ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরণকে কেন্দ্র করে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে তিনি আমেরিকার মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতার অভিযোগ এনেছেন।
তার দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলো চলমান সংকট নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করছে এবং প্রতিবেদনগুলোতে পরোক্ষভাবে ইরানের পক্ষ অবলম্বন করে খবর প্রচার করছে। নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দল এবং গণমাধ্যমকে একই কাতারে এনে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এখন পুরোপুরি লক্ষ্যচ্যুত এবং তাদের সাধারণ রাজনৈতিক জ্ঞান লোপ পেয়েছে।
আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কূটনীতি এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও যুদ্ধকালীন সংবাদ প্রকাশের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘রমি জামারাত’ বা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ পর্ব শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজ আদায় শেষ করে লাখ লাখ হাজি মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মিনায় পৌঁছে হাজিরা পর্যায়ক্রমে বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছেন। এই আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে মিনা এখন লাখো মুসলিমের পদচারণায় মুখরিত।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের নির্ধারিত তিনটি স্তম্ভেই পাথর নিক্ষেপ করে থাকেন। এই স্তম্ভ তিনটি যথাক্রমে আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য হাজিরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, যা এখন তারা নির্দিষ্ট নিয়মে নিক্ষেপ করছেন।
বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালন করতে সমবেত হয়েছেন। সব ধরনের উদ্বেগ পাশে ঠেলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাজিরা তাদের হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করছেন।
ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার এই পবিত্র ইবাদত পালন করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ মক্কায় সমবেত হন।
চলতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তীব্র দাবদাহ দেখা দিয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। তীব্র রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে হাজিদের সবসময় ছাতা ব্যবহার করাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
লেবাননে মার্কিন মধ্যস্থতায় চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক গুণ জোরদার করার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করার ঠিক পরপরই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এ যাবৎকালের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা। এই হামলার রাতে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি সামরিক অবকাঠামো, সুড়ঙ্গ ও যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে মরণঘাতী আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তিনি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আইডিএফকে ‘আরও কঠোর ও নির্মম পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে তেল আবিবে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ইসরায়েল ‘লেবাননে আমাদের চলমান সামরিক অভিযান আরও তীব্র করছে’।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আইডিএফ’ লেবাননের স্থলভাগে বিশাল সাঁজোয়া বাহিনী নিয়ে কাজ করছে এবং হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো নিজেদের দখলে নিচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের জনবসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা থেকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করার জন্য তারা সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের অভ্যন্তরে ‘নিরাপত্তা অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী’ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সকাল থেকেই লাখ লাখ মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় করছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রোকন ‘উকুফে আরাফা’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান পালন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ লাব্বাইক ধ্বনি দেওয়া হাজিরা। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনার পর হাজিরা রাতে যাতায়াত করেন মুজদালিফায়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন এবং মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য প্রতীকী কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করেন। আজ বুধবার সকালে ফজর নামাজের পর মুজদালিফা থেকে মিনায় পৌঁছে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল কোরবানি ও ইহরাম খোলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
হাজিরা পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন করে ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করবেন। এরপর মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন। হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
/আশিক
তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরান ও লেবাননের সাথে একযোগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় তাঁকে তড়িঘড়ি করে রাজধানী তেল আবিবের ‘হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টার’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে নেতানিয়াহুর হাসপাতালে ভর্তির ব্রেকিং নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে তুমুল হুলস্থুল পড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে একটি বিশেষ জরুরি বিবৃতি জারি করা হয়। তবে সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনো গুরুতর অসুস্থতা নয়, বরং মূলত একটি সাধারণ ‘দাঁতের চিকিৎসার’ (Dental Treatment) জন্য নেতানিয়াহুকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাঁতের চিকিৎসার কথা বলে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করলেও ৭৬ বছর বয়সী এই যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখন ইসরায়েলসহ বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এর আগেও একাধিক স্পর্শকাতর ঘটনায় নেতানিয়াহুর মারাত্মক অসুস্থতার তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি নিজ দেশে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ফলে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই রাখঢাক করার অভ্যাসের বড় প্রমাণ মেলে গত মাসেই, যখন তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে স্বীকার করেন যে— তিনি সম্প্রতি এই হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারেই প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যান্সারজনিত (Malignant Tumor) জটিল টিউমারের জন্য সফলভাবে একটি অত্যন্ত গোপন অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি ছিল, চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্রগুলো যেন তাঁর এই মরণব্যাধি ক্যান্সারকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা বা ‘দুর্বলতা’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিনি বিষয়টি এতদিন জনসমক্ষে আনেননি। তবে তাঁর শরীরে ঠিক কবে এই ক্যান্সার ধরা পড়েছিল, কবে থেকে কেমোথেরাপি বা চিকিৎসা শুরু হয়েছিল কিংবা তা পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি দেশের মানুষকে কিছুই জানাননি।
নেতানিয়াহুর ওই ঘোষণার পর তাঁর বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অতিরিক্ত সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়েছিল বটে, তবে তা রহস্য আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেই মেডিকেল রিপোর্টের অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র ৫টি অস্পষ্ট বিষয় লেখা ছিল এবং সেটি কোন বছরের বা কোন মাসের প্রতিবেদন, তার কোনো উল্লেখই ছিল না। এমনকি নথির কোথাও হাসপাতালের অফিসিয়াল লোগো বা চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর পর্যন্ত ছিল না।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর হার্টে একটি জরুরি ‘পেসমেকার’ বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তাঁর একটি জটিল হার্নিয়া অপারেশন এবং একই বছরের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। পেসমেকার বসানোর সময়ও প্রথমদিকে তাঁর কার্যালয় ও রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে মিথ্যাচার করে বলা হয়েছিল যে, তিনি কেবল ‘পানিশূন্যতা’ (Dehydration) পর্যবেক্ষণের জন্য এক রাত হাসপাতালে ছিলেন।
পরে যখন জানা যায় বাস্তবে তাঁর শরীরে একটি সাবকিউটোনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছে, তখন থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয়ভাবে সত্য গোপনের বিষয়টি সামনে আসে এবং চিকিৎসকেরাও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তাঁর ইসিজি রিপোর্টে মারাত্মক অস্বাভাবিকতা ছিল। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই মেগা যুদ্ধাবস্থার মাঝে নেতানিয়াহুর বারবার হাসপাতালে যাওয়া ইসরায়েলের সামরিক কমান্ডের স্থায়িত্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের পরম মিত্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পবিত্র হজ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্বাধীন জাতি ও ভূখণ্ডগুলো আর কোনোভাবেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষার জন্য ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বিস্ফোরক ও রণংদেহী বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে পেট্রোল ঢেলে দিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর হজের বাণীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, ‘ভঙ্গুর জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’ এবং ‘ইসরায়েল নামের ক্যান্সারাক্রান্ত টিউমার’টি ইতিমধ্যেই তাদের দুর্ভাগ্যজনক ও অবৈধ জীবনকালের একদম শেষ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বুকে অন্যায়-অপকর্ম চালানো এবং এই অঞ্চলে একের পর এক অবৈধ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আমেরিকার সামনে আর কোনও নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট থাকবে না। এ সময় তিনি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরানের ‘সাহসী যোদ্ধা এবং আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনী’র (আইআরজিসি) ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই বীর বাহিনী ‘মহান শয়তান অর্থাৎ আমেরিকা এবং তার দ্বারা লালিত হিংস্র পশু, জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর’ ওপর নিখুঁত ও মোক্ষম আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের হজের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, এবারের হজে আরাফাতের ময়দানের আচার-অনুষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। কারণ, হজের এই পবিত্র মৌসুমে এবং নির্ধারিত পুণ্যময় স্থানে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও খুনি জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে ‘অস্বীকার বা বর্জনের’ (বারাত মিনাল মুশরিকিন) গভীরতা ও ব্যাপকতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।
হজ পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ও রূপরেখা ব্যক্ত করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই বরকতময় দিনগুলো পার হওয়ার পরপরই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’—এটিই হবে পুরো মুসলিম উম্মাহর প্রধান, প্রচলিত ও জেনুইন স্লোগান। খামেনির এই কড়া বক্তব্যের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের ফুল স্কেল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার গভীর আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: ডন
হজের খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কড়া বার্তা দিলেন শায়খ হুজাইফি
পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের মূল খুতবা প্রদান করেছেন মসজিদে নববির প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দুপুরের পর এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টায় হজের এই মূল খুতবাটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদসহ একযোগে বিশ্বজুড়ে সম্প্রচার করা হয়েছে। আরবি ভাষায় দেওয়া এই ঐতিহাসিক খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, হজের আধ্যাত্মিক পবিত্রতা রক্ষা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শায়খ আলী আল-হুজাইফি খুতবার শুরুতেই মহান আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা, একত্ববাদ ও অসীম মহিমা প্রকাশ করে পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু বিশেষ আয়াত তিলাওয়াত করেন। সেখানে মানব ইতিহাসের অবাধ্য, জালিম ও পাপাচারী জনপদগুলোর করুণ ধ্বংসের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দুনিয়াবাসীকে আল্লাহর অবাধ্যতা ও অন্যায় কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার জোর আহ্বান জানান। এরপর তিনি মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে মানবজাতিকে হজের জন্য আহ্বান করার যে ঐশী নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে খুতবায় উল্লেখ করেন।
হজের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে খুতবায় বলা হয়, হজের একমাত্র ও মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের শিরক বা অংশীদারত্ব বর্জন করা। শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফি অত্যন্ত কঠোরভাবে জোর দিয়ে বলেন, হজের পবিত্র পরিবেশকে সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীলতা, তর্ক ও পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে, পবিত্র হজের এই পুণ্যময় ময়দানে কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া, দলীয় আহ্বান জানানো বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যাবে না; কারণ হজ হলো সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দরবারে নিজেকে নিঃশর্তভাবে সঁপে দেওয়া, আনুগত্য করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণ করা।
আরাফাতের ময়দানে ভাষা, বর্ণ, গোত্র ও দেশের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সব মুসলিমের মাঝে যে বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য ও অভূতপূর্ব নিদর্শন প্রকাশ পায়, খুতবায় তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। খুতবায় হাজিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা নিজেদের দৈনন্দিন আচরণের মাধ্যমে ‘ইহসান’ বা উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেন এবং মিথ্যা কথা ও গিবত বলা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন।
ঐতিহাসিক এই দিনটির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে খুতবায় বলা হয়, আজকের এই ৯ জিলহজের মহান দিনেই আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলামকে কিয়ামত পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ করার এবং মুসলিমদের ওপর নেয়ামত সম্পূর্ণ করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর হাজিদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর (সংক্ষিপ্ত) করে পড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকির ও ক্রন্দনে মগ্ন থাকার জন্য বলা হয়।
খুতবায় সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গমন, পরবর্তী দিনগুলোতে মিনায় গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে জামারাতে প্রতীকী পাথর মারা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা এবং কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করার মতো হজের ধাপে ধাপে পালনীয় হুকুমগুলো ক্রমানুসারে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। শায়খ হুজাইফি হাজিদের হজের প্রতিটি রোকন পালনের সময় সর্বোচ্চ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, তাড়াহুড়ো বা ধাক্কাধাক্কি না করতে এবং সৌদি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দেওয়া রুট ম্যাপ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এ সময় আরাফাতের দিন দোয়া করার সর্বোত্তম সময় ও ফজিলত উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিখ্যাত দোয়া ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’ বেশি বেশি পড়ার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়।
খুতবার শেষ অংশে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব হাজির হজ যেন আল্লাহ তায়ালা কবুল ও মকবুল করেন এবং তারা যেন নিরাপদে, সম্পূর্ণ গুনাহমুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন—সেই আবেগঘন মেগা মোনাজাত করা হয়। একই সাথে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর স্থায়ী শান্তি, কল্যাণ ও সত্যের ওপর মুসলমানদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য কামনা করা হয়। পরিশেষে, মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দীর্ঘায়ু, উত্তরোত্তর সফলতা এবং হাজিদের জন্য প্রতি বছরের মতো সুন্দর ও নিখুঁত হজ ব্যবস্থাপনা করার জন্য তাদের বিশেষ কল্যাণ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান কামনা করে খুতবা শেষ করা হয়। খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পরপরই জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য পবিত্র আরাফাত ময়দান জুড়ে আজান দেওয়া হয় এবং লাখো হাজির অংশগ্রহণে জোহর ও আসরের নামাজ সম্পন্ন হয়।
/আশিক
বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পর্যায় সম্পন্ন করতে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বজুড়ে আসা ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) হাজিদের এই মহাসম্মিলনের দৃশ্যকে গভীর ভক্তি, বিনয় ও অশ্রুসিক্ত প্রার্থনার এক অভূতপূর্ব পরিবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই আল্লাহর মেহমানরা মিনায় তাঁবুর শহর ছেড়ে আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে শুরু করেন।
ইসলামি শরিয়তের বিধান ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা (ওকুফে আরাফা) হজের প্রধান ও মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। স্বয়ং শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, “হজ হলো আরাফা”, যা মূলত এই বিশেষ দিনটির চরম গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে নির্দেশ করে। ইসলামি স্কলার ও আলেমদের মতে, এই দিনটি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্রতম দিনগুলোর একটি, যা মহান আল্লাহর অসীম রহমত, ক্ষমা এবং বান্দার আত্মিক পরিশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই দিনটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক বিদায় হজের অমর স্মৃতির সঙ্গেও জড়িত, যেখানে তিনি এই ময়দান থেকেই মানবজাতির উদ্দেশে তাঁর শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন এবং বিদায় হজের ভাষণে ন্যায়বিচার, মানবসমতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কালজয়ী শিক্ষা দিয়েছিলেন।
আজ দুপুরে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। খুতবা শেষে হাজিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে (কসর) আদায় করেন। নামাজ শেষে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা দুই হাত তুলে রোনাজারি, তালবিয়া, তাকবির পাঠ এবং আল্লাহর দরবারে নিজেদের জীবনের সব গুনাহ মাফের আকুল আকুতি জানান।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই উন্মুক্ত আরাফাত সমতলভূমির কেন্দ্রেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘জাবালে রহমত’ (রহমতের পাহাড়), যা আদি পিতা আদম (আ.) ও মাতা হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে গভীর আবেগের নাম।
এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (৮ জিলহজ) পালন করেন, যেখানে তারা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে হজের সবচেয়ে কঠিন অংশের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেন। এবার মক্কার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
হাজিদের নিরাপদ চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সৌদি প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ড্রোন ক্যামেরাসহ আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। আজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ না পড়েই আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য রাত্রিযাপন করবেন।
সূত্র: আরব নিউজ
ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার এক নজিরবিহীন ও চরম শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছেন, ইরানের মজুত করা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অনতিবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় তা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৫ মে) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তেহরানের প্রতি এই কড়া আইনি ও সামরিক আলটিমেটাম জারি করেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান মার্কিন-ইরান সামরিক উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক ধূলিকণা অবিলম্বে ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করা উচিত, যেন মার্কিন প্রশাসন তা নিজেদের দেশে এনে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে পারে।
আর ইরান যদি মার্কিন মাটিতে তা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিকল্প পথ হিসেবে ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে দেশটির বর্তমান অবস্থানে কিংবা আন্তর্জাতিক মহলে অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ জায়গায় এই ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার একটি প্রকাশ্য মার্কিন কৌশল, যা তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই চরম হুঁশিয়ারির মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার একটি গোপন জানালার কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে বর্তমানে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন কাতার বা ওমান) মাধ্যমে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।
তবে আলোচনার টেবিলে যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর বা ধ্বংসের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (IAEA) বা ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন’ কিংবা এর সমমানের কোনো আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও কঠোর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই শর্ত পূরণ না হলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমার কোনো সুযোগ নেই, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোর ওপর হামলার তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবের এই যুদ্ধংদেহী ঘোষণার পরপরই আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে লেবাননজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ও ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক উত্তেজনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৪৫ দিনের চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সমঝোতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলা দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতকে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ও বিধ্বংসী আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে তারা এ পর্যন্ত ৬০০ জনেরও বেশি ‘সন্ত্রাসীকে’ নিশ্চিহ্ন বা হত্যা করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের অনমনীয় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "শত্রুদের দমনে এখন আমাদের আক্রমণের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে এবং হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।" ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত বেকা উপত্যকা এবং দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক হিজবুল্লাহর আস্তানায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের এই সাঁড়াশি বিমান হামলার বিপরীতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২২টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং দূরপাল্লার রকেট হামলা চালিয়ে এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিয়েছে। হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সৈন্য, সাঁজোয়া ট্যাংক, সামরিক ব্যারাক ও কৌশলগত ভবনগুলো।
উল্লেখ্য, চলতি মে মাসের শুরুতেই লেবানন ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ৪৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল; তবে সেই শান্তিচুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই লেবাননের মাটিতে অনবরত হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সেনা অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
- উৎসবের মুখে ফের চড়া স্বর্ণের বাজার, জেনে নিন ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন ভরি কত
- তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
- তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
- মন্ত্রিত্ব মানেই হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়
- লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
- সাত অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- শনিবার রাজধানীর ১৬ স্পটে খাদ্য বিতরণ করবে তারেক রহমান
- গুঁড়া মসলার ভিড়ে আস্ত মসলার গরুর মাংস: ঝক্কিহীন স্বাদের আড়ালে কিছু রন্ধন ত্রুটি
- জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের মেগা প্রস্তুতি সম্পন্ন
- এআই ট্রাফিক মামলার নামে ‘ফিলিপাইনি’ ফাঁদ: ওটিপি ছাড়াই কার্ডের টাকা ওড়ানোর ছক
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি সস্তা ‘স্ট্যান্ডবাজি’ ছাড়া আর কিছু নয়: রিজভী
- সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা
- চুক্তি করেছেন আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দায় কেন আমাদের?: আসিফ মাহমুদ
- তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকিতে এনসিপি নেতা: মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয় তড়িঘড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
- শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ বিভাগেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছেন: জ্বালানিমন্ত্রী
- আমি কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলাম না: এনসিপি
- যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই কি ঘুচবে ২৪ বছরের খরা? ব্রাজিলের হেক্সা মিশন নিয়ে জোর জল্পনা
- আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার
- মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম, আক্রান্ত ছাড়াল কয়েক হাজার
- হজের খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কড়া বার্তা দিলেন শায়খ হুজাইফি
- সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম
- ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে স্বস্তির ঈদযাত্রা: কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরছে মানুষ
- বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত জাবালে রহমতে গুনাহ মাফের আকুল কান্নায় ভাসলেন হাজিরা
- জামালপুরের পশুর হাটে পাগলা মহিষের আক্রমণ: নিহত ২
- ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
- যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ
- ঢাকাসহ ৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ওলটপালট আন্তর্জাতিক বাজার
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: দক্ষিণ ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা
- আজ পবিত্র হজের মূল দিন: লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ঐতিহাসিক ময়দান
- ম্যাচের আগে চার্জ দিতে হবে বল! অ্যাডিডাসের তৈরি স্মার্ট বলে কাঁপবে বিশ্বকাপ
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- শিশু রামিসা হত্যার বিচার শুরু ১ জুন থেকে: আইনমন্ত্রী
- পদ্মায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ২৩টি কোরবানির গরুসহ ব্যবসায়ী নিখোঁজ
- রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: তীব্র পানির সংকটে নেভাতে হিমশিম ফায়ার সার্ভিস
- আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- হাসনাত-সারজিসের বিরুদ্ধে বেইমানির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন
- ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব: স্বস্তিতে লাখ লাখ সাধারণ কর্মচারী
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- ২০ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পল্লবীর লোমহর্ষক শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা
- ২০ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








