মৃত ব্যক্তির জন্য শেষ ইবাদত: গোসল, কাফন ও জানাজার গুরুত্ব

ইসলামে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো এবং জানাজার নামাজ পড়ে তাকে কবরস্থ করা ফরজে কেফায়া। ফরজে কেফায়া অর্থ হলো, সমাজের কেউ যদি এই ফরজ কর্তব্যটি পালন করে তাহলে বাকিরা এ থেকে মুক্ত। তবে যদি কেউ না করে, তাহলে সবার ওপর গুনাহ হবে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, পরিবার, ওয়ারিসদের ওপর এই দায়িত্ব প্রথমে বর্তায়। তাদের মধ্যে যদি কেউ এই কর্তব্য পালন করতে অক্ষম হয় বা অনিচ্ছুক থাকে, তখন মুসলিম সমাজের অন্যান্য সদস্য এবং রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের জন্য এটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্বে পরিণত হয়।
মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং তাকে সম্মানের সাথে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার মাধ্যমে মুসলিম সমাজের ঐক্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় চেতনাকে প্রতিফলিত করা হয়। এ কারণে মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের দায়িত্ব পালনে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করা আবশ্যক।
মৃতের সম্পদ ও কাফনের ব্যয়ভার
মৃত ব্যক্তির যদি নিজস্ব কোনো সম্পদ থাকে, তাহলে তার সম্পদ থেকে গোসল, কাফন ও দাফনের খরচ বহন করা হয়। এটি ইসলামের সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার অংশ। সম্পদ থেকে এই ব্যয় বহনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্মান বজায় রাখা হয় এবং পরিবার বা সমাজের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়ে না।
যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সম্পদ না থাকে, তখন গোসল ও কাফন দেওয়ার দায়িত্ব জীবিত অবস্থায় তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ওপর বর্তায়। পরিবারের কেউ যদি এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে অক্ষম হন, তখন অন্য মুসলিম সমাজের সদস্যদের এগিয়ে আসা উচিত। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দাফনের জন্য বরাদ্দ রাখা থাকলে সেটিও ব্যবহৃত হতে পারে।
গোসল দেওয়ার ফজিলত ও নৈতিক মূল্য
নবী করিম (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে তার ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহ মাফ করে দেবেন। এটা প্রমাণ করে মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার সম্মান রক্ষার জন্য গোসল দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মৃত ব্যক্তির শরীরকে সম্মানের সাথে পরিষ্কার করা ও যন্ত্রণার মুহূর্ত শেষে তাকে শান্তি দেওয়া মুসলমানদের নৈতিক দায়িত্ব।
এছাড়াও, মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার সময় তাঁকে সম্মান ও দয়ালুতার সাথে আচরণ করতে হবে। কেউ যেন এই কাজকে অপমানজনক বা অসম্মানজনক মনে না করে, কারণ এটি একটি পবিত্র কাজ এবং মহান ফজিলতের সঙ্গে যুক্ত।
কাফন পরানোর নিয়ম ও বিধি
মৃত পুরুষের কাফন পরানোর নিয়ম
পুরুষদের কাফনের জন্য জামা, লুঙ্গি ও চাদর তিনটি পোশাক ব্যবহার করা উত্তম। এর মধ্যে লুঙ্গি ও চাদর দিয়েও কাফন করা যেতে পারে, তবে জামা সংযোজন করলে আরও সম্পূর্ণ হয়। যদি শুধুমাত্র চাদর দিয়ে কাফন করা হয়, তা সামর্থ্য অনুযায়ী মাকরুহ অর্থাৎ পরিহারযোগ্য।
কাফন পরানোর প্রক্রিয়ায় প্রথমে মসৃণভাবে চাদর বিছানো হয়, তার ওপর লুঙ্গি ও জামা রাখা হয়। মৃত ব্যক্তিকে চাদরের ওপর স্থির করে প্রথমে জামা পরানো হয়। এরপর লুঙ্গি বাঁ পাশ থেকে মোড়ানো শুরু করে ডান পাশ থেকে শেষ করতে হয়। চাদরও একই পদ্ধতিতে মোড়ানো হয়। সবশেষে কাফনের দুই পাশ একত্র করে বেঁধে দেওয়া হয় যেন এলোমেলো বা বিচ্ছিন্ন না হয়।
মৃত নারীর কাফন পরানোর নিয়ম
নারীদের কাফনের জন্য চাদর, জামা, পেটিকোট, ওড়না এবং বক্ষবন্ধনী ব্যবহার করা উত্তম। তবে পেটিকোট, চাদর ও ওড়না দিয়েও কাফন সম্পূর্ণ হয়। সামর্থ্য কম থাকলে এর চেয়ে কম উপকরণ ব্যবহার করা উচিত নয়।
কাফনের জন্য প্রথমে একটি চাদর বিছানো হয়। এরপর পেটিকোট ও জামা বসানো হয়। মৃত নারীর চুল দুই ভাগে ভাগ করে সিনার (মাথার দুই পাশে) রাখা হয়। ওড়না মাথার ওপর রাখা হয়, বাঁধা হয় না, কেবল ঢেকে রাখা হয়। পেটিকোট বাঁ পাশ থেকে মোড়ানো শুরু করে ডান পাশে শেষ করা হয় এবং সিনার পাশে বেঁধে দেওয়া হয়। চাদরও একই রীতি মোড়ানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়।
কাফন ও গোসলের ক্ষেত্রে ইসলামের সামাজিক ও মানবিক আদর্শ
গোসল ও কাফন এমন দুটি ইবাদত যা শুধু মৃত ব্যক্তির জন্য নয়, সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। এটি মৃতের মর্যাদা রক্ষা করে, পরিবারের সদস্যদের অন্তরের শান্তি দেয় এবং মুসলিম সমাজে সম্মান ও সহানুভূতির বন্ধন দৃঢ় করে।
মৃত্যুর পর শরীরকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ও ঈমানদার হিসেবে বিদায় জানানো, মুসলিম সমাজের ঐক্য ও মানবিকতা প্রতিফলিত করে। সমাজের প্রত্যেক সদস্যের উচিত এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা এবং কারো প্রতি অবহেলা না করা।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব
যখন মৃত ব্যক্তির পরিবারের কেউ কাফন ও দাফনের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন, তখন এটি মুসলমান সমাজের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘মৃতদেহ সেবা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হয় যেখানে অভাবগ্রস্তদের জন্য গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় নিয়মাবলী অনুসরণ নিশ্চিত করা হয়।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মৃত ব্যক্তির মর্যাদাবান শেষকৃত্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। যাতে কারো মর্যাদা হীন না হয় এবং সমাজের ন্যায্যতার ক্ষতি না ঘটে।
মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফন শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং তা সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বেরও একটি বড় অংশ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী এটি ফরজে কেফায়া, যা মুসলিম সমাজের ঐক্য ও মর্যাদা বজায় রাখতে অপরিহার্য। প্রতিটি মুসলিমের উচিত জীবিত অবস্থায় এ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা ও প্রয়োজনে এগিয়ে আসা।
এ কাজগুলো পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করলে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি নিশ্চিত হবে এবং দুনিয়ায় ও পরকালে পরিবারের সম্মান ও প্রশান্তি অর্জিত হবে। অতএব গোসল, কাফন ও দাফনের এই মহৎ দায়িত্ব পালন থেকে কেউ বিরত থাকবেন না।
কেমন পশু কিনলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না? শরিয়তের কড়া নির্দেশনা দেখে নিন
ইসলামে কুরবানি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত, যা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের পাশাপাশি কুরবানি করার সরাসরি নির্দেশ প্রদান করেছেন। সুরা কাওসারে ইরশাদ হয়েছে, "তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কুরবানি করো।"
কুরবানি মূলত ত্যাগের মহিমা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, পশুর রক্ত বা গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং বান্দার অন্তরের তাকওয়া বা খোদাভীতিই তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। কুরবানি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং এর মাধ্যমে অভাবী ও দুস্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এক বড় সামাজিক ও কল্যাণকর দিকও রয়েছে।
কুরবানি কবুল ও শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পালন করা অপরিহার্য। বিশেষ করে কুরবানির পশুর শারীরিক সুস্থতা ও নিখুঁত হওয়া জরুরি। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অসুস্থ, জীর্ণশীর্ণ কিংবা ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কুরবানি আদায় হয় না। যে পশুটি এতই দুর্বল যে জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তা কুরবানির জন্য অনুপযুক্ত। পশুর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা ইবাদতের পূর্ণতার অংশ।
কুরবানির পশু নির্বাচনে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি তার মধ্যে অন্যতম হলো পশুর দৃষ্টিশক্তি ও হাঁটাচলার ক্ষমতা। কোনো পশু যদি পুরোপুরি অন্ধ হয় অথবা একটি চোখও নষ্ট থাকে, তবে তা দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হবে না। একইভাবে পঙ্গু বা ল্যাংড়া পশু, যা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না, তাও কুরবানির অযোগ্য। পশুর হাড় ভেঙে যাওয়া কিংবা মারাত্মক কোনো জখম থাকলেও সেই পশু কুরবানির জন্য গ্রহণ করা যাবে না।
পশুর দাঁত, কান এবং লেজের অবস্থার ওপরও কুরবানির শুদ্ধতা নির্ভর করে। যদি কোনো পশুর সব দাঁত পড়ে যায় অথবা এমন অবস্থা হয় যে সে খাবার চিবিয়ে খেতে পারছে না, তবে তা দিয়ে কুরবানি হবে না। আবার শিং যদি গোড়া থেকে এমনভাবে ভেঙে যায় যে তার প্রভাব মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে, তবে সেই পশুও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
তবে শিং সামান্য ভাঙা থাকলে কিংবা জন্মগতভাবে শিং না থাকলে কুরবানি করতে কোনো বাধা নেই। এছাড়া কান বা লেজের অর্ধেকের বেশি অংশ কাটা থাকলে সেই পশু পরিহার করা ওয়াজিব। জন্মগতভাবে কান ছোট হলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এসব নিয়ম মেনে পশু নির্বাচন করলে কুরবানি ত্রুটিমুক্ত ও অর্থবহ হবে।
/আশিক
জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
আজ ১৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। প্রতিদিনের মতো আজও ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক বিধান অনুযায়ী সময়ের সামান্য তারতম্যে নামাজের জামাত ও ব্যক্তিগত ইবাদতের সুবিধার্থে এই সূচি অনুসরণ করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়
মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের সময় শুরু হয়েছে ১১টা ৫৯ মিনিটে।
বিকেলের নামাজ আসরের সময় শুরু হবে ৪টা ৩১ মিনিটে।
সন্ধ্যার মাগরিবের আজান ও ইবাদতের সময় শুরু হবে ৬টা ৩৩ মিনিটে।
রাতের এশার নামাজের সময় শুরু হবে ৭টা ৫৩ মিনিটে।
আগামীকালের নামাজের সময়
আগামীকাল বুধবার (৬ মে) ভোরে ফজরের সময় শুরু হবে ৪টা ০১ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল ভোরে সূর্যোদয় হবে ৫টা ২৩ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, স্থানভেদে ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সময় নির্ধারণ করতে হয়।
/আশিক
ফজর থেকে এশা, আজকের পূর্ণ নামাজ সূচি
আজ সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। নতুন দিনের শুরুতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ০২ মিনিটে। এরপর সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২২ মিনিটে। দিনের মধ্যভাগে জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে।
বিকেলে আসরের নামাজ আদায় করা যাবে ৪টা ৩২ মিনিট থেকে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ৫০ মিনিটে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সময়মতো নামাজ আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেন। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি জেনে রাখা ধর্মীয় অনুশীলনকে সহজ ও নিয়মিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এদিকে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমানে চলছে পবিত্র জিলকদ মাস, যা ইসলামে সম্মানিত চারটি হারাম মাসের একটি। এই মাসে ইবাদত-বন্দেগি ও নফল আমলের প্রতি মুসলমানদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যায়।
জান্নাতে পৌঁছেও মানুষের মনে আক্ষেপ থাকবে? কেন এই গভীর আফসোস?
জান্নাত এমন এক স্থান যেখানে কোনো দুঃখ বা কষ্ট থাকার কথা নয়। কিন্তু হাদিস ও আলেমদের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাতিরা একটি বিষয়ে আফসোস করবেন—তা হলো দুনিয়ার সেই সময়গুলো যা আল্লাহর জিকির ছাড়া অতিবাহিত হয়েছে। যখন কিয়ামতের ময়দানে নেক আমলের প্রকৃত মূল্য উন্মোচিত হবে, তখন মানুষ বুঝতে পারবে যে সবচাইতে সহজ অথচ সবচাইতে বেশি সওয়াবের আমল ছিল আল্লাহর জিকির। সামান্য কিছু শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমেই হাসিল করা যেত অসীম নেকি ও জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা।
জিকির: স্বল্প পরিশ্রমে অশেষ প্রতিদান
জিকির এমন এক ইবাদত যার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান, সময় বা শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। মানুষ চাইলে হাঁটতে-চলতে, বসে বা শুয়ে—যেকোনো অবস্থায় নিজের জবানকে আল্লাহর স্মরণে সিক্ত রাখতে পারে। অথচ এই সহজ কাজটিই আমরা দৈনন্দিন ব্যস্ততা বা মোবাইল স্ক্রলিংয়ের মোহে সবচাইতে বেশি অবহেলা করি। অথচ সামান্য সময়ের জিকিরই হতে পারে পরকালীন মুক্তির বড় উসিলা।
সহজ কিছু জিকির ও তার অর্থ
আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে নিচের জিকিরগুলো যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি
سُبْحَانَ اللّٰهِ (সুবহানাল্লাহ): আল্লাহ অতি পবিত্র, তিনি সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত।
الْحَمْدُ لِلّٰهِ (আলহামদুলিল্লাহ): সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য।
اللّٰهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার): আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তাঁর মহিমা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ): আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ বা উপাস্য নেই।
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ (আস্তাগফিরুল্লাহ): আমি আমার সকল গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আজই কেন শুরু করবেন?
জীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সুযোগগুলো সীমিত। আমরা দিনের অনেকটা সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বা চিন্তায় ব্যয় করি। অথচ সেই সময়ের সামান্য অংশও যদি জিকিরে ব্যয় হতো, তবে আমাদের আমলনামা নূরে ভরে যেত। জিকির কেবল পরকালেই কাজে লাগে না, এটি দুনিয়াতেও মানুষের হৃদয়কে জীবিত করে এবং মানসিক প্রশান্তি দান করে।
জান্নাতে গিয়ে আফসোস করার আগেই আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কাজের ফাঁকে বা চলার পথে এই ছোট ছোট জিকিরই হতে পারে জান্নাতের উচ্চ মাকাম অর্জনের সহজ উপায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর জিকিরে জবান সিক্ত রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক ওয়াক্ত
ইসলাম মানুষের জন্য কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রতিটি বিধানই মানুষের আত্মিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি মুসলিমের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরকালীন সাফল্যের জন্য ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের বিকল্প নেই।
আজকের দিনটি ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা এবং ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য রোববার, ৩ মে ২০২৬ তারিখের নামাজের সঠিক সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
আজকের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৩ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে ৫টা ২২ মিনিটে।
জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে।
আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং সবশেষে এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৫২ মিনিটে।
ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় হিসেব করতে হবে।
অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে হবে। নিয়মিত ও সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
/আশিক
আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
আজ শনিবার (০২ মে ২০২৬), ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে।
বিকেলের আসর নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৩১ মিনিটে এবং মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে।
রাতের এশা নামাজের সময় শুরু হবে ৭টা ৫১ মিনিটে।
এছাড়া আগামীকাল রোববার (০৩ মে ২০২৬) ভোরে ফজর নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ০৫ মিনিটে।
আজকের দিনের আবহাওয়া ও সময়ের হিসেবে ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল ভোরে সূর্যোদয় হবে ৫টা ২৫ মিনিটে।
উল্লেখ্য যে, দূরত্ব ও অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই সময়ের সাথে কয়েক মিনিট কম-বেশি হতে পারে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত এই সময়সূচি মেনে দৈনন্দিন ইবাদত পালনের জন্য পাঠকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
/আশিক
শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
আজ শুক্রবার, ১ মে ২০২৬। বাংলা তারিখ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং হিজরি ১২ জিলকদ ১৪৪৭। পবিত্র জুমার দিনে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে। দুপুরের জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ১১টা ৫৯ মিনিটে।
বিকেলের আসরের নামাজ আদায় করা যাবে ৪টা ৩১ মিনিট থেকে। এরপর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে। রাতের এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ৫০ মিনিটে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। আগামীকাল শনিবার, ২ মে ফজরের নামাজের সময় অপরিবর্তিত থাকলেও সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে।
এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য নামাজের সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
অন্যদিকে খুলনায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নামাজের নির্ধারিত ওয়াক্ত মেনে ইবাদত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। বিশেষ করে জুমার দিনে সময়মতো নামাজ আদায় ও বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬), বৈশাখের তপ্ত রোদের মাঝে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুর সময় ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিস্তারিত সময় হলো
আজকের নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত
আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ এবং আরবি ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকায় আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে।
সূর্যাস্তের ঠিক পরেই সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মাগরিবের আজান দেওয়া হবে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৯ মিনিটে।
আগামীকাল শুক্রবার (১ মে ২০২৬) ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৮ মিনিটে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে। স্থানভেদে ঢাকার সময়ের সাথে এক বা দুই মিনিট কম-বেশি হতে পারে।
/আশিক
দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু একটি জিকির নয়; বরং নবীপ্রেম, ঈমান, শ্রদ্ধা ও আল্লাহর আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দরুদ শরিফ এমন একটি আমল, যা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজেই নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।”(সুরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬)
ইসলামি গবেষকদের মতে, এই আয়াতের বিশেষত্ব হলো, এখানে আল্লাহ নিজে ও ফেরেশতাদের দরুদ পাঠের কথা উল্লেখ করার পর মুমিনদের একই আমলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি দরুদ শরিফের মর্যাদা ও গুরুত্বকে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।
দরুদ পাঠে রহমত, গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন, ১০টি গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তার মর্যাদা ১০ গুণ বাড়িয়ে দেন।(সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ১২৯৭)
আলেমরা বলেন, মানুষের জীবনে অনেক আমল রয়েছে, কিন্তু এমন কম আমলই আছে যেখানে অল্প সময়ে এত ব্যাপক প্রতিদানের ঘোষণা এসেছে। তাই দরুদ শরিফকে “বরকতের জিকির” বলেও উল্লেখ করেন অনেক ইসলামি স্কলার।
দুশ্চিন্তা দূর ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তাহলে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গুনাহ ক্ষমা করা হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)
ইসলামি মনোবিশ্লেষকদের মতে, দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে নবীজির স্মরণকে জাগ্রত রাখে, যা মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত দরুদ পাঠ করলে অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়।
নবীজির শাফাআত লাভের গুরুত্বপূর্ণ আমল
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার করে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন নবীজির শাফাআত লাভ করবে।(তাবারানি, ২/২৬১)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবে সেই, যে সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪)
ইসলামি গবেষকদের মতে, কিয়ামতের কঠিন দিনে নবীজির নৈকট্য লাভ করা একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয়গুলোর একটি।
দরুদ পাঠ সরাসরি পৌঁছে যায় নবীজির কাছে
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কেউ যখন আমার ওপর সালাম পাঠায়, আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি।”(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২০৪১)
আরেক বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা নবী (সা.)-কে উম্মতের পাঠানো সালামের সংবাদ পৌঁছে দেন।(সিলসিলাহ আস-সহিহাহ: ১৫৩০)
এ কারণে ইসলামি আলেমরা বলেন, দরুদ ও সালাম পাঠ শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; বরং এটি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি মাধ্যম।
দোয়া কবুলের অন্যতম উপায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু সে দরুদ পাঠ করেনি। তখন তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে।” এরপর তিনি শিক্ষা দেন, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে।(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৪৭)
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, দরুদ পাঠ দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং বান্দাকে আল্লাহর রহমতের আরও নিকটবর্তী করে।
ঈমান ও নবীপ্রেমের পরিচয়
দরুদ শরিফকে নবীপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। একজন মানুষ যাকে বেশি ভালোবাসে, তাকে বেশি স্মরণ করে। তাই আলেমদের মতে, নিয়মিত দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর করে তোলে এবং সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ বাড়ায়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,“যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁকে সম্মান করো ও মর্যাদা দাও।”(সুরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৯)
কিয়ামতের দিন অনুশোচনা থেকে মুক্তি
হাদিসে এসেছে, কোনো মজলিসে আল্লাহর জিকির ও নবীর ওপর দরুদ পাঠ ছাড়া উঠে গেলে তা কিয়ামতের দিন আফসোসের কারণ হবে।(সহিহ আল-জামি, হাদিস: ২৭৩৮)
তাই ইসলামি শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রতিদিনের জীবনে, বিশেষ করে জুমার দিন, নামাজের পর, দোয়ার সময় এবং অবসরে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
দরুদ শরিফের জনপ্রিয় কিছু পাঠ
সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো:“সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”
আর বহুল প্রচলিত দরুদে ইবরাহিম হলো:“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ…”
ইসলামি স্কলারদের মতে, দরুদ শরিফ শুধু আখিরাতের মুক্তির আমল নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বরকত, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের এক মহিমান্বিত মাধ্যম।
পাঠকের মতামত:
- আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!
- কেমন পশু কিনলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না? শরিয়তের কড়া নির্দেশনা দেখে নিন
- রাতেই ধেয়ে আসছে ৬০ কিমি বেগে ঝড়: ১১ অঞ্চলে আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা
- ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান
- বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী
- পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম
- টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী
- অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মুরাদনগরে পুলিশের অ্যাকশন: ২ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা দুই ভাই!
- কেরালার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন ৩৪ বছরের মুসলিম তরুণী ফাতিমা তাহিলিয়া
- সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
- লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
- হারিনি, ভোট লুট হয়েছে: পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানালেন মমতা
- যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
- ৫ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৫ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
- অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
- নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস
- কেন দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে আপনার শখের আইফোন? ভুলেও যে কাজগুলো করবেন না
- সতীর্থকে চড় মারার অভিযোগ: নতুন বিতর্কে নেইমার জুনিয়র
- ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
- মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
- আজ দিনভর যেসব কর্মসূচিতে মুখর থাকবে রাজধানী
- শাপলা চত্বর অভিযান ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায: জামায়াত আমির
- হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
- মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- আমিরাতের তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত
- স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন
- মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ৪ ঘণ্টায় ১ শতাংশের বেশি দরপতন
- আজ রাত ১২টার মধ্যে দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা
- গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
- কুমিল্লা চান্দিনায় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ: আটক ৪
- মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
- বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
- হরমুজে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম: মানবিক উদ্ধার না কি যুদ্ধের উসকানি?
- পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
- পুরো হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের কবজায়! নতুন মানচিত্র প্রকাশ ইরানের
- তেহরানের হাতে বিশ্ব অর্থনীতির চাবি: ৬৭ দিনে বদলে গেল ভূ-রাজনীতির মানচিত্র
- হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
- হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!
- দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা
- তামিল রাজনীতিতে বিজয় বিপ্লব: ডিএমকে-কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে টিভিকে
- মাদক ও চাঁদাবাজদের দিন শেষ! সারাদেশে বিশেষ যৌথ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দর
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল পতন! বাজুসের নতুন ঘোষণায় সস্তা হলো সব মানের সোনা
- ২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?








