স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:২১:০৩
স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার জন্য চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবককে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করে দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করবে।

শুক্রবার বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সরকারি সহায়তা যদি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছে, তবে রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গণমাধ্যম খাতের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য মন্ত্রণালয় যেই সময় গড়ে উঠেছিল, তখন প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের বিস্তার ছিল না। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বহুমাত্রিক তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিসম্মত এবং জবাবদিহিতামূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা একে অপরের পরিপূরক। পেশাগত মানদণ্ড বজায় রেখে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে একটি সুসংহত জবাবদিহিতা কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

বরিশাল আদালতপাড়ায় সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানবেন। প্রয়োজন হলে আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬১ জনের মাঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর অনুদানের ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন তিনি। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মানা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবহন শ্রমিক নেতাদের একাংশের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই অরাজক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এবং ফারজানা ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

-রফিক


খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৯:২০:৩৭
খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারিভাবে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধ এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করানো জরুরি। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কর্মীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনি এলাকায় পাঁচটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মীদের ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানা থাকলে কর্মীরা কর্মস্থলে যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন।

তিনি বিদেশ যেতে আগ্রহীদের দালাল বা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ অর্জনের পর বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথও আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস


দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৮:১৪:৩০
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সরবরাহ সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ঢাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য জেলা ও গ্রামাঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ও পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্রিডের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি জটিল রূপ নিয়েছে।

এই ঘাটতির প্রভাব সুষমভাবে বণ্টন করতে ঢাকার দুই প্রধান বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। রাজধানীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অংশটি ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর বাইরের শিল্প-কারখানায় সরবরাহ যেমন স্থিতিশীল হচ্ছে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিও কিছুটা কমে আসছে।

সরকারের মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন না রেখে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের বোঝা সুষম রাখা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া, প্ল্যান্টগুলোর ত্রুটি দূর করা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য এলাকায় পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে সাময়িক স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১১:৩৪:৪২
দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত দুবার সেই উদ্যোগ শেষ মুহূর্তে থমকে গেছে। সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাননি। ফলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে কোন বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের এই সফরের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।

তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসা ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বেও বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দুই পথেই তার দিল্লি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আগস্টে পরিকল্পিত সফরগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্ন। ঢাকার অবস্থান হলো, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা কঠিন।

অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। দিল্লি বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড; এসব বক্তব্যকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বাইরে দুই রাজধানীর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ রয়ে গেছে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি আয়োজনে শেখ হাসিনার অনলাইনে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বাংলাদেশের একটি অংশের ধারণা, ভারতের অন্তত নীরব সম্মতি ছাড়া দিল্লিকেন্দ্রিক এমন রাজনৈতিক উপস্থিতি সহজ হতো না। ঢাকা এ নিয়ে প্রকাশ্যেও অসন্তোষ জানিয়েছে।

ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে আবার ভিন্ন একটি মূল্যায়ন রয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শেখ হাসিনা সরাসরি বাংলাদেশে ফিরে গেলে যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটি সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্যও সহজ হবে না এমন বিশ্লেষণ দিল্লির কিছু মহলে রয়েছে। তবে এটি ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়; বরং সংশ্লিষ্ট মহলের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

ফলে একই ইস্যুকে ঢাকা ও দিল্লি দুই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিচার এবং জনমতের সঙ্গে যুক্ত; ভারতের জন্য এটি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই ক্ষেত্রকে যতটা সম্ভব পৃথক রাখার প্রশ্ন।

দিল্লি চাইছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি বিরোধের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মতো পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে আলোচনা এগিয়ে যাক। ভারতীয় কূটনৈতিক মহল থেকে ঢাকাকে এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন আটকে রাখা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

কিন্তু ঢাকার সামনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য অব্যাহত রাখলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর দেশে কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছ থেকে অন্তত এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায়—ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অন্যদিকে দিল্লির কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রত্যর্পণের পরিবর্তে শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল সমাধান হিসেবে দেখছেন।

এই প্রশ্নে কোনো গ্রহণযোগ্য সমঝোতা তৈরি হলে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, প্রত্যর্পণ বা সম্ভাব্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো এমন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

তারেক রহমানকে দ্রুত দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের বেশ কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্পের গতি কমেছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো প্রকল্প এবং সীমান্তসহ একাধিক বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তারেক রহমান ইতোমধ্যে বেইজিং সফর করায় দিল্লির কাছে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য, দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং সড়ক-রেল যোগাযোগের কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা কঠিন। ফলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক সচল রাখতে আগ্রহী হলেও কোন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে তা করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাব্য পথ হিসেবে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের তুলনায় বহুপক্ষীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম স্পর্শকাতর হতে পারে। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে অংশ নিলে সফরটিকে সরাসরি ভারত সফরের পরিবর্তে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবেও উপস্থাপন করা সম্ভব।

তারেক রহমান ব্রিকসের আয়োজনে দিল্লি গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সুযোগও তৈরি হতে পারে। বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সাইডলাইনে এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বাভাবিক ঘটনা। সে ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রশ্নটি এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়সূচিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জনমত, ভারতের কৌশলগত স্বার্থ, চীন ফ্যাক্টর এবং দুই দেশের আটকে থাকা দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা জড়িয়ে গেছে।

-রফিক


ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ২১:৩৩:৩৫
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদ আজও বিভিন্নভাবে জন্ম নেয় এবং নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে। নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে গুম-হত্যার মতো অন্যায় সৃষ্টি করা হয়। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সমাজকে মুক্ত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিশু-কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম মানুষকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়। তার গান, কবিতা ও জীবনদর্শন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সৃষ্টি করে।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সাধারণ রাজনীতিবিদদের তুলনায় রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পথ অনেক বেশি কঠিন। একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের বিকাশের পথও সুগম করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার তূর্যবাদক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তিনি নিয়েছিলেন।

রিজভী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার পিতার সেই উদ্যোগকে অনুসরণ করে এ বছর ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষে’ শিশুদের শারীরিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে।

সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী রংপুরে একটি শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা ও মাদকের প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে নজরুলের গান, কবিতা ও জীবনদর্শনের ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন।

‘চল্ চল্ চল্’ রণসংগীতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নজরুল পিছিয়ে পড়া জাতিকে অলসতা ঝেড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বদরবারে এগিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছেন। তার গান মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন আহমেদ স্টালিন। এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:৪০:৪১
চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে আলোচনা শেষে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে এর বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, এমআরসিএ হিসেবে জে-১০সিই এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন বৈঠক হয়েছে। ওই আলোচনার ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।

চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তার দাবি, ওই সংঘাতে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এ ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের দাবির স্বাধীন যাচাই নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সতর্কতা রয়েছে

জাহেদ উর রহমান বলেন, জে-১০ একটি মাল্টিরোল ফাইটার এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের যুদ্ধবিমানের দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগের কথা উঠে এসেছিল। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত চুক্তি ও মূল্য নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি ব্যবস্থাও যুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:২১:১৪
মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে। তাঁর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও মহানবী (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হতে পারে। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাই তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীর শেষে মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন তিনি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আবারও আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:২২:২৭
আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কারও আত্মীয় হিসেবে নয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আরও পেশাদারভাবে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক তাকে মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। জবাবে পার্থ বলেন, তিনি আশা করেছিলেন প্রশ্নটি আরও পেশাদারভাবে করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আরও প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।’

সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না এবং কবে নাগাদ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাওয়া যাবে— জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জবাবে পার্থ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন—এটি বাংলাদেশ সরকারের জানা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে জানানো হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার জানা মতে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে।

এ বিষয়ে পার্থ বলেন, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

/আশিক


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:০৫:১১
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তার শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশের সরকার যা করছে, সংবিধান মেনেই করছে।’

এর আগে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

এদিন আইনমন্ত্রী সরকারের আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, গুম ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সরকার গঠনের পর পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, কোনো ভুক্তভোগী নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

/আশিক


নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১০:৫৭:৪১
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে বড় পরিসরের ক্রয় পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থাটি। একই সঙ্গে গুদাম সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং পণ্য বিতরণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, পরিকল্পিত পণ্যের প্রায় অর্ধেক স্থানীয় বাজার এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোন উৎসে দাম, মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতা বেশি সুবিধাজনক—তার ওপর চূড়ান্ত ক্রয়ের অনুপাত নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রে তুলনামূলক ভালো শর্ত পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে আমদানির অংশ বাড়ানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে ভোজ্যতেলের জন্য। টিসিবি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস মিলিয়ে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ করতে চায়। পাশাপাশি ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনছে সংস্থাটি। মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং ইতোমধ্যে কেনা কিন্তু সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা পণ্যের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে ছেড়ে সরবরাহের ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো।

বিশেষ করে রমজান, ঈদ কিংবা নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় বাজারে টিসিবির কার্যকর উপস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত মজুতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিসিবির মজুত পরিস্থিতি চলমান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সন্তোষজনক। তবে ভবিষ্যতে বাজারে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা বাড়াতে ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি লজিস্টিক অবকাঠামোও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে টিসিবির ব্যবহারে মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯টি সংস্থার নিজস্ব, আর ৩১টি ভাড়া করা। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়া করা গুদামে ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন পণ্য রাখার সুযোগ রয়েছে।

ভাড়া করা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন নিজস্ব মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে টিসিবি। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় আকারে পণ্য কিনে সুবিধাজনক সময়ে বাজারে সরবরাহ করতে হলে নিজস্ব গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

নিত্যপণ্যের বাজারে টিসিবির প্রভাবও বাড়াতে চায় সরকার। চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের সামগ্রিক বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ। তবে পরিবারভিত্তিক ভোগের বাজার বিবেচনা করলে টিসিবির কার্যকর অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে মনে করেন তিনি।

মসুর ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন হচ্ছে, বড়সংখ্যক পরিবারের জন্য তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করা গেলে খুচরা বাজারেও এর একটি মূল্য-স্থিতিশীলকারী প্রভাব তৈরি হয়।

সরকারি ভর্তুকির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও টিসিবির নতুন কৌশলে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য সীমিত মুনাফায় বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে ভোক্তারা বাজারের তুলনায় কম দামে পণ্য পাবেন, অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের জন্য সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি দিতে হবে না।

টিসিবির পণ্যতালিকাও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এতদিন ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির মতো কয়েকটি পণ্যকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, মরিচ, হলুদ এবং বিভিন্ন মসলা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে নতুন এসব পণ্য ভর্তুকির আওতায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান। প্রতিযোগিতামূলকভাবে সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীদের জন্য অতিরিক্ত পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করা হবে না।

কোন পণ্য টিসিবির বিক্রয়তালিকায় যুক্ত হবে, সে সিদ্ধান্তেও ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন পণ্য চালুর আগে জরিপ করে সুবিধাভোগীদের প্রয়োজন ও আগ্রহ যাচাই করা হবে। ভোক্তার বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই ধাপে ধাপে পণ্যের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

টিসিবির কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থায়। চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সুবিধাভোগীদের আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে সুবিধাভোগীর তালিকা স্থায়ী নয়। মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, স্থানান্তর কিংবা যোগ্যতার পরিবর্তনের কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য একটি গতিশীল সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য বিতরণে অনিয়ম কমানো এবং লেনদেনের তথ্য আরও সহজে যাচাই করতে পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করার কাজও চলছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে সুবিধাভোগীর পরিচয় যাচাই করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্য কেনার পর গ্রাহক লেনদেনের রসিদও পাবেন।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ডিজিটাল সুবিধা তৈরির কাজও চলছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থায় একজন সুবিধাভোগী নিজের কার্ডের তথ্য ডিজিটালভাবে দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা কিংবা নগদ অর্থের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। ফলে কার্ড ব্যবস্থাপনা থেকে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ সহজ হবে।

আরও বড় পরিসরে টিসিবির ডিজিটাল অবকাঠামোকে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২১ ধরনের কর্মসূচি সংযুক্ত করার প্রযুক্তিগত সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও সুবিধাভোগীভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনায় এই অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

টিসিবির সামগ্রিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুধু কম দামে পণ্য বিক্রি নয়; বরং বাজারে প্রয়োজনের সময় দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম একটি রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ, পর্যাপ্ত মজুত, শক্তিশালী গুদাম ব্যবস্থা, ডিজিটাল সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ এবং চাহিদাভিত্তিক পণ্যতালিকা সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সঠিক সময়ে পণ্য কেনা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি সামলানো, ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ডিলার পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পিত ক্রয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে আকস্মিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময় টিসিবির হস্তক্ষেপের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: