কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ২০:১৮:৫৬
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার মহিমান্বিত ক্ষণে দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (২৭ মে) দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি এই ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সর্বোচ্চ ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার গৌরবময় পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারে আবারও সমাগত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোরবানি মানে কেবলই কোনো পশু জবাই করা নয়; বরং মানুষের ভেতরের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার আর মনের সুপ্ত পশুত্বকে চিরতরে পরাভূত করার দীক্ষা নেওয়ার মাঝেই কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য ও মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।

মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে নিজের সবকিছু তাঁর দরবারে সমর্পণ করার এই উৎসব সবাইকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করবে—এটাই হোক পবিত্র কোরবানির অন্যতম প্রধান শিক্ষা।

দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন এ বছর যাদের কোরবানি করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য দান করেছেন, তাদের কাছে তাঁর বিনীত অনুরোধ থাকবে যেন তারা আশেপাশের অসচ্ছল প্রতিবেশীদের ভুলে না যান। সমাজে যাদের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের সাথে ঈদের আনন্দ এবং কোরবানির মাংস সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি, যা ইসলামের অন্যতম মানবিক শিক্ষা।

এর পাশাপাশি উৎসব পরবর্তী পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও ভিডিও বার্তায় সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে কোরবানির পশুর চামড়া যেন যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে কোরবানির পর পশুর রক্ত ও যাবতীয় বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, সবাই মিলে সচেতন থাকলে কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা সম্ভব হবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।

ভিডিও বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বলেন, এই পবিত্র ঈদের দিনে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা দান করেন। একই সাথে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:২৭:০৮
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সমবায় ভবনে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা ও সরবরাহের মাঝে যে প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের ব্যবধান রয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে সেই ঘাটতি সফলভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। সরকার আশাবাদী যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে ভবিষ্যতে আর কোনো লোডশেডিং থাকবে না।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে মীর শাহে আলম জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাওয়া যাবে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপর ক্রমান্বয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কমে ৬ থেকে ৭ টাকায় নেমে আসবে। এছাড়া দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল ছাদ ব্যবহার করে সোলার প্যানেল স্থাপনের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

/আশিক


মেগা প্রকল্পের অংশীদার জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৮:০৯:২৪
মেগা প্রকল্পের অংশীদার জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরালো করা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর আগে গত এপ্রিলে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ স্থিতিশীলতা বিষয়ক একটি অনলাইন সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। আসন্ন সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত এবং নানাখাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি সৌদি আরব সফরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে তিনি সৌদি আরব সফর করবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

তথ্যসূত্র: বাসস


গড়াই নদীতে আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২১:১৯:৪৫
গড়াই নদীতে আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরারের পরিবারের সাক্ষাৎকালে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, তাদের এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন, তাই সেখানে আবরারের নামে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন।

পরিবারের সাথে এই বৈঠকে আবরার ফাহাদের স্মৃতি রক্ষা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আবরারের বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের কাজ অসম্পূর্ণ থাকার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তা অবিলম্বে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এছাড়া, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি সহ এই হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। উচ্চ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৈঠকে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করেন এবং আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে আবরারের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে তা অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান ফাইয়াজ। পাশাপাশি, জুলাই আন্দোলনের পূর্বে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা তৈরির প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী জানান যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাক্ষাৎকালে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। বৈঠকে আবরারের স্বজনদের পাশাপাশি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৫৩:১৮
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরুর অনুমোদন দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক প্রক্রিয়া চালুর এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, প্রাথমিক এই প্রক্রিয়া শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার পূর্বে কেন্দ্রটিকে আরও দুটি ভিন্ন ধাপে বায়রার অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার সেফটি ভালভের (PORV/POSV) কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই অনুমোদনের বিষয়টি এতদিন আটকে ছিল। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কারিগরি কৌশলে সেই সমস্যার কার্যকর সমাধান করেন। পরবর্তীতে একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেফটি ভালভগুলোর নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার পরই বায়রা ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে রূপপুরের রিঅ্যাক্টরটি নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে প্রথমবারের মতো সক্রিয় পরিচালন ধাপে প্রবেশ করবে।

মূল প্রক্রিয়া শুরু হলে রিঅ্যাক্টরটিকে এর মোট নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার ১ শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে ‘ইনিশিয়াল ক্রিটিক্যালিটি’ বা প্রাথমিক পর্যায়ে নেওয়া হবে। সেখানে প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন চলাকালীন রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামগুলোর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ পর্যায়টি সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। প্রাথমিক এই পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক বিবেচিত হলে পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের মূল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

/আশিক


শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যে বড় পদক্ষেপ: দুই মাসে দেশজুড়ে ১ হাজার খেলার মাঠের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:২৭:৪৯
শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যে বড় পদক্ষেপ: দুই মাসে দেশজুড়ে ১ হাজার খেলার মাঠের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুস্থ এবং ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে প্রান্তিক পর্যায়ের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার ক্রীড়া অবকাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ সুনির্দিষ্ট করা হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠকে সম্পূর্ণ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মাঠ গড়ে তোলা হবে; যার প্রাথমিক অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৮ বিঘা পর্যন্ত রাখা হবে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তদারকির উদ্দেশ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে নতুন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি প্রধান ক্রীড়া ইভেন্টে দেশজুড়ে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই বিশাল ক্রীড়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

একই সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ ও সুন্দর নতুন প্রজন্ম গঠনে সকল মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৮:১৮:৪৩
রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

রমজানকে সামনে রেখে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোগ্যপণ্য আমদানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্যের কোনো ধরনের কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক সংকট তৈরি হবে না।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সাথে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ এবং স্বাভাবিকভাবেই এর কিছুটা প্রভাব ভোগ্যপণ্যের সার্বিক উৎপাদন ও পরিবহন খরচে পড়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সহজে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ ও নবায়ন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সারা বছর জুড়েই যেন বাজারে দেশি ও বিদেশি ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকে, সে লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার। মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক জটিলতার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী তা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজার দর ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে ব্যবসায়িক চেম্বারগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয় সভা পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

/আশিক


ধর্ম-বর্ণ যেন নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৪৯:৩৪
ধর্ম-বর্ণ যেন নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোয় সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উৎসবের আমেজ বৃদ্ধির কথা জানান। মতবিনিময়কালে দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় প্রয়োজন ও যুক্তিসঙ্গত দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে ধর্মীয় উৎসব পালনে বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৫ কোটি এবং বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চাইলে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা অনুদান দেন। এই বরাদ্দের অর্থ জেলা প্রশাসন ও ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধদের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়সহ দেশের সকল নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৩৮:৫২
ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি সরাসরি প্রতিটি পরিবারে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বছরব্যাপী এই বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে পুনর্বিন্যস্ত ও শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় শোভাযাত্রা, সচেতনতামূলক মেলা ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই প্রতিপাদ্যকে মূল ভিত্তি ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ক্যানসার চিকিৎসার চিত্র ও নতুন যন্ত্র স্থাপন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সরঞ্জাম অকেজো থাকায় রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এই সংকট কাটাতে ঢাকা শহর ও দেশের অন্যান্য জেলার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে মোট ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরে বসানো হবে। একই সঙ্গে এসব আধুনিক যন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবলের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন বদলানো এবং সংক্রমণ পরবর্তী হৃদরোগজনিত জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত:  নাহিদ ইসলাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২১:৩৩:২৯
সরকারের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেটের খেসারত দিচ্ছে নিম্নবিত্ত:  নাহিদ ইসলাম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—এই চার শব্দের বাক্যটিই এখন দেশের কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে চরম আতঙ্কের নাম বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রোটিনের মূল ভরসা ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির জন্য সরকারের ভুল নীতি, মেগা বাজেট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাঁদাবাজিকে সরাসরি দায়ী করেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, হলে থাকা ছাত্র বা নিম্ন আয়ের ব্যাচেলরদের মূল 'লাইফলাইন' ডিমের হালি এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় ঠেকেছে। কেবল ডিমই নয়; চাল, আটা, তেল, চিনি, সবজি ও ব্রয়লার মুরগিসহ প্রতিটি মৌলিক খাবারের দর লাফিয়ে বাড়ায় মেহনতী মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক খরচ নাগালের বাইরে চলে গেছে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করে এনসিপির আহ্বায়ক লেখেন—প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষনেতা তারেক রহমান মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতি নিয়ে কথা বললেও ক্ষমতায় এসে সরকার মেগা প্রজেক্ট ও ফ্যামিলি কার্ডের অজুহাতে প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট তৈরি করেছে। ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ না করে ভ্যাট ও ঋণ বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি চড়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকার হুট করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন, সেচ ও পরিবহন খরচ বেড়েই চলেছে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাকে। এবং তৃতীয়ত, ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদন খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে জনগণকে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

সরকারের বিদ্যমান নীতির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করে নিত্যপণ্যে ভ্যাট কমানো এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার বিকল্প নীতি দেখানো হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বা মেগা প্রজেক্টের ফিতা কেটে রাজনৈতিক ফুটেজ পাবেন, মন্ত্রী-এমপিদের পরিবার কমিশনে ভাগ বসাবে আর সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা সুযোগ সুবিধা পাবে; অন্যদিকে দেশের কোটি মা আজ রাতে ১৫ টাকার একটা ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দিতে বাধ্য হবেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: