জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:১৩:২৮
জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কেও সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে সৌদি পক্ষ তাদের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর কথা তুলে ধরে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উল্লেখ করেন, ঢাকা ও রিয়াদ ওআইসি প্ল্যাটফর্ম এবং দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, দুই দেশ কেবল অর্থনৈতিক অংশীদার নয়; বরং শ্রমবাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের সমন্বিত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

-রাফসান


কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ২০:৩৫:৫৪
কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য ইরানি নেতা হিসেবে একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে। অথচ দীর্ঘ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আহমাদিনেজাদকে অন্যতম প্রধান ইসরায়েলবিরোধী মুখ হিসেবেই চেনা হতো।

তিনি ইসরায়েলের পতন অনিবার্য বলে প্রায়ই কড়া বক্তব্য দিতেন, হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়েছেন। বৈশ্বিক মঞ্চে তাঁর এই কট্টর অবস্থানের কারণেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়শই বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ইরানকে একটি বাস্তব হুমকি হিসেবে প্রমাণ করতে আহমাদিনেজাদের বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক গোপন ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের বিদ্যমান নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে এসে দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু টাইমসের দাবি অনুযায়ী এই গোপন ছকটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ চলমান যুদ্ধের শুরুতেই গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার লক্ষ্যে চালানো একটি বিশেষ সামরিক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। অবশ্য এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বা তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠ সহযোগী এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন তাও স্পষ্ট নয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী মতাদর্শের সাথে যুক্ত এবং হলোকাস্টকে অস্বীকার করা একজন নেতার সঙ্গে কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইসরায়েল কেন কাজ করার কথা ভাববে—তা নিয়ে তারা প্রকাশ্যেই বড় প্রশ্ন তুলেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই সাংঘর্ষিক ও বিপরীতমুখী তথ্যটি বিশ্লেষকদের আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, তাঁর প্রকৃত চরিত্রটি আসলে যতটা সরল মনে করা হয় ততটা নাকি এর পেছনে আরও কোনো গভীর রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে।

এই পুরো বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালের দিকে, যখন তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন। সে সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। তবে ২০০৫ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচনের সময় তিনি জনকল্যাণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান দিলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মূলত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হলোকাস্ট নিয়ে আপোসহীন মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

২০০৫ সালে তেহরানের এক সম্মেলনে তিনি পশ্চিমা ও জায়নবাদবিহীন বিশ্ব গড়ার ডাক দেন এবং এর এক বছর পর তেহরানে হলোকাস্ট অস্বীকারকারীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। তবে সময়ের ব্যবধানে কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন যে, আহমাদিনেজাদের এমন চরমপন্থী বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে বিশ্বের সামনে বড় করে তুলে ধরে ইসরায়েলেরই রাজনৈতিক সুবিধা করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবেও আখ্যা দেন।

অবশ্য আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তাদের মতে, তিনি কেবল একটি আদর্শিক ও আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করেছিলেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর থেকেই আহমাদিনেজাদ ক্রমশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এবং দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে পরবর্তীতে ইরানের সংবিধিবদ্ধ অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, আহমাদিনেজাদ মূলত জনতাবাদ বা পপুলিজম এবং সুযোগ সন্ধানবাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে তিনি ইংরেজিতে টুইট করা, মার্কিন ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানানো কিংবা মার্কিন র‍্যাপারের বাণী উদ্ধৃত করার পাশাপাশি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন। তবে জিম্মিত মনে করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে তুলনামূলক নরম ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করলেও ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এককভাবে ক্ষমতা দখলের মতো রাজনৈতিক সমর্থন বা ভিত্তি আহমাদিনেজাদের আর নেই।

বিবিসি পার্সিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে তিনজন শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর পশ্চিমা পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে চরম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস মনে করেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রাচুর্যের কারণে এই দাবিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা উচিত। তাঁর মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে ইসরায়েল স্বাগত জানাবে—এমনটি ভাবা অবাস্তব।

আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও একে একটি অসম্ভব কল্পনা বলে মনে করেন, কারণ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় আহমাদিনেজাদ কখনোই প্রথম পছন্দ হতে পারেন না। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই প্রতিবেদনকে কল্পনাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে বলেন যে, নিউ ইয়র্ক টাইমস এখানে অতিরিক্তভাবে কিছু অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে। অবশ্য এর বিপরীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো দাবি করেছে যে, তারা তাদের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাদের মতো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথা বলেই তৈরি করা হয়েছে।

অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের ভেতরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনাকে ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নীতিনির্ধারকদের গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হিসেবে দেখছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ জানান, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের মূল চালিকাশক্তি আইআরজিসি কখনোই তাকে মেনে নেবে না। ফলে ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো সম্পূর্ণ ধসে না পড়লে তাঁর ক্ষমতা নেওয়া অসম্ভব ছিল, যা পশ্চিমা হামলায় ঘটেনি। অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এই পরিকল্পনাকে এক ধরনের রাজনৈতিক উন্মাদনা বা অবাস্তব কল্পনা বলে অভিহিত করেছেন।

তবে এত সব সংশয় ও বিতর্কের মাঝেও প্রশ্ন থেকে যায় যে, পশ্চিমা পরিকল্পনাকারীদের খাতায় কেন হঠাৎ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হতে পারে তাঁর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়—দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি, দীর্ঘদিনের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরত্ব। তিনি ইরানের সাধারণ ও নিম্নবর্গের মানুষের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার অন্দরমহল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন।

খামেনির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের কারণে তাকে এখন আর পুরোপুরি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হয় না। ফলে কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, অস্থিরতার সময়ে মিত্র হিসেবে না হলেও ইরানের বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের ফাটল বা বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি কৌশলগত অস্থায়ী চরিত্র বা ঘুঁটি হিসেবে তাকে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অনেক সমালোচকের মতে, আহমাদিনেজাদের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মোক্ষম রাজনৈতিক অস্ত্র তৈরি করে দিয়েছে। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন কিংবা ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জোট পরিবর্তনের প্রবণতাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি আসলে সম্পূর্ণই ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল, কোনো বিদেশী শক্তির সাথে গোপন আঁতাতের অংশ নয়।

বাস্তবিকপক্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি, তবে তাঁর মতো কট্টর পশ্চিমা-বিরোধী একজন রাজনীতিকের নাম যুদ্ধ-পরবর্তী বিকল্প নেতা হিসেবে মার্কিন গণমাধ্যমে উঠে আসা ইরানের সমকালীন রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও বিশ্বমঞ্চে বড় করে তুলেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা


ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৮:১৫:০৭
ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

চলমান ইরান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা আশানুরূপ কোনো সাফল্য পাননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশই বর্তমানে মনে করছে, এই সামরিক সংঘাতের অবসান যখনই হোক না কেন—তাতে মার্কিন স্বার্থে অবস্থার খুব একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না।

সম্প্রতি দেশটিতে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, মার্কিন জনগণ এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে চরম বিরক্ত এবং তারা ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো ছাড় পাওয়ার আশাও করছে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে আসার মতো কোনো মসৃণ পথ খুঁজে পাবেন—এমন আস্থা সাধারণ মানুষের মনে বেশ কম।

অবশ্য সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে বেশ কিছু অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যখনই সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করে, তখনই ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানের অনেক কট্টরপন্থী নেতা নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানকে উল্টো আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যদি তাদের কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তবে এমন কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক সম্মান রক্ষা করবে। আবার সামনেই মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, তাই যুদ্ধ যেন কোনোভাবেই ব্যালট বক্সে রিপাবলিকানদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত করাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এমন এক জটিল রাজনৈতিক অবস্থায় একাধিক জনমত জরিপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমানে মার্কিন ভোটারদের প্রধান চাওয়া হলো অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হোক। গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ মানুষের মত হলো, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা প্রয়োজন।

একইভাবে, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপের ফলাফল দেখাচ্ছে, ৫২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার স্পষ্ট বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

জরিপের এই সামগ্রিক ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, অবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মোটামুটি সুবিধাজনক শর্তে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হলেও তা মার্কিনিদের যুদ্ধকালীন ব্যয়ের তুলনায় বড় কোনো অর্জন হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হনও, তবুও তাঁর সামনে আরেকটি বড় সমস্যা রাজত্ব করছে।

সেটি হলো—চুক্তির বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আর তাঁকে আগের মতো বিশ্বাস করছে না। উদাহরণ হিসেবে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপের ফলাফল সামনে আনা যায়, যেখানে দেখা গেছে মাত্র ২০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচণ্ড’ আস্থা রাখছেন। বিপরীতে দেশের ৫৯ শতাংশ মানুষের তাঁর ওপর ‘খুব একটা’ বা একেবারেই কোনো আস্থা নেই।

চাপের মুখে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে তাঁর আগের কিছু কঠোর ও অনড় দাবি থেকে সরে এসেছেন। যেমন, যুদ্ধের শুরুতে একসময় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ‘ইরান শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ হবে। আবার অন্য সময়ে তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোতে ইরানের অর্থ সরবরাহের পথ চিরতরে বন্ধ করা। তবে চলমান শান্তি আলোচনার শর্তগুলো পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আগের সেই কঠোর লক্ষ্যগুলো বর্তমানে অনেকটাই শিথিল বা হালকা হয়ে গেছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প আসলে এই সংঘাতের শুরুতেই দুটি মারাত্মক কৌশলগত ভুল করেছেন। প্রথমত, যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামলানোর পথ নিয়ে তাঁর কাছে কোনো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি আমেরিকার সাধারণ জনগণের কাছে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। উল্টো, তিনি শুরুতেই সফলতার মানদণ্ড ও প্রত্যাশা এত উঁচুতে বেঁধে দিয়েছিলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেগুলো শতভাগ অর্জন করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৮:০৪:২০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার অনেক বাণিজ্যিক বিমান এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর আকাশপথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে বিকল্প রুটে চলাচল করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে বেশ কয়েকটি নামী বিমান সংস্থা তাদের নিয়মিত ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

গ্রিসের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা এজিয়ান এয়ারলাইনস আগামী আগস্ট মাসের শেষ সময় পর্যন্ত দুবাইগামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই মাস পর্যন্ত তাদের বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের পেগাসাস এয়ারলাইনসও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী তাদের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় জার্মানির বিখ্যাত লুফথানসা গ্রুপও বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ রাখার পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বস্তরে বিমান চলাচলের এই অচলাবস্থার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার কানাডার মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলো। এই বিমান সংস্থাগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে তাদের ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল বা সীমিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের চলমান সামরিক সংঘাত এবং আকাশপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে এই সতর্ক অবস্থান বেছে নিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী সাধারণ যাত্রীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে এর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

/আশিক


ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১১:৪৭:০১
ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরণকে কেন্দ্র করে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে তিনি আমেরিকার মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতার অভিযোগ এনেছেন।

তার দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলো চলমান সংকট নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করছে এবং প্রতিবেদনগুলোতে পরোক্ষভাবে ইরানের পক্ষ অবলম্বন করে খবর প্রচার করছে। নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দল এবং গণমাধ্যমকে একই কাতারে এনে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এখন পুরোপুরি লক্ষ্যচ্যুত এবং তাদের সাধারণ রাজনৈতিক জ্ঞান লোপ পেয়েছে।

আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কূটনীতি এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও যুদ্ধকালীন সংবাদ প্রকাশের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা


তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১১:২১:৫৭
তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘রমি জামারাত’ বা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ পর্ব শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজ আদায় শেষ করে লাখ লাখ হাজি মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মিনায় পৌঁছে হাজিরা পর্যায়ক্রমে বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছেন। এই আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে মিনা এখন লাখো মুসলিমের পদচারণায় মুখরিত।

ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের নির্ধারিত তিনটি স্তম্ভেই পাথর নিক্ষেপ করে থাকেন। এই স্তম্ভ তিনটি যথাক্রমে আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য হাজিরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, যা এখন তারা নির্দিষ্ট নিয়মে নিক্ষেপ করছেন।

বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালন করতে সমবেত হয়েছেন। সব ধরনের উদ্বেগ পাশে ঠেলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাজিরা তাদের হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করছেন।

ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার এই পবিত্র ইবাদত পালন করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ মক্কায় সমবেত হন।

চলতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তীব্র দাবদাহ দেখা দিয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। তীব্র রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে হাজিদের সবসময় ছাতা ব্যবহার করাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১০:৩০:১০
লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে মার্কিন মধ্যস্থতায় চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক গুণ জোরদার করার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করার ঠিক পরপরই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এ যাবৎকালের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা। এই হামলার রাতে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি সামরিক অবকাঠামো, সুড়ঙ্গ ও যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে মরণঘাতী আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তিনি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আইডিএফকে ‘আরও কঠোর ও নির্মম পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ইসরায়েল ‘লেবাননে আমাদের চলমান সামরিক অভিযান আরও তীব্র করছে’।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আইডিএফ’ লেবাননের স্থলভাগে বিশাল সাঁজোয়া বাহিনী নিয়ে কাজ করছে এবং হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো নিজেদের দখলে নিচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের জনবসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা থেকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করার জন্য তারা সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের অভ্যন্তরে ‘নিরাপত্তা অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী’ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১০:১৪:১০
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সকাল থেকেই লাখ লাখ মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় করছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রোকন ‘উকুফে আরাফা’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান পালন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ লাব্বাইক ধ্বনি দেওয়া হাজিরা। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনার পর হাজিরা রাতে যাতায়াত করেন মুজদালিফায়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন এবং মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য প্রতীকী কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করেন। আজ বুধবার সকালে ফজর নামাজের পর মুজদালিফা থেকে মিনায় পৌঁছে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল কোরবানি ও ইহরাম খোলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

হাজিরা পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন করে ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করবেন। এরপর মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন। হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

/আশিক


তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৯:৫২:৪৭
তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননের সাথে একযোগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় তাঁকে তড়িঘড়ি করে রাজধানী তেল আবিবের ‘হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টার’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে নেতানিয়াহুর হাসপাতালে ভর্তির ব্রেকিং নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে তুমুল হুলস্থুল পড়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে একটি বিশেষ জরুরি বিবৃতি জারি করা হয়। তবে সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো গুরুতর অসুস্থতা নয়, বরং মূলত একটি সাধারণ ‘দাঁতের চিকিৎসার’ (Dental Treatment) জন্য নেতানিয়াহুকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাঁতের চিকিৎসার কথা বলে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করলেও ৭৬ বছর বয়সী এই যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখন ইসরায়েলসহ বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এর আগেও একাধিক স্পর্শকাতর ঘটনায় নেতানিয়াহুর মারাত্মক অসুস্থতার তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি নিজ দেশে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ফলে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এই রাখঢাক করার অভ্যাসের বড় প্রমাণ মেলে গত মাসেই, যখন তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে স্বীকার করেন যে— তিনি সম্প্রতি এই হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারেই প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সারজনিত (Malignant Tumor) জটিল টিউমারের জন্য সফলভাবে একটি অত্যন্ত গোপন অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর দাবি ছিল, চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্রগুলো যেন তাঁর এই মরণব্যাধি ক্যান্সারকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা বা ‘দুর্বলতা’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিনি বিষয়টি এতদিন জনসমক্ষে আনেননি। তবে তাঁর শরীরে ঠিক কবে এই ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, কবে থেকে কেমোথেরাপি বা চিকিৎসা শুরু হয়েছিল কিংবা তা পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি দেশের মানুষকে কিছুই জানাননি।

নেতানিয়াহুর ওই ঘোষণার পর তাঁর বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অতিরিক্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়েছিল বটে, তবে তা রহস্য আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেই মেডিকেল রিপোর্টের অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র ৫টি অস্পষ্ট বিষয় লেখা ছিল এবং সেটি কোন বছরের বা কোন মাসের প্রতিবেদন, তার কোনো উল্লেখই ছিল না। এমনকি নথির কোথাও হাসপাতালের অফিসিয়াল লোগো বা চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর পর্যন্ত ছিল না।

এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর হার্টে একটি জরুরি ‘পেসমেকার’ বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তাঁর একটি জটিল হার্নিয়া অপারেশন এবং একই বছরের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। পেসমেকার বসানোর সময়ও প্রথমদিকে তাঁর কার্যালয় ও রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার করে বলা হয়েছিল যে, তিনি কেবল ‘পানিশূন্যতা’ (Dehydration) পর্যবেক্ষণের জন্য এক রাত হাসপাতালে ছিলেন।

পরে যখন জানা যায় বাস্তবে তাঁর শরীরে একটি সাবকিউটোনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছে, তখন থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয়ভাবে সত্য গোপনের বিষয়টি সামনে আসে এবং চিকিৎসকেরাও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তাঁর ইসিজি রিপোর্টে মারাত্মক অস্বাভাবিকতা ছিল। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই মেগা যুদ্ধাবস্থার মাঝে নেতানিয়াহুর বারবার হাসপাতালে যাওয়া ইসরায়েলের সামরিক কমান্ডের স্থায়িত্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৭:৩৮:০২
আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের পরম মিত্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পবিত্র হজ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্বাধীন জাতি ও ভূখণ্ডগুলো আর কোনোভাবেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষার জন্য ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বিস্ফোরক ও রণংদেহী বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে পেট্রোল ঢেলে দিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর হজের বাণীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, ‘ভঙ্গুর জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’ এবং ‘ইসরায়েল নামের ক্যান্সারাক্রান্ত টিউমার’টি ইতিমধ্যেই তাদের দুর্ভাগ্যজনক ও অবৈধ জীবনকালের একদম শেষ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বুকে অন্যায়-অপকর্ম চালানো এবং এই অঞ্চলে একের পর এক অবৈধ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আমেরিকার সামনে আর কোনও নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট থাকবে না। এ সময় তিনি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরানের ‘সাহসী যোদ্ধা এবং আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনী’র (আইআরজিসি) ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই বীর বাহিনী ‘মহান শয়তান অর্থাৎ আমেরিকা এবং তার দ্বারা লালিত হিংস্র পশু, জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর’ ওপর নিখুঁত ও মোক্ষম আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের হজের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, এবারের হজে আরাফাতের ময়দানের আচার-অনুষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। কারণ, হজের এই পবিত্র মৌসুমে এবং নির্ধারিত পুণ্যময় স্থানে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও খুনি জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে ‘অস্বীকার বা বর্জনের’ (বারাত মিনাল মুশরিকিন) গভীরতা ও ব্যাপকতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

হজ পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ও রূপরেখা ব্যক্ত করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই বরকতময় দিনগুলো পার হওয়ার পরপরই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’—এটিই হবে পুরো মুসলিম উম্মাহর প্রধান, প্রচলিত ও জেনুইন স্লোগান। খামেনির এই কড়া বক্তব্যের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের ফুল স্কেল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার গভীর আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ডন

পাঠকের মতামত:

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির গভীর উদ্বেগ এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যে বড়... বিস্তারিত