যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১২:০২:১১
যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ উভয় পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে এই যুদ্ধ কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

সফরের প্রাপ্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন মিলেছে। ওআইসি সদস্য দেশগুলো আশ্বস্ত করেছে যে, তারা কেবল ভোটই দেবে না, বরং বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণাও চালাবে। এই গৌরবময় পদের জন্য বাংলাদেশ এবার সাইপ্রাসের সাথে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেক উজ্জ্বল বলে তিনি মনে করছেন।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও ওআইসি বৈঠকে সরব ছিল বাংলাদেশ। ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছি। বিমানবন্দরে এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বলিষ্ঠ অবস্থান আগামী দিনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১০:৩৮:১৩
বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
ছবি : সংগৃহীত

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিনের সরকারি এই সফরকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে সফরের শুরু থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে যাত্রা করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জেলার গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

স্বাগত পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌরসভা অভিমুখে যাত্রা করে। সফরপথজুড়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান, ব্যানার ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানান। ফলে পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

সরকারি সফরের সূচি অনুযায়ী, দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এরপর একই এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারের কাছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হবে।

সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সিটি করপোরেশনের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাশে আয়োজিত আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাধার সংরক্ষণ এবং নগর সবুজায়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দিনের শেষভাগে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সব কর্মসূচি শেষে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথেই ঢাকায় ফিরবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফরপথজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো, নদী ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং নগর উন্নয়নসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নতুন গতি আসবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, সরকারপ্রধানের এই সফর বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

-রফিক


প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:৩৮:১৩
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত দুই বছর ধরে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সরাসরি আদালতে বা আইনের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে যদি দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত আনা হয়, তবে তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার হয়ে বাধ্যতামূলকভাবে কারাগারেই যেতে হবে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এই আইনি ব্যাখ্যা ও কড়া বার্তা প্রদান করেন।

সম্প্রতি গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের দিকে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে সশরীরে আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা সমস্ত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন সবাই গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসে ওই সময়ে তাঁর সঙ্গে একযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে জোর কূটনৈতিক অনুরোধ জানিয়েছে। এখন মূল আইনি প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যেহেতু বর্তমানে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ও নজরদারিতে রয়েছেন, তাই তাঁর নিজের ইচ্ছায় বা নিজে নিজে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগই নেই।

হয় দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) আওতায় তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করা হবে, অথবা তাঁকে পুশব্যাক করা হবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, মূলত দেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে দেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার এক অপকৌশল হিসেবেই শেখ হাসিনা ভারত থেকে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনিও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

এই অবস্থায় দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের আইনি জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশের বিচারিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার নজির নেই। সুতরাং, শেখ হাসিনাকে যদি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয় বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়, তবে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে সরাসরি জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই আইনি বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে।”

আইনের জটিল ধারা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান স্বচক্ষে তুলে ধরে বলেন, “সেকশন ২১-এর ৩ উপধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার ৩০ দিনের পর আর কোনো আপিল দায়ের করার আইনি সুযোগ থাকবে না। ফলে, যদি আপিল করার নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে সুযোগ না থাকে, তবে তাঁর এই মৃত্যুদণ্ডের সাজাই সরাসরি বহাল থাকবে। আর যদি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করা যায়, তবে উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার মামলার বাইরেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দীর্ঘ তদন্তকাজ অবশেষে সফলভাবে শেষ হয়েছে।

আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে এই ঐতিহাসিক মামলার আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এ ছাড়া গত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকাজ একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সেগুলোও দ্রুতই বিচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

/আশিক


তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:০৯:০২
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের উদীয়মান ও নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু শক্তিশালী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নতুন ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা এখন থেকে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই মাত্র ৭ শতাংশ সর্বোচ্চ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সুবিধা লাভ করবেন।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের একটি লিখিত প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক জবাবে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের এই বিশেষ বৈঠকটি শুরু হয়। (উল্লেখ্য, মূল তথ্যে স্পিকারের নামের সাথে বীরবিক্রম পদবি যুক্ত থাকলেও তিনি মূলত একজন বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমানে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)।

সংসদকে বিস্তারিত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সামগ্রিক তহবিলের আকার পূর্বের মাত্র ১০০ কোটি টাকা থেকে একলাফে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বর্ধিত ও বিশেষ তহবিল থেকেই নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ এবং জামানত জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, দেশে নতুন আইডিয়ার উদ্ভাবনী স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের আর্থিক টানাপোড়েন দূর করতে ও ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজলভ্য করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পৃথক ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে তরুণ আইটি ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ নামমাত্র সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণের অভাবনীয় সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া স্টার্টআপ খাতে কেবল ঋণের বোঝাই নয়, বরং সরাসরি ইক্যুইটি বিনিয়োগের (অংশীদারিত্বমূলক পুঁজি) সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে দেশের ৩৯টি শীর্ষ তফসিলি ব্যাংকের যৌথ অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, পিএলসি’ নামে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগ্য ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো সরাসরি ইক্যুইটি অর্থায়ন বা মূলধনী সহায়তা লাভ করবে, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করবে।

দেশের বিশাল বেকার যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বিগত ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সফলভাবে তার মেয়াদ শেষ করেছে।

বর্তমানে এই সফল যুব ঋণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও পরিধি আরও ধরে রাখতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ নতুন ও বৃহৎ একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কাজ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে।

/আশিক


প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১০:০২:২৫
প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল। একাধিকবার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ পরিবর্তনের পর শিক্ষা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ফলে দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

ফল প্রকাশ উপলক্ষে দুপুর ১২টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল, নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হবে।

দুই মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও দ্রুত নিজেদের ফল জানতে পারবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক কিংবা এয়ারটেল—যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে খুব সহজেই ফল জানা যাবে। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে প্রথমে DPE লিখে একটি স্পেস দিতে হবে, এরপর পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে DPE 123456 এবং সেটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

অনলাইনের মাধ্যমে বিস্তারিত ফলাফল দেখতে চাইলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করলে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও মার্কশিট দেখা যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ফল প্রকাশের পর কিছু সময় ধৈর্য ধরে চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য সরকারি মাধ্যম থেকেই ফল সংগ্রহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রাফসান


বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ০৯:৪০:৪০
বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব এলাকায় বহু মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেই নয়, তার টিমের সদস্যদের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাস্তব অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা যায়।

মুখপাত্র জানান, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর এবং জরুরি অবকাঠামো সচল রাখার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, রবিবার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলমান দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুই কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক অনুদান অনুমোদন করেছেন। এই অর্থ দ্রুত জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন আরও জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক কর্মীরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মী এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার আহ্বানের পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি, গবাদিপশু খামারি এবং গৃহহারা পরিবারের জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পেতে পারে।

বর্তমানে চালু থাকা এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তা দ্রুত পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানান মুখপাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদত হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন। সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সমন্বিত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

-রফিক


ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:০৯:১৭
ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ রেশন সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির বাজারে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়া এবং ধার-দেনার মানসিক চাপে থাকা কর্মচারীদের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতেই সরকারের এই বিশেষ কল্যাণমুখী উদ্যোগ।

ইতিমধ্যে রেশন সুবিধা চালুর এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সরকারের অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী তিন মাস পর বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে এই কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ অগ্রগতিও বাধ্যতামূলকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

কর্মকর্তাদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি মূলত মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র থেকে উঠে এসেছে। গত ৩ মে আয়োজিত বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। ডিসি সম্মেলনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ এখন এটি স্বল্প, মধ্য নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করবে—সেই রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে হবে।

সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রাসঙ্গিক। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সাধারণ কর্মচারীদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় সুযোগ-সুবিধার অভাবকে অযুহাত বানিয়ে অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, রেশন চালু হলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন এই সুবিধা পান, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, সরকারি কাঠামোর ১২তম গ্রেডের পদের মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক ও অডিটর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড হলো সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর; যার মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বর্তমানে দেশে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান), পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, এনএসআই, এসএসএফ, দুদক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ মোট ১০টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সুলভ মূল্যে এই সরকারি রেশন সুবিধা পেয়ে আসছেন। উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশনে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সরকারি কর্মচারীরা এই রেশনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন এবং তৎকালীন খাদ্য উপদেষ্টাও এর পক্ষে অর্থ বিভাগে সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। এবার চূড়ান্ত সম্মতি মেলায় বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া।

সূত্র: বাসস


খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:৪০:৪২
খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তাদের তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় অজুহাতে বিদেশ ভ্রমণের নামে জনগণের অর্থ অপচয়ের দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অতীতে সরকারি আমলারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা নদী-নালার কচুরিপানা পরিষ্কার করার পদ্ধতি দেখার মতো হাস্যকর বিষয়েও রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে যেতেন; তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সেই অরাজক পরিস্থিতি আর নেই।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের নলাম এলাকায় ‘গণবিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক ও গতিশীল শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে দুই বছরের উচ্চশিক্ষার কোর্স নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছরের শিক্ষা জীবন কোনো ধরনের সেশনজট ছাড়াই শিক্ষার্থীরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা), খেলাধুলা ও নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং এ দেশের প্রকৃত ও সত্য ইতিহাস ধাপে ধাপে পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হবে। বর্তমান পাঠ্যবইগুলোতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি দূর করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে; তবে সামগ্রিক কারিকুলামের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (টিটিসি) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ নতুন মডেলে আধুনিক উপায়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী রবিবার (১২ জুলাই) এই বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এবারই দেশের শিক্ষা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই জাতীয় বৃত্তি ব্যবস্থার আওতার সুযোগ পেয়েছে। আপাতত কোটা বিন্যাস হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ভর্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনলাইনে আগাম ফাঁস বা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো সার্ভার বা কারিগরি জটিলতা ছিল না। মূলত একজন অপারেটর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ফলটি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। এই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মূল অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার সব পরীক্ষা বা ভর্তির ফলাফল দেশজুড়ে একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে চায়। পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক প্রস্তুতি ছাড়া কোনো একটি ফলাফল আগেভাগে বা আংশিকভাবে প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো অনিয়ম বা গাফিলতি কঠোর হস্তে দমন করা হবে, কোনো বরদাশত করা হবে না।

উক্ত মূল আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার আগে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও হাজারো শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:২৯:৪৮
শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের একটি বড় অসঙ্গতি ও বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ ভবনে আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালরাতে তাজউদ্দীন আহমদ স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হতে পারেন না এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো অবদান থাকুক—এটি তিনি চান না। স্পিকারের দাবি অনুযায়ী, এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত ও নৃশংস আক্রমণের মুখে যখন সমগ্র বাঙালি জাতি দিশেহারা এবং অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা সাহসের সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই চরম সংকটময় ও নেতৃত্বহীন মুহূর্তেই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য জাতিকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, ‘এটিই হলো বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রকৃত সত্য ইতিহাস।’

মেজর হাফিজ উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস চর্চার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের আপামর জনসাধারণের একটি সমন্বিত ‘জনতার যুদ্ধ’। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা অন্য সবার অবদান অস্বীকার করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার পুরো কৃতিত্ব নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের প্রতি এক চরম অন্যায়। রাজনীতিবিদদের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত অন্যের ত্যাগ ও কৃতিত্ব হাইজ্যাক বা ছিনতাই করতে পছন্দ করেন এবং নিজের দলের নির্দিষ্ট নেতা ছাড়া অন্য কাউকে ইতিহাসে স্থান দিতে চান না।

আলোচনা সভায় স্পিকার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন সক্রিয় ছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর কোনো পূর্বপরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছাড়াই একেকটি ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি অফিসার ও সৈনিকেরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন। সামরিক বাহিনীর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল পরবর্তী ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি।

নিজের সামরিক জীবনে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার প্রতি গভীর টানের কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাতেই তিনি ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে’ যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।’

এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি আধুনিক সামরিক বাহিনীতে সাধারণ সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত ও আত্মিক বন্ধন, তা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

/আশিক


পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:১৪:৫০
পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের টেকসই ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার স্বার্থে শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি হলেও, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো ধরনের নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ বর্তমান বাংলাদেশে আর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই অনমনীয় ও পরিবেশবান্ধব নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল বা উৎসগুলো যদি আমরা আগে নির্ধারণ করতে না পারি, তবে কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাই বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর পরিণতি বা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই সাধারণত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে দেখা যায়। কিন্তু এই সংকটের মূল সোর্স বা উৎসগুলো নিয়ে তেমন কোনো ফলপ্রসূ কথা হয় না। অথচ সংকটের প্রকৃত উৎপত্তিস্থলগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে আমরা কখনোই একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব না।

বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে অন্যতম প্রধান জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আর এই কারণেই বর্তমান সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সুরক্ষার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করছে।

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নিজের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, যতদিন তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, ততদিন পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে দেশের সামগ্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবেন।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে কলকারখানার উৎপাদন বাড়াতেই হবে, যার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্প খাতের বিকাশ। তবে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করার নামে আমাদের অমূল্য পরিবেশকে নষ্ট বা জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করা হবে–সেটি কোনোভাবেই বর্তমান প্রশাসন মেনে নেবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই বিশেষ সেমিনারে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: