৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটে ইসলামের পতাকা ওড়ার নেপথ্য কাহিনী

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ২০:৫৬:৩৮
৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটে ইসলামের পতাকা ওড়ার নেপথ্য কাহিনী

সিলেট, যাকে বলা হয় ৩৬০ আউলিয়ার দেশ। বাংলাদেশের এই উত্তর-পূর্ব জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। কিন্তু এই পবিত্র ভূমিতে ইসলামের বিজয়ের ইতিহাসটি ছিল এক বিশাল সংঘাত ও অলৌকিক ঘটনার সমষ্টি। ইতিহাসের পাতা ও লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, ইয়েমেনের মাটি থেকে আসা সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং তৎকালীন সিলেটের অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দের মধ্যে যে লড়াই হয়েছিল, তা কেবল অস্ত্রশস্ত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সত্যের আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে মিথ্যার কালো জাদুর লড়াই।

গৌর গোবিন্দের অত্যাচার ও বুরহান উদ্দিনের আর্তনাদ

চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সিলেট (তৎকালীন শ্রীহট্ট) শাসন করতেন রাজা গৌর গোবিন্দ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী কিন্তু নিষ্ঠুর শাসক। ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, রাজ্যে মুসলমানরা বসবাস করলেও তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শেখ বুরহান উদ্দিন নামক এক মুসলিম তার নবজাতক পুত্রের জন্ম উপলক্ষে একটি গরু জবাই করেন। এই খবর রাজার কানে পৌঁছালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বুরহান উদ্দিনের নবজাতক শিশুটিকে হত্যা করেন এবং তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন।

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আগমন

নিরুপায় বুরহান উদ্দিন বিচারের আশায় দিল্লির সুলতানের দ্বারস্থ হন। সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক তার ভাগ্নে সিকান্দার গাজীর নেতৃত্বে সৈন্য পাঠান, কিন্তু গৌর গোবিন্দের যাদুবিদ্যা ও শক্তির কাছে তারা পরাস্ত হন। পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.) তার ৩৬০ জন সফরসঙ্গী বা আউলিয়াকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার আধ্যাত্মিক শক্তি এবং আল্লাহভীরুতা ছিল তার মূল সম্বল।

কালো জাদু বনাম আধ্যাত্মিক শক্তি

লোকশ্রুতি রয়েছে, রাজা গৌর গোবিন্দ তার রাজ্যকে রক্ষা করতে কালো জাদুর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি তার প্রাসাদের চারপাশে জাদুকরী আগুনের বেষ্টনী তৈরি করেছিলেন এবং লোহার বিশাল সব বল ছুড়ে মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। সাধারণ অস্ত্রের মাধ্যমে এই জাদু প্রতিহত করা সম্ভব ছিল না।

কথিত আছে, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তার সঙ্গীরা যখন সুরমা নদীর তীরে পৌঁছান, তখন নদী পার হওয়ার কোনো নৌকা ছিল না। তখন শাহজালাল (রহ.) তার জায়নামাজ বিছিয়ে অলৌকিকভাবে নদী পার হন। এরপর যখন গৌর গোবিন্দের জাদুকরী প্রতিরোধের সম্মুখীন হন, তখন হযরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজানের সুমধুর ও শক্তিশালী ধ্বনিতে গৌর গোবিন্দের জাদুকরী প্রাসাদ কাঁপতে শুরু করে এবং তার সমস্ত কালো জাদু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

সিলেট বিজয় ও ইসলামের প্রচার

অবশেষে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা গৌর গোবিন্দ পরাজিত হয়ে পালিয়ে যান এবং সিলেটে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। হযরত শাহজালাল (রহ.) কেবল একজন বিজেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক। তার আগমনের মাধ্যমেই সিলেটে এবং পরবর্তীতে বাংলার এই অঞ্চলে ইসলামের সুমহান বাণী ছড়িয়ে পড়ে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ তার আধ্যাত্মিকতার ছায়াতলে আশ্রয় নেয়।

সিলেটে ইসলাম বিজয়ের এই ইতিহাস আজও মানুষের মনে জীবন্ত। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন। গৌর গোবিন্দের দম্ভ চূর্ণ করে যেভাবে সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হয়েছিল, তা ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৯:১৮:৩২
আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হলো নামাজ। ইমান বা বিশ্বাসের পর এটিই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের বিধান থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শত ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা ঈমানি দায়িত্ব।

আজ বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি; বাংলা ৩০ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ২৪ রজব ১৪৪৭। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সময়সূচি

জোহর: দুপুর ১২টা ১০ মিনিট

আসর: বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিট

এশা: রাত ৬টা ৫১ মিনিট

ফজর (আগামীকাল বৃহস্পতিবার): ভোর ৫টা ২৪ মিনিট

বিভাগীয় সময়ের পরিবর্তন (যোগ-বিয়োগ)

ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ঢাকার সময়ের সাথে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারিত হয়। নিচে সেই পরিবর্তনের তালিকা দেওয়া হলো:

যেসব বিভাগে সময় বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে ওয়াক্ত শুরু হবে)

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৫ মিনিট আগে ওয়াক্ত শুরু হবে)

যেসব বিভাগে সময় যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৮ মিনিট পরে ওয়াক্ত শুরু হবে)

রাজশাহী: ০৭ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৭ মিনিট পরে ওয়াক্ত শুরু হবে)

খুলনা: ০৩ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৩ মিনিট পরে ওয়াক্ত শুরু হবে)

বরিশাল: ০১ মিনিট (ঢাকার সময়ের ১ মিনিট পরে ওয়াক্ত শুরু হবে)

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর বিলম্ব না করে তা আদায় করা সর্বোত্তম। নামাজের সময়সূচি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।


আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ০৯:২২:২৯
আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ হলো দ্বিতীয় এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর এটিই ইসলামের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরকালে বা কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে বলে হাদিসে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শত ব্যস্ততা ও জাগতিক কাজের মাঝেও সঠিক সময়ে বা ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি ইবাদত। আজ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখটি বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ২৩ রজব ১৪৪৭। মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার কিছু বিশেষ আলামত থাকে যার মধ্যে সঠিক সময়ে ইবাদতে লিপ্ত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ লক্ষণ।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সূচি

ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী আজকের জোহর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে এবং আসরের নামাজ শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে।

দিনের আলো ফুরিয়ে যখন সূর্যাস্ত হবে তখন মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে এবং সবশেষে রাতের ইবাদত অর্থাৎ এশার নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে।

আগামীকাল বুধবারের ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে যা ভোরের প্রশান্তি এবং নতুন দিনের ইবাদতের বার্তা নিয়ে আসবে। এই সময়সূচিটি মূলত রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। ঢাকার বাইরের মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় মিলিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ইবাদতে কোনো ত্রুটি না থাকে।

বিভাগীয় শহরের সময়ের পরিবর্তন ও সমন্বয়

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নামাজের সময়সূচিতে কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায় যা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নির্ধারিত হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের খুলনার জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুরের জন্য ৮ মিনিট সময় যোগ করে নিজ নিজ এলাকার ওয়াক্ত মিলিয়ে নিতে হবে। এছাড়া বরিশালের মুসল্লিরা ঢাকার সময়ের সাথে ১ মিনিট যোগ করে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করবেন। মাঘের এই শীতের সকালে সঠিক সময়ে ওযু করে পবিত্রতার সাথে আল্লাহর স্মরণে লিপ্ত হওয়াই ঈমানদারের পরম প্রাপ্তি যা পরকালীন জীবনের পাথেয় হিসেবে গণ্য হবে।


রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ০৯:৪১:০০
রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত একটি মাস। এই মাসটি মুমিনের হৃদয়ে ইবাদতের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে এবং রমজানের জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। গাফিলতির অন্ধকার থেকে আত্মশুদ্ধির আলোয় ফিরে আসার জন্য রজব মাস এক অনন্য সময়। রজব মাস শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন, বাংলা অর্থ হলো “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন” (বায়হাকি-ইমান)। এই দোয়ার মাধ্যমে রজব ও শাবানে বরকত লাভ, নেক আমলের তৌফিক বৃদ্ধি এবং সুস্থতার সঙ্গে রমজানে পৌঁছার প্রার্থনা করা হয়েছে।

রজব মাসের মর্যাদা ও কোরআনিক রেফারেন্স

রজব মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো, এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস’ (সুরা তওবা-৩৬)। হাদিসেও এই চার মাসের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বছর বারো মাসে; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত, এর একটি হলো মুদার গোত্রের রজব’ (সহিহ বুখারি)। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল মহান মেরাজ—যেখানে রাসুল (সা.) আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন এবং উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে আসেন।

মেরাজ: এক অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক সফর

ইসলামের ইতিহাসে মেরাজ অত্যন্ত গৌরবময় ও শিক্ষাপূর্ণ একটি ঘটনা। মক্কা জীবনের অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত সময়ে, প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর, যখন রাসুল (সা.) গভীর শোকে নিমজ্জিত ছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে এই অনন্য সম্মান দান করেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন’ (সুরা আল-ইসরা-১)। এই ভ্রমণকে ‘ইসরা’ বলা হয়। সেখানে তিনি সব নবীদের ইমামতি করেন, যা নবুয়তের নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা।

এরপর শুরু হয় ‘মেরাজ’ বা আসমানে আরোহণ। জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাত আসমান অতিক্রম করে আদম (আ.), ঈসা (আ.), ইউসুফ (আ.), মুসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো মহান নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সবশেষে তিনি পৌঁছে যান সৃষ্টির সীমান্ত ‘সিদরাতুল মুনতাহায়’। সেখানে তিনি লাভ করেন আল্লাহর সান্নিধ্য এবং লাভ করেন উম্মতের জন্য মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।

মেরাজ কেবল একটি অলৌকিক ভ্রমণের কাহিনি নয়; এটি বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক চিরন্তন শিক্ষা। এটি মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর করুণা ও রহমতের অসীম আকাশ। আল্লাহর ক্ষমতার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই—এই বিশ্বাসই মুমিনের পাথেয়।

লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা


আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ০৯:২০:৩৯
আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

সলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর একজন মুসলিমের জীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বারবার তাগিদ দেন যে, পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখের নামাজের সময়সূচি ঢাকার সময়ের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে।

আজকের জোহরের সময় শুরু হবে ১২টা ১০ মিনিটে এবং আসরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩টা ৫৫ মিনিটে।

দিনের শেষে মাগরিবের আজান হবে ৫টা ৩১ মিনিটে এবং এশার সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ভোরে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৫টা ২৪ মিনিটে। বর্তমান সময়টি পবিত্র রজব মাসের ২২ তারিখ হওয়ায় মুমিন মুসলমানরা নফল রোজা ও বাড়তি ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নামাজের সময়ের কিছুটা তারতম্য ঘটে থাকে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় ও উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর ক্ষেত্রে সময় যোগ করতে হবে। খুলনা বিভাগে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ৭ মিনিট, রংপুর বিভাগে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট সময় যোগ করে স্থানীয় নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। নিখুঁতভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে স্থানীয় মসজিদের আজান অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৯:০২:৩৭
আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২৭ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ২১ রজব ১৪৪৭। ব্যস্ত জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের আরও বিভিন্ন নফল ও সুন্নত নামাজ থাকলেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজকের দিনের ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে।

আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে এবং মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে।

এছাড়া এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। আগামীকালের অর্থাৎ সোমবারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে।

নামাজের এই সময়সূচি মূলত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য ঘটে।

ঢাকার সময়ের সাথে বেশ কিছু এলাকার সময় বিয়োগ বা যোগ করে নিতে হবে। যেমন চট্টগ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট এলাকার জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে ঢাকার সময়ের সাথে কিছু এলাকাকে বাড়তি সময় যোগ করতে হবে। খুলনা বিভাগের জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগের জন্য ৮ মিনিট সময় যোগ করা প্রয়োজন।

এছাড়া বরিশাল বিভাগের জন্য ঢাকার সময়ের সাথে অতিরিক্ত ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এটি মানুষের আত্মিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলারও একটি মাধ্যম। তাই মুসুল্লিদের উচিত নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় অনুযায়ী জামাতে শরিক হওয়া। উল্লিখিত সময়গুলো সূর্য ও ছায়ার অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যা ঋতুভেদে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। তাই নিয়মিত সঠিক সময়সূচি সম্পর্কে অবগত থাকা প্রতিটি সচেতন মুসলিমের জন্য জরুরি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।


আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:৫৫:৩২
আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো নামাজ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই হলো ইসলামের প্রধান ভিত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন বা হাশরের ময়দানে মানুষের কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই একজন মুমিনের জীবনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত আবশ্যক।

আজ শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি (২৬ পৌষ ১৪৩২ বাংলা এবং ২০ রজব ১৪৪৭ হিজরি)। রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের জন্য সময়ের হ্রাস-বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

জোহর: দুপুর ১২টা ১০ মিনিট

আসর: বিকেল ৩টা ৫২ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিট

এশা: রাত ৬টা ৫০ মিনিট

ফজর (আগামীকাল রোববার): ভোর ৫টা ২৫ মিনিট

বিভাগীয় শহরভেদে সময়ের পার্থক্য ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাজধানী ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের বিভাগগুলোর সময় সমন্বয় করতে হবে:

সময় বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: ঢাকার সময় থেকে ০৫ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে।

সিলেট: ঢাকার সময় থেকে ০৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে।

সময় যোগ করতে হবে

খুলনা: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৩ মিনিট যোগ করতে হবে।

রাজশাহী: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৭ মিনিট যোগ করতে হবে।

রংপুর: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৮ মিনিট যোগ করতে হবে।

বরিশাল: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০১ মিনিট যোগ করতে হবে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতি বা ব্যস্ততা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।


কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১২:৫৩:১৫
কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

‘জুমা’ শব্দটি আরবি ‘জমা’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ একত্রিত হওয়া বা সমবেত হওয়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, অর্থাৎ শুক্রবার, জোহরের চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে জামাতের সঙ্গে দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করাকে সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ বলা হয়। এটি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুকিম (মুসাফির নন) পুরুষ মুসলমানদের জন্য ফরজ আইন, যা ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

কোরআনের আলোকে জুমার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব এত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো” [সূরা আল-জুমু‘আ: ৬২:৯]। এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে জুমার নামাজ ফরজ এবং এর সময় দুনিয়াবি সব কাজ স্থগিত রাখা ঈমানের দাবি।

এর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ আবার ভারসাম্যের শিক্ষা দিয়ে বলেন, “নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো” [সূরা আল-জুমু‘আ: ৬২:১০]। অর্থাৎ জুমার নামাজের মাধ্যমে আখিরাতের হক আদায়ের পর দুনিয়ার দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

হাদিসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

জুমার দিন ও জুমার নামাজ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বহু সহিহ হাদিসে ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে প্রথমে মসজিদে আসে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় ব্যক্তি গরু, তৃতীয় ব্যক্তি ছাগল, চতুর্থ ব্যক্তি মুরগি এবং পঞ্চম ব্যক্তি ডিম সদকা করার সওয়াব পায়। এরপর ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন, ফেরেশতারা তাদের আমলনামা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যায়” [সহিহ বুখারি: ৮৮১]। এই হাদিস জুমার দিনে আগেভাগে মসজিদে যাওয়ার গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

খুতবা শোনা ও নীরব থাকার সওয়াব

অন্য এক সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করল, তাড়াতাড়ি মসজিদে গেল, ইমামের নিকটে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল এবং নীরব থাকল, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়” [সহিহ মুসলিম: ৮৫৪]। এ থেকে বোঝা যায়, শুধু নামাজ আদায় নয়, বরং খুতবার প্রতি মনোযোগ ও শিষ্টাচার রক্ষা করাও জুমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুমার দিন: ইতিহাস ও দোয়া কবুলের সময়

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে” [সহিহ মুসলিম: ৮৫৪]। এছাড়া তিনি আরও বলেন, “জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান বান্দা দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল হয়” [তিরমিজি: ৪৮৭]। এই বিশেষ মুহূর্তকে ‘সাআতে ইজাবা’ বলা হয়, যা জুমার দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।

জুমার নামাজ অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি

জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা ইসলামে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তিনটি জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন” [আবু দাউদ: ৩৪৫]। এর অর্থ হলো, ধারাবাহিকভাবে জুমা ত্যাগ করলে ঈমান দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জুমার তাৎপর্য

জুমার নামাজ কেবল একটি ফরজ ইবাদত নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের জন্য একটি সাপ্তাহিক সমাবেশ, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিক শুদ্ধতার বার্তা প্রচারিত হয়। খুতবার মাধ্যমে সমাজের অনাচার, অন্যায় ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা হয়, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রেফারেন্স (References)

পবিত্র কোরআন, সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত ৯–১০

সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৮৮১ ও ৮৮৩

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৫৪

সুনান তিরমিজি, হাদিস নং ৪৮৭

সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৪৫


আজ নামাজের সময়সূচি ও সূর্যাস্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১০:২৪:২৪
আজ নামাজের সময়সূচি ও সূর্যাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, বাংলা সনের ২৫ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি সনের ১৯ রজব ১৪৪৭। পবিত্র শুক্রবার উপলক্ষে মুসলমানদের জন্য নামাজের সময়সূচি জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের নির্ধারিত সময় প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ রাজধানীতে জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে। শুক্রবারের প্রধান ইবাদত হওয়ায় এ সময়ের আগে মুসল্লিদের মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে।

সন্ধ্যার নামাজ মাগরিব আদায় করা যাবে ৫টা ৩২ মিনিটে। এর কিছুক্ষণ পর এশার নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। ইশার নামাজের মাধ্যমে দিনের নিয়মিত ফরজ নামাজ শেষ হবে।

এদিকে আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। আবহাওয়া ও সূর্যের অবস্থান বিবেচনায় এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৮ মিনিটে, যা মাগরিবের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪৩ মিনিটে। নামাজের সময়সূচি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০৯:৪৫:২৭
আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজেরই। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আজ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,

আজ ঢাকার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকাল ৩:৪৮ মিনিটে। মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৫:২৯ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬:৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল শুক্রবারের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫:২৩ মিনিটে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময়ের চেয়ে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে ওয়াক্ত নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত