লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান

ডায়রিয়া অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের হালকা ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে দ্রুত স্বস্তি পেতে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের কথা বলেন। লোপেরামাইড (Imodium) বা বিসমাথ সাবস্যালিসিলেট (Pepto-Bismol) জাতীয় ওষুধ অন্ত্রের চলাচল ধীর করে সাময়িক উপশম দিতে পারে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা। এ সময় প্রচুর পানি, চা, আপেলের রস বা ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে হবে। চাল সেদ্ধ করা ভাতের মাড় শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। এর পাশাপাশি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেয়ারা পাতার ট্যানিন বা শুকনো আদা হজমশক্তি বাড়াতে এবং ডায়রিয়ার উপসর্গ কমাতে দারুণ কাজ করে।
ডায়রিয়ার সময় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় দুধ, পনির, কফি বা অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত ওটমিল এড়িয়ে চলা উচিত। তার বদলে সাদা ভাত বা আলুর মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া শরীরের জন্য নিরাপদ। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি পেটে হালকা গরম সেঁক দিলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়গুলো কাজ না করলে এবং লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
/আশিক
ওষুধ ছাড়াই কমবে টনসিলের যন্ত্রণা: হাতের কাছেই আছে জাদুকরী সমাধান!
প্রকৃতি থেকে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ। এই সময়ে অনেকেরই গলার ভেতরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়, বিশেষ করে ঢোক গিলতে গেলে কষ্ট বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণত টনসিলের ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। যে কোনো বয়সেই এই সমস্যা হানা দিতে পারে। যদিও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা জরুরি, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রাচীন পদ্ধতি হলো হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলিকুচি করা। লবণ পানি কেবল সংক্রমণই রোধ করে না, এটি গলার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতেও সাহায্য করে। এছাড়া এক কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে তৈরি আদা চা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার পান করলে টনসিলের সংক্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়। আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গলার জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
চায়ের ক্ষেত্রে গ্রিন টি-র সাথে মধুর মিশ্রণও বেশ উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি ক্ষতিকর জীবাণু নির্মূল করে গলার কোষগুলোকে সজীব রাখে। দিনে কয়েকবার এই মধু-মিশ্রিত চা পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং টনসিলের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলো হতে পারে আপনার সেরা সুরক্ষা। তাই অসুস্থতা বাড়ার আগেই সতর্ক হওয়া এবং ঘরোয়া এই টিপসগুলো মেনে চলা জরুরি।
মাথাব্যথা মানেই কি ব্রেন টিউমার? জেনে নিন লক্ষণ চেনার বৈজ্ঞানিক উপায়
মাথাব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক সময় এটি মারাত্মক কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা বা ব্যথার অস্বাভাবিক ধরন মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সব মাথাব্যথা ভয়ের কারণ না হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলে মাথাব্যথা হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া বা মাইগ্রেনের মতো সাধারণ কারণে হয়ে থাকে। টিউমারের আকার ও অবস্থান যখন মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখনই মূলত এই বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়।
ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা চেনার উপায়
চিকিৎসকদের মতে, টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে সচরাচর কমে না। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো
১. রাতে তীব্র মাথাব্যথার কারণে হুট করে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
২. শোয়া থেকে ওঠা বা শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা বদলে যাওয়া।
৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা।
৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ব্যথার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়া।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? বিশেষজ্ঞরা কিছু ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেতের কথা জানিয়েছেন, যা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
মাথাব্যথার সঙ্গে ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
শরীরের ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা।
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা বা হঠাৎ দ্বিগুণ দেখা।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা খিঁচুনি শুরু হওয়া।
শরীরের কোনো এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া বা অবশ অনুভূত হওয়া।
ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বা অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, যদি কারও শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই অস্বাভাবিক মাথাব্যথাকে ‘সাধারণ’ মনে করে চেপে না রেখে সঠিক পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : যশোদা হাসপাতাল
পুরুষের নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার: জেনে নিন ক্যানসারের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের সমস্যা একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রন্থির নানাবিধ জটিলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় চিকিৎসকরা এ বিষয়ে বাড়তি সচেতনতার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক সময় সাধারণ উপসর্গ মনে করে অবহেলা করার ফলে সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে তা শেষ পর্যন্ত ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোস্টেটের সমস্যা মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে— প্রোস্টেট গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, প্রোস্টেটাইটিস বা সংক্রমণ এবং প্রোস্টেট ক্যানসার। সাধারণত ৫০ বছর পেরোলে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে কম বয়সী পুরুষদের মধ্যেও প্রোস্টেটের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ৪০ বছরের পর থেকে নিয়মিত প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (PSA) পরীক্ষা এবং আলট্রাসোনোগ্রাফি (USG) করানো জরুরি। এর মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের মাপ ও কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনে হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা বা কোলোনোস্কোপিও করাতে হতে পারে।
বয়সভেদে প্রোস্টেটের সমস্যার লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
২৫ থেকে ৪০ বছর
ঘনঘন জ্বর আসা, প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
৪০ থেকে ৬০ বছর
প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রিত বেগ (যা অনেকে ডায়াবেটিস মনে করে ভুল করেন), মূত্রনালিতে বারবার সংক্রমণ এবং প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি।
৬০ বছরের ঊর্ধ্ব
রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের বেগ প্রবল থাকলেও ধারা ক্ষীণ হওয়া বা শুরু হতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত আসা (হিমাচুরিয়া) এবং কোমর ও তলপেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। এছাড়া এই বয়সে মূত্রথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
নতুন মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের এক সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—এক সময় বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং বর্তমানে নির্মূল ঘোষিত প্রাণঘাতী গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স আবারও ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মহামারির কারণ হয়ে উঠতে পারে। অথবা এই ভাইরাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো ভাইরাস সেই শূন্যস্থান দখল করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভ্যারিওলা নামে পরিচিত স্মলপক্স ভাইরাসটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের পর ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবী থেকে নির্মূল ঘোষণা করা হয়। মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই মহামারিতে শুধু বিশ শতকেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব কেবলমাত্র অতি সীমিত কয়েকটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন গবেষণাগারে সংরক্ষিত নমুনার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তবে বিজ্ঞানীদের নতুন আশঙ্কার মূলে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকা। স্মলপক্স নির্মূল হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে এর টিকা দেওয়া বন্ধ থাকায় বর্তমান প্রজন্মের মানুষের শরীরে পক্সজাতীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে অর্থোপক্সভাইরাস পরিবারভুক্ত অন্যান্য ভাইরাস ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পরিচিত মাঙ্কিপক্স ছাড়াও তুলনামূলক কম পরিচিত কাউপক্স, বাফালোপক্স ও ক্যামেলপক্সের মতো ভাইরাসগুলো স্মলপক্সের জায়গা দখল করে নতুন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বিজ্ঞানীরা এখন থেকেই পক্সজাতীয় ভাইরাসগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
অফিসের কাজের চাপ, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের আসক্তি কিংবা দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে মানুষের ঘুমের সময় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। অনেকেই নিয়মিত রাত জাগছেন এবং গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের এই অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি নিজস্ব ‘জৈবিক ঘড়ি’ বা সার্কাডিয়ান রিদম থাকে। এই ছন্দ ঠিক থাকলেই শরীরের হরমোন ক্ষরণসহ যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ এই কেন্দ্রীয় ঘড়িটি নিয়ন্ত্রণ করে। যখনই ঘুমের এই চক্রটি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।
গবেষকেরা জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য রাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি নিয়মিত মাত্র ৪ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমান, তবে তাঁর শরীরে পুরুষের প্রধান হরমোন ‘টেস্টোস্টেরন’-এর মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই হরমোনের ঘাটতি সরাসরি শুক্রাণু উৎপাদন ও এর গুণমান কমিয়ে দেয়, যা পরবর্তীকালে পুরুষের বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘুমের অভাব কেবল হরমোন কমিয়েই ক্ষান্ত হয় না, এটি শরীরে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত কর্টিসল টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণকে আরও বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’, ইনসোমনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে রাতে টানা ঘুমের বিকল্প নেই। যাঁদের সহজে ঘুম আসতে চায় না, তাঁরা শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহার কমানো, নিয়মিত মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সুস্থ জীবনের জন্য জৈবিক ঘড়ির ছন্দে ঘুমানো এখন বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য প্রয়োজন।
যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীরে কৃমি রয়েছে
প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা শিশু—যে কেউই কৃমির সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। আমাদের চারপাশে থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম ও টেপওয়ার্মের মতো বিভিন্ন ধরনের কৃমি রয়েছে, যা মানবদেহের পুষ্টি শোষণ করে শরীরকে রোগাটে ও দুর্বল করে দেয়। অনেক সময় কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে, তা বাতাসের মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
স্বাস্থ্য সচেতনতায় আজ কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
যেভাবে শরীরে কৃমি প্রবেশ করে অপরিষ্কার হাত, দূষিত খাবার ও পানি কৃমি সংক্রমণের প্রধান মাধ্যম। এছাড়া সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা, অপরিচ্ছন্ন সুইমিং পুলে গোসল এবং পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শ থেকেও কৃমির লার্ভা ত্বকের মাধ্যমে শরীরে ঢুকতে পারে।
শরীরে কৃমির ক্ষতিকর প্রভাব কৃমি অন্ত্রে অবস্থান করে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান খেয়ে ফেলে। এর ফলে রক্তশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমে সমস্যা ও বমিভাব দেখা দেয়। জটিল পর্যায়ে কৃমি যকৃত বা ফুসফুসে পৌঁছে সিস্ট তৈরি করতে পারে এবং এমনকি মস্তিষ্কে পৌঁছে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীরে কৃমি আছে
১. কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়। ফলে হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকা এবং সবসময় শরীরে অবসাদ বা ক্লান্তি অনুভব করা কৃমি সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ।
৩. মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা দিলে বুঝতে হবে অন্ত্রে কৃমির বিস্তার ঘটেছে। অনেক সময় এগুলো সূক্ষ্ম হওয়ায় চোখে না-ও পড়তে পারে।
৪. পেটে প্রায়ই মোচড় দেওয়া বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হওয়া কৃমির সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যথা অনুভূত হলে সতর্ক হতে হবে।
৫. কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তে মিশে গেলে ত্বকে ফুসকুড়ি বা চুলকানি দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে পায়ুপথে চুলকানি হওয়া কৃমি সংক্রমণের একটি বড় লক্ষণ।
সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করা জরুরি।
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন কতবার প্রস্রাব স্বাভাবিক? জেনে নিন সঠিক তথ্য
শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহক হলো প্রস্রাব। কিডনির মাধ্যমে রক্ত ফিল্টার হয়ে ইউরিয়া, টক্সিন ও অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের গন্ধ হালকা হলেও হঠাৎ তীব্র বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো পানিশূন্যতা। শরীরে পানির অভাব হলে প্রস্রাব ঘনীভূত হয় এবং অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ তৈরি করে।
খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরনও প্রস্রাবের গন্ধে প্রভাব ফেলে। রসুন, পেঁয়াজ, অতিরিক্ত কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে প্রস্রাবে সাময়িক দুর্গন্ধ হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাবের রঙ উজ্জ্বল এবং গন্ধ তীব্র হতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দুর্গন্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের দুর্গন্ধের সঙ্গে যদি জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা বা জ্বর থাকে, তবে তা ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ (ইউটিআই) বা মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে প্রস্রাবে গ্লুকোজ বা কিটোনের উপস্থিতির কারণে মিষ্টি বা অ্যাসিডিক গন্ধ হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাবের গন্ধ থেকেই রক্তে শর্করা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। লিভারের সমস্যা বা গর্ভাবস্থাতেও এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে ৪ থেকে ৮ বার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক। এর চেয়ে কম বা বেশি হওয়া এবং সঙ্গে রঙ পরিবর্তন কিংবা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির কার্যকারিতা বা ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ব্যথানাশক ওষুধকে ‘না’ বলুন: প্রাকৃতিকভাবে পিরিয়ড পেইন ও মুড সুইং কমানোর উপায়
পিরিয়ডের ব্যথা অনেকের জন্যই মাসের এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। ক্র্যাম্প, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই সমস্যা সমাধানে সাধারণত আমরা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করি, তবে ঘরোয়া উপায়ে শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করা গেলে এই যন্ত্রণা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। পুষ্টিবিদদের মতে, বার্লি ও আদার তৈরি একটি বিশেষ উষ্ণ পানীয় এক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। এটি কেবল হজমে সহায়তা করে না, বরং শরীরের প্রদাহ কমিয়ে পিরিয়ড পূর্ববর্তী অস্বস্তি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
কী কী লাগবে এই পানীয় তৈরিতে? এই জাদুকরী পানীয় তৈরি করতে আপনার হাতের কাছে মাত্র তিনটি উপকরণ থাকলেই চলবে
বার্লি: ১ টেবিল চামচ।
আদা: ১ ইঞ্চি পরিমাণ (কুচি করা)।
পানি: ২ কাপ।
এই পানীয়টি তৈরির ক্ষেত্রে একটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—তা হলো বার্লি ভিজিয়ে রাখা। বার্লি দানাগুলো অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সকালে ভেজানো বার্লির সঙ্গে ১ ইঞ্চি আদা কুচি যোগ করে ২ কাপ পানিতে দিয়ে দিন। মিশ্রণটি মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে নিন যাতে আদা ও বার্লির গুণাগুণ পানিতে মিশে যায়। সবশেষে ছেঁকে নিয়ে হালকা উষ্ণ অবস্থায় পান করুন।
কখন এবং কেন এটি পান করবেন? ঋতুস্রাবের ব্যথার ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পানীয়টি গ্রহণ করা জরুরি। এটি কোনো তাৎক্ষণিক ম্যাজিক নয় যে ব্যথা শুরু হলে সাথে সাথে কাজ করবে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করার একটি প্রক্রিয়া। আপনার মাসিক শুরু হওয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আগে থেকে প্রতিদিন ১ কাপ করে এই পানীয় পান করা শুরু করুন। সকালে বা সন্ধ্যায় যেকোনো এক সময় এটি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
বার্লি মূলত অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ বা ডিটক্সে সহায়তা করে, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরি। অন্যদিকে, আদা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি হিসেবে কাজ করে যা পেট ফাঁপা, প্রদাহ এবং অলস অনুভূতি কমাতে দারুণ কার্যকর। একসঙ্গে এই দুই উপাদানের মিশ্রণ পিরিয়ডের আগের সেই অস্বস্তিকর সময়টিকে অনেক বেশি সহনীয় করে তোলে। এটি কোনো রাসায়নিক ছাড়াই শরীরকে দেয় ধারাবাহিক ও মৃদু সুরক্ষা।
নীরব ঘাতক ফুসফুস ক্যানসার: প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ৫টি উপায়
ফুসফুসের ক্যানসার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে অন্যতম বড় এক চ্যালেঞ্জ, যার প্রধান কারণ হলো এর অত্যন্ত ধীর ও নিভৃত প্রকৃতি। শরীরের ভেতরে এই মরণব্যাধি যখন ডালপালা মেলতে শুরু করে, তখন প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রায় কোনো জানানই দেয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা একে সাধারণ সর্দি-কাশি, সিজনাল অ্যালার্জি কিংবা স্রেফ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ‘সাধারণ’ আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক প্রাণঘাতী সত্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, কারণ মানুষ এর সূক্ষ্ম সংকেতগুলো চিনতে ব্যর্থ হয়। তাই শরীরের ভেতরে চলমান কোনো পরিবর্তন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তাকে অবহেলা করা মানেই হলো জীবনের বড় ঝুঁকি নেওয়া। সচেতনতাই হতে পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে বাঁচার প্রথম এবং প্রধান প্রতিরক্ষা।
ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অনেক বেশি সহজ হয়। নিচে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেওয়া হলো যা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত
সচরাচর সর্দি বা কাশির সমস্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যাওয়ার কথা। কিন্তু যদি কোনো কাশি টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং প্রচলিত ওষুধে উপশম না হয়, তবে সেটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ফুসফুসে ক্রমবর্ধমান টিউমার শ্বাসনালিতে অনবরত জ্বালা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যা শরীরকে অনবরত কাশির মাধ্যমে প্রতিক্রয়া দেখাতে বাধ্য করে। কাশির তীব্রতা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে কিংবা কাশির ধরণে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে কোনোভাবেই বিলম্ব করা উচিত নয়।
কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি হঠাৎ শরীর থেকে ওজন ঝরতে শুরু করে, তবে তা বিপদের সংকেত। যখন শরীরে ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি পায়, তখন সেই কোষগুলো বিভাজিত হওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যয় করে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচণ্ড ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত বোধ করেন। ক্যানসার কোষ শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভাণ্ডার নিঃশেষ করে দেয় বলে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।
অনেক সময় ঠান্ডা লাগলে গলা ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই যদি দীর্ঘ সময় ধরে কণ্ঠস্বর কর্কশ বা মোটা হয়ে থাকে, তবে তা ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ফুসফুসের টিউমার যদি এমন কোনো স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যা আমাদের ভোকাল কর্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তবে কণ্ঠস্বরে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে গলার কর্কশতার সঙ্গে যদি নিয়মিত কাশি লেগে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সাধারণ কায়িক পরিশ্রম কিংবা অল্প হাঁটাচলার সময় যদি বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তবে তা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। টিউমার যখন শ্বাসনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিংবা ফুসফুসের চারপাশে তরল জমতে শুরু করে, তখন বায়ু চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে আসে। একে স্থূলতা বা বয়সের দোষ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া অনেক সময় মারাত্মক ভুল বলে প্রমাণিত হতে পারে।
অনেক রোগীই বুক বা কাঁধের ব্যথাকে মাংসপেশির সাধারণ টান মনে করে ভুল করেন। কিন্তু ফুসফুসের টিউমার যদি পার্শ্ববর্তী স্নায়ু বা হাড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় কিংবা হাসার সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা কাঁধ বা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে যদি পূর্বোক্ত উপসর্গগুলোর কোনোটি লক্ষ্য করা যায়, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, উপরের উপসর্গগুলো থাকা মানেই যে ক্যানসার হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে এগুলো শরীরের অস্বাভাবিকতার লক্ষণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
পাঠকের মতামত:
- লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
- সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহারেই বিপদ! ত্বকের সুরক্ষায় জানুন সঠিক নিয়ম
- হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
- ব্যক্তিগত মুহূর্ত বেচবেন না বিজয়-রাশমিকা: মোটা অঙ্কের অফার নাকচ
- এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
- ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার নিয়ে প্রস্তুত শায়খ আহমাদুল্লাহ: এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ উপহার
- কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
- আজকের আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- শপথে যে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
- শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
- রবিবার কেনাকাটায় সতর্কতা জরুরি, বহু মার্কেট বন্ধ আজ
- ঢাকায় আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার
- সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়সহ আজকের নামাজের সময়সূচী প্রকাশ
- জিন, জাদু, হিংসা ও মানসিক অস্থিরতার প্রতিকার: সূরা নাস
- রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য ক্যাবিনেটে একঝাঁক নতুন মুখ: দৌড়ে এগিয়ে যারা
- জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার শপথের পালা: চূড়ান্ত হলো দিনক্ষণ
- বৃহস্পতির আকার নিয়ে পুরোনো সব হিসাব ভুল: নতুন তথ্য দিল নাসা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক রেকর্ড
- কাল শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান: নতুন রাজনীতির সংকেত?
- খালি পেটে না ভরা পেটে? লেবু পানি পানের আসল সময় জানালেন পুষ্টিবিদরা
- আল্লাহ আমার ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন: মির্জা আব্বাস
- কে হচ্ছেন দেশের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী?
- ফের রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন ডাকসু ভিপি
- ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে কারচুপি? ৩০টি আসনে জয়ের দাবি নিয়ে সরব জামায়াত
- পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়ামন্ত্রী বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে: আসিফ মাহমুদ
- জামায়াত আমিরের প্রশংসা করে ইউনূসের বিশেষ বার্তা
- রক্তক্ষয়ী ১৭ বছর আর ৬ লাখ মামলা: বিজয়ী বেশে সব হিসাব দিলেন ফখরুল
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমান
- নির্বাচনোত্তর ব্রিফিংয়ে ভবিষ্যৎ রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- কীভাবে বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হলো "ভ্যালেন্টাইনস ডে": জানুন পূর্নাঙ্গ ইতিহাস
- ফরিদপুরের সালথা সহিংসতায় কঠোর বার্তা শামা ওবায়েদের
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- ঘরে বানান রেস্টুরেন্ট-স্টাইল সুইট কর্ন স্যুপ
- ছুটির দিনেও খোলা থাকছে যেসব ব্যাংক
- ফোনালাপে তারেক-শাহবাজের পাল্টাপাল্টি আমন্ত্রণ: খুলছে কি বন্ধ দুয়ার?
- ওষুধ ছাড়াই কমবে টনসিলের যন্ত্রণা: হাতের কাছেই আছে জাদুকরী সমাধান!
- মোদি-তারেক ফোনালাপ ও মমতার ভাই’ ডাক: ওপার বাংলার মিডিয়ায় তোলপাড়!
- নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা: ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি জনসেবায় তিন নেতা!
- কলম্বোর আকাশে যুদ্ধের দামামা: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট এখন সোনার হরিণ!
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা
- ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির ডাক: পরাজয়কেও সাফল্যের চোখে দেখছেন ডা. শফিক!
- অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ব্যর্থ ইউনূস: দেড় বছরের ধাঁধায় নয়া মোড়!
- টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ছক: কেমন হবে নয়া বাংলাদেশ?
- তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- চট্টগ্রাম বন্দর পুরো অচল! ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড








