প্রবৃদ্ধির সুফল গরিবের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না বরং ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গল্প যতটা শোনা যায় দারিদ্র্য হ্রাসের চিত্র ততটা আশাবাদী নয়। একসময় ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা দারিদ্র্যের হার এখন অনেক ধীরগতিতে নেমে আসছে এবং গত চার বছর ধরে উল্টো বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। বলা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তার সুফল সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছাচ্ছে খুব কম। বরং বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে এবং জীবিকা অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে লাখো পরিবার।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি ছিল শক্তিশালী এবং সেই সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভোগব্যয়ও বাড়ছিল দ্রুত। কিন্তু ২০১৬ সালের পর প্রবৃদ্ধির কাঠামো বদলে যায়। উচ্চআয়ের পরিবারগুলো বেশি লাভবান হয় এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর আয় থমকে পড়ে। ফল হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০২২ সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসের হার স্পষ্টভাবে কমে গেছে। বর্তমানে দেশে ৩ কোটি মানুষের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। এ ছাড়া ৬ কোটি মানুষ অর্থাৎ জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যেকোনো বড় বিপর্যয় অসুস্থতা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক আঘাতে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে দেশের প্রতি ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য কমাচ্ছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার গড় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির গতি থাকলেও তা আর দারিদ্র্য মোকাবিলার শক্তিশালী ইঞ্জিন হয়ে কাজ করছে না। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট বা র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যাপনা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. আবু ইউসুফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন দারিদ্র্য কমার গতি যা ছিল এখন আর তা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন প্রবৃদ্ধিকে কাগজে দ্রুত দেখানো সহজ কিন্তু তার সুফল দরিদ্র মানুষের আয়ব্যয়ের বাস্তবতায় পৌঁছানোই মূল। বৈষম্য বাড়লে দারিদ্র্য স্থায়ী হয় এবং উন্নয়ন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তিনি পরামর্শ দেন যে এখন নীতির লক্ষ্য হতে হবে আয় বাড়ানো কর্মসংস্থান বিস্তৃত করা এবং সামাজিক সুরক্ষায় সঠিক মানুষকে শনাক্ত করা।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হলো যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া এবং চাকরি হারানো। ২০২৩ ও ২৪ সালের মধ্যে ২০ লাখ কর্মসংস্থান কম হয়েছে এবং ২০২৫ সালে আরও ৮ লাখ কর্মসংস্থান কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ সরকারি সহায়তা বিস্তৃত হলেও সুবিধাভোগী শনাক্তকরণের দুর্বলতায় প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাচ্ছে না।
প্রতিবেদনের হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য হুমকির মুখে ফেলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ২০৫০ সাল নাগাদ ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে এবং কৃষি খাতে জিডিপির প্রায় এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তা নিম্ন আয়ের পরিবারে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নৃগোষ্ঠী—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও অনুষ্ঠান পালন করবেন, তবে জাতীয় পরিচয়ে সবাই হবেন শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, তা শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মের মানুষদের কেবল নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ বানিয়ে রেখেছিল, তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা এখন ভেঙে গেছে। তিনি সবাইকে নিজেদের কখনো ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ—তাই ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত একজন স্বাধীন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।
/আশিক
২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
২৪টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একক নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রাখার অভিযোগে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সব শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা এই আধিপত্য বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শেয়ার বাজেয়াপ্তে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ‘ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরো’ (আইইআরবি) জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা অনুযায়ী কোনো একক পরিবার বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি বিধান রয়েছে। অথচ এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারের ছদ্মাবরণে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। শুনানি শেষে আদালত ২৪ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই বিপুল শেয়ার তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতা নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
/আশি
সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালগুলো পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কাজ করে। এই চক্রকে নির্মূল করতে ডিজিএফআই, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট একযোগে সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করায় এই উপদ্রব আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি ক্লিনিকে ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেগুলো কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সরাসরি অভিযানের তদারকি করছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন এবং সেবার মান, খাবারের মান ও চিকিৎসকদের আচরণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে।
/আশিক
র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে তোলেন। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটিকে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার ক্রাইম, গুম, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলের কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকায় সদর দপ্তর রেখে পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠিত হবে। ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক, যিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ আলামত নিজেদের হেফাজতে আটকে না রেখে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিলে কঠোর গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো দণ্ড দেওয়া যাবে, যার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, ব্যক্তিগত অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনে মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার অনুসন্ধানকালে দেওয়ানি আদালতের মতো এখতিয়ার থাকবে।
/আশিক
‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নির্ধারিত প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম (গাজী নজরুল ইসলাম)। সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে অধিবেশনের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী তাঁর লিখিত প্রশ্নটি বাতিল হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ৪০৮ নম্বর ক্রমিকে তাঁর এই প্রশ্নটি উত্থাপনের কথা ছিল।
লিখিত প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে চেয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে শ্রম আদালতের মোট সংখ্যা কত, সেগুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত এবং এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কত। একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্নটি উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। তবে মাইকে নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের আসনে উপস্থিত নেই। এ সময় স্পিকার হাস্যরসাত্মক কণ্ঠে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে ওঠেন, ‘জি এম তো নাই’। স্পিকারের এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে হালকা হাসির রোল পড়ে যায়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। ওই ঘটনার জেরে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তাঁকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
/আশিক
সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কিংবা তারা নিজ দায়িত্বে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে ওই প্রতিবেদনগুলোতে কতজন শিশু উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে সেই তথ্য উল্লেখ না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং বাস্তব চিত্র আড়ালে পড়ে। এই অস্পষ্টতা দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি থানার মাধ্যমে সার্বিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
পুলিশের বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এই বয়সসীমার মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেছে এবং এখনো সন্ধান মেলেনি ১ হাজার ৯৭০ জনের। সব মিলিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের ৮৭ শতাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা, নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় ভুল পথে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিবারের ওপর অভিমান, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক লজ্জার ভয়, লাগামহীন স্বাধীন জীবনের প্রতি আকর্ষণ, পারিবারিক কলহ ও বন্ধুদের কুপ্রভাবের মতো কারণগুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে। পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানিয়েছে, অনলাইন জিডি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এখন নিখোঁজের তথ্য দ্রুত নথিভুক্ত হচ্ছে। অতীতের চিত্র তুলে ধরে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ছিল ২২ হাজার ৫৫০টি।
/আশিক
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের কুমিল্লার বিভিন্ন মৌজা ও দাগে অবস্থিত ১৮টি জমি এবং টয়োটা ব্র্যান্ডের দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ জারি করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজ নামে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এই সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে আসামি তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে বিক্রি, স্থানান্তর বা বেহাত করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হলে রাষ্ট্র মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেই যুক্তিতেই আসামির জমি, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছিল।
/আশিক
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অন্তর্ভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২৩টি কারখানা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
পোশাক কারখানাগুলো বন্ধের পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা রপ্তানি খাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ইউরোপের বাজারে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব নজরদারি সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে কাজের ক্রয়াদেশ না দেওয়ার প্রবণতাও এই খাতের জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কারখানার সুনির্দিষ্ট পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার ধরে রাখতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও শুল্ক বন্ডের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাতে বিশেষ নগদ প্রণোদনা হিসেবে মিলছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।
একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলাভিত্তিক বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশজুড়ে কঠোর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্যতালিকা না টানানোর মতো অপরাধে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও কার্টেল বা যোগসাজশের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও আইনি অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলে সংসদে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
/আশিক
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, অন্যদিকে পূর্ববর্তী অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বড় পতনের মুখে পড়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন (৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৩ লাখ) মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।
আলোচ্য অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীরা। এর আগের অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছিল ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ কমে ৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, ফলে দেশটি পঞ্চম অবস্থানে নেমে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আরও জানান, এই সময়ে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে মোট ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
- মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
- নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
- সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
- মামলার ৮ দিন পর মাদরাসায় অভিযান, কেন হয়নি কেউ গ্রেপ্তার
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
- জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
- সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা
- নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
- সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় আর্থিক পরিবর্তনের ঘোষণা বিসিবি সভাপতির
- অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
- বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
- দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
- প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
- কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- লঘুচাপের প্রভাব: দেশজুড়ে আবহাওয়ার নতুন বার্তা
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু: শাহবাজ শরিফ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে স্থানীয় জুয়েলারি খাতে বড় পরিবর্তন
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা








