তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ

পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘রমি জামারাত’ বা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ পর্ব শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজ আদায় শেষ করে লাখ লাখ হাজি মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মিনায় পৌঁছে হাজিরা পর্যায়ক্রমে বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছেন। এই আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে মিনা এখন লাখো মুসলিমের পদচারণায় মুখরিত।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের নির্ধারিত তিনটি স্তম্ভেই পাথর নিক্ষেপ করে থাকেন। এই স্তম্ভ তিনটি যথাক্রমে আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য হাজিরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, যা এখন তারা নির্দিষ্ট নিয়মে নিক্ষেপ করছেন।
বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালন করতে সমবেত হয়েছেন। সব ধরনের উদ্বেগ পাশে ঠেলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাজিরা তাদের হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করছেন।
ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার এই পবিত্র ইবাদত পালন করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ মক্কায় সমবেত হন।
চলতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তীব্র দাবদাহ দেখা দিয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। তীব্র রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে হাজিদের সবসময় ছাতা ব্যবহার করাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
সাত বছর পর ভারতে ফিরছেন শি, ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৪ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির এক কর্মকর্তা।
সফরকে সামনে রেখে চীনা প্রতিনিধিদলের হোটেল নির্বাচন এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রটোকল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় সাত বছর পর ভারতে আসছেন শি জিনপিং; এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন তিনি। সেবারের তুলনায় এবার সফরসঙ্গীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি—প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার একটি বহর নিয়ে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
২০২০ সালের জুনে লাদাখ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে তিক্ততা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেইজিং সফরের মাধ্যমে দুই পরাশক্তির সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়।
অরুণাচল প্রদেশ ও লাদাখ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অমীমাংসিত ইস্যুগুলো থাকলেও, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বেইজিং। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফের বাড়ল তেলের দাম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর আগে টানা দরপতনের পর নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে সরবরাহ নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার বাজারে আবার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আপাতত বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বা দামে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে—এমন আশঙ্কা বাজারে তৈরি হয়নি। কারণ, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সময় দিয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরান ৪৫টি তেলবাহী জাহাজের নাম প্রকাশ করে দাবি করেছে, এসব জাহাজ প্রণালির নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তেহরান এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে তেল জব্দ করার হুমকিও দিয়েছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার ওমানের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের সক্ষমতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশ নিজেদের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত আরও ৩৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। জ্বালানি সরবরাহ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
বিশ্ব বাণিজ্যে বহুল ব্যবহৃত ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কিছু চীনা রপ্তানিকারক তৃতীয় দেশের বন্দর ও বাণিজ্যিক হাব ব্যবহার করে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করছে এবং এর মাধ্যমে উচ্চ মার্কিন শুল্ক এড়িয়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগের জেরে সিঙ্গাপুরসহ ৪০টির বেশি অর্থনীতির বাণিজ্য প্রবাহ এখন বাড়তি নজরদারির আওতায় এসেছে।
গত ১৩ আগস্ট হোয়াইট হাউসের অফিস অব ট্রেড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, চীনা পণ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক কার্যকর থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান কম শুল্কের তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠিয়ে সেখান থেকে নতুন উৎসদেশের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউস এই কথিত নেটওয়ার্কে ৪০টির বেশি দেশ ও অর্থনীতির ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। তবে প্রতিবেদনে ট্রান্সশিপমেন্টের বৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা উৎস ঘোষণা—দুটিকে একই বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করার প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টে শুধু পণ্য এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে স্থানান্তর করা হয় না; কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন লেবেল লাগানো, সীমিত প্রক্রিয়াজাতকরণ বা পুনঃপ্যাকেজিংয়ের পর পণ্যের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কের দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে মার্কিন রাজস্ব ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হোয়াইট হাউসের হিসাবেও অনিশ্চয়তার পরিসর বেশ বড়। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর প্রায় ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্ব হারাতে পারে—এমন হিসাবও এসেছে। ফলে বিষয়টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রয়োগ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
শুল্ক ফাঁকি শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক রুট, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রপ্তানি, পণ্যের ঘোষিত উৎস এবং উৎপাদন উপাদানের সঙ্গে প্রকৃত বাণিজ্য প্রবাহের অসামঞ্জস্য শনাক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এই বিতর্কে সিঙ্গাপুর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম ট্রান্সশিপমেন্ট ও সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর একটি। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর বন্দরে রেকর্ড ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। একই বছর বন্দরে জাহাজ আগমনের মোট গ্রস টনেজও রেকর্ড ৩ দশমিক ২২ বিলিয়নে পৌঁছায়।
তবে ট্রান্সশিপমেন্ট নিজেই কোনো বেআইনি প্রক্রিয়া নয়। সিঙ্গাপুর কাস্টমসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা কোনো পণ্য যদি সিঙ্গাপুর হয়ে অন্য কোনো বিদেশি গন্তব্যে যায়, সেটি ট্রান্সশিপমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসব পণ্যের জন্য কাস্টমস পারমিট, নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন হয়।
পুনঃরপ্তানি বা ‘রি-এক্সপোর্ট’-এর ক্ষেত্রেও সিঙ্গাপুরের সংজ্ঞা স্পষ্ট। এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর বলছে, যে পণ্য আমদানির পর কোনো মৌলিক রূপান্তর ছাড়াই একই অবস্থায় আবার বিদেশে পাঠানো হয়, সেটি পুনঃরপ্তানি। শুধু পুনঃপ্যাকেজিং, বাছাই, গ্রেডিং, ছোট ভাগে বিভক্ত করা বা চিহ্নিত করার মতো কাজকে যথেষ্ট ‘রূপান্তর’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। বিপরীতে সিঙ্গাপুরে উৎপাদিত, সংযোজিত বা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যকে অভ্যন্তরীণ রপ্তানি হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই পার্থক্যই বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রে। বৈধ ট্রান্সশিপমেন্টে পণ্যের প্রকৃত উৎসদেশ পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু তৃতীয় দেশে সামান্য কাজ করার পর যদি পণ্যটিকে সেই দেশের তৈরি বলে ভুলভাবে ঘোষণা করা হয়, তখন তা কাস্টমস জালিয়াতি বা উৎপত্তিস্থলসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর মার্কিন নজরদারি সিঙ্গাপুরের জন্য শুধু ঝুঁকি নয়, সুযোগও তৈরি করতে পারে। উন্নত কাস্টমস ব্যবস্থা, ডিজিটাল বাণিজ্য নথি, বন্দর প্রযুক্তি এবং নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার কারণে সিঙ্গাপুর আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে মে ব্যাংকের চুয়া হাক বিন বলেছেন, নতুন বাণিজ্য বিধি দ্রুত অনুসরণ এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতায় সিঙ্গাপুর অনেক প্রতিযোগী কেন্দ্রের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দেশভেদে ভিন্ন শুল্কহার বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রণোদনাও বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের পর বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘চীন প্লাস ওয়ান’ কৌশল গ্রহণ করে চীনের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে উৎপাদন বা সংযোজন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। পরে এই কৌশল আরও বিস্তৃত হয়ে একাধিক বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্রভিত্তিক ‘চীন প্লাস এন’ মডেলের দিকে গেছে।
এই পরিবর্তনের বড় প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ান বাণিজ্যের পরিসংখ্যান। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে আসিয়ান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি ছিল প্রায় ৪৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে আসিয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এই দ্রুত প্রবৃদ্ধিকে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্ট ঝুঁকির একটি সংকেত হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সব বাড়তি রপ্তানিকে চীনা পণ্যের ছদ্মবেশী পুনঃরপ্তানি ধরে নেওয়া যাবে না। বাস্তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন কারখানা, সরবরাহকারী ও চূড়ান্ত সংযোজন কার্যক্রমও দ্রুত বেড়েছে। ফলে কোন পণ্য সত্যিই নতুন দেশে যথেষ্ট রূপান্তরিত হয়েছে এবং কোনটি শুধু উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে পাঠানো হয়েছে এটি নির্ধারণ করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাধারণত আমদানি-রপ্তানি নথি, বিল অব লেডিং, কার্গো ম্যানিফেস্ট, উৎপাদন সক্ষমতা, মূল্য সংযোজন এবং বাণিজ্য প্রবাহের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে। তবে সিঙ্গাপুরের মতো বন্দরে বছরে কয়েক কোটি কনটেইনার চলাচল করায় প্রতিটি চালান হাতে পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণেই এআই ও ডেটা অ্যানালিটিকসকে ভবিষ্যৎ নজরদারির মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিঙ্গাপুরও ট্রান্সশিপমেন্টকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে দেয় না। দেশটির কাস্টমস আইন, রেগুলেশন অব ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস অ্যাক্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক গুডস কন্ট্রোল ব্যবস্থার আওতায় পণ্যভেদে অনুমোদন ও নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কৌশলগত পণ্য, সামরিক বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও প্রযোজ্য।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রান্সশিপমেন্টবিরোধী’ অভিযান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নতুন ধরনের কমপ্লায়েন্স চাপ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে শুধু কোন দেশ থেকে পণ্য পাঠানো হয়েছে, সেটিই যথেষ্ট নাও হতে পারে; পণ্যটির উপাদান কোথা থেকে এসেছে, কোথায় কতটা উৎপাদন হয়েছে এবং যে দেশকে উৎস হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে সেখানে প্রকৃত মূল্য সংযোজন কতটুকু এসবও আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা হতে পারে।
-রাফসান
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পদক্ষেপ নিতে ইরানকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন দেশটির আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস আইনি ফোরামের ফাঁকে ইরানের জুডিসিয়ারি বার অ্যাসোসিয়েশন সেন্টারের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান ম্যাকিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আইনি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে আবদোলিয়ানপুর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি নেতাদের বিচারের আওতায় আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের আইনি সহযোগিতা শুধু আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বরং এটিকে বাস্তব ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি তার সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ম্যাকিনি। বিশেষ করে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাকিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তেহরানের সঙ্গে কাজ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সূত্র : আইআরএনএ
উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নতুন আবিষ্কৃত এই গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস মজুত রয়েছে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, খনিটিতে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরাসরি উত্তোলনযোগ্য। এই উত্তোলনের পরিমাণ ইরানের বিখ্যাত ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ফিল্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ফেইজ থেকে টানা ১৫ বছর প্রাপ্ত গ্যাসের সমপরিমাণ।
তেলমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এটি ‘সুইট গ্যাস’ বা কম সালফারযুক্ত গ্যাস হওয়ায় এর প্রক্রিয়াকরণ ও উত্তোলন তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া গ্যাসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান গ্যাস কনডেনসেটের উপস্থিতিও রয়েছে, যা রফতানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নীতিমালা ও শর্তাবলি নিয়ে দ্বিমতের কারণে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।
/আশিক
তেলের দামে পতন
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী নতুন ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (২৪ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া—দুই কারণই এ পতনে ভূমিকা রেখেছে।
রয়টার্সের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ২০ ডলার কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দর পরিবর্তিত হওয়ায় প্রাথমিক এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ৯৩ দশমিক ৪৫ এবং ডব্লিউটিআই ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারের আশপাশেও লেনদেন হয়েছে।
তেলের এই দরপতন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন আর্থিক চাপের অভিযান শুরু হবে। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা শুধু ইরানের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থাগুলোর বিস্তারিত জানাতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতা কতটা বিস্তৃত হবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্রেতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেদিকে নজর রাখছেন জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
তবে বাজারের জন্য পরিস্থিতি একমুখী নয়। সাধারণভাবে ইরানের তেল রপ্তানি আরও সীমিত করার মতো নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সোমবার তেলের দামে তাৎক্ষণিক নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।
বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা এখনো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতি বাস্তবে তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
-রফিক
তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
একটি পুরোনো ভিডিওতে মায়ের পাশে বসে হাসিমুখে চা পান করছেন ছেলে। অন্য একটি পারিবারিক মুহূর্তে মায়ের পা ধুয়ে তার আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় তাকে। মা-ছেলের গভীর সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করা সেই ভিডিওগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি হয়ে। কারণ ভিডিওর মা সঙ্গীতা চন্দগুড়ে ও ছেলে কুনাল চন্দগুড়ে কেউই আর বেঁচে নেই। একই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন কুনালের বাবা মুরলীধর চন্দগুড়েও। ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড়ি খাদে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাটি দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী কুনাল ছিলেন মুরলীধর ও সঙ্গীতা দম্পতির একমাত্র সন্তান। মুরলীধর পেশায় গাড়িচালক ছিলেন এবং তার আয়েই মূলত সংসার চলত। পরিবারটি প্রায় চার মাস আগে ঝালতা গ্রামের একদন্ত নগর এলাকায় বসবাস শুরু করেছিল। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মা, একমাত্র সন্তান এবং তাদের পোষা কুকুরকে নিয়েই ছিল ছোট সংসার।
ঘটনার সূত্রপাত একটি আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ থেকে এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুনাল কিস্তিতে একটি আইফোন ১৫ কিনেছিলেন। সেই কিস্তির অর্থ নিয়ে শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে তার তর্ক হয়। তবে একজন তরুণের এমন সংকটময় সিদ্ধান্তকে শুধু একটি ফোন না পাওয়ার ঘটনা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়; এর পেছনে অন্য মানসিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত চাপ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তর্কের পর সকাল প্রায় ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কুনাল। পরে তিনি ওয়ালুজ এমআইডিসি থানা এলাকার তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড়ের বিপজ্জনক প্রান্তে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে বাবা-মা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।
পরবর্তী প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে বোঝানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে মা সঙ্গীতাকে ছেলের কয়েক ফুট দূরে বসে কাঁদতে এবং তাকে প্রান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ছেলের সামনে নত হয়ে মিনতি করেন। আবার ধীরে ধীরে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল আরও প্রান্তের দিকে এগিয়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে আসেন তিনি।
প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, উপস্থিত লোকজনও তরুণটিকে শান্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার দাবি পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। মা-বাবা তাকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
ঘটনাস্থলে কুনালের কিছু বক্তব্যও ধারণ করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই বক্তব্যে তিনি নিজের কথা কেউ শুনছেন না এবং জীবনের সমস্যার কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না—এমন হতাশার কথা বলেছিলেন। এই বক্তব্য ঘটনাটিকে কেবল একটি দামি ফোন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।
উদ্ধারকারীরাও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে নিরাপত্তাজাল স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কুনাল একই জায়গায় স্থির না থেকে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় উদ্ধারকারী দলকেও জালের অবস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছিল। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রায় তিন ঘণ্টার টানটান পরিস্থিতির পর দুপুর ১টার দিকে ছেলেকে বাঁচাতে নিজেই তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বাবা মুরলীধর। তিনি কুনালকে বিপজ্জনক প্রান্ত থেকে ধরে নিরাপদ দিকে টেনে আনার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে বাবা ও ছেলে দুজনই প্রায় ২৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
চোখের সামনে স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে পড়ে যেতে দেখে সঙ্গীতাও চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই তিনিও পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যান। উদ্ধারকারীরা পরে তিনজনকেই উদ্ধার করলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একটি পারিবারিক বিরোধ দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সংকট এভাবেই একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শেষ হয়।
ঘটনার পর কুনাল ও তার মায়ের পুরোনো ভিডিওগুলো নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দুজনকে পাশাপাশি বসে হাসতে হাসতে চা পান করতে দেখা যায়। আরেকটিতে মায়ের পা ধুয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায় কুনালকে। এসব দৃশ্যের সঙ্গে ঘটনার শেষ কয়েক ঘণ্টার ভিডিওর তীব্র বৈপরীত্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে।
ট্র্যাজেডির আরেকটি বেদনাদায়ক দিক সামনে এনেছেন প্রতিবেশীরা। পরিবারটির সঙ্গে থাকা পোষা কুকুরটি এখন একা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরও প্রাণীটি বাড়িতেই অপেক্ষা করছে এবং বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছে। যে মানুষগুলোর সঙ্গে তার প্রতিদিনের জীবন কাটত, তারা আর ফিরবেন না সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই তার।
ঘটনাটি একই সঙ্গে সংকটাপন্ন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে আচরণ এবং জরুরি মানসিক সহায়তার গুরুত্বও সামনে এনেছে। আত্মহত্যার সংকেতকে ‘জেদ’, ‘অভিমান’ বা কোনো একটি বস্তুগত চাহিদার ফল হিসেবে সরলীকরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি উদ্ধার সহায়তার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কেউ যদি বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারানোর কথা বলেন, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।
-রাফসান
‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। এবার ওয়াশিংটন শুধু নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে মিত্র দেশগুলোকেও পরবর্তী পর্যায়ের কর্মকৌশলে যুক্ত করতে চায়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহায়তায় এগিয়ে এলে ইরান-সংঘাতের একটি চূড়ান্ত পরিণতি টানার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘাতের ‘নতুন ধাপ’ শুরু হতে পারে এবং সেই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সক্রিয় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন ধাপ বলতে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান, আরও কঠোর অবরোধ নাকি বহুজাতিক কোনো উদ্যোগ বোঝানো হচ্ছে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। ফলে তার বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ইরানের নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য পেয়েছে। তিনি ‘সাপের মাথা’ কেটে ফেলার রূপক ব্যবহার করে বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই লক্ষ্য অর্জন করেছেন বলে তিনি মনে করেন। তবে এটি জনসনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন; ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলাদা আন্তর্জাতিক যাচাই প্রয়োজন।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন জনসন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে তেহরানের ওপর আস্থা রাখা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।
কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সমুদ্রপথে ইরানের ওপর চাপ আরও দৃশ্যমান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। একই অভিযানের আওতায় তিনটি জাহাজ অচল করা এবং দুটি জাহাজে আরোহণ করে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এই সংখ্যা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। এর আগে অবরোধের আওতায় ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছিল। অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলে সমুদ্রপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইউএসএস জন ফিনের মতো গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের এই অভিযানে অংশ নেওয়ার তথ্যও এসেছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সরু এই জলপথ আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত, অবরোধ কিংবা জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ১৮ আগস্ট তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ হিসেবে দেখানো হয়। পরে ২১ আগস্ট সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান টেরিটরি’ হিসেবে দেখার কথাও বলেন। তবে এসব বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তিত হয় না।
ইরান ট্রাম্পের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের দাবিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন। ফলে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রশ্নটি এখন শুধু সামরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধে পরিণত হয়েছে।
-রফিক
হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।
তিনি বলেছেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে যুক্ত হলে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেওয়া হবে না। এমন পরিস্থিতিতে ইরান তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, গত ছয় মাস ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মোহসেন রেজাই।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার পরও যদি হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে সেই দেশ প্রশ্ন তুলতে পারে—‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’
রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কিছু দেশ মনে করতে শুরু করেছে যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনই হয়তো আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরির পথ।
তিনি বলেন, ইরান যখন পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনও দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, এর ফলে বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে এনপিটি বা আইএইএর সদস্যপদ কোনো দেশকে কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাঁর মতে, এ কারণেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও আবারও সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে অংশ নিলে এর জবাবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বাইকারদের জন্য দারুণ খবর: বড় পরিবর্তনের পথে সরকার
- আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
- সাত বছর পর ভারতে ফিরছেন শি, ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ
- নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফের বাড়ল তেলের দাম
- তিন মাসের সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
- নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
- থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
- দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
- দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
- মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
- পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
- সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
- দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
- প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
- উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
- কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
- স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
- গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
- সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে
- তেলের দামে পতন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
- ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়
- দুপুরের মধ্যেই ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
- ‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
- হরমুজ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ যেতে দেব না: ইরান
- ট্রেডমার্ক লুক বদলে নতুন চেহারায় হাজির ম্যানচেস্টার সিটির তারকা
- দূতাবাসে হুমকির ই-মেইল: কূটনৈতিক এলাকায় সতর্কতা
- বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব
- নতুন দায়িত্বের পর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর
- বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁট: বিপাকে সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্প
- ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর: ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
- ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাড়ছে খরচ, যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জ
- ঢাকাসহ সারা দেশে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
- ২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
- তিন ইনিংসেই স্টার্কের শিকার: দুঃস্বপ্নের অস্ট্রেলিয়া সফর লিটনের
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- বিআরটিসির ‘পিংক বাসে’ এবার স্টারলিংকের হাই-স্পিড স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য








