জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:১৩:২৮
জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী কমিটির বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কেও সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে সৌদি পক্ষ তাদের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর কথা তুলে ধরে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে উল্লেখ করেন, ঢাকা ও রিয়াদ ওআইসি প্ল্যাটফর্ম এবং দ্বিপাক্ষিক চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, দুই দেশ কেবল অর্থনৈতিক অংশীদার নয়; বরং শ্রমবাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের সমন্বিত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

-রাফসান


পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:০৭:২২
পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা অবশেষে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামাবাদ এ অভিযানকে নিরাপত্তা হুমকির জবাব হিসেবে বর্ণনা করলেও কাবুল এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের একাধিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী খোস্ত ও নাঙ্গারহার অঞ্চলে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে, যদিও হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস সহিংসতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ এক বিবৃতিতে দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তেহরান থেকেও সংযমের আহ্বান এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রমজান মাসের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ইরান গঠনমূলক মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

রাশিয়া সীমান্তপারের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রশমনে কাজ করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সীমান্তজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তার ভাষায়, ইসলামাবাদ বহুদিন ধরে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এখন সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়েছে এবং প্রয়োজনে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই জটিল করেছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে। তিনি পাকিস্তানকে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তালেবান নেতৃত্বও জানিয়েছে, তারা আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।

পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ডুরান্ড লাইন, যা ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের সঙ্গে আফগান আমিরের চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আফগানিস্তানের একাংশ এই সীমারেখাকে কখনোই স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই ঐতিহাসিক বিরোধ সীমান্ত উত্তেজনাকে বারবার উসকে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাত সেই দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

-রফিক


পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:২৮:৫১
পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সীমান্তে হামলা চালিয়ে তাদের সেনা সদস্যদের হত্যা এবং কয়েকজনকে অপহরণের ঘটনার জবাবে তারা ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, অভিযানে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান সেনা হতাহত হয়েছেন এবং গোলাবারুদের একটি বড় ডিপো ধ্বংস হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ চলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পূর্ববর্তী পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। সীমান্ত চৌকিগুলোতে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নজরদারি ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। চলমান সামরিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান যদি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে ইসলামাবাদ ও কাবুল দুই রাজধানী থেকেই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।

-রফিক


ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিরল সম্মানে ভূষিত মোদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:৪৩:৫৪
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিরল সম্মানে ভূষিত মোদি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৯ বছর পর ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সফরে ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিরল সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়েছে।

নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা সংসদে ভাষণ দেওয়ার পর মোদির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম কোনো নেতা হিসেবে এই বিশেষ পদক জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর প্রথম সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হওয়ার পর এবারের এই সফর দ্বিপাক্ষিক বন্ধনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

নরেন্দ্র মোদি বর্তমান বিশ্বের এমন একজন বিরল নেতা, যিনি একই সঙ্গে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন—উভয় দেশ থেকেই তাঁদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’ লাভ করেছিলেন, যা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রেখে উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করাই মোদির এই অনন্য অর্জনের নেপথ্য কারণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, গত নয় বছরের মধ্যে এটিই মোদির প্রথম ইসরায়েল সফর এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত তার প্রভাবশালী অবস্থান আবারও জানান দিল।

সূত্র : দ্য হিন্দু।


নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ২২:০২:০৯
নেসেটে মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি ইসরায়েলে পৌঁছালে নেতানিয়াহু তাঁকে জেরুজালেমে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিনি এর আগে কখনো এতটা আবেগাপ্লুত হননি।

নেতানিয়াহু মোদিকে ইসরায়েলের একজন মহান বন্ধু এবং বিশ্বমঞ্চের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে দুই দেশের মধ্যকার এই জোটকে আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যখন বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন এবং যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ভারত এর বিরোধিতা করলেও এবং দীর্ঘদিন ফিলিস্তিনিদের কড়া সমর্থক থাকলেও ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে একটি অসাধারণ জোট বিদ্যমান এবং দুই নেতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

গত বছর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছিল যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে যা প্রমাণ করে যে ঐতিহাসিক বৈরিতা ভুলে ভারত ও ইসরায়েল এখন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৩:৫৮
১৮ বছর পর ফিরে আসা উৎসবে রক্তের দাগ: লাহোরে প্রাণ হারাল ১৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বসন্ত’ উৎসবে ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে লাহোর হাই কোর্টকে (এলএইচসি) জানিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন আইনজীবীর দায়ের করা পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত এই হতাহতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তলব করেছিল। উল্লেখ্য যে এ বছর ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে ধারালো সুতার কারণে প্রাণহানি ও আকাশমুখী গুলিবর্ষণের ঘটনায় এই উৎসব নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের নতুন অধ্যাদেশের আওতায় পাঞ্জাব সরকার এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের বিশেষ জোর দেওয়া সত্ত্বেও উৎসব চলাকালে শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে উৎসবের তিন দিনে মোট ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে যার মধ্যে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, দুইজন গাছ থেকে পড়ে এবং বাকি ১২ জন ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। তবে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজহার সিদ্দিক জানিয়েছেন যে ঘুড়ির ধারালো সুতার আঘাতে কতজন আহত হয়েছেন সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যদিও পাঞ্জাব সরকার মেটাল বা রাসায়নিক প্রলেপযুক্ত সুতা নিষিদ্ধ করে শুধু সুতি মাঞ্জা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো শহরকে তিনটি জোনে ভাগ করে নজরদারি করা হয়েছিল, তবুও দুর্ঘটনার হার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মজার ব্যাপার হলো উৎসব শেষে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ঘুড়ির সুতার আঘাতে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। আদালতের এই প্রতিবেদন সরকারের সেই দাবিকে এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১০:৩৯:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র, অথচ একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার জানিয়েছে যে এসব যুদ্ধবিমান মূলত কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সার্বক্ষণিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই বিশাল সামরিক সমাবেশ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে প্রায় ২৭০টি সি–১৭ ও সি–৫ সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করেছে পেন্টাগন। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে শুধু বিমানই নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে মোতায়েনকৃত এই বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান যার মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-ই/এফ, ৩৬টি এফ–১৫ই, ৪৮টি এফ–১৬সি এবং ৪২টি অত্যাধুনিক এফ–৩৫এ/সি স্টেলথ যুদ্ধবিমান।

বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত বিমানের মধ্যে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের জন্য ইএ–১৮জি গ্রাউলার এবং আকাশপথে রাডার নজরদারির জন্য ই–৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস বিমান রাখা হয়েছে যা যেকোনো শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে সক্ষম। যদিও গত বছরের জুনে ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি–২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো মুভমেন্ট এখনও দেখা যায়নি, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা একে ঝড়ের আগের স্তব্ধতা হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তুতির সাথে পাল্লা দিয়ে ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কাছে থাকা প্রায় তিন শতাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমানের সাথে যদি মার্কিন বাহিনী যুক্ত হয়, তবে সম্মিলিত আকাশশক্তি হবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী বাহিনী। মঙ্গলবার ইসরায়েল আরও ১২টি মার্কিন এফ–২২ র‌্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে যা সরাসরি শত্রু আকাশসীমায় প্রবেশ করে রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কূটনীতি হলেও প্রয়োজন হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। এই তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:২২:৩০
যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েনের পাশাপাশি আকাশে উড়ছে ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান। এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? না কি এটি কেবলই একটি বড় সমঝোতার আগের চাপ সৃষ্টির কৌশল?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন সামরিক চাপ রাখছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলও খোলা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞা আর মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। এমন সময় যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে। তবে সেই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নাটকীয় কোনো সমঝোতার মাধ্যমেই হয়তো এই যাত্রায় যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে।

/আশিক


জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০২:১৭
জেন-জি’র মিছিলে উত্তাল তেহরান: স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে কাঁপছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই নতুন দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় এখন এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব শাহ আমলের পতাকা হাতে নিয়ে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।

আর্থিক দুরবস্থা ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত এক মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই গণআন্দোলনে নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি হতে পারে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী। যদিও ইরান সরকার ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের দাবি—বিদেশি উসকানিতে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ রুখতে গিয়েই এই সহিংসতা হয়েছে।

বিক্ষোভের পাল্টায় গতকাল তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থিত তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলেছে। বিশেষ করে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বড় বিদ্যাপীঠের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের নতুন এই জাগরণ তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের দেশগুলোর চাপ আর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/আশিক


এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৪:০৮:২১
এত চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না এই প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর কাছে ব্যাখ্যা চান।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ জানান, প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন কেন তেহরান এখনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি, যদিও যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে উল্লেখযোগ্য নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হতাশ নন, কারণ তাঁর হাতে নানা বিকল্প রয়েছে; তবে তিনি কৌতূহলী কেন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নতি স্বীকার করছে না।

ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, তেহরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অনুসরণ করছে না এবং এর পক্ষে যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের রূপরেখা দেবে। এই ইস্যুই দুই দেশের মধ্যে প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে জেনেভায় সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ কিছু ‘দিক-নির্দেশনামূলক নীতিমালা’তে একমত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল ইস্যুগুলোতে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে পারে। অপরদিকে আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানও শিগগিরই একটি পাল্টা খসড়া উপস্থাপন করবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক দর-কষাকষিও সমান্তরালভাবে চলছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: