সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর তোড়জোড় চললেও মাঠের বাইরের উত্তাপ থামছে না। গত বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে একদল সাকিব সমর্থক সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের বাইরে সাকিবের নামে স্লোগান দেন এবং এক পর্যায়ে ভেতরে প্রবেশ করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেন। যদিও বেনামে দায়ের করা এই অভিযোগটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকলে তা বাতিল করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরণের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকফ্রেনজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি এই বিচিত্র ঘটনার কথা জানতে পেরেছেন। সাকিব স্পষ্ট করে বলেন যে, কারা তাঁর নাম ব্যবহার করে এসব করছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, আজকাল যে যেভাবে পারছে তাঁর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। দেশের মাটিতে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা থাকলেও বাইরের এই অস্থিরতা তাঁর ফেরার পথকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সমর্থকদের এই অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় এক ইফতার মাহফিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাকিব আল হাসানকে খেলতে না দেওয়াটা যদি অপরাধ বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি সমর্থকদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘মব’ সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন এবং কেন গণমাধ্যমে অভিযোগকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। দুদকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
/আশিক
সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সংসদ পরিচালনার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন কার্যাবলির অংশ হিসেবে তিনটি সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের একপেশে মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল চাপিয়ে দিয়ে সংসদের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের আইনি ভিত্তি ও সংসদীয় বিধিবিধান মানা হয়নি দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গণভোটের বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল অনড়। কোনো নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ার নীতিগত অবস্থান থেকেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়ার সময় সভাপতিমণ্ডলীর আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ওয়াকআউটের অধিকার থাকলেও সব বিষয়ে সংসদের ভেতর আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তবে বিরোধী দল অধিবেশন ত্যাগ করার পর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
/আশিক
বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ভাষায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—কখন আসে আর কখন যায় তা কেউ বুঝতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
জ্বালানি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক অভিঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটের সময়ে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯ শতাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া তো দূরের কথা, যারা বর্তমানে কর্মরত আছেন তাঁদের জীবিকা কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল মূল অগ্রাধিকার। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাস্তব সংকটকে ব্যঙ্গ ও বাকচাতুর্য দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা এতই প্রকট যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রীর মতো দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।
বাজার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে বাজারে কোনো সাধারণ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। পাশাপাশি চাল ও ডিমের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে, বিশেষ করে মিনিকেট চালের অস্বাভাবিক দামে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইনের করুণ চিত্রও তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
/আশিক
এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এই জবাব চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে এটি কোনো প্রশ্ন হলো নাকি পল্টনের বক্তৃতা, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে অভিহিত করলেও সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা ও নৌকাবাইচ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন—তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকার বিষয়গুলো ভিন্ন। পাশাপাশি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উল্লেখিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা দৃশ্যমান উন্নতির প্রমাণ।
রামিসা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে ব্যর্থতার অভিযোগ না তুলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি জানান, বিচারিক দায়িত্ব আদালতের হলেও সরকার দ্রুত তদন্ত ও বিচারে সার্বিক সহযোগিতা করছে। সংসদে ঢালাও বক্তব্যের বদলে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিলে সে বিষয়ে সংসদে বিতর্ক করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
/আশিক
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি মন্তব্য করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতোই একটি পক্ষ দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তবে কোনো অপচেষ্টাই জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে রাজপথ এবং সংসদে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয়ে জামায়াত কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সরকার জনদাবি উপেক্ষা করলে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল পর্যায়কে একটি আদর্শ সংগঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যাদের ভিত্তি জনগণের মাঝে প্রোথিত, তাদের রুখে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। এ সময় তিনি শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
/আশিক
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের সাজা ও জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
/আশিক
প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া এই তিন ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে সরকার আবারও ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, গত ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ মোট ২৯টি ক্ষেত্রে সরকার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের জন্য একটি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। সেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর দেখা যাচ্ছে, অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অপরিকল্পনা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছে। সরকার নিজেদের পরিকল্পনা থাকার কথা বললেও এখন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তনের এই ধারা কোথায় গিয়ে শেষ হবে এবং একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকেও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সারা দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। ক্ষমতায় আসার আগে সরকার যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিল, তার কোনোটি বাস্তবে করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য এই সময় যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ার পর সরকার আর এসব সমস্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকার বা আগের সরকারের ওপর চাপাতে পারবে না। জনগণের কাছে এমন ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার যদি বিদ্যমান সংকটগুলোর সমাধান না করে এবং পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তাদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, আরও ছয় মাস পার হলে সরকার আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের দায় দেখানোর সুযোগ পাবে না। তখন জনগণ সরকারের কাছ থেকেই সব সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা করবে।
এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার এবং ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।
/আশিক
নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। এ সময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
কার্যালয়ে আসার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তিনি সবসময়ই নয়াপল্টনের কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরও এই কার্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড একইভাবে অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দীন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ এবং ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ দলীয় নেতারা।
দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন রিজভী। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
/আশিক
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত লড়াই নয়, ছিল লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ হিসেবে না দেখে একে সামনের মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি বা ‘মহড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.) এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেমিনারে জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক আন্দোলনে যারা রাজপথে নেমেছিল, তারা নিঃশেষ হয়ে যায়নি কিংবা ঘুমিয়েও পড়েনি; বরং তারা পূর্ণ সজাগ দৃষ্টিতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একটি চূড়ান্ত যুদ্ধের পূর্বে যেমন নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে বাহিনীকে প্রস্তুত করতে হয়, চব্বিশের আন্দোলনকেও তিনি তেমনই একটি মহড়া হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
ফ্যাসিবাদের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়, বরং এটি একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসের মতো। এই ভাইরাসে যে-ই আক্রান্ত হবে, সে-ই শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্টে পরিণত হতে বাধ্য।
বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বিদ্যমান সরকারও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাংলাদেশের সচেতন জনগণ কোনো শাসককেই আবার ফ্যাসিবাদী পথে চলতে দেবে না।
রাষ্ট্র পরিচালনায় গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কোনো ইতিবাচক বা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। তবে সরকার যদি কোনো অবিচার করে, নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করে কিংবা ভুল পথে পরিচালিত হয়, তবে বিরোধী দল হিসেবে তা প্রতিরোধ ও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অবশ্যকর্তব্য।
দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও নাগরিক মর্যাদার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত প্রধান বলেন, বহির্বিশ্বে একটি রাষ্ট্রের অবস্থান পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দেশটির পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান মান নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, যেকোনো দেশের সম্মান ও মর্যাদা সরাসরি তার জনগণের সামগ্রিক চরিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
দেশে দীর্ঘকাল ধরে ইতিহাস বিকৃতির যে অপচর্চা চলছে, তা থেকে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই পুরোপুরি বের হতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে জাদুঘরটি থেকে অতীতের বহু রাজনৈতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের তথ্য ও প্রমাণ পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
/আশিক
কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির
বাস্তব জীবনে পবিত্র কোরআন সহিহভাবে ও অর্থসহ তিলাওয়াত করতে শেখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব বা ফরজ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোরআন শুধু পাঠ করলেই হবে না; বরং তা যথাযথভাবে শিখতে হবে, মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে এবং প্রাত্যহিক জীবনে এর বিধান মেনে চলতে হবে। তবেই ইহকাল ও পরকালে প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা সম্ভব।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগ আয়োজিত জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় তা’লীমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী।
সম্মেলনে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নবী ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করে তাদের ওপর ঐশী কিতাব নাজিল করেছেন। তাই আল্লাহর এই কালাম সঠিকভাবে পড়া ও অপরকে তা শেখানো জরুরি। মানবজাতি যখনই আল্লাহর কিতাবের নির্দেশনা মেনে চলেছে, তখনই সমাজে শান্তি ও মর্যাদা বজায় থেকেছে। পক্ষান্তরে ঐশী বিধান থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলেই অতীতে নানা বিপর্যয় এসেছে এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, যা বর্তমান সময়েও দৃশ্যমান। তাই কোরআনের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে জীবনে ধারণ করাই মুক্তির একমাত্র উপায়।
কোরআন ও হাদিসের সঠিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়া কোরআনের দিকনির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অন্য মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানাতে হলেও নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু মৌখিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কাছে আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথ।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং তা’লীমুল কুরআন বিভাগের প্রধান ওস্তাদ মাওলানা আব্দুর রহিম।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় পরিবর্তন: ধাতুর বাজারে দরপতন
- সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ১০ দিনের নতুন আবহাওয়া বার্তা
- অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- স্বামীকে প্রবাসে রেখে দেশে ফিরেই নতুন বিয়ে, চার সন্তানের জননীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
- নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর: চূড়ান্ত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- স্বর্ণের দামে নতুন মোড়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়
- চার বছর পর আবারও ঢাকায় আসছেন জনপ্রিয় বিদেশি সংগীতশিল্পী
- রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
- খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বোর্ডের নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- নরসিংদীতে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
- আবহাওয়ার বড় বার্তা: বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
- চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
- আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’








