কে হচ্ছেন দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি? জল্পনা চূড়ায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৮ ১১:১২:৫৯
কে হচ্ছেন দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি? জল্পনা চূড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। তার অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় বিচারাঙ্গনে জল্পনা তৈরি হয়েছে কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে থাকা বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। রীতি অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে এই বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া আছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও আপিল বিভাগ থেকেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির সময়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি এক অনন্য নজির, কারণ অতীতে সব প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ পেয়েছেন।

সংবিধানের ৯৫ ও ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন এবং প্রয়োজনে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও সংবিধানে জ্যেষ্ঠতা বাধ্যতামূলক বলা হয়নি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছিল। কমিশন আরও বলেছে, জ্যেষ্ঠ বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বর্তমান সংবিধানে জ্যেষ্ঠতার বাধ্যবাধকতা নেই; রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যেকোনো বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করতে পারেন। এখন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির হাতে তিনি কাকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বেছে নেবেন।

আসন্ন নিয়োগকে সামনে রেখে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির প্রোফাইল নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম নুরুল ইসলাম ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুর সন্তান। ১৯৮৩ সালে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০২২ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে ২০২৪ সালে আপিল বিভাগে যোগ দেন। তিনিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পরিবারের সন্তান।

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন এবং ২০০৪ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। বিচারপতি এস.এম. ইমদাদুল হক ১৯৯০ সালে আইন পেশায় প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে আপিল বিভাগে উন্নীত হন।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার পর ২০০৩ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ওঠেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আইনজীবী পরিবারের সন্তান হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগকে ঘিরে এখন আদালতপাড়া সরগরম। আইনজীবী মহলে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, সিনিয়রিটি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা। সবশেষ সিদ্ধান্ত এখন রাষ্ট্রপতির হাতে, যিনি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতির নাম ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-রফিক


অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:২১:৫৫
অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন আয়োজনে সম্মিলিত সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনাপ্রধান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা আমাদের আছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী—সবাই আগ্রহী। এখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি জানান, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিতে রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনী এখন একযোগে কাজ করছে।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে, যা রোধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অপরাধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে এই ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ভোটের দিন মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

তিন বাহিনী প্রধানের গাজীপুর সফর নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঠপর্যায় পর্যবেক্ষণে সেনাপ্রধানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিন বাহিনীর প্রধানেরা যৌথভাবে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।


প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:০৪:০৩
প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ সুগম হলো।

প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য ও রূপরেখা জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির অধীনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময় করা হবে।

নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ চুক্তিতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হস্তান্তরিত সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি যাতে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে না যায় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এটি কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই জোরদার করবে না, বরং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম  

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৪:৪৮:২৭
হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম  
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী Rapid Action Battalion–এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা প্রশাসনে বড় ধরনের নীতিগত রদবদল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র‌্যাবের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। প্রধান উপদেষ্টা এই নাম অনুমোদন দিয়েছেন এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হলে নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, শুধু নাম পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদ্যোগ। নতুন নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর পোশাক ও বাহ্যিক পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রূপান্তরের লক্ষ্য হলো বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

উল্লেখযোগ্য যে, এই বাহিনীর নামকরণ নিয়ে অতীতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিকভাবে বাহিনীটির নাম ছিল ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট)’। পরে ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’ নামে বাহিনীটি গঠিত হয় এবং দ্রুতই এটি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বিশেষ বাহিনীতে পরিণত হয়।

তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব এবং বাহিনীটির সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে জারি করে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সময় সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে United Nations Office of the High Commissioner for Human Rights একটি তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সরকারের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব বিলুপ্ত বা মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে র‌্যাবের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘র‌্যাব’ থেকে ‘এসআইএফ’ নামকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, নাম ও পোশাক পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও আইনি কাঠামোয় কতটা বাস্তব সংস্কার আসে।

-রফিক


নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৩৮:০০
নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনি ব্যয় ও কালো টাকার প্রভাব। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও পর্দার অন্তরালে নগদ টাকার প্রবাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ। বিশেষ করে গত দুই মাসে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন।

নির্বাচনি ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা অথবা এককালীন ২৫ লাখ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, তা ব্যয় করতে পারবেন। সেই হিসেবে গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; প্রচারণার ধরণ দেখে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমার তোয়াক্কা না করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন নির্বাচনি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসেই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে ব্যাংকের বাইরে ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘ কয়েক মাস মানুষের হাতে নগদ টাকা কমার ধারাবাহিকতা থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নাটকীয় উল্লম্ফন সরাসরি নির্বাচনি ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কালো টাকা রোধে বিএফআইইউ ও ইসির কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রুখতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে

কোনো হিসাবে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউ-কে জানাতে হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি একক লেনদেন ১ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না।

নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে (P2P) ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও বিশেষজ্ঞ অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদল সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনীতিকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করায় কালো টাকার এই আধিপত্য বাড়ছে। এরা জনসেবার চেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাটের মাধ্যমে খরচের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে চায়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি নয়, বরং ভোটারদের সচেতনতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর প্রয়োগই পারে নির্বাচনের এই ‘টাকার খেলা’ বন্ধ করতে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:১৭:১৯
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
ছবি : সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও এক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরও ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ আরও বেড়ে গেল।

এলপিজির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে মুসকসহ অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছরের শুরু থেকেই টানা দুবার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।


বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ০৯:৪৫:৫১
বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ
ছবি : সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বিইআরসি’র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি মাসের ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে। নতুন এই মূল্যের ওপর ভিত্তি করে আজ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার এবং যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।

সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়। শীতের এই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং ডলারের বর্তমান বিনিময় হার বিবেচনায় আজ দাম বাড়া বা কমার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।


নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ এখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৭:২৯:৪৬
নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ এখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘নির্বাচন কূটনীতি’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রতিবেদনের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো

নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ বা কথাবার্তা বলা এখন একটি গতানুগতিক ধারায় পরিণত হয়েছে এবং এ দেশের সাধারণ মানুষও চায় একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ইতোমধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

ভোটের হার নিয়ে প্রত্যাশা অতীতের উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই তিনি ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসবে।

উপদেষ্টাদের পাসপোর্ট ও প্রধান উপদেষ্টার সফর সরকারি কার্যক্রম ও বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা দ্রুত ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে সাধারণ পাসপোর্ট সংগ্রহের লক্ষ্যে এরই মধ্যে তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এখনো তাঁর পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি বলে জানান।

এছাড়া, নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা থাকলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এই সফর সম্পর্কে এখনো মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।


ভোটের বাকি ১১ দিন: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ০৯:১০:০১
ভোটের বাকি ১১ দিন: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযজ্ঞের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রার্থীরা জনসভা ও গণসংযোগের জন্য হাতে পাচ্ছেন মাত্র ৯ দিন। এই অল্প সময়ে ভোটারদের মন জয় করতে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর শেষে গতকাল ঢাকা ফিরেছেন। সফরের শেষ দিনে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম বিভাগে তাঁর নির্বাচনী সফর চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জনসভা শেষে তিনি আজ চাঁদপুর ও ঢাকায় দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বাকযুদ্ধ তত শাণিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের জনসভায় তারেক রহমান প্রতিপক্ষকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লায় বলেছেন, “জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না; অতীতে আপনারা মজলুম থাকলেও এখন কেন জালিম হচ্ছেন?” এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও ভোলার বোরহানউদ্দিনে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগীয় নির্বাচনী চিত্র

বরিশাল: এই বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও অন্তত ৯টি আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ: বিভাগের ২৪টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। জেলা সদরের কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

রাজশাহী: উত্তরাঞ্চল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এই বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

ফেনী: একসময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এই জেলার তিনটি আসনেই এবার জামায়াত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের সিদ্ধান্ত এখানে গড়ে দিতে পারে জয়ের ব্যবধান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলছুট প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) এবং জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬)। রুমিন ফারহানা প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে জোনায়েদ সাকি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে মাঠে রয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিজিবি ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন।


তথ্য সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতা: সাংবাদিকদের এনআইডি উন্মুক্ত ইসির সাইটে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ২১:৫৫:৩২
তথ্য সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতা: সাংবাদিকদের এনআইডি উন্মুক্ত ইসির সাইটে
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করা প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাংবাদিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ সংবেদনশীল তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের অনলাইন নিবন্ধনের নিয়ম করেছিল ইসি। তবে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসি এই পদ্ধতি বন্ধ করার আগেই প্রায় ১৪ হাজার সংবাদকর্মী পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের জন্য ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-তে আবেদন করেছিলেন।

আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ দেখা যায়, যে কেউ ওই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই হোম পেজে আবেদনকারী সকল সাংবাদিকের তালিকা চলে আসছে। সেখানে সাংবাদিকদের নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদনের কপি দেখার ও খোলার সুযোগ তৈরি হয়। এর মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কিছু সময় পর ওয়েবসাইটটিতে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, অনলাইন সিস্টেমটি গতকাল (শুক্রবার) থেকেই বন্ধ রাখার কথা ছিল। আজ তা কীভাবে উন্মুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আজ বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সাময়িকভাবে সাইটটি খুলেছিলেন, যার ফলে এই বিপত্তি ঘটতে পারে। বর্তমানে ওয়েবসাইটটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সাংবাদিকরা এই কার্ড পেতে এনআইডি নম্বর, ই-মেইল এবং ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিলেন। এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পাঠকের মতামত: