কেউ রিজিক পেতে পারে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত মানুষদের সহায়তা করা বরকতময় আমল।

৯. অসহায়দের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুর্বল ও অসহায় মানুষদের কারণেই আল্লাহ সাহায্য ও রিজিক দান করেন। আলেমরা বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

১০. আল্লাহর পথে হিজরত

কুরআনে বলা হয়েছে, “যে আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয় ও স্বচ্ছলতা লাভ করবে।” ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট স্বীকার করলে আল্লাহ তার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দেন।

ইসলামি গবেষকদের মতে, রিজিকের প্রকৃত বরকত আসে আল্লাহর আনুগত্য, সততা, পরিশ্রম এবং নেক আমলের মাধ্যমে। শুধু অর্থসম্পদ বৃদ্ধি নয়; বরং শান্তিপূর্ণ, সম্মানজনক ও প্রশান্তিময় জীবনই প্রকৃত সচ্ছলতা। তাই একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ার উপার্জনের পাশাপাশি আখিরাতের সফলতার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করা।


প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১১:২৯:৪৫
প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। “আস্তাগফিরুল্লাহ” শব্দটির অর্থ, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।” দেখতে ছোট ও সহজ এই জিকিরের ফজিলত এতটাই বিস্তৃত যে কুরআন ও হাদিসে বারবার এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক উন্নতি, মানসিক প্রশান্তি, রিযিক বৃদ্ধি এবং পারিবারিক কল্যাণের অন্যতম চাবিকাঠি।

ইসলামি গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ যত বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, তার অন্তর তত বেশি পরিশুদ্ধ হবে। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে ভারী করে তোলে, আত্মাকে দুর্বল করে এবং জীবনে অশান্তি তৈরি করে। ইস্তিগফার সেই অন্তরকে পরিষ্কার করে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরিয়ে আনে। এ কারণেই ইসলামি চিন্তাবিদরা ইস্তিগফারকে “আত্মার পরিশুদ্ধির ওষুধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

পবিত্র কুরআনে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীর ব্যবস্থা করবেন। আলেমদের মতে, এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ইস্তিগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়ার জীবনের বরকত ও সমৃদ্ধিরও অন্যতম মাধ্যম।

হাদিস শরিফেও ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলতের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, সব সংকট থেকে উদ্ধার করেন এবং এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই হাদিস মানুষের জীবনে ইস্তিগফারের বাস্তব প্রভাবের একটি গভীর বার্তা বহন করে।

বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, হতাশা, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা মানুষের জীবনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানী ও ইসলামি স্কলারদের মতে, আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার মানুষের মানসিক স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে, হতাশা কমায় এবং অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে। অনেকেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে ইস্তিগফার তাদের মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

ইসলামে ইস্তিগফারের সঙ্গে রিযিক বৃদ্ধির সম্পর্কও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলেমরা বলেন, অনেক সময় গুনাহ মানুষের রিযিক সংকুচিত করে দেয়। যখন মানুষ তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তার জন্য নতুন নতুন কল্যাণের দরজা খুলে দেন। ব্যবসা, চাকরি, পরিবার বা জীবনের অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে বরকত লাভের জন্য ইস্তিগফারকে অত্যন্ত কার্যকর আমল হিসেবে ধরা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন ইস্তিগফারের সর্বোত্তম উদাহরণ। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন। অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, এতে উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যদি আল্লাহর রাসুল (সা.) এত বেশি ইস্তিগফার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি, তা সহজেই বোঝা যায়।

ইস্তিগফারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও গুনাহের পথ থেকে দূরে রাখে। নিয়মিত ইস্তিগফার করলে মানুষ নিজের ভুল সম্পর্কে সচেতন হয় এবং আল্লাহর ভয় ও দায়িত্ববোধ তার মধ্যে বৃদ্ধি পায়। ফলে গুনাহ থেকে ফিরে আসা সহজ হয় এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

ইসলামে “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” নামে একটি বিশেষ দোয়ার কথাও এসেছে, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল বা সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ে এবং এরপর মৃত্যু হয়, তবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া সবচেয়ে সহজ ইস্তিগফার হলো শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা। আর বহুল প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ ইস্তিগফার হলো: “আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহ।”

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর, তাহাজ্জুদের সময়, জুমার দিন এবং যেকোনো অবসরে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অত্যন্ত উত্তম। বিশেষ করে যখন মানুষ বিপদে পড়ে, হতাশ হয় বা জীবনে অস্থিরতা অনুভব করে, তখন ইস্তিগফার তার অন্তরে নতুন আশা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

তারা আরও বলেন, ইস্তিগফার শুধু মুখের জিকির নয়; বরং এটি হৃদয়ের অনুশোচনা, গুনাহ থেকে ফিরে আসার অঙ্গীকার এবং আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি আত্মিক যাত্রা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ কখনো তাকে নিরাশ করেন না।

পাঠকের মতামত:

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে একাধিক শেয়ার দামের উল্লেখযোগ্য উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সোমবারের লেনদেনে... বিস্তারিত