মৃত ব্যক্তির জন্য শেষ ইবাদত: গোসল, কাফন ও জানাজার গুরুত্ব

ইসলামে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো এবং জানাজার নামাজ পড়ে তাকে কবরস্থ করা ফরজে কেফায়া। ফরজে কেফায়া অর্থ হলো, সমাজের কেউ যদি এই ফরজ কর্তব্যটি পালন করে তাহলে বাকিরা এ থেকে মুক্ত। তবে যদি কেউ না করে, তাহলে সবার ওপর গুনাহ হবে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, পরিবার, ওয়ারিসদের ওপর এই দায়িত্ব প্রথমে বর্তায়। তাদের মধ্যে যদি কেউ এই কর্তব্য পালন করতে অক্ষম হয় বা অনিচ্ছুক থাকে, তখন মুসলিম সমাজের অন্যান্য সদস্য এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের জন্য এটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্বে পরিণত হয়।
মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং তাকে সম্মানের সাথে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার মাধ্যমে মুসলিম সমাজের ঐক্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় চেতনাকে প্রতিফলিত করা হয়। এ কারণে মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের দায়িত্ব পালনে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করা আবশ্যক।
মৃতের সম্পদ ও কাফনের ব্যয়ভার
মৃত ব্যক্তির যদি নিজস্ব কোনো সম্পদ থাকে, তাহলে তার সম্পদ থেকে গোসল, কাফন ও দাফনের খরচ বহন করা হয়। এটি ইসলামের সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার অংশ। সম্পদ থেকে এই ব্যয় বহনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্মান বজায় রাখা হয় এবং পরিবার বা সমাজের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়ে না।
যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সম্পদ না থাকে, তখন গোসল ও কাফন দেওয়ার দায়িত্ব জীবিত অবস্থায় তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ওপর বর্তায়। পরিবারের কেউ যদি এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে অক্ষম হন, তখন অন্য মুসলিম সমাজের সদস্যদের এগিয়ে আসা উচিত। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দাফনের জন্য বরাদ্দ রাখা থাকলে সেটিও ব্যবহৃত হতে পারে।
গোসল দেওয়ার ফজিলত ও নৈতিক মূল্য
নবী করিম (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে তার ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহ মাফ করে দেবেন। এটা প্রমাণ করে মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার সম্মান রক্ষার জন্য গোসল দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মৃত ব্যক্তির শরীরকে সম্মানের সাথে পরিষ্কার করা ও যন্ত্রণার মুহূর্ত শেষে তাকে শান্তি দেওয়া মুসলমানদের নৈতিক দায়িত্ব।
এছাড়াও, মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার সময় তাঁকে সম্মান ও দয়ালুতার সাথে আচরণ করতে হবে। কেউ যেন এই কাজকে অপমানজনক বা অসম্মানজনক মনে না করে, কারণ এটি একটি পবিত্র কাজ এবং মহান ফজিলতের সঙ্গে যুক্ত।
কাফন পরানোর নিয়ম ও বিধি
মৃত পুরুষের কাফন পরানোর নিয়ম
পুরুষদের কাফনের জন্য জামা, লুঙ্গি ও চাদর তিনটি পোশাক ব্যবহার করা উত্তম। এর মধ্যে লুঙ্গি ও চাদর দিয়েও কাফন করা যেতে পারে, তবে জামা সংযোজন করলে আরও সম্পূর্ণ হয়। যদি শুধুমাত্র চাদর দিয়ে কাফন করা হয়, তা সামর্থ্য অনুযায়ী মাকরুহ অর্থাৎ পরিহারযোগ্য।
কাফন পরানোর প্রক্রিয়ায় প্রথমে মসৃণভাবে চাদর বিছানো হয়, তার ওপর লুঙ্গি ও জামা রাখা হয়। মৃত ব্যক্তিকে চাদরের ওপর স্থির করে প্রথমে জামা পরানো হয়। এরপর লুঙ্গি বাঁ পাশ থেকে মোড়ানো শুরু করে ডান পাশ থেকে শেষ করতে হয়। চাদরও একই পদ্ধতিতে মোড়ানো হয়। সবশেষে কাফনের দুই পাশ একত্র করে বেঁধে দেওয়া হয় যেন এলোমেলো বা বিচ্ছিন্ন না হয়।
মৃত নারীর কাফন পরানোর নিয়ম
নারীদের কাফনের জন্য চাদর, জামা, পেটিকোট, ওড়না এবং বক্ষবন্ধনী ব্যবহার করা উত্তম। তবে পেটিকোট, চাদর ও ওড়না দিয়েও কাফন সম্পূর্ণ হয়। সামর্থ্য কম থাকলে এর চেয়ে কম উপকরণ ব্যবহার করা উচিত নয়।
কাফনের জন্য প্রথমে একটি চাদর বিছানো হয়। এরপর পেটিকোট ও জামা বসানো হয়। মৃত নারীর চুল দুই ভাগে ভাগ করে সিনার (মাথার দুই পাশে) রাখা হয়। ওড়না মাথার ওপর রাখা হয়, বাঁধা হয় না, কেবল ঢেকে রাখা হয়। পেটিকোট বাঁ পাশ থেকে মোড়ানো শুরু করে ডান পাশে শেষ করা হয় এবং সিনার পাশে বেঁধে দেওয়া হয়। চাদরও একই রীতি মোড়ানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়।
কাফন ও গোসলের ক্ষেত্রে ইসলামের সামাজিক ও মানবিক আদর্শ
গোসল ও কাফন এমন দুটি ইবাদত যা শুধু মৃত ব্যক্তির জন্য নয়, সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। এটি মৃতের মর্যাদা রক্ষা করে, পরিবারের সদস্যদের অন্তরের শান্তি দেয় এবং মুসলিম সমাজে সম্মান ও সহানুভূতির বন্ধন দৃঢ় করে।
মৃত্যুর পর শরীরকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ও ঈমানদার হিসেবে বিদায় জানানো, মুসলিম সমাজের ঐক্য ও মানবিকতা প্রতিফলিত করে। সমাজের প্রত্যেক সদস্যের উচিত এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা এবং কারো প্রতি অবহেলা না করা।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব
যখন মৃত ব্যক্তির পরিবারের কেউ কাফন ও দাফনের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন, তখন এটি মুসলমান সমাজের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘মৃতদেহ সেবা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হয় যেখানে অভাবগ্রস্তদের জন্য গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় নিয়মাবলী অনুসরণ নিশ্চিত করা হয়।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মৃত ব্যক্তির মর্যাদাবান শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। যাতে কারো মর্যাদা হীন না হয় এবং সমাজের ন্যায্যতার ক্ষতি না ঘটে।
মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফন শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং তা সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বেরও একটি বড় অংশ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী এটি ফরজে কেফায়া, যা মুসলিম সমাজের ঐক্য ও মর্যাদা বজায় রাখতে অপরিহার্য। প্রতিটি মুসলিমের উচিত জীবিত অবস্থায় এ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা ও প্রয়োজনে এগিয়ে আসা।
এ কাজগুলো পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করলে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি নিশ্চিত হবে এবং দুনিয়ায় ও পরকালে পরিবারের সম্মান ও প্রশান্তি অর্জিত হবে। অতএব গোসল, কাফন ও দাফনের এই মহৎ দায়িত্ব পালন থেকে কেউ বিরত থাকবেন না।
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।
এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।
তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।
/আশিক
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।
/আশিক
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
/আশিক
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকলেও আগ্রহীদের সাড়া মিলছে তুলনামূলকভাবে কম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যার তুলনায় এখনো প্রায় সম্পূর্ণ কোটাই খালি পড়ে রয়েছে।
প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত এই তারিখের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। হজে গমনেচ্ছুকদের শুরুতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৫ বছর। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিলতা, ডিমেনশিয়া, স্নায়বিক ও মানসিক রোগ, চলমান থেরাপিতে থাকা ক্যানসার রোগী এবং যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার অনুমোদন পাবেন না। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা শেষ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ৯ ভাদ্র এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ রবিউল আউয়াল। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের শুরু বিবেচনায় নিয়ে মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিন সময়ের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট এবং মাগরিবের ওয়াক্তও শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে।
পরবর্তী দিন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। ফলে ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের আগেই নামাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি মুসল্লিদের খেয়াল রাখতে হবে।
ঢাকার বাইরে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের ওয়াক্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই অন্য জেলা বা বিভাগে অবস্থানকারী মুসল্লিদের নিজ এলাকার জন্য প্রযোজ্য নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সময় পরিবর্তিত হয়। এ কারণে প্রতিদিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা সুবিধাজনক।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং নতুন ইসলামি বর্ষ শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে এসব ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত দিনক্ষণ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈজ্ঞানিক গণনার সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা সরাসরি নির্ভর করে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি আরবি মাস শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় আরব আমিরাতসহ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ স্পষ্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ ওই সময়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশটিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের শুরুর ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সময় নির্ধারিত হবে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের নতুন চাঁদ আকাশে দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায় এবং রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে; অর্থাৎ ৯ বা ১০ মার্চের যেকোনো একদিন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যার আগের দিন ৯ জিলহজ পালিত হয় পবিত্র আরাফাহ দিবস। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার বা ৭ মে শুক্রবার জিলহজের চাঁদের দেখা মিলতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের ১৬ মে রবিবার কিংবা ১৭ মে সোমবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা ঘটবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ৫ জুন শনিবার থেকে ৭ জুন সোমবারের মধ্যে যেকোনো একদিন নতুন ইসলামি বর্ষের প্রথম দিন বা ১ মহররম সূচিত হতে পারে। তবে সমস্ত ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
/আশিক
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম
২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে হজযাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ও শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ড অনুমোদন করেছে সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালায় আবাসন সুবিধাকে ‘ইকোনমি’ ও ‘ফার্স্ট ক্লাস’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করার পাশাপাশি মক্কা ও মদিনার আবাসন স্থাপনাগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘনসংক্রান্ত তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসর আল-আনসারি জানান, সেবার নিয়ন্ত্রক ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানদণ্ডে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অতিথি কক্ষ ও অভ্যর্থনা এলাকার মান এবং জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
সেবার মান বজায় রাখতে লাইসেন্স অনুমোদনের আগে, কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে এবং পরিচালনাকালে—একাধিক ধাপে পরিদর্শন ও তদারকি চালানো হবে। ২০২৭ সালের হজে আবাসনসেবা দিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবীর চূড়ান্ত তারিখ জানাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দৃশ্যমান না হওয়ায় আগামীকাল ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট (শনিবার) থেকে হিজরি ১৪৪৮ সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু করা হবে।
সেই হিসাব অনুসরণ করে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধর্মীয় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায়ের জন্য ওয়াক্তের সঠিক সময় জানা প্রয়োজন। আজ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬; বাংলা পঞ্জিকায় ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ এবং হিজরি হিসাবে ২৭ সফর ১৪৪৮। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সময়সূচির ভিত্তিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় এখানে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১২ মিনিটে। জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিটে। স্থানীয় অবস্থান ও মসজিদের জামাতের সময় ভিন্ন হতে পারে, তাই জামাতে নামাজ আদায় করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নির্ধারিত সময় জেনে নেওয়া ভালো।
আজ ঢাকায় সূর্যোদয়ের সময় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। নামাজের সময় নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও মুসল্লিদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
আগামীকাল বুধবার, ১২ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে। এদিন সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে। অর্থাৎ আজকের তুলনায় আগামীকাল ফজরের সময় এক মিনিট এবং সূর্যোদয়ের সময়ও এক মিনিট পিছিয়ে যাবে।
ঢাকার সময়কে ভিত্তি ধরে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে হিসাব করতে হবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনার জন্য ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।
তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একই বিভাগ বা জেলার মধ্যেও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং নামাজের ওয়াক্তে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও ইশার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে অনুসরণ করা নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং নিকটবর্তী মসজিদের ঘোষিত জামাতের সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।
একনজরে ঢাকার আজকের সময়: ফজর ভোর ৪টা ১২ মিনিট, জোহর দুপুর ১২টা ৭ মিনিট, আসর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, মাগরিব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট এবং ইশা সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিট। সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩১ মিনিট এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পাঠকের মতামত:
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
- ডেঙ্গুর প্রকোপে নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের নতুন তথ্য
- হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
- রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
- বিশ্বকাপ বর্জনের নেপথ্যে কী ঘটেছিল? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তদন্ত কমিটি
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
- প্রস্তুতির ঘাটতি নয়, বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেই জিতেছে: প্যাট কামিন্স
- পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- শর্ত পূরণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র মক্কায় বিরল সতর্কতা জারি
- ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস
- হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা
- সৌদি শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট ও গাজায় জ্বালানি সংকট: মহাবিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য
- আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ফেডের সুদের হার বাড়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
- সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত
- শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বড় ঘোষণা
- জুড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, সভা বর্জন
- কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের স্মারকলিপি
- তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- যে মাঠে অভিষেক সেখানেই জাতীয় দলকে বিদায় বললেন ব্রাজিল কিংবদন্তি নেইমার
- টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য
- দেশের ভেতরে ৩০০ গ্যাসকূপ খনন ও ৫টি এফএসআরইউ করার পরিকল্পনা সরকারের
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো হতে পারে না: স্পিকার
- ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
- জুলাই বিপ্লবের ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফিরছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- পালিয়ে গিয়েও সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন হাসিনা: ডা. শফিকুর রহমান
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের কর দাবি নিয়ে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা
- সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে টাকার দাবি: অধিবেশনে সতর্ক করলেন চিফ হুইপ
- বক্তব্যের পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: সংসদে বিস্ফোরক রুমিন
- ইরান যুদ্ধ কবে থামবে, দিনক্ষণ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
- ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা, মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশে সফরে যাচ্ছেন পরাশক্তির শীর্ষ নেতা
- ব্যালন ডি’অর ইয়ামালেরই প্রাপ্য: ফেইনুর্ড জয়ের পর বললেন হান্সি ফ্লিক
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
- স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো শক্তিশালী ফোর্স অপরিহার্য: লুৎফুজ্জামান বাবর
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি








